Home কার্নিশে আলতা মাখানো কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৪১

কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৪১

কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৪১
তন্ময়ী তিতিক্ষা

রাত্রি ১০টা। আরও কয়েকঘন্টা পেরোলেই ধরনীতে নেমে আসবে নতুন এক প্রভাত।নতুন একদিনের সূচনা। নিদ্রা পালিয়ে বেড়াচ্ছে সকলের নিকট হতে। করিডর অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে ততক্ষণে। তবে হাতেগনা কয়েকজনের পদচারণ চলছেই। করিডরের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে জানালার অপারে থাকা চাঁদটার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেহর। অদ্ভুত শান্ত তার দৃষ্টি। মোহনীয় চক্ষুদ্বয় চাঁদের সৌন্দর্যকেই যেন অবলোকন করতেই ব্যস্ত। হুট করে কি মনে করে মেহর পিছন ফিরে চাইলো। সহসা স্মিত হাসি ফুঁটে উঠল ঠোঁটের কোণে। কোথাও কি অল্প স্বল্প যন্ত্রণার আঁচ পাচ্ছে সে? হয়তো পাচ্ছে। বুকের একপাশে সৃষ্টি হওয়া সূক্ষ্ম ব্যথাটুকু খুব ভালো করে অনুভব করল মেহর। তার থেকে বেশখানিকটা দূরে মিহির আর নীলা বসে। মিহিরের কাঁধে মাথা রেখে নীলা ঘুমে মগ্ন। এই দৃশ্যটাই যেন মেহরের ভিতরটা পোঁড়াতে যথেষ্ট। কিন্তু সে কেন কষ্ট পাচ্ছে? যেখানে সে খুব ভালো করেই জানে মিহির নীলাকে ভালোবাসে, তবুও কেন? এই কেন’র উত্তর জানা নেই মেহরের। শুধু জানে তার কষ্ট হচ্ছে। মেহর চক্ষুদ্বয় ফিরিয়ে নিলো। পুনরায় নেত্রপল্লব স্থির করলো চাঁদের পানে। আনমনে তাকিয়ে বলে উঠল,

“তুমিও একা তাই না চাঁদ? দেখো আমিও একা। সবাই থেকেও আমার কেউ নেই।”
কথাটা বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল মেহর। দেখতে দেখতে হসপিটালে তিনটে দিন পেরিয়ে গেছে। একেকদিন একেকজন থাকে আযরানের কাছে। তবে আর্শিকে একদিনও সরানো যায়নি আযরানের কাছ থেকে। শত চেষ্টা করেও তাকে সরাতে পারেনি কেউ৷ আজ আর্শি আর আযরানের সাথে মেহর, নীলা আর মিহির রয়েছে। যদিও মেহরকে তার মা শুরুতে থাকতে দিতে রাজি হয়নি। তবে শেষে মেহরের জেদের কাছে একপ্রকার পরাজিত হয়েছেন তিনি। কিন্তু মেহরের খুব করে আফসোস হলো। কেন সে আজ থাকতে গেল? যদি না থাকতো তাহলে কি এমন দৃশ্য দেখতে হতো তার? উঁহু হতো না। কথাগুলো ভেবে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালালো সে। পরক্ষণেই ধীর কদমে এগিয়ে গেল নীলাদের নিকটে।

নীলার ঘমন্ত চেহেরার দিলে মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় চেয়ে আছে মিহির। কয়েকদিন ধরে সকলেরই একপ্রকার নিদ্রাহীন কেটেছে। আজকে তারা থাকবে বলে অন্যদের জোর করে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছে। নীলা মিহিরের সাথে ঝগড়া করতে করতেই ঘুমে তলিয়ে গেছে। তাই মিহিরও আর জাগায়নি। মিহির নিজেও ক্লান্ত। প্রচন্ড রকম ক্লান্তিতে আঁখিদ্বয় বার বার বুজে আসতে চাইছে। কিন্তু প্রিয় মানুষটাকে এত কাছ থেকে দেখার সুযোগটা কিছুতেই হাত ছাড়া করতে রাজি না মিহির। জাগ্রত অবস্থায় মিহিরের এই সুযোগ হয়ে উঠে না। পুরোটা সময়েই ঝগড়ায় ব্যস্ত থাকে তারা। আকস্মিক কারো পায়ের শব্দে সতর্ক হয়ে উঠল মস্তিষ্ক। জানান দিলো কারোর উপস্থিতির। মিহির ধীরে মুখ তুলে তাকাতেই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেহরকে দেখতে পেল। মুহূর্তেই তার মুখে ভেসে ওঠা প্রশান্তির হাসিটা মিলিয়ে গেল। কেমন যেন অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল সে। সেদিনের পর থেকেই হচ্ছে এই ব্যাপারটা। এই ছোট মেয়ের থেকে অস্বস্তিটা লুকোতে তড়িঘড়ি করে নীলার মাথাটা চেয়ারে হেলিয়ে দিল। মেহর ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ হাসি টেনে বলল,

“ভয় পেলেন মিহির ভাই?”
মিহির বিব্রত হেসে গলা খাঁকারি দিল। কিছুটা আস্তে করে বলল,
“উমম! তেমন কিছুটা। হুট করে আসায় একটু চমকে গেছি।”
“ও আচ্ছা।”
দুজনের মাঝেই নেমে এলো এক অদ্ভুত নীরবতা। করিডরের এক দুইজনের চলাচলের শব্দও যেন স্পষ্ট কানে এসে বাজছে। মেহর নিজেই নীরবতা ভাঙল। মৃদুস্বরে বলল,
“আপনাকে অনেক ক্লান্ত লাগছে। চাইলে আমি বসি, আপনি একটু হেঁটে আসুন।”
মিহির দ্রুত মাথা নাড়লো। লহুস্বরে বলে উঠল,
“আমি ঠিক আছি।”
“আচ্ছা।”

আর কথা বাঁড়ালো না মেহর। পাশে থাকা দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। দৃষ্টি স্থির অন্যদিকে, যেন মিহিরের দিকে তাকানোর কোনো প্রয়োজনই মনে করছে না। মিহিরও দৃষ্টি ফিরালো। দেখতে পেলো নীলার মুখের উপর কয়েক গাঁছি চুল পরে আছে। যার কারনে বারংবার বিরক্তিতে মুখ কুঁচকাচ্ছে মেয়েটা। মিহির ইতস্তত করে হাত বাঁড়ালো। নীলার এলোমেলো চুলগুলো আলতো করে গুঁজে দিলো কানের পাশে। হুট করে অনুভব করলো কেউ হয়তো তাদের দেখছে। তৎক্ষনাৎ চক্ষুদ্বয় উঁচিয়ে চাইলো মিহির। ঠিকই ধরেছে সে। মেহর তারদিকেই তাকিয়ে। মিহিরকে নিজের দিকে তাকাতে দেখে ভরকে গেল মেহর। তড়িৎ গতিতে নেত্রপল্লব সরিয়ে দৃষ্টি স্থির করল অন্যদিকে। নিজেকে গাল মন্দ করতেও ভুললো না। বেহায়া মেয়ে একটা। ইশশ! না জানি মিহির কি ভাবছে তাকে। কথাটা ভেবে পুনরায় নিজেকে মনে মনে বকতে শুরু করলো মেহর।

শুনশান নিরবতা কেবিনজুঁড়ে। বেডে শুয়ে আছে আযরান। যার কোনো নড়াচড়া নেই আর না আছে সাড়াশব্দ। শুধু মনিটরের শব্দগুলো জানান দিচ্ছে মানুষটার বেঁচে থাকার। আযরানের বেডের পাশে চেয়ার পেতে বসে আর্শি। মুখশ্রী একদম মলিন। গত ক’দিন কি পরিমাণে ঝড়ঝাপটা গিয়েছে তা তার মুখের ক্লান্তিটাই স্পষ্ট বলে দিচ্ছে। হুট করে কিছু একটার শব্দ কানে এলো আর্শির। শব্দের উৎস খুঁজতে মাথা ঘুরিয়ে এদিক সেদিক তাকালো আর্শি। ঠিক তখনই তার দৃষ্টি পড়ল পাশের টেবিলে রাখা আযরানের ফোনটার দিকে। ফোনটা গত তিনদিন ধরেই এভাবে পরে আছে। কেউ হয়তো ছুঁয়েই দেখেনি। আর্শি হাত বাঁড়িয়ে ফোনটা নিলো। কিছু একটার রিমাইন্ডার এসেছে। অন্যমনস্কভাবেই স্ক্রিনে চাপ দিল। রিমাইন্ডারটা খুলতেই মুহূর্তে থমকে গেল আর্শি।
❝মুটির শাড়িটা কিনতে ভুলবি না। আজ পেমেন্ট পাবি। ও অনেকদিন ধরে তাকিয়ে আছে ওই আকাশি রঙের শাড়িটার দিকে৷ আজ সারপ্রাইজ দিতেই হবে।❞

একমুহূর্ত! দুইমুহুর্ত! অনেকটা সময় নিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলো আর্শি। চক্ষুপাতায় ভেসে উঠল তাদের কিছু মুহুর্তের দৃশ্য। ভার্সিটি থেকে আসার পথেই একটা শাড়ির দোকান পড়ে। যেটার সামনে সাজানো থাকে রঙ বে রঙের শাড়ি। এত এত শাড়ির মাঝে প্রত্যেকবার আর্শির নজর আঁটকাতো একটা আকাশী রঙের শাড়িতে। একদিন হুট করে আযরান খেয়াল করে বিষয়টা। একপ্রকার জোর করেই তাকে নিয়ে যায় দোকানে। আযরান শাড়ির দাম জিজ্ঞাস করলে শুনেই আর্শির চক্ষুদ্বয় চরকগাছ হয়ে যায়। আযরানের পানে তাকিয়ে চক্ষুদ্বয় বড় বড় করে বলে উঠল,

“এত দাম? এই টাকা দিয়ে পুরোমাসের খরচ চালানো সম্ভব। দরকার নেই বাবা এই শাড়ির।”
সেদিন আযরান খুব হেসেছিল আর্শির কান্ডে। আর্শিও ভুলে গেছিলো ব্যাপারটা। কিন্তু আযরান মনে রেখে দিবে ভাবতেও পারেনি। ফোনটা দুহাতে শক্ত করে ধরে ফেলল আর্শি। চক্ষুদ্বয় জ্বলে উঠল মুহুর্তে। চোখ থেকে টুপটুপ করে পানি পড়তে লাগল স্ক্রিনের উপর। কাঁপা গলায় বলল,
“এত কিছু মনে রাখলি।শুধু নিজেকে সামলে রাখতে পারলি না?”
আর্শির কষ্টগুলো বিস্তার লাভ করতে শুরু করল ক্রমশ। বুক ঠেলে কান্না আসতে চাইছে। গলায় এসে আঁটকে যাচ্ছে বার বার। না চাইতেও মনের অজান্তে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়লো আঁখিদ্বয়। নতমস্তকে আযরানের হাতটা চেপে ডুকরে কেঁদে ফেলল মেয়েটা। আর কতদিন এভাবে কাঁদতে হবে তাকে? অনেকটা সময় পর নিজেকে সামান্য শান্ত করে নিঃশ্বাস ছাড়লো আর্শি। ক্রন্দনরত অবস্থায়ই ঘাটতে লাগলো আযরানের ফোনটা। হুট করে ভেসে উঠলো আর্শির পাঠানো কিছু মেসেজ। যা এখনো সিন হয়নি।
“কোথায় আছিস?”
“খেয়েছিস তো?”
“কল দিস না কেন?”

এমন আরও কিছু বার্তা। কাজের ব্যস্ততায় আযরান মেসেজ সিন করতে পারতো না। কিন্তু বাসায় এসে সবগুলো মেসেজ একে একে আর্শিকে পড়ে শোনাতো। মেসেজ পড়ার সময় ইচ্ছা করেই নাটকীয় গলায় বলতো,
“দেখি আজ মহারানী আমাকে কতগুলো আদেশ করেছে!”
একেকটা মেসেজ পড়তো আর নিজে নিজেই হেসে গড়াগড়ি খেত আযরান। এতে আর্শি প্রচন্ড রেগে যেতো। রেগে কখনো কখনো আযরানকে মারতে শুরু করতো তো কখনো আবার রাগে-ক্ষোভে ফেঁটে পরে ভেজা কন্ঠে অভিমান করে আওড়াতো,
“এতক্ষণ পরে পড়ার কি দরকার ছিল?”
উত্তরে আযরান আরেকদফা হাসতো। পরক্ষণেই আর্শিকে বুকে জড়িয়ে বলতো,
“প্রশান্তি বুঝিস? বুঝবি কি করে মাথায় তো কিছু নেই। পুরোটাই ফাঁকা।”
ঘোরের মাঝে ডুবতে লাগলো আর্শি। ভাবনায় একে একে তাদের কাটানো মুহুর্তে গুলো ভাসতে শুরু করল। ঠোঁট কাঁমড়ে কান্না আঁটকানোর চেষ্টা করল সে। অশ্রুসিক্ত, ভেঁজা কন্ঠে বিরবির করে বললো,
“আগে না হয় মেসেজ দিয়ে রাখতাম পরে পড়ে নিতি। কিন্তু এখন? এখন কিভাবে আমার কথাগুলো তোর কাছে পৌছাবো?”
হঠাৎ যেন মাথায় একটা ভাবনা বিদ্যুতের মতো খেলে গেল আর্শির। হুট করে উঠে দাঁড়ালো। তার ব্যাগটা পাশের সোফাতেই পড়ে আছে। ব্যাগ খুলে বের করলো ছোট্ট একটা নোটবুক। তৎক্ষনাৎ আর্শির ঠোঁটের কোণে ফুঁটে উঠল স্মিত হাসি। আর্শি বিরবির করে বলল,
“কোনো কথাই আর বাদ যাবে না এখন থেকে। একদিন না একদিন সব কথা তোর কাছে পৌছাবেই।”

সময় যেন পেরুচ্ছেই না। ঘড়ির কাঁটা সবে ১১টা। সবার অবস্থান আগের মতোই। শুধু জায়গাটুকু বদলেছে। নীলার জায়গায় এখন মিহির ঘুমে তলিয়ে আছে। পাশে থাকা মেহর সেই তখন থেকেই ঘুমন্ত মিহিরকে দেখে চলেছে। তার এই দেখাটা দীর্ঘস্থায়ী হলো না। নীলা গটগট পায়ে হেঁটে এগিয়ে এলো। ঘুমন্ত মিহিরকে দেখে কিছুটা হতাশ হলো বোধহয়। আফসোসের স্বরে বলে উঠল,
“ইশশ! ছেলেটাকে এখনই ঘুমোতে হলো। জাগাতেও তো ইচ্ছে করছে না।”
মেহর ফ্যালফ্যাল করে তাকালো। নীলার কথায় কিছুটা কৌতুহলী কন্ঠে বলল,
“কিছু হয়েছে আপু? ভাইয়া বোধহয় ক্লান্ত ছিল তাই ঘুমিয়ে গেছে।”
“তাই দেখছি। আর্শিটার শরীর দূর্বল। আবার কিছু ঔষধও নিয়ে আসতে হতো। মিহির তো ঘুমাচ্ছে।”
মেহর শুনলো কথাটা। একবার মুখ ঘুরিয়ে তাকালো ঘুমন্ত মিহিরের পানে। মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে বেশ আরাম করেই ঘুমিয়েছে। মেহরের মন সাঁই দিলো না মিহিরকে জাগাতে। তাই আগ বাঁড়িয়ে বলল,
“আমাকে দেও আপু। আমি না হয় নিয়ে আসি।”
নীলা প্রচন্ড অবাক হলো। কিছু সময় অতিক্রম করে চটজলদি কন্ঠে বলল,
“না না! এমনিই অনেক রাত হয়েছে তুমি কিভাবে যাবে?”
“সমস্যা নেই আপু। আমি পারবো। সামনেই তো।”
নীলা ভাবলো বেশখানিকটা সময় নিয়ে। ঔষধগুলো আনা জরুরি। আর কিছুক্ষণ পরেও দোকান বন্ধ হয়ে যাবে। এর থেকে এখন আনাই ব্যাটার। সেও নাহয় সঙ্গে যাবে। যেই ভাবা সেই কাজ। নীলাও চলল মেহরের পাশাপাশি। হসপিটাল থেকে কিছুটা দূর এগিয়ে আস্তেই হুট করে থেমে গেল নীলার পদচারণ। সাথে সাথে কপাল চাপড়ে আফসোস করতে শুরু করল। মেহরে ভ্রুঁ যুগল খানিকটা কুঁচকে এলো। রিনঝিনে কন্ঠে বলল,

“কোনো সমস্যা হয়েছে আপু?”
“আর বলো না! ঔষধ কিনবো অথচ পার্সটাই আনি নি।”
মেহর কিরূপ প্রতিক্রিয়া করবে বুঝতে পারছে না। তবে সেও কিছুটা হতাশ হলো। নীলাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“তুমি নিয়ে আসো আমি এখানেই আছি আপু।”

কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৪০

নীলার অতশত ভাবলো না। তাড়াহুড়ো করে পুনরায় ছুট লাগালো হসপিটালের উদ্দেশ্যে। নীলা চলে যেতেই মেহরের খেয়াল হলো চারপাশ একদম নিস্তব্ধ। আশেপাশে মানুষ নেই বললেও চলে। শুধু দূরের রাস্তায় এক দুইজন মানুষকে দেখা যাচ্ছে। মুহুর্তে একরাশ ভয় এসে ঘিরে ধরলো মেহরকে। নিঝুম আঁধারে ডুবে আছে প্রকৃতি। সাঁই সাঁই বাতাস অবলীলায় ছু্ঁয়ে যাচ্ছে তাকে। যা শরীরে কাঁটা দিতে যথেষ্ট। মেহর সাহস সঞ্চার করে অপেক্ষা করতে লাগতো নীলার। তবে অদ্ভুত এক ভয় যেন আঁকড়ে ধরল মেহরকে। ধুকধুক করতে থাকা বুক নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সে। কিন্তু বেশিক্ষণ সাহসে কুলালো না৷ যেই না কয়েক কদম সামনে এগোলো ঠিক তখনই পিছন থেকে একটা হাত চেপে ধরলো মেহরের মুখ। আকস্মিকতায় প্রচন্ডরকম কেঁপে উঠল মেহর। বক্ষমাঝে ধ্বক করে উঠল। ভয়ার্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করে হাত সরাতে যাবে এর পূর্বেই নিজেকে শূন্যে অনুভব হলো তার। কর্ণে ভেসে এলো কিছু পুরুষালি কন্ঠস্বর। যা তার অন্তর আত্মাকে কাঁপিয়ে দিতে যথেষ্ট।

কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৪২