তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ১১
মাশকুরা মায়িশা
আব্রাহাম নিজের ঘরের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আছে ,, কিন্তু মস্তিষ্ক তার বহু বছর আগের কিছু ঘটনা কে স্মরণ করছে,,এমন সময় সে অনুভব করে কেউ তার কাধে হাত রেখেছে,, সে পিছনে ফিরে দেখতে পায় এটি আর কেউ নয় বরং ঐশী,, ঐশী তাকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করে,,
ঐশী :- অভ্র ভাইয়া যে কালকে জার্মানি যাবে তা কি আপনি আগে থেকেই জানতেন?
আব্রাহাম কতক্ষণ চুপ করে থেকে শান্ত স্বরে বলে,,
আব্রাহাম:- প্রথমে আমিও জানতাম না,, আমার লোকেরা পরে আমাকে এই খবরটা দিয়েছিল,, মূলত সে বিয়ের পরে দেশ ছাড়তে চেয়েছিল,, কিন্তু ভাগ্যবশত বিয়েটিই তো হলো না,,
ঐশী আব্রাহামের দিকে স্থির দৃষ্টিতে কতক্ষণ তাকিয়ে থাকে,, এরপর সে হঠাৎ করে জিজ্ঞেস করে,,
ঐশী :- একটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারি?
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
আব্রাহাম :- এভাবে বলার কি আছে? যা জিজ্ঞেস করার করো!
ঐশী :- আপনার আর অভ্র ভাইয়ার মধ্যে তো অনেক ভালো বন্ধুত্ব ছিল তাহলে এসব এরকম –
আব্রাহাম :- এরকম কি করে হলো? এটাই তো জিজ্ঞেস করতে চাইছো! তাই না?
আব্রাহামের কথায় ঐশী উপর-নীচ মাথা ঝাঁকিয়ে সম্মতি প্রকাশ করলে আব্রাহাম মৃদু হাসে এবং বলা শুরু করে,,,
আব্রাহাম :- সময়টা ২০১৭ সাল আমি, অভ্র, রেয়ান এবং আমাদের আর একজন জুনিয়র মেয়ে বান্ধবী তৃধা,, আমরা অনেক ভালো বন্ধু ছিলাম,, একটা গ্যাং ছিল আমাদের,, (কিছু মনে করে হঠাৎ করেই মৃদু হেসে) জানো? আমরা চারজন একে অপরকে বিভিন্ন নামও দিয়েছিলাম, আমাকে তারা
“হিটলার”, অভ্রকে “মা-ভক্ত রোমিও”,রেয়ানকে “ডেঞ্জা-রাস বলদ” এবং তৃধাকে “শকুনদের নেত্রী” বলে ডাকত,, তবে হঠাৎ করে..
ঐশী :- হঠাৎ করে কি হয়েছে?
এরপর আব্রাহাম আবার বলা শুরু করে,,,
[ফ্ল্যাশব্যাক]
ভার্সিটির ক্যান্টিনে বসে আছে তিন বন্ধু,, আব্রাহাম, রেয়ান আর তৃধা,, তখনই সেখানে যাদের আরেক বন্ধু অভ্র আসে,, তাকে দেখেই রেয়ান বলে ওঠে,,
রেয়ান:- কিরে এত দেরী কেন? আজকেও কি কোন মেয়েকে প্রপোজ করে জুতার বারি খেয়ে এসেছিস নাকি!
রেয়ানের কথায় আব্রাহাম তৃধা স্ব-জোরে হেসে ওঠে তবে অভ্র বিরক্ত হয় বেশ,, এমন সময় আব্রাহাম বলে ওঠে,,
আব্রাহাম :- ভাই, মামি বিশ্বাস করে তার ছেলে একটা বিশুদ্ধ পুরুষ,, সে যদি জানতে পারে যে তুই এরকম প্লে-বয় তাহলে তোকে নির্ঘাত বাড়ি থেকে বের করে দেবে,,
আব্রাহামের কথায় তারা আরো উচ্চ শব্দে ভেসে ওঠে,, অন্যদিকে তৃধা অপলক দৃষ্টিতে অভ্রর দিকে তাকিয়ে আছে,, যা আর কেউ না দেখলেও আব্রাহামের ঠিকই চোখে পড়ে,,
আব্রাহাম:- তুই অভ্র কি ভুলে যা তৃধা,, তুই জানিস ও কি রকম! সে মেয়েদের মন বোঝেনা!
তৃধা :- তাকে ভালোবাসার আগে আমি সবকিছু জেনেই তাকে ভালবেসেছি,, জানিস তাকে ভালোবেসে আমি একটা জিনিস উপলব্ধি করেছি,, যদি সে অন্য কারোর পাশে খুশি থাকে,, থাকুক না! আমি না হয় তার জন্যে বোনা সকল স্বপ্ন নিয়েই বেঁচে থাকি..!
সেদিন তৃধা অনেক ভেবে অভ্রর কাছে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেয়,, এমনকি সে অভ্র কে ফোন করে সন্ধাবেলায় দেখা করার কথা বলে,,
কিন্তু অভ্র সেদিন আসেনা,, একা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল তৃধা,,ফলে তৃধা গ-ন ধ-“র্ষ-“ণে-র মতো নিকৃষ্ট মৃত্যুর শিকার হয় সে,,
[বর্তমান]
ঐশী অবাক দৃষ্টিতে সব শুনে যাচ্ছে,, সে কখনোই ভাবেনি,, অভ্রর মত মানুষ এরকম কাজ করতে পারে,,
আব্রাহাম :- সবচেয়ে বেশি কষ্ট কখন লাগে জানো,, যখন মনে পড়ে যাকে ভালোবেসে মেয়েটা এমন মৃত্যুর স্বীকার হলো সে তার ভালোবাসার ব্যাপারে কিছুই জানে না,, মূলত এর জন্যই আমার আর রেয়ানের ওর উপর অনেক রাগ জমেছিল,,
ঐশী সব ঘটনা শোনার পরে এখনো চুপ করে বসে আছে কেন জানো কোনভাবে মেনে নিতে পারছে না যে ভালোবাসার পরিণতিও এতটা নির্মম হতে পারে…
ঐশী :- ভালোবাসা এত নিষ্ঠুর কেন ?
আব্রাহাম :- ভালোবাসা তো নিষ্ঠুর নয়, শ্যামাঙ্গিনী,, নিষ্ঠুর হয় সে যাকে ভালোবাসা হয়,, যে ভালোবাসা পায়,, যে ভালোবাসে সে তো নিষ্ঠুর নয়,, কারণ সে যদি নিষ্ঠুরই হতো তবে সে ভালোবাসার মতো অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারত না..!
একমাস পর
অভ্র জার্মানি চলে গিয়েছে,, তবে এতে তার মা আমিনা বেগম অনেক নিষেধ করেছিল,, কিন্তু এইবার আর তার মায়ের কথা শোনে না,, তার যাওয়ার সময় আব্রাহাম তাকে একটি ডাইরি দিয়েছে,, যেটা একসময় তৃধার ছিল,,
সকালবেলায় আহসান বাড়ির রান্নাঘর,, লিপি বেগম, আয়েশা বেগম রান্না করছেন,, এবং তাদেরকে হাতে হাতে সাহায্য করেছে মায়িশা আর ঐশী,, এমন সময় বাড়ির কলিং বেল বাঁচতে থাকলে আজহারুল আহসান তা খুলে দেন,,
এখানে কিছু লোক ঢোকেন,, যাদেরকে দেখে বাড়ির বাকি সদস্যরা এগিয়ে যায়,, এবং তাদেরকে বসতে বলেন,, তখন ইয়াশ এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করে,,
ইয়াশ :- আপনারা কারা? কোন দরকার এসেছেন?
তখন তাদের মধ্যে সবথেকে বয়োজ্যেষ্ঠ লোক বলে ওঠেন,,
—:- এটা কি ঐশীর বাড়ি?
সবাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে হ্যাঁ বোধক জবাব দিলে,, ওখানে মহিলাদের মধ্যে একজন মহিলা বলেন,,
:-“আসলে ঐদিন ভার্সিটিতে ঐশিকে দেখার পর আমার ছেলের তাকে খুব ভালো লেগেছে তাই আমরা আসলে-
তবে মহিলাটি কথার শেষ করার আগেই উপর থেকে কেউ বজ্র কন্ঠে বলে ওঠে,,,
:-“আপনি যে মনোভাব নিয়ে এখানে এসেছেন তা এক্ষুনি ঝেড়ে ফেলুন,, কারণ আপনি যা ভাবছেন তা অসম্ভব,, because, Oishe is legally my Wife..!
আব্রাহামের হঠাৎ এমন অধিকারবোধ দেখানো কথায় লোকগুলো বেশ লজ্জায় পড়ে যায়,, তবে ঐশী ওখানেই থমকে দাঁড়িয়ে আছে,, বুকের মধ্যে হৃদপিন্দন দ্রুত গতিতে বেড়ে উঠেছে তার..!
ঐশী নিজের ঘরের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে,,, সকালের ঘটা ঘটনার পর থেকে আব্রাহাম বাড়িতে আসেনি,, দুশ্চিন্তা তার মনে দানা পাকছে,, যদি আব্রাহাম তার উপরে রেগে গিয়ে না এসে থাকে ?
তখনই বাইরে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে,, বৃষ্টি ঐশীর অনেক প্রিয় একটি জিনিস,, ফলে বৃষ্টি দেখেই সে কিছু না ভেবেই ছাদে চলে যায়,,
ছাদে পা রাখতেই তার মন নেচে ওঠে,, সে বৃষ্টিতে ভিজতে থাকে,, এর কিছুক্ষণ পরেই ছাদে প্রবেশ করে আব্রাহাম,, যে মূলত তাকে ঘরে দেখতে না পেয়ে ছাদে উঠে এসেছে,,
তখনই তার চোখ গিয়ে পরে ঐশীর দিকে,, বৃষ্টিতে ভেজার কারণে সারা শরীরে কাপড় লেপ্টে আছে,, হলে তার শরী-রের প্রতিটি ভা-জ স্প-ষ্ট দেখা যাচ্ছে,,
নিজের অজান্তেই আব্রাহাম ঐশীর দিকে এগিয়ে যেতে থাকে,,, সে ঐশীর কো-ম-র ধরে তাকে নিজের বুকের কাছে নিয়ে আসে,, তৎক্ষণাৎ ঐশী থমকে যায়,, দুজনের চোখাচোখি হয়,, আব্রাহাম কিছুটা অবচেতন ভাবেই ঐশীর দিকে ঝুঁকে পড়তে থাকে,, ঐশী কিছু না ভেবেই আব্রাহামের অধরের সাথে নিজের অধর মিলিয়ে দেয়,, আব্রাহাম কিছুটা থমকে থেকে ঐশীর অধরে মত্ত হয়ে যায,,
আব্রাহাম বেসামাল হয়ে ঐশীকে নিজের আরও ঘনিষ্ঠে নিয়ে আসে,, এবং ঐশীর উষ্ণ কো-ম-রে নিজের ঠান্ডা হাত গলিয়ে দেয়,, এতে ঐশী কেঁপে ওঠে,,
তখনই আব্রাহাম থেমে যায় এবং অস্পষ্ট গলায় আওড়ায়,,
আব্রাহাম:- I- I’m s-sorry-
তখনই সে তাকে আটকে দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে এবং কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,,
ঐশী :- it’s okay Abraham.. আমি আপনার স্ত্রী আপনার আমার উপর অধিকার আছে..
এতে আমরা অবাক হয়ে এবং তাকে শান্ত স্বরে বলে,,
তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ১০
আব্রাহাম:- “অধিকার” শুধু স্ত্রীর উপর স্বামীর জন্য নয়,, বরঞ্চ একজন স্বামীর উপর তার স্ত্রীর জন্যও,, তুমি আমার স্ত্রী, তার মানে এই নয় যে আমি তোমার উপর জো-র-জ-বর-দ-স্তি অধিকার খাটাবো,,(তারপরেও সে ঐশীর দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করে) তুমি কি তোমার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিশ্চিত ঐশী?
ঐশী তখনও তার বুকে মাথা রেখে আছে,, সে আস্তে করে মাথা উপর-নীচ মাথা ঝাঁকায়,, আব্রাহাম মৃদু হেসে ঐশীকে পাজা কোলে তোলে ঘরের দিকে অগ্রসর হয়..!
আব্রাহাম :- অনেক ভালোবাসি তোমায়, আমার একান্ত শ্যামাঙ্গিনী..!
ঐশী :- আমিও অনেক ভালবাসি তোমায়, আমার আজীবনের সঙ্গী, আমার স্বামী..!
