Home কিস অফ বিট্রেয়াল কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৫৬

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৫৬

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৫৬
লামিয়া রহমান মেঘলা

সিকদার নিবাসে আসার পর থেকেই সেরিনকে সবাই যেন পরম আদরে আগলে রাখছে। অনেক দিন পর মেয়েটি এই বাড়িতে ফিরেছে, তাই তার প্রতি সবার ভালোবাসাটাও যেন একটু বেশিই।
সকালে বাগান থেকে সদ্য তুলে আনা নানা রকমের ফল সুন্দর করে সেরিনের সামনে সাজিয়ে দিলেন বানু মির্জা। ফলগুলো দেখে সেরিনের মুখে ফুটে উঠল মিষ্টি এক হাসি। বিস্ময় মেশানো কণ্ঠে সে জিজ্ঞেস করল,
“এগুলা সব আমার আম্মা?”
বানু মির্জা মৃদু হেসে স্নেহভরা কণ্ঠে জবাব দিলেন,

“যত পারো খাও। বাগানে অনেক ফল হয়েছে। রান্নাঘরে আরও রাখা আছে। লাগলে নিয়ে নিও।”
পেছন থেকে শিমুল এতক্ষণ ধরে সবকিছুই দেখছিল। দৃশ্যটা তার মোটেও ভালো লাগল না। বিরক্ত মুখে এগিয়ে এসে সেরিনের সামনে রাখা ফলের ঝুড়িটা আচমকাই তার হাত থেকে কেড়ে নিল।
“এগুলা সব ওকে দিচ্ছেন আম্মা বেগম? বাকিরা কি খাবে?”
শিমুলের প্রশ্নে বানু মির্জা ভীষণ অবাক হলেন। তিনি বিস্মিত চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
“কেন? রান্নাঘরে এত ফল পড়ে আছে। তুমি, জারিফ, জিনু, আহি, জবরান সবাই তো খাচ্ছ। ওরা তো এত দিন ছিল না।”
কায়ান তখন কারও সঙ্গে কথা বলতে বাইরে গিয়েছিল। কথা শেষ করে ভেতরে প্রবেশ করতেই তার চোখে পড়ল পুরো দৃশ্যটা। ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ শিমুলের দিকে তাকিয়ে রইল সে।
এরপর ধীর পায়ে এগিয়ে এসে শিমুলের হাত থেকে ফলের ঝুড়িটা নিয়ে সেরিনের হাতে তুলে দিল কায়ান।

“Eat everything if you want.”
কায়ানের কথায় শিমুল আর কিছুই বলতে পারল না। মুখ ভার করে হনহনিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে গেল সে।
বানু মির্জা শিমুলের এমন আচরণে ভীষণ অবাক হয়ে রইলেন। মেয়েটার এমন পরিবর্তনের কারণ তিনি যেন কিছুতেই বুঝে উঠতে পারলেন না।
তবে শিমুল বুঝতে পারল না, সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে জবরানও পুরো ঘটনাটা দেখেছে।
নিজের হিংসা আর ঈর্ষার আগুনে পুড়ে মেয়েটা বুঝতেই পারছে না, ধীরে ধীরে নিজের জীবনে অবশিষ্ট থাকা শান্তির শেষটুকুও সে নিজ হাতেই বিসর্জন দিতে শুরু করেছে।

হেমন্তের দিনের মিষ্টি, কোমল আভাটা সেরিনের ভীষণ পছন্দ। বিকেলের শেষ আলোয় আকাশজুড়ে যখন কমলা রঙের মায়াবী আবেশ ছড়িয়ে পড়ে, তখন প্রকৃতির সেই অপার্থিব সৌন্দর্য দেখতে তার ভীষণ ভালো লাগে। দূর আকাশের রঙ বদলে যাওয়ার সেই দৃশ্য যেন সেরিনের হৃদয়েও এক অদ্ভুত প্রশান্তি ছড়িয়ে দেয়।
সেরিন বেলকনির এক পাশে চুপচাপ বসে সেই আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। মৃদু হেমন্তের বাতাস এসে আলতো করে ছুঁয়ে যাচ্ছে তার চুল। চারপাশের নীরবতা আর আকাশের সোনালি কমলা আলোয় হঠাৎ করেই তার মনে পড়ে গেল ঠিক এক বছর আগের সেই সময়ের কথা।
এক বছর আগে এমনই এক সময়ে সেরিন আর কায়ান একটি অচেনা গ্রামে আটকা পড়েছিল। সেই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিই যেন ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্কের সূচনা করেছিল। সেই সময় থেকেই সেরিন একটু একটু করে কায়ানকে ভালোবেসেছিল। অনুভূতিটা কবে যে তার হৃদয়ের গভীরে শেকড় গেড়ে বসেছিল, সেরিন নিজেও তা বুঝতে পারেনি।

এরপর কেটে গেছে গোটা একটি বছর। সময়ের স্রোতে সেই দিনগুলো আজ অনেক দূরে সরে গেছে। ফিরে তাকালে সেগুলো এখন কেবলই এক টুকরো সোনালি অতীত, যে অতীতের স্মৃতিগুলো মনে পড়লেই সেরিনের ঠোঁটের কোণে আপনাআপনি হাসি ফুটে ওঠে।
সেরিন ঠিক সেসব কথাই ভাবছিল, এমন সময় হঠাৎ কেউ পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরল।
পরিচিত উষ্ণতায় সেরিন বুঝতে পারল, মানুষটা আর কেউ নয়, কায়ান। কায়ান ধীরে ধীরে তার ঘাড়ের কাছে মুখ গুঁজে দিয়ে মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করল,
“কি ভাবছো?”
সেরিন আকাশের দিকে তাকিয়েই শান্ত গলায় বলল,
“ভাবছি সেই গ্রামটার কথা।”
কায়ান কিছুক্ষণ নীরব থেকে মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করল,
“ওখানে যেতে চাও?”
সেরিন এবার ঘুরে কায়ানের দিকে তাকাল। তার চোখেমুখে মুহূর্তেই আনন্দের ঝিলিক ফুটে উঠল।
“হ্যাঁ, চাই।”

কায়ান সেরিনের সেই উচ্ছ্বসিত মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। তারপর ভালোবাসায় ভরা কোমল এক চুমু এঁকে দিল তার কপালে।
“ঠিক আছে, নিয়ে যাব।”
কথাটা শুনতেই সেরিন ভীষণ খুশি হয়ে গেল। আনন্দে তার মুখটা যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
সেরিনের গালে তখন একটি ফলের আঁটি লেগে আছে। খেতে খেতে তার গালটা ফুলে উঠেছে। কায়ান মৃদু হেসে সেই ফুলে থাকা গালে হাত রাখল।
“কি, সারা দিন এসব খেয়ে বেড়াচ্ছো?”
সেরিন গাল ফুলিয়েই মজার ছলে জবাব দিল,
“মজা লাগে। আপনি বুঝবেন না।”
কায়ান আবারও তার ঘাড়ের কাছে মুখ গুঁজে দিয়ে মৃদু স্বরে বলল,
“তাহলে বুঝিয়ে দাও।”
সেরিন লজ্জায় একটু দূরে সরে গিয়ে বিরক্তির ভান করে বলল,

“ধুর, ছাড়ুন তো।”
কায়ান তাকে আরও শক্ত করে নিজের বাহুডোরে আবদ্ধ করে নিল। তার কণ্ঠে তখন মিশে রইল গভীর ভালোবাসার এক অটুট প্রতিশ্রুতি।
“ছাড়তে ধরিনি, সেরিন। ছাড়তে পারব না। কোনো দিনও।”
সেরিন আর কিছু বলল না। শুধু নিঃশব্দে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
দূর আকাশে তখন হেমন্তের শেষ বিকেলের মিষ্টি আলো ধীরে ধীরে গাঢ় হয়ে আসছে। কমলা রঙের সেই আলোয় চারপাশ যেন ভালোবাসার এক কোমল আবেশে ভেসে যাচ্ছে। প্রকৃতির সেই শান্ত, স্নিগ্ধ মুহূর্তে কায়ান আর সেরিন দুজন দুজনের বাহুডোরে আবদ্ধ হয়ে কাটিয়ে দিল তাদের জীবনের আরও একটি সুন্দর সময়, যে সময় হয়তো একদিন আবারও ফিরে তাকালে তাদের কাছে হয়ে উঠবে এক টুকরো সোনালি স্মৃতি।

পরদিন সকাল থেকেই সিকদার নিবাসে ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেছে। আজ আহিকে দেখতে আসবে জেহানের পরিবার। তাই সকাল হতেই বাড়ির সবাই নিজেদের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। পুরো বাড়িজুড়ে যেন এক ধরনের উৎসবমুখর আবহ বিরাজ করছে।
সেরিন সকাল থেকেই রান্নাঘরে ব্যস্ত। তার সঙ্গে রয়েছে বানু মির্জা আর শিমুলও। সার্ভেন্টরাও নিজেদের মতো করে কাজে হাত লাগিয়েছে। রান্নাঘরের একেকটি চুলায় একেক রকম রান্না চড়েছে। চারপাশে মশলার ঘ্রাণ, রান্নার ব্যস্ততা আর মানুষের আনাগোনায় রান্নাঘরটা যেন একেবারে সরগরম হয়ে উঠেছে।
সেরিনের পরনে হালকা নীল রঙের একটি সুন্দর ড্রেস। প্রতিদিনের মতোই তার কানে, হাতে আর গলায় শোভা পাচ্ছে সোনার গয়না। বাম হাতের কবজিতে বাঁধা রয়েছে তার প্রিয় ঘড়িটিও। হালকা নীল পোশাকের সঙ্গে সোনার গয়নার মিশেলে আজ মেয়েটাকে যেন আগের চেয়েও বেশি এলিগেন্ট লাগছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেরিনের সৌন্দর্যও যেন আরও পরিণত হয়েছে। মুখের কোমলতা আর চোখের মায়া মিলিয়ে তাকে আজ ভীষণ সুন্দর দেখাচ্ছে।

বানু মির্জা কিছু একটা কাজে রান্নাঘরের বাইরে গিয়েছেন। সেরিন তখন চুলার সামনে দাঁড়িয়ে রোস্ট রান্না করছে। তার চুলগুলো সুন্দর করে একটি ক্লিপ দিয়ে পেছনে বাঁধা। রান্নার ব্যস্ততায় সে একেবারেই নিজের দিকে খেয়াল করছে না।
অন্যদিকে শিমুল পাশে দাঁড়িয়ে একদৃষ্টিতে সেরিনকে দেখছে।
মেয়েটা আগের থেকে কতটা সুন্দরী হয়ে উঠেছে।
সেরিনের মুখের দিকে তাকিয়ে শিমুলের বুকের ভেতরটা কেমন যেন জ্বলে উঠল। সেই সৌন্দর্য, সেই নিশ্চিন্ত জীবন, সেই ভালোবাসা, সবকিছুই যেন শিমুলের চোখে কাঁটার মতো বিঁধতে লাগল।
একসময় সেরিনের পাশ থেকে চপিং বোর্ডটা হাতে তুলে নিল শিমুল। তারপর পেয়াজ কাটতে কাটতে হঠাৎ সেরিনের হাতের ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,
“তোর হাতে কি এটা ব্র্যান্ডের নকল, নাকি আসল ঘড়ি?”
শিমুলের প্রশ্ন শুনে সেরিন নিজের হাতের দিকে তাকাল। তারপর বেশ স্বাভাবিকভাবেই বলল,
“ও মা, নকল কেন হতে যাবে? আসলই। কায়ান সবকিছুই বর্তমানে নিজে কিনে দেয়। তাই নকল হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”

সেরিনের কণ্ঠে স্বামীর প্রতি এক ধরনের গর্ব মিশে ছিল। অথচ সেই কথাটাই শিমুলের ভেতরের অস্থিরতাকে আরও উসকে দিল।
শিমুল ঠোঁট বাঁকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“তোকে খুব ভালো রাখছে, তাই না?”
সেরিন রান্নার দিকে মনোযোগ রেখেই মৃদু হেসে উত্তর দিল,
“হ্যাঁ, ভালো রাখবে না?”
সেরিনের কণ্ঠে ছিল সরল বিশ্বাস। কায়ান তাকে কতটা ভালোবাসে, কতটা যত্নে রাখে, তা নিয়ে তার মনে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই।
কিন্তু সেরিন বুঝতেই পারল না, তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিমুলের ভেতরে তখন কী ভয়ংকর ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
শিমুলের চোখে ধীরে ধীরে জমে উঠল হিংসা। সেরিনের প্রতি তার সেই অদৃশ্য ঈর্ষা যেন মুহূর্তের মধ্যেই ভয়ংকর রূপ নিতে শুরু করল।

পাশের চুলায় তখন একটি পাত্রে পানি ফুটছিল। শিমুল ধীরে ধীরে নিজের হাতে থাকা চাকুটিকে সেই ফুটন্ত গরম পানির মধ্যে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখল। তার চোখ তখনও সেরিনের দিকে।
তারপর চাকুটি তুলে নিয়ে ধীরে ধীরে সেরিনের হাতের দিকে এগিয়ে গেল শিমুল।
ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ কায়ান এসে সেরিনের কোমর জড়িয়ে তাকে নিজের দিকে টেনে নিল।
ঘটনাটা এত দ্রুত ঘটল যে শিমুল কিছু বুঝে ওঠার সুযোগই পেল না। তার হাত থেকে চাকুটি ছিটকে মেঝেতে পড়ে গেল।
সেরিন অবাক হয়ে কায়ানের দিকে তাকাল। কায়ান কেন হঠাৎ তাকে এভাবে নিজের দিকে টেনে নিল, সে কিছুই বুঝতে পারল না।
পরমুহূর্তেই মেঝেতে চাকু পড়ে যাওয়ার শব্দে সেরিন চমকে উঠে শিমুলের দিকে ফিরে তাকাল।
কায়ানের বাহুডোর থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে সেরিন নিচু হয়ে মেঝে থেকে চাকুটি তুলে নিল। তারপর অবাক চোখে শিমুলের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,

“কি হয়েছে, আপু?”
শিমুলের মুখ মুহূর্তেই ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
“কিছু না।”
সেরিন আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই কায়ান শান্ত গলায় বলে উঠল,
“সেরিন, আহি তোমাকে ডাকছে। আম্মা বেগম বলেছেন, বাকিটা রান্না শিমুল আর সার্ভেন্টরা মিলে করবে।”
সেরিন রান্নার দিকে তাকিয়ে বলল,
“এখনো অনেকটা বাকি।”
কায়ানের কণ্ঠ এবার একটু দৃঢ় হলো।
“আম্মা বেগম বলেছেন, সেরিন যাও।”
কায়ানের কথার ওপর কথা বলার অভ্যাস সেরিনের নেই। তাই আর কোনো তর্ক না করে সে চুপচাপ রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

সেরিন চলে যাওয়ার পর রান্নাঘরে এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এলো।
শিমুল চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। তার মুখে কোনো কথা নেই। চোখে ভয় আর অস্বস্তির ছাপ।
কায়ান ধীরে ধীরে তার দিকে তাকাল। তারপর দুহাত বুকের ওপর গুঁজে নিয়ে শান্ত অথচ গভীর দৃষ্টিতে শিমুলের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,
“কি করতে চাইছিলে?”
শিমুল চোখ নামিয়ে ফেলল।
“কই, কিছু না তো।”
কায়ানের ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠল। তবে সেই হাসির আড়ালে ছিল এক ভয়ংকর সতর্কতা।
সে ধীর স্বরে বলল,
“হিংসা মানুষের ধর্ম, শিমুল। আর সেই হিংসাই মানুষের ধ্বংসের মূল কারণ। সংসার ভাঙা আর মসজিদ ভাঙা সমান। আমি আশা করব, তুমি এর থেকে দূরে থাকবে। তুমি নিজেও জানো না, সিকদার কায়ান মাহবুব তার স্ত্রীর জন্য ঠিক কতটা পাগল।”

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৫৫

কথাগুলো বলেই কায়ান আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না। শিমুলকে একা রেখে ধীর পায়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গেল সে।
শিমুল সেখানেই দাঁড়িয়ে রইল।
চারপাশের ব্যস্ততা আবারও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠলেও শিমুলের ভেতরের অস্থিরতা আর কমল না। বরং কায়ানের প্রতিটি কথা যেন তার বুকের ভেতর আরও গভীরভাবে বিঁধে রইল।
সেরিনের প্রতি কায়ানের সেই অন্ধ ভালোবাসা, তাদের সুখী সংসার আর একে অপরকে ঘিরে থাকা সেই অটুট বন্ধন, সবকিছুই শিমুলের চোখে যেন আরও অসহনীয় হয়ে উঠল।
তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা হিংসা এবার তাকে আরও শক্ত করে চেপে ধরল।

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৫৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here