Home এক দেখায় এক দেখায় পর্ব ৫২

এক দেখায় পর্ব ৫২

এক দেখায় পর্ব ৫২
সুরভী আক্তার

মিহি আচানক উপর নিচ মাথা নাড়ালো । কি বুঝলো সে নিজেও জানে না । ওর অবস্থা দেখে ঠোঁট টিপে হাসছে রাফি ।
রাফি নিজে থেকে ছাড়লো এবার ! মিহি ছাড়া পেয়েই তৎক্ষণাৎ পিছিয়ে আসলো । বাঁচলো সে ‌। হাঁফ ছাড়ল । রাফি পেছনে হাত গুটিয়ে খানিক হেলে প্রশ্ন করলো….
” কি বললাম আমি ? তৃতীয় বার কিভাবে আসবে ?
ভ্যাবাচ্যাকা খেলো মিহি । কি বলেছে রাফি ? মিহি তো কানই দেয় নি ওর কথায় । বোকার মতো হাসলো মিহি । বললো ঝটপট….
” কি বলেছেন ভুলে গেছি ! পরে আবার শুনবো । এখন যাই…
বলেই ঝট করে পা বাড়াতে গেলে দ্রুত ওর হাত টা খপ করে টেনে ধরলো রাফি । ফের কম্পিত হয়ে থমকে গেলো মিহি ।
মনে মনে নিজেকে বকলো হাজার । কোন কুক্ষনে এখানে আসতে গেলো ও ? এসেছিস তো এসেছিস , কাজ সেরে জলদি চলে যেতে পারিস নি ? রাফি হাত ধরেই বললো….

” এতো যাই যাই কিসের হ্যাঁ ? এসেছো নিজে থেকে , যাবে আমার অনুমতিতে ।
মিহি কোনো রকমে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো । ঠোঁট উল্টে ভেজা গলায় বলল….
” আপনি না দিন দিন কেমন হয়ে যাচ্ছেন !
” আগেও এমন ছিলাম , তখন তুমি ছিলে না । যখন আসলে তখন বাধ্য ছিলাম , এখন অবাধ্য হতে ইচ্ছে করে ভীষণ ।
মিহির মনে দুষ্টুমি ভর করলো । ও ঢোক গিললো । হাত খানা মোচড়া মুচড়ি করে সাহস জুগিয়ে বললো….
” ছে…ছেড়ে দিন ভাইয়া !
আচমকা অহেতুক সম্বোধনে কপালে ভাঁজ পড়লো রাফির । ও চোখ মুখ কুঁচকে বললো…
” হোয়াট ইজ ভাইয়া ?
” আ.. আপনি তো আমার ভাইয়া হন ! ছোট মা বলেছে আপনাকে ভাইয়া ডাকতে । মামনি বললো , আমি নাকি ছোট বেলায় আপনাকে ডাকতাম না কখনো ‌ । এই নিয়ে আপনি রেগে যেতেন আমার উপর । সেদিন ও তো হসপিটালে বললেন , আমার উপর অন্য একটা কারনে ভীষণ রাগ উঠতো আপনার । এটাই সেই কারণ , তাই তো ?
ডোন্ট ওয়ারি , আজ থেকে আর রাগতে হবে না আমার উপর । উঠতে বসতে সবসময় আপনাকে ভাইয়া ডাকবো আজ থেকে !!

কপাল ভ্রু একসাথে কুঁচকে নাক বরাবর করলো রাফি । নাকের পাতা ফুলে উঠেছে ওর । চোখ অত্যাধিক কুঁচকানো । ঘরের আলোয় রাগান্বিত চেহারা খানা কেমন অদ্ভুত দেখাচ্ছে । মিহির কথা শুনে আর মিটিমিটি মুখখানা দেখে সতেরো বছর আগের একটা ঘটনা মনে পড়লো । এই মেয়ে টা তখন হবে এক বছর আট মাসের বাচ্চা । রাফি কে বাদ দিয়ে সবাইকে ডাকতো । এমনিতে সবসময় হাসতো , কিন্ত রাফি কে দেখলেই হাসি গায়েব হতো ওর ঠোঁট থেকে । রাফি একটুও সহ্য করতে পারতো একে । এমনিতে মিহি রাফির পরী ছিল । কিন্তু এ তো ছোট্ট একটা পুঁচকে , সে কিনা ওকে ইগনোর করে ? ভাইয়া ও ডাকে না । রুহি তো ডাকে ! এর ডাকতে কি সমস্যা ? রাফি কটমট করতো মিহির উপর ‌।
একদিন রুহি, মিহি খেলছিল । রাফির উপস্থিতিতে খেলার মাঝেই মিহির হাসি হাসি মুখ খানা চুপসে গেল ।
রাফি সেদিন একা পেয়ে চেপে ধরেছিল মিহি কে ‌। মিহির বাচ্চা বাচ্চা দুই হাত শক্ত করে চেপে ধরে ধমকে বলেছিল সেদিন…

” পুঁচকে পরী , আমায় দেখলে হাসিস না ক্যান ? হাস । ভাইয়া বল ! ভাইয়া বলে ডাক আমায় ! নয়তো মারবো তোকে ! এবার ভাইয়া না ডাকলে তোর ঐ ইঁদুরের মতো ষোলো টা দাঁত ভেঙে দেবো আমি….ডাক ভাইয়া..!
মিহি সেদিন ও ডাকে নি । বরং কেঁদে ফেলেছিলো রাফির ধমকে ।
এখন রাফির অবস্থা দেখে হাসি পেলো মিহির । দাঁত কেলালো মিহি । কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিয়ে ও আবার বললো…
” ছাড়ুন ভাইয়া ! ঘরে যাবো আমি….
এক মুহুর্ত অপেক্ষা হলো না । এক টানে ওকে আবার নিজের বাহুডোরে আবদ্ধ করলো রাফি । আচমকা হেঁচকা টানে হুমড়ি খেয়ে রাফির প্রসস্থ বুকে এসে আছড়ে পড়লো মিহি । চোখ মুখ শক্ত করে খিচে খানিক কুকিয়ে উঠলো । রাফি ওকে চেপে ধরে দাঁত কিড়মিড়িয়ে বললো…

” কি হই আমি তোমার ?
মিহি ওঠার চেষ্টা করলো । মাথা তুলে হাল না ছেড়ে বললো…
” ভা.. ভাইয়া ! বড় আব্বুর ছেলে , ভাইয়াই তো…
” আবার বলো !
” ভাইয়া !
” আবার …
” ভা.. ভাইয়া !
” আবার…
বিড়ম্বনায় পড়লো মিহি । এই লোকের হাবভাব বুঝতে পারছে না । কোমর গলিয়ে রাফির হাত পৌঁছালো মিহির পিঠে । আঁতকে উঠলো মেয়েটা । রাফির অন্য হাত মিহির বাম গালে উঠলো । সবে শাওয়ার নেওয়ায় রাফির চুল ভেজা । কপালে ভেজা চুল লেপ্টে । হাত খানা ঠান্ডা বরফের ন্যায় । ওর ঠান্ডা স্পর্শে পাথরের ন্যায় জমে গেলো মিহি । রাফি হাতের স্পর্শ গাঢ় করতে করতে বললো আবার , এবার কন্ঠ চিপে….
” বলো ? কি হই ?
মিহির শরীরে পুনরায় কম্পন শুরু হচ্ছে । চোখে পড়ছে ঘন পলক । গলা শুকিয়ে কাঠ । রাফির হাতের অবাধ্য বিচরণে কাত হয়ে পড়ছে মিহি ।সে কোনো রকমে গলায় শব্দ তুললো…..

” কিছু না…..
” আর ডাকবে ভাইয়া ?
মিহি না বোধক মাথা নাড়ালো । ফিচেল হাসলো রাফি । ঠোঁট কামড়ে বললো..
” আমি তোমার কিসের ভাইয়া হ্যাঁ ? থাপড়িয়ে বত্রিশ টা দাঁত ফেলে দেবো । আর যদি কোনো দিন ভাইয়া ডেকেছো না , তাহলে বোঝাবো আমি কে ? এই ভাইয়া যে কি কি করতে পারে , সেটা আর একবার ভাইয়া ডাকলেই বুঝতে পারবে ।
” মারবেন আমায় ?
” নাহ , আদর করবো । করি ?
মুখ বাঁকালো মিহি । ভেংচি কাটলো রাফি কে ।
রাফি হেসে ছাড়লো মিহি কে । পিছিয়ে আসলো । গলায় ঝোলানো টাওয়েল টা হাতে তুললো । মিহি ছাড়া পেতেই এক দৌড়ে পালাতে নিলে ফের ডাকলো রাফি…..
” এই , কোথায় যাচ্ছো ? যেতে বলেছি আমি ? বলেছি না আমার অনুমতিতে বাইরে যাবে । পারমিশন দিয়েছি আমি ?
ছুটতে উদ্যত হওয়া পা দুটো আটকে গেলো মিহির । আঠার মতো চিপকে গেলো আবার । ফুস করে চুপসে গেল জাগ্রত সত্ত্বা । রাফির দিকে ফিরতেই রাফি ডাকলো নিজের কাছে…
” কাছে এসো !
ছ্যাত করে উঠলো মিহি । কি বলে এই লোক ? যেচে পড়ে বাঘের খাঁচায় এসেছে , এখন কিনা বাঘের সম্মুখে যাবে আবার ? না বাবা , পালাতে পারলেই বাঁচে । মিহি ফের দৌড়াতে গেলে হীম কন্ঠে বলল রাফি….
” ঘর থেকে বেরোলে ভালো হবে না । আর আমি তোমার কাছে গেলেও তোমার জন্য ভালো হবে না । তুমিই এসো , একটা কাজ দেবো তোমায় । উল্টো পাল্টা মাইন্ড করো ক্যান ? ভালো মেয়ের মতো কাছে এসো । আমি ভালো মানুষ হয়ে দেখাবো । কিচ্ছু করবো না ।
মিহি ভেংচি কাটলো মনে মনে । রাফি গিয়ে নরম সোফায় বসলো । ভেজা মাথা পেছনের দিকে এলিয়ে দিয়ে আবার ডাকলো…

” আসতে বলেছি ।
চমকে গটগটিয়ে এগিয়ে গেলো মিহি । পাশে দাঁড়াতেই রাফি টাওয়েল টা ইশারা করে বললো ….
” চুল গুলো মুছিয়ে দাও ….
অবিশ্বাসে প্রশ্ন করলো মিহি….
” আমি ?
” না , তোমার ভুত ?
মিহি ঠায় দাঁড়িয়ে । রাফি মাথা তুলে তাকালো , বললো কপাল গুটিয়ে….
” কি হলো ? দাঁড়িয়ে আছো কেনো ? মুছিয়ে দাও !
তড়িঘড়ি করে টাওয়েল টা হাতে তুলে মাথাটা মুছিয়ে দিলো মিহি । ততক্ষন চোখ বুজে রইলো রাফি । শেষ হতেই , মিহি সরে দাঁড়ালো । বসা থেকে উঠলো রাফি ‌। মিহির হাত খানা টেনে ধরে আলমারির দিকে এগোলো । মিহিও এগিয়ে গেলো বাঁধা না দিয়ে । আলমারি খুললো রাফি । মিহি কে পাশে দাঁড় করিয়ে ।
আলমারি খুলে মিহির দিকে তাকালো । মিহি অবুঝ নয়নে চেয়ে । রাফি মুচকি হাসলো । ওর ডাগর চোখা চাহনি দেখে দৃষ্টি স্থির হয়ে আসলো পুনরায় । আচমকা ডাকলো….
” ম্যাডাম !!
কাঁপুনি দিয়ে উঠলো মিহি । শিরশির করে উঠলো শরীরটা । কেমন যেন অনুভুত হলো আচমকা । রাফি বললো….

” একটা কথা রাখবেন ?
উত্তর করলো মিহি….
” কি ?
আলমারি ঘেঁটে কিছু একটা খুঁজলো রাফি ‌। বের করলো একটা প্যাকেট মতো কিছু । মিহি সেদিকটায় অধির আগ্রহে চেয়ে । রাফি ওকে আবার টেনে এনে আয়নার সামনে দাঁড় করালো । প্যাকেট টা থেকে বের করলো একটা শাড়ি । ডাগর অক্ষি যুগলের আকৃতি আরো বেশি বৃহৎ হলো মিহির । মুখ ফাঁক করে চাইলো ও । শাড়িটা দু’পলক দেখে ঝট করে রাফির দিকে চাইলো । ও তাকাতেই ভ্রু নাচালো রাফি । মিহি কে আয়নার দিকে মুখ করে দাঁড় করালো । মিহি আয়নায় ভেসে ওঠা প্রতিবিম্বে রাফির পানে চেয়ে । রাফি গোলাপি রঙের গোছানো শাড়ি টার এক ভাঁজ খুলে আঁচলের ন্যায় ধরলো মিহির শরীরে । অতঃপর ওকে আবার পিছন থেকে জড়িয়ে ধীর কন্ঠে বলল….
” এভাবে কি দেখছেন , কিছু মনে পড়লো ?
” এটা তো ….ঐ ….

” হুম , এটা ঐ শাড়িটাই । আমার আবেদনময়ী কে দেওয়া আমার পক্ষ থেকে প্রথম উপহার !
মিহি ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো রাফির দিকে । এই শাড়িটাই তো সেটা , যেটা মিহির জন্মদিনে দুহাজার গোলাপের সাথে মিহি কে দিয়েছিল রাফি । এটা তো শহর ছেড়ে বেপাত্তা হওয়ার আগে বাড়ি ওয়ালার কাছে গচ্ছিত রেখে গেছিলো মিহি । বলে গেছিলো কেউ খোঁজ করতে আসলে যেন , এগুলো দিয়ে দেয় । রাফি খোঁজ করেছিল তবে ? ও হাতে পেয়েছে এগুলো !
মিহি শুষ্ক ঢোক গিলে বললো….
” এটা আজ ও রেখেছেন নিজের কাছে ?
” রাখবো না ? তুমিই তো শেষ চিহ্ন হিসেবে আমার দেওয়া জিনিস আমাকেই ফেরত দিয়ে গেছিলে । কি বলেছিলে যেন ? আমার স্থায়ী আবেদনময়ী কে যেন এই শাড়ি পড়িয়ে আবেদনময়ী রুপে দেখি আমি । তুমিই তো আমার সেই । এখনো সেই রুপে দেখা হয় নি তোমায় ! তাই তোমার জন্য যত্নে রেখেছিলাম….
” যদি ফিরে না আসতাম ?
” তোমাকে যে আসতেই হতো । তাই এসেছো আবার ।
মিহি চুপ । রাফি ওর মুখখানা আবার আয়নার দিকে ঘোরালো । আয়নাতেই দু’জন দু’জনের চোখে চেয়ে আছে । রাফি বললো চেয়ে থেকেই….

” এবার না হয় আবেদনময়ী রুপে আসুন আমার সামনে । এই শাড়িটা অনেক শখের আমার , শুধুই আমার শখের নারীর জন্য । শুনুন না ম্যাডাম , আমার জন্য এই শাড়িটা পড়বেন একটু ? আপনাকে এই শাড়িতে দেখার তীব্র বাসনা পোষন করছি মনে । শাড়িটা পড়ে আসবেন আমার সামনে ? আপনাকে এই শাড়িতে আবেদনময়ী রুপে দেখার তীব্র বাসনা কে তৃপ্ত করতে চাই আজ….
মিহি ড্যাপ ড্যাপ করে চেয়ে । রাফির কথা গুলো কানে বাজছে । মিহি কে নীরব দেখে রাফি আবার বললো….
” কি হলো ? শুনছেন কি বললাম ?
” হুম !
” পড়বেন ?
” আজ ?
” আগামী কাল ! ঠিক সকাল নয়টার ! শাড়িটা পড়বেন ‌। আমি দেখবো আপনাকে !
” সকালে ?
” হুম !
” সবাই দেখবে তো ?
” দেখুক ! তুমি কি শুধু আমাকে দেখাতে চাইছো নাকি ? এই রাতের আঁধারে ?
” ধ্যাত !
মিহি সরতে চাইলো । রাফি সরতে দিলো না । হাসলো দুজনে । হাসি থামিয়ে রাফি বলল….

” মনে থাকবে তো ?
” হুম ! আচ্ছা এবার একটা প্রশ্নের উত্তর দিন তো ?
” প্রশ্ন করো !
ঘুরে দাঁড়ালো মিহি । কপাল গুটিয়ে প্রশ্ন করলো….
” আপনি চোর ?
নিজেও কপাল কুঁচকালো রাফি । হয়তো বুঝলো না ।
” চোর তো তুমি , আমার মন চুরি করেছো যে ।
” আপনিও চোর !
” তোমার মন চুরি করতে পেরেছি তাহলে ?
” মনে জায়গা করে নিয়েছেন । চুরি করেছেন অন্য কিছু !
” কি চুরি করলাম ?
” আমার ব্রেসলেট ! আমি প্রথম বার যেদিন আপনার ঘরে এসেছিলাম , সেদিন দেখেছি আমার হারিয়ে যাওয়া ব্রেসলেট আপনার ড্রয়ারে ছিলো !
রাফি শ্বাস টানলো । এটাই তবে কথা ? বললো রাফি….

” সেটা বুঝি তোমার ব্রেসলেট ? তোমার কাছ থেকে তো হারিয়ে গেছিলো , তাহলে আমি চুরি করলাম কিভাবে ?
” আমি কি জানি ? চোরের চুরির কায়দা আমি জানবো কিভাবে ?
” তাই ? তা বলোতো , ব্রেসলেট টা হারালে কিভাবে ? আর কবে ?
” মনে নেই ।
” আমার মনে আছে । যেদিন আমার মন চুরি করেছিলে, সেদিনই হারিয়েছিলে সেটা । তোমার ভাষায় সেদিনই তোমার থেকে সেটা চুরি করেছিলাম আমি ।
” আমি আপনার মন চুরি করলাম কবে ?
” প্রথম দেখায় , এক দেখায়….
মিহি ভাবলো ভাবুক হয়ে । রাফির সাথে প্রথম দেখা হয়েছিল সেই বৃষ্টি স্নাত সন্ধ্যায় । কিন্তু তার আগেই তো ও ব্রেসলেট টা হারিয়ে ফেলেছিল । তাহলে ? মিহি আরো ভাবলো , সেই প্রথম দেখাতেই বুঝি সে রাফির মন চুরি করেছিলো ? মনে মনে হাসলো মিহি । ভীষণ ভালো লাগলো ।
মিহির মনে দুটো প্রশ্ন । সে প্রথম প্রশ্ন করলো…
” আপনার সাথে দেখা হওয়ার আগেই ব্রেসলেট টা হারিয়ে ফেলেছিলাম । আপনার সাথে তো দেখা হলো পরে ! তাহলে , আমার ব্রেসলেট আপনার কাছে এলো কি করে ?
” উহুম ..

আমার সাথেই আগে দেখা হয়েছিল । এক জীবনে , এক সন্ধ্যায় , এক দেখায় , এক পলকে , এক ডাগর চোখা রমনীর প্রেমে পড়ে , পুরো একটা জন্ম কাটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এক মুহুর্তেই । আর সেই এক রমনীর ভুলক্রমে ফেলে যাওয়া এক খানা চিহ্নই ছিলো – সেই ব্রেসলেট । যেটা আজ ও আছে আমার কাছে !
মিহির কৌতুহল বাড়লো । চোখে মুখে উদ্বিগ্নতা ‌। ব্যাগ্র হৃদয়ে ব্যাকুলতা নিয়ে রাফির পানে চেয়ে সে । রাফি ওর অবস্থা টুকু বুঝে হাসলো । ওকে ছেড়ে আবার আলমারির দিকে এগোলো । এবারো কিছু একটা বের করে ফিরে আসলো ‌। মিহি কে টেনে খাটের উপর বসালো । ও নিজে এক হাঁটু মুড়ে বসলো নিচে , ঠিক মিহির সম্মুখে । মিহি আঁতকে বললো….
” ওখানে বসছেন কেনো ? উপরে বসুন …
শুনলো না রাফি । হাতে একটা কাঠের বক্স । ওটা খুললো রাফি । ভেতর থেকে সবার আগে বের করলো মিহির ব্রেসলেট টা । মিহির হাতে পড়িয়েও দিলো সেটা । পড়িয়ে হাতখানা দুহাতে আগলে ধরলো । হাত খানার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে উল্টো পিঠে চুমু খেয়ে মিহির দিকে তাকালো , বললো….

” আপনার জিনিস আপনাকেই ফেরত দিয়ে দিলাম । রেখে আর কি করবো , এখন তো আপনি আছেন আমার কাছে । আপনি থাকলেই হবে আমার ।
আর এই হাতে কিছু একটা মিসিং লাগছে… খুব তাড়াতাড়ি এই শূন্যতা টুকু পূর্ণ হবে । আপনার ও , আর আমার ও । আপনি শুধু আর একটু সুস্থ হয়ে যান…
” আমার প্রশ্নের উত্তর দিন আগে ! এটা কোথায় পেয়েছেন ?
” তোমার আর আমার যেদিন প্রথম দেখা হয়েছিল । সেদিন পেয়েছিলাম ।‌ তোমার হাত থেকে খুলে পড়েছিল !
” কিন্তু…
” পুরো কথা শোনো আগে ।
সেদিন বৃষ্টির দিনে দ্বিতীয় বার দেখেছিলাম তোমায় । প্রমথ বার তো দেখেছিলাম অন্য দিন ।
” কবে ?

এক দেখায় পর্ব ৫১

রাফি বক্স টা থেকে ফ্রেম মতো আবার কিছু একটা বের করলো । সেটার দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে স্নিগ্ধ হাসলো । অতঃপর মিহির সম্মুখে ধরলো সেটা । প্রশ্ন করলো…..
” এটা কে বলো তো ?
ফ্রেমে দুটো অঙ্কিত চোখ ।

এক দেখায় পর্ব ৫৩