এক দেখায় পর্ব ৭
সুরভী আক্তার
পুরো ঘর অন্ধকার । মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে নিষ্পলক চেয়ে আছে রাফি । হাতে ধরা ফোনে রয়েছে মিহির সেইদিনের একটা Scrinshot নেওয়া ছবি , যেদিন মিহির সাথে রাফির প্রথম দেখা হয়েছিল,, সেইদিন যখন রাফি শান্তর পিছলে যাওয়ার ভিডিও করছিলো তখনই মিহির সাথে ধাক্কা লাগে আর ভাগ্যক্রমে ফোনের ক্যামেরায় ধরা পড়ে যায় মিহি । চোখ মুখে একটু জড়তা ও ভয় ,, ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ,, ঘন পাপড়ি সমেত টানা চোখ দুটোর চাহনি ছিল অন্যরকম । যা রাফিকে শান্ত থাকতে দেয়নি, বাসায় আসার পরে ও পিছু ছাড়েনি সেই চোখের মায়া ,, ঠিক তখনই ফোনে ধারণ করা ভিডিও থেকে মিহির একটা Screenshot সংগ্রহ করে রাফি । রাফির এই অনুভূতির আড়ালে রয়েছে এক অদ্ভুত শীতলতা । ছবির দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে থেকেই রাফি গম্ভীর শ্বাস নেয়…
– কি জাদু করেছেন ম্যাডাম ..? এই আমিটাকে উল্টে পাল্টে দিয়েছেন একদম – আমি তো পুরো এক দেখাতে হারিয়ে গেছি । আপনি যদি জানতেন এই কদিনে কি ভীষণ ভাবে আমি আপনাকে খুঁজেছি তাহলে…
হাসে রাফি,, আবারো বলে….
” এই চোখ,,এই হাসি আমি সেই দিন হারিয়েছিলাম কিন্তু আজ আবার ফিরে পেলাম । আপনাকে দেখার পর আমার বুকের গভীরে কিছু একটা জেগে উঠেছিল যা আগে কখনো অনুভব করিনি আমি । আপনার ঐ চোখের দিকে তাকালে খেই হারিয়ে যায় আমার,,কি মারাত্মক চাহনি আপনার,,,
বুকের বাম পাশে হাত রাখে রাফি ,, একহাতে ফোনের স্ক্রিন সটে থাকা ছবিটাকে জুম করে,, সেই জুম করা ছবির চোখের দিকে তাকিয়ে সুর তুলে দুই লাইন গেয়ে উঠে….
তোমার চোখে আকাশ আমার
চাঁদ উজাড় পূর্ণিমা
ভেতর থেকে বলছে হৃদয়
তুমি আমার প্রিয়তমা….
রাতটা নির্ঘুম কাটে রাফির । ঘর অন্ধকার অথচ মন আলো করে রয়েছে একটা নাম – মিহি । মনের মধ্যে মিহির সেই নির্ভার হাসি , টানা টানা চোখ, বৃষ্টি ভেজা চেহারা, ঠোঁটের মৃদু কাঁপুনি ভেসে উঠছে বারবার । জীবনের প্রথম প্রেম অনুভূতি এমন হয় বুঝি । রাফির শান্ত স্থির চিত্তকে অশান্ত করে তুলেছে এই অনুভূতি । যার ব্যাখ্যা নেই । এই অনুভূতি গুলো কে আখ্যা দেওয়া যায় কি হিসেবে ? প্রেমানুভূতি হিসেবে ?
প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেছে সেই বৃষ্টি ভেজা দিনের পর । মিহি এই এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভুগেছে,, তবে এখন জ্বর কমে অনেকটাই সুস্থ হয়ে গেছে মিহি । এই এক সপ্তাহে প্রতিদিন রুহি মিহিদের বাড়িতে এসেছিল ওর খবর নিতে । মিহি এই কদিনে কলেজ এবং কোচিং কোথাও যেতে পারে নি । তবে আজ একটু সুস্থ হয়েই রুহির জোরাজুরিতে প্রথম বারের মতো মিহি পা রাখে চৌধুরী বাড়িতে ।
Sky blue রংয়ের বিশাল দোতলা বাড়ির সামনে এসে থামে রুহিদের গাড়ি । গাড়ি থেকে নেমে পড়ে মিহি আর রুহি । মিহি চোখ উঁচিয়ে চারপাশটা পর্যবেক্ষণ করে নেয় । দোতলা বিলাসবহুল বাড়ি,, বাড়িটা চারদিক দিয়ে বিশাল বড় প্রাচীরে ঘেরা । গেইটের পাশে বাড়ির নেইম প্লেটে বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘চৌধুরী বাড়ি’ । সদর দরজা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে মিহি আর রুহি । ভিতরে আসতেই একটা ছোট্ট পিচ্চি মেয়ে ছুটে আসে ওদের সামনে,, রুহির ছোট চাচা জুবায়ের চৌধুরীর মেয়ে ‘জেনি’ ,, বয়স ৮ বছর । ছুটে এসেই হাঁপাতে হাঁপাতে বলে….
-– রুহি আপি, তুমি এসেছো ? আমি কখন থেকে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি তুমি জানো ? তোমাকে একটা গুড নিউজ দেওয়ার আছে…..
বলতে বলতে মিহির দিকে চোখ যায় ছোট মেয়েটির । চুপ হয়ে মিহিকে একপলক দেখে ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করে…
– তুমি মিহি আপি,,তাই না ?
মিহি চমকে তাকায়,, হালকা ঝুঁকে বাচ্চা মেয়েটার নাক টেনে মুচকি হেসে বলে….
– তুমি আমায় চিনলে কি করে..?
– রুহি আপির কাছে আমি তোমার ছবি দেখেছিলাম,, আমি তো তোমাকে চিনি,, তুমি হলে রুহি আপির Pakhi ।
জেনির কথা শেষ হতেই পিছন থেকে রুহির মা হেনা বেগমের কন্ঠ ভেসে আসে….
– এসেছিস তোরা..?
হেনা বেগমের কন্ঠ শুনেই মিহি তড়িৎ বেগে চোখ তুলে তাকায় । নিজেকে ধাতস্থ করে বলে….
– আসসালামুয়ালাইকুম আন্টি..! কেমন আছেন..?
– ওয়ালাই কুমুস সালাম,,মা ..! আমি ভালো আছি । তুমিই তাহলে মিহি ? রুহি তো সারাক্ষন তোমার কথা বলে । ভারি মিষ্টি মেয়ে তুমি..।
মিহির গালে স্নেহভরা আলতো হাত রেখে, মিষ্টি হাসি দিয়ে কথা গুলো বলেন হেনা বেগম… হেনা বেগমের কথায় মিহি লাজুক হেসে মাথা নিচু করে নেয় ।
তারপর রুহির ঘরে চলে যায় । রুহি মিহির জন্য কফি নিয়ে ঘরে ঢুকে দেখে মিহি খাটের উপর বসে জেনির সাথে গল্প জুড়ে দিয়েছে,,এই কিছুক্ষণের মধ্যেই জেনির সাথে বেশ ভালো খাতির হয়েছে মিহির । রুহি এগিয়ে এসে কফির মগটা মিহির হাতে দিয়ে , জেনির দিকে তাকিয়ে বলে…
– জেনি ,, তুই তখন কি একটা গুড নিউজ এর কথা বললি যেন । কি গুড নিউজ আছে ..?
রুহির কথায় জেনি মাথায় হাত দিয়ে বলে..
– হায় আল্লাহ,,, আমি একদম ভুলে গেছি । জানো মেহজাবিন আপির বিয়ের ডেট ফাইনাল হয়ে গেছে ।
জেনির কথা শুনে রুহি খুশিতে লাফাতে শুরু করে ,, রুহির সাথে যোগ দেয় জেনিও । দুজনের চোখে মুখে রয়েছে আকাশ সমান খুশি । এদিকে কিছু না বুঝতে পেরে নীরব দর্শকের মতো ওদের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে মিহি । এমন সময় দরজায় কারোর টোকা দেওয়ার শব্দ আসে,, রুহি নাচ থামিয়ে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে দরজায় থাকা ব্যক্তিকে,, খুশিতে গদগদ হয়ে বলে….
– আপি,, অবশেষে তোমার বিয়েটা হচ্ছে ।
– হুম হচ্ছে,,আর অবশেষে আমি তোদের সবাইকে ছেড়ে, এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি আমি ।
অমনি রুহির মুখে আঁধার নেমে আসে ,, রুহির অবস্থা বুঝতে পেরে মেহজাবিন আলতো হেসে আবারো বলে ওঠে….
– থাক ,, এখন আর মন খারাপ করতে হবে না ।
বলেই রুহিকে ছেড়ে মিহির দিকে এগিয়ে আসে মেহজাবিন,,, এগিয়ে এসে বলে…
– আমি মেহজাবিন,,রুহির মেজো চাচার মেয়ে । রুহির মুখে তোমার কথা অনেক শুনেছি,, ।
মিহি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে মেহজাবিনের দিকে । বেশ ফর্সা মায়াবী চেহারার অধিকারী মেহজাবিন । চোখ দুটো টানাটানা । অনেক টা মিহির মতোই । কেনো যেনো খুব চেনা লাগছে মেহজাবিনকে । হঠাৎ মেহজাবিনকে জড়িয়ে ধরে মিহি…
আলতো স্বরে বলে…..
– Congratulations আপু,, তোমার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য।
মিহির হঠাৎ জড়িয়ে ধরায় মেহজাবিন থমকে যায়,, ধীরে ধীরে হাত রাখে মিহির পিঠে । কোন এক অজানা কষ্ট অনুভব হয় ,, বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে উঠে,,চোখে পানি চিকচিক করে তবে সেই পানি গাল পর্যন্ত গড়াতে দেয় না মেহজাবিন । মিহিকে ছেড়ে দিয়ে মিহির মুখে আলতো হাত বুলিয়ে দেয়,, তারপর ছুটে যায় নিজের ঘরে ।
সন্ধ্যা হয়ে গেছে,,রুহির আবদার আর সবার জোরাজুরিতে আজকে মিহি চৌধুরী বাড়িতে থাকতে রাজি হয়ে যায় । রুহির মা হেনা বেগম নিজে মিহির বাবা আজমাল হোসেনের কাছে Permission নেয় মিহির থাকার জন্য ।
চৌধুরী বাড়ির দুই কর্তা ফিরেছে কিছুক্ষণ আগে। সবার সাথে পরিচয় হয়েছে মিহি । চৌধুরী বাড়ির সবার সাথে ড্রইং রুমে বসে গল্প করছে মিহি,, এইটুকু সময়ের মধ্যেই সবার সাথে বেশ ভালো ভাবেই মিশে গেছে মেয়েটা । মিহিকে উদ্দেশ্যে করে রুহির ছোট চাচি হালিমা বেগম বলেন…
– আচ্ছা,,মিহি তোমার বাড়িতে কে কে আছে ..?
মিহি হালকা হেসে উত্তর দেয়…
– আব্বু আম্মু ছাড়া আর কেউ নেই আন্টি ।
মিহির কথায় রাশেদ রায়হান চৌধুরী ভ্রু কুঁচকে বলেন…
– কি বলো মামনি,, তোমাদের ফ্যামিলিতে আর কেউ নেই..?
– না আঙ্কেল,,আর কেউ নেই ।
সবার মুখের দিকে চেয়ে মিহি আবারো বলে… –
– আসলে,, আমার আব্বু আর আম্মুর লাভ ম্যারেজ হয়েছিল,, যেটা আমার আম্মুর ফ্যামিলির কেউই মেনে নেয় নি – এর কারণ হলো আমার আব্বু অনাথ ,,অনাথ আশ্রম থেকে বড় হয়েছে । আব্বুর কাছে পরিবার বলতে কিচ্ছু ছিলো না,,যার কারণে আম্মুর ফ্যামিলি থেকে কেউ রাজি হননি । কিন্তু আম্মু পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে আব্বুকে বিয়ে করেছিল,, আব্বু অবশ্য এতে রাজি ছিল না কিন্তু রাজি না হয়েও উপায় ছিল না । পরবর্তীতে আম্মু আব্বুকে আর কেউ মেনে নেয় নি । যার কারণে আমাদের পরিবারে আর কেউ নেই, শুধু আমরা তিনজন ।
এক মুহূর্তে নীরবতা নেমে আসে সবার মাঝে । কারো মুখে কোন কথা নেই । হেনা বেগম উঠে গিয়ে মিহির পাশে বসেন…
– কে বলেছে তোর পরিবারে শুধু তিনজন .. আমরা বুঝি তোর কেউ না..? আমাদের বাড়ির মেয়েটা যদি আজ বেঁচে……
বলতে বলতে থেমে যায় হেনা বেগম,, বেদনায় কন্ঠ ভারি হয়ে আসে। চারদিকে তাকিয়ে দেখে সবার নীরব দৃষ্টি এখন তার দিকে। রাশেদ রায়হান চৌধুরীর সাথে চোখাচোখি হতেই সোফা থেকে উঠে চলে যান তিনি,, ভাইয়ের পিছু পিছু চলে যান জুবায়ের চৌধুরীও । মিহি কিছু বুঝে উঠতে পারে না, হঠাৎ কি হলো । এমন সময় গেটের দিক থেকে গাড়ি ঢোকার শব্দ ভেসে আসে । জেনি রাফি ভাইয়া,রাফি ভাইয়া বলতে বলতে দৌড়ে যায়….
রাফির নাম শুনে মিহির বুকটা ছ্যাঁত করে উঠে, অজানা আলোড়ন সৃষ্টি হয় বুকের ভেতর । চোখ তুলে দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে জেনির হাত ধরে ভেতরে আসছে রাফি আর শান্ত ,,এই প্রথম শান্তকে দেখল মিহি । দুজনের পরনে ফরমাল ড্রেস,, মাথার চুল গুলো সেঁটে রাখা,, মুখে খানিকটা ক্লান্তির ছাপ ,,বোঝাই যাচ্ছে অফিসে আজ অনেক ধকল গেছে ।
রাফি এগিয়ে এসে রুহির হাতে একটা প্যাকেট দিয়ে গম্ভীর স্বরে বলে…
– এটাতে সবার জন্য Ice-cream আছে,,এটা নিয়ে তোরা ছাদে যা,, আমরা ফ্রেশ হয়ে আসছি ।
বলেই কোন দিকে না তাকিয়ে ক্লান্ত শরীরটাকে নিয়ে ধুপধাপ করে সিঁড়ি বেয়ে নিজের ঘরে চলে যায় । হেনা বেগম ছেলের ক্লান্তি বুঝতে পেরে রান্না ঘরে চলে যান কফি বানাতে । সবাই চলে যেতেই শান্ত রুহির দিকে তাকিয়ে চোখ মারল,, রুহি এটা দেখে রাগি চোখে তাকায় শান্তর দিকে । পাশ থেকে শান্ত আর রুহির এমন কান্ড দেখে মিহি টেনে টেনে বলে…
– দেখে… ফেলেছি…!
মেয়েলি কন্ঠ শুনে শান্ত তাকায় মিহির দিকে । অমনি শান্তর চোখ চড়কগাছ,, বিড়বিড় করে বলে…
” এই মেয়ে তো …..”
মিহি ঠোঁট চেপে হাসে শান্ত কে দেখে । শান্ত ঢোক গিলে এলোমেলো পায়ে ছুট লাগায় উপরের দিকে ।
ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে ওঠে মিহি ।
মিহি, জেনি, মেহজাবিন ছাদের এক কোনায় পাটি বিছিয়ে ছাদ লাইটের টিমটিমে আলোয় বসে আছে,, সামনে বরফের বক্সে Ice-cream রাখা, সবাই আসলে একসাথে Ice-cream খাবে । এমন সময় শান্ত বিড়বিড় করতে করতে ধুপধাপ পা ফেলে ছাদের এক কোনায় গিয়ে দাঁড়ায় ,,পেছন পেছন রাফি শান্তকে বোঝানোর স্বরে কিছু একটা বলতে বলতে শান্তর পাশে গিয়ে দাঁড়ায় ।
– দেখ ভাই তুই যা ভাবছিস তা একদমই নয়..।
শান্ত বাচ্চাদের মতো করে নাক ফুলিয়ে ভেংচি কেটে বলে…
– এ্যাহ… আমি যা ভাবছি তা একদমই নয়,,তাই না..? তুমি তলে তলে টেম্পু চালাবা আর আমি বললেই হরতাল ।
– তুই যখন টেম্পু চালিয়ে ছিলি তখন কি আমাকে জানিয়ে ছিলি নাকি ?
রাফির সুক্ষ্ম নেত্রে তাকিয়ে বলা কথায় শান্ত একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে । রাফির পেছনে রুহিকে আসতে দেখে,, রুহির দিকে তাকিয়ে বলে…
– ভাই আমার টেম্পু আর টেম্পুর চাবি দুটোই তোর কাছে । চালাবো ক্যামনে…?
রুহি এগিয়ে এসে রাফির হাতে কফির মগ ধরিয়ে দিয়ে বলে …
” কিসের টেম্পু ভাইয়া ..?
রাফিকে কিছু বলতে না দিয়ে পাশ থেকে শান্ত বলে..
– ও তুমি বুঝবে না । টেম্পু মানে টেম্পু । তুমি যাও তোমার Pakhi কে গিয়ে Ice cream খাওয়াও ।
শান্তর কথায় রাফি ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করে –
” Pakhi মানে ..?”
– সে’কি তুই জানিস না,,, আমার জানের ( রুহির ) pakhi এসেছে আজকে ।
ছাদের অপর প্রান্তে বসে থাকা মিহির দিকে তাকিয়ে বলে শান্ত । শান্তর কথায় রুহি খানিক মাথা নুইয়ে ছাদের অপর প্রান্তে মিহির কাছে গিয়ে বসে । এদিকে শান্তর দৃষ্টি অনুসরণ করে তাকাতেই গল্পে মেতে থাকা মিহির দিকে চোখ যায় রাফির। ছাদের হালকা আলোয় মিহির মুখে আলো-আঁধারির মাঝে ছড়িয়ে থাকা একটা মিষ্টি আবেশ চোখে পড়ে । ওড়নাটা মাথায় হালকা করে টেনে রাখা ,, দুই গালের পাশে ছোট ছোট চুল গুলো মৃদু হাওয়ায় উড়ছে । এই নতুন মিহিকে দেখে আজ আবারো ভীষণ ভাবে প্রেমে পড়লো রাফি,, শতবার দেখা স্ক্রিনশটের ছবিটা আজ আবারো বাস্তবে সামনে বসে আছে । রাফির চোখে এক আবেগময় স্থিরতা । এতোক্ষণে রাফি বুঝতে পারে শান্ত কেন ওকে এতো গুলো কথা শোনালো । শান্ত রাফির বাহুতে মৃদু ধাক্কা দিয়ে বলে…
– কন্ট্রোল ভাই.. মেয়েটাকে চোখ দিয়ে গিলে খাবি নাকি..?
শান্তর কথা শেষ হতেই রুহি চেঁচিয়ে রাফিকে ডাকে…
” ভাইয়া তাড়াতাড়ি এসো Ice cream তো গলে যাচ্ছে । ”
এবার মিহিও তাকায় রাফির দিকে,, অমনি চোখাচোখি হয় দুজনের । তড়িঘড়ি করে চোখ সরিয়ে নেয় রাফি । এগিয়ে গিয়ে ওদের পাশে ছাদের রেলিং ঘেসে দাঁড়ায় । শান্ত বসে পড়ে ওদের সাথে । রুহি মিহির হাতে একটা Ice cream দিয়ে বলে…
– Pakhi এটা ভাইয়াকে দিয়ে আয় তো..
– আ.. আমি..?
– হুম,,দিয়ে আয় না প্লিজ। আমি বাকিদের কে দিচ্ছি ।
মিহি উঠে রাফির পাশে গিয়ে রেলিং ঘেসে দাঁড়ায় । হাতে থাকা Ice cream টা এগিয়ে দেয় রাফির দিকে।
রাফি মিহির দিকে একবার তাকায় তারপর কফির মগে চুমুক দিয়ে শান্ত স্বরে বলে…
– ওটা আপনি খান..ওখানে একটা Ice cream কম আছে ।
রুহি ও তাল মিলিয়ে বলে…
– আরে হ্যাঁ তো,, এখানে তো শুধু ৫ টা Ice cream ।
রাফি বলে..
– আমি Ice cream খাবো না । তোরা সবাই খা ।
মিহি রাফির দিকে তাকিয়ে কিছু না ভেবেই Ice cream এর কোনটাকে মাঝ বরাবর দুভাগ করে, একভাগ এগিয়ে দেয় রাফির দিকে,, মিষ্টি হেসে শিশু সুলভ কন্ঠে বলে….
– এই নিন ,, আপনার আর আমার সমান সমান ভাগ ।
রাফি কফির মগটা পাশে রেখে,, হালকা হেসে কোন প্রকার দ্বিধা ছাড়াই Ice cream এর টুকরো টা হাতে নেয় । রুহি সুক্ষ্ম নেত্রে পর্যবেক্ষণ করে রাফিকে,,আজ কেমন অন্যরকম লাগছে । মেহজাবিন ঠাট্টার স্বরে বলে..
– বাহ্ মিহি ,, এসেই ভাইয়ার জিনিসে ভাগ বসিয়ে দিলে ।
মেহজাবিনের কথায় রাফি ক্রুর হেসে বিড়বিড় করে বলে…
” শুধু জিনিসে নয় ,, তোর ভাইয়ার জীবনেই ভাগ বসিয়ে দিয়েছেন উনি ।
রাফির বিড়বিড় করা কথা বুঝতে না পেরে মিহি ice cream খেতে খেতে জিজ্ঞেস করে…
– কিছু বললেন..?
– হুম..? না কিছু না । কেমন আছেন..?
– এতোক্ষণে এটা জিজ্ঞেস করার সময় হলো বুঝি ? By the way ,, আপনি আমায় আপনি করে বলছেন কেন ? আমি তো আপনার অনেক ছোট,, আপনি তুমি করে বলতে পারেন ।
মিহির কথায় নিঃশব্দে হাসে রাফি,, মিহির দিকে হালকা ঝুঁকে ফিসফিসিয়ে বলে…
এক দেখায় পর্ব ৬
– আপনি সম্বোধনটা কিন্তু খুব দামী , মেয়েদের ক্ষেত্রে যাকে তাকে আপনি বলা যায় না । আর আমি কিন্তু যাকে তাকে আপনি বলি না ম্যাডাম….
রাফির কথাটা শিহরিত করে মিহি কে । ম্যাডাম সম্মধনটায় আটকে যায় মিহি ।
রাফি আবেশিত নয়নে চেয়ে আছে । মিহি চোখ সরিয়ে নেয় সেদিক থেকে । শ্বাস টেনে নেয় বুক ভরে ।
