Home এক রহস্যময় ভালোবাসা এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৬০

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৬০

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৬০
Chadny islam

আসসালামু আলাইকুম আংকেল, কেমন আছেন!
আশরাফ সিকদার গাছে পানি দিচ্ছিলেন, আজকে বাড়ির কাজে ছেলেটার শরীর টা বেশি ভালো না! আশরাফ সিকদার যখন নামাজ এবং হাটাহাটি শেষ করে বাড়ি ফির ছিলেন,,তখন দেখলেন ছেলেটা অসুস্থ শরীর নিয়ে গাছে পানি দিচ্ছে!তাই আশরাফ সিকদার ছেলে টার হাত থেকে পানির পাইপ তুলে নিয়ে বলে ছিলেন! তুমি যাও বিশ্রাম করো আমি আজকে পানি দিয়ে দিবো গাছে! আশরাফ সিকদার সালাম এর শব্দ গুরে তাকালেন ঈশান এর দিকে, ঈশান কে দেখা মাএই ফুটে উঠলো মুখে মিষ্টি হাসি, আশরাফ সিকদার সালাম এর উওর নিলেন,এর পর ঈশান এবং জুথীকে উদ্দেশ্য করে বললো!

____কেমন আছো ইয়াংম্যান, আর আম্মু তুমি কেমন আছো!
ঈশান এবং জুথী যথেষ্ট বিনয়ের সাথে তার উওর করলো!!
___জ্বি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি,
আশরাফ সিকদার ঠিক ছোট বাচ্চা দের মতোন, সবার সাথে খুব তাড়াতাড়ি মিশে যেতে পারেন, সবাই কে নিজের মায়া ভালোবাসার জালে জড়িয়ে নিতে পারেন! আশরাফ সিকদার ঈশান এর হাত দরে টেনে নিয়ে আসলেন বাড়ির ভেতরে! সোফায় ওদের বসতে দিয়ে,পাশেই কিছু সারবেন্ট দের বললেন, তাড়াতাড়ি নাস্তা দিয়ে যাওয়ার জন্য!
আশরাফ সিকদার ভেতরে চলে গেলেন ভালো ভাবে হাত পরিষ্কার করার জন্য,হাতে কাঁদা সেই হাতে সাদা পাঞ্জাবি তেও বেশ কিছুটা কাঁদার ছিটে ফোটা পরেছে!

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

আদিস সিকদার টেবিলে নাস্তা করছেন গত এক মাস দরে কোম্পানির কোনো কাজে যাওয়া হয় না! অহনা সিকদার বেশ হিমশিম খেয়ে গেছেন কোম্পানি সানলাতে গিয়ে, আদিল রাজনীতি নিয়ে বেশ ব্যাস্ত থাকে যার ফলে সেও ঠিক মতোন অফিসে যেতে পারে না! বাড়ির কেউ অফিসে সপ্তাহ খানেক না গেলে ও যে মানুষ টা সব কিছু সামলে নিতো! সেই মানুষ টাও ভারসাম্য হারিয়ে পাগল প্রায় অবস্থা! না কাউকে চিন্তে পারে, আর না কারোর সাথে কথা বলে!
আদিস সিকদার দীর্ঘ শ্বাস ছারলেন, আজকে তার জন্য এসব কিছু হয়েছে! মেয়ে টাকে তো নিজের হাতে মেরেই ফেললো, আর অন্যদিকে ছেলে কে অমানুষ বানিয়েছে! তার জীবনের সব থেকে বড় ব্যার্থতা এই দুই জায়গায়!
আশরাফ সিকদার উপর থেকে ফ্রেশ হয়ে নিচে চলে এসেছেন! সকালের নাস্তা করবেন বলে, অহনা সিকদার প্রতিদিন এর মতোন সেই বাজে সুপ টা বানাচ্ছেন! অনেক হেলদি বাট প্রতিদিন এক টেস্ট এর খাবার খেতে এক ঘেয়ালি লাগে! বিশেষ করে ডায়বেটিস এর জন্য এত বেশি খাবার গুলো কে বেঁচে খাওয়াতে হয়!
আশরাফ সিকদার গিয়ে বসলেন ঠিক ঈশান এর পাশে! আশরাফ সিকদার কে দেখে জুথী বললো!!

___আমি ইরার কাছে যাচ্ছি!
কথা শেষ করে জুথী হাটলো উপরের দিকে, ইরার রুমে যাবে বলে, জুথী উপরে গিয়ে বাইরে থেকে নক করলো বেশ কয়েক বার! তার মনে হয়ে ছিলো আদিল রুমের ভেতরে আছে!আবার তার জন্য রুমের ভেতরে কেউ কোনো রকম লজ্জার মুখে না পড়ুক! স্বামী স্ত্রীর প্যারসোনাল মোমেন্ট টাই কাটানো হয় রুমের ভেতরে!জুথী নক করার সাথে সাথে ইরা দরজা টা খুলে দিলো! আদিল ওয়াশরুমে ফ্রেশ হচ্ছে, সকালে সবার সাথে অনেক দিন যাবত নাস্তা করা হয় না! তাই ইরা ইচ্ছা কৃত ভাবে আদিল কে সকাল সকাল তুলেছে ঘুম থেকে, হয়তো ইরা নিজেও আজকে একটু লেট করে ঘুম থেকে উঠেছে, রাতে আদিল এর এলো-মেলো ভালোবাসার সাথে কনকনে ঠান্ডার মাঝে ফরজ গোছল এই গুলা শেষ করতে করতে প্রায় তিন টার কাছাকাছি বেজে গিয়ে ছিলো!

ইরা জুথী কে নিয়ে রুমে বসলো, এর মাঝে ইরা নিজের মাথার চুল গুলোকে সুন্দর ভাবে আঁচড়ে নিলো, এলোমেলো হয়ে ছিলো লম্বা চুলো গুলোতে,তারপর হাত খোঁপা করে নিলো! এর মাঝে আদিল ফ্রেশ হয়ে চলে আসে! জুথী কে সকাল সকাল নিজেদের বেড রুমে দেখবে সেইটা আদিল একদম আদিল আশা করে নি! জুথী যখন এসেছে তখন তো ঈশান ও এসেছে, হায় আল্লাহ তখনি রাতের সব কথা উদয় হয়! ঈশান যে কি করবে আল্লাহ জানে!
আদিল যথেষ্ট বিনয়ের সাথে জুথী কে বললো!!

___কেমন আছো আপু!
জ্বি ভাইয়া, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি! আর আপনি?
আমি ও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি!
আদিল এত টুকু কথা বলে বিছানার উপর থেকে নিজের ফোন টাকে হাতে তুলে নিয়ে, বেরিয়ে গেলো রুম থেকে!
জুথী হাসি খুশি মুখ নিয়ে বললো!!
___আমরা হানিমুনে যাচ্ছি, কক্সবাজার!
ইরা মৃদু হাসলো, এর পর বললো!!
____ভালোই যা ঘুরে আই, আর আমার জন্য অনেক গুলা আচার নিয়ে আসিস!
জুথী কপাল কুঁচকালো, তোরা যা মানে, তাহলে কি ইরা যাবে না, ভাইয়া যে বললো ইরা ও যাবে, তবে কি ভাইয়া ইরা কে কিছু জানায় নি, কিন্তু কেনো??
এখন আমার কি ইরা কে জানানো ঠিক হবে, জুথী কে একমনে ভাবতে দেখে, ইরা জুথী কে অল্প ধাক্কা দিয়ে বললো!!

____ঠিক আছিস তুই, যা ছোট লোক তোর আমার জন্য আচার নিয়ে আসতে হবে না! তোরা ঘুরে ফিরে ইনজয় করে আয়!
জুথী শব্দ করে হেসে ফেললো, এমন কি কোনো ছোট ছোট আবদার ছিলো যা জুথী পালন করে নি! আর সেখানে আচার কি এমন জিনিস, ঘুরতে যাওয়া টা ঠিক তখন হবে যখন তুই চাইবি! জুথী কিছু টা সংকোচ নিয়ে বললো!!
____ঈশান তো বললো,ভাইয়া আর তুই ও যাবি, কিন্তু আমার তো এখানে এসে মনে হচ্ছে তুই কোনো কিছু জানিসি না!
ইরা কিছু টা অবাক হলো, তাদের তো হানিমুনে যাওয়ার বিষয় নিয়ে তেমন কোনো কথা হয় নি, আদিল তাহলে তাকে না জানিয়ে ঘুরতে যাওয়ার পিপারেশন নিচ্ছে। এই সময়ে কোথাও যাওয়া এক দম ঠিক হবে না, তাই ইরা সরাসরি জুথী কে বলে!!

____আমি এই সময় কোথাও যাবো না!
জুথী প্রশ্ন বোধক ভাবে চাইলো, এই অসময়ে মানে! জুথী সত্যিই কিছু বুঝতে পারছে না, তাই বললো!!
____এই অসময়ে মানে,আমাদের তো এক্সাম টাও শেষ! আমি এত কিছু জানি না, আমরা যাবো মানে যাবোই!
ইরা কিছুটা বিরক্ত এবং রাগ নিয়ে বললো!!
___জিদ করিস না, তোরা যা ঘুরে আই, আমরা না হয় নেক্সট ইয়ারে যাবো!
জুথী ইরার হঠাৎ রাগের কারন টা বুঝলো না, তাই ইরার দুই হাত শক্ত করে চেপে দরে বললো!!
____কি হয়েছে বল না, তোকে দেখতে এমন লাগছে কেনো??
ইরা তাকালো জুথীর দিকে,দুই চোখে অসহায়ত্ব সব শুনতে চাই, তাই ইরা আর দ্বিধা বোধ করলো না, সরাসরি বলে উঠলো!!

____আমি প্রেগন্যান্ট!
মূহুর্তে ই জুথী খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠলো!!
___আলহামদুলিল্লাহ, আমি মামি হতে চলেছি, এত সুন্দর সুখবর টা তুই আমাকে এখন দিচ্ছিস!
ইরা জুথীর গাল চেপে দরলো, গলার স্বর নামিয়ে ফিসফিস করে বললো!!
___আমি এখনো বাড়িতে জানায় নি, সবাই বিষয় টাকে কি ভাবে নিবে আমি জানি না,
__ভাইয়া কি জানে??
__না!

জুথী একটু রাগ দেখিয়ে বললো!!
___কেনো জানাস নি, এইটা একদম ঠিক হয় নি! সবাই কে জানা এই খুশির সংবাদটা! সবাই বেশ খুশি হবে!!
__হুম জানাবো, অতিশীঘ্রয়!
ইরা জুথীর হাত চেপে দরে বললো!!
___প্লিজ তোরা যা হানিমুনে , আমাদের জন্য কেনো শুধু শুধু নিজেদের প্যারসোনাল মোমেন্ট গুলো কে নষ্ট করে দিবি!
তাছাড়া আমি একজন ডক্টর এর সাথে কথা বলেছি, এই অবস্থায় জার্নি করা একদম ঠিক হবে না!
জুথী ইরার গালে অল্প হাত রেখে বললো!!

___আমাদের প্যারসোনাল সময় কাটানোর জন্য অনেক টাইম আছে, আমাদের প্রয়োজন এখন তোর পাশে থাকা! আমরা নয় হয় নেক্সট ইয়ারে সবাই একসাথে যাবো!
জুথীর কথায় ইরার মুখ চকচক করে উঠলো, এই সম্পর্ক টাকে শুধু বন্ধুত্ব বলা বড্ড বোকামি! বরং নিজের বোন বললে কম হয়ে যাবে!
আশরাফ সিকদার ঈশান এর সাথে কথা বলছেন, পাশেই আদিল বসে আছে, তার সম্পূর্ণ মনোযোগ ফোনের দিকে! আজকাল ফোন নিয়ে একটু বেশি বেজি থাকে! আশরাফ সিকদার গতকাল আদিল বাড়ি না ফিরা নিয়ে বেশ কৌতুহল ছিলেন, শুধু ছিলেন না এখনো আছেন! গত দুইদিন কাউকে কিছু না বলে কোথাই যেতে পারে! আদিল ঈশান কে উদ্দেশ্য করে বললো‌!!!

____টিকিট রুমবুক সহ বাকি সবকিছু ওকে, কালকে সকাল দশ টাই বের হবি বাসা থেকে!
“”এত সকালে কেনো, তাও আবার শীতের মধ্যে??
“”তাহলে তোর জন্য হেলিকপ্টার বুক করছি, তুই বরং উড়ে উড়ে চলে যাস!
“”মন্দ হতো না,তোরাও চাইলে যেতে পারিস!
আদিল কপাল কুঁচকে তাকালো, এই মূহুর্তে কি বলা উচিত তার, আদিল গম্ভীর মুখে বললো!!
___তোকে যদি লাথী মেরে কক্সবাজার পাঠিয়ে দেয়া যেতো তাতেও মন্দ হতো না! ইডিয়েট.!
ঈশান কিছুটা অপমানিত বোধ করলো, এত বড় কথা তাকে লাথী মারার কথা বলছে! আদিল লাথী তো তোকে মারা উচিত খাচ্চর, গত রাতে আমার ঘুম নষ্ট করে ছিলি৷,রাতের কথা মনে আসতেই ঈশান জিজ্ঞেস করলো!!

____রাতে ডেট ওভার মাল খেয়েছিলি???
মাল আশরাফ সিকদার লাভ দিয়ে উঠলেন,তাকে ছাড়াই রাতে মাল খেয়ে নিলো তার ছেলে, এইটা কি ঠিক করলো আদিল, আশরাফ সিকদার গম্ভীর গলাই বললেন ‌!!!
____আমাকে রেখেই তোমরা লাল পানি খেয়ে নিলা, অনন্ত একবার তো আমাকে জানাতে পারতে!
ঈশান কপাল চাপড়াতে থাকলো, কি বলা হলো আর এই মন্ত্রী কি শুনলো, বয়স হয়ে গেলে বুঝি মন্ত্রীরা কালা হয়ে যায়! হাও ফানি…
ঈশান কে হাসতে দেখে আশরাফ সিকদার আরও গম্ভীরয্য মিশিয়ে বললেন!!

____এই ইয়াংম্যান, হাসছো কেনো, তোমরাই বলো এইটা ঠিক করছো???
ঈশান আদিল কে ফাসানোর জন্য, আশরাফ সিকদার এর সাথে তাল মেলাতে থাকলো!!
___না আংকেল আদিল একদম ঠিক করে নি, ওর উচিত ছিলো আপনাকে সাথে নিয়ে লাল পানি সেবন করা কিন্তু ও এইটা করলো না!!!
“”তুমি তো করতে পারতে ইয়াংম্যান!
“আমি তো ছিলাম না আংকেল, আদিল একা একা খেয়ে নিয়ে ছিলো, তারপর মাল খেয়ে যখন টাল হয়ে গিয়ে ছিলো তখন আমাকে কল করে ছিলো!
আদিল দুই জনের এমন অস্বাভাবিক কথা শুনে রাগে কিরমির করে উঠলো, মেজাজ ঝাঁঝিয়ে উঠলো!!

____ঈশান এর বাচ্চা আমি মাল খাইছি, তোরে কে বলছে ইডিয়েট,তোর বোন আর তুই তোরা দুই টাই এক! কি দেখে যে তোদের সাথে আমার পরিচয় টা হয়ে ছিলো আল্লাহ ভালো জানে! আর আমার সালার কুওা কপাল!
ইশান সহ আশরাফ সিকদার শব্দ করে হেসে উঠলেন!! ঈশান আদিল কে আরেকটু রাগান্বিত করার জন্য বললো!!!
____সালার ভাই দুলাল, তোর জন্য এক বালতি সমবেদনা!
অহনা সিকদার সবার জন্য খাবার রেডি করছেন, আশে পাশে বেশ অনেক গুলা সারবেন্ট আছে তাকে সাহায্য করছেন!অহনা সিকদার সহ বাকি সবাই এসে বসেছে খাওয়ার টেবিলে!আজকে আদিব ও এসেছে টেবিলে, আগের থেকে কিছুটা স্বাভাবিক লাগছে তাকে দেখতে! ইরা জুথী পাশাপাশি বসে আছে খাবার খাচ্ছে! তারা দুইজন অপেক্ষা আছে কখন কক্সবাজার এর কথা উঠবে, আর কখন তারা সরাসরি না করে দিবে!
অহনা সিকদার আদিল কে উদ্দেশ্য করে বললেন!!

____অফিসের সময় মতোন চলে এসো, আজকে কিছু ইমপোর্টেন্স কাজের জন্য লোক আসবে! তাছাড়া আমার একজন প্যারসোনাল এসিস্ট্যান্ট লাগবে!!
আদিল সম্মতি প্রকাশ করে বললো!!
____ওকে!
আদিব এদিক সেদিক না তাকিয়ে খাওয়ায় মনোযোগ দিচ্ছিলো! সে আজকে চেম্বারে চলে যাবে! বাসায় থাকতে থাকতে মনে হচ্ছে, নিজের মানসিক অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে!আদিব পানি খাওয়ার জন্য গ্লাসে হাত দিতেই চোখ পরলো পাশেই একটি মহিলা সারবেন্ট এর দিকে, বয়স খুব বেশি নয় হবে হয়তো পঁচিশ থেকে সাতাশ! জুস নিয়ে আসছে খাওয়ার টেবিলের দিকে, আদিব এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো বেশ কিছুস ময়,মূহুর্তেই আদিব এর হাত থেকে গ্লাস টা শব্দ করে মাটিতে পরে গেলো, গ্লাস টি ফ্লোরে পরার সাথে সাথে ঝনঝন শব্দ করে উঠলো,মূহুর্তেই সবার মনোযোগ গিয়ে ঠেকলো আদিব এর দিকে! অহনা সিকদার খাওয়া ছেড়ে ছুটে আসলেন ছেলের দিকে!আদিব কোনো রকম আঘাত পেয়েছে কিনা দেখতে! ছেলেকে দু’হাতে আঁকড়ে দরলেন, এবং অসহায় কন্ঠে বললেন!!

____কি হয়েছে আদিব?? তুমি ঠিক আছো??
আদিব মহিলা সারবেন্ট এর দিকে এগতে লাগলো, টেবিল ভর্তি মানুষ সবাই তাকিয়ে আছে আদিব এর দিকে, কি এমন হলো হঠাৎ করে আদিব মেয়ে টির দিকে যাচ্ছে,আদিব মেয়ে টির ঠিক সামনে দাড়াতেই মেয়েটা ভয়ে নেতিয়ে গিয়ে ঠকঠক করে কাঁপতে শুরু করলো, সে তো কোনে ভুল করে নি তাহলে কি হলো!আদিব রাগে কটমট করে উঠলো,মেয়ে টির দিকে তাকিয়ে মেজাজ ঝাঁঝিয়ে বললো!!
____যা জিজ্ঞেস করবো, সত্যি সত্যি উওর দিবা নয়তো জানে মেরে দিবো!
মূহুর্তেই আদিব এর কন্ঠ সুর পরিবর্তন হয়ে গেলো, রাগে চোখ মুখ লাল হয়ে উঠেছে, জেনো মনে হচ্ছে মেয়ে টিকে এই মূহুর্তে জানে মেরে দিবে! তাছাড়া কোনো একটা খারাপ কিছুর আবাস পেয়েছে! সামনের মেয়েটা বেশ কাঁপা-কাঁপি করছে সেই সাথে ভয়ে তঠষ্ত হয়ে আছে! অহনা সিকদার মেয়ে টির দিকে তাকিয়ে শান্ত গলাই বললেন!!

____আদিব কি বলছে বৃষ্টি উওর দাও!
আদিব গম্ভীর গলায় বললো!!
____যদি মিথ্যা বলেছিস, এখানেই পুতে রেখে দিবো, গলার চেন টা কোথায় পেয়েছিস???
আদিব এর কথায় সবার চোখ পরলো মেয়েটির গলার দিকে ঠিক চেন এর উপর! আর এ দিকে মেয়েটি ঠকঠক করে কাঁপছে, অন্যদিকে আদিল চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে! এত বড় বোকামি হলো কিভাবে, মেয়ে টি কাঁপা কাঁপা গলায় বললো!!
____স্যা..স্যার এই চেন টা আমার জামাই দিছে, তাও বছর খানেক আগে!!
মেয়ে টির কথা বলতে দেরি আদিব এর গলা চেপে দরতে দেড়ি হলো না, দেয়ালের সাথে শক্ত করে চেপে দরে দাঁতে দাঁত পিসে বললো!!

____নাটক চো…স! খা…নি মহিলা তোর জামাই রে এহন ফোন কর!!
মেয়েটা কি বলবে বুঝতে পারছে না, এদিকে খাওয়া ছেড়ে সবাই উঠে গেছে আদিব কে ছাড়ানোর জন্য!সবাই বেশ কিছু সময় নিয়ে ছাড়ালো মেয়েটির থেকে, অতিরিক্ত জোরে গলা চেপে দরাই মেয়েটির নিশ্বাস আটকে যাচ্ছে, কোনো রকম ছাড় পাওয়াতে ঘনঘন নিঃশ্বাস ছাড়ছে!মেয়েটিকে ভয়ে হুহু করে কান্না শুরু করলো, মেয়েটি গত তিন চার বছর দরে এই বাড়িতে কাজ করে, কখনো কারোর ব্যাবহার বা কাউকে খারাপ মনে হয়নি! আজকে হঠাৎ করে কি এমন হলো! মেয়েটি কাপা কাপা গলাই বললো!!
___আমার স্বামী তো বিদেশ থাকে, মেলা দিন আগে থেকা!
আদিল কোনো রকম রিক্স নিতে রাজি নয়, তাই আদিল পরিবেশ টাকে শান্ত করার জন্য আদিব কে উদ্দেশ্য কর বললো!!!

____আদিব কি হচ্ছে এইটা, মেয়ে টার শরীরে টাস করছো কেনো /?তোমার কথা বলার প্রয়োজন হলে দূর থেকে বলো! শরীরে হাত দেয়ার রাইট কে দুয়েছে তোমাকে???
আদিল এর কথায় ভিষণ বিরক্ত হলো আদিব, তবে কিছু বললো না, বড় ভাইয়ের অসম্মান বলে! তাই আদিল কে বুঝিয়ে বলতে চাইলে!!
___ভাইয়া তুমি বুঝতে পারছো না..
আদিব কে থামিয়ে দিয়ে আদিল বলে উঠলো,
___এই মেয়ে নেক্সট টাইম থেকে আর আসবে না এই বাড়িতে, তোমার চাকরি নেই আর আজকের পর থেকে! গেট আউট!

সবাই থমথমে মুখ নিয়ে তাকিয়ে রইলো আদিল এর দিকে, আদিব হয়তো ভুল বুঝে মেয়ে টার শরীরে হাত দিয়েছে, তাই বলে মেয়ে টার চাকরি নিয়ে টানাটানি করতে হবে! কেউ চাইলো না কোনো ভাবে আদিল এর অসম্মান হোক, তাই সবাই আদিল এর ডিসিশন মেনে নিতে বাধ্য হলো! আদিব দ্রুত বাড়ি ত্যাগ করলো, ভিষণ ঘৃনা লাগছে নিজের প্রতি! এত টা ভুল তো হওয়ার ছিলো না! তবে কি মাথা ঠিক নেই!!
এক এক করে সবাই নিজেদের রুমে চলে গেলো, অহনা সিকদার চলে গেলেন নিজের কোম্পানিতে! আদিস সিকদার ও সাথে গেলেন আশরাফ সিকদার চেয়ারে বসে আছেন! রাজনৈতিক কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করার আছে!
আদিল কে অহনা সিকদার বলেছেন কোম্পানিতে যাওয়ার জন্য!তার মানে যেতেই হবে, তাছাড়া কালকে তো চলে যাবে হানিমুনে প্রায় সপ্তাহ খানেক পর ফিরবে! আদিল ইরা কে উদ্দেশ্য করে বললো!!

____আমার জামা কাপড় বের করো, আমি অফিসে যাবো!
আদিল কথা শেষ করে চলে যায় ওয়াশরুমে ফ্রেশ হওয়ার জন্য,আর এদিকে ইরা আদিল এর জন্য জামা কাপড় বের করার জন্য চলে যায় ওয়ারড্রবে! কিছুদিন যাবত সব কিছু বেশ ব্যাস্ত তার জন্য ঠিক ভাবে গুছিয়ে রাখা হয়নি জামাকাপড়, এলোমেলো হয়ে সারা ওয়ারড্রবে ছড়িয়ে আছে! ইরা কালো শার্ট খুজ ছিলো, কিন্তু পাচ্ছে না বেশ এলোমেলো এর জন্য! এলোমেলো জামাকাপড় সরাতেই দেখতে পাই একসাথে চারটা পাসপোর্ট, পাসপোর্ট এত গুলা কেনো??কার পাসপোর্ট একজন মানুষ এর কি এত গুলা পাসপোর্ট থাকে, ইরা শার্ট বাদ দিয়ে পাসপোর্ট গুলোকে নিয়ে আসে আদিল কে জিজ্ঞেস করবে বলে!

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৯

এর মাঝে আদিল ওয়াশরুমে থাকা অবস্থায় তার পাসপোর্ট এর কথা মনে পরে যায়, তাই ফ্রেশ হওয়া বাদ দিয়ে ছুটে আসে বাইরে,ঠিক যেই ভয় টা পেয়ে ছিলো সেইটাই হলো, ইরার হাতে পাসপোর্ট প্রশ্ন বোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে! এলোমেলো দৃষ্টিতে হাজার টা প্রশ্ন লুকিয়ে আছে, কি উওর দিবে আদিল!! ইরা ঠিক আদিল এর চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো!!
____একজন মানুষ এর নিশ্চয় চারটা পাসপোর্ট থাকে না তাই না! এই গুলা কার????

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৬১