জাহানারা পর্ব ১৩
জান্নাত মুন
“আমার জন্য চিন্তা করো না আম্মু আমি ঠিক আছি।তোমার মেয়ে এত দুর্বল নয়। আমি ঐ ইফান চৌধুরী কে ছাড়বো না কিছুতেই। আমার সুন্দর জীবনটা ন’ষ্ট করে দিয়েছে ঐ শ’য়তানটা। আমি ওকে কোনোদিন ক্ষমা করবো না। কোনোদিন না।”
ফোনের ওপ্রান্তে আমার আম্মু। আজ সারাদিন বাড়ির কারও সাথে একটি শব্দও বিনিময় হয়নি। সবার আগেই ডিনার শেষ করে নির্জনে নিজের রুমে চলে এলাম। আর তা নিয়েই নাবিলা চৌধুরী কত যে নাটকীয় কাহিনি ফেঁদে বসলেন! এই চারদেয়ালের মাঝে আমার মনটা আর কিছুতেই টিকছে না; নিষ্ঠুর ভাগ্য আজ আমায় এমন এক গৃহকোণে এনে দাঁড় করাল। গুমরে থাকা মনটাকে কিছুটা হালকা করার অভিপ্রায়েই আম্মু কে কল দিলাম। আম্মু অনবরত আমায় বুঝিয়ে চলেছে— যা অতীত হয়েছে তা ভুলে নতুন করে সংসার করতে। কিন্তু আম্মুকে কী করে বোঝাব যে, বনের পাখি কখনো খাচায় বন্দি থাকতে শেখে না? এই যে নিশীথ রাত ১২টা বেজে গেল, অথচ বাড়িতে আসার নাম নেই ইফান চৌধুরীর। বড় লোকের বকে যাওয়া এক ছেলে। পারিবারিক বিজনেস সামলানোর সাথে সাথে বাপের রাজনীতিও সামলায় আরও অনেক,,
–“কিরে জাহান মা শুনতে পাচ্ছিস আমার কথা?”
আম্মুর ডাকে ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে বললাম,
–“হুম পাচ্ছি। তুমি যা বলছো তা আধও সম্ভব হবে না আম্মু । আমি আমার কাজ সেরেই তোমাদের কাছে চলে যাবো।”
–“চলে আসবি এটা আবার কেমন কথা? এখন আর তুই আমাদের বাড়ির মেয়েই না চৌধুরী বাড়ির বউ-ও।”
–“ও তাই বুঝি আমাকে তোমাদের কাছে থাকতে দেবে না?”
–“এটা কোনো কথা জাহান? তুই বললে তোর বাপ চাচা ভাই রা এখনই তোকে নিয়ে আসবে।”
–“তাহলে এটাই ডান। আমি আমার কা……”
“কে! কে ওখানে ?”
অসম্পূর্ণ বাক্যটি আর শেষ করতে পারলাম না, তার আগেই আমার সজাগ দৃষ্টি গিয়ে আছড়ে পড়ল রুমের দরজার ওপর। এতক্ষণ বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আম্মুর সাথে কথা বলছিলাম। হঠাৎ পেছনে তাকাতেই মনে হলো পর্দার আড়াল থেকে ছায়ার মতো কিছু একটা সরে গেল; সাথে সাথেই থেমে গেল আমার ফোনালাপ। ত্বরিত পায়ে দরজার কাছে গিয়ে দেখলাম সেখানে জনমানবের চিহ্ন নেই। তবুও মনকে শান্ত করতে এদিক-সেদিক উঁকি দিয়ে ভালো করে দেখে নিলাম। না, কেউ তো কোথাও নেই! তবে কি সবি আমার মনের ভুল ছিল?
–“কি হয়েছে জাহান?”
ফোনের অপর প্রান্ত থেকে আম্মুর কন্ঠ কানে আসতেই ফোনটা কানে ধরলাম,
–“আম্মু আমি পড়ে কথা বলবো আর তোমরা আমাকে কখনো ফোন দিয়ো না। আব্বু কে বলো চিন্তা না করতে এখন রাখি।”
এই প্রাসাদের মতো বাড়িতে পদার্পণ করার পর প্রথম এক সপ্তাহ সবকিছু মোটামুটি স্বাভাবিক ছন্দেই কাটছিল। নাবিলা চৌধুরী আর আমার মধ্যেকার সেই চিরচেনা রোজকার কথা-কাটাকাটি যেন প্রাত্যহিক নিয়মে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু সপ্তাহ গড়াতেই ইফান চৌধুরী দেশের বাইরে পাড়ি দেয়। অদ্ভুত বিষয় হলো, তারপর থেকেই নাবিলা চৌধুরীর সাথে আমার আর কোনো বিবাদের সুর বাজেনি।
আমি তাকে উস্কানি দিতে অনেক খুঁচিয়েছি, বাট তিনি আমার প্রতিটি কথা শুনেও না শোনার এক সুনিপুণ অভিনয় করে গেছে। আজ প্রায় ২১ দিন কেটে গেল, ইফান চৌধুরীর কোনো খুঁজ নেই। আমিও আর আগ বাড়িয়ে কারো কাছে কোনো কৌতূহল প্রকাশ করিনি। আমি তো নীরবে আমার কাজ করতেই ব্যস্ত।
নিশুতি রাত তাই ব্যস্ত শহরটা ও ঘুমিয়ে পড়েছে। ঘন্টার কাটা তিনে আসতেই চৌধুরী ম্যানশনের মেইন ডোর খুলে প্রবেশ করে দানবাকৃতির বিশাল এক ছায়া। পুরো ড্রয়িং রোম অন্ধকারছন্ন হওয়ায় আগন্তুক কে অশরীরির মতোই লাগছে। আগন্তুক পুনরায় ডোর ক্লোজ করে সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় কিনারে বড় ঘরটার দিকে অগ্রসর হয়। আগুন্তকের পদচারণ বেশ টালমাটাল। শরীরের ব্লেজারটা খুলে কাঁধে নিয়ে দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো। অতপর পাসওয়ার্ড চেপে হালকা ধাক্কা দিতেই দরজা খুলে যায়। আমি তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
বিগত বেশ কয়েকটা রজনী ধরে দুচোখের পাতায় ঘুম নামে না। কেন যেন মনে হয়, আমার এই বদ্ধ ঘরের দরজার ওপাশে কোনো এক ছায়া অবিরত পায়চারি করে বেড়ায়। এক রাতে কৌতূহল আর ভীতি নিয়ে উঁকিও দিয়েছিলাম; কিন্তু সেই নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে যতদূর দৃষ্টি যায়, কাউকে দেখতে পাইনি। নির্ঘুম রাতের এমন প্রহর কাটতে কাটতে শরীরে আজ ক্লান্তির বিশাল এক ঘাটতি তৈরি হয়েছে, অথচ দিনের আলোয় ঘুমানোর অভ্যাসটুকুও আমার নেই।
ইফান সেদিন আমার জন্য একরাশি শাড়ি নিয়ে এসেছিল— প্রতিটিই অসম্ভব এক্সপেন্সিভ। তবে ঐ তেঁদলে লোকটা বোধহয় কোনোদিন সুধরাবে না। শাড়ির সাথে সে নিয়ে এসেছিল অসংখ্য নাইডি; বিদেশের সেই রমণীদের মতো ফিতা দেওয়া জা’ঙ্গিয়া আর জালির ব্রা! কতটা নি’র্লজ্জ হলে এমন উপহার দেওয়া যায়! সেদিন নিশীথে সে যখন আমায় বাহুপাশে জাপটে ধরল, তার মুখে সেই একঘেয়ে দাবি,
“এত টাকা খরচ করে এসব এনেছি, এখন আমার হক চাই। একপর্যায়ে দু-এক ঘা আদান-প্রদান করে অবশেষে আলাদা বিছানায় ঠাঁই নিলাম।”
ইফানের আনা সেই শাড়ি পরেই কদিন ভার্সিটিতে গিয়েছি। কিন্তু বারবার মনে হয়, কোনো এক জোড়া চোখ আমাকে ফলো করছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমার মতো নগন্য একজনকে ফলো করার মতো কী দায় পড়েছে কারোর? আমি তো কোনো চোর বা ডাকাত নই!
আমি অঘোরে চিত হয়ে শুয়ে আছি, আর খোলা বেলকনি দিয়ে চুইয়ে আসছে এক চিলতে শীতল হাওয়া। সেই হিমেল পরশ আমার তন্দ্রাকে যেন আরও গাঢ় আর মোহময় করে তুলেছে। গভীর ঘুমের সেই মায়াজালে আচ্ছন্ন থেকেই হঠাৎ অনুভব করলাম— আমার নাকে-মুখে আছড়ে পড়ছে কারো তপ্ত নিঃশ্বাসের উত্তাপ। কেউ একজন আমার ওপর ঝুঁকে আছে, স্থির হয়ে। আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জানান দিল, এই আগন্তুকের শরীরের ঘ্রাণ আমার বড় পরিচিত, বড় চেনা।
তড়িৎ গতিতে আমার মস্তিষ্ক সচল হয়ে যায়। তবে আমি অনেক ঠান্ডা মাথার কি’লারি। তাই আগুন্তককে বুঝতে দিলাম না আমি জেগে গেছি। নিঃশব্দে কেটে যায় কিছুক্ষণ। অনুভব করতে পারছি আমার দিকে পলকহীন কারো প্রখর চাহনি। ধীরে ধীরে তপ্ত শ্বাস তীব্র হয়ে আঁচড়ে পড়ছে আমার মুখের উপর। পরপরই আমার কানের লতিতে আগুন্তক তার খরখরে ওষ্ঠোধর ছোঁয়ল। তারপর হিসহিসিয়ে বলা পুরুষালী মাদকীয় হাস্কি কন্ঠস্বর কানে বাজলো,
–“কতদিন ধরে তোমার মুখের ঝাড়ি খাই না বুলবুলি।”
–“ঠিকই ধরেছিলাম, এই বো’কাচো* টা আপনি ছাড়া আর কেউই হতে পারে না।”
কর্কশ বাক্য ছুড়ে তড়িৎ গতিতে চোখ খুললাম।পূর্ণিমা রাত হওয়ায় বেলকনি দিয়ে আসা এক চিলতে চাঁদের আবছায়া আলোয় তার মুখাবয়বে তাকালাম।নে’শায় বোধ অথচ তার ঠোঁটের কোণে সেই অসুভ ব্যাঙ্গাত্বক হাসির রেখা।
–“উফফ কলিজা ঠান্ডা করার মতো কথা বললে ঝাঁঝওয়ালি।”
হাস্কি স্বরে পুনরায় হিসহিসিয়ে বলল। ইফান কথা বলার সময় মুখ থেকে বি’চ্ছিরি গন্ধ বের হচ্ছে। তাতে করে আমার বমি চলে আসছে। আমি নাক মুখ কুঁচকে তাকে আমার উপর থেকে সরাতে ধাক্কা দিলাম। তাতে করে তার শরীরের সব ভর আমার উপর দিয়ে গলার ভাজে মুখ গুঁজে দিলো। আমি তার পিঠে থা’প্পড় দিতে দিতে কর্কশ গলায় বলে উঠলাম,
–“ইয়াক কি গন্ধ আপনার মুখে, সরুন বলছি।আপনার সাহস কিভাবে হলো বাইরে থেকে গু-গো’বর খেয়ে এসে আমার সাথে ডলাডলি করার?”
–“যেভাবে তোমাকে খেয়েছিলাম সেভাবে।”
আমার কথার পিছনেই ইফান মাতাল অবস্থাতেই প্রতিত্তোর করলো। নে’শায় বুদ হয়ে আছে সম্পূর্ণ। কি জানি আমার কথা কানে ডুকছে কিনা বুঝতে পারছি না। আমি কখন থেকে আমার উপর থেকে সরানোর চেষ্টা করছি। ষাঁড়ের মতো শরীরের সব ভর আমার উপর ছেড়ে দিয়েছে। এদিকে ব্যথায় শরীরটা টনটন করছে। অনেক কিল ঘু’ষি দিলাম, তবে লাভ হলো না। আমার অস্থিরতায় এবার সে মুখ খুললো। ফিসফিস করে হাস্কি সরে বললো,
–“এত নাড়াচাড়া করো না বুলবুলি। এতে আরো বেশি করে ইয়ে পাচ্ছে।”
আমি তেতে উঠলাম ইফানের লাগামহীন কথাবার্তা শুনে। সহসা রাগে চেঁচিয়ে বললাম,
–“এত যখন ইয়ে পাচ্ছে তাহলে লেপ্টিনে গিয়া হা’গা কর। আমার কাছে আসছিস কেন?”
কে শুনলো কার কথা। কর্ণপাত করার অবকাশ কোথায় তার? অতর্কিতে বক্ষপট থেকে অবগুণ্ঠন বিচ্যুত হলো। গ্রীবা হতে ওষ্ঠাধর সরিয়ে সে নিমগ্ন হলো বক্ষ-ভাঁজের অতলে। রোষ, বিষাদ আর ঘৃণার তীব্রতায় অন্তর উদ্বেলিত হয়ে রোনাজারি করতে চাইছে। রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনুভব করছি তার সেই পাশবিক স্পর্শের দহন। স্মৃতির পটে প্রবলভাবে ভেসে উঠছে সেই কালরাত্রির বীভৎসতা। সেদিন তাকে মনুষ্যরূপে গণ্য করা ছিল অসম্ভব; সে ছিল এক ন’রখাদক হায়না, যে কেবল পাশবিক লালসা চরিতার্থ করতে আমায় শিকার করেছিল। ক্রমশ তার বন্য অধর আর করস্পর্শের প্রখরতা উগ্রতর হয়ে উঠছে। যখনই সে আমার ব্লাউজ-এর বোতাম উন্মোচনে উদ্যত হলো, ক্ষিপ্রতায় আমি তার চুলগুলো সজোরে মুষ্টিবদ্ধ করলাম। অতঃপর অশ্রাব্য ভাষায় গর্জে উঠলাম,
–“কু’ত্তার বাচ্চা ছাড় বলছি, না হলে চিৎকার করে বাড়ি মাথায় করবো।”
–“ইয়্যু ক্যান ডু ইট। বাই দ্যা ওয়ে আমার রুমটা কিন্তু সাউন্ড প্রুফ।”
তীব্র আক্রোশে আমি ইফানের চুল আরও সজোরে টেনে ধরলাম; আমার সেই ম’রণপণ টানে সে হয়তো তীব্র ব্যথায় কুঁকড়ে গেল। অন্ধকারের নিবিড়তায় তার চেহারার যন্ত্রণাক্লিষ্ট অভিব্যক্তি অলক্ষ্যেই থেকে গেল। ইফান আমায় ছেড়ে দিয়ে উদ্ধত ভঙ্গিতে আমার গায়ের ওপর জেঁকে বসল। তারপর আমার চোয়াল শক্ত হাতে চেপে ধরে, দাঁতে দাঁত পিষে রুদ্ধ আক্রোশে সে বলে উঠল,
–“দেখ এমনিই তোকে না পেরে বিয়ে করেছি। আর এদিকে এক মাস হতে চললো অথচ তুই আমার কাছে আসতে চাস না। তর কি আমাকে কা’পুরষ মনে হয়? এই তুই ছুঁতে না দিলে আমি তোকে টাচ করব না? মাই ডিয়ার ফা’কিং বুলবলি,
আ’ম নট আ সেইন্টলি, আইডিয়াল হাজব্যান্ড, ডিয়ার। আ’ম আ ফা’কিং টেররিস্ট, টোটালি ব্যাড গাই।
আমি ভার্জিন ছিলাম না তা তুমি আগে থেকেই জান নিশ্চয়ই। বাট আই’ভ চেঞ্জড নাউ।
ইউ নো, এতদিন আমি দুবাই ছিলাম? বাট আই হ্যাভেন্ট টাচড এনি ওম্যান। হোয়াট হ্যাভ ইউ ডান টু মি, গার্ল?
ইফান চৌধুরীর শক্ত থাবায় আমার দাঁত খোলে পড়ে যাবে এমন অবস্থা। কিছুক্ষণ আগেও ব্যথায় মুখের রক্ত সরে গিয়েছিল। কিন্তু ইফানের কথা শুনে ঘৃণায় বমি চলে আসতে চাইছে। এত নোং’রা লোক আমার স্বামী! ভাবতেই চোখ থেকে টপটপ করে কয়েক ফোটা পানি ঝড়ে পড়ল। সাথে সারা গা ঘৃণায় কেমন ঘিনঘিন করে উঠল। এই লোকটা একদিন আমার স’তীত্ব কে’ড়ে নিয়েছিলো। তার ছোঁয়া এখনো আমার দেহের প্রতিটি ভাজে মিশে আছে। আমি চোখ বন্ধ করে ইফানের দিক থেকে মুখ সরিয়ে নিলাম। ইফান আমার চেহারা পরুখ করে ঠোঁট বাঁকাল। অতঃপর আমার কানের কাছে ঠোঁট এনে হিসহিসিয়ে বলল,
–” আর ইউ ট্রাইং টু টেক কন্ট্রোল অব মাই মাইন্ড? না হলে কত ড্রা’গস নিলাম তোমায় আমার মস্তিষ্ক থেকে বের করতে। বাট আ’ম টোটালি ফেল। বেইবি ডিড ইউ হাইপনোটাইজ মি? না হলে কেন তুমি ছাড়া আর কিছু ভাবনায় আসে না। হুয়াই টেল মি?”
এবারও আমি মৌনতার আবরণে নিজেকে ঢেকে রাখলাম। পাথুরে প্রতিমার ন্যায় মুখাবয়ব শক্ত করে অবজ্ঞাভরে দৃষ্টি সরিয়ে নিলাম। আমার এই নির্বাক উপস্থিতি দেখে ইফানের ওষ্ঠে পুনরায় সেই বক্র হাসির ঝিলিক খেলে গেল। নিমিষেই সে তার বাক্যের লাগাম টেনে ধরল। অতঃপর অবিন্যস্ত হাতে একে একে শার্টের প্রতিটি বোতাম উন্মোচন করে সেটি তুচ্ছাবরণীর মতো দূরে ছুড়ে ফেলে দিল। পরক্ষণেই তার দেহের সমস্ত ভার আমার উপর সঁপে দিয়ে সে আমার অধরপল্লব আপন দখলে নিল। মুহূর্তকাল পরেই এক লোনা স্বাদ আমার মুখগহ্বরে সঞ্চারিত হলো। ওষ্ঠাধর আর শরীর এক তীব্র দহনে বিদীর্ণ হচ্ছে; কিন্তু ইফানের দুর্ভেদ্য শৃঙ্খলে আমি আবদ্ধ। শত চেষ্টাতেও তাকে দূরে সরিয়ে দিতে পারলাম না।
এক পর্যায়ে ইফান যখন আমার পা স্পর্শ করে পরিহিত শাড়ির বসন টেনে তুলতে উদ্যত হলো, তখন আমার সহ্যের বাঁধ সম্পূর্ণত ভেঙে গেল। আত্মরক্ষার চরম তাগিদে আমি সজোরে পদাঘাত করলাম তাকে। আমার এই আচমকা আক্রমণে সেও অপ্রস্তুত ছিল। মুহূর্তের ব্যবধানে সে আমার ওষ্ঠাধর মুক্ত করে দিয়ে আমার ওপর থেকে ছিটকে দূরে সরে গেল। আর মৃদু সরে আওয়াজ করে উঠলো,,
–“আউচ্।”
সুযোগ বুঝে আমি প্রস্থান করতে উদ্যত হতেই, এক প্রবল হেঁচকা টানে সে আমাকে বেডে আছড়ে ফেলল। আমার নিরন্তর হুমকি-ধমকি তাকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারল না; বরং অবজ্ঞার সাথে সে তার প্যান্টের বেল্ট খুলে আমার দুই হাত আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে দিল। কক্ষের সেই ম্লান হলদেটে আলোয় ফুটে উঠল তার ওষ্ঠকোণে লেগে থাকা সেই পৈশাচিক হাসি। অতঃপর ঘনিষ্ঠতার অন্তিম লগ্নে আমার কানের লতিতে সিগারেটে পুড়া ঠোঁট ছুঁইয়ে হিসহিসিয়ে হাস্কি স্বরে বলল,
জাহানারা পর্ব ১২
–“তুমি কি ভেবেছিলে আমার সাথে খেলবে? সিল্লি গার্ল! খেলাবো তো আমি, তবে মাঠে নয় বেডে।”
অতঃপর পুনরায় তার সেই দৃপ্ত পুরুষত্বের যূপকাষ্ঠে আমি উৎসর্গিত হলাম। তবে এ আত্মসমর্পণ কোনো কলুষিত বা হারাম পথে নয়, বরং পবিত্রতার আবরণে তা ছিল একান্তই হালালভাবে।
