Home এক দেখায় এক দেখায় পর্ব ৮+৯

এক দেখায় পর্ব ৮+৯

এক দেখায় পর্ব ৮+৯
সুরভী আক্তার

পরদিন শুক্রবার…
চৌধুরী বাড়ির সব পুরুষেরা জুমার নামাজে গেছে । বাড়ির গিন্নিরা ব্যস্ত টেবিলে খাবার সাজিয়ে রাখতে,, ফেরার সময় হয়ে গেছে সবার। সবাই নামাজ থেকে ফিরলেই খেতে বসে যাবে । মিহি গোসল সেরে ভেজা টাওয়েল মাথায় জড়িয়ে রুহির ঘরের ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ায় । রুহির ঘরের ব্যালকনিটা বেশ পছন্দ হয়েছে মিহির । ব্যালকনির পাশের বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছটা নজর কেড়েছে ওর , যদিও এখন ফুল নেই । ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে দুহাত মেলে মন ভরে একটা দীর্ঘশ্বাস টেনে নেয় মিহি। রুহি এবং রাফির ঘরটা পাশাপাশি ,, একজনের ব্যালকনিতে দাঁড়ালে অন্যজনের ঘরের ভিতরটা ভালোভাবেই দেখা যায় । মনের কোণে দুষ্টুমি খেলে যায় মিহির, অমনি উঁকি দেয় রাফির ঘরের দিকে, ব্যালকনির পর্দা সরানো ছিল বিধায় পুরো ঘরটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল ।

বেশ বড় এবং পরিপাটি করে সাজানো গোছানো ঘরটা । তবে ঘরে কেউ নেই । আর একটু হেলে চোখ সরু করে উঁকি দিতেই মনে পরে – ” বাড়ির সবাই তো এখন নামাজে গেছে ” । জ্বিভে কামড় দেয় মিহি, নিজেই নিজেকে মনে মনে গালি দিতে থাকে । মাথা থেকে ভেজা টাওয়েল টা খুলে আলতো হাতে চুলগুলো মুছতে থাকে ।এমন সময় নামাজ শেষে বাড়ির ভেতরে ঢুকছিল রাফি,, শান্ত সহ বাকিরা বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেছে,ফোনে কথা বলার দরুন রাফি একটু পিছিয়ে পড়েছে সবার থেকে । ফোনে কথা বলতে বলতে হঠাৎ নজর যায় উপরে ব্যালকনিতে থাকা মিহির দিকে । খোলা চুলে এই প্রথম মিহিকে দেখলো রাফি । ভেজা চুল থেকে টুপটাপ পানি পরছে,, কপালে ও গালে ছোট ছোট ভেজা চুল গুলো লেপ্টে আছে । ফোনের ওপাশ থেকে কেউ একজন হ্যালো হ্যালো বলেই যাচ্ছে,, রাফি আনমনে ফোনটা কেটে দিয়ে পকেটে রাখে । দৃষ্টি এখনো মিহি তেই সীমাবদ্ধ,,পলক পড়ছে না চোখের , পলক পড়লেই যেন হারিয়ে যাবে এই সুন্দর মুহূর্তটা । ডান হাতটা উঠিয়ে বুকের বাম পাশে রাখে রাফি… নিজের অজান্তেই বলে ওঠে..

” এই মেয়েকে তুই যতবার,যত রুপে দেখছিস – ততবার ততো রুপেই তার প্রেমে পড়ে যাচ্ছিস রাফি । কি প্রেমঅসুখে ধরলো তোকে ?
একবার চোখ বন্ধ করে নেয় রাফি । আবারো চোখ খুলে মিহির দিকে তাকিয়ে বলে…
” আর কি কি রুপ আছে আপনার ম্যাডাম ..? আর কি কি দেখা বাকি আছে আমার ? আমি যে আমিতে নেই , আপনাতেই হারিয়ে যাচ্ছি ।
চৌধুরী বাড়ির সবাই বসেছে দুপুরের খাবার খেতে । হেনা বেগম এবং হালিমা বেগম খাবার পরিবেশন করছেন । মিহি, রুহি, মেহজাবিন এবং জেনি পাশাপাশি চারজন বসেছে । মিহির ঠিক সামনের চেয়ারটাতে বসেছে রাফি এবং তার পাশে শান্ত । রাফি সামনে বসাতে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে মিহি । রাফি অবশ্য ইচ্ছে করেই বসেছে মিহির সামনে । এদিকে অজানা অস্বস্তিতে ভাতের প্লেটে শুধু হাত নেড়ে যাচ্ছে মিহি । অসভ্য চোখ বার বার আড়চোখে দেখছে রাফি কে । কালো পাঞ্জাবিতে অসাধারণ লাগছে তাকে ,, এককথায় চোখ ফেরানো দায় হয়ে পড়েছে । অথচ রাফি, সে তো কোন দিকে না তাকিয়ে গিলে যাচ্ছে ,, যেনো তার আশেপাশে আর কেউ নেই । মিহিকে ভাতের প্লেটে এভাবে হাত নারতে দেখে হেনা বেগম এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করেন…

” কি হয়েছে মা ? তুই খাচ্ছিস না কেনো ?
পাশ থেকে রাশেদ রায়হান চৌধুরী বলেন…
” লজ্জা পেয়ো না মামনি,,, আমরা তো তোমার পরিবারেরই মানুষ । আমাদের সামনে লজ্জা পেতে নেই ।
ভাইয়ের কথায় তাল মেলায় জুবায়ের চৌধুরীও। মিহি লাজুক হেসে মাথা নাড়ায় । হেনা বেগম মাছের বাটি হাতে নিয়ে মিহির প্লেটে মাছ দিতে দিতে বলেন..
” এই নে মা ,, আমার হাতে রান্না করা সর্ষে ইলিশ ,,, খেয়ে দেখতো কেমন হয়েছে ।
অমনি বাঁধ সাধে মিহি ….
” না না আন্টি,, আমাকে মাছ দিও না ।
” সে কি রে… কেনো…? মাছ খাস না তুই ?
মিহি আমতা আমতা করে মিনমিনিয়ে বলে….

” খাই ,, তবে মাছের কাঁটা গলায় বাঁধে,, ঠিকমতো বেছে খেতে পারি না । তার উপর এটা আবার ইলিশ…
মিহির কথায় হাসির রোল পড়ে গেল সবার মাঝে । রাশেদ রায়হান চৌধুরী তো উচ্চ স্বরে হেসে উঠলেন । রাফি মাথা নিচু করেই ঠোঁট চেপে হাসছে। হেনা বেগম মিহির প্লেটের মাছটা নিয়ে কাঁটা বাছতে বাছতে বললেন…
” পাগলী মেয়ে,,, কাঁটা বাছতে পারিস না তো কি হয়েছে । আমি আছি তো,আমি বেছে দিচ্ছি। জানিস.. আমার রাফি ও একদম তোর মতোই, এতো বড় হয়েছে তবু এখনও মাছের কাঁটা বেছে খাওয়ার ভয়ে মাছ খেতে চায় না,,মাছ পাতে পড়লে বিরক্তিতে কপাল কুঁচকায় ,আমাকেই মাছ বেছে দিতে হয় । ঐ দেখ প্লেটের সাইটে কেমন মাছটা রেখেছে,, আমি বেছে দেবো তারপর খাবে । –
শেষের কথাটা রাফির প্লেটের দিকে ইশারা করে বললেন হেনা বেগম ।
মায়ের কথায় হাসি হাসি মুখটা বদলে যায় রাফির। রাফি কে দেখে মিহি ও এবার ঠোঁট চেপে একটু হাসে । রুহি, মেহজাবিন আর জেনি তো একটু শব্দ করেই হাসলো । শান্ত রাফির কানে ফিসফিস করে সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলে…

” ভাই ,, এবার মাছের কাঁটা বাছাটা শিখে নে । বিয়ের পরে তো বউকে কাঁটা বেছে খাওয়াতে হবে নাকি ..?
বলেই ঠোঁট চেপে হাসে শান্ত…
শান্তর কথা সিরিয়াসলি নেয় রাফি । এবার মনোযোগ দেয় মাছের কাঁটা বাছায় ,,যেন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা মিশনে নেমেছে । রাফি কে এভাবে কাঁটা বাছতে দেখে হালিমা বেগম ঠাট্টার স্বরে বলে ওঠেন….
” দেখেছ আপা ,,, তোমার ছেলে কিভাবে মাছের কাঁটা বাছাই করছে । কতো দিন আর তুমি ছেলেকে মাছের কাঁটা বেছে খাওয়াবে বলো..? এবার তো একটা বউ আনার ব্যবস্থা করো । বিয়ের পর না হয় বউ কাঁটা বেছে খাওয়াবে ।
সবার মাঝে আবারো হাসির রোল পড়ে যায় । রুহিরা তো ঠিক ঠিক বলে স্লোগান দিতে থাকে। এদিকে চাচির কথায় রাফি বিড়বিড় করে বলে…

” আমার যে বউ হবে সে নিজেই মাছের কাঁটা বেছে খেতে পারে না,, আবার সে নাকি আমাকে কাঁটা বেছে খাওয়াবে । হুঁহ,,,,,তাকে কাঁটা বেছে খাওয়ানোর জন্য এই বয়সে এসে আমি নিজেই কাঁটা বাছা শিখছি ।
পাশ থেকে শান্ত আবারো ফিসফিস করে বলে ওঠে….
” ভাই , কেবল তো শুরু । আরো দেখখ কি কি করতে আর শিখতে হয় ।
রাফি এবার গম্ভীর হয়ে রুহিকে উদ্দেশ্যে করে বলে…
” Sissy,, তাড়াতাড়ি খেয়ে সবাই রেডি হয়ে নে , তোদের নিয়ে বাইরে ঘুরতে যাবো আজ ।
ঘুরতে যাওয়ার কথা শুনে জেনি হুররে বলে চিল্লিয়ে ওঠে । মিহি,রুহি, মেহজাবিন, আর জেনি তাড়াতাড়ি খাবার শেষ করে উঠে চলে যায় তৈরি হতে । কিছুক্ষণের মধ্যে সবাই তৈরি হয়ে নিচে নামে । মিহির পড়নে একটা কালো সুতির থ্রিপিস – সাথে কালো হিজাব ।
মিহির দিকে আবারো ড্যাপ ড্যাপ করে তাকিয়ে থাকে রাফি,যা দেখে শান্ত গলা খাঁকারি দিয়ে উঠে । রাফি ঢোক গিলে নিজেকে সামলে নিয়ে কালো সানগ্লাস চোখে দিতে দিতে বলল..

” তাড়াতাড়ি বাইরে এসো ,, আমরা গাড়িতে অপেক্ষা করছি ।
– বলেই বাইরে চলে যায় রাফি । গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দীর্ঘ একটা শ্বাস ফেলে ।
এদিকে হেনা বেগম মিহির গালে আলতো হাত রেখে চুমু খায় । স্নেহভরা কন্ঠে বলে….
” আবার আসিস মা । তুই ছিলি কাল থেকে বাড়িটা অন্যরকম ছিল । মাঝে মাঝেই আসবি কিন্তু..?
” আমি আপনাদের খুব মিস করবো আন্টি । এই ২১ ঘন্টায় অনেক কিছু পেয়েছি আপনাদের থেকে । যা আমি কখনোই ভুলবো না । আজ আসি,, আমি আবারো আসবো ।
হেনা বেগম আলতো জড়িয়ে ধরে মিহিকে। তারপর সবার থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে মিহি,, আবারো একবার পেছন ফিরে তাকায় সবার দিকে । মনে কেমন অজানা কষ্ট অনুভব করে ,যেন খুব আপন কিছু রেখে চলে যাচ্ছে সে ।
গাড়ির কাছে আসতেই একে একে উঠে পড়ে সবাই । ড্রাইভিং সিটে বসে রাফি আর তার পাশের সিটে শান্ত । রাফির চোখে এখনো সেই সানগ্লাস। যা দেখে রুহি কপাল কুঁচকে বলে..

” ভাইয়া তুমি গাড়ির ভেতরে সানগ্লাস দিয়ে আছো কেনো ? তোমার ড্রাইভিং এ সমস্যা হবে না ?
রুহির কথায় শান্ত মিটি মিটি হেসে বলে ওঠে…
” ও তুমি বুঝবে না,,, গাড়ির বাইরে Sun আর ভেতরে Moon … যার তাপে বেচারার চোখটাই ঝলসে যাচ্ছে ।
শান্তর কথা কিছুই বুঝে উঠতে পারে না কেউ। সবাই ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে দুজনের দিকে । রাফি ক্রুর হেসে Front mirror এ একবার মিহির অবুঝ শিশু সুলভ মুখটা দেখে গাড়ি Start দেয় । গাড়ি Start দিতেই শান্ত রাফিকে ফিসফিস করে বলে ওঠে…..
” ভাই চালাতে পারবি তো ? নাকি আবার কোন দুর্ঘটনা ঘটাবি? দেখ ভাই ,,আমার কিন্তু এখনো বিয়ে হয়নি,, বিয়ের আগে নিজের বোনকে বিধবা করিস না ভাই …. সাবধানে চালা ।

রমনা পার্কের সামনে এসে দাঁড়ায় গাড়ি । একে একে সবাই নেমে পার্কের ভিতরে প্রবেশ করে । রাফি সানগ্লাস খুলে মুখে মাস্ক লাগিয়ে নেয়,, এদিকে মাস্ক পড়া রাফিকে দেখে সুক্ষ্ম নেত্রে ভ্রু কুঁচকে রাফির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে মিহি ‌। মিহিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে শান্ত বলে ওঠে…
” কি হলো মিহি Pakhi ..? এভাবে তাকিয়ে কি দেখছো..? কিছু মনে পড়ে গেল নাকি ..?
আচমকা শান্তর কথায় থতমত খেয়ে যায় মিহি । চোখ সরিয়ে আমতা আমতা করে বলে….
” হ্যাঁ ..? না মানে,,ঐ কি.. কিছুনা….
পার্কের একটা বড় গাছের নিচে বাঁধা শানে বসে পড়ে রাফি । মেহজাবিন এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করে..
” কি হলো ভাইয়া..? এখানে বসলে কেনো ? ওদিকে যাবে না ?
” হুম যাবো,,একটু অপেক্ষা কর । একজন আসবে ।
“- আসবে নয় ,, এসে গেছি আমি..!

কারোর পুরুষালি কন্ঠে ছয় জোড়া চোখ একসাথে তাকায় তার দিকে । মেহজাবিনের চোখ গোল গোল হয়ে যায় । চোখ কচলে আবারো তাকায় সে । রুহি আর জেনির ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে ।
এই লোকটি হলো ‘মাহিম’ ,, মেহজাবিনের হবু বর । সুদর্শন ভদ্র ছেলে,, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা । মেহজাবিনের বিয়ে পারিবারিক ভাবেই মাহিমের সাথে ঠিক করা হয়েছে । ১৩ ই ফেব্রুয়ারি ওদের বিয়ে ।
মাহিমকে দেখে মেহজাবিন অস্বস্তিতে পড়ে যায়। এদিকে মাহিম হেসে হেসে কথা বলছে সবার সাথে । জেনির হাতেও বড় একটা ক্যাটবেরি ধরিয়ে দিয়েছে । মেহজাবিনের দিকে এগিয়ে ওকে উদ্দেশ্যে করে রাফি শান্ত স্বরে বলে…

” আমি জানি তোদের বিয়েটা পারিবারিক ভাবে ঠিক করা হয়েছে । বিয়ের আগে তোদের একে অপরকে বোঝা দরকার,, তোদের মধ্যে understanding দরকার । তাই আমি ওকে ডেকেছি। তোরা একে অপরের সাথে একটু সময় কাটা,, ঘোরাঘুরি কর,,দেখবি ভালো লাগবে । এখন তুই ওর সাথে যাবি । সন্ধ্যার আগে ও তোকে বাসায় পৌছে দেবে ।
রাফির কথায় প্রথমে রাজি হয়নি মেহজাবিন। কিন্তু ভাইয়ার কথা অমান্যও করতে পারে নি সে। শেষমেষ জেনি কে সাথে নিয়ে মাহিমের সাথে চলে যায় সে ।
এদিকে মিহি, রুহি, রাফি আর শান্ত পুরো পার্কটা ঘুরে দেখে । রুহি এবং মিহি একে অপরের সাথে অনেক ছবিও তুলেছে । ঘোরাঘুরি শেষে বাইরে এসে রেস্টুরেন্টে খাবার খায় ওরা । খাবার খেয়ে বাইরে আসতেই অসাবধানতাবশত একটা মেয়ের সাথে মৃদু ধাক্কা লাগে রাফির ।
রাফির হাতে থাকা মাস্ক টাও পড়ে যায় । মুখ দিয়ে বিরক্তি সূচক শব্দ উচ্চারণ করে সে। আর এদিকে যে মেয়েটার সাথে ধাক্কা লাগে সে তো তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে । রাফির দিকে চোখ তুলে ঝাঁজালো কন্ঠে কিছু বলতে যায়, তবে কিছু বলার আগেই গলায় আটকে যায় কথা গুলো । মেয়েটা ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে রাফির দিকে। গলায় আটকানো কথা গুলো গিলে ফেলে । মেয়েটা রাফির দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়েই তার পাশে থাকা আরেকটা মেয়েকে কনুই দিয়ে গুঁতিয়ে অবিশ্বাস্য কন্ঠে বলে…

” দোস্ত,, আমি কি ঠিক দেখছি । এটা তো রুজান রাফি চৌধুরী 😫 ।
পাশে থাকা মেয়েটাও হা হয়ে তাকিয়ে আছে রাফির দিকে । হঠাৎ দুজনে একসাথে চিল্লিয়ে ওঠে..” রুজান রাফি চৌধুরী ” । মেয়ে দুটোর উঁচু কন্ঠে আশেপাশের সবাই তাকায় রাফির দিকে । সবাই ঘিরে ধরে রাফি কে । কেউ কেউ অটোগ্রাফ নিচ্ছে , আবার কেউ কেউ সেলফি । রুহি আর মিহি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে দেখছে এসব কান্ড । রাফি ইশারা করতেই রেস্টুরেন্টের বাইরে থাকা দুটো গার্ড এসে সরিয়ে দেয় সবাইকে । ছাড়া পেতেই রাফি দ্রুত পা চালিয়ে এগিয়ে এসে উঠে পড়ে গাড়িতে,,পেছন পেছন শান্ত, রুহি আর মিহিও তড়িঘড়ি করে উঠে পড়ে । এদিকে গার্ডদের ছাপিয়ে কেউ কেউ ছুটে আসে গাড়ির দিকে । গাড়ির কাছে আসার আগেই গাড়ি নাগালের বাইরে চলে যায় । কিছু দুর এসে একটা গ্যারাজের সামনে গাড়ি থামায় রাফি । তৃপ্ত শ্বাস ফেলে সে । রুহি আর মিহি এখনো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে । মিহি আর রুহিকে লক্ষ্য করে শান্ত ভাব নিয়ে বলে…
” এতো অবাক হওয়ার কিছু নেই,, আসলে কি বলতো — আমরা একটু সেলিব্রিটি মানুষ তো ,সব জায়গাতেই আমাদের ফ্যান ফলোয়ার একটু বেশি ।
শান্তর কথায় রুহি ভেংচি কেটে বলে…

” এহ্ ,,,সব জায়গায় আমাদের ফ্যান ফলোয়ার বেশি..! দেখলাম তো কার কতোটা কদর । কেউ তো আপনাকে পাত্তাও দিলো না ,, ঘুরেও তাকালো না কেউ । কিন্তু আমার ভাইয়া,,সে তো সুপারস্টার —
বুক ফুলিয়ে বলে রুহি ।
শান্ত গাড়ি থেকে নামতে নামতে মুখ বাঁকিয়ে বলে…
” সুপারস্টার না ছাই ,,,শালা part time সুপারস্টার আর ful time বিজনেস ম্যান । নিজের singing ক্যারিয়ারটাকে ঠিক মতো গুরুত্বই দেয় না বেটা ।
” তাহলে ভাবুন singing ক্যারিয়ারটাকে গুরুত্ব দিলে আরো কতো বড় সেলিব্রিটি হয়ে যাবে ভাইয়া ।
” তোমাকে অতো ভাবতে হবে না,, তাড়াতাড়ি গাড়ি থেকে নেমে পড়ো ।
” গাড়ি থেকে নামতে যাবো কেনো ?
” কারন,,আমরা দুই কপোত কপোতি এখন লং ড্রাইভে যাবো তাই ।

শান্তর হেঁয়ালি করা কথায় রুহি কটমট করে তাকায় শান্তর দিকে । ওদের দুজনের কান্ড দেখে মিহি মিটি মিটি হাসতে থাকে । রাফি একবার তাকায় Front mirror এ ,, হাস্যরতো মিহিকে দেখে চোখ সরিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে সে । রুহির দৃষ্টি দেখে শান্ত বলে ওঠে…
” আরে বাবা,, গ্যারেজে আমাদের গাড়ি আছে,,ঐ গাড়িতে করে আমরা এখন বাসায় যাবো । আর তোমার সেলিব্রিটি ভাইয়া তোমার Pakhi কে তার বাসায় পৌছে দেবে,, বুঝলে Janu ?
শান্তর কথা শেষ হতেই রুহি তাকায় মিহির দিকে । মিষ্টি হাসি দিয়ে জড়িয়ে ধরে ওকে ।
” আসি রে Pakhi ,, ভাইয়া তোকে ঠিকঠাক ভাবে পৌঁছে দেবে ।
মিহিও মিষ্টি হাসি দিয়ে ‘আচ্ছা’ বলে জড়িয়ে ধরে রুহিকে ।
এদিকে শান্ত গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের করে ড্রাইভিং সিটে বসে উড়ন্ত মনে সিঁটি বাজাচ্ছে ,,এমন সময় রুহি গাড়ির ভেতরে ঢুকে ‘ধাম’ করে দরজা লাগিয়ে দেয় । শান্তর বাহুতে জোরছে একটা কিল বসিয়ে দেয় সে । শান্ত বাহুতে হাত বোলাতে বোলাতে কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে…
” মারলে কেনো,,Jan ?
” মারবো না তো কি করবো ..? কতোবার বলেছি ভাইয়ার সামনে উল্টা পাল্টা কথা বলবেন না । আপনি শুনেছেন আমার কথা ?
” আমি আবার কি উল্টা পাল্টা কথা বললাম ? ও তোমার ভাই‌ হতে পারে, কিন্তু ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড,,,ওর সামনে আমি যা খুশি তাই বলতে পারি এবং করতেও পারি বুঝলে ? আর এমনিতেও ওর সাথে আমি সবকিছুই শেয়ার করি ।
গা ছাড়া ভাব নিয়ে কথাটা বলে শান্ত । রুহি মৃদু চেঁচিয়ে ওঠে…
” কিহ ..? স.. সবকিছুই শেয়ার করেন ?
” হুম,, করি তো ।
” মানে,, আমাদের মধ্যে যা যা হয় সবকিছুই ..?
” হুম,,,
এই wait ,, তুমি যা যা হয় বলতে চাইছো হ্যাঁ ? দেখো আমাদের মাঝে কিন্তু তেমন কিছুই হয় না,,কি বা শেয়ার করবো আমি ওকে । –
ঠোঁট টিপে দুষ্টুমি করে কথাগুলো বলে শান্ত ।
শান্তর ইঙ্গিত বুঝতে পেরে রুহি আবারো ওর বাহুতে একটা কিল বসিয়ে দেয় । চোখে খানিক লজ্জা নিয়ে জানালা দিয়ে তাকায় বাইরের দিকে । রুহিকে লজ্জা পেতে দেখে শান্ত ঠোঁট কামড়ে হেসে গাড়ি start দেয় ।
এদিকে শান্তর গাড়ি চলে যেতেই ওদের গাড়ির দিক থেকে চোখ ফিরায় রাফি । Front mirror এ তাকিয়ে দেখে মিহি এখনো পিছনের সিটে বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে । সুক্ষ্ম চোখে কিছুক্ষণ মিহিকে দেখে নেয় রাফি । সিটে হেলান দিয়ে Front mirror তাকিয়েই মিহিকে উদ্দেশ্যে করে ধীর কন্ঠে বলে…

” সামনে এসে বসুন ম্যাডাম..! আমি কিন্তু আপনার ড্রাইভার নই ।
রাফির কথাটা ছিল শান্ত ,, তবে মিহির স্থির মনকে অশান্ত করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট । Front mirror এ তাকাতেই রাফির সাথে চোখাচোখি হয় মিহির ,, তবে এবার আর কেউই চোখ সরায় না । কালকে রাতে ছাদে রাফি যখন মিহিকে বলেছিল ‘ আমি যাকে তাকে আপনি বলি না ‘ তখন কিছু না ভেবেই মিহির মনটা ভার হয়ে এসেছিল । কিন্তু রাফির বলা ‘ম্যাডাম’ কথাটা মিহির মনে আলোড়ন তুলেছিল । আজ আবারো রাফি তাকে ‘ম্যাডাম’ বলল ! মিহির আব্বুও ওর আম্মুকে ভালোবেসে ম্যাডাম বলে ডাকে,,যেটা ভীষণ ভালো লাগে মিহির কাছে ।
মিহির মন এক অজানা ভালো লাগায় ছেয়ে যায় । প্রথম প্রথম রাফির আপনি বলাটা মিহির কাছে কেমন যেন লেগেছিল,, তবে এখন রাফির এই ‘আপনি’ করে সম্বোধন করাটাই মিহির কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছে । কিন্তু রাফি কি শুধু ওকেই ‘আপনি আর ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করে,,অন্য মেয়েদের করে না ? এই প্রশ্ন মনে আসতেই চোখ সরিয়ে নেয় মিহি । সত্যি তো,, মিহি তো অন্য কোনো মেয়ের সাথে রাফি কে দেখে নি ,, রাফি কি সব মেয়েদের সাথেই এভাবে কথা বলে ? মিহির ভাবনার মাঝেই রাফি আবারো বলে ওঠে…

” কি হলো ম্যাডাম..? বসে আছেন যে ,, সামনে আসুন ।
” হুম —-
ছোট করে জবাব দিয়ে সামনের সিটে এসে বসে মিহি । রাফি আড়চোখে চেয়ে শান্ত স্বরে বলে…
” সিট বেল্ট টা লাগিয়ে নিন ।
” হুম..?
রাফি তাকায় মিহির দিকে,,আর কিছু না বলে নিজেই আলতো করে সিট বেল্ট টা লাগিয়ে দেয় ।
গাড়ি চলছে,, দুজনের মাঝেই পিনপতন নীরবতা । নীরবতা ভেঙ্গে মিহি বলে ওঠে…
” আপনি খুব কম কথা বলেন,,তাই না ..?
হাসে রাফি…
” আমি চুপচাপ থাকি,, কিন্তু জানেন,ইদানিং আমার মনটা একটু বেশি কথা বলে । আপনি কি শুনতে পান ?
শেষের কথাটা বিড়বিড় করে বলে রাফি,,যা মিহির কান পর্যন্ত পৌঁছায় না ।
দুজনের মাঝে আবারো নীরবতা । দুজনের মনেই অনেক কথা জমে আছে বলার জন্য, কিন্তু সেই কথা গুলো মুখ পর্যন্ত আসছে না কারোর ।
কিছুক্ষণের মধ্যেই মিহি দের বাসার সামনে এসে গাড়ি থামায় রাফি । মিহি রাফির দিকে তাকিয়ে আলতো হেসে বলে….

” ভেতরে চলুন,, আম্মু আব্বু আপনাকে দেখলে অনেক খুশি হবে ।
” আজ নয়,, অন্য কোনো দিন ।
” তাহলে আসি..?
” হুম,,, ভালো থাকবেন ।
” আপনিও…..
মিহি বেশি কথা বাড়ায় না, গাড়ির দরজা খুলে নেমে পড়ে । ওরনায় টান পেতেই পেছন ফিরে তাকায় সে ,,, দেখে সিটের সাথে আটকে আছে ওরনাটা । রাফি আর মিহি একসাথে হাত বাড়ায় ওরনাটা ছাড়ানোর জন্য,, অমনি দুজনের হাতে হাত স্পর্শ হয় । কেঁপে ওঠে মিহি,, দ্রুত হাত সরিয়ে নেয় সে । রাফি মিহির ওরনাটা ছাড়িয়ে দেয় । মিহি রাফিকে ছোট করে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে হাঁটা লাগায় বাড়ির দিকে । মিহি চলে যেতেই রাফি সিটে মাথা এলিয়ে নিজের হাতে আলতো ঠোঁট ছোঁয়ায়,,, তাকিয়ে থাকে চলে যাওয়া মিহির দিকে । এদিকে গেটের ভেতরে যেতেই একবার পিছন ফিরে তাকায় মিহি,, তবে গাড়ির ভেতরে থাকা রাফিকে চোখে পড়ে না তার । মিহি দৃষ্টির আড়াল হতেই বুক ভরে শ্বাস নেয় রাফি,,, তারপর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ।

বাড়ির ভেতরে আসতেই পা টিপে টিপে রান্না ঘরে উঁকি দেয় মিহি । আজমাল হোসেন এখনো বাসায় ফেরেনি, সাবিনা বেগম রান্না ঘরে গম্ভীর মুখে রাতের খাবার তৈরি করছেন । মাকে দেখে শুকনো ঢোক গিলে পেছন থেকে মাকে জড়িয়ে ধরে মিহি ।
জন্মের পর থেকে কখনো মেয়েকে চোখের আড়াল হতে দেয়নি সাবিনা বেগম । স্কুল কলেজে গেলেও সব সময় চিন্তায় থাকেন তিনি। কালকে যখন হেনা বেগম আজমাল হোসেনের কাছে আর্জি জানিয়েছিল মিহির থাকার বিষয়ে তখন সাবিনা বেগম ঘোর আপত্তি জানিয়েছিলেন । তবে আজমাল হোসেন তার আপত্তি না শুনে কিছু একটা ভেবেই রাজি হয়ে যান মিহির থাকার জন্য।
মিহি বুঝতে পেরেছে তার মা এখন তার উপর ভীষণ অভিমান করে আছে । মাকে পেছন থেকে জড়িয়েই মিহি বাচ্চাদের মতো করে নাক টেনে টেনে বলে উঠে…

” Sorry আম্মু ,, জানো,কাল‌ থেকে আমি তোমাকে অনেক মিস করেছি । বিশ্বাস করো ,, আমি না একদম থাকতে চাই নি । ওনারা এতো করে জোর করলেন যে…..
মিহির কথা শেষ হওয়ার আগেই সাবিনা বেগম মেয়ের হাত ছাড়িয়ে রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন । একটা বারও তাকান না মেয়ের দিকে। পিছনে মিহি ছল ছল করে তাকিয়ে থাকে মায়ের যাওয়ার দিকে । ‘ আম্মু,ও আম্মু শোন না,,’ বলতে বলতে মায়ের পিছন পিছন বেরিয়ে আসে মিহি । মায়ের সামনে গিয়ে পথ রোধ করে দাঁড়ায় সে, কান ধরে শিশু সুলভ কন্ঠে বলে…
” এই দেখো আম্মু,, আমি কানে ধরেছি, আর কখনো তোমাদের ছেড়ে কোথাও গিয়ে থাকবো না । প্লিজ এইবার তো কথা বলো ।
শেষের কথাটা কান ছেড়ে মায়ের বাহু ঝাঁকিয়ে বলে মিহি । সাবিনা বেগম এবার চোখ ঘুরিয়ে তাকায় মেয়ের দিকে । গলা ভারি হয়ে এসেছে তার, চোখ চিকচিক করছে । এমন সময় আজমাল হোসেনের কন্ঠ ভেসে আসে..

” আরে আম্মু,,এসেছো তুমি ?
আব্বুর কন্ঠ শুনে মিহি তাকায় আব্বুর দিকে । এই সুযোগে সাবিনা বেগমের চোখ থেকে টুপ করে একফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ে । হাতের উল্টো পিঠে তিনি গাল গড়িয়ে পড়া পানিটুকু মুছে নেন । মিহি দৌড়ে গিয়ে আহ্লাদি হয়ে আব্বুকে জড়িয়ে ধরে ।
” দেখ না আব্বু,, আমি সেই কখন এসেছি, কিন্তু আম্মু আমার সাথে কথাই বলছে না ।
মেয়ের নালিশে আজমাল হোসেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে, সাবিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বলেন..
” কালকে থেকে তোমার আম্মু আমার সাথেই কথা বলছে না । আমি তো তোমাকে থাকার Permission দিয়েছি,,তাই সব দোষ নাকি আমার । কালকে থেকে বোঝাচ্ছি তোমার মাকে কিন্তু তিনি বুঝতে নারাজ।
সাবিনা বেগমের নাক টানার শব্দ ভেসে আসে এবার । দুজনেই এগিয়ে আসে তার দিকে । মিহি মায়ের হাত ধরে উদগ্রীব হয়ে বলে..

” আম্মু তুমি কাঁদছো কেন ? এই দেখো আমি এসেছি তোমার কাছে,, তোমার মেয়ে তোমাকে ছেড়ে কোথাও যায়নি আম্মু । দেখো ,, এবার কিন্তু আমিও কেঁদে ফেলবো ।
কাঁদো কাঁদো হয়ে শেষের কথাটা বলে মিহি । সাবিনা বেগমকে সোফায় বসানো হয়,,মিহি বসে সোফার নিচে মায়ের পায়ের কাছে,, আজমাল হোসেন দুরত্ব রেখে স্ত্রীর পাশে বসেন । সাবিনা বেগম আর চুপ থাকতে পারেন না,, দুই হাতে জড়িয়ে ধরে মেয়েকে ।

” আর কোন দিন তোকে আমি কোথাও যেতে দেব না । ঐ বাড়িতে তো কখনোই না ।
” মেয়েকে যখন বিয়ে দেবে তখন কি করবে তুমি ? মেয়েকে তো বিয়ে দিতে হবে নাকি ? মেয়ের প্রতি মায়া কাটাতে শেখো,,দুরে সরিয়ে রাখার অভ্যাসটা করে নাও ,, নিজেকে শক্ত করো ,সামলাও নিজেকে ।
আজমাল হোসেনের হঠাৎ এমন কথায় মা-মেয়ে দুজনেই তাকায় তার দিকে । আজমাল হোসেনের কন্ঠ শান্ত,দৃষ্টি মেঝেতে । সাবিনা বেগমের গলা ভার হয়ে আসে আবারো ।
” আব্বু,,কে বলেছে আমাকে বিয়ে দিতে হবে ? আমি তো তোমাদের ছেড়ে কখনো কোথাও যাবো না,, বুঝলে ? আমি সবসময় আমার আম্মুর কাছে থাকবো….
মায়ের কোল জড়িয়ে ধরে বলল মিহি । সাবিনা বেগম মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন । অনেক কষ্টের জাগরণ ঘটে তার মনে ।

পরদিন মিহি আর কলেজে যায়নি । সকালে রুহির সাথে ফোনে কথা হয় মিহির । মিহি কলেজ আসবে না শুনে রুহিও আজকে কলেজে আসেনি । বিকেল হতেই মিহি মায়ের সাথে বিরিয়ানি রান্নার তোরজোর শুরু করে দেয় । আজ প্রথম রান্না করবে সে । সাবিনা বেগম অনেক বারন করার পরেও আটকাতে পারে নি ওকে । বিরিয়ানি আব্বুর ভীষণ পছন্দ‌। তাই আজকে নিজের হাতে আব্বুর জন্য বিরিয়ানি রান্না করছে সে । আব্বু আসবে সন্ধ্যায় ,তাই বিকেল থেকেই রান্না শুরু করে দিয়েছে মিহি । ওরনাটা কোমরে বেঁধে পাকা গিন্নির মতো রান্নায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সে,,পাশ থেকে মেয়ের এমন কান্ড চোখ ভরে দেখছেন সাবিনা বেগম । মেয়েটা তার আসলেই বড় হয়ে গেছে । সত্যিই তো কয়েক দিন পর বিয়ে দিয়ে দিতে হবে ওকে । সাবিনা বেগম কি করে থাকবে ওকে ছাড়া ‌? ও ছাড়া তো আর কেউ নেই ওনার…
সাবিনা বেগমের ভাবনার ছেদ ঘটে মিহির আহ্ সূচক মৃদু চিৎকারে । গরম কসানো মাংসের ঝোল ছিটকে পড়েছে মিহির হাতে । সাবিনা বেগম দৌড়ে যায় মেয়ের কাছে,, মেয়ের হাত নিজের হাতের উপর নিয়ে অস্থির হয়ে ফুঁ দিতে থাকে ,, ঠান্ডা পানি ঢালে হাতে । হাতের কব্জির কাছে কিছু জায়গা লাল হয়ে গেছে । রান্না বাদ দিয়ে চুলা বন্ধ করে চেয়ারে বসায় মেয়েকে….
অস্থির হয়ে পড়েন তিনি….

” কতোবার বললাম, তুই পারবি না এসব ,, হাত-টাত পুড়িয়ে ফেলবি । শুনেছিস আমার কথা ? কি‌ হলো এখন ? কতোটা লাল হয়ে গেছে হাতটা দেখছিস ?
হাতে মলম লাগাতে লাগাতে কথা গুলো বললেন সাবিনা বেগম । মায়ের অস্থিরতা দেখে মিহি বলে…
” আম্মু কিছু হয়নি আমার,, এইটুকুতে কিচ্ছু হবে না । চলোতো আগে,, রান্নাটা করে নেই…
আব্বু এসে যাবে নয়তো….

এক দেখায় পর্ব ৭

বলেই চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় মিহি । সাবিনা বেগম মেয়ের হাত ধরে বাঁধা দিয়ে কিছু বলতে যাবে এমন সময় দরজার কলিং বেল বেজে ওঠে । দুজনেই চকিতে তাকায় দরজার দিকে । এই অসময়ে কে আসতে পারে ? মিহি এগিয়ে যায় দরজার দিকে, পেছন পেছন সাবিনা বেগমও যায় ওর সাথে ।
দরজা খুলতেই একজন সুদর্শন সুঠাম দেহি পুরুষ নজরে আসে ,,তাকে দেখে ভ্রু কুঁচকে যায় মিহির । লম্বা চওড়া, ফর্সা, পেশিবহুল লোকটার উপর ভর দিয়ে টলমল পায়ে দাঁড়িয়ে আছেন আরো একজন । তাকে দেখে মিহির কুঁচকে যাওয়া ভ্রু যুগল শিথিল হয় । অস্থির হয়ে পড়ে মিহি ,,,অস্থিরতায় মিহির মুখ দিয়ে অস্ফুট স্বরে বেরিয়ে আসে..
” আব্বু……..

এক দেখায় পর্ব ১০