তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ২৪
ঐশী আফরিন
দরজা খুলতেই ধোঁয়ার কুন্ডুলি এসে বারি খায় সকলের চোখে মুখে। সবাই কাশতে কাশতে পিছিয়ে যায়। পুরো রুম জুড়ে বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না। ভেতর থেকে কিসের যেন পঁচা মাংসের গন্ধ আসছে। মুহুর্তেই হাড্ডি পোড়া গন্ধে পুরো বাড়ি জাগ্রত হয়ে উঠে। মাধবী আশপাশ তাকিয়ে আগে আরিয়ান কে খোঁজে। আরিয়ানকে ভেতরে ঢুকতে দেখেই এক টানে পেছনে নিয়ে আসে। শক্ত করে তার হাত ধরে সবার উদ্দেশ্যে বলে “পিছিয়ে আসো সবাই তাড়াতাড়িই”
সবাই দরজার কাছ থেকে সরে আসে। মাধবী আরিয়ানের হাত ধরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার দরজার দিকে যেতে নিলে আরিয়ান বাঁধা দেয়। মাধবী তাড়াহুড়ো করে বলে “দয়া করে বেরিয়ে যান। আপনার জন্য এটা ভয়ংকর”
আরিয়ান খুব ভালো করে জানে এটা তার জন্য ক্ষতিকর। তবে সে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছে না তার বাড়িতে এসব হচ্ছে অথচ সে জানেই না। আর আরশিও যে এসব বিষয়ে ধারণা রাখে তা তাদের দুজনেরই কল্পনার বাহিরে। এখান থেকে তার বেরিয়ে যেতে হবে তাড়াতাড়ি তবে মাধবীকে একা রেখে যেতেও মন সায় দিচ্ছে না। মাধবী আবারও তাড়া দেয় আরিয়ান কে বেরিয়ে যেতে। আরিয়ান বলে “তুই একা পারবি?”
“আমি পারবো। আপনি এখন যান এখান থেকে”
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
আরিয়ান বেরিয়ে যায়। তবে বাড়ির সামনে দাড়িয়ে থাকে। সে কিছুতেই মাধবীকে একা রেখে যাবে না।
মাধবী সদর দরজা ভেতর থেকে লাগিয়ে দেয়। আরশির মা নমিতা ইশান আরশির রুমে ঢুকতে নিলে মাধবী উনাকে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পরে। সকলে চিৎকার করে উঠে “মাধবী” বলে।
মাধবী কারো কথা না শুনে ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দেয়। সকলে আতঙ্কিত হয়ে দরজা ধাক্কাতে থাকে। ভেতরে ঢুকে মাধবী মুখ ঢেকে ফেলে। ধোঁয়ার জন্য তাকানো যাচ্ছে না। এসব উটকো গন্ধ তাকে ঘায়েল করতে পারে না কারণ সে অভ্যস্ত। সে অনুমানে সামনে এগিয়ে যায়। একটু আগাতেই তার পায়ে ধাক্কা খেয়ে একটা মোমবাতি পরে যায়। মাধবী ঝুঁকে মোমবাতিটা হাতে নেয়। মোমের ঝাপসা আলোতে সামনে এগিয়ে যায়। রুমের এক কোণার দিকে চোখ যেতেই মাধবী অবাক হয়। সে ভেবেছিল আরশি আরিয়ান কে পাওয়ার জন্য ছোটখাট কোন আরাধনা করছে। কিন্ত সে এটা কল্পনাও করেনি যে আরশিও কালো যাদু জানে। আর এসব তো একদিনের বিষয় না। এসব জানতে, শিখতে বছরের পর বছর লাগার কথা। সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছে তারা একই বাসায় থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একটুও টের পেলো না!
মাধবী ধীরে পায়ে এগিয়ে যায় আরশির নিথর দেহটার দিকে। আশপাশ সব এলোমেলো হয়ে আছে। মাধবী ঘরের জানালা গুলো খুলে দেয়। পাশের ছোট্ট বারান্দার দরজাটা খুলে দেয়। আস্তে আস্তে ধোঁয়া কমতে থাকে আর সব কিছু স্পষ্ট হতে থাকে। মেঝেতে চন্দন দিয়ে একটা গোল বৃত্তের মাঝে একটা স্টার আঁকা। স্টারের পাঁচ কোণে পাঁচটা মোমবাতি জ্বলজ্বল করছে। মাঝে একটা কঙ্কালের খুলি রাখা। খুলির দাঁতের সাথে কিছু একটা আটকে রাখা দেখে মাধবী এগিয়ে যায়। প্রথমে সবগুলো মোমবাতি নিভিয়ে দেয়। তারপর জায়গা থেকে সরিয়ে রাখে। মাথার খুলিটা সরিয়ে আগে চন্দন দিয়ে লেখা রেখাগুলো মুছে ফেলে। যাদু টা রহিত করার জন্য যা যা প্রয়োজন সব করে শেষে খুলিটা হাতে নেয়। দাঁতের ভেতর থেকে দুটো পুতুল বের করে। একটা ছেলে আরেকটা মেয়ে। দুটোতেই অসংখ্য সুই গাঁথা। মাধবী প্রথমে দুটো সুই খুলে পুতুল দুটো মাঝ বরাবর কেটে ফেলে। ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে মাধবী আর আরিয়ানের ছবি আর দুজনের দুটো চুল। চুলেও কতগুলো গীঁট দেয়া। মাধবী মনে মনে কিছু একটা পড়তে পড়তে একটা মোম জ্বালিয়ে তার মধ্যে ছবিগুলো পুরিয়ে ফেলে। তারপর চুলগুলো আগুনের উপর ধরে আস্তে আস্তে গুনগুনিয়ে কি যেন পড়তে পড়তে গীঁটে ফুঁ দিতে থাকে আর একটা একটা গীঁট খুলে যেতে থাকে। সবগুলো গীঁট খুলে গেলে সে চুলগুলোকেও পুড়িয়ে ফেলে। আশেপাশে পরে থাকা পোড়া হাড়গুলোকে তুলে তার মধ্যে অন্য হাড় দিয়ে কয়েকটা রেখা টানে। পুরো যাদুমন্ত্র টাকে রহিত করে দিয়ে সরে আসে সেখান থেকে।
আরশি শুধু আরিয়ানের উপরই না মাধবীর উপরও কালো যাদু করছিলো। তবে মাধবী যেটা বুঝলো আরশি এখনও কাঁচা। তাই অর্ধেক কাজ হতেই যখন আশেপাশে জ্বিনের উপস্থিতি লক্ষ্য করে। তখন ভয়ে জ্ঞান হাড়ায়। নয়তো আরেকটু দেড়ি হলে এই যাদু রহিত করতে অনেক কাঠখোর পোহাতে হতো। মাধবী আরশিকে পাঁজকোলা করে খাটের উপর শুইয়ে দেয়। তার আরশির উপর কোন রাগ নেই। কারণটা ভালোবাসা। যদি আরশি আরিয়ানের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এই কাজটা করতো তাহলে সে আরশিকে খুন পর্যন্ত করতে পারতো। কিন্ত আরশি নিজের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য এটা করেছে। তাই সে কিছু করেনি। তবে ছেড়েও দেবে না।
সে আরশির মাথা থেকে একটা চুল নেয়। তারপর একটা একটা গীঁট দেয়। আর মন্ত্র পরে ফুঁ দেয়। এরকম করে ১৪ টা গীঁট দিয়ে চুলটা আরশির বালিশের ভেতর ঢুকিয়ে রাখে। এটা শুধু একটু সাধারণ আরাধনার অংশ বিশেষ। এতে আরশির কোন ক্ষতি হবে না। শুধু সে আস্তে আস্তে আজকের ঘটনা ও কালো যাদু ভূলে যাবে। কালো যাদু পুরোপুরি না ভূললেও মস্তিষ্কে কিছুটা আবছা লাগবে। সব কাজ শেষে মাধবী সব সরঞ্জাম গুলো একটা বেগে ঢুকিয়ে খাটের নিচে রেখে দেয়। বিছানার এক কোণে আগুন ধরিয়ে আবার তাতে পানি ঢেলে দেয় যেন বাহিরে সবাই কে বলতে পারে ভূল বসত আগুন লেগেছে আর আরশি ভয়ে জ্ঞান হাড়িয়েছে। কারণ এসব বিষয় সবাই কে জানানো যাবে না। কারণ এসব আধ্যাত্মিক বিষয়। একটু ছয় নয় হলে জ্বিন জাতি ক্ষেপে যাবে।
সব গুছিয়ে এসে মাধবী আরশির কাছে বসে। তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে ” তুই কিন্ত আমার রক্তের কেউ না। আমার স্বামীর আপন বোনও না যে তোর উপর দয়া দেখাবো। তুই আমার স্বামীকে ভালোবাসিস। সেই হিসেবে এখন দরকার ছিলো তোর ক্ষতি করার। কিন্ত করবো না কারণ ভালোবাসা এমন একটা অনুভূতি যা সবাই কে পাপের দিকে নিয়ে যায়। আমাকেও নিয়েছে এই পাপের দিকে তবে ভালোবাসা না প্রতিশোধের আগুন। আমার স্বামীকেও নিয়েছে। তবে কেন নিয়েছে তা আজও আমার অজানা। তবে যে কারণেই আমরা যাই এই পাপের পথে ‘আমরা কিন্ত দুজনেই সমান তালের পাপীষ্ঠ’। কেউ কারো থেকে কোন অংশে কম না। কিন্ত দুজনে জেনেও না জানার মত থাকি। তাই তুই ভাবিস না এসব করে আমার স্বামীকে তোর করতে পারবি। এসব আধ্যাত্মিক বিষয়ে কোন ভূল করবি তো আমি বা আমার স্বামী কেউ ছেড়ে দেবো না ”
কথাগুলো বলে উঠে বসে কিছু একটা ভেবে বাঁকা হাসে। তারপর উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেয়। সবাই হুড়স্থুল করে ঢুকে পরে। ততক্ষনে আনোয়ার ও ফখরুল ইশানও এসে গেছে। মাধবী কোন দিকে না তাকিয়ে সদর দরজা খুলে বাহিরে বেরিয়ে যায়। সে জানে আরিয়ান তাকে একা রেখে দূরে কোথাও যাবে না। বাড়ির দরজা খুলতে দেখেই আরিয়ান দৌড়ে আসে। আরিয়ান আসতেই মাধবীকে কিছু জিজ্ঞেস করবে তার আগেই মাধবীর কাজে হতবাক। মাধবী কথা নেই বার্তা নেই হাতে লেগে থাকা ময়লা গুলো আরিয়ানের সাদা পাঞ্জাবিতে মুচ্ছে। অন্য সময় হলে আরিয়ান একটা ধমক দিতো নয়তো কিছু একটা বলতো কিন্ত এখন আর কিছু না বলে বললো “কী অবস্থা এখন?”
“আরে পিচ্চি মেয়ে। না বুঝে ভুলভাল কি করেছে নিজেও জানে না। ভয়ে জ্ঞান হাড়িয়েছে”
আরিয়ান মাধবীর কাণ্ডে মুচকি হাসে। মাধবী মুখের ময়লা গুলোও আরিয়ানের পাঞ্জাবি দিয়ে মুচ্ছে। নিজের কাজ শেষে মাধবী বলে “আরশিকে বিয়ে দেব”
“কার সাথে?”
“আয়াজ ভাইয়ার সাথে”
“এই না…
আরিয়ান কথা শেষ করার আগেই মাধবী বলে “কেন সমস্যা কি? এসব ভালো লাগে বুঝি?”
মাধবীর অনুভূতি বুঝতে পেরে আরিয়ান ঠোঁট কামরে হেসে বলে “হিংসা হয়?”
মাধবীও হেসে বলে “আমার হিংসা কিন্ত অন্য সব মেয়েদের মত অসহায় না। যে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবো। মাঝে যে আসতে চাইবে সোজা সরিয়ে দেবো”
“দয়ালু রাণী মা নিজেই যদি মানুষ খুন…
“চুপ করুন। যেটা বলছি সেটা শুনুন। ওদের বিয়ের ব্যাবস্থা করুন”
“আরেহ আয়াজ অন্য কাউকে ভালোবাসে”
“কাকে?”
“ইচ্ছেকে চিনিস?”
মাধবী মনে করে বললো “হুম”
“আয়াজ ইচ্ছেকে ভালোবাসে”
“আর ইচ্ছে আপনাকে। ঠিক বলেছি?”
আরিয়ান অবাক হয়ে তাকায় “তুই কি করে জানলি?”
“সে কথা বাদ। ইচ্ছে আর আরশি এই দুটোকে আজকের মধ্যেই বিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করুন”
“এত সহজ নাকি! দুটো জামাই আমি কোত্থেকে আনবো?”
“দরকার হলে আয়াজ ভাইয়ার সাথেই দুটোকে বিয়ে দিন। তবুও আজকের মধ্যে দিন”
“পাগল হয়েছিস তুই! আয়াজ আর ইচ্ছেকে বিয়ে দেয়া যাবে কিন্ত আরশিকে কি করবো?”
“অশুভ ভাইয়ার সাথে দিয়ে দিন”
“কঁচু বিয়ে করবে অপূর্ব। বলেছি তো ও অন্য কাউকে ভালোবাসে”
“ধুররর বাল। আচ্ছা তবে আয়াজ ভাইয়া আর ইচ্ছের বিয়ের ব্যবস্থা করুন আজ আর এক্ষুনি”
আরিয়ান বুকে হাত রেখে মাথা হালকা ঝুকিয়ে বলে “যথা আজ্ঞা রাণী”
মাধবী হেসে বলে “হয়েছে এত ঢং করতে হবে না”
আরিয়ানও হেসে বেরিয়ে যায়। মাধবী আবার বাড়িতে ঢুকে পরে। আরশির রুমে ঢুকতেই একে একে সকলে প্রশ্ন করলে সে মিথ্যে বলে দেয় যে, আগুন লেগেছিল পরে ভয়ে জ্ঞান হাড়িয়েছে। কিছুক্ষনের মধ্যে জ্ঞান ফিরবে। সবাই স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। মাধবী আয়াজ আর রুহিকে ইশারা দিয়ে থেকে যেতে বলে। সবাই চলে গেলে মাধবী আয়াজকে বলে “আজ আপনার বিয়ে”
আয়াজ যেন আকাশ থেকে পরে “আমার বিয়ে? নিজে বিয়ে করে এখন ভূলভাল ভাবা শুরু করেছো না তো?”
“আরে না। আপনারা সবগুলো ভাই বোন এক জাতের। সবসময় উল্টো পাল্টা ভাবেন। আচ্ছা শুনুন, আপনি কি ইচ্ছেকে বিয়ে করতে চান?”
আয়াজ কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে “ও রাজি হবে না”
“রাজি আমি করবো। আপনি শুধু হ্যা বলুন”
“আমি অনেক চেষ্টা করেছি”
“এবার রাজি হবে আপনি শুধু রাজি কি না বলুন? আজই কিন্ত বিয়ে করতে হবে”
“হুম রাজি। কিন্ত আজই কেন?”
“ভাবলাম আমি একা একা ছোট মানুষ বিয়ে করে ফেললাম কেমন দেখায় না? তাই আপনাদের বিয়ে দিয়ে দেবো। আর আরশির জন্য কোন পাত্র পেলে ওকেও দিয়ে দিতাম”
রুহি মাঝ থেকে বলে “আরশি আপু জীবনেও বিয়ে করবে না”
“করবে। শুধু একটা পাত্র পেলেই হতো। আয়াজ ভাইয়া আপনি তৈরী থাকুন আরিয়ান ভাই কাজী আর ইচ্ছেকে আনতে গেছে”
“বাড়ির কাউকে বলতে হবে না?”
“চলুন জানিয়ে আসি”
তিনজন দরজাটা ভিরিয়ে বেরিয়ে পরে। ওরা যেতেই আরশি চোখ খোলে। চোখ বেয়ে গড়িয়ে পরে দু ফোটা গরম অশ্রু জল।
মাধবী আয়াজ আর ইচ্ছের বিয়ের কথা সবাই কে বললে কেউ আপত্তি করে না। তবে আজই কেন বিয়ে হবে এটা নিয়ে নমিতা ইশানের একটু নারাজি আছে। তবে সেসব পাত্তা না দিয়ে সকলে রাজি হয়ে যায়। এত বছর ধরে দুই ছেলের এক জনকেও তারা বিয়ে দিতে পারছিলো না। কত করে বলেছে তবুও কেউ রাজি হয় নি। এখন যেহেতু রাজি হয়েছে তাই আর কেউ দ্বিমত করে নি।
কিছুক্ষন পর আরিয়ান কাজী আর ইচ্ছে সহ বাকিদেরও নিয়ে আসে। মাধবী বাহিরের মানুষ দেখে মুখটা ওড়নার আড়ালে ঢেকে একটা কোনায় গিয়ে দাঁড়ায়। ইচ্ছেকে মিথ্যে বলে আনা হয়েছে। বলা হয়েছে আজই আরিয়ান তাকে বিয়ে করবে। সেই খুশিতে সে বাড়ির কাউকে না বলেই এসে পরেছে।
তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ২৩
সবাই এক সাথে সোফায় বসে। আরিয়ান কাজীকে বলেই এনেছে শুধু কোট মেরেজ হবে। ইসলামিক ভাবে এখনই কিছু করবে না। সেই অনুযায়ী কাজী খাতায় লিখে খাতাটা আরিয়ানের দিকে এগিয়ে দেয়। আরিয়ান মাধবীকে ইশারা দিতেই মাধবী উঠে এসে ইচ্ছে পাশে বসে ইচ্ছেকে ব্যাস্ত রাখে। ততক্ষনে আয়াজ সই করে দিয়েছে। এবার ইচ্ছের কাছে খাতাটা দিতেই ইচ্ছে খুশির চোটে খাতায় কি লেখা আছে কিচ্ছু না পরে এমনি বরের সাক্ষরটা পর্যন্ত না দেখেই সই করে দেয়। সাথে সাথেই কান্না করে দেয়। সে কখনো ভাবেনি আরিয়ান তাকে এভাবে বিয়ে করে নেবে। এটা তার খুশির কান্না। খুশির জন্য তার মাথা বিন্দু পরিমাণ কাজ করেনি যে সে জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটাই ভূল নিয়েছে।
