এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ৭
সেঁজুতি আক্তার
-বাবা, আসব?
-হঠাৎ শেহরানের কন্ঠ শুনে মাইরা চমকে উঠল। পিছনে ফিরে দেখল শেহরান রুমের বাইরে দাড়িয়ে আছে। গায়ে সাদা শার্ট। হাতে ফোন।
-এসো।
-শেহরান ধীর পায়ে ব্যলকনির সামনে দাড়ালো।
-বাবা তোমার সাথে কিছু কথা আছে।
-হুম, এখানে বসো।
-রায়হান মির্জা ছেলের দিকে চেয়ার এগিয়ে দিল।
-শেহরান মাইরার দিকে তাঁকিয়ে চেয়ার টেনে বসল।
-এবার বলো, কি বলবে?
-শেহরান বাবার দিকে তাঁকিয়ে কথা বলতে নিলেই।
-মাইরা চেয়ার ছেরে উঠে দাড়িয়ে শশুরের দিকে তাকিয়ে বলল,
-আচ্ছা বাবা, আপনারা কথা বলুন। আমি যাই। আম্মু রান্নাঘরে একা আছে।
-রায়হান মির্জা মাইরার দিকে তাঁকিয়ে মুচকি হেসে বললেন,
-যাবে তো ঠিক আছে যাও।
-মাইরা মুচকি হেসে শেহরানের দিকে একবার তাকিয়ে মাথা নিচু করে চলে গেল। যাওয়ার সময় দরজার কাছে গিয়ে আরেকবার পেছন ফিরে তাকালো।
-শেহরান মাইরার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে টি টেবিলে রাখা ফোনের দিকে দৃষ্টি রেখে বলল,
-বাবা, আমি কিছু দিনের জন্য বাহিরে যাবো।
-রায়হান মির্জা অবাক হয়ে জীগাসা করলেন,
-হঠাৎ? এখন বাহিরে কি জন্য? কোনো দরকার? কিছুদিন আগেই তো ঘুরে আসলে।
-আসলে আমার বিসনেসের জন্য যেতে হবে। ওইখানেই ডিল ফাইনাল হবে।
-রনিকে পাঠাও!
-না বাবা।
-প্রথমে ভাবছিলাম রনিকেই পাঠাবো। কিন্ত পরে জানতে পারি ওরা আমাকে যেতে বলেছে। আর এই ডিলটা খুব ইম্পরট্যান্ট। সো আমাকে যেতেই হবে।
-ওহ। কত দিনের জন্য? আর পার্টিঅফিস থেকে ছুটি পেয়েছে?
-এই তো সামনে মাসের দুই তারিখে যাবো। এক মাসের ট্রিপ। আর পার্টিঅফিস থেকে ছুটি নিয়েছি।
-ওহ, তাহলে তুমি যা ভালোবোঝো তাই করো। কিন্ত আমার একটা শর্ত আছে।
-শেহরানের ভ্রু কুচকে গেল।
-শর্ত? কি শর্ত?
-তোমার সাথে মাইরাকে নিয়ে যেতে হবে। নাহলে এই ডিল ক্যনসিল করতে হবে।
-ইম্পসিবাল।
-এটা পারবো না। আমি বিসনেসের জন্য যাচ্ছি। ঘুরতে যাচ্ছি না।
-সে তুমি যাই করোনা কেনো, মাইরাকে সাথে না নিলে আমি তোমায় যেতে দিবো না।
-কিন্ত বাবা?
-কোনো কিন্ত না।
-তুমি আমাদের কোনো কথা কি শুনবে না? আমরা বাবা মা হয়ে কি কোনো ডিসিশন নিতে পারবো না?
-বাবা, তুমি বোধহয় ভুলে যাচ্ছো। বিয়েটা আমি এখনো মেনে নিতে পারিনি।
-তাহলে মেনে নিলে কি মাইরাকে নিয়ে যেতে?
-শেহরান চুপ মেরে গেল। সত্যিই তো, ও যদি ভালোবাসতো অবশ্যই নিয়ে যেত।
-আমি কিছু শুনতে চাই না।
-আমি যা বলেছি তাই হবে।
-ওকে ফাইন।
-তুমি যা চাও তাই হবে।
-রায়হান মির্জার ঠোঁটের কোনে হাসি খেলে গেল। ভাবলেন শেহরানের মনটা একটু নরম হয়েছে। তা নাহলে যেই ছেলেকে কোনো কিছুতে রাজি করানো যেত না, সে এত সহজেই রাজি হয়ে যাবে।
-মাইরা রান্নাঘরে উকি মেরে দেখল। শাশুরি নেই। তাই সিঁড়ির দিকে চলে গেল। ফ্রেশ হতে হবে। সকালে ফ্রেশ না হয়েই রুম থেকে পালিয়ে গেছিল।
-রুমের সামনে দাঁড়িয়ে লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে রুমে ঢুকলো। আলমারি খুলতেই মাইরা আহা হয়ে গেল।
-ও তো ওর সমস্ত কাপড় এলোমেলো ভাবে আলমারিতে রেখেছিল। কিন্তু এখন সব কাপড় সুন্দর ভাবে পরিপাটি করে গোছানো।
-এটা হয়তো ওই খাটাশ লোকই করেছে।
-ভাবতেই ঠোঁটের কোনে লাজুক হাসি খেলে গেল।
-আলমারি থেকে নিজের একটি স্কার্ট আর টপ নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল। ওয়াশরুমের মিররের সামনে তাকিয়ে নিজেকে একবার দেখলো।
-হঠাৎ মনে হলো বাবার বলা কথাটা।
-আচ্ছা ওনার কি হয়েছিল? ওনার অতীত থেকে কি এমন কিছু হয়েছিল, যার জন্য একটা হাসি খুশি মানুষ এইভাবে বদলিয়ে যেতে পারে?
-ভাবতেই মাইরার মনটা খারাপ হয়ে গেল।
-হঠাৎই মনে পড়ল সেদিনের কথা।
-বিয়ের দিন তো মাইরা জানতো না কার সাথে বিয়ে হচ্ছে। কিন্তু যখনই জানতে পারল এমপি শেহরান মির্জার সাথে ওর বিয়ে হচ্ছে, তখনই ও আর কোন প্রতিবাদ করেনি। মূলত এই জন্যই তখন বিয়েতে রাজি হয়েছিল।
-কিন্তু বিয়ের রাতে শেহরানের আচরণে মাইরা খুবই হতাশ হয়েছিল।
-মাইরা ভেবেছিল, ও যদি ওর অনুভূতি শেহরানের সামনে প্রকাশ করে, হয়তো শেহরান এটাকে সিরিয়াস নেবে না। সেই জন্যই তো শেহরানের সাথে সব সময় এমন ব্যবহার করে।
-ভাবতেই মুখটা মলিন হয়ে গেল। ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে ঝর্ণা ছেড়ে ঝর্ণার নিচে দাঁড়ালো।
-শেহরান বাবার সাথে কথা বলেই রুমে আসলো। রেডি হতে হবে। আজ একটা মিটিং আছে।
-একটি কালো কালারের সুট সেট নিয়ে বিছানার উপরে মেলে রাখলো।
-ওয়াশরুমের দরজা খট করে খুলে গেল।
-শেহরান দরজার দিকে তাকাতেই দেখল, মাইরা চুল মুছতে মুছতে বেরিয়ে আসছে। চুল দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছে।
-শেহরান মাইরার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল।
-মাইরার এদিকে কোন ধ্যান নেই। সে চুল মোছায় ব্যস্ত।
-শেহরান বিরক্তি নিয়ে মাইরার দিকে এগিয়ে গেল। মাইরার হাত থেকে তোয়ালেটা কেড়ে নিয়ে মাইরার চুল মুছে দিতে লাগলো।
-মাইরা কেঁপে উঠল। শেহরানের দিকে ফিরতে গেলেই শেহরান মাইরার মাথা চেপে ধরল।
-মাইরা মিররের ভিতরে নিজের আর শেহরানের প্রতিবিম্ব দেখে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইল।
-শেহরান বিরক্তি কন্ঠে বলল,
-সাধে তো আর বলি না পিচ্চি মেয়ে। যেই কাজই করবে সেই কাজেই একটা না একটা ঝামেলা পাকাবে। চুলটাও মুছতে পারো না? তোমার মামা তোমায় কি খাইয়ে বড় করেছে? মাথায় কোন বুদ্ধি নাই। কাজের কোন গুণ নাই। যে কাজই করো তেরা ব্যাকা।
-শেহরান একনাগাড়ে বলেই চলেছে।
-অথচ মাইরার মধ্যে কোন রকম ভাবান্তর দেখা গেল না। সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে শেহরানের দিকে। তার পৃথিবী যেন থমকে গেছে।
-শেহরান আয়নার মধ্যে মাইরার দৃষ্টি দেখে গলা খাকারি দিয়ে মাইরাকে ছেড়ে দাঁড়ালো। তারপরে বলল,
এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ৬
-এবার নিজেরটা নিজে করো।
-বলেই তোয়ালে টা মাইরার মুখে ছুড়ে মারলো।
-মাইরা হতভম্ব চোখে শেহরানের দিকে তাকালো।
-এই লোকটা এমন কেন?
-মাইরা শেহরানের দিকে তেরে গিয়ে কিছু বলতে নিলে।
-ধপাস………
