এক দেখায় পর্ব ১৭
সুরভী আক্তার
মেহজাবিনের বিয়ের তিন দিন পর বাড়ি ফিরে ছিল মিহি । এখন তো আর কলেজ নেই । কোচিংয়েও এক্সাম শুরু হয়েছে কদিন আগ থেকে । ক’দিন পর ফাইনাল এক্সাম । বেশ চাপে আছে মিহি । পড়ার টেবিলে বসে থাকতেই দিন কেটে যায় । সাবিনা বেগম আরো বেশি খেয়াল রাখছে মিহির । সকাল বিকাল নিজের হাতে খাইয়ে দিচ্ছে মেয়েকে । কোচিং বাদে বাইরে বের হওয়ার ফুরসৎ পাচ্ছে না মিহি । রুহির সাথে কোচিংয়েই দেখা হয় । কোচিংয়ের বাইরে ওদের আর তেমন আগের মতো আড্ডা দেওয়া হয় না । সবাই যে যার পড়াশোনায় ব্যস্ত ।
আজ শুক্রবার, ছুটির দিন । কোচিং নেই । বিকেলে শুয়ে আছে মিহি । মাথাটা ধরেছে । সাবিনা বেগম মেয়ের জন্য পাস্তা বানিয়ে ঘরে নিয়ে আসেন । পড়ার টেবিলে মিহি নেই । খাটের উপর চোখ পড়তেই সাবিনা বেগমের ভ্রু কুঁচকে যায় । এই সময় তো মিহি শুয়ে থাকার মেয়ে নয় । সাবিনা বেগম দ্রুত পায়ে এগিয়ে যান মেয়ের কাছে । মিহি চোখ বন্ধ করে কাথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে । ঘুমায় নি । সাবিনা বেগম মেয়ের মাথার কাছে বসে আলতো হাত রাখেন মিহির কপালে । অমনি আঁতকে ওঠেন তিনি । জ্বরে গাঁ পুড়ে যাচ্ছে মিহির । মায়ের আলতো পরশ পেতেই চোখ পিটপিট করে তাকায় মিহি । চোখ দুটো লাল হয়ে আছে । সাবিনা বেগম ব্যস্ত হয়ে মেয়ের কপালে, গলায় হাত ছুঁইয়ে দেন । উত্তেজিত কন্ঠে বলেন…
” মিহি,, তোর তো জ্বরে গাঁ পুড়ে যাচ্ছে । আল্লাহ…এতো জ্বর এসেছে আর তুই আমাকে একবারও বললি না । দাঁড়া আমি এক্ষুনি আসছি…
বলেই দ্রুত পায়ে বিছানা থেকে উঠে আলমারির দিকে যান । আলমারি থেকে ফার্স্ট এইড বক্স বের করে আবারো মেয়ের পাশে বসেন তিনি । থার্মোমিটারে জ্বর মেপে দেখেন ১০৩° ডিগ্রি জ্বর এসেছে মেয়ের । সাবিনা চোখ গোল গোল করে তাকিয়ে ভয়ে ভয়ে মিহির দিকে তাকান । উত্তেজিত কন্ঠে আবারো বলেন…
” মাথা ব্যথা করছে মা ? খুব সমস্যা হচ্ছে ? একদম টেনশন করিস না, আমি এক্ষুনি তোর আব্বু কে ফোন করছি । উনি এক্ষুনি ডাক্তার নিয়ে আসবেন । তুই সুস্থ হয়ে যাবি দেখিস ।
মায়ের উত্তেজিত কন্ঠে মিহি মাকে সামলাতে বলে…
” আম্মু, আমি ঠিক আছি । জ্বরই তো এসেছে,এটা কোন ব্যাপার না । তুমি এতো excited হচ্ছো কেনো ? ঔষধ খেলে ঠিক হয়ে যাবে । আব্বু তো এখন অফিসে আছে,, বেকার বেকার টেনশন দিও না আব্বুকে ।
” বেশি বুঝো তুমি ? ১০৩ ডিগ্রি জ্বর এসেছে তোমার । আর এটা কোন ব্যাপার না ? চুপচাপ শুয়ে থাকো ।
মায়ের আদুরে বকায় ঠোঁট উল্টে তাকায় মিহি । সাবিনা বেগম আজমাল হোসেনকে ফোন করে সব জানান । আজমাল হোসেন না আসা পর্যন্ত চিন্তিত মুখে মেয়ের মাথায় জলপট্টি দিতে থাকেন তিনি । আধা ঘন্টার মধ্যেই বাড়ির কলিং বেল বেজে ওঠে । সাবিনা বেগম মেয়েকে একবার দেখে ক্ষিপ্রবেগে নিচে নেমে আসেন । আজমাল হোসেনের সাথে আরো দুইজন বাড়িতে ঢোকে । আজমাল হোসেন কোন দিকে না তাকিয়ে জোরালো পায়ে ছুটে যান মেয়ের ঘরে । মিহিকে অবচেতন অবস্থায় শুয়ে থাকতে দেখে শুল্ক ঢোক গিলে মেয়ের পাশে বসেন তিনি । মেয়ের মাথায় হাত রাখতেই চোখ মেলে তাকায় মিহি । আজমাল হোসেনকে দেখে মিহি বলে..
” আব্বু তুমি এসেছো..? দেখো না , আমার তেমন কিচ্ছু হয়নি , আম্মু শুধু শুধু তোমাকে ডেকে নিয়ে আসলো ।
” চুপ করো মা , ডাক্তার এসেছেন , উনি তোমার জ্বর মেপে ঔষধ দিয়ে যাবেন ।
আজমাল হোসেনের কথার মাঝেই ডাক্তার সহ আরো একজন ঘরে ঢোকেন । মিহি চকিতে তাকায় সেদিকে । ডাক্তারের সাথে ‘সাফি’ এসেছে । সাফি কে দেখে কপাল কুঁচকে নেত্র যুগল সুরু হয়ে যায় মিহির । মিহিকে দেখে অপ্রতিভ ভাবে হাসে সাফি । আজমাল হোসেন মেয়েকে ব্যাক বোর্ডে হেলান দিয়ে বসান । সাফি দাঁড়িয়ে আছে খাটের এক পাশে । সাবিনা বেগম চিন্তিত মুখে বসে আছেন মেয়ের অন্য পাশে । ডাক্তার মিহির নরমাল চেকআপ করে কিছু ঔষধ দিয়ে দেন । আজমাল হোসেনের হাতে ঔষধের প্যাকেট ধরিয়ে তিনি বলেন…
” চিন্তার কোন কারন নেই । সিজন চেঞ্জের কারনে একটু জ্বর এসেছে । আর তেমন কিছু নেই । ঔষধ খেলে ঠিক হয়ে যাবে । আপনারা আমাকে যেভাবে ধরে বেঁধে এখানে নিয়ে আসলেন, আমি ভাবলাম আরো কত কি যে হয়েছে যেন ।
বাই দা ওয়ে,, মামনি…ঠিক মতো ঔষধ খেয়ো । খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে । আমি আসি…?
মিহি মুচকি হাসে । সাফি ডাক্তারকে নিচ পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আবারো ঘরে আসে । খাটের সোজাসুজি একটা চেয়ার টেনে বসে । সাবিনা বেগম মেয়েকে পাস্তা খাইয়ে দিচ্ছে । মিহি একটু খেয়ে নাক সিটকে বলে…
” আর খাবো না আম্মু ।
সাবিনা বেগম চোখ রাঙিয়ে বলেন…
” খাবেনা মানে কি ? আর একটু খেয়ে নাও । ঔষধ খেতে হবে তো ।
আজমাল হোসেন মিহির দিকে তাকিয়ে নমনীয় স্বরে বলেন…
” থাক,,ওকে আর জোর করো না । খেতে হবে না ওকে ।
আম্মু এখন ঔষধ গুলো খেয়ে নাও দেখি ।
আজমাল হোসেন নিজ হাতে মেয়েকে ঔষধ খাইয়ে দেন । ঔষধ খেয়ে মিহি ব্যাক বোর্ডে মাথা এলিয়ে দেয় । আচমকা চোখ যায় সাফির দিকে , অমনি চোখ সরিয়ে নেয় সাফি । মিহি যতবার এই লোকটাকে দেখেছে ততবার অবাক লেগেছে ওর কাছে । এই লোকটা কেমন যেন ।
সাবিনা বেগম মেয়ের মাথায় হাত রেখে টেম্পারেচার চেক করে পাশ থেকে উঠতেই সাফি চেয়ার ছেড়ে উঠে মিহির থেকে দুরত্ব বজায় রেখে খাটের পাশে ছোট একটা ডিভানে বসে । মিহি চোখ বুজে নেয় । আজমাল হোসেন ঔষধগুলো প্যাকেটে ঢুকিয়ে রাখছেন । সাফি মিহির দিকে তাকিয়ে স্বভাবিক গলায় বলে…
” এখন কেমন লাগছে মিহি ?
মিহি চোখ বুজেই মৃদু স্বরে জবাব দেয়…
” ভালো লাগছে ।
” সামনে তো এক্সাম,, পড়াশোনা কেমন চলছে ?
” জ্বী, ভালো ।
সাফি চোখ মুখ শক্ত করে একবার তাকায় মিহির দিকে । মিহির গাঁ ছাড়া উত্তরে কিঞ্চিত বিরক্ত হয় সাফি । পরক্ষনে স্বাভাবিক হয়ে আজমাল হোসেনকে বলে…
” আঙ্কেল, ওর এখন রেস্টের প্রয়োজন । আমরা নিচে যাই ? চলুন…
আজমাল হোসেন মেয়ের মাথায় হাত রাখেন । মিহি চোখ খুলে মুচকি হাসে । আজমাল হোসেন বলেন…
” রেস্ট নাও আম্মু , আমরা নিচেই আছি । এখন আর তোমাকে পড়তে হবে না । আগে একটু রেস্ট নাও ।
পরদিন জ্বরের কারণে কোচিংয়ের একটা এক্সাম এটেন্ড করতে পারে নি মিহি । মিহির জ্বরের কথা শুনে রুহি কোচিং শেষে সোজা মিহির কাছে এসেছে । মিহিকে ছাড়া এক মূহূর্তও চলে না ওর । রুহির সাথে রৌনক, মিরা, নাদিয়া, সোহেল সবাই এসেছে । কাল থেকে মিহিকে বিছানা থেকে নামতে দেয় নি সাবিনা বেগম । এভাবে শুয়ে শুয়ে আর ভালো লাগছে না মিহির । বন্ধুদের পেয়ে খোলা ব্যালকনিতে গিয়ে বসেছে মিহি । রুহি মিহির বাহু জড়িয়ে বসে আছে । সাবিনা বেগম সবার জন্য নাস্তা দিয়ে গেছেন । পায়েস রান্না করেছিলেন মিহির জন্য । সবাইকে পায়েসও দিয়েছেন তিনি । সোহেল পায়েস খেয়ে তৃপ্তি নিয়ে বলে…
” বাহ্ রে মিহি ,, তোর আম্মু তো খুব সুন্দর পায়েস বানাতে পারে । পায়েসটা যা হয়েছে না , একেবারে জব্বর হয়েছে ।
মিহি মুচকি হাসে । সোহেলের সাথে তাল মিলিয়ে মিরাও বলে…
” সত্যি রে মিহি ,, আন্টির হাতের পায়েসটা আসলেই অনেক টেস্টি হয়েছে । ইচ্ছে করছে আন্টির হাতে গিয়ে একটা চুমু খাই ।
মিহি মিষ্টি হেসে বলে…
” আমার আম্মুর হাতের সব রান্নাই টেস্টি হয় । আমার আম্মু যেমন, তার হাতের রান্নাও তেমন ।
মিহির কথাগুলো ক্ষীন শোনাচ্ছে । গলা দেবে গেছে । ঠান্ডা লাগার কারণে এমনটা হয়েছে । গলার আওয়াজ কেমন ঘ্যাসঘ্যাসে শোনাচ্ছে । মুখটাও শুকনো দেখাচ্ছে । রুহি মিহির শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট উল্টে আরো ভালো করে জড়িয়ে ধরে মিহিকে । রুহির হাতের বাঁধন শক্ত হতেই মিহিও গাঁ এলিয়ে দেয় রুহির কোলে । রুহি কিছু খাচ্ছে না । কথাও বলছে না । রৌনক খেতে খেতে অস্পষ্ট স্বরে রুহিকে বলে…
” কি রে রুহি , তোর আবার কি হলো ? খাচ্ছিস না যে ? এক বার খেয়ে দেখ আন্টির হাতের পায়েস, একদম মুখে লেগে থাকবে ।
রুহি খানিক বিরক্তি নিয়ে চোখ খিচে ঝাঁজালো কন্ঠে বলল…
” তোরা এখানে খেতে এসেছিস, নাকি ওকে দেখতে এসেছিস ?
রৌনক মুখের খাবার গিলে বলে…
” যাক বাবা.. দেখতেই তো এসেছি , দেখলাম তো । ও তো এখন সুস্থ্য’ই আছে । আর কিভাবে দেখবো ওকে ?
” সুস্থ্য আছে , তবে একটু – পুরোপুরি নয় । দেখেছিস মুখটা কেমন ফ্যাকাশে হয়ে গেছে ওর ।
মিহি রুহিকে জড়িয়ে বলে…
” আমাকে নিয়ে আমার পাখির এতো টেনশন । আমি এখন সুস্থ আছি পাখি, তোমাকে অতো টেনশন করতে হবে না ।
সোহেল নিজের পায়েসের বাটি ফাঁকা করে পাশে রাখে । রুহির জন্য বরাদ্দকৃত বাটিটা হাতে তুলে নিয়ে বলে…
” তুই বরং তোর পাখিকে নিয়ে টেনশন কর । তোর পাখির আদর খা , আমি বরং এই পায়েসটা খাই । কি বলতো.. লোভ সামলাতে পারছি না ।
রুহি কন্ঠে ঝাঁজ বজায় রেখে বলে..
” খা খা .. সব গান্ডে পিন্ডে গিলে খা । খাওয়া ছাড়া আর কি আছে তোদের ।
রুহির কথায় পাত্তা দেয় না সোহেল ।
দুষ্টু মিষ্টি ঝগড়া-ঝাটির মাঝেই অনেক দিন পর সব বন্ধ-বান্ধবীরা মিলে আড্ডা দেয় কিছুক্ষণ । তবে এই মুহূর্তে বেশি সময় নষ্ট করলে চলবে না । পনেরো দিনের মাথায় সবার পরীক্ষা শুরু । রুহিকে রেখে মিরা, নাদিয়া, সোহেল আর রৌনক নিজেদের বাড়ি চলে যায় । রুহিকে নিতে আসবে রাফি । রাফি নিজেই রুহিকে ফোন করে বলেছে ড্রাইভারের পরিবর্তে ও নিজেই নিতে আসছে । মিহির সাথে এখন আর তেমন দেখা হয় না রাফির । দেখা হলেও কথা হয় না । মিহি আজকাল যথাসম্ভব এড়িয়ে চলে রাফি কে । রাফির সামনে পড়লে চোখ তুলে তাকায় না ঠিকমতো । রাফি দু-একবার আড়চোখে লক্ষ্য করেছে মিহির হাবভাব । কাল রাতেই রুহির মুখে মিহির জ্বরের কথা শুনেছিল রাফি । এর পর থেকেই কোন কাজে মন বসছে না ওর । রুহিকে নিতে আসার বাহানায় একবার হলেও তো দেখতে পারবে মিহিকে, এটাই কম কি ? রাফি নিজেই রুহিকে নিতে আসছে । মিহি আর রুহি দু’জনে সাবিনা বেগমের সাথে ড্রইং রুমে বসে গল্প করছে । আজমাল হোসেন ও আছেন ওদের সাথে । আজকাল তার শরীর টাও ভালো যায় না । দূর্বলতা লেগেই আছে । মাঝে মাঝে শ্বাস কষ্ট আর শুকনো কাশি হয় খুব । বুকে ব্যথাও অনুভব হয় । তবে পরিবারের কাছে পুরোটা চেপে জান তিনি ।
ড্রইং রুমে রুহির সাথে সবাই গল্প করছে রুহির পরিবার নিয়ে । মিহির মুখে অনেক শুনেছে তাদের কথা । রুহি আর মিহি পাশাপাশি বসে গল্পে মেতে আছে । রুহির ফোন শব্দ করে বেজে উঠতেই রুহি’সহ সবাই ফোনের দিকে তাকায় । রাফি ফোন করেছে । বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে আছে সে । রুহি ফোন রিসিভ করতেই রাফি ধীর কন্ঠে বলে…
” বাইরে আয় ,, আমি অপেক্ষা করছি ।
” ভেতরে আসবে না ?
রুহি মিনমিন করে প্রশ্ন করে রাফি কে । রাফির পাল্টা জবাব দিতে দেরি হচ্ছে । সে তো নিজেও ভেতরে আসতে চায় । কিন্তু এভাবে কারোর বাড়িতে যাওয়াটা ঠিক লাগছে না ওর কাছে । রাফির নিরবতার মাঝেই আজমাল হোসেন রুহিকে উদ্দেশ্যে করে বলে ওঠেন…
” তোমার ভাইয়া কি এসে গেছে আম্মু ?
রুহি উপরনিচ মাথা ঝাঁকায় । আজমাল হোসেন বলেন…
” তাহলে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে কেনো, ভেতরে আসতে বলো । সেলিব্রিটি মানুষ বলে কি আমাদের বাসায় আসা যাবে না ?
” আরে না না আঙ্কেল, তেমন কিছু না । আসলে ভাইয়া…
” বুঝতে পেরেছি,, একা একা ভেতরে আসতে লজ্জা পাচ্ছে বুঝি ? সমস্যা নেই, আমি গিয়ে নিয়ে আসছি ।
ফোনের ওপাশ থেকে আজমাল হোসেনের সব কথা শুনে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে রাফি । যেন এটারই অপেক্ষায় ছিলো । আজমাল হোসেন উঠে দরজা খুলে বাইরে যান । রুহি কিছু বলার আগেই রাফি টুং টুং করে ফোনটা কেটে দেয় । আজমাল হোসেন বাইরে গিয়ে রাফি কে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন । একটু দুর থেকে দেখেও চিনতে অসুবিধা হয় না রাফি কে । মিহির মুখে শোনার পর রাফির অনেক প্রোগ্রাম ইতিমধ্যে দেখেছেন তিনি । সামনের লম্বা সুদর্শন ছেলেটা যে রাফি তা নিমিষেই বুঝতে পেরেছেন তিনি । রাফির দিকে এগিয়ে যেতেই রাফি নরম কন্ঠে সালাম দেয়…
” আসলামুআলাইকুম আঙ্কেল…
আজমাল হোসেন নিদারুণ হেসে সালামের উত্তর দিয়ে রাফি কে নিয়ে বাড়িতে ঢোকেন । বাড়িতে ঢুকেই রাফির চঞ্চল চোখ খুঁজতে থাকে কাউকে । রাফি এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখে নেয় সবটা । বেশ সাজানো গোছানো পরিপাটি সংসার । রাফির সাথে কথা বলতে বলতে এগিয়ে যান আজমাল হোসেন । দরজা বরাবর উল্টো দিকে ঘোরানো সোফায় বসে ছিল রুহি আর মিহি । দু’জন পুরুষের কন্ঠ আর পায়ের শব্দে রুহি আর মিহি দুজনেই উঠে দাঁড়ায় সোফা থেকে ।
মিহি পিছন ঘুরতেই চোখাচোখি হয় রাফির সাথে । রাফি চোখ সরু করে শান্ত চোখে তাকায় মিহির দিকে । একদিনের জ্বরেই মিহির মুখটা কেমন চুপসে ফ্যাকাশে হয়ে গেছে । চোখের নিচ দেবে গেছে ।
আজমাল হোসেনের ডাকে চোখ সরিয়ে সামনে এগিয়ে যায় রাফি । সোফায় বসে দুজনে । বসতে বসতে আজমাল হোসেন বলেন…
” তোমার কথা অনেক শুনেছি বাবা , আজ দেখেও নিলাম । মিহির মুখে তোমার কথা শোনার পর তোমার কিছু আগের প্রোগ্রাম দেখছিলাম আমি । বেশ ভালো গানের গলা তোমার ।
রাফি মুচকি হাসে । তবে মিহির দিকে তাকায় না আর । রুহি ভাইয়ার পাশে গিয়ে বসে । সাবিনা বেগম রান্না ঘরে গেছেন নাস্তা রেডি করতে । মিহিও মাথা নামিয়ে রান্না ঘরের দিকে এগিয়ে যায় । আজমাল হোসেন বলেন…
” তা বাবা তুমি তো বেশ ভালো গান গাও ,, গায়ক হিসেবে ভালো পরিচিতি আছে তোমার, অনেক ফ্যান ফলোয়ারস ও আছে । কিন্তু সংগীত জগতে তুমি অতোটা সক্রিয় নও মনে হয় । বাবার বিজনেস নিয়ে এগিয়ে যেতে চাও বুঝি ?
রাফি মাথা নামিয়ে একটু হেসে মাথা তুলে বলে…
” সংগীত জগত নিয়ে আমার অতোটা ইন্টারেস্ট নেই আঙ্কেল । আগে একসময় ছিল । এখন পার্ট টাইম – বলতে পারেন অবসর সময় কাটানোর জন্য গান টাকে বেছে নিয়েছি ।
” তা বিয়ে সাদির কি প্লান করছো ? বোনের বিয়ে তো দিলে, এবার নিজে বিয়ে করবে না ? নাকি আগে ছোট বোনের বিয়ে দিতে চাও ?
আজমাল হোসেনের কথায় রুহি মাথা নুইয়ে নেয় । রাফির ক্রুর হেসে বিড়বিড় করে…
” বিয়ের প্লান তো করাই আছে আঙ্কেল, আপনার মেয়েকেই বিয়ে করবো আঙ্কেল ,, উফস্ সরি – হবু শশুর মশাই । শুধু সময়ের অপেক্ষা ।
মুখে বলে….
” সেসব নিয়ে এখনো ভাবিনি আঙ্কেল । বোন তো আছে – বোনের বিয়ে দিতে হবে , তারপর না হয় আমার বিষয়ে ভাবা যাবে ।
এর মাঝেই হাতে ট্রে নিয়ে রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে আসে মিহি । পিছন পিছন সাবিনা বেগম ও বেরিয়ে আসেন । মিহির হাতে ট্রে দেখে রুহি উঠে এগিয়ে যায় ওর কাছে । মিহির হাত থেকে নাস্তার ট্রে নিয়ে সামনে টেবিলে রাখে । আজমাল হোসেন মেয়েকে বলেন…
” তুমি এসব করতে যাচ্ছো কেনো আম্মু ? এখনো পুরোপুরি সুস্থ হও নি তুমি । তোমার আম্মু তো আছে , তুমি আমার পাশে বসো ।
মিহি বাবার পাশে বসে । সাবিনা বেগমকে দেখে সোফা ছেড়ে উঠে পড়ে রাফি । রাফি কে উঠতে দেখে সাবিনা বেগম বলেন…
” আরে বাবা উঠছো কেনো ? বসো বসো….
রাফি বসে । কিছুক্ষণ গল্প করে সবার সাথে । আজমাল হোসেন বেশ হেসে হেসে রশিয়ে কথা বলছেন ।
সন্ধ্যা লেগে যাচ্ছে । বাড়িতে ফিরতে হবে । রাফি রুহিকে নিয়ে বাইরে বের হয় । পেছন পেছন আজমাল হোসেন আর মিহিও বের হয় । হঠাৎ ফোন বেজে ওঠায় ওদের থেকে বিদায় নিয়ে ফোনে কথা বলতে বলতে অন্যদিকে সরে যান আজমাল হোসেন । মিহির মাথা ভার হয়ে আসছে । আজ অনেক কথা বলেছে । মাথাটা ঝিমঝিম করছে, দাঁড়িয়ে থেকেও টলছে মিহি । চোখ দুটো পিটপিট করে জোরপূর্বক খুলে রেখেছে । জ্বরের তোপে জ্বলছে চোখ দুটো । রুহি মিহিকে ঠোঁট উল্টে জড়িয়ে ধরে । আদুরে কন্ঠে বলে…
” নিজের খেয়াল রেখো পাখি । তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাও প্লিজ । তোমাকে এভাবে দেখতে আর ভালো লাগছে না । আমি আমার পুরানো পাখিকে খুব বেশি মিস করছি ।
মিহির শরীরের তাপমাত্রা আবারো বেড়েছে । রুহি ঝটকে সরে এসে মিহির কপালে-গলায় হাত ছোঁয়ায় । অনবসর কন্ঠে বলে…
” পাখি,, তোর তো আবার জ্বরে গাঁ পুড়ে যাচ্ছে ।
রাফি এতক্ষণ গাড়ির দরজা খুলে দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছিল ওদের, রুহির কথায় দরজা লাগিয়ে দ্রুত পায়ে এগিয়ে আসে । আপন অধিকার বোধে মিহির কপালে হাত ছোঁয়ায় । রাফির ঠান্ডা হাতের স্পর্শে কেঁপে উঠে মিহি । তড়িৎ বেগে পিছনে পিছিয়ে যায় । নরম ভাবে চেয়ে জড়ানো কন্ঠে বলে…
” আ.. আমি ঠিক আছি ।
রাফি ভ্রু কুঁচকে ঝাঁজালো গলায় ঝাড়ি মেরে বলে….
” ঠিক আছেন মানে কি ? জ্বরে গাঁ পুড়ে যাচ্ছে , খেয়াল আছে সেদিকে ? গায়ে হাত দেওয়া যাচ্ছে না । চোখ মুখ ফ্যাকাশে হয়ে আছে , চোখ মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না , ঠিকমতো দাড়াতেও পারছেন না । আর বলছেন আপনি ঠিক আছেন ? কাল থেকে শুনছি জ্বর এসেছে, এখনো গাঁ পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে । নিজের দিকে ঠিক মতো খেয়াল রাখতে পারেন না ? জ্বর আসে কিভাবে ?
মিহি পিটপিট করে সরু নেত্রে তাকায় । মিনমিন স্বরে বলে…
” আমি কি জানি ,, জ্বর তো সবারই আসে ।
রাফি নিজেকে ধাতস্থ করে কন্ঠে নমনীয়তা টেনে বলে…
” ঔষধ খাচ্ছেন ঠিকমতো ?
” হুম… খাচ্ছি তো ।
” এখানে দাঁড়িয়ে না থেকে, ঘরে যান । ঠিকমতো ঔষধ খাবেন , রেস্ট নেবেন । আমরা আসি…?
” হুম…সা সাবধানে যাবেন ।
যাওয়ার আগে মিহিকে আরো একবার জড়িয়ে ধরে রুহি । গাড়িতে বসে বারবার মিহির দিকে তাকাচ্ছিল সে । রাফি আর না তাকিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে দ্রুত গতিতে চলে যায় ।
দেখতে দেখতে সময় কাটছে । মাঝে কেটে গেছে দু-দুটো মাস । এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষ । এখন এডমিশনের চাপ । যতো যাই হোক এই পড়াশোনা পিছু ছাড়বে না । এইতো কদিন আগে এক্সাম শেষ হলো । এক্সাম এর পর কোথায় পড়াশোনা থেকে কিছু দিনের জন্য হলেও মুক্তি পাওয়া যাবে তা না , আবার শুরু এডমিশনের জন্য প্রস্তুতি । মরার উপর খাঁড়ার ঘা এর মত অবস্থা যাকে বলে । মিহি বরাবরই ভালো স্টুডেন্ট । পরীক্ষাও অনেক ভালো দিয়েছে । পরীক্ষার আগে যেভাবে জ্বরে ভুগেছে , ঠিকমতো পড়াশোনাই করতে পারে নি । তবে পরীক্ষা মোটামুটি ভালো হয়েছে । মিহির স্বপ্ন সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে । যখন রংপুরে ছিল তখন মেয়ের ইচ্ছের কথা শুনে সাবিনা বেগম বলেছিলেন তিনি কিছুতেই মেয়েকে ঢাকায় পড়াবেন না । কারণ ঢাকায় পড়াতে গেলে মেয়েকে ঢাকায় পাঠাতে হবে । আর তিনি তো মেয়েকে ছাড়া থাকতে পারবেন না । নিজের কাছ থেকে এত দুরে মেয়েকে পড়াশোনার জন্য পাঠাবেন – এটা ভাবলেই শিউরে উঠতেন তিনি । এই নিয়ে মিহি কতোই না মন খারাপ করেছে । তবে যখন আজমাল হোসেনের বদলি ঢাকায় হলো , তখন সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিল মিহি । কারণ ঢাকায় থাকলে সে ঢাকায় পড়তে পারবে । এতে সাবিনা বেগমের ও কোন সমস্যা থাকবে না ।
সবসময় পড়াশোনা কারই ভালো লাগে না । একঘেয়েমি সৃষ্টি হয় । পরীক্ষার পর মিহি, রুহি’সহ সব বন্ধু বান্ধবীরা মিলে এডমিশনের জন্য নতুন কোচিং শুরু করেছে । দুপুর দুইটা থেকে চারটা পর্যন্ত কোচিংয়ের সময় । মিহি দের বাড়ি থেকে এবার কোচিংয়ের রাস্তা অনেক টা দুরে । আজমাল হোসেন রিকশা ভাড়া করে দিয়েছেন মেয়েকে । রোজ রোজ সেই রিকশা সঠিক সময়ে পৌঁছে দেয় মিহিকে ।
জুলাইয়ের ৪ তারিখ , সোমবার । রোজকার মত আজও কোচিংয়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে মিহি । সকাল সকাল আজমাল হোসেনের কাছ থেকে কড়কড়ে তিন হাজার টাকা নিয়েছে সে । সকালে অফিসের জন্য রেডি হচ্ছিলেন আজমাল হোসেন । মিহি গুটি গুটি পায়ে গিয়ে দাঁড়ায় আব্বুর ঘরের সামনে । বাইরে থেকে মাথা এগিয়ে উঁকি দেয় একটু । মেয়েকে উঁকি দিতে দেখে ভিতরে ডাকেন আজমাল হোসেন । মিহি ভিতরে গিয়ে হাত চুলকাতে চুলকাতে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল আব্বুর দিকে । মেয়ের তাকানো দেখে আজমাল হোসেন হাতে চামড়ার ঘড়ি পড়তে পড়তে বলেন….
” কি হয়েছে আম্মু ? কি চাই তোমার ?
অমনি ভ্যাবলার মত হাসে মিহি । আব্বু জানতো মিহি কিছু চাইতে এসেছে । মিহি এগিয়ে গিয়ে আদুরে কন্ঠে টেনে টেনে বলে…
” আব্বু…
” হুম.. আম্মু , বলো….
মিহি কিছু না বলে , দুটো আঙ্গুল উঁচিয়ে কিছু একটা বোঝায় । আজমাল হোসেন হেসে ফেলেন মেয়ের ছেলে মানুষি দেখে । ছোট বেলা থেকেই মিহির যখন টাকার প্রয়োজন হয়েছে, তখন মিহি মুখে না বলে , আঙ্গুল উঁচিয়ে ইশারার মাধ্যমে বুঝিয়েছে আব্বুকে । ছোট বেলার এই অভ্যাসটা রয়েই গেছে । আর আজমাল হোসেনের মেয়েকে বোঝার ক্ষমতাও একই রয়েছে ।
মিহি আঙ্গুল উঁচিয়ে বাচ্চাদের মতো নিষ্পাপ চাহনিতে তাকিয়ে আছে । আজমাল হোসেন শব্দ করে হেসে ওঠেন এতে । এগিয়ে এসে পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে দুইশত টাকার চকচকে একটা নোট ধরিয়ে দেন মেয়ের হাতে । ছোট বেলায় মিহি দুটো আঙ্গুল দেখালে বিশ টাকার একটা নোট দিতেন তিনি । এখন মেয়ে বড় হয়েছে, তাই দুইশ টাকার নোট দেন ।
হাতে টাকা পেয়ে মিহি ঠোঁট উল্টে তাকিয়ে দুদিকে মাথা নাড়ে । আজমাল হোসেন চোখ সরু করে তাকান । তাকিয়েই বলেন…
” আরো চাই ?
মিহি উপর নিচ মাথা নাড়ে । দরকার না হলে কখনোই টাকা চায় না মিহি । আজমাল হোসেন মেয়েকে দরকারের কথা জিজ্ঞেস করেন না । বিনা বাক্যে দুটো এক হাজার টাকার নোট বের করে দেন । মিহির চোখ খুশিতে চিকচিক করে ওঠে । আব্বুকে জড়িয়ে উচ্ছাসিত হয়ে বলে….
” Thank you আব্বু ।
আজমাল হোসেন মেয়ের কান্ডে হেসে বলেন…
” আমার অফিসের দেরি হয়ে যাচ্ছে আম্মু , আমি যাই ?
” জিজ্ঞেস করবে না , আমি এতো টাকা দিয়ে কি করবো ?
” আমার আম্মু যখন নিয়েছে , তখন ভালো কিছুই করবে । তাই আমার জিজ্ঞেস করার কোন প্রয়োজন নেই ।
মিহি মিষ্টি হাসে আব্বুর কথায় । তার পর ফিসফিস করে কিছু একটা বলে আব্বু কে । আজমাল হোসেন মেয়ের কথা শুনে বেশ খুশী হন । পকেট থেকে আরো এক হাজার টাকা বের করে মেয়েকে দেন । মিহি বলে…
” আর লাগবে না আব্বু । এটা দিয়েই হয়ে যাবে ।
আজমাল হোসেন বলেন…
” এটা আমার পক্ষ থেকে । অনেক শুভেচ্ছা রইলো মা । আর সাবধানে যেয়ো ,, আমি আসি ।
★বর্তমান….
মিহি তো কোচিংয়ের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েছে । রৌনক, মিরা, নাদিয়া, সোহেল,মিহি, রুহি সবাই একসাথে একই কোচিংয়ে পড়ে ।
রুহি আজ কোচিংয়ে আসে নি । আগেই বলেছিল যে ও আজ আসবে না । মিহি অনেক জোর করেছে, তবুও আসে নি ।
রুহি ব্যালকনিতে বসে আছে । কিছু ভালো লাগছে না । কোচিংয়ে না গেলে, সবার সাথে একদিন দেখা না হলে মোটেও ভালো লাগে না । বাড়িতে বসে থাকতে একদমই ইচ্ছে করে না । আগে যখন মেহজাবিন ছিল তখন বাড়িতে থাকা সময়টুকু রুহি ওর সাথেই থাকতো । এখন তো মেহজাবিন নেই , মা চাচিদের সাথে সময় কাটায় রুহি ।
আজকে ওকে বাড়ি থেকে কেউ কোচিংয়ে যেতে দেয় নি ।তাই সময় কাটছিল না রুহির । জেনির ঘরে গিয়ে দেখে জেনি ঘুমাচ্ছে । দুপুরে রোজ রোজ ঘুমায় ও । রুহি আবার ঠোঁট উল্টে জেনির ঘর থেকে বেরিয়ে আসে । আবারো ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ায় । সকালে বৃষ্টি হয়েছে । আবহাওয়া এখনো ঠান্ডা । ব্যালকনির পাশ ঘেঁষে থাকা বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছটা ফুলে ভরে উঠেছে । লাল সবুজ ফুল পাতার মিশ্রনে গাছটা সেজে উঠেছে । তবে গাছটা অনেক বড় হওয়ায় সেই ফুলগুলো ধরাছোঁয়ার বাইরে । রুহি নিচে তাকায় , গাছের নিচে মাটিতে ফুল ঝরে পড়েছে অনেক ।
এই সময় রুহির মিহির কথা মনে পড়ছে । এই কৃষ্ণচূড়া গাছটা মিহির খুব পছন্দ । অনেক দিন থেকে মিহি আর আসেনি চৌধুরী বাড়িতে । সেই মেহজাবিনের বিয়েতে এসেছিল , আর আসা হয় নি । এই সময় ফুল সমেত এই কৃষ্ণচূড়া গাছটা দেখলে খুব খুশি হতো মিহি ।
মিহির কথা ভাবতেই আবারো বিষন্নতা ঘিরে ধরে রুহিকে ।
রুহি ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে নীরবে তাকিয়ে আছে নিচের দিকে । নীরবতা মাঝেই টুং টুং শব্দ করে বেজে ওঠে ওর ফোনটা । ফোনের শব্দে রুহি ব্যালকনি ছেড়ে ঘরের দিকে পা বাড়ায় । ঘরে এসে বিছানার উপর থেকে ফোনটা হাতে নেয় । সোহেল ফোন করেছে । রুহি কিঞ্চিত ভ্রু কুঁচকায় । সোহেল বা রৌনক খুব দরকার না হলে কল করে না । রুহি তড়িঘড়ি করে ফোনটা রিসিভ করে । ফোনটা কানে ঠেকিয়ে বলে….
” হুম,, বল….
ওপাশ থেকে সোহেল হাঁসফাঁস গলায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে কিছু একটা বলে । যেটা শুনে রুহির বুকটা ছ্যাঁত করে ওঠে । চোখ বড় বড় করে জোরে একটা শ্বাস টানে রুহি । আর কিছু বলতে পারে না । কানে গুজে রাখা হাতে থাকা ফোনটা আপনা আপনি গড়িয়ে পড়ে মাটিতে । কিছুক্ষণ নিস্তেজ দাঁড়িয়ে থেকে অমনি ছুট লাগায় রুহি । এলোমেলো পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছে সে ।
দুপুরের সময়, ড্রইং রুমে কেউ নেই । পুরো ফাঁকা । যে যার রুমে আছে ।
রুহি কোন দিকে না তাকিয়ে এলোপাথাড়ি ছুট লাগায় বাইরের দিকে । দরজা খোলাই ছিল । চাপানো ছিল হালকা । রুহির সদর দরজার কাছে পৌঁছানোর আগেই দরজা খুলে বাড়িতে প্রবেশ করে রাফি আর শান্ত । দুপুরের সময়, তাই দু’জনেই অফিস থেকে সোজা বাড়িতে এসেছে । রোজ আসে না, মাঝে মাঝে বেশি ক্লান্ত হয়ে গেলে আসে । অফিসের বেশিরভাগ কাজের চাপ থাকে দুজনের উপর । পুরো চৌধুরী গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রি সামলাতে হয় ওদের । শান্ত রোজ একবার হলেও রাফির সাথে আসে এই বাড়িতে । আজও এসেছে । পড়নের ব্লেজার খুলে হাতে রাখা দুজনের । দুজনের পড়নেই এখন সাদা মসৃন শার্ট, আর টাই, শার্টের হাতা কনুই অবধি গোটানো ।
দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই রুহিকে দৌড়ে আসতে দেখে দুজনেই । ওদের দেখে পা থেমে যায় রুহির । রুহির চোখে মুখে আতঙ্ক । চোখে পানি টলটল করছে, মুহুর্তেই তা গড়িয়ে পড়ে । রুহির অবস্থা দেখে শান্ত ব্যস্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করে….
” কি হয়েছে জান ? কা… কাঁদছো কেনো ? আর এভাবে কোথায় ছুটছো তুমি ? কি হয়েছে বলো ?
রুহির ঠোঁট জোড়া তিরতির করে কাঁপছে । কন্ঠ জড়িয়ে আসছে । কিছু বলতে পারছে না । রাফি রুহিকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে মুখ আগলে নিয়ে বলে…
” কি হয়েছে Sissy ? বল ,,
রুহি ভাইয়ার দিকে তাকাতেই আরো কয়েক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ে গাল বেয়ে । কাঁপা কাঁপা ক্ষীণ কন্ঠে বলার চেষ্টা করে…
” ভা.. ভাইয়া , আ.. আমার পাখি ….
রাফির বুকটা ধক্ করে ওঠে । ঢোক গিলে বলে..
” কি হয়েছে তোর পাখির ?
” ভাইয়া , ওর এক্সিডেন্ট….
আর কিছু বলতে পারে না রুহি । রাফি ওর হাত ধরে ক্ষিপ্র গতিতে বাইরে বেরিয়ে আসে । শান্ত ও পিছন পিছন ছুটে আসে । গাড়িতে বসে তিন জনে । গাড়িতে বসে রুহি রাফি কে সবটা খুলে বলে । রাফি ফুল স্পিডে গাড়ি চালানো শুরু করে । হাত কাঁপছে রাফির । গলা শুকিয়ে যাচ্ছে । শান্ত পাশ থেকে বুঝতে পারছে রাফির অবস্থা । তবে রাফি বা রুহিকে শান্তনা দিয়ে মুখে কিছু বলছে না ।
মিনিট পাঁচেক এর মধ্যে ধানমন্ডি ৩২ থেকে ভেতরের একটা সরু রোডে থামে ওদের গাড়ি । সাধারণত উচ্চ গতিতেও পঁচিশ মিনিটের রাস্তা,, তবে রাফি একেবারে ফুল স্পিডে গাড়ি চালিয়ে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই এসেছে । ট্রাফিক সিগন্যাল, এক্সিডেন্ট, কোন কিছুকে পরোয়া না করে শ্বাস বন্ধ করে গাড়ি চালিয়েছে সে ।
নিরিবিলি রাস্তা । মানুষের সমাগম খুব কম । রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধ বড় বড় গাছ । দুরে একটা ছোট্ট আইস ক্রিম পার্লার । একটু দূরে আরো একটা টং দোকান । মিহি’রা বন্ধু বান্ধবীরা মিলে কলেজ শেষে আড্ডা দিতে আসতো এই দিকে । হাঁটার দুরত্বে বেশ ভালো একটা সমাগম হীন পরিবেশ ।
গাড়ি থামাতেই সবার আগে সবেগে গাড়ি থেকে নেমে ছুটে যায় রুহি । আশেপাশে চেনা কোন মুখ নেই । পার্লারের সামনে নজর যেতেই দেখতে পায় সোহেল, রৌনক, মিরা আর নাদিয়া কে । চারজনই কাঁচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে । রুহি দৌড়ে যায় ওদের কাছে । নিরত কন্ঠে বলে..
” মি..মিহি ? আমার পাখি কোথায় ? তোরা এখনো এখানে কেনো ? আমার পাখির এক্সিডেন্ট কি করে হলো ? কোথায় ও ? আর তোরা ওকে এখনো হসপিটালে নিয়ে যাস নি কেনো ?
শেষের কথাগুলো চিল্লিয়ে বলে রুহি । রুহির কথার মাঝেই রাফি আর শান্ত ছুটে এসে দাঁড়ায় ওদের কাছে । রাফি কে দেখে মুখ চুপসে যায় রৌনক আর সোহেলের । ঢোক গিলে আমতা আমতা করতে থাকে ওরা । রাফি ঝাঁজালো কন্ঠে ধমক দিয়ে বলে ওঠে….
” কি হলো ? চুপ করে আছো কেনো ? বলো কোথায় মিহি ?
” সারপ্রাইজ…..
পেছন থেকে কোমল উচ্ছাসিত কন্ঠ শুনে সবাই চকিতে তাকায় ওদিকে । মিহি হাসি হাসি মুখে পরিপাটি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে । চোখে মুখে উদ্বেগ প্রকাশ পাচ্ছে । পড়নে কালো রঙের সুন্দর একটা জর্জেটের থ্রি পিস । রুহি মিহিকে দেখে এক মুহুর্ত দেরি না করে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরে । জড়িয়েই ঠোঁট ভেঙ্গে কেঁদে ওঠে রুহি । মিহি একটু হেসে রুহিকে জড়িয়ে ধরে । রুহি কান্না মাখা কন্ঠে , বলে….
” তুই ঠিক আছিস পাখি । ওরা যে বললো তোর এক্সিডেন্ট হয়েছে । জানিস আমি কতটা ভয় পেয়ে গেছিলাম ? আমার হাত পা কাঁপছিল । তুই ঠিক আছিস জান , তোর কিচ্ছু হয় নি ।
মিহি ঠোঁট উল্টে বলে…
” Sorry pakhi ,, আমরা তো একটু মজা করেছি তোর সাথে । তোকে সারপ্রাইজ দেওয়ার ছিল — Happy Birthday জান ,, Many Many happy returns of the day .
তোকে বার্থডে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্যই এসব করেছি ।
রুহি মিহিকে ছেড়ে মাথা নিচু করে নাক টানছে । মিহিকে দেখে চোখ বন্ধ করে ঢোক গেলে রাফি । বুকের উপর থেকে যেন পাথর নেমে গেছে । রাফি শ্বাস টানে , নিজের হাত পায়ের কম্পন অনুভব করে ।
পরমুহূর্তেই চোখ মুখ খিচে, চোয়াল শক্ত করে দৃঢ় পায়ে এগিয়ে যায় মিহির কাছে । মিহির হাত ধরে ঝটকা মেরে টেনে নিজের দিকে ঘুরিয়ে শক্ত কন্ঠে ধমকের স্বরে বলে…
” How dare you ? তোমার সাহস কি করে হয় এই রকম একটা মজা করার ? তুমি জানো তুমি কি করেছো ? এটা কি ধরনের ইয়ার্কি ? সারপ্রাইজ দিচ্ছো তুমি ? সারপ্রাইজ ? কোন ধরনের সারপ্রাইজ এটা ? তুমি জানো আমরা এখানে কিভাবে এসেছি ? কি অবস্থা হয়েছিল আমার ? ভাবতে পারছো তুমি ? মজা পেয়োছো ? সব কিছু ছেড়ে নিজের এক্সিডেন্টের কথা বলতে হলো তোমায় ? মাথা খারাপ তোমার ?
চোখ রাঙিয়ে হুংকার ছেড়ে কথা গুলো বলে রাফি । মিহি চমকে তাকায় রাফির দিকে । চোখ গোল গোল করে অবিশ্বাস্য ভীত নয়নে তাকিয়ে আছে মিহি । রুহি ও অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছে । রাফির কপালের রগ ফুলে উঠেছে । চিবুক বেয়ে দুফোঁটা ঘাম গড়িয়ে পড়ছে । মিহির নরম চিকন বাহুতে রাফির হাতের বাঁধনের শক্তি ক্রমান্বয়ে শক্ত হচ্ছে ।
এতে ব্যথা পায় মিহি । মিহি গলা খাদে নামিয়ে ক্ষীন স্বরে বলে ওঠে….
” লা.. লাগছে আমার ।
তৎক্ষণাৎ মিহির হাত ছেড়ে দেয় রাফি । মিহি দু’কদম পিছিয়ে যায় । আশেপাশে থাকা গুটি কয়েক মানুষ নিজেদের কাজ ফেলে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে । পাশের দোকানের মালিক দোকান থেকে উঁকি ঝুঁকি দিয়ে দেখছে ।
এদিকে সবার পেছনে যুবু-থুবু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সোহেল, রৌনক, মিরা আর নাদিয়া । রাফির হুংকারে কেঁপে উঠে ওরা । সোহেল শুকনো ঢোক গিলে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলে…
” বাঁচতে চাইলে পালা ভাই,, আমরাও জড়িত আছি এই প্লানিং এ । আমাদের ধরতে পারলে ছাড়বে না ।
রৌনক কেলানি খেতে না চাইলে জলদি পালা ।
বলেই পা টিপে টিপে একটু পিছিয়ে জোরে দৌড় লাগায় সোহেল আর রৌনক । মিরা আর নাদিয়া ও ভয়ে চুপসে আছে । একে অপরের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে ওরাও ফাঁক বুঝে কেটে পড়ে ।
ওদের দিকে মনযোগ নেই কারোর । কেউ ঘুরে তাকালো না পর্যন্ত ।
রাফি মিহিকে ছেড়ে ওর কাছ থেকে একটু দূরে সরে আসে । গলার টাই টেনে ঢিল করে,, দুহাতে নিজের চুল খামচে ধরে রাস্তার পাশে আইস ক্রিম পার্লারের সামনে থাকা একটা ব্রেঞ্চে সজোরে লাথি মারে ।
মিহি এখনো নিস্তেজ চোখে তাকিয়েই আছে । আবারো কেঁপে ওঠে মিহি । রুহি ওর কাছে এগিয়ে গিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলে…
” Sorry Pakhi ,, Actually ভাইয়া….
মানে একটু ভয় পেয়ে গেছিলো । ভাইয়ার কথায় কিছু মনে করিস না প্লিজ ।
মিহি ঠোঁট উল্টে ছলছল চোখে তাকায় । কাঁপা গলায় বলে…
” আমি বুঝতে পারি নি রে । তোর আজ বার্থডে ছিল, ভেবেছিলাম তোকে সারপ্রাইজ দেবো । কিন্তু তুই তো আগেই বলেছিলি যে তুই আজকে আসবি না । তোকে অনেক জোর করেছিলাম তবুও আসিস নি । তাই তোকে এখানে নিয়ে আসার জন্য এমনটা করেছি । ছোট খাট ভাবে তোকে একটা সুন্দর সারপ্রাইজ দিয়ে তোর বার্থডে সেলিব্রেট করতে চেয়েছিলাম ।
রুহি চুপ থেকে মিহির পিছনের দিকে তাকায় । এই পার্লারে আইস ক্রিম খেতে আসতো ওরা । পার্লারের পাশে বড় ছাতার নিচে একটা টেবিলের উপর কেক রাখা । পিছনের দেয়ালটা বেলুন দিয়ে সাজানো । খুব সাধারণ তবে অসাধারণ । রুহি কিছু বলে না । শান্তর দিকে চোখ তুলে তাকায় । রাফি এখনো দুরে দাঁড়িয়ে আছে । শান্ত একবার রাফি কে দেখে মিহির কাছে এগিয়ে গিয়ে সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলে…
” রুহির আজ বার্থডে , কিন্তু ও আজ কেন বাইরে বের হয় নি জানো ?
মিহি চোখে প্রশ্ন নিয়ে তাকায় শান্তর দিকে । শান্ত বলে…
” ওকে আজ বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হয় নি মিহি । কারন চৌধুরী বাড়িতে কেউ বার্থডে সেলিব্রেট করে না । কেনো জানো ?
এর কারনটা মিফতাহুল । মিফতাহুল কে চেনো নিশ্চয়ই ? রুহির থেকে চৌদ্দ দিনের ছোট ও । আজ থেকে চৌদ্দ দিন পর মিফতাহুলের বার্থডে । আর আজ থেকে চৌদ্দ দিন পর ওর মৃত্যু বার্ষিকীও । আজব না – যেদিন জন্ম ঠিক সেই দিনই মৃত্যু ।
শান্ত একটু থামে । রুহির চোখের কোনে পানি এসে গেছে । মিহি আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে আরো কিছু শোনার জন্য । শান্তকে এতোটা সিরিয়াস ভাবে কথা বলতে আগে শোনে নি মিহি । শান্ত শ্বাস ছেড়ে বলে….
” ১৮ ই জুলাই, জন্ম দিনের দিন এক কার এক্সিডেন্টে মারা যায় মিফতাহুল, আর মেজো মামা । সেই দিন ঐ গাড়িতে চার জন ছিল । দু’জন বেঁচে আছে, তাদের মধ্যে রাফি একজন । রাফি নিজ চোখে দেখেছিল সবটা । চোখের সামনে এক বিভৎস এক ঘটনা । গাড়ি থেকে ছিটকে পড়েছিল ও । তখন ওর বয়স কতোই বা হবে , এগারো কি বারো ।
ও সহ্য করতে পারে নি এটা । এখনো পারে না ।
তাইতো এতোটা রিয়াক্ট করলো । দেখলে না ?
ও নিজের আপনজনদের হারানোর ভয় পায় মিহি । সব থেকে বেশি ভয় পায় । রুহি , মেহজাবিন এদের কে ও সব সময় আগলে রাখে ।
আর সেই এক্সিডেন্টের পর থেকে এই বাড়িতে কারোর বার্থডে সেলিব্রেট করা হয় না । আর না রাফি রুহিকে ওর এই দিনে বাড়ি থেকে বের হতে দেয় ।
ভেজা কন্ঠে কথা গুলো বলে শান্ত । মিহির চোখ বেয়ে কয়েক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ে অজান্তেই । মিহি রুহির হাত ধরে কেঁদে ওঠে । কান্নারত কন্ঠে বলে…
” বিশ্বাস কর পাখি, আমি এসব জানতাম না । জানলে কখনোই এমনটা করতাম না ।
আমি সরি । আর কখনো এমনটা হবে না ।
মাথা নামিয়ে ঠোঁট চেপে কান্না আটকায় মিহি ।
সবার মাঝেই পিনপতন নীরবতা ।
রাফি রাস্তার ধারের ব্রেঞ্চের উপর হেলে মাথা চেপে ধরে বসে আছে । শান্ত অনেকটা দূরে বুকে হাত গুজে দাঁড়িয়ে আছে । মিহি টেবিলের উপর থেকে হাতে করে দুটো গিফট পেপারে মোড়ানো প্যাকেট নিয়ে আসে । রুহির হাতে পরপর দুটো প্যাকেট দিয়ে স্বাভাবিক কন্ঠে বলে…
” তোর গিফট । আর এটা আব্বুর পক্ষ থেকে । কেক কাটতে হবে না । বাড়ি যা এখন । আন্টিকে বলে আসিস নি, হয়তো টেনশন করছে ।
আমিও যাই ? আসি ? ভালো থাকিস, কাল দেখা হবে ।
বলেই রুহিকে জড়িয়ে ধরে মিহি । একবার নিরলস চোখে রাফির দিকে তাকায় । মুহুর্তেই চোখ সরিয়ে নিয়ে কিছু না বলে রাস্তায় নামে । আর কাউকে কিছু বলার সুযোগ ও দেয় না ।
শান্ত চোরা চোখে রাফির দিকে তাকায় । রাফি বসা থেকে উঠে এগিয়ে আসে ওদের কাছে । সবাইকে একবার করে দেখে ভারী গলায় শান্তর দিকে কথা ছুড়ে দেয়….
এক দেখায় পর্ব ১৬
” শান্ত,, রুহিকে নিয়ে বাড়িতে যা । আমি আসছি ।
রাফির গলা শুনে থেমে গিয়ে একবার পিছন ফিরে তাকায় মিহি । রাফি পিছন ফেরার আগেই শান্ত বলে…
” কোথায় যাবি তুই ?
” বললাম তো আসছি । তোরা বাড়িতে যা । আর হ্যাঁ , সাবধানে যাবি….
বলেই পিছন ফিরে তাকায় রাফি । মিহি হাটা শুরু করে দিয়েছে । একটু এগোতেই রাফির শক্ত কন্ঠ ভেসে আসে….
” দাঁড়ান….
