তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ২৭
ঐশী আফরিন
আরিয়ানের কন্ঠ শোনা মাত্রই আরশি আর ইচ্ছে খাট ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। মাধবী বলে “বসো তোমরা সমস্যা নেই আর আরশি কি নতুন আসলি নাকি যে এরকম করছিস?”
মাধবীর কথা মত দুজনে আবার বসে পরে। রুহি সোজা হয়ে বসে মাধবীর দিকে তাকায়। তার ভয় লাগছে। যদি আরিয়ান ভাই জেনে যায়! মাধবী চোখের ইশারায় রুহিকে শান্ত থাকতে বলে। আরিয়ান রুমে এসে এদের দেখে ভ্রু কুচকে বলে “সব ভাবিদের আমার ঘরে কী?”
আরশি বলে “এখানে তো সবাই আপনার ভাবি না। শুধু ইচ্ছে ভাবিই তো আপনার ভাবি”
ইচ্ছে চেতে উঠে “আমি ওর ভাবি টাবি লাগি না”
আরিয়ান হাত উঠিয়ে বলে “আরে থাম তোরা। ইচ্ছে তো ভাবি হয়েই গেছে এখন আরশিকেও ভাবি বানিয়ে নেব ক্ষণ। এবার সবগুলো বের হ তো। আর রুহি আমার নাস্তাটা নিয়ে আয়। জম্পেশ ক্ষিধে পেয়েছে”
“আনছি ভাইয়া” বলে রুহি বেরিয়ে পরে।
আরশি ইচ্ছেকে এখনও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আরিয়ান মাধবীকে বলে “একটাতে হচ্ছিলো না তোর। এখন দু দুটো ঝন্জ্ঞাট বাড়িতে এনে ঢুকিয়েছিস। লেজের মত দুটো লেগেই থাকে পেছনে। ধুরর”
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
দুজনের মুখ অপমানে থমথমে হয়ে যায়। আরশির তো সঙ্গে সঙ্গেই চোখে পানি এসে যায়। মাধবী ইশারা দেয় যেন কথা না বারিয়ে দুজন এখন চলে যায়, পরে সে দেখা করে নিবে। দুজনেই বেরিয়ে যায়। ওরা বেরিয়ে যেতেই আরিয়ান বলে “মৃত্যুর খবর শুনে ইন্না ইলাইহ বলতে হয় জানিস না?”
মাধবী হেসে জবাব দেয় “মৃত্যুর ৩৮ ঘন্টা আগেই ইন্না লিল্লাহ বলা শেষ”
আরিয়ান কিছুক্ষন চুপ থেকে সন্দিহান কন্ঠে জিজ্ঞেস করে “মধু খুনগুলো কি তুই করেছিস?”
“কাউকে দেখেছেন কখনো যে খুন করে অকপটে স্বীকার করে নেয়!”
“কিন্ত তুই কখন করলি এসব?”
“আপনার চোখ ফাকি দিতে পারলাম তাহলে?”
আরিয়ান উত্তেজিত হয়ে বলে “কী একটা জ্বালায় পরলাম আমি আল্লাহ! তুই একেবারে কেন খুন করতে গেলি?”
“আমি নিষেধ করেছিলাম তো যে আমি এখন বিয়ে করবো না”
“তো বিয়ে করে কি এখন তোর কোনো দিক দিয়ে খোষে পরেছে? ধুরর বাল। মাইয়া মানুষ হয়ে এত খুন খারাবি কেন করিস বল তো?”
মাধবী বুঝলো না আরিয়ানের হঠাৎ রেগে যাওয়ার কারণ। মৃত্যুর সংবাদ শুনে তো খুশিই হয়েছিলো তো এখন মাধবীর খুন করার কথা শুনে রেগে গেল কেন সেটা মাথায় ঢুকছে না। খুন তো সে আগেও করেছে আর আরিয়ান তো সেটা জানেই। তবে সেও দমে যাওয়ার পাত্রি নয়। সেও ত্যারামী করে বললো “আমার ইচ্ছা আমি যা খুশি তা করবো। আর কোথাও কি লিখা আছে যে মেয়ে মানুষ খুন করা যাবে না?”
“কি করেছিলো ওরা যে একদম জানে মেরে ফেললি?”
“দেখুন আরিয়ান ভাই আমি কিন্ত স্বামী ভক্ত কোন স্ত্রী নোই। আর না আমি চাই কোন সংসারের মায়ায় জরাতে। আমার অনেক কিছু জানার আছে। সব মেয়েরাই যদি স্বাভাবিক ভাবে জীবন শেষ করে দেয় তাহলে কে দুনিয়াতে মেয়েদের সম্মান এনে দেবে? ওরা সেদিন আমায় সম্মান করেছে শুধু আমি জমিদার কন্যা এবং আমি প্রতিবাদী বলে। তখন আমার জায়গায় যদি কোন সাধারণ মেয়ে থাকতো তাহলে ওরা ঐ মেয়েটার সাথে ঠিক কি ব্যবহার টা করতো আপনার কোন ধারণা আছে? ঠিক কতটা হেনস্থার শিকার হতে হতো একটা মেয়েকে? তাই আমার এই লড়াই শুধু আমার পরিবারের খুনিকে বের করার জন্য না,এই লড়াই প্রতিটা মেয়েকে নিজের সম্মান অনুযায়ী চলার জন্য। আমি যদি খুনি হই তাহলে প্রতিটা মেয়েকে আমি এরকম খুনি রুপে গড়ে তুলবো। পারলে আমাকে আটকে দেখান”
আরিয়ান চুপচাপ শুনে গেল মাধবীর সব কথা। ঘরেই যদি এরকম শত্রু থাকে তাহলে বাহিরের আর শত্রুর প্রয়োজন হবে না। সে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে বলে “কাকে কাকে মেরেছিস?”
“কেন আপনি জানেন না বুঝি?”
আরিয়ান দঁতে দাঁত চেপে বলে “সবসময় ত্যাড়ামি না করলে আপনার ভালোই লাগে না মধুর বাচ্চা?”
“এইতো বুঝেছেন”
“আচ্ছা এবার বল কাকে কাকে মেরেছিস?”
“ঐ শান্ত মা****দ কে পাই নি। আর বাদ বাকি কাশেইম্মার দুই বউ ছাড়া বিয়ের সিদ্ধান্ত দেয়া সকলকে বলি দিয়েছি”
“মেয়ে তোর মুখের ভাষা ঠিক করবি না?”
“কেন বেশি ভালো হয়ে গেছে?”
“বা*ল”
মাধবী বিরক্ত চোখে তাকায়। কিভাবে পায়ে পরে ঝগড়া করে বেডা। সে বিরক্তি ঝড়া কন্ঠেই বলে “যান তো গিয়ে নাস্তা খান। এত কথা বলিয়েন না”
“এখন যদি পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যায় তখন কি করবি?”
“নিলে আমাকে নিবে তাতে আপনার কি?”
“আমার ***** মুখটা এখন খারাপ করিস না। লাশ কি করেছিস?”
“আজব প্রশ্ন তো! লাশ কি আমি সাথে করে নিয়ে আসবো নাকি?”
আরিয়ান কপাল চাপরে বলে “গাধী মেয়ে একটা। খুন করে যদি লাশই গুম করতে না পারিস তো খুন করিস কেন?”
“অমানুষ গুলোর রক্ত দিয়ে গোসল করতে ভালোই লাগে”
“তুই কি জানিস তুই কি বলছিস? তুই না পারলে আমাকে বলতি আমি গুম করে দিতাম?”
“কেন? আপনি কি গুম করতে খুব পারদর্শী নাকি?”
আরিয়ান চুপ করে যায়। হ্যা সে গুম করতে পারদর্শী।একদম সেকেন্ডের মাঝে খুন করে এমন ভাবে লাশকে লুকোবে যে যন্ত্র দিয়ে খুঁজলেও পাওয়া যাবে না। আরিয়ান কে চুপ থাকতে দেখে মাধবী বলে “আচ্ছা আপনি মানুষ খুন করেন কেন? না মানে আমি তো তাদের অপরাধের শাস্তি দেই খুনের মাধ্যমে। কিন্ত আপনি কেন করেন?”
“খুন করলেই কিন্ত শাস্তি হয়ে যায় না। মনে রাখিস ফাঁসির চেয়েও বড় শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড”
বলেই আরিয়ান বেরিয়ে যায়। মাধবী জিহ্বা দিয়ে গাল ঠেলে বাঁকা হাসে। সে খুব ভালো করেই বুঝেছে আরিয়ান কথা ঘোরানোর জন্য এসব বলে চলে গেছে। তবে সে এটা বোঝে না যে, সে তো তার সমস্ত পাপের কথা স্বীকার করে নেয়। তবে আরিয়ানের স্বীকার করতে সমস্যা কোথায়? কিন্ত এখন তার এসব নিয়ে ভাবার সময় নেই। আজ মাহমুদা ইশান কে নিয়ে নেওয়াজ ইশানের কবরে যেতে হবে। তারপর সেখান থেকে এসে গ্রামে যেতে হবে কাশেম চৌধুরীদের দেখে আসার জন্য। যতই শত্রু হোক পাশের গ্রামের রাণী মা সে। একটা দায়িত্ব আছে। আর মাধবীর দুঃসাহসীকতার রেকর্ডের কথা সকলে জানা আছে। তাই সন্দেহের তীর টা প্রথমে তার উপরেই আসবে। এসব ভাবতে ভাবতে সে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। টেবিলে আরিয়ান খেতে বসেছে। সে কোনদিকে না তাকিয়ে সোজা রান্না ঘরে চলে যায়। মাহমুদা ইশান কে গিয়ে বলে “মামি চলো”
মহিলা হাতের কাজটা সারতে সারতে বলে “কোথায় যাবো?”
“কাল বলেছিলাম না মামার কবরে যাবো”
“ও হ্যা। আচ্ছা চল”
তারপর রাশেদা ইশান কে বলে “আপা তুমি এদিক টা দেখ আমি একটু ওকে ওর মামার কবরটা দেখিয়ে আনি”
বলে মাধবীকে নিয়ে বের হয়। বৈঠক খানায় আসতেই আরিয়ান ভ্রু কুচকে মাহমুদা ইশান কে জিজ্ঞেস করে “কোথায় যাচ্ছো ওকে নিয়ে?”
“তোর বাবার কবরটা দেখিয়ে আনতে যাবো”
“নাহ। কোথাও যাবার দরকার নেই এখন। মধু ঘরে যা”
মাধবী বিরক্ত হয়ে বলে “আরে এখানেই তো শুধু দেখে চলে আসবো। এটা তো আর ৭ মাইল দূরে না”
“আম্মা তোমাকে বলেছি ওকে নিয়ে ঘরে যাও। রাস্তা ঘাট এখন গরম। এমনিতেই আমার বিরোধী দল ক্ষেপে আছে। হারামির বাচ্চাদের কেন যে বিগার উঠেছে কে জানে। বাল ছাল। তার উপর কাশেইম্মারা খুন হয়েছে। দেশ এখন পুরো গরম। কোথাও বের হওয়া যাবে না”
“ঐ বাল ছালদের ভয় পেয়ে আমার ঘরে বসে থাকতে হবে নাকি? শুয়োরের বাচ্চারা আমার বালও ছিড়তে পারবে না। মামি চলেন তো”
মাহমুদা ইশান চেয়ার ধরে বসে পরে। এ কি দেখছেন তিনি। এক একটার মুখের ভাষার কি ছিড়ি! এতদিন তো এরকম শোনেনি। তিনি অবাক কন্ঠে জিজ্ঞেস করে “কিরে মাধবী তোর বাপ তোকে এতো শাসনে রাখার পরেও এসব ভাষা কোথা থেকে শিখলি? আর আরিয়ান তুই বিদেশে থেকেও এরকম খাষ বাংলা গালি কোথা থেকে শিখলি?”
আরিয়ান মাধবী দুজন এক সাথে বলে উঠে “প্রতিভা”
মাহমুদা ইশান মাথায় হাত দিয়ে বলে “বাহ এসব প্রতিভা?”
মাধবী তাড়া দিয়ে বলে “হ্যা। এখন চলো। পরে আবার গ্রামে যেতে হবে”
আরিয়ান বলে “পরে না এখনই তুই আমার সাথে গ্রামে যাবি। কবরে পরে নিয়ে যাবো”
মাধবী হুট করে বলে “আপনারা কেউই হয়তো মামাকে ভালোবাসেন না। নয়তো এই দু বছরে ঈদে চান্দেও দেখলাম না একবার কবরটা জিয়ারত করতে”
মাধবীর এই হুট করে করা প্রশ্নের উত্তর মা ছেলে কেউই দিতে পারে না। মাধবী দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে “আজ যদি মামার একটা মেয়ে থাকতো তাহলে দেখতেন। এতদিনে খুনি সহ খুনির চৌদ্দ গোষ্ঠীকে ধরে এনে শাস্তি দিয়ে দিতো। একজন পুরুষ কে তার নিজের মেয়ে আর মা ছাড়া কেউ মন থেকে ভালোবাসে না। তাই তো বাবারা মেয়েদের মা বলে ডাকে”
এবারও দুজন চুপ করে শুনে যায় কিছু বলতে পারে না। মাধবী পরিকল্পনা বদলে ফেলে। এখন যাবে না। রাতে রুহিকে নিয়ে যাবে। কারণ সে কবর চেনে না। চিনলে একা একাই যেত। তার রাতের আধারে ঘুরতেই বেশ লাগে। ভেবেই আর এগোয় না আরিয়ান কে বলে “আচ্ছা যান যাবো না। ঘোড়া বের করুন। গ্রামে যাবো। মামি তুমি চলে যাও। তোমার ছেলের জন্য জীবনে কিচ্ছু করা সম্ভব না। তোমার ছেলে একটা… থাক আর বললাম না”
বলেই সে আবার উপরে চলে যায়। আরিয়ানের বুঝতে বাকি নেই যে এই মেয়ে রাতে বের হবে। নয়তো এত সহজে তার কথা মানার মেয়ে তো এ না। বাকি খাবার শেষ করে সে হাত ধুয়ে গলা চরিয়ে মাধবীকে বলে “তৈরি হয়ে থাক। আধঘন্টা পর এসে আমি নিয়ে যাবো। আর একা একা যদি ঘর থেকে এক পাও বের করিস তো ঠ্যাং ভেঙে আমার নিজের গলায়ই ঝুলিয়ে রাখবো”
বলে শুভ্র শালটা গলায় ঝুলিয়ে গাড়ি নিয়ে বের হয়। এখন অপূর্বের কাছে যাবে। সেদিন গিয়ে দেখে অপূর্বের গা পুরিয়ে জ্বর এসেছে। এখনও জ্বরে গা পুরে যাওয়ার জোগাড়। কোন ভাবেই জ্বর কমেও না বারেও না। ইচ্ছে আর অভি সেদিন ঔষধ দিয়ে এসেছে। এখন অভি অপূর্বের সাথেই থেকে দেখা শোনা করছে। আরিয়ান নিজেও ক্ষণে ক্ষণে গিয়ে দেখে আসছে। বিয়েটা না করলে সেও গিয়ে রাতে থাকতো। আয়াজটা ইদানীং কেমন হয়ে গেছে। তার মাঝে অনুসুচনা কাজ করে। নিজের অনুভূতিকে প্রাধান্য দেয়ার জন্য অন্যের অনুভূতিকে অসম্মান করা একদমই ঠিক হয়নি। এখন তাকে অনুসূচনা দগ্ধ করে। কি দরকার ছিলো এরকমভাবে ঠকিয়ে হুট করে বিয়ে করে ফেলার? ইচ্ছে তো বলেই ছিলো আরিয়ানকে বিয়ে না করলে আর কাউকে করবে না। তো ইচ্ছের কথা মত দুজনে দেবদাস হয়েই কাটিয়ে দিতো পুরো জীবন। শখের মানুষটাকে নিজের করে পাওয়ার চেয়ে বড় চাওয়া হচ্ছে সে অন্যের না হোক। এখন নিজের করে পেয়েও তো না পাওয়ার মতই আছে।
আপাতত অপূর্বের কাছে আরিয়ান ছাড়া আর কেউ নেই। আরিয়ান আসায় সকলে যে যার কাজে চলে গেছে। আরিয়ান এসে নিজ হাতে খাইয়ে দিয়েছে। যতটা সময় আরিয়ান খাইয়েছে সে ধ্যান ধরে তাকিয়ে থেকে শুধু ভেবেছে, কি দরকার ছিলো দুটো বন্ধুর এক নারীরই প্রেমে পরার? জগতে কি আর নারী ছিলো না? ২৮ বছরের জীবনে প্রথম প্রেমে পরলো তো বন্ধুর ব্যাক্তিগত নারীর প্রেমেই পরতে হলো? আরিয়ান যে আগেই মাধবীকে বিয়ে করেছে তা আর কেউ না জানলেও সে তো জানতো। মেয়েটার জন্য করা আরিয়ানের পাগলামিগুলোর সাক্ষী তো সেই ছিলো। শুধু মেয়েটা তাকে ভুল বুঝবে বলে কত পাগলামই না করেছিলো, এমনকি মৃত্যুর দাড় প্রান্ত থেকেও ঘুরে এসেছে শুধু এই একটা নারীর জন্য। সেই দিনের কথা সে কখনো ভুলতে পারবে না। আরেকটু দেড়ি হলে সে তার বন্ধুকে হাড়াতে বসেছিলো, শুধু এই একটা নারীর জন্য। তা কীভাবে ভুলে যাবে সে? যদি সে জানতো যে আরিয়ানের মধুমতীই তার অগ্নিপরি তাহলে তো সে তখনই তার অনুভূতিদের পায়ে পিশে মেরে ফেলতো। ভূল করেও সেই অনুভূতিকে পেলে পুশে বড় করতো না যেই অনুভূতি তাদের বন্ধুত্বে ফাটল ধরাবে। তবুও সে জান থাকতে বন্ধুত্ব নষ্ট করবে না বলে মনে মনে প্রতিজ্ঞা বদ্ধ হয়।
“কাশেইম্মা সহ আমাদের বিয়ে করানো সকলে খুন হয়েছে”
আরিয়ানের কথায় অপূর্বের ভাবনায় ভাটা পরে। সে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে “সে কি! কীভাবে?”
“আমার দোষেই তো”
“তোর দোষে মানে?”
“একটা গোপন কথা বলি তোর কাছে। কাউকে বলিস না হ্যা?”
মনের মাঝে চাপা কান্না রেখেও অপূর্ব হেসে দেয় আরিয়ানের কথায়। হেসে বলে “কি এমন কথা যে এভাবে বলছিস?”
“আরে অনেক বড় ধরনের একটা বোকামি মার্কা কথা”
তারপর থেমে আবার বলে “আসলে ওরা আমাদের বিয়েতে বাধ্য করেনি। আমি নিজ থেকেই এসব করেছি”
“মানে?”
“আরে ঐ শাকচুন্নি মেয়ে ভীষণ ত্যাড়া। ভালোবাসবে তবুও বিয়ে করবে না”
“বুঝলাম না”
“আসলে হয়েছে কি। সেদিন বিকেলে শাকচুন্নি… নাহ শাকচুন্নি বললে ভুল হবে ও একটা মনচুন্নি। তো সেদিন বিকেলে ঐ ত্যাড়া মন চুন্নি শাড়ি পরেছিলো। তবে সেটা বড় কথা নয়। আমাকে দিয়ে আবার ঐ যে মাইয়ারা হাতে আর চুলে কি সব বাল ছাল লাগায় না? ওসব লাগিয়েছিলো। এখন তুই বল একে তো এই মেয়ে হুরের মত তার উপর শাড়ি পরে আবার আমার মত অবলা এক ছেলেকে দিয়ে ওসব পরিয়েছে, তো আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করবো? ওখানে আমার জায়গায় অন্য পুরুষ থাকলে তো তখনই…. তওবা তওবা। আস্তাগফিরুল্লাহ অন্য কেউ ছিলো ভাবলেই তো শ্বাস আটকে যায়। আচ্ছা শোন, পরে আমি আর ধৈর্য ধরতে পারিনি। অনেক ধৈর্য ধরেছি আর পারবো না, ভেবে কাশেইম্মা সহ আরো কতগুলোকে ঘুষ খাইয়েছিলাম। ওদের সাথে পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম। রাতের বেলা মনচুন্নিকে নিয়ে জঙ্গলে যাবো পরে ওরা যেন আমাদের ধরে অপবাদ দিয়ে বিয়ে করিয়ে দেয়। সেভাবেই পরিকল্পনা মাফিক ওরা আমাদের বিয়ে দিয়ে দেয়। ঐদিন বিয়ে না করলে এই মনচুন্নি জীন্দেগীতেও বিয়ে করতো না। কিন্ত আমি কি জানতাম নাকি যে ও এরকম সাংঘাতিক কাজ করে বসবে? কাল রাতে আমাকে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে গিয়ে ওদের সবকটাকে ও নিজ হাতে খুন করেছে”
সবটা শুনে অপূর্ব কি হাসবে না কাঁদবে ভেবে পেল না। মানে একটা মানুষ ঠিক কতটা বলদ হলে পরে এরকম কাজ করে! জানে যে, এই মেয়ের কোন পিছুটান নেই যখন যা ইচ্ছা করে বসে। খুন করাও এই মেয়ের বাঁ হাতের খেল। তবুও গিয়েছিলো বলদগীরি করতে। এখন কতগুলো মানুষের জীবন গেল এই বলদামির জন্য। অপূর্ব কপালে ভাঁজ ফেলে বলে,
“শিক্ষা হয়েছে?”
“হয়েছে মানে। মনে থাকলে আর জীন্দেগীতেও এই মেয়ের সাথে এরকম করবো না। তবে এক দিকে ভালোই হয়েছে। আমাদের বিয়েটাও হলো। আর যার শত্রু সে নিজ হাতে খুনও করতে পারলো”
“আল্লাহ জুড়ি মিলিয়েই দিয়েছে বোধ হয়। একটার চেয়ে একটা কম না। একজনে খুন করতে পারদর্শী আরেকজন গুম করতে। ভালোই হয়েছে ও খুন করবে আর তুই গুম করবি। তবুও ও তো কারণ ছাড়া খুন করে না। আর তুই তো কারণে অকারণে মানুষ কে গুম করে ফেলিস”
কথাগুলো খুব কষ্ট করে আওরায় সে। বুকে হাজারো ব্যাথা রেখে যেই নারীকে ভালোবাসে সেই নারীকেই বন্ধুর সাথে জুড়ি মিলিয়ে দেয়। তবুও যতক্ষণ আরিয়ান পাশে থাকে তার ভালো লাগে। এমনিতে আরিয়ান সবার সামনে যেমনই থাক তার সামনে বড্ড অগোছালো করে কথাবার্তা বলে। যা শুনলেই তার মন আপনাতেই ভালো হয়ে যায়। দরকার কি ভালোবাসার যদি বন্ধুই এত আপন হয়! ভূলে যাবে সে নারীর মোহ। ভাবতেই তাচ্ছিল্য হাসি দেয়। আরিয়ান বলে “আমিও কারণ ছাড়া গুম করি না। আমার সমস্ত অপরাধ ওকে ঘিরে। এর বাইরে যা করি তাকে আমি অপরাধ মনে করি না। ওটা আমার নেশা”
তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ২৬
অপূর্ব আর কিছু বলে না। শরীরটা ভালো লাগছে না তার। অপূর্বের অবস্থা বুঝতে পেরে আরিয়ান অভির দেখিয়ে যাওয়া ঔষধ গুলো খাইয়ে দেয়। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে বলে “আমি অরিন্দ কে পাঠিয়ে দিচ্ছি তোর কাছে। এখন ঐ মন চুন্নিকে নিয়ে গ্রামে যেতে হবে। এসে বলবোনে , কিভাবে গোয়েন্দাগিরীর অভিনয়টা করে ওখানে গিয়ে এই মনচুন্নি। যাই এখন”
