Home তুই আমার ৭ মিনিট তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ২৩

তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ২৩

তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ২৩
ঐশী আফরিন

“আপনি এখানে?”
মাধবীর প্রশ্নে ঘাব্রে যায় উপস্থিত সকলে। সব চেয়ে বেশি ঘাব্রায় যাকে প্রশ্নটা করা হয়েছে। সে মাধবীকে এখানে কখনো কল্পনাও করেনি। তাও এত সকাল সকাল। তাকে কোন উত্তর দিতে না দেখে মাধবী আবার জিজ্ঞেস করে “কী হলো?”
“মধু তোকে কেউ বলেনি এসব নিয়ে কথা বলতে। চল আমার দেড়ি হয়ে যাচ্ছে”
আরিয়ানের কথার উত্তর না করে সে আবার বলে “আপনি কি এই গ্রামের? কি হোন ওদের?”
এবার উত্তর দেয় আগন্তুক “আমি…আমি এই বাড়ির ছেলে”
কথাটা শুনে যেন মাধবী অবাকের উপর অবাক হয়।

“বাহ। আপনি এই চৌধুরী বাড়ির ছেলে হয়ে কত বড় কলিজা নিয়ে আমাদের বাড়িতে সম্বন্ধ নিয়ে এসেছিলেন!”
আরিয়ান জিজ্ঞেস করে “কিহহহ?কবে এসেছিলো?”
মাধবী বিরক্ত হয়ে বলে “ঢং করবেন না আরিয়ান ভাই। সব জানার পরেও এসব ঢং মানায় না”
“ধুর বান্দি। আগে জানলে তোর মত চালাক মাইয়ারে বিয়াই করতাম না”
“চুপ করবেন আপনি?”
“যাহ চুপ”
মাধবী এবার শান্তকে বলে “আপনি নাটক সাজিয়ে কেন গিয়েছিলেন?”
শান্ত কিছু না বলে চুপ থাকে।
“কথা বলছেন না কেন? আর ঐ দিন আপনার ফুফু মা আর কে কে যেন এসেছিলো, ওরা করা?
আর আমার বাপ কি না রাজিও হয়ে যাচ্ছিল আপনার ভালোভাবে কোন খোঁজ খবর না নিয়ে! আমি তো বিশ্বাসই করতে পারছি না আব্বা আমাকে বিয়ে দেয়ার জন্য রাজি হয়েছিল এমন কারো সাথে যার কোন পরিচয় পর্যন্ত জানে না!”

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

সকলের মাঝে নিরবতা। আরিয়ান সোফায় গিয়ে বসে। এই মেয়ের গোয়েন্দাগীরি এখন চলতেই থাকবে। সে কাজের লোক কে ইশারা দিয়ে চা ও আনিয়ে নেয়। খেতে খেতে দেখবে বলে।
মাধব আবারও জিজ্ঞেস করে শান্ত কে “কেন নাটক করেছিলেন?”
“তোমাকে ভালোবাসি”
আরিয়ান মাত্র চা টা মুখে নিতে যাচ্ছিল কিন্ত শান্তর কথা শুনেই উঠে দাঁড়ায়।
“এই শালা। জামাইর সামনে দাঁড়ায়া বউরে কয় ভালোবাসি। যখন পেছনে দেশি কুত্তা লেলিয়ে দেব বুঝবি”
শান্ত যেন অবাক হয় “কার জামাই?”
মাধবী অকপটে স্বীকার করে “আমার”

শান্ত যেন এক মুহূর্তের জন্য নিজের অবস্থান ভুলে যায়। পাশের সোফার হাতল টা ধরে বসে পরে সেখানে।এতদিন সে শহরে ছিলো। যখন রাজবাড়ির ধ্বংসের কথা জেনেছে তারপর থেকে চেষ্টা করছে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করার। সে অনেক দিন আগ থেকেই মাধবীর সৌন্দর্যের বর্ণনা শুনে আসছে। তখন থেকেই মাধবীর প্রতি তার অনুভূতি সৃষ্টি হয়। তারপরেই নাটক সাজিয়ে তার মা আর বোন নিয়ে গিয়েছিল মাধবীদের বাড়িতে। সে ভালোভাবে জানতো মাধবী যদি জানে সে কাশেম চৌধুরীর ছেলে তাহলে কখনোই বিয়েতে রাজি হবে না। তাই সে নিজের আলাদা পরিচয় গড়তে দুটো বছর কঠোর পরিশ্রম করে গেছে। বাপের জমিদারি রেখে এত পরিশ্রম করেছে। এই দুটো বছর সবার কাছ থেকে দূরে থেকেছে যেন সবার মায়া কেটে যায়। কারো সাথে এতদিন যোগাযোগ পর্যন্ত রাখে নি। এমনকি যাওয়ার আগে কাশেম চৌধুরীকে বলেছিলো,

“আমি যেদিন নিজ পরিচয়ে ফিরে আসবো সেদিন আমাকে তোমরা তেজ্য করবে। তোমাদের ছেলের পরিচয়ে থেকে আমি মাধবীকে হাড়াতে পারবো না।আমি মাধবীকে নিয়ে অনেক দূরে চলে যাবো। যেখানে তোমাদের শত্রুতা আমাদের ছুঁতে পারবে না”
আর আজ দুই বছর পর সফলতা নিয়ে ফিরে এসেছিলো পরিবারের থেকে তেজ্য হয়ে মাধবীর কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিবে বলে। কিন্ত নিজের বাড়িতে ভালোবাসার মানুষটাকে বিবাহিত অবস্থায় দেখে সেখানেই জমে যায়। একটু দেড়িঁর জন্য সারাজীবনের জন্য হাড়িয়ে ফেলেছে মানুষটাকে ভাবতেই কেমন যেন একটা অনুভূতি হলো মনের ভেতর। ভাবতেই অবাক লাগলো মাধবী বিবাহিত।
আরিয়ান তাড়াহুড়ো করে বলে “মধু তুই গেলে যাবি না গেলে কিন্ত কোলে করে নিয়ে যাবো”

“আমার উত্তর এখনও পাইনি। আব্বা কেন রাজি হয়েছিলো!”
“তোর আব্বার হুশ ছিলো না ছেমরি। এহন আয়”
“চুপ করুন আরিয়ান ভাই”
“মাইরি বউয়ের হাতে ধমক খাইতে ভাগ্য লাগে। আরিয়ান তুই মহা ভাগ্যবান” বলতে বলতে আবার শান্তর পাশে গিয়ে বসে।
কাশেম চৌধুরী তাচ্ছিল্য করে বলেন “স্বামী কে এভাবে ধমক দিয়ে কথা বলতে কে শিখিয়েছে?তোমার বাবা?”
“খবরদার আমার বউয়ের সাথে কেউ উঁচু গলায় কথা বলবি না। গলার রগটা এক টানে ছিড়ে এনে কুত্তাকে খাওয়াবো”
আরিয়ানের হঠাৎ হুংকারে সকলে কেঁপে উঠে। আরিয়ান এক মুহুর্ত নিজেকে ঠান্ডা করার চেষ্টা করে তারপর উঠে গিয়ে মাধবীর হাত ধরে টেনে বলে “পরীর বাচ্চা চল তো। মেজাজ খারাপ হচ্ছে আমার। পরে আবার কি না কি করে বসবো। চল”

বলতে বলতে টেনে নিয়ে চলে মাধবীকে। সবাই আরিয়ানের মুহুর্তে মুহুর্তে রঙ বদলানো দেখে অবাক হলেও শান্ত অবাক চোখে তাকিয়ে ছিলো দুজনের হাতের দিকে। মাধবী আর কথা না বারিয়ে চলে যায়।
শান্ত দুজনের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলো অপলক দৃষ্টিতে। ভাষা হাড়িয়ে ফেলেছে সে। নিজের বাবাকে কিছু বলবে সেটাও মুখ থেকে বের হতে চাইছে না। সব কিছু জেনে বুঝেও তার বাবা কেন এমন করেছে সেটাও জিজ্ঞেস করার ইচ্ছে হলো না। শুধু দাঁড়িয়ে ক্লান্ত স্বরে বললো,

” আমি অনেক ক্লান্ত সাথে ব্যর্থও আব্বা। তুমি জেনে বুঝে কেন মেয়েটাকে অন্যের হাতে তুলে দিলে সেটা আমি জিজ্ঞেস করবো না। কারণ কী জানো? কারণ তোমার দ্বারা সব সম্ভব। তোমাকে কিছু বলবো না। তোমার কোন দোষ নেই। দোষ আমার ভাগ্যের। আরিয়ান জিতে গেছে। কারণ সে ভাগ্যবান। আমি হেড়ে গেছি। হেড়ে গেছি আমি ”
বলতে বলতে যেন এক ফোঁটা নোনাজল গড়িয়ে পড়লো চোখ বেয়ে। কামীনি চৌধুরী এসে সামলে নেন ছেলেকে। ছেলের এই ভেঙে পরা দেখে মহিলার চোখ বেয়েও অশ্রু গড়িয়ে পরে। শান্ত মায়ের কোলটা পেয়ে হুড়হুড় করে কান্না করে দেয়। যেন এতক্ষনের জমে থাকা ব্যাথা টুকু বুক চিরে বেরিয়ে আসতে চাইছে। সে ভাঙা গলায় বলতে থাকে,
” আম্মা তোমার বর তোমার ছেলেকে জীন্দা লাশ বানিয়ে দিয়েছে। হাড়িয়ে দিয়েছে আমাকে,আমার ভালোবাসাকে। ঐ আরিয়ান কে জিতিয়ে দিয়ে। আম্মা আরিয়ান কী খুব বেশি আমলদ্বার? ও কি খুব বেশি আল্লাহর গোলামি করে? ও কি মাধবীকে আমার থেকেও বেশি ভালোবাসে? ওর ভালোবাসা আর আমল কি এতটাই প্রখর যে আমার তাহাজ্জুদের নামাযকে পর্যন্ত হাড় মানিয়েছে! আম্মা জানো, আমি কখনো নামায পড়িনি। কিন্ত এই দুটো বছর এই মেয়েকে পাওয়ার জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সাথে তাহাজ্জুদ পর্যন্ত পড়েছি। তবুও আল্লাহ কেন ওরে আমার করে দেয়নি? আম্মা কিভাবে থাকবো ওরে ছাড়া?”

” তুই মাত্র দুই বছরের মোনাজাতে চেয়েছিস ওকে আর আমি? যখন থেকে ওর পৃথিবীতে আগমনের কথা শুনেছি ঠিক তখন থেকে ওকে ভালোবাসি। তুই ভালোবেসেছিস ওর সৌন্দর্যের বর্ণনা শুনে আর আমি ওকে জন্মের আগ থেকেই ভালোবেসেছি কারণ ও ছিলো আমার সেই ফুফুর মেয়ে যেই ফুফুর জন্য আমি আজও টিকে আছি এই পৃথিবীতে। আমি ওর সৌন্দর্য ভালোবাসিনি আমি ওকে ভালোবেসেছি। তাও বছরের পর বছর ধরে। ওকে প্রতিটা মোনাজাতে চেয়েছি। ও আমার ১৯ টা বছর ধরে সারা রাত জেগে পড়া তাহাজ্জুদের ফল। এই ১৯ টা বছরে কোনদিনও রাতে ঘুমিয়েছি বলে আমার মনে নেই। সেট কষ্টের ফল ও। আর তুই মাত্র দু বছর কষ্ট করেই আমার ভালোবাসা নিয়ে কথা বলছিস? ”

আরিয়ান মাধবীকে দাঁড় করিয়ে রেখে এসেছিলো একটা কাজে কিন্ত শান্তর কথা শুনে দড়জার সামনে দাঁড়িয়েই কথাগুলো বলে তাচ্ছিল্য হাসলো। শান্ত ঝাপসা চোখে দেখলো দরজায় ঘোড়া নিয়ে থাকা আরিয়ান কে। তারপর নিজেও তাচ্ছিল্য হেসে বললো
” তুই জিতেছিস কারণ তুই ওকে আমার আগে ওকে পেয়েছিস। যদি তোর মত আমিও সুযোগ পেতাম তাহলে আমার ভালোবাসাও কম ছিলো না ”
শেষের কথাগুলো না শুনেই আরিয়ান চলে যায়। শান্তও নিজেকে তার মায়ের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেয়। বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলে “আর কখন হয়তো দেখা হবে না”
আর কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই বেরিয়ে চলে যায়। কামিনী চৌধুরী ছুটে যায় কাশেম চৌধুরীর কাছে। হাত জোড় করে বলে “থামান আপনার ছেলেকে। চলে যাচ্ছে ছেলেটা”
কাশেম চৌধুরী শক্ত হয়ে বসে রইল। কোন কথা বললো না। শুধু তাকিয়ে দেখলো একমাত্র ছেলেটার চলে যাওয়া। কিচ্ছু করার নেই ওনার। কেননা ওনারও হাত বাঁধা। তাই মনে পাথর রেখে বসে রইল।

কিছুক্ষন হলো মাধবী আর আরিয়ান এসে পৌঁছেছে বাড়িতে। এসে দুজনেই থম মেরে বসে আছে বৈঠক খানার সোফায়। কেউ কারো ঘরে যাচ্ছে না। এদের কাহিনী দেখে মাহমুদা,নমিতা,রাশেদা ইশান,আরশি,
রুহি,আয়াজ সবাই মিলে ওদের সাথে বসে আছে। কিন্ত কেউ কোন কথা বলছে না। বাড়িতে আর কোন পুরুষ নেই আপাতত। মাধবী আসার সময় বলেছিলো এখন কাউকে জানানোর দরকার নেই। এতদিন দুজনে যেভাবে ছিলো সেভাবেই থাকবে। কিন্ত আরিয়ান মানতে নারাজ। সে কোন ভাবেই আলাদা ঘরে থাকবে না। তার সেই নারাজির জের ধরেই দুজনের বসে থাকতে হচ্ছে এখানে। মাধবী একটু পরপর ইশারা করছে আরিয়ানকে বলতে। আরিয়ান একটা গলা খাকারি দেয় “আম্মা…?”
মাহমুদা চৌধুরী ছেলের দিকে ডেবডেব করে তাকিয়ে বললেন “কী?”

“বিয়ে করেছি”
সবাই বিস্ফোরিত নয়নে তাকায়। রুহি আর মাধবী দুজনে আগে তাকায় আগে আরশির দিকে। আরশিও তাকায় দুজনের দিকে। রুহি মাধবীর গা ঘেঁষে বসে কানে কানে ফিসফিস করে বলে “কাকে বিয়ে করেছে গো মাধবীপু?”
“চুপ করে পাগলের বকবক শুনে যা”
“তাহলে আরিয়ান ভাই কি মিথ্যে বলছে?”
“বলেছি না চুপ করে শুনে যা কি বলছে। আর আরশিকে সামলা”
“কী করতে পারে এখন আরশি আপু বলতো?”
“সেটাই তো ভাবছি”
তারপর আবার দুজনে সোজা হয়ে বসে। আয়াজ বলে “আমি তোর বড়। তুই আমাকে রেখে কিভাবে বিয়ে করে ফেললি?”

আয়াজের মা রাশেদা ইশান বলে “না তোকে সাথে নিয়ে বিয়ে করবে”
“আম্মা তুমি চুপ করো তো। আরিয়ান বলতো কাকে বিয়ে করেছিস?”
আরশি থম মেরে বসে আছে। কিচ্ছু যেন তার মাথায় ঢুকছে না। আরিয়ান কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে
“মাধবীকে”
কথাটা যেন সবাই আগে থেকেই জানতো। তাই কেউ আর কিছু বলেনি। আরিয়ান অবাক হয়ে বলে “কিছু বলবে না”
মাহমুদা ইশান কেটলি থেকে চা ঢালতে ঢালতে বলে “কি বলবো?”
মাধবী মিচকে হেসে বলে “আমি আগেই জানতাম মামি কিছু বলবে না”
নমিতা ইশান বলে “মাহমুদা আপা কিছু না বললেও আমি বলবে। রাজ্যের রাণীর সাথে এমপির বিয়ে হয়েছে অথচ এখনও কোন মিষ্টি পর্যন্ত পাইনি”

“খাওয়াবো। সবাই কে মিষ্টি খাওয়াবো। কিন্ত কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে”
রাশেদা ইশান বলে “ওতো অপেক্ষা করতে পারবো না। আমার আয়াজ কে বিয়ে দিতে হবে। তোর মিষ্টি খেয়েই আমরা আয়াজের মিষ্টি খাবো”
সবাই সম্মতি জানায়। রুহি বলে “একা একা বিয়ে করে নিয়েছো কেন তোমরা? আমাদের জানিয়ে বিয়ে করলে কি এমন হতো?”
মাধবী বলে “এটা তোর পাগল ভাই জানে”
রুহি আরিয়ান কে জিজ্ঞেস করে “বলো না ভাইয়া? কীভাবে বিয়ে করেছো”

আরিয়ান আস্তে আস্তে সবাই কে সবটা খুলে বলে। সবাই মাধবীর কবুল বলার কাহিনী শুনে এক চোট হাসে। সবাই সেই হাসিতে হাসলেও আরশির মুখে নেই হাসি। সে না হাসে না কাঁদে। শুধু নিঃশ্বব্দে সবার মাঝ থেকে উঠে আসে। আনন্দের মাঝে কেউ তাকে খেয়াল করলো না। সে নিজের রুমে ঢোকার আগে একবার আরিয়ানের প্রাপ্তির হাসিটা দেখে নিজের ঠোঁটের কোণেও এক বিন্দু হাসির রেখা ফোটে। তারপর রুমে ঢুকে আস্তে করে দরজাটা লাগিয়ে দেয়।
অনেকক্ষন পর মাধবী খেয়াল করে আরশি এখানে নেই। সে ভুলেই গিয়েছিলো আরশির কথা। সে রুহিকে সাথে নিয়ে সেখান থেকে উঠে আসে সবারমাঝ থেকে।

তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ২২

আরশির রুমের সামনে গিয়ে দরজা লাগানো দেখে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে দরজায় টোকা দেয়। কিন্ত ভেতর থেকে কোন আওয়াজ পায় না। তারপর আবার দেয়। তবুও কোন সারা নেই। অনেকক্ষন ডাকার পরও যখন কোন সারা পায় না। তখন রুহি বাড়ির সবাই কে ডেকে আনে। সবাই চেষ্টা করে কিন্ত কাজ হয় না। মাধবী বলে দরজাটা ভেঙে ফেলতে। আয়াজ চেষ্টা করে কিন্ত পারে না। আরিয়ান কে দুরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মাধবী ধমকে নিয়ে আসে। তারপর দু ভাই মিলে দরজা ভেঙে ফেলে। কিন্ত দরজা ভাঙার সাথে সাথেই সবাই ভয় পেয়ে দু কদম পিছিয়ে যায়। রুহিতো ভয়ে চিৎকার করে উঠে। মুহুর্তেই এতক্ষনের হাসিখুশি পরিবেশ আতঙ্কে রূপ নেয়।

তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ২৪