এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৪
আসিফা খান
রিফাত ফট করে ছেড়ে দেয় ইয়ানার বহু। ছার পেতেই ইয়ানা অন্য হাত দিয়ে রিফাত এর ধরে রাখা জায়গায় হাত দেয়,,,ব্যাথায় টনটন করছে।।রিফাত অন্য দিকে ঘুরে দাঁড়ায়,,, উদাম পিঠে ঘর্মবিন্দুর সৃষ্টি হয় যা ইয়ানার চোখ এড়ায় না। দুই আঙ্গুলে কপাল ঘষে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করে রিফাত।।সে কিভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে! এতটা বেপরোয়া আচরণের কারণ রিফাত নিজেও জানে না।অসস্তিতে ঘিরে ধরেছে তাকে।গভীর দুটো নিশ্বাস ছেড়ে,,, বরাবরের মতো গম্ভীর গলায় বলে,,,
“বেরিয়ে যাও,,,আর এর পরে ওই বিড়াল কে আমার রুমে দেখলে তার শাস্তি তুমি পাবে।”
ইয়ানার দিকে না তাকিয়েই কথা গুলো বললো রিফাত।। রিফাতের বলা কথাগুলো ইয়ানার আত্মসম্মানে ধাক্কা দিল।।মুহুর্ত অতিক্রম করলনা,,,প্রস্থান করলো রিফাত এর রুম থেকে।। প্রতিজ্ঞা করলো,,, ভূমিকম্প হোক কিংবা ঘূর্ণিঝড়, ঝড় আসুক কিংবা তুফান এই মানুষটার রুমে সে দ্বিতীয় বার প্রবেশ করবে না।।(কিন্তু আদেও তাহ কি সম্ভব?,,,পকৃতি যে তাদের জন্য অন্য কিছু লিখে রেখেছে।)
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
হাতে ঘড়ি পরতে পরতে সিড়ি বেয়ে নেমে আসছে রিফাত। হয়তো কোথাও যাচ্ছে।ড্রইং রুম পেরিয়ে মেন ডোর এর সামনে যেতে নিলে কানে আসে মিসেস আসফিয়ার মোলায়েম কন্ঠ।,,
“কোথাও যাচ্ছ বাবা?”
রিফাত পিছনে ঘুরে,,,হালকা গলা কেশে বললো,,”জী,,,,একটু কাজ আছে,,,ফিরতে রাত হবে।”
আসফিয়া মৃদু হেসে বলে,,,”আচ্ছা সাবধানে যাও,,,গাড়ির চাবি আছে তোমার কাছে?”
“হ্যাঁ,,,আব্বু দিয়ে গেছেন।”
ছোট্ট কথা বলে রিফাত আর দাড়ালো না,,লম্বা লম্বা পা ফেলে চলে গেলো সে।। মিসেস আসফিয়া রিফাত এর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মেকি হাসি দিয়ে ছোট্ট নিশ্বাস ছাড়ল। সময় জলের প্রবাহ ধরার ন্যায় বয়ে যাচ্ছে।।রিফাত এর বয়স যখন ৮ তখন সে বিয়ে করে এসেছিল এই সংসারে।। সদ্য আগত আসফিয়া কে মিস্টার আফতাব এর মা সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর রিফাত কে নিয়ে আসে।তাকে আসফিয়ার পাশে বসিয়ে দিয়ে তিনি বলেছিলেন,,,
“তোমার থেকে আমরা কিছুই লুকাইনি। তুমি সব জেনেই আমার বড়ো ছেলের হাত ধরেছো।পেটে ধারণ না করলেও এটা তোমার প্রথম সন্তান,তোমার বড়ো ছেলে রিফাত।।আপন মার থেকেও বেশী আগলে রাখতে হবে রিফাত কে।। তোমার বর, শোশুর আর আমার কলিজার টুকরো,,,তাই কোনো ধরনের কমতি আমরা বরদাস্ত করবো না।। তা বলে তুমি বাচ্চা নিতে পারবে না, সেটা কিন্তু নয়। অবশ্যই নিতে পারবে,,,,কিন্তু এক চোখে নুন আর এক চোখে তেল,,সেটা করো না।”
রিফাত এর দাদী কথা গুলো বলেই উঠে চলে যায়। কিন্তু রেখে যায় এক বিশাল দায়িত্ব,আকাঙ্ক্ষা।।সদ্য বিবাহিত, ২১বয়সী আসফিয়া যেনো একসাথে দুইটা সম্পর্কে মিশ্রিত হয়ে গেছিলো। যে,দুটো সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত মূল্যবান,সূক্ষ্ম। যা শুধু যত্নের সাথে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।সত্যি সেতো সব জেনেই মিস্টার আফতাব এর হাত ধরেছিলো।,,তার সুন্দর আচরণ,কথা আর অমাইক ব্যাবহারে মোহিত হয়েছিল আসফিয়ার হৃদয়,তাই হয়তো এক ছেলের বাবা জেনেও সম্মতি জানিয়েছিল এই বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার।।
আফিয়া পাশে তাকালো,,,দেখলো এক শুভ্র রাঙা মায়াবী চেহারার ছেলেকে,,যে টুকুর টুকুর নয়নে তাকেই দেখে চলেছিল।হয়তো ভাবছিল এই নতুন মানুষটি কে?আসফিয়া মৃদু হেসে তার মুখে হাত বুলিয়ে দিল।।মনটা প্রবল আষাঢ়ে ঢেকে গেল,,,,কান্না পেলো এটা ভেবে যে, এই ছেলে তার এই টুকুন বয়সে মা হারিয়েছে। আর অন্য দিকে আনন্দের অনুভূতি যে,এই ছেলের মা হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে সে।।রিফাত কে দেখেই তার মাতৃত্ব জেগে উঠেছে,,,এই ছেলেকে ভালো না বেসে সে থাকবে কি করে? যে একবার রিফাত কে দেখবে সে তাকে আদর করতে বাধ্য আর আসফিয়া তো এই সংসারে,এই বাড়িতেই থাকবে সে কি করে এই বাচ্চা কে দূরে সরিয়ে রাখবে!সে তো আগলিয়ে নেবে রিফাত কে নিজের বুকের ভেতর।। মাতৃ ভালোবাসা উজাড় করে দেবে।
আসফিয়া রিফাত কে নিজের সামনে দাঁড় করিয়ে তার দুটো হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে মৃদু হেসে বলে,,,”তুমি জানো আমি কে?”
রিফাত এর মনের প্রশ্ন আফিয়ার মুখে শুনে বিচলিত হয়ে ডানে বামে মাথা নাড়াতেই আসফিয়া বিস্তার হেসে বলে,,,,”আমি তো তোমার মা। ”
কথাটি কর্ণ ঘাত হতেই রিফাত ভ্রু কুঁচকে ফেললো,,, আসফিয়ার হাতের মুঠো থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে খুবই অল্প স্বরে বলল,,,”আমার মা তো তারাদের দেশে চলে গেছে।আমায় আব্বু বলেছে। তুমি আমার মা না,,,তুমি আমার মা না।”
এক দৌড়ে বেরিয়ে গেলো রিফাত রুম থেকে। আসফিয়ার সর্বাঙ্গ কেপে উঠল,,চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ল বারিকনা,,,বুকটা ভারী হয়ে গেলো।। বাচ্চা ছেলেটির দুই চারটা কথায় আসফিয়া যেনো উড়ন্ত ধুলোর ন্যায় আছরে পড়লো দূরে কোথাও।।
সেদিন থেকে শুরু হলো রিফাত আর আসফিয়া মধ্যকার দূরত্ব।আসফিয়া যতই দূরত্ব কমিয়ে এনে রিফাত কে আগলিয়ে নিতে চাইতো,, রিফাত যেনো ততই দূরত্বের মাত্রা বাড়িয়ে নিত।।কথাও বলতো কম,,,বলতো না বললেই চলে।। অত্যাধিক বেশি প্রয়োজন পড়লে আসফিয়া কে ‘ আন্টি ‘ বলে সম্মোধন করতো।মিস্টার আফতাব এই বিষয়ে রিফাতকে বোঝাতে গেলেও তার কথা কর্ণ ব্যাথিত হৃদয়ে আঘাত করেনি কখনো।।,,,ওই যে,তার উপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত সে কখনোই মেনে নেয়নি।।
কাধে কারোর হাতের স্পর্শ পেতেই চমকে উঠলো মিসেস আসফিয়া।,,ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে ইয়াসমিন বেগম দাড়িয়ে আছে,,,ভ্রু কুঁচকে।।আসফিয়ার ক্লান্ত করুন মুখের উপর দৃষ্টি রেখে ইয়াসমিন বেগম জিজ্ঞাসা করলো,,,,” কি হয়েছে আপা,,,,মুখটা এরকম দেখাচ্ছে কেনো?”
” ওহহ কিছু না,,,, ভাত বসিয়ে দিয়েছিস?”
“হ্যাঁ,,,সে তো কখন বসিয়ে দিয়েছি।”
আসফিয়া মৃদু হেসে বলল,,,”ভালো করেছিস,,,আমি যাই তরকারি টা বসিয়েদি। তুই যা,,গোসল করেনে। আর ইয়ানা কি করে?!মেয়েটা সেই নাস্তা করে গেলো আর নিচে নামলোনা,,,তুই যা দেখ ওকে,,শরীর ঠিক আছে কি না!”
এই বলে আসফিয়া রান্না ঘরে চলে গেল। তার মনে এক অদ্ভুত অস্থিরতার জন্ম নিয়েছে,,, যা এখন দৃঢ় ভাবে আকড়ে ধরেছে।। অস্থিরতার কারণ ইয়ানা। রিফাত তাকে মেনে নেবে তো? তাকে দূরে ঠেলে দেবেনা? তাদের পবিত্র সম্পর্কের বাঁধনে নিজেকে বাঁধবে তো রিফাত?,,,এই ধরনের নানান রকমের প্রশ্ন মাথায় জেকে বসেছে মিসেস আসফিয়ার।
দড়জা থেকে রুমে প্রবেশ করতেই দেখে ইয়ানা হাতে গল্পের বই নিয়ে বিছানার কিনারে বসে আছে।পা টা ব্ল্যাঙ্কেট এর মধ্যে রাখা।। হাতে বই থাকলেও নয়ন স্থির জানালার বাহিরে। সূক্ষ্ম ভাবে কি যেনো দেখে চলেছে সে,,,কোনো এক গভীর চিন্তায় বিভোর। আশেপাশের কোনো খেয়াল নেই তার।।,,,ইয়াসমিন বেগম এগিয়ে এসে ইয়ানার মাথায় হাত রাখতেই মেয়েটা এক ঝটকায় চমকে উঠে,,,বড়ো বড়ো চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে বিচলিত হয়ে মাথা ডানে বামে করে লম্বা লম্বা নিশ্বাস ফেলছে।।,,,ইয়াসমিন বেগম মেয়ের কান্ড দেখে হতবাক,,,সে জানে ইয়ানা ভয় পায় যখন হুট করেই কেও তার গায়ে হাত দেয় বা পিছন থেকে ডেকে ওঠে।। এরকম ভয় মোটামুটি সমস্ত মানুষের মাঝে থাকলেও ইয়ানার মাঝে তা অত্যাধিক বেশি।।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে ইয়ানার পাশে বসে ইয়াসমিন বেগম,,,” আমিই তো। এই ভাবে ভয় পেলে হবে?,,,তোকে দেখে আমিই ঘাবড়িয়ে যাই।।”
ইয়ানা পানি পান করে,,,ঠোঁট উল্টিয়ে বললো,,” আমি কি ইচ্ছা করে ভয় পাই। এটা তো আমার হয়।।আর তুমি হুট করেই মাথায় হাত রাখলে আমি ভয় পাবো না বুঝি।”
” আচ্ছা থাক হয়েছে,,বুঝেছি আমি।।,,,কি করছিস,,,নাস্তা করে সেই যে রুমে এসেছিস আর নিচে যাসনি।তোর আন্টি মা চিন্তা করছিলো।।”
“হায়রে,,, আমি ঠিক আছি দেখো,,একদম ফিট।। নিচে যেতে ইচ্ছা করছিলো না তাই গল্প পড়ছিলাম।কোনো দরকার ছিল?”
” না না,,,,আচ্ছা আমি যাই। তুই ও গোসল করেনে।”
ইয়ানা সম্মতি জানিয়ে” আচ্ছা ” বলে বইয়ের পাতায় দৃষ্টি রাখে।।ইয়াসমিন বেগম দরজা পর্যন্ত গিয়েও থেমে যায় কি মনে করে আবার ও ইয়ানার সামনে আসে।।,,,,মায়ের আবার ফিরে আসতে দেখে ইয়ানা বই বন্ধ করে বলে,,,” যাচ্ছি মাম্মা গোসল করতে,,,একটু**”
“ইয়ানা,,,রিফাত এর সাথে তুই দেখা করেছিস? কথা বলেছিস তুই?”
ইয়ানা স্তব্ধ খেয়ে গেলো। তার পুরো কথা শেষ হওয়ার আগেই মায়ের এরকম প্রশ্ন শুনে শরীর কেমন ঝিম ধরে গেলো।। কি বলবে কিছুই ভেবে পেলো না।। চুপ হয়ে গেল একদম।। গলা শুকিয়ে আসছে,,,দাত দিয়ে নিচের ঠোঁট কামড়িয়ে ধরে রেখেছে। ব্ল্যাঙ্কেটের তলায় দুই হাত ঘোষছে।মেয়ের চুপ করে থাকা দেখে ইয়াসমিন বেগম তার পাশে বসে বললো,,,
“কি হলো বল।।,,, নাকি,,,,,,”
“না না মাম্মা। ( গলা কেশে) আজ সকালে ছাদে দেখা হয়েছে আমাদের।”
ইয়াসমিন বেগম ঠোঁটে একটা বিস্তার হাসির রেখা ফুটে উঠল।। যে হাসিতে লুকিয়ে আছে সুখ,সন্তুষ্টি।।
ইয়ানার গালে হাত রেখে বলল,,,
“কথা বলেছিস? কি বললো তোকে দেখে? সালাম দিয়েছিস তো?,,,বাচ্চামি করিসনি তো ওর সামনে? ভালো করে কথা বলেছিস?”
ইয়ানার মাথা ঘুরছে তার মায়ের কথা শুনে।। যদি সে বলে,রিফাত এর সাথে সে কিরকম ধরনের কথা বলেছে,,,তাহলে আজ সে আর আস্থো থাকবে না।,,কিন্তু কিছু তো বলতেই হবে,,নাহলে আজ তার মাদার টেরিসা একই প্রশ্ন করতে করতে তার মাথা খেয়ে ফেলবে।।,,,ইয়ানা দাত বের করে একটা হাসি দিল,,,আমতা আমতা করে,,,ইনিয়ে বিনিয়ে বললো,,,
“আরে হ্যাঁ হ্যাঁ কথা বলেছি।। এবার জিজ্ঞাসা করোনা যে কি কথা বলেছি!,,,সব বলতে পারবো না।,,,এবার তুমি যাও আমি গোসল করতে যাবো।”
ইয়াসমিন বেগম ইয়ানার কথায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে।।,,,ভাবে মেয়েটা হয়তো লজ্জা পাচ্ছে,,,তাই কিছু বলতে চাইছে না। ইয়াসমিন বেগম ও বেশি ঘাটায়না বিষয় টা।।,,,যাওয়ার আগে শুধু বলে যায়,,,
“ইয়ানা ভুলে যাবি না এখন রিফাত কিন্তু তোর স্বামী।। একটা পবিত্র সম্পর্কের মধ্যে আবদ্ধ তোরা এখন।। উপর ওয়ালার সৃষ্টির সেরা বন্ধন হলো এই বিবাহ বন্ধন।। এই সম্পর্কের পবিত্রতা রক্ষা করার দায়িত্ব তোদের দুই জনের।।,,,রিফাত এর কোনো কথায় খারাপ ভাববিনা,,,মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবি আর আমি জানি তুই পারবি।আল্লাহ মেয়েদের মধ্যে এই গুন দিয়েছে যে তারা প্রতিটা মুহূর্তে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। গুছিয়ে নিবি তোর এই সংসার কে।। ভুলে যাবি না,,এই পরিবার তোর মা কে এমন সময় সাহায্য করেছিল,,যখন কেও তার পাশে ছিল না।। সবার বিশ্বাস রাখিস মা।।”
গড়িয়ে পড়া নোনা জল হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে মুছে নেয় ইয়ানা। ভারক্রন্ত মন মস্তিস্ক একটাই কথা বলছে,,” সে আমায় চায়? আদেও অর্ধাঙ্গিনীর অধিকার সে কি দেবে আমায়?” মায়ের কথা সে কি রাখতে পারবে?,,,মায়াশালিক এর মত আছে কি ইয়ানার কাছে রিফাত এর নকশার অর্ধেক অংশ?
ঘুমের মধ্যে চরম অস্থিরতায় ঠাস করে খুলে ফেললো চোখ জোড়া। মনে হচ্ছে মরুভূমির ন্যায় তার গলা ও শুকনো।। ধীরে উঠে বসে টেবিল ল্যাম জ্বালিয়ে ঘুমু ঘুমু চোখে কাঁচ এর জগ থেকে পানি গ্লাসে ঢালতে গিয়ে দেখলো জগ পানিহীনা শুকনো তার গলার মত।মরীচিকার মত জগ টা ইয়ানা কে ধোকা দেওয়াতে এক বুক বিরক্তি প্রকাশ করলো।। এদিকে পানি খেতেই হবে নাহলে আজ ইয়ানা শেষ।
এদিকে ভয় ও লাগছে বাহিরে যেতে।। কিন্তু সে আজ নিজেকে সাহসী ভূমিকায় নিপুণ করবে।,,ওড়না এক কাধের উপর ঝুলিয়ে খালি জগ হাতে নিয়ে পা টিপে রুম থেকে বেরিয়ে এলো। চারি দিকে মৃদু আলোক রশ্মি থাকায় খুব একটা ভয় হলো না তার।।,, সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো,,,রান্না ঘরের আলো জ্বালাতেই সব ভয় কেটে গেল।।,,, ডিসপেন্সার থেকে পানি ভরে এক গ্লাস পানি নিজেও সপাট করে ফেললো। প্রাণ ফিরে পেলো ইয়ানা।।
জগ নিয়ে কিচেন এর লাইট অফ করে সিড়ির প্রথম ধাপে পা দেওয়ার আগেই কর্কশ শব্দে বেজে উঠলো কলিং বেল।। ব্যাস ইয়ানার হওয়া টাইট।।,,,ভেজানো গলা শুকিয়ে এলো,,,দুই তিন বার ঢোক গিলে দেওয়ালে টাঙানো বিশাল আকারের ঘড়ির দিকে তাকালো,,, কাটায় কাটায় রাত বারোটা বাজে।,,,এই সময় কে এলো? ভুত নাকি জ্বীন?,,,লম্বা লম্বা শ্বাস নিতে থাকে,,, জানা সমস্ত দোয়া দরুদ পড়তে থাকে সমান তালে।। এরই মধ্যে আবারও বেজে উঠল বেল।।,,,
শিউরে উঠলো ইয়ানার সমস্ত শরীর।।ভয়ে ভয়ে দরজার দিকে তাকাতেই মনে পড়লো,,,আজ খাওয়ার সময় মিসেস আসফিয়া বলছিল,রিফাত কোনো কাজে গিয়েছে,বলে গেছে ফিরতে রাত হবে।।তবে কি রিফাত এলো! তার ভাবনা চিন্তার মধ্যেই তৃতীয় বারের মতো বেল বাজাতে ইয়ানা কনফার্ম হলো এটা রিফাত।।,,,কিন্তু তারপরেও সেফটির জন্য হাতে নিল ফুলদানি,,,অন্য কেউ হলে অ্যাটাক করবে সেই ফুলদানির দ্বারা।
দরজা খুলতেই সে দেখতে পেল রিফাত এর ক্লান্ত সুশ্রী মুখশ্রী।,,দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে আছে।। হঠাৎ করেই ইয়ানা কে এক অসস্তিতে ঘিরে ধরলো।।,,দরজা খোলার আওয়াজ কানে আসতেই রিফাত চোখ খুলে তাকালো,,,দেখলো ইয়ানা মৃদু দৃষ্টিতে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।। মেয়েটা এখনও জেগে কেনো?,,,মনে প্রশ্ন জাগলেও মুখে প্রকাশ করলো না।। এক পলক ইয়ানার দিকে তাকিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলো,,,গিয়েই ড্রইং রুমের সোফায় গা এলিয়ে দিল,,,ভীষণ ক্লান্ত সে। সরকারি অফিস গুলোর চক্কর,নার্সিং হোম এর কাজ নিয়েই কেটেছে তার সারা দিন।।
ইয়ানা দরজা লাগিয়ে দিল। রিফাত এর অবস্থা দেখে তার খারাপ লাগল। কিছু না ভেবেই রান্না ঘর থেকে ঠান্ডা গরম পানি মিশিয়ে গ্লাস টা রিফাত এর সামনে ধরলো।রিফাত চোখ তুলে ইয়ানা কে দেখে পানির গ্লাস হাতে নিয়েই পুরোটা শেষ করে স্বস্থির নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বললো,,,,” থ্যাঙ্ক ইউ।,,”
ইয়ানা কিছু বললো না গ্লাস নিয়ে আবার রান্না ঘরে রেখে দিল।। মনে প্রশ্ন জাগলো,,লোকটা কিছু খেয়েছে কি না?নিজের ভাবনা চিন্তায় নিজেই অবাক হয় ইয়ানা। আজ সকালে করা তার প্রতিজ্ঞা,,যেনো মাটিতে মিশে ধূলিসাধ হয়ে গিয়েছে।।পরক্ষণে মনে পরল সে তো প্রতিজ্ঞা করেছিল রিফাতের রুমে সে কখনো ঢুকবে না তাই প্রতিজ্ঞা এখনো বৃদ্ধমান।।
এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৩
গুটি গুটি পায়ে রিফাত এর সামনে দাড়িয়ে আনচান মনে পেটের মধ্যে দুম দুম করতে থাকা প্রশ্ন করেই বসলো,,,,”আপনার জন্য কি খাবার গরম করবো?”
