Home রাগে অনুরাগে রাগে অনুরাগে পর্ব ৩৭

রাগে অনুরাগে পর্ব ৩৭

রাগে অনুরাগে পর্ব ৩৭
সুহাসিনি ফাতেহা

“না! গরুর মাংস, মহিষের মাংস কোনোটাই এখন আমার পোষাবে না। আমার তোমার মতো ইয়াম্মি পিচ্চিকে-ই খেতে ইচ্ছে করছে। ভাল্লুকের শিকার না তুমি? তাহলে তোমাকেই তো টেস্ট করবো তাই না? সো মে আই?”
তিতলি লজ্জায় সিটিয়ে যাচ্ছে। ফারাজ তাকে হাতে, চোখে, ইশারা-ইঙ্গিতে অনেককিছু বুঝাচ্ছে। এমনভাবে যে লাজুকময়ী সপ্তদশী সেসব বুঝতে পেরে যাচ্ছে খুব সহজ ভাবে। মুখ তুলে তাকানোর সুযোগ পাচ্ছে না সে। এভাবে তাকিয়ে আছে কেন তার দিকে? খেয়ে ফেলবে নাকি তাকে? বললোই তো তাকে খেতে চাই। অসহায় কন্ঠে বলল,
আ…আমি ইউটিউব থেকে দেখে আপনাকে আপনার পছন্দের সব খাবার রা….”

সহসা নিজ নিম্নাংশের অধর কামড়ে ধরে সপ্তদশীকে থামিয়ে দিলো ফারাজ। আচমকা তিতলিকে এক হেঁচকা টানে পাশ থেকে উঠিয়ে আনলো। যুবক বিছানার আরেকটু পেছনে গিয়ে বউকে বসালো নিজের বলিষ্ঠ দু’উরুর মাঝখানে। তিতলির দু’পা বাঁধল নিজের পায়ের সাথে। পাহাড়সম বলিষ্ঠ পুরুষ নিজের সাথে রমণীর তুলতুলে ছোট্ট দেহটা আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নিয়েছে। আশ্চর্য! মেয়েটার গা ঘেঁষেই তো বসেছে সবে এতেই যুবকের ভেতরকার পুরুষসত্তাটা কেমন তেলেবেগুনে ফুলে উঠেছে। সে আরও ঘনিষ্ঠ হলো। এবার প্রখর ভাবে। যেন তিতলিকে নিজের সাথে পিষে ফেলতে চাইছে।
তিতলি মরতে থাকা প্রাণীর মতো হাঁসফাঁস করছে। কাঁপতে থাকে থরথর করে। ফারাজকে স্পষ্টভাবে নিজের সাথে অনুভব করছে। তিতলি বাকরুদ্ধ! বিমুঢ়! বড্ড অস্থির। শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি আকাশ ছুঁয়েছে। ছটফট করতে চেয়েও পারছে না।
নড়েচড়ে উঠে বলতে থাকে,
“আপনি..আপনি আমাকে এসব বলার জন্য নিচ থেকে ডেকে এনেছেন? আমি গো…গোসল করতে যাবো, ছাড়ুন প্লিজ!”

ফারাজ পেছন থেকে তিতলির মসৃণ কাঁধে নিজের শক্ত চোয়ালের ভার দিয়ে রেখেছে। দুপাশ থেকে পেঁচিয়ে ধরেছে তিতলির নরম পেট। ছাড়া পাওয়ার কোনো সুযোগ রাখল না। তিতলি নিজের পিঠে তীব্র ভাবে অনুভব করতে পেলো খালি গায়ে থাকা ফারাজের বুকের উঠানামার গতি। গলা শুকিয়ে গেল বেচারির। বারবার ঢোক গিলে বড়বড় নিশ্বাস নিচ্ছে। এখনো সরছে না কেন? ফারাজ তিতলির ঘাড়ে নাক ঘষছে, ঠোঁট ছুঁয়ে দিচ্ছে। ইচ্ছেকৃত ভাবে নিজের খোঁচা খোঁচা দাড়িযুক্ত চোয়াল দিয়ে তিতলিকে জ্বালাতন করছে। ডান হাতে তিতলির চুল খুলে দিয়ে অস্পষ্ট সুরে আওড়ালো,
“শুধু এসব বলার জন্য ডাকা হয়নি। এসবের বিপরীতে যেসব হয় সেসব করবো বলে। গোসল একসাথে পরে করা যাবে। তাই না কি বলো?”
তিতলির দাদু তাকে আসার সময় এমন কিছু বুঝিয়ে দিয়েছে যে সে আন্দাজ করছে ফারাজ তাকে কিসের কথা বলছে। তার দাদু, ফারাজের নানু ওনারা তিতলিকে কাছে পেলেই এটা সেটা কানপাড়া দিতে থাকে এখনো। যেগুলোর ইঙ্গিত এখন ফারাজ দিচ্ছে।
সে আমতাআমতা করে বলল,

“না, না এখন..এখন এ..এসবের সময় না। প্লিজ ছাড়ুন আমাকে।”
ফারাজ ভ্রু উঁচিয়ে হাসল,
“কখন, কখন এসবের সময় হুমম? আমার জানামতে এসবের নিদিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। রাতদিন চব্বিশ ঘন্টা ধরে খেলা…”
দুহাতে কান চেপে ধরেছে তিতলি। সরু নাকের পাটা ফুলাচ্ছে। দাঁত খিঁচল সে। মুখ ফস্কে বেরিয়ে এলো,
“আপনি দিনদিন লাগামছাড়া হয়ে যাচ্ছেন সেটা খেয়াল করেছেন?”
“উঁহুম! রাইট, এই কথাটাই বলতে যাচ্ছিলাম তোমায়! ব্যাপার কী বলো তো?”
তিতলি জড়সড় হয়ে ঠোঁট কামড়ে রেখেছে। চাউনিতে প্রশ্ন,
“কী ব্যাপার?”
ফারাজ ক্ষীণ নাচাতে নাচাতে বলল,
“ইদানীং তোমাকে দেখলেই আমার মুখের সাথে সাথে অন্য কিছুর ও লাগাম ছাড়া হয়ে যাচ্ছে, বড্ড বেশি! লাগামছাড়া হওয়ার পেছনে কে দায়ী? আন্সার মি?
তিতলি নিশ্চুপ! শুকনো ঠোঁটদুটো জ্বিভ ঠেলে ভিজিয়ে ভেতরের উথাল পাথাল অবাধ্য অনুভূতি গুলো দমিয়ে নিলো।
তিতলি কিছু বলছে না দেখে ফারাজ আবার হিসহিসিয়ে বললো,

“তো মিসেস তিতলি! বলো দোষটা কার? আমার নাকি তোমার?
তিতলি দুহাতে ওড়না খামছে ধরেছে। মিসেস তিতলি সম্মোধনে হুট করেই কেমন যেন একটা বউ বউ শিহরণ ছড়িয়ে গেলো সপ্তদশীর সর্বাঙ্গ জুড়ে। তিতলি কাঁচুমাচু করছে দেখে ফারাজ তিতলিকে দুউরুর মাঝখান থেকে তুলে বলিষ্ঠ দুউরু এককরে সেখানে বসালো তিতলিকে।
কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করল,
“ভাবার জন্য অনেক সময় পরে আছে। এখন আমি কিছু চাই?
“কি…কি চান?”
একটা জিনিস আছে যা আমার এখনই চাই রাইট নাও।
তিতলি যেন এই গলার স্বর চিনতেই পারছে না। একটা মানুষের গলার স্বর কতটা পরিবর্তন হলে, এমনটা হয়?
তিতলি লজ্জায় মরিমরি। কাচুমাচু করে বললো,
“আপনার গোমড়ামুখো,ধমক দেওয়া মুখের আড়ালে এই মুখোস ছিলো এতদিন?”

“হুমম! আমার আসল মুখোস আড়াল করে রেখেছিলাম কাউকে সম্পূর্ণ রুপে খুলে দেখাবো বলে। আশ্চর্য ভাবে সে-ই মানুষ টা তুমি হয়ে গেলে। এখন থেকে রোজ আমার ভিন্ন ভিন্ন রুপ দেখবে।”
তিতলি একটু পরিক্ষা করতে চাইলো। যেন ফারাজ তাকে ভালোবাসি বলবে। এবং তার প্রশ্নের উত্তরে বলবে হ্যাঁ, হ্যাঁ তোমাকে পাগলের মতো ভালোবাসি। বাঁচব না তোমাকে ছাড়া টুনাটুনিদের আম্মু আমার। সোনা বউ!
“আপনি আমাকে ভালোবাসেন আমি বুঝে গেছি।”
ফারাজের অভিব্যক্তি থমকায়। শিথিল হয় মোটা ভ্রু। স্পষ্ট বোঝা গেল তার বদলে যাওয়া চিবুক। কিছুক্ষন চুপ হয়ে থাকলো সে। অতঃপর বাঁকা কন্ঠে বলল,
“ভালোবাসা মাই ফুট! আমার বিয়ে করা বউ তুমি। আমার বউকে আমি যখন যা খুশি বলবো যা মন চাই করবো। ইভেন সবকিছু করার অধিকার আছে আমার।”
তিতলির চোখ পিটপিট করছে। চোখের কোণে পানি জমেছে। কেন তাকে ভালোবাসি বললো না? সে শুনতে চাই ভীষণ। বললো না কেন জানপ্রাণ উজাড় করে ভালোবাসি তোমাকে বউ। সে তো ভালোবাসে ভীষণ কিছু ভাবতে পারে না এই লোককে ছাড়া সর্বক্ষণ মস্তিষ্কে ফারাজ বিচরণ করে। সে সবকিছু করতে রাজি যদি ফারাজ তাকে ভালোবাসি বলে। মুখশ্রী অন্ধকার করে বলল,

“এমন করেন কেন?”
ফারাজ এবার উঠে দাঁড়াল এবার। তিতলির মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়াল সে। তিতলি তখনো বিছানায় বসে নতমুখে। ফারাজ তিতলির নরম দুগালে নিজের খসখসে দুহাত রেখে মুখ তুললো উপরে। অপলক চেয়ে রইল তিতলির কম্পিত অধরযুগলের পানে। তিতলির ঠোঁটের উপর ইশারা করে বলল,
“আমি যখন যা করবো বলে বলে করবো না। যেহেতু তুমি আমার নামের পাশে ভাল্লুক উপাধি দিয়েছো সেহেতু আমিও খিদের জ্বালায় হঠাৎ-ই তোমার উপর ঝাপিয়ে পরবো।”
ফারাজের কথা অর্ধেক থাকতেই তিতলি তাকাল। দৃষ্টিমিলন ঘটল দুজনের। তিতলি চোখ নামিয়ে আতঙ্কিত গলায় শুধালো,

“আমি অসুস্থ!”
ফারাজের কন্ঠ গম্ভীর,
“হুমম জানি। আমার তোমার ঠোঁটের প্রয়োজন!”
তিতলি এবারও নিশ্চুপ! ফারাজ এবার কপাল কুঁচকে বিরক্তির রেশ ধরে বলল,
“আমার টাচ খারাপ লাগছে?”
তিতলি এবারও নিশ্চুপ। ফারাজ এবার একপ্রকার দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“খারাপ লাগুক, আজকে তোমাকে ছাড়ছি না আমি।”
তিতলির শরীরে কাঁপন ধরেছে। ফারাজ গ্রীবাটা নিচে নামিয়ে একটু একটু করে নিজের মুখ নামিয়ে আনলো তিতলির ঠোঁটের একদম কাছে। উষ্ণ নিশ্বাস আছড়ে পড়ছে তিতলির ঠোঁটের উপর। দুজনের অধরের মাঝে আর কোনো দূরত্ব নেই। তিতলির চোখ কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসার যোগাড়। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে দুনিয়া ঘুরছে চারপাশে। চোখজোড়া শক্ত করে খিঁচে বন্ধ করে রেখেছে। শরীর ভেঙে পড়ছে। হেলেদুলে পড়ল সে। ফারাজ উত্তেজনায় কামুন হয়ে তিতলির তিরতির করতে থাকা কাঁপা ঠোঁটে নিজের ঠোঁট নরম ঠোঁটজোড়া ছুঁয়েছে সবে আকড়ে ধরেবে তক্ষুনি খেয়াল করলো মেয়েটা দুলছে। তার প্রশস্ত বুকে ঢুলে পড়তে পড়তে অস্পষ্ট সুরে বিড়বিড় করছে,
“আমি…আমি নিশ্বাস নিতে পারি না। আপনাকে আমি… ”
আর বলতে পারছে না বেচারি। গলায় কথা আটকে যাচ্ছে।

একটা বড়সড় চুমু খেতে যাচ্ছিলো ফারাজ তার আগেই মেয়েটার জ্ঞান হারানো হারানো অবস্থা। ফারাজ বিরক্ত হয়ে ইচ্ছেকৃত,ভাবে তিতলির কাঁপতে থাকা নিচের ঠোঁটে হালকা চাপে কামড় বসিয়ে মুখ তুলে তাকাল। বিরক্তিতে চ সূচক শব্দ উচ্চারণ করল। তার সদ্য,জাগ্রত হওয়া ফিলিং টা মাটি করে দিচ্ছে। হিসহিসিয়ে আওড়ালো,
“সামান্য ছোঁয়াতেই এ অবস্থা হলে আমার আসল আদর পেলে কি করবে তুমি? এগুলো তো সামান্য,নমুনা মাত্র।”
তিতলি ঠোঁটে ব্যাথা পেয়েছে অনেক। এভাবে তার নরম ঠোঁটকে কামড় দিয়ে ছিড়ে ফেলবে নাকি?
“আমি ঠোঁ..ঠোটে ব্যাথা প…”
ফারাজ তিতলির নরম অধরযুগলের পানে তাকায়। সামান্য কামড়ে ফুলে উঠেছে এক জায়গায়। যুবক নিজের ডানহাতের তর্জণী আঙুল তিতলির ঠোঁটে রেখে স্লাইড করতে করতে অন্যরকম গলায় বলল,
“আগেই বলছি আমার আদর সহ্য করার মতো শক্তি জন্মাও শরীরে। আমি নরম সরম আদরে অভ্যস্ত না। যেখানে টাচ করবো সেখানে দাগ বসিয়ে তবেই ছাড়বো। এখন সময় দিচ্ছি নিজেকে প্রস্তুত করো।”
বলে ফারাজ তিতলিকে বিছানায় ফেলে দিয়ে ওয়াশরুমে গেলো। এই,বেয়াদব মহিলার জন্য এতক্ষণ গোসল না সে বসেছিলো? একটা বড় চুুমুও খেতে পারলো না। এই বউকে সে ছাড়বে না একদম। যেদিন আসল ধরা ধরবে সেদিন
দমবন্ধ হয়ে মরে গেলেও সে চুলপরিমান ছাড় দিবে না।

দুপুরের খাওয়ার টাইম। নাছিমা বেগম আজকে আগেভাগে সবার জন্য ভাত বেড়েছেন। ফারিন বেগম একটু কিচেনের দিকে যেতেই তিতলি যে চেয়ারে বসে খায় সে বরাবর প্লেটে কি যেন মিশিয়ে দিলেন। কেউ দেখার আগে আবার সোজা হয়ে বাঁকা হাসি দিলেন।
ফারাজ নেমে আসছে তিতলির আগে আগে। করিডোর থেকে নামার সময় এসব দেখে দেখে আসছে। তার চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ। নিচে নেমে এসে খালার দিকে কিছুক্ষণ সন্দেহের চোখে চেয়ে থাকে। চেয়ারের সামনে গিয়ে খালাকে বলল,
“ওদিকে এটা কি?”
নাছিমা বেগম চোরাচোরা মুখে এদিক ওদিক তাকাচ্ছেন। কিছু দেখে ফেলল না তো? সে যে বাচ্চা কাচ্চা না হওয়ার ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছে। যদি ফারাজ কিছু টের পায় তাহলে তো বড়সড় কান্ড ঘটে যাবে। ফারাজ যে চালাক কিছু টের পেলে আস্ত ছিবিয়ে খাবে। ঢোক গিলে রয়েসয়ে বললেন,
“কোনদিকে কি ফারাজ? কিসের কথা বলছিস তুই? আমাকে বল তোর কিছু লাগবে? আমি নিয়ে আসি?”
ফারাজ কিছু জানে না এমন ভাব-ভঙ্গিমা ধরে রেখে গম্ভীর স্বরে বলল,

“হুমম। টেবিলে লেবু নেই কেটে নিয়ে আসেন।”
নাছিমা বেগম স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়লেন। আল্লাহ বাঁচাইছে।
“আচ্ছা তুই বোস!”
নাছিমা বেগম চলে যেতেই ফারাজ ভ্রু কুচকে প্লেট হাতে নিয়ে নাকের সামনে ধরল। ওষুধ জাতীয় কিছুর গন্ধ এসে নাকে ঠেকল। তার মুখের অভিব্যক্তি বদলালো না একটুও। শুধু চুপচাপ লম্বা হাতে প্লেট টা নাছিমা বেগমের বসা চেয়ারের সামনে রেখে দিয়ে সেখানের প্লেটটা তিতলির জন্য রাখলো
বিড়বিড় করে বলল,
“আজকে দেখবো এই ভাতটুকু খেয়ে আপনি কি করেন খালামনি।”
নাছিমা বেগম লেবু কেটে এনে টেবিলে রেখে বললেন,
“কেটে নিয়ে এসেছি। খা, খা কলেজ থেকে হয়রান হয়ে আসিস মাঝেমধ্যে লেবুর পানিও তো খেতে পারিস।”
ফারাজ তখনো দাঁড়িয়ে। হয়তো কারো অপেক্ষা করছে। তিতলি এসে বসতেই তার পাশে বসল ফারাজ। ঠোঁট এখনো সামান্য ফুলে। তিতলি নিচের দিকে তাকিয়ে ভাতে নড়চড়া করছে। ফারাজ আলগোছে টেবিলের চারপাশ থেকে, সব তরকারির বাটি গুলো তিতলির সামনে ঠেলে দিতে সাহায্য করছে। সাথে প্লেটে তুলেও দিচ্ছে। তিতলি অবাক হয়ে যাচ্ছে প্লেটে এত খাবার দেখে।

“আমি এতকিছু কীভাবে খাবো?”
ফারাজ চুপচাপ। তিতলি গুরুর মাংস রান্না করছে যে সেখান থেকে নিচ্ছে। তিতলির খুশিতে তর সইছে না।
ফারিন বেগম বললেন,
“খাও মা। খাওয়া নিয়ে লজ্জা পেতে নেই।”
আবার মুচকি হেসে বললেন,
“গরুর মাংস কিন্তু অনেক ভালো হয়েছে। দেখো ফারাজ কয়বার নিলো।”
তিতলি খুশি হলো অনেক। এখন ইচ্ছে করছে নিজেই গিয়ে কয়েকটা চুমু খেতে। কিন্তু যখন ভাল্লুক আসে তখন সে ফার্মের মুরগীর মতো ছটফট করে।
আফজাল খান অফিসে। আজকে জরুরী মিটিং আছে ওনার। নাহলে ওনিও কিছু বলে বসতেন। নিজত্ব অফিসে ছেলেরা দুজনের একজনও দাড় ধারেনা। কেউ কলেজে টিচারগিরি করে অন্যজন বাপের হোটেলে খায় বসেবসে।
নাছিমা বেগম একটু বাতরুমে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে এসে খেতে বসেছেন। কয়েক লোকমা খেতেই কেশে কেশে শেষ ভদ্রমহিলা। বমি করে দিবেন মনে হয়। ফারিন বেগম বোনকে এমন করতে দেখে গ্লাসে পানি ঢেলে দিতে দিতে বললেন,

“কী রে? পানি খা। মাথায় উঠে গেছে মনে হয়।”
নাছিমা বেগমের অবস্থা বেহাল। মুখের উপর ঘাম যাচ্ছে ভয়ে। পানিটুকু নিয়ে খেয়ে নিলেন। বমি বমি পাচ্ছে। তিনি বেসিনের দিকে দৌড় দিলেন। সাথে নীলাও দৌড়ে মায়ের পেছন পেছন গেলো।
তিতলি খানা থামিয়ে দিয়ে বলল,
“কি হয়ছে খালামনির?”
ফারিন বেগমও উঠে যেতেযেতে বললেন,
“গলায় ভাত আটকে গেছে মনে হয়।”

রাগে অনুরাগে পর্ব ৩৬

ফারিন বেগম বেসিনে গিয়ে একগাদা বমি করেছেন। নাকমুখ লাল হয়ে গেছে।
ফারাজ একদম চুপ। সে খেয়ে দেয়ে হাতধুচ্ছে নিজেন মতো। যেন কিছুই জানে না।
তিতলি মনে মনে বলল,
“মনে হয় প্রেগন্যান্ট হয়ে গেছে ভালোই হয়ছে ডাইনী মহিলা। এবার পেট নিয়ে ঘুরবে।”

রাগে অনুরাগে পর্ব ৩৭ (২)