জাহানারা পর্ব ১৪
জান্নাত মুন
উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার শেষ মাথায় একটা জায়গা আছে, যেটা স্থানীয় লোকজন “গুম জায়গা” নামে চেনে। চারপাশে উঁচু উঁচু ঘাস, গাছের নিচে পড়ে থাকা শুকনো পাতার স্তূপ, মাঝখানে একটা পুরনো ভাঙা ওয়াচ টাওয়ার, আর তার পাশে কুয়োর মতো দেখতে অনেক অদ্ভুত রকমের ছোট বড় গর্ত। রাতে ওদিকটায় বাতি জ্বলে না বিধায় ঘুটঘুটে আঁধারে ছেয়ে যায়।
শুধু দূরের ট্রেন লাইনের ধাতব শব্দ, বাতাসে পাতার সুর আর মাঝে মাঝে শিয়াল কিংবা পাখির ডাক ভেসে আসে।স্থানীয় লোকজন বলে,
❝বহু বছর আগে একজন নববধূ গাছের ডালের সাথে গলায় দ’ড়ি দেয়। তারপর থেকে জায়গাটা পরিত্যক্ত হয়ে আছে।এখানে মানুষ তো ধুর কুকুরও এদিকে আসে না।❞
স্থানীয় অনেকের মতে এখান থেকে বেশ কিছু অ’দ্ভুত আওয়াজ আসে। যার কারণে দিনের আলো নিভে যাওয়ার আগেই সকলে লোকালয়ে পৌঁছে যায়।অনেকের মতে সন্ধ্যার পর এখানে কেউ আসলে আর ফেরত যায় না। বরং পরদিন কোনো না কোনো ভাবে তাদের লা*শ পাওয়া যায়। এই যেমন লেখে ভাসমান আবার কখনো গাছে গ*লায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে বা কখনো মাথা নিচে পা উপরে দিয়ে মাটিতে অর্ধেক কু*পে আছে।যার কারণে স্থানীয়রা এই স্থানটা ভূতরে পরিত্যক্ত স্থান বলে এদিকে আসে না।
গত কয়েক বছর ধরে এমন ঘটনা আর ঘটেনি।তাই মাঝে মাঝে এই জায়গায় মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। তবে দুদিন আগে আবার একজনের লা”শ পাওয়া যায়। লা*শটিকে প্রথমে দেখতে পারে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তৎক্ষনাৎ পুলিশ আসে আর লা*শটিকে উদ্ধার করে গাছের ডাল থেকে। একটা জিনিস খুব অদ্ভুত লাগে সকলের কাছে। কখনো কোনো পুরুষের লা*শ গাছে ঝুলানো পায়নি। যত লা*শ আজ পর্যন্ত গাছে ঝুলতে দেখেছে তারা সবাই মেয়ে। আরও অদ্ভুত বিষয় সকলের পড়নে লাল শাড়ি যেন কোন নববধূ।
আজকের প্রকৃতিটা শান্ত মনে হচ্ছে। উত্তরা বাংলাদেশের অন্যতম উন্নত শহর। সুতরাং শহরটা বরাবরই ভীষণ ব্যস্তই থাকে। তাই রাতের হঠাৎ ধমকা প্রবল হাওয়ায় শান্ত মনে হচ্ছে এখানকার প্রকৃতিকে।গতকাল রাতটা ছিল আমার জীবনের আরেকটি অভিশপ্ত রাত। আমার দেহের প্রতিটি ভাজে অধিকার ফলিয়েছে আমারই স্বামী। অধিকার বললে ভুল হয়। আমাকে খাবলে খাওয়ার নিদারুণ প্রচেষ্টা চালিয়ে ছিল স্বামী নামক হায়নাটা।
অতঃপর সারারাত ঘুমাতে না পারায় ফজরের দিকে ক্লান্ত হয়ে চোখদুটো বুঝে ছিলাম। কখন যে ঘুমিয়ে পাড়লাম বুঝতেই পারলাম না। বেলকনি দিয়ে সূর্যের তীর্যক আলো ঘরে আসায় ঘুম ভাঙে। আস্তে করে ক্লান্ত চোখগুলো খুলি। মনে হচ্ছে এই তো সবে মাঝরাত কিন্তু কখন যে ব্যস্ত শহরটা আবারও ব্যস্ততায় রুপ নিল ঠাহর করতে পারছি না। হাতরে বেড সাইট থেকে ফোনটা নিলাম। নয়টা বেজে গেছে তা দেখে আর অবাক হলাম না। সময়ের আর দোষ কি? সে তো তার মতো প্রবাহমান।
একই চাদরের নিচে বস্রহীন হয়ে শুয়ে আছি আমি আর ইফান চৌধুরী নামক জা’নোয়ারটা। সে উল্টো ভাবে চিত হয়ে ঘুমাচ্ছে। চাদর টা তার কোমর অবধি দিয়ে ঢেকে রেখেছে। ফর্সা তার দেহের রং। জিম করা তার পেশিবহুল দেহের গঠন। একবার যে তাকাবে তার নিশ্চয়ই নেশা লেগে যাবে। এই যে এত ঘৃণা করি তারপরও তার দিকে তাকলেই কেমন যেন নেশায় বুদ হয়ে যাই। কেমন যেন নিজের থেকেই হারিয়ে যাই।কিন্তু তার বাহ্যিক গঠন যতটা আকর্ষণীয় ঠিক ততটাই জ’ঘন্য তার অন্তরটা।
এগুলো ভাবলেই আমার ঘৃ’ণা শতগুণ বেড়ে যায়। তাই তো বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারলাম না।ঘৃ’ণার সহিত দৃষ্টি সরিয়ে নিলাম। অনেক বেলা হয়ে গেছে। লিভিং রুম থেকে কোলাহল আসছে। আমি কখনোই এত বেলা করে ঘুম থেকে উঠি না। তাই তাড়াতাড়ি শাওয়ার নিয়ে ফ্রেশ হতে হবে। আশেপাশে চোখ ঘুরালাম ফ্লোরে ওর শার্ট টা পড়ে আছে বাট আমার ড্রেস কোথায় আরেটু চোখ ঘুরাতেই চোখ পড়লো দরজার দিকে। কি অবহেলায় না আমার শাড়ি সহ সকল বস্র পড়ে আছে। একটা তপ্ত শ্বাস ছেড়ে ফ্লোর থেকে ইফানের শার্টটায় কু্ড়িয়ে পড়ে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ালাম। কিছু একটা ভেবে আবার জা’নোয়ারটার দিকে তাকালাম। রাতে আমার ঘুম হা’রাম করে এখন কি শান্তি তে ঘুমাচ্ছে।
❝ইয়াআ❞
বেশি কিছু না, ওর শান্তির ঘুম সহ্য করতে পারলাম না। তাই আবার বিছানার উপরে উঠে মুখে আওয়াজ করে ইফানের পাছায় একটা লাথি মা’রলাম। ঘুমের মধ্যে খেই হারিয়ে ফ্লোরে পড়ে গেলো সে। আহা এখন কি শান্তিই না লাগছে। আর একমুহূর্ত সময় ব্যয় না করে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলাম। এদিকে ইফান চৌধুরী ধরফরিয়ে চোখ খুলে নিজেকে আবিষ্কার করে ফ্লোরে। সে ফ্লোরে পড়লো কিভাবে ঠাহর করতে পারছে না। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হওয়ায় আর মাথাও কাটালো না। আবার উঠে শুয়ে পড়লো একই ভাবে।
বেশ সময় নিয়ে ফ্রেশ হোলাম। আজকেও একটা শাড়ি পড়েছি রংটা বেশ সুন্দর মিক্স কটন শাড়ি।আমাকে দেখতেও দারুন লাগছে।ঐদিন দাদি আমাকে বলে দিয়েছে সবসময় শাড়ি পড়ে থাকতে। এটা নাকি এই বাড়ির নিয়ম।তাই তো সবসময় নাবিলা চৌধুরী, চাচি শাশুড়ী মনিরা এমনকি পলিকেও শাড়ি পড়তে দেখি সবসময়। আয়নার সামনে দাড়িয়ে আরেকবার নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলাম।নিজের প্রশংসা নিজে কেউ করে না তবে আমি করছি আজকে আমাকে অন্যদিনের থেকে মাশাআল্লাহ লাগছে।
নিজেকে দেখতে দেখতে হঠাৎ আয়নায় দেখতে পেলাম ইফান চৌধুরী কে। সেই আগের মতোই উপর হয়ে পড়ে আছে এদিকে ফিরে। তবে এবার আর ঘুমাচ্ছে না, অদ্ভুত ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি আয়নায় তাকে আমার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে পিছন ফিরে তার দিকে তাকালম।তখনও অদ্ভুত ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে ইফান। তার দৃষ্টি দেখে মনে হলো সে এখন নেশায় বুদ হয়ে আছে। আমি ব্রু কুঁচকে এগিয়ে বেডের কাছে গিয়ে কর্কশ কণ্ঠে শুধালাম,
–“আমার শরীর থেকে কি মধু ঝরছে ; এভাবে তাকিয়ে থেকে গিলে খাচ্ছেন কেন?”
আমার কথায় ইফান এবার কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আমার চোখে চোখ রাখলো। পরক্ষণেই তার ঠোঁটের কোণে ভেসে উঠলো সেই চিরচেনা হাসির রেখা। ঠোঁট কামড়ে হাস্কি স্বরে হিসহিসিয়ে বললো,
–“সারা রাত তো মধুই সংগ্রহ করলাম তবুও যে কেন শেষ হলো না বুঝলাম না। এখনো মধু ঝরছে কিভাবে? আর তুমি কি বললে আমি তোমাকে গিলে খাচ্ছি? ইফ নোপ, আমি তো তোমার শরীর থেকে মধু চেটে চেটে খাওয়ার ধান্দা করছি বুলবুলি।”
হাস্কি স্বরে ইফানের বলা প্রতিটি বাক্যই শরীরে কাটা লাগিয়ে দেওয়ার মতোই। আমি বুকফুলিয়ে একটা শ্বাস ফেলে বেডের সাথে মিশে দাঁড়িয়ে ইফানের উপর একটু ঝুঁকে আঙুল তুলে বললাম,
–“গতরাত থেকেই দেখছি বুলবুলি বুলবুলি ডেকে ম’রছেন। সোজাসাপটা বলে দিলাম, আমাকে উল্টো পাল্টা নামে ডাকবেন না।”
আমার বলা বাক্যগুলো শেষ হওয়ার অবকাশটুকুও মিলল না, তার আগেই এক হ্যাঁচকা টানে ইফান আমাকে তার উন্মুক্ত ও ইস্পাতের মতো দৃঢ় বক্ষে আছড়ে ফেলল। তার দুই হাতের নিশ্ছিদ্র বাঁধনে আমি বন্দি হলাম। আমি যথাসাধ্য ছটফট করে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা চালালাম, কিন্তু ইফান যেন এই মূহুর্তে সকল সংবেদনশীলতার ঊর্ধ্বে। আমার সেই ব্যাকুলতাকে তোয়াক্কা না করে সে উন্মাদের মতো আমার গ্রীবা থেকে বক্ষ অবধি এলোপাতাড়ি চুম্বনের ক্ষত এঁকে দিতে লাগল। এরই সাথে হাস্কি স্বরে হিসহিসালো,
–“গতরাতের পরও দেখছি তোমর একটু ঝাঁজও কমাতে পারলাম না ঝাঁজওয়ালি। তাই তো তোমার প্রতি নেশা কাটতেই চাইছে না।”
ইশশশ লোকটার মুখ দিয়ে কি দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। আমার তো বমি এসে যাওয়ার উপক্রম । এরই মধ্যে সে আমার পিঠে ব্লাউজের ফিতায় হাত দিয়ে দিলো।আমি তৎক্ষনাৎ চেঁচিয়ে উঠলাম,
–“ইয়াক মুখ থেকে গু*য়ের মতো গন্ধ বের হচ্ছে ছাড়ুন বলছি।”
সে আমার কথায় শ”য়তানি করে আমার মুখের কাছে আরও বেশি হা করছে। আমার বমি এসে যাবে এমতাবস্থায় তখন অনুভব করলাম ব্লাউজের ফিতাটা ইফান যত্ন করে বেঁধে দিচ্ছে। আমি তার এমন কাজে অবাক হলাম। তবুও প্রকাশ করলাম না। বরং ইফানের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে তার উদ্দেশ্য অশ্রাব্য ভাষা আওড়ে দিতে দিতে চলে যেতে লাগলাম। ইফান আড়মোড়া ভেঙে হাসতে হাসতে পিছন থেকে চেঁচিয়ে বলতে থাকে,
–“আজ রাতেও কিন্তু আমরা ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ করবো ঝাঁঝওয়ালি। ইট্স ভেরি হেলদি ফর দ্য বডি।”
লিভিং রুমে সকলে বসে আছে। নাবিলা চৌধুরী, মনিরা বেগম,পলি,ইতি একসাথে টিভির সামনে বসে চা খাচ্ছে আর নিউজ দেখছে। অন্যদিকে শ্বশুর মশাই ইকবাল চৌধুরী আর চাচা শ্বশুর ইরহাম চৌধুরী চা খেতে খেতে রাজনীতি এবং পারিবারিক বিজনেস নিয়ে আলোচনা করছে। আমাকে সিঁড়ি থেকে নামতে দেখে ইতি দৌড়ে আসলো। আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠলো ,
–“আরে ভাবিজান আজ এত দেরি করে ঘুম থেকে উঠেছ কেন?”
আমি মৃদু হেসে উত্তর করলাম,
–“আজ ঘুমটা একটু বেশিই হয়েছে তাই আরকি।”
আমার দিকে সকলেই একবার তাকিয়ে পুনরায় তাদের মতো আলাপ করতে ব্যস্থ হয়ে পরেছে। আমি নাবিলা চৌধুরীর দিকে তাকাতেই তিনি আবার টিভির দিকে মনযোগ দিলেন। ইতি আমাকে টেনে সবার কাছে নিয়ে যায়। আমাকে দেখে পলি হেসে নাবিলা চৌধুরীর থেকে সরে বসে আমাকে জায়গা করে দেয়। আমিও গিয়ে ঐ খানে বসে পড়ি। তারপর আড় চোখে নাবিলা চৌধুরীর দিকে তাকালাম। এই মহিলাকে প্রথম প্রথম যেমন দেখেছিলাম এখন একেবারে ভিন্ন।আমার সাথে তেমন কথা বলে না। আমি ফেনফেন করলে মাঝে মাঝে একটা আধটা উত্তর দেয়। তবে মহিলার ভাব ভঙ্গি চলা ফেরা সব সময় পরিপাটি হয়ে থাকা একদম নজর কারা। দেখতে এখনো যথেষ্ট স্মার্ট। চৌধুরী বাড়ির কোম্পানির বাই চেয়ারম্যান বলে কথা। ভাবনার মাঝে পলির কথায় ধ্যান ভাঙে,
–“আহারে কি সুন্দর মেয়েটা এভাবে মা’রা গেলো।”
ওপাশ থেকে চাচি শাশুড়ী মনিরা বেগম বলে উঠলো ,
–“নারে পলি দেখছ না মেয়েটার গায়ে বউয়ের লাল শাড়ি। আমার তো মনে হচ্ছে তেনারা মে’রে ফেলেছে।”
তাদের কথায় টিভিতে তাকালাম। নিউজে দেখাচ্ছে দিয়াবাড়ি লেখের পাশের নির্জন জায়গাটায় আজ বহু বছর পর লা*শ পাওয়া গেছে। গাছের ডালে দড়ির সাথে ঝুলে ছিল। স্থানীয় পুলিশ লা”শ পরে উদ্ধার করেছে। দেখে মনে হচ্ছে আ”ত্মহ”ত্যা করেছে।এছাড়া তেমন কোনো প্রমাণ এখনো তারা সংগ্রহ করতে পারে নি।
আমি খুব মনোযোগ দিয়ে নিউজ দেখছি তখন আবারো পলির কথা কানে আসে,
–“জাহানারা ভাবি তোমার গলায় লা’লছে দাগগুলো কিসের?”
পলির কথাটা আস্তে শোনালেও নাবিলা চৌধুরীর কানে যায়। তবে উনি আমার দিকে একবার আড় চোখে তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নিয়ে চা খেতে খতে টিভি দেখায় ফের মন দেয়। আমি পলির কথায় নিজের গলা ও ঘাড়ের দিকে লক্ষ করলাম, কেমন লালছে দাগ হয়ে আছে। থাকবেই না কেন? ইফান শ’য়তান টা রাতে যেভাবে দাঁত বসিয়েছে সেই দিক থেকে গলার দিকে কম শরীরের অন্য সব স্থানে আরো বেশি। এখন পলি কে কি বলবো এগুলো স্বামীর দেওয়া দাগ? আর না বললে তো মাইন্ড করবে, ইফান নেই তাহলে এমন দাগ কিভাবে হলো? আসলে দেখে বুঝা যাচ্ছে এগুলো কিসের দাগ। পলির প্রশ্ন করতো না যদি জানতো ইফান দেশে চলে এসেছে। নাবিলা চৌধুরী আমার পাশে বসায় তার গায়ে জ্বলন ধরাতে ইচ্ছে করে শুনিয়ে বললাম,
–“আসলে না পলি তোমার ভাই রাতে দেশে ফিরেছে। আর তাকে তো চেনই কতটা বউ পাগল মানুষ।”
আমার কথায় পলি আর ইতি ঠোঁট চেপে হাসছে।কথাটা কাকিয়ার কান পর্যন্তও কিছুটা গেছে তাই কুক কুক করে কেশে উঠল। নাবিলা চৌধুরী এতক্ষণ চুপ থাকলেও এখন আমার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে প্রশ্ন করে বসল,
–“ইফান দেশে চলে এসেছে? কখন আমাকে তো কিছু বললো না!”
আমি উনার কথায় একটু ভাবসাব নিয়ে বললাম,
–“আসলে কি বলেন তো ও আমাকে ভীষণ মিস করছিল তাই হঠাৎই চলে এসেছে।”
নাবিলা চৌধুরী খুব ভালো করে জানেন আর আর ইফানের সম্পর্ক কেমন, তাই সরু চোখে তাকাল আমার দিকে। আমি আরেকটু উনার সাথে ঘেসে ফিসফিস করে বললাম,
–“এই যে দেখছেন গলায় লাল দাগগুলো। এগুলো আপনার ছেলে কাল রাতে আদর করে, করে দিয়েছে।”
–“নি’র্লজ্জ মেয়েছেলে।”
তেতে উঠলো তৎক্ষনাৎ নাবিলা চৌধুরী। তারপর দাঁতে দাঁত পিষে তিনি উনার পেটের থেকে শাড়িটা একটু সরিয়ে আমাকে দেখিয়ে বলে উঠলো ,
জাহানারা পর্ব ১৩
–“এই যে দেখছ লাল দাগগুলো। এগুলো তোমার শ্বশুর মশাই আদর করে, করে দিয়েছে। তাই বলে তোমার মতো বেহায়া গিরি করে লোকজনকে দেখিয়ে বেড়াচ্ছি না। অসভ্য মেয়ে কোথাকার।”
নাবিলা চৌধুরীর এমন কাজে আমি চরম আশ্চর্য হয়ে গেলাম। উনি যে এমন কিছু বলবে, তা আমি কোনোদিন কল্পনাও করি নি। বিস্ময়ের রেশ তখনো কাটেনি, সহসা উনাকে কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই তার আগেই সদর দরজায় কলিং বেল বেজে উঠলো। এই সাজ সকালে আবার কে আসলো— মনে প্রশ্ন জাগলো। কাজের মেয়ে লতা এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলতেই ঘরে প্রবেশ করলো একজন মহিলা, সঙ্গে একটা ইয়াং মেয়ে আর ছেলে।
