Home কাজলরেখা কাজলরেখা পর্ব ৬১

কাজলরেখা পর্ব ৬১

কাজলরেখা পর্ব ৬১
তানজিনা ইসলাম

চাঁদনীর প্রিটেস্ট এক্সাম স্থগিত। ক’দিন ধরেই ঢাকার আবহাওয়া খুব একটা ভালো না।রাস্তাঘাটে হাটুসমান পানি। পুরোদিন লাগাতার ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পরে। মাঝেমধ্যে গগন কাপিয়ে সে বৃষ্টি ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। চট্টগ্রামের অবস্থা আরো বেশি খারাপ। এবছর চট্টগ্রামবাসী ভয়ঙ্কর বন্যার সাক্ষী হয়েছে। ঘরবাড়ি ডুবে গেছে, রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। গাছ ভেঙে পড়েছে রাস্তায়। অনেকের বাড়ির একতলা ডুবে গেছে।বুক সমান, গলা সমান পানি নিয়ে বিপর্যস্ত ছিলো জনজীবন। চাঁদনীর ফাইনাল এক্সাম খুব খারাপ হয়েছিলো। কোনোমতে টেনেটুনে পাশ করে সেকেন্ড ইয়ারে উঠেছে ও। যে মেয়ে মিডটার্মে পর্যন্ত ফিজিক্সে হাফেস্ট পেয়েছিলো, ওভারল ফোর পয়েন্ট পেয়েছিলো তার সেকেন্ড ইয়ারে উঠার গল্প এতোটাও সুখকর ছিলো না।

মাঝখানে সাতটা মাস কেটে গেছে চোখের পলকে। কিন্তু চাঁদনীর জন্য সেটা চোখের পলকে কাটেনি। বিরহের রজনী খুব দীর্ঘ হয়। শেষ দু-তিন মাস ধরে ভালো করে পড়ার চেষ্টা করছে। আজকে প্রিটেস্টের এডমিট দিবে। সেকেন্ড ইয়ারে প্রথম দিকে চাঁদনী ভালো করে ক্লাস করেনি। ওর বাঁচা মরায় তো একপ্রকার ধোঁয়াশা ছিলো তখন। কিন্তু সেসব তো আর প্রিন্সিপাল বুঝবে। গার্ডিয়ান হিসেবে নেওয়ার জন্য আকিব শিকদারও দেশে নেই। গুরুত্বপূর্ণ কাজে দেশের বাইরে যেতে হয়েছে তাকে। চাঁদনী শুধু এপ্লিকেশন নিয়েছে। দীর্ঘ লেকচার শুনে কানের বারোটা বাজানো ছাড়া উপায় নেই।
চাঁদনী অ্যাপ্রোন পরে আইডি কার্ড নিলো পকেটে।বর্ষা বেগম নাস্তা সাজাচ্ছিলেন টেবিলে। বিগত সাত মাস ধরে ওনি আঁধারের ফ্ল্যাটে থাকছেন চাঁদনীর সাথে।
চাঁদনী টেবিলের সামনে এসে বললো

-“আমাকে ডাকতে, একা একা কাজ করছো কেন?
-“ঘুমোচ্ছিলে তুমি। এটুকু কাজের জন্য তোমাকে ডাকবো? আজ না তোমার কলেজ আছে,চাঁদ!”
চাঁদনী চেয়ারে বসে বললো
-“হু।এডমিট কার্ড আনতে যাবো। তুমিও খেতে বসে পরো।”
বর্ষা বেগম চেয়ারে বসে চাঁদনীর দিকে তাকালেন। চাঁদনী চুপচাপ খাচ্ছে। চুলগুলো আঁচড়ে ঝুটি করেছে। ক’দিন মাথায় চিরুনি বসিয়েছে বর্ষা বেগম জানেন না। খাবারদাবার, ঘুম কিচ্ছুর ঠিক নেই মেয়েটার। তাও আগের অবস্থা থেকে ভালো। অন্তত শারীরিক সুস্থতা তো সেরেছে। কিছু মাস আগে তো শারীরিক, মানসিক সব দিক দিয়েই ভঙ্গুর ছিলো। বর্ষা বেগমের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এলো। চাঁদনীর দিকে তাকালেই ওনার কান্না পায়। মেয়েটার মুখের দিকে তাকালেই আঁধারের কথা মনে পরে। বর্ষা বেগম কোনোমতে বললেন
-“সাবধানে যেও, চাঁদ।”
চাঁদনী ঘাড় কাত করে সম্মতি দিলো। মুখ ফুটে কিছু বললো না। এখন চাঁদনী কিছু বললেই, বর্ষা বেগম তার আঁটকে রাখা কান্না উগড়ে দেবেন।

বহুদিন আজ একটু রোদের দেখা মিলেছে। লাগাতার বৃষ্টিতে এতোদিন সবার নাকাল অবস্থা ছিলো।
সেকেন্ড ইয়ারের কেও আজ এডমিট নিতে আসেনি। ওরা এডমিট পেয়ে গেছে, কয়েকদিন আগেই। চাঁদনীর অ্যাটেন্ডেন্সের সমস্যা কারণে ওঁকে অ্যাপ্লিকেশন ছাড়া এডমিট কার্ড দেয়নি।
চাঁদনী দুরুদুরু বুক নিয়ে প্রিন্সিপালের রুমের বাইরে দাঁড়ালো। ও ভয় পাচ্ছে না। ওর এখন কিচ্ছু নিয়ে চিন্তা হয় না। কিন্তু ও এটুকু ভয় পাচ্ছে, প্রিন্সিপাল ওর কাছে এতো গ্যাপের কারণ জানতে চাইবেন। চাঁদনী কিভাবে বলবে কারণ! ওর বুকটা ভেঙে যাবে না।
চাঁদনী পারমিশন নিয়ে ভেতরে ঢুকলো। চেয়ারে বসার জায়গা থাকলেও বসলো না। অ্যাপ্লিকেশন এগিয়ে দিয়ে, দাঁড়িয়ে থেকে বললো

-“আসসালামু আলাইকুম স্যার। আমি এডমিট কার্ড পাইনি।”
-“কোন ক্লাস?”
-“দ্বাদশ।”
-“না পাওয়ার কারণ?
-“আমি ক্লাসের প্রথমদিকে ২ মাস অনুপস্থিত ছিলাম।”
-“এবসেন্ট থাকার রিজন?”
বলতে বলতে প্রিন্সিপাল অ্যাপ্লিকেশন খুলে পড়তে শুরু করলো। ওখানেও কোনো গুরুতর কারণ লেখা নেই।
চাঁদনী ঢোক গিললো।বেস এই প্রশ্নটার ভয় পাচ্ছিলো ও। ও মাথা নিচু করে দাড়ালো। প্রিন্সিপাল স্যার ওর দিকে তাকিয়ে ভ্রু ওচালেন। গম্ভীর স্বরে বললের

-“পারফেক্ট এক্সকিউজ খুঁজে পাচ্ছেন না?”
-“অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে এসেছি আমি।”
-“গার্ডিয়ান কই?”
-“আমার বাবা দেশের বাইরে। আম্মু বেঁচে নেই।”
-“আর কেও নেই। যে দেশে আপাতত আপনার গার্ডিয়ান হিসেবে আছে?”
চাঁদনীর গলা ধরে এলো। ছিলো তো একসময়। এখন নেই।
চাঁদনী কিছু বলবে, তার আগে রাত প্রবেশ করলো অফিসকক্ষে। প্রিন্সিপাল ওঁকে দেখে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে পরলেন। রাত এসে সালাম দিয়ে হ্যান্ডশেক করলো।
প্রিন্সিপাল হাসিমুখে বললেন

-“খবর না দিয়ে চলে এলে?”
-“কাজ ছিলো একটা।”
-“বসো, কথা আছে তোমার সাথে।”
রাত না বসে চাঁদনী কে দেখলো।
-“আপনি হয়তো বিজি স্যার।”
-“নাহ। তুমি বসো।
পরক্ষণে চাঁদনীর দিকে তাকিয়ে বললো
-“তুমি যাও, পরে এসো।
-“স্যার সাইন।
-“এক্সেক্ট রিজন না দেখানো পর্যন্ত পাবে না। গার্ডিয়ান নিয়ে এসো। এখন যাও।”
চাঁদনী মন খারাপ করে চলে যেতে উদ্ধত হবে, রাত ওঁকে আটকে বললো
-“ওয়েট, দাঁড়াও।”
প্রিন্সিপালের দিকে তাকিয়ে বললো

-“কোন ক্লাসের?”
-“দ্বাদশ। ৭৫% এটেন্ডেন্সে, ওর মাত্র পঁচিশ পার্সেন্ট আছে। এক্সেক্ট রিজন বলছে না, গার্ডিয়ানও আনেনি।”
-“বাকি সবাই এডমিট পেয়েছে?”
-“হ্যাঁ। যারা পায়নি,তারা গার্ডিয়ান এনে নিয়ে গেছে। পরশু থেকে এক্সাম।সবার পেয়ে যাওয়ার কথা।”
রাত বাঁকা চোখে চাদনীকে দেখলো। গলা খাকড়ি দিয়ে নমনীয় স্বরে বললো
-“স্যারের কাছে আমার একটা রিকুয়েষ্ট, ওঁকে এডমিট কার্ড টা দিয়ে দিন।”
-“কিন্তু আবরার, গার্ডিয়ান ছাড়া অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের এডমিট কার্ড দেওয়া যায় না। স্টুডেন্টের ফ্যামিলির কোনো একজনকে ইনফর্ম করতে হবে,সে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলো। এবং কেন ছিলো, সে রিজন জেনে এটা এনশিউর করতে হবে, সে ফাইনালের আগে অপারগ থাকা ছাড়া অনুপস্থিত থাকতে পারবে না।”
-“এ কলেজের সব স্টুডেন্টের গার্ডিয়ান আমি স্যার। এবং দ্বাদশ শ্রেণির এই অচেনা মেয়েটির গার্ডিয়ান হয়ে আপনার কাছে আবেদন করছি ওঁকে এডমিট কার্ড টা দিয়ে দিন। আমি এনশিউর করছি, ফাইনালের আগে ওর সর্বোচ্চ উপস্থিতি থাকবে।”
চাঁদনী বড় বড় চোখ করে তাকালো রাতের দিকে। রাত তাকালো না ওর দিকে। প্রিন্সিপাল রাতের কথায় সম্মতি দিয়ে, এপ্লিকেশনে সাইন করে দিলো। চাঁদনী কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বেরিয়ে পরলো। ওকে আবার ক্লাস টিচারের কাছে এডমিট আনতে যেতে হবে।

চাঁদনী মাথা নিচু করে হাঁটছে। অবশেষে বহু ধকলের পর এডমিট কার্ড টা পেয়েছে ও। এটেন্ডেন্স কম থাকলেই এতো প্যারা খেতে হয় এক্সামের আগে। এর আগেও দু’বার এমন হয়েছে। মিডটার্ম আর ফাইনালে। চাঁদনী টের পায়নি কিছু। কারণ একজন মানুষ, চাদনীর কিছু বলা ছাড়াই ওর জন্য সব কিছু করে দিতো। চাঁদনীকে মাথা ঘামাতে হতো না কিছু নিয়ে।
-“ইজ এভরিথিং ওঁকে?”
চাঁদনী পাশ ফিরে তাকালো৷ রাত হাঁটছে ওর পাশে। ওর গায়ে আজও একটা সাদা পাঞ্জাবি। পকেটব দু-হাত গুঁজে আছে। চাঁদনী অবাক হলো, এতো তাড়াতাড়ি কাজ শেষ হয়ে গেলো। সামনে তাকিয়ে দেখলো গেইটের কাছাকাছি এসে পরেছে ওরা। রাত ওর পাশে এসে দাঁড়ালো কখন!

-“আপনার কাজ শেষ?”
-“কবেই।”
-“কাজটা কি আমাকে এডমিট নিতে হেল্প করা?”
রাত কিছু বললো না। চাঁদনী গেইটের বাইরে বেরিয়ে রিকশার জন্য দাঁড়ালো। মধ্যদুপুর হওয়ায় রাস্তায় রিকশা দেখা যাচ্ছে না। অনেকটা সময় দাড়িয়ে থাকতে হবে, বোঝা যাচ্ছে।
রাত ওর থেকে একটু দুরে দাড়িয়ে বললো
-“তুমি চাইলে, তোমাকে পৌঁছে দিতে পারি আমি।”
-“আঁধার ভাই আপনার থেকে দূরে থাকতে বলেছে আমাকে।”
-“দূরে দাড়িয়ে আছি আমি। আর আঁধার তো এখন দেখছে না।”
-“তবুও, আমি তার কথা ফেলতে পারি না।”
রাত বুকে হাত গুঁজে দাঁড়ালো।

-“রিকশা পাবে বলে তো মনে হয় না।”
-“সময় লাগবে।”
-“অন্ধকার কেমন আছে?”
চাঁদনী একটু থমকালো। পরক্ষণে নিজেকে সামলে বললো
-“আছে। আগের মতো।”
-“ভালো হয়ে যাবে।”
-“হু।
চাঁদনী অন্যমনস্ক হয়ে পরলো। রাত ওর কথা তুলতে চায়নি। আঁধারের কথা শুনলেই চাঁদনী কেমন উদাসীন হয়ে যায়।মেয়েটার মুখের থেকে হাসি, খুশি সব গায়েব হয়ে গেছে। রাত দীর্ঘশ্বাস ফেললে বললো
-“মন খারাপ তোমার? অন্ধকারকে মনে পরছে?”
-“যে সবসময় মনে থাকে, তাকে আলাদাভাবে মনে পরার কি আছে?”
-“কষ্ট পেয়ো না চাঁদনী!”
-“পাই না, সয়ে গেছে।”

-“খারাপ লাগে তোমার জন্য। এতো ছোট বয়সে, এমন পাহাড়সম কষ্ট তুমি ডিজার্ভ করো না।”
-“ভুল বললেন। আমি ভালো থাকা ডিজার্ভ করি না। আমার জন্মই হয়েছে কষ্ট পাওয়ার জন্য। খোদা তায়ালা আমার নসিবে শুধু এই শব্দটাই রেখেছেন।নয়তো তিনি আমার নসিবে আঁধার কে লিখতেন না।”
-“আঁধারের কী দোষ?”
-“নেই বলছেন? তাহলে আমি এতো কষ্ট কেনো পাচ্ছি? সে আমাকে কষ্ট পেতে দেখে সুখ পায়। এখন দেখুন, সে আমার কাছে নেই। সে যখন ছিলো, তখনও আমি কষ্ট পেতাম। এখন তার অনুপস্থিতি আমাকে আমাকে আরো বেশি কষ্ট দিচ্ছে, শেষ করে দিচ্ছে। হিসাব একই, এখন শুধু কষ্টটা বেশি। সে তার কাজই করছে। আঁধারের কাজ শুধু চাঁদনী কে পোড়ানো।”
রাত চুপ করে গেলো। বলার মতো কোনো কথা আর খুঁজে পেলো না ও৷ চাঁদনী রাস্তার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে বললো

-“খালামনি কেমন আছে? চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন শুনলাম।”
-“হু। ভালো আছে আম্মু। ওখানেও পানি উঠেছে।”
-“ওইদিককার অবস্থা কেমন?
-” চট্টগ্রামের অবস্থা ভালো না।অনেক এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সাতদিন একতলা বাড়ি পর্যন্ত পানি ছিলো। অনেক জন মারাও গেছে।”
-“হ্যাঁ, খবরে দেখলাম। খারাপ লাগলো অনেক।ওখানে কোনো নেতাকর্মী যাচ্ছে না সাহায্য নিয়ে?মানুষগুলো আর কতোদিন পানির মধ্যে থাকবে?”
-“আমাকে নেতা মনে হয় না?”
চাঁদনী হাসলো রাতের কথায়। ঠোঁট টিপে বললো
-“আর কেও গেলো না আপনি ছাড়া?”
-“বৃষ্টির জন্য যাওয়া পসিবল হচ্ছে না। এখন বৃষ্টির পরিমাণ কমেছে, অনেকেই যাচ্ছে দেখলাম। আমরাও ত্রাণ নিয়ে গিয়েছিলাম।তোমাদের এলাকা থেকেও ঘুরে এলাম।”

-“শিকদার বাড়ি?”
-“জ্বি। তোমার পরিবারের মানুষজন কেমন আছে খোঁজ নিতে চেয়েও, ইচ্ছে করলো না।”
-“না ওটা আমার বাড়ি, না ওরা আমার পরিবার। আমার পরিবারের সবাই চট্টগ্রামের বাইরে একজন একেক জায়গায় আছে। ওরা আমার কেও হয় না।”
রাত একটা রিকশা থামালো রাস্তায়। চাঁদনী উঠে বসতেই, রাত ওর ভাড়া দিয়ে দিলো। চাঁদনী তড়িঘড়ি করে বললো
-“আপনি কেনো দিচ্ছেন ভাইয়া?”
-“কলেজে তুমি আমার অপরিচিত। কিন্তু কলেজে তুমি আমার কাজিন।”
রাত হাসার চেষ্টা করলো। কিন্তু পারলো না। নিজেই বিব্রত হয়ে গেলো।
-“ও হ্যাঁ, আপনি তো আমার বড় ভাইয়ের মতো।”
-“হুম, তাইতো।”
-“শাবিহা যেমন আপনার বোন, তেমনি আমিও আপনার বোন।তাইতো?”
রাত ভেবে বললো

-“হ্যাঁ তাইতো।শাবিহার এনগেজমেন্টের ডেইট ফিক্সড হয়েছে।
-“রেহান বলেছে।
-“বাড়ি এসো। রেহান দাওয়াত দিবে হয়তো।”
-“ওই অভিশপ্ত বাড়িতে? রেহান বলবে না। কার সাথে যাবো আমি? শাবিহা আপুর জন্য দোয়া করবো অবশ্যই। জীবনটা কে গুছিয়ে নিক। আর কতো পাগলামো করবে!”
-“ও তো সেই অগোছালো থাকতেই চাচ্ছে। পাগলামি কমছে না।”
চাঁদনী উদাসীন হয়ে পরলো।রিকশা চলতে শুরু করলো। রাত বিষাদ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, চাঁদনীর যাওয়ার দিকে। ঠুংকো একটা ঘটনা কতোজনের জীবন এলোমেলো করে দিলো। কিন্তু সবচেয়ে বেশি সাফার তো চাঁদনী কেই করতে হচ্ছে।
চাঁদনী কক্ষে এসে ব্যাগ নামিয়ে রাখলো কাঁধ থেকে।

এটা আঁধারের কক্ষ। শেষের দিকে চাঁদনীও কয়েকদিন থেকেছিলো এখানে। সে সুবাদে এটা ওঁদের দু’জনের কক্ষ বলাই যায়।রুমের মধ্যে কেমন যেন ঝাপ্সা অন্ধকার। চাঁদনী পর্দা সরিয়ে দিলো। সূর্যরশ্মি এসে প্রবেশ করলো কক্ষের ভেতর। রোদে তেজ নেই তেমন। চাঁদনী সূর্যের আলো গায়ে মেখে জানালার পাশে বসলো। নির্নিমেষ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলো অপলক। আবার শুয়ে, মাথার নিচে বালিশ রাখলো। চাদনীর এ কক্ষে দম বন্ধ লাগে। আবার এ কক্ষ ছাড়া অন্য কক্ষে থাকতেও পারে না। ও চাইলেই পাশের রুমে বর্ষা বেগমের সাথে থাকতে পারে।কিন্তু ও থাকে না। ও এখানে আসলে, আঁধারকে অনুভব করতে পারে।

কাজলরেখা পর্ব ৬০

তবুও কেমন এক শূণ্যতা আর হাহাকার চেপে ধরে চাঁদনী কে।রাত ওঁকে দেখলেই আফসোস করে। চাঁদনীর আফসোস লাগে না। ও স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে। ওর কেমন অনুভুত হয়, ও নিজেও বুঝতে পারে না।
সিলিংয়ের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলো চাঁদনী। চোখের কার্ণিশ বেয়ে জল গড়িয়ে বালিশে পরলো ওর। ওই ভয়ঙ্কর রাতের কথা চিন্তা করলেও চাঁদনীর বুকের একপাশ খালি হয়ে যায়।
“পৃথিবীর কোনো প্রাপ্তি পরম নয়, সবই আপেক্ষিক।”

কাজলরেখা পর্ব ৬২