Home তুই আমার ৭ মিনিট তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ২৮

তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ২৮

তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ২৮
ঐশী আফরিন

আয়াজ ইচ্ছে কে নিয়ে অপূর্বের কাছে এসেছে। সাথে অরিন্দ আর অভিও আছে। আরিয়ান বেরিয়ে গেছে কিছুক্ষন আগে। অভির জোড়াজুড়িতে রুহিকেও আনতে হয়েছে আর রুহি এসেছে মানে আরশিও পেছন পেছন চলে এসেছে। কেন এসেছে জানে না। কিন্ত বাড়িতে কারো একবিন্দু শান্তি লাগছে না। এখানে এসে সবাই যে যার মত বসে আছে। আয়াজ মূলত ইচ্ছেকে এখানে এনেছে দুটো কথা বলতে। বাড়িতে মেয়েটা সারাক্ষণই আরশির পেছনে ঢেং ঢেং করে। দুটো এক পুরুষ কে ভালোবাসে, কই একটা আরেকটা সতীনের মত থাকবে তা না। সারাক্ষণই বান্ধবীর মত মিলেমিশে থাকে। অপূর্ব টিমটিমে চোখে এক একজনকে অবলোকন করছে। আয়াজের মনোভাব তার অজানা নয়। কাউকে কোন কথা বলতে না দেখে সেই প্রথমে মুখ খোলে “আয়াজ কিছু বলবি?”
আয়াজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোজা ইচ্ছেকে বলে “ইচ্ছুক?”
ইচ্ছে দূর্বল কন্ঠে উত্তর দেয় “হুমমম”

“দিন কি এভাবেই চলবে?”
“চলুক”
“মজা করবি না”
“আমি মজা করছি?”
“হ্যা তুই মজা করছিস”
“করলে করছি”
“এটা হেয়ালি করার বিষয় না ইচ্ছে”
“সেটা ঠকানোর আগে ভাবা উচিত ছিলো। আর তোমাদের কি বলবো। নিজের জন্মদাতা পিতাই ঠকিয়ে চলে গেছে”
“পিতা ঠকিয়ে চলে গেছে মানে?”
উপস্থিত সকলেও উৎসুক চোখে তাকায়। মানে টা তাদেরও মাথায় ঢুকছে না। এই ওদের বিয়ের দিনও তো ইচ্ছের পুরো পরিবারকে তারা দেখলো। তাহলে এখন কি হয়েছে।
ইচ্ছে আরশির কাঁধে মাথা রেখে উত্তর দেয় “সেদিন ছাড়া আর কোনদিন আমার পরিবারকে দেখেছিস তোরা কেউ?”
সকলেই বলে “না”

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“কখনও তো দেখতেও চাস নি এমনকি জানতেও না। চাস নি কারণ তোরা সরল মনের মানুষ। তবে যার মনে জটিলতা সে কিন্ত জানতে চেয়েছিলো”
অপূর্ব ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করে “কে জানতে চেয়েছিলো?”
“যার জন্য আজ এই অবস্থা”

কারো বুঝতে বাকি রয় না ইচ্ছে কার কথা বলছে। থেমে সে আবারও বলে “শুধু শুধু কি আমি আর ঐ পাষানকে ভালোবেসেছিলাম? জানিস, আমি এর আগে তোরা ব্যাতিত কারো সাথে মিশিনি। তোরাই প্রথম আর তোরাই শেষ। জানি আমাকে এই সুন্দর জীবন দেয়ার পেছনে আয়াজের এক আকাশ পরিমাণ অবদান আছে। নাহলে হয়তো আমিও আর পাঁচটা মেয়ের মত… থাক এসব আর বলতে চাইছি না। তবুও আমার সাথে যা হয়েছে তা নিজ চোখে দেখেও কেন আয়াজ আমায় ভূলে যাচ্ছে না, তা আমি জানি না। কিন্ত তোদের সবার সরলতা কে পেছনে ফেলে সেই পাষান জটিলতা কেই মন দিয়ে ফেলেছি কারণটা আমার অতীত সম্পর্কে সেই পাষান পুরুষ ছাড়া কেউ জানতে চায়নি। যদিও সে নিজের নিরাপত্তার জন্য জানতে চেয়েছে। সর্বপ্রথম আমার ঘৃণ্য অতীত সম্পর্কে সেই জেনেছে আর কখনও কাউকে জানানো হয়নি। মনে হয় না আর কখনও কাউকে জানানো হবে সেই ঘৃণ্য অতীত। তোরা জানলে হয়তো আমার অতীতের সাথে আমাকেও ঘৃনা করতে পারিস। তাই বলবো না। কারণ এখানে আমার স্বার্থ আছে। কি স্বার্থ জানিস? আমার তোরা ছাড়া কেউ নেই। তাই আমাকে বাঁচতে হলে তোদের লাগবেই। জানি না সেই অতীত জানার পরেও পাষান হৃদয়ের পুরুষ টা এখনও আমাকে কেন ঠাঁই দিয়েছে। তাই আমার কাছে এটাই বেশি। এর থেকে বেশি কিছু আশা করা বোকামি হবে”

সবাই শুধু চুপচাপ সবটা শুনে গেলো কিন্ত মাথায় কিছুই ঢুকলো না। সবটাই কেমন যেন ধোঁয়াসা মনে হলো সবার কাছে। কি ছিলো এই হাসি খুশি প্রাণবন্ত মেয়ের অতীতে? মেয়েটা এতদিন তাদের সাথে যেভাবে চলাফেরা করেছে তাতে তো বোঝার সাধ্যি নেই কারো যে এরকম একটা মেয়েও কোন কালো অতীত বয়ে বেরাতে পারে। অভি বলে “তাহলে সেদিন যারা আসলো…?”
“আমি নিজেও জানি না”
“এত দিন এসব বলিস নি কেন?”
ইচ্ছে তাচ্ছিল্য হেসে বলে “আরে বোকারা, পুরুষের ভূল মানে ভূল কিন্ত নারীদের ভূল মানেই চরিত্রহীনতা। এটাই সমাজের দ্বিচারিতা”
থেমে বলে “ধুর। আমার কথা বাদ দে। অপূর্ব কে কি করবি এখন”

“আমাকে নিয়ে গাঙ্গে ফেলে আয়”
অপূর্বের কথার ধরণে মুহুর্তেই সকলে আবার হেসে দেয়। তবে আয়াজ পারে না। তার মাথায় ঘুরছে ইচ্ছের বলা প্রতিটা কথা। সে জানে আরিয়ান কে জিজ্ঞেস করলে কখনও বলবে না আরিয়ান। বলার হলে আগেই বলতো। সে তো ইচ্ছের ঘৃণ্য অতীত জানেই, যেটা সবাই জানে না। কিন্ত এসব ছাড়াও যে আরো কিছু আছে তা আজ জানলো সে। সে যেটা জানতো তার চেয়েও যে আরো কোন ঘৃণ্য অতীত থাকতে পারে তা আয়াজের ধারণার বাইরে। তবে যে করেই হোক তার জানতে হবে। সে আর সবার মাঝে বসে থাকে না। উঠে চলে যেতে নিলে অরিন্দ বলে “আরে আয়াজ ভাই কোথায় যাচ্ছো?”

অপূর্ব অরিন্দ কে চোখের ইশারায় থামিয়ে আয়াজ কে বলে “তোর কাজ থাকলে তুই চলে যা। ইচ্ছে,আরশি আর রুহিকে অভি দিয়ে আসবে”
আয়াজ বেরিয়ে যেতেই অভি বলে “সব বাদ। তোদেরটা গেছে তো গেছেই। আমার টা এখনও বাকি আছে। তো যেটা আছে সেটাকে আগে ঠিক করা উচিত নয় কি?”
অরিন্দ বলে “ভাই আমার টাও বাকি আছে”
“তোরটা নিয়ে জাহান্নামের চৌরাস্তায় যা। এখনও বউ দেখসই নি। আসছে আমারটাও বাকি আছে”
“এটা কিন্ত অপমান”
“হলে হোক” তারপর সরাসরি রুহির দিকে তাকিয়ে বলে “এই মেয়ে তুমি আমায় বিয়ে করবে আর আমি তোমায়। কোন সমস্যা আছে?”

রুহি আহাম্মকের মত তাকিয়ে থাকে। এভাবে কেউ বিয়ের কথা বলে? আর তাও প্রেম না টেম না একদম সোজা বিয়ে! রুহিকে কিছু বলতে না দেখে অভি আবার বলে “কি মেয়ে?”
রুহি বলে “কিন্ত পরিবার?”
“ওটা আমি দেখবো। আগে তুমি রাজি কি না বলো?”
“তাহলে কে ধর্ম বদল করবে? আমি তো জীবনেও মুসলিম ধর্ম ত্যাগ করবো না”
“বললাম না পরে সব সামলে নেব আমি। তুমি শুধু হ্যা বলো”
“নাহ। আমি মাধবী আপুর অনুমতি না নিয়ে কিচ্ছু বলতে পারবো না”
“ঐ মেয়েকে আবার কেন টানছো? এমনিতেই পরিবার কে মানানো যাবে। সেটা সহজ হলেও মাধবীকে নিজের অভিভাবকের আসনে বসিয়ে আর জীন্দেগীতেও বিয়ে করতে পারবে না”
রুহি কিছু না বলে চুপ থাকে। তার এতটুকু বিশ্বাস আছে, পুরো পরিবারও তাদের পূর্ণতার বিরুদ্ধে থাকে তবুও যদি মাধবী একা তাদের পক্ষে থাকে তাহলে তাদের পূর্ণতা হেঁটে না একেবারে দৌড়ে দৌড়ে আসবে। ভেবেই সে হেসে দেয়।

“এই মেয়ে বেশি শোকে কি সুখী হয়ে পরছো নাকি?”
অভির কথায় রুহি ভাবনার জগত থেকে বেরিয়ে আসে। তবে কিছু না বলে আরশির দিকে তাকায়। আরশিকে কিছু বলতে না দেখে ইচ্ছের দিকে তাকায়। আসলে সে একা একা কোন পদক্ষেপ নিতে পারছে না। ছোট থেকে বাবা আর ভাইয়ের পছন্দই সে সানন্দে গ্রহণ করেছে। এখন হুট করে বিয়ের মত একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। তাও আবার বিধর্মী একটা লোকের সাথে। সে ইচ্ছেকে বলে “ভাবি তুমি বললে তো ভাইয়া নিষেধ করতে পারবে না। উল্টে তুমি তার কাছে কিছু চেয়েছে বলে খুশি হবে। তুমি একটু বলবে দয়া করে”
ইচ্ছে ভ্রু কুচকে বলে “আমি কি বলবো?”

“তুমি একটু আয়াজ ভাইয়াকে বলবে ডাক্তার বাবু তার বোনকে ভালোবাসে। আর মুসলিম ধর্ম গ্রহন করতেও রাজি। সে যেন আমাদের বিয়েটা দিয়ে দেয়”
অভি হাত তালি দিয়ে রেগে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে “বাহ। ডাক্তার বাবু একাই ভালোবাসে। আর একাই ধর্ম পরিবর্তন করে তাকে বিয়ে করবে। এমনভাবে বলছে যেন সে আমাকে ভালোবাসে না। তো দরকার কি বিয়ের। এই বাকিরা যেমন এক তরফা ভালোবেসে দেবদাস হচ্ছে আমরাও তেমনই হয়ে পরি। বুদ্ধিটা ভালো না? এত সুন্দর বুদ্ধি দেয়ার জন্য আমাকে একটা নোবেল ছুড়ে মার”

অরিন্দ বলে উঠে “পরে নাকে লেগে ব্যাথা পেলে আমাদের দোষ দিতে পারবে না। আগেই বলে রাখলাম”
সবাই আবারও হেসে উঠে। অথচ প্রতিটা মানুষ ভেতর থেকে ভাঙাচোরা। এক তরফা ভালোবাসা শেষ করে দিয়েছে সবাই কে। প্রতিটা মানুষের মনে তীব্র ব্যাথা। ইচ্ছে,আরশি একজনকে ভালোবাসে। যাকে ভালোবাসে তার ভালোবাসাকে আবার অপূর্ব আর শান্ত ভালোবাসে। ইচ্ছেকে আবার আয়াজ ভালোবেসে দেওয়ানা। এদিকে অভি, রুহি ভিন্ন ধর্মী হওয়ার পরেও দুজন দুজনকে ভালোবাসে। আর অরিন্দ তো কাকে ভালোবাসে বলেই না। অপু নাকি আবার অপূর্বের সাথে চিঠি প্রেম করে, কিন্ত অপূর্ব ভালোবাসে মাধবীকে। কি হবে এদের এই ভালোবাসার পরিনাম? জীবন কি সকলের এই অনিশ্চয়তার উপরেই কাটবে?

হলরুম জুরে বিভিন্ন মানুষের আনাগোনা। গ্রামের মানুষের ঢল নেমেছে লাশ দেখার জন্য। চারদিকে মানুষ কিলবিল করছে। মাধবী আর আরিয়ান কিছুক্ষন আগে এসে পৌছেছে এখানে। সোফায় দুজন বসে আছে আর তাদের পাশে জমিদারের দু বউ দাঁড়িয়ে আছে। সামনের সোফায় পুলিশ ইন্সপেক্টর বসে। তিনি শান্ত চোখে খেয়াল করছে জমিদারের দুই বউ কে। কারো চোখেই বিন্দু পরিমাণ পানি নেই এমনকি শোকের ছাঁয়া পর্যন্ত নেই। জমিদারের ছেলে শান্তকে তো পাওয়াই যাচ্ছে না। গতবার জমিদার মাহফুজ চৌধুরীর হত্যার কেসও তিনি হেন্ডেল করেছেন। কিন্ত খুনির কোন চিহ্ন পর্যন্ত পায়নি। এবারেও তার হাতে। কিন্ত খুনির চিহ্ন পর্যন্ত পায়নি। এত ধূর্ত খুনিও যে বাংলাদেশে আছে তা এই জমিদার গুলো খুন না হলে হয়তো জানতেন না। ইন্সপেক্টরের নাজেহাল অবস্থা দেখে মাধবী,আরিয়ান দুজনেই কোন মতে হাসি আটকে রেখেছে। আরিয়ান মনে মনে মাধবীর প্রশংসা করতে ভূলে না।
ইন্সপেক্টর কিছুক্ষন জমিদারের দু বউকে অবলোকন করে বলে “ঘটনা কখন সংঘটিত হয়েছে?”
মাধবী চোখের ইশারায় বড় বউকে চুপ থাকতে বলে পূর্ণিমাকে বলতে বলে। কেননা পূর্ণিমা একটু চালাক প্রকৃতির। সে সামনে এগিয়ে গিয়ে বলে “রাত তখন ৩টা”

“আপনারা কোথায় ছিলেন?”
“উনি কাল আমাদের কারো সাথে থাকেন নি। জলশায় ব্যাস্ত ছিলেন”
“তখন উনার সাথে কোন মেয়েগুলো ছিলো?”
“তারা এখন আর নেই?”
ইন্সপেক্টর ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে “নেই মানে?”
“তাদের আর পাওয়া যায়নি”
“একটু খুলে বলুন তো আসলে হয়েছেটা কি?”
“আরে এখানে কেন খুলবে। আমি আমার বউয়ের ক্ষেত্রে খুব অনুগত। বউ ছাড়া অন্য নারী কেন আমার সামনে খুলবে। এত খোলার ইচ্ছে থাকলে অন্য কোথাও যান”
তারপর মাধবীর দিকে তাকিয়ে বলে “বউ আয় তো আমরা অন্য কোথাও যাই। এরা এখানে খোলাখুলি করবে। আয় আয়”

বলে সত্যিই কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে মাধবীকে নিয়ে হলরুম ছেড়ে বেরিয়ে আসে। বাহিরে এসেই মাধবী হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলে “আরে আপনি কি পাগল? কখন কি বলতে হয় সেটাও জানেন না?”
আরিয়ান ঠোঁট কামরে হেসে বলে “যখন বলতে হয় তখন তো বলতে দিবি না তাই এখনই বললাম”
“ভালো হবেন না আপনি?”
“ভালো মানুষের দাম নেই দুনিয়ায়”
মাধবী বিরক্ত হয়ে বলে “ওখানে কথা চলছে আপনি বেরিয়ে আসলেন কেন?”
“আরে মেয়ে দাঁড়া। এত নাচিস কেন? আমি কি এমনি এমনি তোকে নিয়ে এসেছি বোকা মনচুন্নি। ওখানে এখন না থাকাটাই ভালো। আমরা পাশের গ্রামের প্রতিবেশি হিসেবে দেখতে এসেছি। দেখে চলে যাবো। ঐ পুলিশ হাদারাম অবলা দুটো নারীকে সন্দেহ করছে সামনে আস্তো সবলা নারী রেখে”

“কে বলেছে ওরা অবলা?”
“তোর কি মনে হয়?”
“আচ্ছা চলুন যেতে যেতে কালকের পুরো ঘটনাটা বলি। মুক্তাগাছা যাবেন কিন্ত”
“কেন গ্রামে গিয়ে আবার কি করবি?”
“কেন? মনে নেই সেদিন যে বিয়ে ঠিক করলো। শুনুন আপনাকে একটা কথা বলি। আয়াজ ভাইয়া আর ইচ্ছের বিয়ে তো আপনাদের ওখানে মানে শিমুলতলা হবে এবং শিমুলতলার মানুষ কে নিয়েই আয়োজন করবেন। কিন্ত আমি ওখানে বিয়ে করবো না। আমি আমার গ্রামের মানুষদের নিয়ে বিয়ে করবো। এবং আমার উৎসব মুক্তাগাছায় অনুষ্ঠিত হবে। এখন যেহেতু শেরপুরের জমিদার নেই তো আমরা এখান দিয়েই নিরাপদে মুক্তাগাছা যেতে পারবো। আপনি রাজি থাকলে বলুন। নয়তো আপনি শিমুলতলা বিয়ে করুন আমি মুক্তাগাছা বিয়ে করবো। তবুও আমার রাজ্যের মানুষ ছাড়া আমি বিয়ে করবো না”

“হ্যা তুই মুক্তাগাছা বিয়ে কর তোর রাজ্যের মানুষ নিয়ে , আমি শিমুলতলা বিয়ে করি আমার জনগনকে নিয়ে আর ইচ্ছে আর আয়াজকে না হয় শেরপুর পাঠিয়ে দেব। ওরা এখানে এসে না হয় জমিদারের চল্লিশার সাথে বিয়ে করবে। এটাই ভালো বুদ্ধি”
“মজা নিচ্ছেন? নিন নিন। শুক্রবার যখন আমাকে পাবেন না তখন একা একাই বিয়ে করিয়েন। এখন চলেন”
বলে মাধবী গিয়ে ঘোড়ায় উঠে পরে। আরিয়ান ভেংচি কেটে বিরবির করতে করতে আবার ভেতরে ঢোকে। ইন্সপেক্টর যা যা জানার জেনেও কোন ক্লু পেলেন না। আরিয়ান গিয়ে ইন্সপেক্টর কে বলে “আল্লাহ ব্রেন দিয়েছে সঠিক কাজে লাগানোর জন্য। তাই শুধু শুধু এসব খুনিদের পেছনে না দোঁড়ে বউয়ের কাছে যান। বংশ বৃদ্ধি হবে। এখানে খুনিদের পেছনে পরে থাকলে বা*লও হবে না”

তারপর জমিদারের দুই বউকে বলে “আসি আজ।আপনাদের ছেলে তো স্বর্গে চলে গেছে যে বাপের মৃত্যু তেও আসতে পারছে না। যদি কোন দরকার পরে, একা সব সামলাতে না পারলে খবর দিয়েন এসে পরবো। আর আমি এদিকে বলে দিয়েছি ওরাই সব দেখাশোনা করবে। চলি”
দুই বউ সম্মতি দিতেই আরিয়ান চলে আসে। ইন্সপেক্টর থম মেরে বসে আছে। এই ছেলের মুখে কোন কিছু আটকায় না। ছিঃ। বাকি পুলিশরাও মুখ লটকে দাঁড়িয়ে আছে। তবে মনে মনে ভাবলো ছেলেটা তো মন্দ বলেনি। কোন ক্লু না পেয়ে ইন্সপেক্টর জানায় “বিষয়টা আমরা দেখছি। আপনারা যদি আরো কোন তথ্য পান নিশ্চয়ই আমাদের জানাবেন। এখন আমরা আসছি। আর লাশগুলো ময়না তদন্তের জন্য নেয়া হচ্ছে”
বলে তিনি পুরো টিম নিয়ে বেরিয়ে যায়। ওরা বেরিয়ে যেতেই পূর্ণিমা বলে “শুধু ময়না তদন্ত না, টুনটুনি তদন্ত করলেও খুনির দেখা ইহো জনমেও খুনির দেখা পাবি না”

দুই বউ একজন আরেকজনের দিকে চাওয়া চাওয়ি করে। মনে পরে কাল রাতের দৃশ্যপট।
রাত দেরটার দিকে লন্ঠন হাতে মাধবী জমিদার বাড়িতে পৌছায়। বাড়ির পেছনের দরজায় কড়া নারে। বড় বউ কামিনী চৌধুরী সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলো। মাধবী বিয়ের দিনই দুই বউয়ের কাছ থেকে জমিদার কাশেমের সব কুকর্ম জেনেছে। প্রতিনিয়ত একের পর এক ধর্ষণ আর নারীর সম্মান হানীর কথা জেনে তাদের জিজ্ঞেস করেছিলো “ওনাকে তোমরা কেউ ভালোবাসো?”

দু বউ কঠিন কন্ঠে উত্তর দিয়েছিলো “জানোয়ারকে কেউ ভালোবাসে না”
পরেই পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক মাধবী রাতে এসে বাড়িতে ঢোকে। কাশেম তখন নেশায় বুদ হয়ে নারী নেশায় মত্ত। মাধবীও এক বাইজি সেজে প্রবেশ করে নৃত্য গৃহে। চার পাঁচজন বাইজি ছিলো সেখানে।তাদেরও আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। মাধবী প্রবেশ করতেই সকলে একে একে বেরিয়ে যায়। বাহিরে দাঁড় করা পাহারাদার কে আগে থেকেই ঘুমের ঔষধ খাওয়ানোতে সে ঘুমিয়ে কাবু হয়ে আছে। কাশেম তখন নরম কেদারায় আধ শোয়া হয়ে আছে। নেশায় দুনিয়া দারির হুশ নেই। সেই সুযোগে মাধবী নিজের প্রীয় তীড়টা কাজে লাগায়। দূর্বল করার জন্য প্রথমে পেছন দিক থেকে ঠিক ঘার বরাবর একটা তীর ছুড়ে দেয়। ঘারের রগে পরায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পরে কাতরাতে থাকে। মাধবী ইশারা দেয় পূর্ণিমা আর কামিনীকে প্রবেশ করতে। ওরা দুজন আসলে মাধবী সামনে থেকে যায়। মাটিতে কাতরানো কাশেমকে একবার দেখে পূর্ণিমা ও কামীনিকে জিজ্ঞেস করে “তোমরা খুন করতে পারবে?”

পূর্ণিমা বলে “রাণী মা এতটুকুই করেছি অনেক সাহস করে। খুন করার মত বড় কলিজা আর দুঃসাহস আমাদের নেই। যা করার আপনিই করুন”
মাধবী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে “আজ আমি করলাম কিন্ত পরের বার কোন নারীকে অসম্মানিতো হতে দেখলে তোমরা খুন করবে। যদি এই শর্ত মানো তাহলে আযাদ হতে পারবে এই জানোয়ারের কাছ থেকে”
দুজনে কিছুক্ষন ভেবে বলে “পারবো রাণী মা যদি আপনি সাথে থাকেন”
মাধবী হেসে বলে “শুরুটাতে না হয় আমি পাশেই থাকলাম শেষটাতে তোমাদের সামনে থাকা লাগবে। তোমরা দুজন আজ থেকে আমার সাথে থাকবে”

দুজনেই সম্মতি জানায়। মাধবী কুঠারটা কামিনীর হাত থেকে নেয়। দুজনে ভয়ে দূরে সরে যায়। মাধবী ‘আল্লাহু আকবর’ বলে সোজা গলায় কোঁপ বসায়। এক কোপেই মাথাটা আলগা হয়ে ছিটকে পরে। দুই বউ ভয়ে চিৎকার করে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়। মাধবী মাথার চুলগুলোতে ধরে বস্তায় ভরে ফেলে। তারপর দুজনকে ধমকে ভেতরে আসতে বলে। দুজন ভয়ে ভয়ে চোখ বন্ধ করে আসে। মাধবী বলে “কোন ব্যাপার না। শুধু এক মিনিটের ব্যাপার খুন করা। এবার জায়গাটা এমন ভাবে পরিষ্কার করো যেন এক ফোঁটা রক্তও না থাকে”
মাধবীর কথা মত দুজনে জায়গাটা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নরম কেদারায় এভাবেই বসিয়ে রেখে দেয় মাথা কাটা লাশটাকে। কাজ শেষে মাধবী বলে “একটা শেষ। এবার তোমরা থাকো আমি বাকিগুলোকে শেষ করে আসি”
পূর্ণিমা বলে “রাণী মা। এই লাশ সহ এক বাড়িতে পুরোটা রাত আমরা থাকতে পারবো না। আমরা আপনার সাথে যাই। একসাথে বাকিগুলো কে খুন করি”

তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ২৭

ততক্ষণে কামিণীর কাপন ধরে গেছে ভয়ে। পূর্ণিমা কামীনিকে ধরে বাড়ির পেছন দিক থেকে বেরিয়ে আসে। সেদিন বিয়ের সিদ্ধান্ত দেওয়া সকলকে চিনে চিনে একে একে খুন করে মাধবী। একই প্রক্রিয়ায় সকলকে খুন করে মাথা গুলো বস্তায় ভরে ফেলে। তারপর দুজনকে শিখিয়ে দেয় এখনই যেন গিয়ে এই খবর ছড়িয়ে দেয় তারা। তাহলে বাড়িতে মানুষে ভরে যাবে ওদের ভয় লাগবে না। মাধবীর কথামত তারা বাড়িতে ফিরে গিয়ে সকলকে জানিয়ে দেয়। একে একে সবাই জানতে পারে। তখনই যাদের বাড়ির মানুষগুলোকে খুন করা হয় তারাও টের পায়। আর কিছুক্ষনের মধ্যেই পুরো গ্রাম জেগে উঠে। মাধবী এদিকে লাশের মাথাগুলোকে পুরিয়ে ফেলে।

তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ২৯