Home তুই আমার ৭ মিনিট তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ২২

তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ২২

তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ২২
ঐশী আফরিন

রুমে এসে মাধবী সাদা শাড়ি পাল্টে একটা কলা পাতা রঙের শাড়ি পরেছে। শাড়িটা কাশেমের বউ পূর্ণিমা পড়িয়ে দিয়ে গেছে। মাধবী বাঙালি শৈলীর ভাবে শাড়ি পরতে পারে না তাই। গোসলের পর ভিজা চুল এখনও খোলা হয়নি। চুলগুলো খুলে একটা ছোট্ট আয়না সামনে নিয়ে বসে আছে। চুল থেকে এখনও বিন্দু বিন্দু পানি পরছে। বিছানা ভিজে যাবে বলে মাধবী উঠে একটা কাঠের চেয়ারে বসে। তার বড্ড আলস্য আর বিরক্ত লাগে চুল মুছতে। হাতগুলো ব্যাথা হয়ে যায় এত লম্বা চুল মুছতে। তাই এভাবেই বসে আছে। আর ঠান্ডায় ক্ষণে ক্ষণে কেপে উঠছে। তবুও এক ধ্যানে আয়নার দিকে তাকিয়ে কি যেন দেখেই যাচ্ছে। তাকে শাড়ি পরাবে বলে আরিয়ান বাহিরে ছিলো এতক্ষন। পূর্ণিমা বেরিয়ে যেতেই সে সিরি থেকে ডাকতে ডাকতে ঘরে ঢোকে

“কিরে টুনির মা? এই টুনির মা? টুনির মা?”
মাধবী আয়না থেকে চোখ সরিয়ে বিরক্ত হয়ে বলে “জানেন না মেয়েদের ঘরে ঢুকতে হলে অনুমতি নিতে হয়? আর টুণির মা কাকে বলছেন আপনি?”
” নাহ জানি না। আর জানলেও ভুইলা গেছি। আমি আমার বউয়ের ঘরে ঢুকছি তোর এত জ্বলে ক্যান? আর টুনির মাও আমি আমার বউরে ডাকছি। বিয়ার আগে আমার বউ ছিলো পরীর বাচ্চা আর এখন টুনির মা ”
“বাহ! কিছু বলার নাই” বলেই মাধবী আবার আয়নার দিকে তাকিয়ে থাকে।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

আরিয়ান ভালোভাবে একবার মাধবীকে মুগ্ধ চোখে অবলোকন করে বলে “তোকে এই রঙে অপ্সরার মত লাগছে”
মাধবী কিছু বলে না বলে আয়নার দিকে তাকিয়ে থাকে। তার চেহারায় মাহফুজ চৌধুরীর মত রঙ না হলেও মুখের গঠন একদম এক রকম। পার্থক্য টা শুধু মাহফুজ চৌধুরীর গায়ের রঙ রোদে পুরে হালকা লালচে ছিলো আর মাধবীর রঙ একদম গোলাপি ফর্সা। মাধবীর তার বাবাকে মনে পড়লেই আয়না সামনে নিয়ে তাকিয়ে থাকে। নিজের চেহারায় খুজে পায় বাবার প্রতিচ্ছবি।
আরিয়ান বিরক্ত হয়ে বলে, “ধুর বাল। সারাদিন এত আয়না না দেইক্কা একটু আমারেও তো দেখতে পারোস”
মাধবীর এই আরিয়ান কে বড্ড অচেনা লাগছে। তার কথা বার্তার ধরন একদম ভিন্ন হয়ে গেছে। সে সন্দিহান কন্ঠে বলে;

“আপনি কি আসলেই আরিয়ান ভাই নাকি আসার সময় কারো সাথে বদলে ফেলেছি!”
“ক্যান চিনোস না? চিনবি কেমনে একদিন তাকাস আমার দিকে”
“এসব কি ভাষায় কথা বলছেন?”
“আরে ধুর বাল। এতদিন কত কষ্ট কইরা এই বালের ভাষা মারাইসিলাম। এখন বিয়া হয়া গেছে মানে চিন্তা মুক্ত”
” মানে আপনি এতো দিন শুধু বিয়ে করার জন্য ভালোভাবে কথা বলতেন ”
“তাইলে আবার কি। আমি কি এত ভালা মানুষ নি”
মাধবী কিছুক্ষন থম মেরে বসে থাকে। তারপর প্রসঙ্গ পাল্টে বলে “তখন ওটা কিসের বাতাস ছিলো?”
“বাল। বাতাস আবার কিসের থাকে!বাতাস তো বাতাসই”
“এটা কোন সাধারণ বাতাস না”
“ভাই বাতাস আবার কেমনে অসাধারণ হয়? কেমনে বল তো?”
“যদি ওটা শুধু বাতাসই হতো তাহলে কবুল বলার সাথে সাথে কেন হয়েছে?”
“বাতাসের মন চাইছে”
“মজা করবেন না। সত্যি করে বলুন”

“সত্যি কথায় আমার চুলকানি আছে। তাই ডেকে ডেকে চুলকানি আনার কোন ইচ্ছা আমার নাই”
মাধবী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে “আপনি না বললে মনে করবেন না আমি কখনো জানতে পারবো না। এটা কোন সাধারণ বাতাস হলে আপনার আমার মাঝে ফাটল টাকেও কি সাধারণ বলবেন?”
“আরে ওটা ভূমিকম্প”
“বা*ল কম্প। মেজাজ কিন্ত খারাপ হচ্ছে এখন”
“ছ্যাহ মধু। স্বামীর সাথে মানুষ এমন ভাবে কথা বলে? দুক্কু পেলাম”
“আপনার এসব ফালতু কথা রাখবেন? দয়া করে আসল কথায় আসুন। কাল রাজবাড়ি থেকে আমাকে বাড়ি কে এনেছিল?”
আরিয়ান কপাল কুচকে বলে “কাল তুই কখন রাজবাড়ি গেছিলি?”

“আগে বলুন আপনিই কি আমাকে বাড়ি এনেছিলেন?”
“আমি আনবো কেমনে আমি তো জানিই না তুই কখন রাজবাড়ি গেছিলি। তুই কি সত্য সত্যই গেছিলি?”
“জেনে জেনেও না জানার অভিনয় করবেন না। আমি লুকিয়ে গেলেও আপনি জানেন। আমি লুকিয়ে বা প্রকাশ্যে যেভাবেই যা করি আপনি সব কীভাবে যেন জেনে ফেলেন। আর আপনি যে সব জেনে ফেলেন সেটা আমিও জেনে ফেলি। তাই শুধু শুধু লুকোচুরি করবেন না। করলে আমিও ধরা পরবো আর আপনিও”

“মাঝে মধ্যে সব জাইন্নাও অজানা থাকা সুন্নত। আর তোকে বলি এসব গোয়েন্দাগিরী ছেড়ে ভালো বউয়ের মত সংসার কর”
“চুক্তি পত্রের কথা নিশ্চয়ই এত অল্প সময়ে ভুলে যান নি। আর আমিও সংসার করার জন্য বিয়ে করি নি। আমার অনেক কিছু জানার আছে”
“যদি কই আমারও জানার আছে?”
“থাকতেই পারে। জিজ্ঞেস করুন জানলে বলে দেবো”
“সেনাপতি আসাদরে কেডায় পটল তুলছে? আবার ভবিষ্যত জায়গাও নাকি সাইজ কইরা দিছে”
মাধবী কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে ” আমি কিভাবে জানবো?”
“জানোছ না?”
“না”
“এডা জানার তো কোন ইচ্ছাও দেখি না”
“কি বলতে চাইছেন?”

“থাক বাদ দে। তুই ছুডু মানুষ। এই বয়সে এমন ভুল হয়। এইতা গোনায় ধরা হয় না”
বলতে বলতে একটা বড় হাই তোলে। তারপর বিছানায় শুতে শুতে বলে “আয়না দেখা রাইখা ঘুমা আর বাতি বন্ধ কর”
মাধবী কিছুক্ষন চোখ বন্ধ করে চুপ করে বসে থাকে। তারপর কিছু একটা ভেবা একটু মজা করে বলে “আজ না আপনার বাসর রাত”
আরিয়ান এক চোখ খুলে মাধবীকে একবার দেখে নেয়। তার ধপ করে উঠে বসে বলে ” হো আমি এহন তোর লগে বাসর করি। পরে সকালে উইট্ঠাই তদন্ত শুরু কইরা দিবি- কে বসর করছে , ক্যান বাসর করছে , কার লগে বাসর করছে , বাসর করলে কি হয় , বাসর কেমনে করে , ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি ”
মাধবী আহাম্মকের মত হা করে তাকিয়ে থাকে। মানে কি পরিমানের বজ্জাত লোক!

“এই আপনার কি কোন লজ্জা লাগে না?”
” নাহ আমার লজ্জাই নাই। আর লজ্জা না থাকলে লাগবো কেমনে। লজ্জা না রাখা সুন্নত। আর এসব ক্ষেত্রে তো আমার একদমই লজ্জা নাই ”
“কথায় কথায় এরকম সুন্নত সুন্নত করেন কেন!”
“বেশি সুন্নত মানি তো তাই। আর নবীর সুন্নত মানা সুন্নত”
“হ্যা। যাকে বলে নিজ প্রয়োজনে হাদিস। তাই না?”
“বউ যা কয় হেডাই”
“আপনি কি বাড়ি গিয়েও এভাবে কথা বলবেন?”
“নাহ। বাড়ির মানুষ এই ভাষা শুনলে কিডনি তালা লাইগ্গা মরবো। তোর সামনে কইতাসি কারণ তোর কিডনি তো আগের থেকেই তালা মারা”
“না বললেই ভালো। এবার যা করছিলেন করুন”

“মা*ঙ্গে*র নাতির জীন্দেগী” বিরবির করতে করতে সে কম্বল গায়ে দিয়ে শুয়ে পরে। কিছুক্ষন পর আবার উঁকি দিয়ে বলে “কই ঘুমাবি?আমি কিন্ত ঐ বাংলা সিনেমার মত নিচে ঘুমাইতে পারতাম না”
“ঘুমাতেও হবে না। আমি আপনার সাথেই ঘুমাবো”
আরিয়ান কেশে উঠে “ঘুমাবি ভালো কথা। তবে দুরত্ব বজায় রাখবি। আমি এত তাড়াতাড়ি মরতে চাই না”
“আমি এত তাড়াতাড়ি বিধবাও হতে চাই না” বলতে বলতে মাধবীও কম্বল গায়ে দিয়ে পাশ ফিরে শুয়ে পরে। তার খোলা চুলগুলো বারি খায় আরিয়ানের মুখে। তার ভালো লাগলেও রাগ উঠে মাধবীর ভেজা চুল দেখে। সে ততক্ষনাৎ নিজেও উঠে বসে মাধবীকেও হেচকা টানে উঠে বসায়।
“তুই কি আবারও গোসল করেছিস?”
“না।চুল এখনও শুকায় নি”
“এমন চটকানা মারবো যে চোখেই আর দেখতে পাবি না”

বলে মাধবীর শাড়ির আচঁল টেনে নেয়। তারপর স্বযত্নে চুলগুলো মুছে দেয়। পুরোটা সময় মাধবী চোখ বন্ধ করে অনুভব করে। তার বাবা আর ভাইয়ের পর এই আরেকজন মানুষ এত বছর পর তাকে যত্ন করছে। এতদিনও করেছে। তবে দুর থেকে। তার জন্যই তো এতদিন কাছে আসা হয়নি । নয়তো এরকম ছোট ছোট যত্ন সব সময়ই তো পাওয়া হতো। ভাবতেই আপনা আপনি মুচকি হাসে মাধবী। পরক্ষণেই ভালো চিন্তা ভাবনা রেখে মাথায় আসে এত সহজে তার সংসারের মায়ায় পরা যাবে না। এখনও তার অনেক কিছুই জানার বাকি। সে ততক্ষনাৎ সরে যায় আরিয়ানের কাছ থেকে।
আরিয়ান বিরক্ত হয়ে বলে “সমস্যা কি তোর?দেখোছ না কাম করতাছি”

“আপনার করতে হবে না। আচ্ছা? আমরা কি চাইলে ভাইয়াকে খুঁজতে পারি না?”
“এই যে আবারও শুরু হয়া গেছে এসব। আমি কিছু জানি না। ঘুমা”
বলেই পাশ ফিরে শুয়ে পরে। মাধবী দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এরা যদি একটা বার তার মনের ঝর বুঝতো তাহলে হয়তো এরকম করতে পারতো না। তার বাপ ভাই কে যে সে ঠিক কতটা ভালোবাসে তা জানলে হয়তো আরিয়ান ভাই নিজে তাদের মাধবীর শিয়রে এনে ফেলতো। এসব ভাবতে ভাবতে সেও শুয়ে পরে। কিছুক্ষনের মধ্যেই ঘুম এসে ধরা দেয় চোখের পাতায়।
মাধবীর নিঃশ্বাস ভারি হতেই আরিয়ান উঠে বসে। আবার মাধবীর আচঁল হাতে নেয়। মাথা মুছতে মুছতে মনে যা আসছে তাই বলে যাচ্ছে।

“বান্দির বাচ্চার ভাবের শেষ নাই। আমি চুল মুছলে মহা ভারত অশুদ্ধ হয়া যাইবো। এত ঢং আসে কই থেকে তোর। সবসময় অভিনয়। খালি সারাদিন বাপ ভাই। বাপ ভাই রে যে এত ভালো বাসোছ পরে সইবি কেমনে। আগেই ভুইল্লা যা ভালো হইবো। এসব নিয়া এত ঘটাঘাটি মাইয়াগো করা ভালা না”
এসব আরো নানান বিরবির করতে করতে ভালোভাবে চুল মুছিয়ে দেয়। তারপর মাধবীকে নিজের বুকে টেনে নেয়। তার প্রশস্ত বুকে শ্রেয়সীকে শুইয়ে চোখের উপর থেকে ছোট ছোট চুলগুলো ফুঁ দিয়ে সরিয়ে দেয়। তারপর এক ধ্যানে তাকিয়ে থেকে রাত পার করে। চোখের পলকে যেন কেটে গেছে রাতটা। পুরোটা রাত তাকিয়েছিলো। তবুও যেন দেগা শেষ হয়নি। এটাই সবচেয়ে সুন্দর রাত। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম রাতটা হলে শ্রেয়সীকে দেখে রাত কাটানো।

সকাল সকাল উঠেই মাধবী বলে “আরিয়ান ভাই? গ্রামের মানুষ জিজ্ঞেস করলে কি বলবো?”
এই সাত সকালে আরিয়ান এমন প্রশ্ন মোটেও আশা করেনি। কোথায় বিয়ের পর দিন একটু মিষ্টি করে দুটো কথা বলবে তা না। এমন ভাবে বলছে যেন চুরি করে বিয়ে করেছে। সেও নির্বিকার ভাবে বলে,
“বলবি ‘দুঃখিত আমার গ্রামবাসী। আমি আপনাদের ঐ পরিস্থিতিতে সাথে রাখতে পারিনি বলে। আবারও দুঃখিত আপনাদের না জানিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য”

“ধুর সবসময় মজা ভালো লাগে না”
“তো কি চাস। উৎসব করে দাওয়াত দিয়ে খাওয়াবি?”
“নাহ। ওসব করলে আমার সময় নষ্ট হবে। এসব বাদ। বলবো….”
কোন কিছুই ভেবে না পেয়ে বলে “কিন্ত কী বলবো? ধুর”
“আমাকে এসব বলিস না। তুই অনুষ্ঠান করবি না তো আমার কিছু বলার নাই”
কথা বলতে বলতেই আরিয়ান তৈরী হয়ে নেয়। মাধবীকে এখনও বসে থাকতে দেখে বলে “থাকবি এখানে? উঠছিস না কেন এখনও? সকাল ১০টার আগে আমার পৌছাতে হবে। তাড়াতাড়ি”

মাধবী ঝটপট তৈরী হয়ে নেয়। তারও বাড়িতে যেতে হবে তাড়াতাড়ি। আরশিকে কী বলবে সেটাও ভেবে পাচ্ছে না। বাড়িতে গিয়ে প্রথম আরশিকে বোঝাতে হবে। আরশি ঠিক কি রিয়েকশন দিবে সেটা ভেবেই সে তাড়াহুড়ো করছে। নয়তো একটু ত্যারামী করতো। পূর্ণিমার কাছ থেকে একটা বোরখা আর নিকাব নিয়ে পড়ে নিচে নামে।
হলরুমে কাশেম চৌধুরী সহ আরো কয়েকজন বসে আছে। মাধবী সেদিকে এগিয়ে যায়। গিয়ে সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসে। কাশেম চৌধুরী একবার তাকায় মাধবীর দিকে। তারপর চোখ নামিয়ে বলে,
“এখানে সকলে তোমার বড়। পা নামিয়ে বসো”
“ধন্যবাদ জ্ঞান দেয়ার জন্য। এখন বলুনতো আপনার সারাদিনের কাজের তালিকাটা”
“বেয়াদবী করছো কেন?”

“উফফ। এসব আদব আর বেয়াদবির কথা বাদ দিন তো। এতদিন আব্বার মুখের দিকে তাকিয়ে সব মেনে নিয়েছি। কিন্ত এখন আর কাউকে মানি না। আর যেখানে আমার স্বামী আমাকে বেয়াদব বললো না সেখানে আপনার কথাটা নিতান্তই ঠুনকো”
কাশেম চৌধুরী কিছু বলতে যাবে তার আগেই আরিয়ান বলে “আরে চৌধুরী আস্তে। এই বয়সে এত উত্তেজিত হলে আবার আপনার বউয়েরা বিধবা হতে পারে। আপনার বয়স না থাকলেও ওরা কম বয়সী। এত অল্প বয়সেই বিধবা টেগ লাগিয়ে ঘুরবে ব্যাপার টা কেমন না?”
আরিয়ান যেন নিরবে একটা ছোট্ট হুঁশিয়ারি দিলো। বুঝতে পেরেই কাশেম চৌধুরী আর কথা বারালো না।
“তো যাই চৌধুরী। কি ভাগ্য আমার ভেবে দেখছেন একবার? শত্রুর বাড়িতে বিয়ে আর বাসর করার গর্ভে আমি গর্ভবতী হয়ে যাচ্ছি”

তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ২১

আরিয়ানের মুখে এ ধরনের কথা মোটেও কেউ আশা করেনি। এমনকি মাধবীও সবার সামনে এই কথা আশা করেনি। হতাশায় তার মুখ দিয়ে আর কোন কথা বের হয় না। সে উঠে দাঁড়িয়ে বলে “আপনি দাঁড়িয়ে গর্ভবতী হোন। আমি গেলাম। ভালো থাকবেন চৌধুরী। আর হ্যা পরেরবার আপনার দৈনিক কাজের তালিকাটা করে রাখবেন”
তারপর কাশেম চৌধুরীর স্ত্রীদের কী যেন একটা ইশারা দেয়। তারাও মেনে নেয়। মাধবী বাঁকা হেসে চলে যেতে নিবে এরমধ্যেই বাহির থেকে একজনের কন্ঠ শোনা যায়
“আব্বা আব্বা?” ডাকতে ডাকতে ভেতরে আসছে। তবে ভেতরে আসতেই আগন্তুক থেমে যায়। মাধবীর এক মুহুর্তও সময় লাগে না ছেলেটাকে চিনতে।

তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ২৩