এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ২৫
সেঁজুতি আক্তার
— টিউশনি শেষ করে বাসায় ফিরতে ফিরতে বিকাল হয়ে গেছে। মাইরা সদর দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই পা জোড়া থেমে গেল। রান্নাঘর থেকে খুন্তির টুংটাং আওয়াজ ভেসে আসছে। মাইরার কপালে ভাঁজ পড়ল। কিছুক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে থেকে আস্তে আস্তে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেল। রান্নাঘরে ঢুকতেই দেখল শাহানা বেগম রান্না করছেন।
— মাইরা অবাক হয়ে বলল, আম্মু আপনি রান্নাঘরে কী করছেন?
— শাহানা বেগম পেছনে ফিরে তাকালেন। মাইরাকে দেখে ভ্রু কুঁচকে বললেন, তোমার আজ এত লেট হলো কেন?
— মাইরা মাথা নিচু করে একটু ইতস্তত করে বলল, আসলে আম্মু…
— আসলে কী?
— মাইরা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল। কথাটা কীভাবে বলবে বুঝতে পারছে না। তারপর আস্তে করে বলল, আম্মু আমি একটা টিউশনি নিয়েছি।
— শাহানা বেগমের হাত থেমে গেল। টিউশনি?
— জি আম্মু।
— কোথায় টিউশনি পেলে তুমি?
— মাইরা এবার একটু সাহস করে বলল, তনু ঠিক করে দিয়েছে আম্মু। দুইটা মেয়েকে পড়াতে হবে। একজন ক্লাস ফাইভে আর একজন ক্লাস সেভেনে। ওদের বাসায় গিয়ে পড়াতে হয়।
— শাহানা বেগমের মুখটা সঙ্গে গম্ভীর হয়ে গেল। তোমাকে এসব করতে কে বলেছে?
— মাইরা চুপ করে রইল। আমি তোমাকে পড়াশোনা করার জন্য এই বাড়িতে এনেছি, মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়ানোর জন্য না।
— মাইরা মাথা নিচু করেই বলল, আম্মু আমি পড়াশোনার পাশাপাশি করছি। এতে আমার পড়াশোনার কোনো ক্ষতি হবে না।
— পড়াশোনার পাশাপাশি? তোমার কি মনে হয় সংসারের কাজকর্ম করে, কলেজ করে আবার অন্যের বাড়িতে গিয়ে পড়িয়ে তুমি ঠিকমতো সব সামলাতে পারবে?
— মাইরা শাশুড়ির দিকে তাকাল। আমি চেষ্টা করব আম্মু।
— চেষ্টা করব বললেই তো হলো না। শরীরের দিকটাও তো দেখতে হবে।
— মাইরা চুপ করে রইল।
— শাহানা বেগম আবার রান্নায় মনোযোগ দিতে দিতে বললেন, আর তোমার টাকারই বা কী দরকার? এই বাড়িতে তোমার খাওয়া-পরার কোনো অভাব হচ্ছে?
— কথাটা শুনে মাইরার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। তারপরও শান্ত কন্ঠে বলল, না আম্মু। আপনারা আমাকে খেতে দেন, পরতে দেন। আমি সেটা অস্বীকার করছি না। কিন্তু
— কিন্তু কী?
— আমি সবসময় কারো ওপর নির্ভর করে থাকতে চাই না আম্মু।
— শাহানা বেগম এবার মাইরার দিকে তাকালেন।
— মাইরা বলল, আজকে আমি আছি। কালকে কী হবে জানি না। আপনার ছেলে কবে ফিরবে সেটাও জানি না। তাই আমি চাই নিজের একটা ব্যবস্থা থাকুক। পড়াশোনার পাশাপাশি যদি নিজের কিছু টাকা নিজে উপার্জন করতে পারি, তাহলে আমারও ভালো লাগবে।
— শাহানা বেগম কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
— মাইরা আবার বলল, আমি কারো ওপর বোঝা হয়ে থাকতে চাই না আম্মু। আপনারা আমার জন্য এত কিছু করছেন, আমি জানি। কিন্তু নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করাটা কি খুব খারাপ?
— শাহানা বেগমের মুখটা মলিন হয়ে গেল। গলার স্বর আগের মতোই রেখে বললেন, তুমি এখনো অনেক ছোট মাইরা। জীবন সম্পর্কে তোমার কতটুকুই বা ধারণা আছে? নিজের পায়ে দাঁড়ানোর কথা বলছো, অথচ নিজের শরীরের কথাই ভাবছো না।
— মাইরা মৃদু হেসে বলল, আমি বুঝি আম্মু। তাই তো সবকিছু সামলে করার চেষ্টা করছি।
— না। আমার ভালো লাগছে না ব্যাপারটা। প্রতিদিন বিকেলে বাড়ির বাইরে থাকবে, কখন ফিরবে তার ঠিক নেই। মানুষের বাড়িতে গিয়ে পড়াবে, এসব আমার একদম পছন্দ হচ্ছে না।
— মাইরা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, আপনি যদি খুব আপত্তি করেন তাহলে আমি আর করব না আম্মু।
— শাহানা বেগম সঙ্গে সঙ্গে বললেন, আমি তোমাকে নিষেধ করছি না। কিন্তু সবকিছু বুঝে করতে বলছি। নিজের ইচ্ছেমতো একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেই তো হলো না।
— মাইরা মাথা নেড়ে বলল, জি আম্মু। আমি বুঝেছি।
— তারপর একটু চুপ করে থেকে আস্তে করে বলল, তবে আম্মু, আমি যদি পারি তাহলে টিউশনিটা করতে চাই। এতে আমার পড়াশোনারও উপকার হবে।
— শাহানা বেগম আর কিছু বললেন না। শুধু চুপচাপ রান্না করতে লাগলেন।
— মাইরা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বলল, আমি একটু রুমে যাই আম্মু। ফ্রেশ হয়ে আসি। তারপর চাইলে রান্নায় আপনাকে সাহায্য করব।
— শাহানা বেগম এবার মাইরার দিকে তাকিয়ে বললেন, যাও। আগে ফ্রেশ হয়ে আসো। আর হ্যাঁ, টিউশনি করতে গেলে সময়মতো বাড়ি ফিরবে।
— মাইরা হেসে মাথা নাড়ল, জি আম্মু। চেষ্টা করব।
— মাইরা রুমে এসে দরজাটা লাগিয়ে দিল। সারাদিন কলেজ আর টিউশনি করে শরীরটা একদম ক্লান্ত হয়ে গেছে। আলমারি থেকে জামা কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এসে রুমের দিকে তাকালো।
— বিছানাটা একটু এলোমেলো হয়ে আছে। টেবিলের ওপর বই খাতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। মাইরা আর কিছু না ভেবে রুমটা গুছাতে শুরু করল। বইগুলো এক জায়গায় রাখল। টেবিলটা গুছিয়ে নিল। তারপর বিছানার চাদরটা ঠিক করল। সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল।
— ফোনটা হাতে নিয়ে ফেসবুকে ঢুকল। এমনিতেই একটু স্ক্রল করছিল। হঠাৎ পরিচিত একটা নাম চোখে পড়তেই মাইরার আঙুল থেমে গেল। শেহরান মির্জা। মাইরার বুকের মধ্যে ধক করে উঠল। কিছুক্ষণ ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে শেহরানের আইডিতে ঢুকল।
— কিছুক্ষণ আগেই একটা পোস্ট করেছে। একটা ছবিতে শেহরান একা দাঁড়িয়ে আছে। ছবিটা দেখে মাইরার বুকের মধ্যে কেমন চিনচিনে ব্যাথা অনুভব হলো। ছবির নিচে একটা ছোট্ট ক্যাপশন লেখা। কিছু দূরত্ব মানুষ নিজের ইচ্ছায় তৈরি করে না।
— মাইরা ক্যাপশনটা একবার পড়ল। হঠাৎ চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসলো। মাইরা ফোনটা একটু দূরে সরিয়ে চোখের পানি মুছে নিল।
— রাত প্রায় ৯টা বাজে। প্রতিদিনের মতো আজও ডাইনিং টেবিলে সবাই একসাথে বসে রাতের খাবার খাচ্ছে।
— হঠাৎ সায়রা খাওয়া থামিয়ে বাবার দিকে তাকাল। আব্বু একটা কথা বলবো?
— রায়হান মির্জা মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, হুম। বলো।
— সায়রা একটু মুচকি হেসে বলল, আব্বু আমি দেশের বাইরে যেতে চাই।
— রায়হান মির্জা সঙ্গে সঙ্গে ভ্রু কুঁচকে তাকালেন। দেশের বাইরে?
— হুম।
— এখন আবার দেশের বাইরে যাওয়ার শখ হলো কেন?
— আব্বু, অনেকদিন কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না। আমি একটু ঘুরতে যেতে চাই। কয়েকদিনের জন্যই তো।
— না সায়রা। এখন যাওয়ার কোনো দরকার নেই। তোমার পড়াশোনা আছে।
— সায়রা সঙ্গে সঙ্গে মুখটা কালো করে ফেলল। সবসময় শুধু পড়াশোনা আর পড়াশোনা। একটু ঘুরতে গেলেই কি আমার পড়াশোনা শেষ হয়ে যাবে?
— শাহানা বেগম মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমার আব্বু যখন না বলেছে, তখন আর জোর করো না।
— সায়রা এবার মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, আম্মু তুমি কিছু বলো না। আমি কি একা যেতে চাচ্ছি নাকি?
— রায়হান মির্জা ভ্রু কুঁচকে বললেন, একা না গেলে কার সাথে যাবে?
— সায়রা সঙ্গে সঙ্গে মাইরার দিকে তাকিয়ে বলল, ভাবিকে নিয়ে যাবো।
— মাইরা চমকে সায়রার দিকে তাকাল। আমি?
— সায়রা মাথা নেড়ে বলল, হুম। তুমি আর আমি। দুজন মিলে ঘুরতে যাবো।
— রায়হান মির্জা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন, তোমরা দুজন একা দেশের বাইরে যাবে?
— আব্বু আমরা একা থাকবো না। সব ব্যবস্থা তো তুমি করে দিতে পারবে।
— না। এটা সম্ভব না।
— সায়রা বাবার দিকে তাকিয়ে বলল, তাহলে তুমি আমাদের সাথে যাবে?
— রায়হান মির্জা মাথা নেড়ে বললেন, আমার পক্ষে এখন যাওয়া সম্ভব না। ব্যবসার অনেক কাজ আছে। তোমার আম্মুও যাবে না।
— সায়রার মুখটা আবার কালো হয়ে গেল। তাহলে?
— রায়হান মির্জা এবার মাইরার দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি মাইরাকে সাথে নিয়ে যেতে পারো।
— মাইরা এবার আরও অবাক হয়ে গেল। আব্বু আমি?
— হ্যাঁ মা। সায়রার সাথে তুমি থাকলে আমারও চিন্তা কম হবে।
— মাইরা দ্রুত মাথা নেড়ে বলল, না আব্বু। আমি যাবো না। আপনারা থাকেন, সায়রা আপুও থাকুক।
— সায়রা সঙ্গে মাইরার হাত ধরে বলল, না ভাবি। তুমি আমার সাথে যাবে। আমি একা যাবো না।
— আপু আমি তো আগে কখনো দেশের বাইরে যাইনি। তার ওপর এত দূরে।
— তাহলে এটাই তো সুযোগ। নতুন একটা জায়গা দেখবে। একটু ঘুরবে। সবসময় বাড়িতে বসে থাকলে হবে?
— রায়হান মির্জা মৃদু হেসে বললেন, মাইরা, তুমি যাও। সায়রার সাথে থাকলে তোমারও ভালো লাগবে। আর তোমাদের সব ব্যবস্থা আমি করে দেবো।
— শাহানা বেগমও এবার বললেন, যাও। সায়রার সাথে গেলে অন্তত মনটা একটু ভালো হবে।
— মাইরা চুপচাপ শাশুড়ির দিকে তাকিয়ে রইল। কয়েক মুহূর্ত আগেও যে মানুষগুলোর আচরণ নিয়ে ও এত কিছু ভাবছিল, আজ তারাই আবার আগের মতো করে কথা বলছে।
— সায়রা আবার মাইরার হাত ধরে বলল, বল, যাবে?
— মাইরা মৃদু হেসে মাথা নাড়ল, আচ্ছা। যাবো।
— সায়রা সঙ্গে খুশিতে বলে উঠল, ইয়েস! তাহলে ঠিক হয়ে গেল। আমি আর ভাবি দেশের বাইরে যাচ্ছি!
— রায়হান মির্জা মেয়ের খুশি দেখে মুচকি হাসলেন। আচ্ছা আগে কোথায় যাবে সেটা ঠিক করো। তারপর বাকি সব আমি দেখছি।
— মাইরা চুপচাপ বসে রইল। কেন জানি বুকের ভেতরটা একটু হালকা লাগছে। এই কয়েকটা দিন বাড়ির সবকিছু থেকে দূরে থাকলে নিজের মনটাও একটু ভালো হবে।
— পরেরদিন সকালে মাইরা ঘুম থেকে উঠে কলেজে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে। কিন্তু সায়রা সকাল সকালই মাইরার রুমে চলে আসলো।
— ভাবি আজকে কলেজে যেও না।
— মাইরা অবাক হয়ে সায়রার দিকে তাকিয়ে বলল, কেন আপু?
— আজকে তোমাকে নিয়ে শপিংয়ে যাবো।
— শপিং?
— হুম। আমরা তো দেশের বাইরে যাচ্ছি। তোমার জন্য কিছু ড্রেস কিনতে হবে। বিদেশে ঘুরতে গেলে পরবে কী?
— মাইরা মুচকি হেসে বলল, আমার তো অনেক ড্রেস আছে আপু। নতুন করে কেনার কী দরকার?
— আবার শুরু করেছো। তোমার ওই ড্রেসগুলো নিয়ে আমি কোথাও যেতে দেবো না। চলো আমার সাথে।
— কিন্তু আজকে আমার কলেজ আছে।
— একদিন কলেজে না গেলে কিছু হবে না। তাছাড়া তোমাকে ছাড়া আমি একা শপিং করতে পারবো না।
— মাইরা কিছুক্ষণ সায়রার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর হালকা হেসে বলল, আচ্ছা ঠিক আছে।
— সায়রা সঙ্গে সঙ্গে খুশি হয়ে বলল, এই তো আমার ভালো ভাবি। দুজনেই কিছুক্ষণ পর তৈরি হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল। সায়রা মাইরাকে নিয়ে একটা বড় শপিং মলে গেল। সেখানে গিয়ে সায়রা নিজের জন্য কিছু ড্রেস নিল। মাইরার জন্য কয়েকটা সুন্দর ড্রেস, জুতা আর একটা ব্যাগও কিনে ফেলল।
— অনেকক্ষণ শপিং করার পর দুজনেরই বেশ ক্লান্ত হয়ে পরেছে । সায়রা শপিং ব্যাগগুলো হাতে নিয়ে বলল, ভাবি আমার খুব ক্ষুধা লাগছে।
— মাইরা মুচকি হেসে বলল, আমারও।
— তাহলে চলো আগে কিছু খেয়ে নিই।
— দুজনেই শপিং মলের একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসলো। সায়রা নিজের পছন্দমতো কিছু খাবার অর্ডার করল। মাইরাও ওর সাথে খাবার নিল।
— দুজনেই খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ বসে রইলো। তারপর সায়রা বিল মিটিয়ে শপিং ব্যাগগুলো হাতে নিয়ে মাইরার সাথে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে আসলো। তারপর দুজন মিলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল।
— বাড়িতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুপুর হয়ে গেছে। মাইরা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল প্রায় তিনটা বাজতে চলেছে। আজকে আবার টিউশনি আছে। তাই আর কোনো দিকে না তাকিয়ে নিজের রুমে চলে গেল।
— দ্রুত রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিল। তারপর টিউশনির জন্য প্রয়োজনীয় বই-খাতা আর ব্যাগটা গুছিয়ে নিল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুলগুলো ঠিক করে নিল। তারপর ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসলো। সদর দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল। তারপর একটা রিকশা নিয়ে টিউশনির উদ্দেশ্যে রওনা দিল।
— আজকে কেন জানি মাইরার মনে হচ্ছে নীলাদ্রির সাথে দেখা হতে পারে। আগেরদিন প্রথমবার ওদের বাসায় গিয়ে নীলাদ্রির সাথে দেখা হয়েছিল। আজকে হয়তো আবার দেখা হবে।
— কিন্তু বাড়িতে গিয়ে মাইরা দেখল নীলাদ্রি নেই। মাইরা অবশ্য সেটা নিয়ে বেশি কিছু ভাবল না। ওর কাজ ছিল দুই ছাত্রীকে পড়ানো। তাই বই-খাতা বের করে ওদের পড়াতে বসে পড়ল।
— দুই বোনও আজ বেশ মনোযোগ দিয়ে পড়ছে। মাইরা ওদের পড়া বুঝিয়ে দিচ্ছে। মাঝে মাঝে ওদের সাথে দু-একটা কথাও বলছে। পড়ানো শেষ করতে করতে বিকাল হয়ে গেছে।
— মাইরা বই-খাতাগুলো ব্যাগে ঢুকিয়ে নিল। তারপরে বলল, আচ্ছা তোমরা আজকে এই পড়াগুলো ভালো করে দেখে রাখবে। পরেরদিন এসে আমি আবার জিজ্ঞেস করবো।
এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ২৪
— দুইজনেই একসাথে মাথা নেড়ে বলল, জি আপু।
— মাইরা মুচকি হেসে বলল, ঠিক আছে। তাহলে আমি আজকে আসি। বাড়ির আন্টিকে সালাম দিয়ে মাইরা বেরিয়ে আসলো।
— কিছুক্ষণ দাঁড়াতেই একটি রিকশা এসে মাইরার সামনে দাঁড়ালো। মাইরা রিকশায় উঠে পড়ল। রিকশা চলতে শুরু করলো বাড়ির উদ্দেশ্যে।
