চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ২৯
আয়াত বিনতে নূর
বাড়িতে ঢুকতেই করিডোরের নিস্তব্ধতা যেন ফারিসের বুকের ভেতরের অস্থিরতাকে আরও জোরালো করে তুললো। চারপাশে এতটা নীরবতা যে নিজের নিঃশ্বাসের শব্দও কানে লাগছিল। কোনো দিকে না তাকিয়ে, কোনো কিছু না ভেবে সে সোজা নিশিতার রুমের দিকেই হাঁটা ধরলো।
ফারিসের চুলগুলো এলোমেলো, ঠিক যেন সে নিজেই খেয়াল করেনি কখন কীভাবে এমন হয়ে গেছে। চোখ দুটো লালচে, ক্লান্তি আর অজানা অস্থিরতায় ভরা। কেউ যদি এই মুহূর্তে ফারিসকে দেখতো, এক নজরেই বুঝে যেত—কিছু একটা ভয়ংকরভাবে ঠিক নেই। এই মানুষটার ভেতরে ঝড় বইছে।
হাঁটতে হাঁটতে এসে সে থেমে গেল নিশিতার রুমের দরজার সামনে। হঠাৎ করেই বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে কেঁপে উঠলো, ঠিক যেন ভেতরের অস্থিরতা আর অনুভূতিগুলো একসাথে ধাক্কা দিচ্ছে। এক মুহূর্ত সে দাঁড়িয়ে রইলো—নিঃশ্বাসটাও যেন একটু ভারী হয়ে এলো। তারপর খুব ধীরে, সাবধানে দরজায় হাত রাখলো। কোনো শব্দ ছাড়াই দরজাটা খুলে গেল, যেন আগেই তার আসার অপেক্ষায় ছিল। ফারিস নিঃশব্দ পায়ে রুমের ভেতর ঢুকলো। এমনভাবে পা ফেলছিল, যেন সামান্য শব্দ হলেই এই মুহূর্তের শান্তি ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। ঘরজুড়ে নরম আলো আর নিস্তব্ধতা মিশে এক অদ্ভুত মায়া ছড়িয়ে রেখেছে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
আর ঠিক তখনই তার চোখের সামনে ভেসে উঠলো এক অপার্থিব দৃশ্য।
বিছানার ওপর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন একটি শান্ত মুখ। এলোমেলো চুলগুলো বালিশের ওপর ছড়িয়ে আছে, যেন ঘুমের মাঝেই কোনো স্বপ্নে হারিয়ে গেছে। চোখের পাতাগুলো বন্ধ, মুখে এক ধরনের শিশুসুলভ নিষ্পাপ ভাব—যা দেখলে মন আপনা-আপনিই নরম হয়ে যায়। সে আর কেউ নয়—নিশিতা। ফারিসের নিঃশ্বাস হালকা কেঁপে উঠলো। এই মানুষটাই তার সমস্ত অস্থিরতার কেন্দ্র, তার সব দুর্বলতার কারণ।তার লিটল হার্টবিট। তার স্ত্রী।
এক মুহূর্তের জন্য ফারিস সবকিছু ভুলে গেল—দিনের ক্লান্তি, জমে থাকা রাগ, ভেতরের ঝড়। শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইলো সেই ঘুমন্ত মুখটার দিকে, যেন এই দৃশ্যটা চোখে ভরে না নিলে তার শ্বাসই আটকে।
নিশিতার দিকে ধীর পায়ে এগোতে গিয়ে ফারিসের চোখ হঠাৎ আটকে গেলো তার বুকের ঠিক নিচে থাকা ছোট্ট কালো কুচকুচে তিলটিতে। টি-শার্টের ঢিলা গলার ফাঁক যেন সেই তিলটিকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে। ফারিস এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেলো; চোখ সরানো যেন অসম্ভব।
হৃদস্পন্দন দ্রুত বেড়ে গেলো, শরীরের প্রতিটি কোষ যেন উত্তেজনার ঢেউয়ে কেঁপে উঠছে। নিঃশ্বাসও থেমে-থেমে চলছিল, মনটা এক অচেনা উন্মাদনায় জর্জরিত। প্রতিটি মুহূর্তে সে আরও গভীরে ডুবে যাচ্ছিলো এই রহস্যময় আকর্ষণে। নিশিতার কোমল কন্ঠস্বর, তার চমৎকার হাসি, চোখের সেই নির্দোষ চাহনি—সবকিছু মিলিয়ে ফারিসের মনে এক অদ্ভুত, মধুর উত্তেজনা তৈরি করছে।
তার চোখ ঠিকঠাক লক্ষ্য করল সেই ছোট্ট তিলটিকে। হঠাৎ মনে হলো, সারা পৃথিবীর আলো যেন সেই দাগের চারপাশে ঘুরছে, আর ফারিস শুধু তাকিয়ে থাকে, চোখে চোখ রাখে, মনটা অচেনা উত্তেজনায় ভরে যায়। নিজের হাতগুলো অজান্তে চাহনির দিকে ঝুঁকে গেল, কিন্তু সে জানে—এই মুহূর্তটা এক অদ্ভুত, নীরব, অন্তরঙ্গ যাদু, যা কেবল তার এবং নিশিতার।
নিজেকে আর সামলাতে না পেরে, ধীরে ধীরে ফিসফিস করল—
“এই মেয়েটা… এই মেয়েটাই আমাকে একদিন পুরোপুরি পাগল করে দেবে… একদম… জাস্ট পাগল।”
প্রতিটি দৃষ্টিতে নিশিতার দিকে তাকালে মনে হচ্ছিলো, তার ভেতরের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ ছিঁড়ে যাচ্ছে। বুকের ভিতরে এক অচেনা উত্তেজনা, এক মধুর তৃষ্ণা জাগছে—যা কেবল নিশিতার উপস্থিতিতে শান্ত হয়। তার চোখে যেন আগুন জ্বলছে, মনটা এক অদ্ভুত উন্মাদনার ঢেউয়ে ভেসে যাচ্ছে।
ফারিস বুঝতে পারছে, এই মুহূর্ত কেবল শুরু। এই মেয়েটা একদিন তাকে এমনভাবে পাগল করে দেবে, যে আর ফিরে আসার পথ থাকবে না। প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি অল্প হাসি, প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি—সবই যেন তার হৃদয়কে বন্দী করছে। আর ফারিস, নিজের ভেতরের উত্তেজনা স্বীকার করে, শুধু এই সত্য মানতে পারছে—নিশিতা তার জন্য কেবল একজন মানুষ নয়; সে যেন তার মন ও জীবনকে সম্পূর্ণভাবে দখল করে নিচ্ছে।
কথাটি বলে, এগিয়ে গিয়ে ফারিস ঘুমন্ত নিশিতাকে কোমলে কোলে নিলো। সারা শরীর একবার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো—চুলের নরমতা, কোমল গাল, ঘাড়ের হালকা ঢালা রেখা, হাতের প্রতিটি রেখা—সবই যেন তার মনকে এক অচেনা উত্তেজনায় ভরিয়ে দিল। এইদিকে ঘুমন্ত নিশিতার খেয়ারের কোন প্রতিক্রিয়া নেই; তার প্রেমিকের এত কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও সে সামান্য নড়েচড়ে আবার ঘুমিয়ে গেলো। ফারিস একবার দেখেই নেশাটা যেনো মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে লাগলো।
শরীরের প্রতিটি কোষ উত্তেজনায় জ্বলে উঠলো, হৃদয় দ্রুত ধড়াধড় করতে লাগল। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে হঠাৎ করেই নিশিতার টসটসে, গোলাপি স্ট্রবেরির মতো কোমল ঠোঁটের ওপর নিজের রুক্ষ ঠোঁট জোড়া মিলিয়ে দিল। নিশিতার ঠোঁট জোড়ায় চুমু খেতে খেতে ফারিস যেন অন্য এক দুনিয়ায় হারিয়ে গেল—এক জায়গা যেখানে কেবল তার এবং নিশিতার উপস্থিতি, আর সময় যেন থেমে গেছে।
গভীর ঘুমে থাকা নিশিতার মনে হলো, তার নিশ্বাস যেন হঠাৎ আটকে আসছে। সে অবচেতনভাবে হাত-পা মিলিয়ে একটু কেঁপে উঠল। হঠাৎ করে চোখ খুলতেই সে দেখল, তার ঠোঁট অন্য কারোর আয়ত্তে—ফারিসের রুক্ষ কিন্তু অদ্ভুত কোমল স্পর্শে। ভয়ে নিশিতা গুটিয়ে গেল, পুরো শরীর টানটান হয়ে উঠল, কারণ লাইট অফ থাকায় চারপাশ কিছুই স্পষ্ট দেখতে পারছে না।
মুক্ত হওয়ার জন্য সে নড়াচাড়া শুরু করল, হাত-পা নাড়াচাড়া করতে লাগল, যেন নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।
কিন্তু প্রতিটি নড়াচড়া যেন ফারিসকে আরও বেশি উত্তেজিত করে তুলছে। ফারিস, যে মুহূর্তেই নিশিতার কোমল শরীরের সংস্পর্শে, তার চোখে আগুন, ভেতরে এক অদ্ভুত উত্তেজনা, আর ভঙ্গিতে কোমলতা—সব মিলিয়ে নিশিতাকে ছেড়ে দেওয়ার কোনো ইচ্ছে রাখে না।
আর নিশিতার এমন কান্ডে যেন ফারিস কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলে উঠল—
—”How dare youu? আমার কাজে ব্যাঘাত করার তোর সাহস কিভাবে হয়, my little heartbeat?”
তার কণ্ঠে বিরক্তি স্পষ্ট, কিন্তু সেই বিরক্তিতেও ছিল এক অদ্ভুত কোমলতা, যা নিশিতার ভীতিকে আরও মধুর রোমান্টিক উত্তেজনায় পরিণত করছিল। নিশিতা গুটিয়ে গেলো, শ্বাস আটকে এলো, পুরো শরীর টানটান হয়ে উঠল। লাইট অফ থাকায় চারপাশ কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। মুক্ত হওয়ার জন্য সে হাত-পা নড়াচাড়া শুরু করল, যেন নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।
ফারিস, নিশিতার নড়াচড়া দেখে নিজেকে সামলাতে পারছিল না। তার চোখে আগুন, ভেতরে উত্তেজনা, আর প্রতিটি স্পর্শে কোমলতা—সব মিলিয়ে নিশিতাকে ছেড়ে দেওয়ার কোনো ইচ্ছে রাখে না। ফারিসের হাতগুলো এখনও নিশিতার কোমল শরীরের উপর। প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন মুহূর্তটিকে আরও গভীর করে তুলছে।
ফারিস, নিশিতার নড়াচড়া দেখে নিজেকে সামলাতে পারছিল না। তার চোখে আগুন, ভেতরে উত্তেজনা, আর প্রতিটি স্পর্শে কোমলতা—সব মিলিয়ে নিশিতাকে ছেড়ে দেওয়ার কোনো ইচ্ছে রাখে না। ফারিসের হাতগুলো এখনও নিশিতার কোমল শরীরের উপর। প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন মুহূর্তটিকে আরও গভীর করে তুলছে।
এইদিকে পরিচিত কণ্ঠস্বর কানে আসতেই নিশিতার নড়াচড়া থেমে গেল। জানলার পর্দা ভেদ করে চাঁদের আলো এসে পড়ল, আর নিশিতা দেখতে পেল, এলোমেলো অবস্থায় ফারিসকে। তার চুল, পোশাকের কিছু অংশ, পুরো অবস্থা—সবই অদ্ভুতভাবে অসংগঠিত, কিন্তু সেই অগোছালো চেহারায় লুকানো উন্মাদনা যেন তাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে তুলল।সাথে সাথে নিজের ব্যক্তিগত পুরুষের এমন অবস্থা দেখে আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলো না নিশিতা। গালে হাত দিয়ে, লাজুক কিন্তু সাহসী স্বরে বলল—
—”এই কি হয়েছে আপনার? হ্যাঁ, এতটা এলোমেলো… আপনাকে আমি আর দেখিনি।”
ফারিসের চোখে তখন অদ্ভুত উন্মাদনা এবং নরম কোমলতার মিশ্রণ দেখা যাচ্ছিল। তার ধীরে ধীরে শ্বাস, শরীরের হালকা কাঁপুনি, আর চাঁদের আলোয় ঝলমল করা চোখ—সব মিলিয়ে নিশিতার হৃদয় যেন দ্রুত ধড়াধড় করতে লাগল।
নিশিতা গা ভিজে উঠল, মনে হলো, এই নাজুক মুহূর্তে তার ভীতি, উত্তেজনা আর আকর্ষণ সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত আবহ তৈরি করছে। ফারিসের দিকে তাকাতে তাকাতে তার চোখে লাজুক আলো, আর ভেতরের আবেগ যেন নিঃশব্দে ফারিসকে টেনে নিচ্ছিল।
নিশিতার কথায় ফারিসের কোনো হেলদল দেখা গেলো না। নিশিতার স্পর্শে যেন নিজেকে পুরোপুরি হারিয়ে ফেলল। তার চোখে আগুন, হৃদয়ে উত্তেজনার ঢেউ, আর শরীরের প্রতিটি কোষ যেন এক অচেনা উন্মাদনায় জ্বলে উঠল। সে ধীরে ধীরে নিশিতার দিকে এগোল, চোখে শুধুই এক অদ্ভুত ঘনিষ্ঠ আকর্ষণ, আর প্রতিটি দৃষ্টি যেন নিশিতার শ্বাসকে আটকে দিচ্ছিল।
হঠাৎ করে, অতিরিক্ত উত্তেজনায়, সে উঠে দাঁড়াল। এক ঝটকায় নিজের শার্ট খুলে ফেলল। বাতাসের সঙ্গে মিলিয়ে শার্টের ফাঁকা অংশ থেকে তার শক্ত দেহ উন্মুক্ত হয়ে এল। নিশিতার চোখে তাকিয়ে ফারিসের চোখে সেই আগুন, ভেতরের উন্মাদনা, আর শরীরের প্রত্যেকটি আন্দোলন—সব মিলিয়ে মুহূর্তটিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলল।
তারপর ফারিস ধীরে ধীরে নিশিতাকে আবার জরিয়ে ধরল। তার হাতগুলো নিশিতার কোমল শরীরের ওপর ছড়িয়ে পড়ল, প্রতিটি স্পর্শ যেন এক বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মতো নিশিতার সারা শরীরে ছড়িয়ে যাচ্ছে। নিশিতার দমবন্ধ হয়ে আসছিল। মনে পড়ল সেই রাতের ফারিসের পাগলামির কথা—যেখানে উত্তেজনা, আবেগ এবং আকাঙ্ক্ষা সবই এক হয়ে গিয়েছিল।
ভয়ে ভয়ে নিশিতা কণ্ঠ মিলিয়ে বলল—
—”ফারিস ভ— ভাইই, আপনি কি করছেন?”
কথাটা বলতে গিয়ে যেন গলায় বাঁধা পড়ল। নিশিতার ভীতিকর, কিন্তু নাজুক কণ্ঠ শুনে ফারিস কিছুটা অস্থিরতাকে দমন করল। ধীরে ধীরে, গভীর কোমলতা ও উত্তেজনা মিশিয়ে, নিশিতার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল—
—”জান, পাখি, হার্ট… আজকের রাতটা আমাকে দিবি? আবার ঠিক সেই রাতের মতো?”
ফারিসের কথা গুলা শুনে সাথে সাথে নিশিতার চোখ বড় হয়ে গেল, শরীর কেঁপে উঠল। তার হৃদয় দ্রুত ধড়াধড় করছে, শ্বাস দ্রুত, আর চোখে ভয়, লাজ, উত্তেজনা—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত অনুভূতি সৃষ্টি করছে। ফারিসের চোখে উন্মাদনা, ভেতরে আগুন, আর প্রতিটি স্পর্শে কোমলতা—সব মিলিয়ে মুহূর্তটিকে আরও গভীর করে তুলছে।
ফারিস ধীরে ধীরে নিশিতার মুখের দিকে এগোল। তার চোখে সেই আগুন, ভেতরে এক অদ্ভুত উন্মাদনা। নিশিতার চোখে অজানা আলো, গালে লাল রঙের ছাপ, হৃদয় দ্রুত ধড়াধড় করছে। ফারিসের ঠোঁট ধীরে ধীরে নিশিতার ঠোঁটের স্পর্শ পেল, আর ফিসফিস করে বলল—
—”ভয় পাওয়ার কিছু নেই, জান। আমি কেবল চাই এই মুহূর্তটা আমাদের। শুধু আমাদের।”
নিশিতা চুপচাপ ছিল, কিন্তু শরীরের প্রতিটি অংশ ফারিসের স্পর্শকে স্বীকার করছে। তার হাত স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফারিসের শরীরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করল। ফারিসের স্পর্শের তীব্রতা, কোমলতা, উত্তেজনা—সব মিলিয়ে নিশিতার শরীর প্রতিটি নিঃশ্বাসে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছিল।
ফারিস আরও কাছে এল। তার হাতের প্রতিটি স্পর্শ নিশিতার শরীরে বৈদ্যুতিক তরঙ্গ তৈরি করছে। নিশিতার ভেতরের ভয়, উত্তেজনা, আকাঙ্ক্ষা সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত আবহ তৈরি করছে। ফারিস চোখে চোখ রেখে ফিসফিস করে বলল—
—”জান, হার্ট… আজকের রাতটা সারা জীবন মনে থাকবে। আবার ঠিক সেইদিনের রাতের মতো?”
নিশিতার শরীর কেঁপে উঠল, শ্বাস দ্রুত হয়ে গেল। ফারিসের হাতগুলো আরও গভীরভাবে তার শরীরে প্রবেশ করল। প্রতিটি আন্দোলন, প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি দৃষ্টি—সব মিলিয়ে মুহূর্তটা আরও গভীর, নাজুক।
ফারিসের দৃষ্টি, স্পর্শ, উন্মাদনা—সব মিলিয়ে নিশিতার হৃদয় এবং মনকে এক অদ্ভুত উত্তেজনায় আবদ্ধ করেছে। নিশিতার হাত স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফারিসের শরীরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করল। চারপাশের অন্ধকার, চাঁদের আলো, নিশিতার শ্বাস আর ফারিসের উত্তেজনা—সব মিলিয়ে মুহূর্তটা এক আলাদা জগতে পরিণত হলো।
ফারিস আরও ধীরে ধীরে নিশিতার কোমল হাতে হাত বুলাতে লাগল। তার স্পর্শ এত গভীর যে নিশিতার শরীর প্রতিটি নিঃশ্বাসে সাড়া দিতে লাগল। মুহূর্তগুলো যেন থমকে গেছে। নিশিতার ভয়, উত্তেজনা, লাজ।
নিশিতা ভীত, কিন্তু ফারিসের স্পর্শ, চোখে চোখ, এবং ফিসফিস করা কথাগুলো তাকে আরও কাছে টেনে আনছে। প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি আন্দোলন।
ফারিস হঠাৎ করেই নিশিতার চোখে চোখ রেখে বলল—
—”জান, আমি জানি তুই ভয় পাচ্ছিস কিন্তু ভয়কে ছাড়িয়ে আস । এই রাতটা আমাদের। শুধু আমাদের জন্য।”
নিশিতা কিছু বলতে পারল না। তার শরীর কাঁপছে, শ্বাস আটকে যাচ্ছে। সে শুধু ফারিসের চোখে চোখ রাখল। প্রতিটি দৃষ্টি, প্রতিটি স্পর্শ—সব মিলিয়ে নিস্তব্ধতা এবং উত্তেজনার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ তৈরি করেছে।
তারপর নিশিতা ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করল। শ্বাস-প্রশ্বাস ধীরে ধীরে সুনির্মল হয়ে এল, আর ফারিসের স্পর্শে শরীরের প্রতিটি কোষে যেন এক অদ্ভুত গরম ঢেউ ছড়িয়ে পড়ল। সে জানত, ফারিস এখন তার পাশে আছে, কিন্তু চোখ বন্ধ রাখার সঙ্গে সঙ্গে সেই উপস্থিতি আরও গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে—প্রায় স্বপ্নের মতো, অদৃশ্য, নরম, আর ঘনিষ্ঠ।
ফারিস নিশিতার মাথার পাশে হালকা হাত রাখল। তার হাতের স্পর্শে নিশিতার শরীর আরও শিথিল হতে লাগল, শ্বাস গভীর হয়ে আসল। ফারিস চুপচাপ বসে রইল, নিশিতার নিঃশ্বাসের লয় শোনার চেষ্টা করল, যেন প্রতিটি শ্বাস তার হৃদয় স্পর্শ করছে।
নিশিতার শরীর শিথিল হলেও তার ভেতরের উত্তেজনার ছায়া এখনও সেখানে ছিল। ফারিস বুঝতে পারল, এই ঘুম শুধু বিশ্রাম নয়, বরং তার এবং নিশিতার মধ্যে এক অদ্ভুত সংযোগের শুরু। চোখ বন্ধ থাকা অবস্থায়ও নিশিতার প্রতিটি আন্দোলন, প্রতিটি নিঃশ্বাস, ফারিসকে আরও কাছে টেনে আনছে।
ফারিস হালকা ফিসফিস করল, যেন কেবল নিশিতার জন্য—
—”তুই শান্ত হ—হ জান… আমি আছি। শুধু তোর জন্য।”
নিশিতার শরীর আরও শিথিল হলো। তার মাথা স্বাভাবিকভাবে ফারিসের কাঁধে আর হাত নরমভাবে ফারিসের বাহুর ওপর ছড়িয়ে গেল। চাঁদের আলো তার মুখে পড়ছিল, আর ফারিসের চোখে সেই আগুন—উন্মাদনা আর কোমলতার এক অদ্ভুত মিশ্রণ। মুহূর্তটা এতটাই নাজুক, এতটাই ড্রিমি, যে চারপাশের অন্ধকার আর শব্দ—সব মিলিয়ে এক স্বপ্নের মতো হয়ে উঠল।
ঘুমের মধ্যে নিশিতার নিঃশ্বাসের তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে লাগল। ফারিস দেখল, তার প্রিয়জন এখন স্বপ্নের জগতে হারিয়ে গেছে। কিন্তু তার স্পর্শ এখনও নিশিতার শরীরের সঙ্গে সংযুক্ত, প্রতিটি ছোট ছোট আন্দোলন, প্রতিটি নড়াচড়া—সব মিলিয়ে ফারিসকে প্রায় মাতাল করে তুলল।
ফারিস নিজেও ধীরে ধীরে শিথিল হল। নিশিতার কপালে হালকা চুম্বন দিল, আর ঠোঁটের প্রান্তে হালকা স্পর্শ রাখল। সে বুঝল, এই ঘুম শুধু বিশ্রাম নয়—এক গভীর, নাজুক এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের শুরু।
ঘুমের মধ্যেও নিশিতার শরীর তার স্পর্শে সাড়া দিচ্ছিল। প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি নড়াচড়া—সব মিলিয়ে ফারিসের হৃদয়ে এক অদ্ভুত শান্তি এবং উত্তেজনার সংমিশ্রণ তৈরি করল। মনে হচ্ছিল, পুরো রাতটাই এই নীরব, স্বপ্নময়, অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ভেসে যাচ্ছে।
চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ২৮
ফারিস চুপচাপ রইল। নিশিতার ঘুমের মধ্যে সে তার হাত ধীরে ধীরে সরিয়ে না, বরং হালকা স্পর্শ রেখে দেখল, নিশিতার নিঃশ্বাস আর শরীরের প্রতিক্রিয়া—সবই যেন একটি নরম সুরের মতো তার মনকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। তারপর অবশেষে৷ ক্লান্ত হয়ে নিশিতার বুকে মাথা রেখে। ফারিস নিজেও হারিয়ে গেলো ঘুমের রাজ্যে।
