তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৯
মাশকুরা মায়িশা
ঐশী কোচিং থেকে বাড়ি ফিরছে,, অন্য সময় তার সাথে মায়িশা আর ইয়াশও থাকে,, তবে আজকে আজহারুল আহসানের কথায় ইয়াশ মায়িশাকে নিয়ে ঘুরতে গিয়েছে,,ঐশীর কোচিং থেকে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে,, কোনো রিকশা না পেয়ে সে পায়ে হেটে ফিরছে,,
তখনই সে খেয়াল করে রাস্তার কিছু বখাটে ছেলে তাকে ফলো করছে,, তাই সে নিজের হাটার গতি বাড়িয়ে দেয়,, কিন্তু ছেলে গুলো তার পিছু ছাড়ে না,, ফলে সে এবার ভয় পেয়ে জোরে ছুটতে শুরু করে,, কিন্তু এবার ছেলেগুলোও তার পিছনে দৌড় দেয়,,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
এমন সময় রাস্তার মাঝখান দিয়ে দৌড়ানোর জন্যে ঐশী একটি কালো গাড়ি সামনে পড়ে যায়,, ফলে সে কিছু চট পায়,, গাড়ির ভেতরের লোকটি ঐশীকে দেখে সাথে সাথে বের হয়ে আসে এবং চিন্তিত স্বরে ঐশীকে ডাকতে থাকে,,
লোকটি :- ঐশীইইই! তুমি ঠিক আছো?!
ঐশী লোকটিকে দেখে ভা-ঙা ভা-ঙা স্বরে বলতে থাকে,,
ঐশী :- আ-আব্রা হা-হাম! ও-ওরা-
শেয়ার কিছু বলতে পারেনা সে নিস্তেজ হয়ে নিচে পড়ে যায়,, আব্রাহাম রাগান্বিত চোখে ওই ছেলেগুলোর দিকে তাকায়,,, ছেলেগুলো এক চাহনিতেই আব্রাহামকে চিনে ফেলে,,,
তারা ভয় পেয়ে যায় এবং পালানোর পথ খুঁজতে থাকে,,কিন্তু আব্রাহাম তাদেরকে কিছু বলে না এবং ঐশীকে নিয়ে গাড়িতে উঠে পড়ে,, গাড়িতে উঠে সে রেয়ানের ফোনে কল দেয় এবং কিছু একটি বলে,,
মায়িশা আর ইয়াস একসাথে হেঁটে চলেছে,, তবে ইয়াশের উপরে মায়িশা প্রচন্ড বিরক্ত,, কারণ তারা যতক্ষণ ধরে হাঁটছে ততক্ষণ ইয়াশ তার সাথে কথা বলার তো দূর তার দিকে তাকায়নি পর্যন্ত,,
এক সময় মায়িশা বিরক্ত হয়ে থেমে যায়,,কিন্তু এই আজ তারপরও হেঁটে যাচ্ছে,, তবে যখন সে বুঝতে পারে তখন সে পিছনে তাকায়,, ইয়াস কে পিছনে তাকাতে দেখে মায়িশা তার দিকে রাগী চোখে তাকায়,, ইয়াস তার কাছে আসে,,
ইয়াশ :- থেমে পরলে কেন?
মায়িশা :- কেন? আমরা কি এখানে জগিং করতে এসেছি!?
মায়িশার কথায় ইয়াস থতমতো খেয়ে যায়,,
ইয়াশ:- না-না মানে..
মাইশা এবারে প্রচন্ড রেগে যায় এবং রাগান্বিত কন্ঠে বলতে থাকে,,
মায়িশা :- “তোমার” সমস্যা কি ইয়াশ? তুমি কি আমাদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়ে নিয়ে এতটাই অসন্তুষ্ট?! যে আমার দিকে তাকাতেও তোমার ঘৃণা হয়?? আমি কি দেখতে এতটাই খারাপ?! নাকি আমাকে ভালোবাসা যায় না-
মায়িশা আর কিছু বলতে পারেনি,, কারণ তার আগেই ইয়াশ মায়িশার অধরে নিজের অধর ডুবিয়ে দিয়েছে,, মায়িশার সারা শরীর কেঁপে ওঠে,, তখনই আকাশ থেকে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নেমে দুজনকে ভিজিয়ে দেয়,, কিন্তু তারা দুজন তখনও একে অপরে মত্ত..
ঐশী চোখ মেলে তাকায়,, মাথায় তীব্র যন্ত্রণা হচ্ছে,, সে উঠে বসতে চাইলে তার কাছে আব্রাহাম আসে,,
এবং তাকে বসতে সাহায্য করে,,
আব্রাহাম বিচলিত কন্ঠে তাকে জিজ্ঞেস করে,,
আব্রাহাম :- ঐশী তুমি ঠিক আছো? মাথায় যন্ত্রণা হচ্ছে?
ঐশী :- আমি ঠিক আছি..
ঐশী আব্রাহামের দিকে তীক্ষ্ণ নজরে কতক্ষণ তাকিয়ে থেকে হঠাৎ করে তাকে জিজ্ঞেস করে,,
_:-আব্রাহাম ভাই.. আজীবন আমার প্রতি আপনার ঘৃণার সাথে আমি পরিচিত,, যে আমাকে আপনি কোনদিনও দেখতে পারেন না, সহ্য করতে পারেন না তার জন্যে আপনি এত কেয়ার, এত যত্ন কেন করেন? কে হই আমি আপনার?
আব্রাহাম স্থির নজরে কতক্ষণ ঐশীর দিকে তাকিয়ে থাকে,, এরপরে হঠাৎ করে গেয়ে ওঠে,,
~”Tu hi armaa,,
tu hi sach hai,,
Keh rahi deewaniyat hai,, Main ye dil pe Likh chuka hu,,
Tu mera hai tu mera hai..!
সময় আর নদীর স্রোত দুটোই বহমান,, এরা কখনোই থেমে থাকে না,, না এদের কখনো আটকানো যায়,,
আজকে মাসফিয়ার গায়ে হলুদ,, পুরো আহসান বাড়ি বিয়ের আমেজে সেজে উঠেছে,, সবার মুখে হাসি,, শুধু হাসি নেই মাসফিয়ার নিজের মুখেই,,
ঐশী :- মাশফি কি হয়েছে তোর? আজ বাদে কাল তোর বিয়ে,, অথচ তোর মুখে কোন হাসি নেই,, তুই ঠিক আছিস?
মাশফিয়া :- আমার কি ঠিক না থাকার কথা ছিল নাকি?
মাসফিয়ার এমন ঘোরানো কথায় ঐশী অবাক হয়ে যায়,, মায়িশা আর ঐশীর চোখাচোখি হয় দুজনের চোখে মুখেই মাশফিয়ার জন্য দুশ্চিন্তা ভেসে উঠছে,,
সবার দিকে তাকিয়ে পরিস্থিতির সামাল দিতে ইয়াস বলে ওঠে,,
ইয়াশ:- আরে বাদ দে তো,, মাসফু বইনা তুই বল আজকে তোর গায়ে হলুদ না? তো কি খাবি বল? যা খেতে চাইবি তোর এই বড় ভাই কম দুলাভাই এক্ষুনি কিনে আনবে,, নাকি তুই অভ্র-
ইয়াসের এমন মজায় মায়িশা ইয়াসের কাধে আস্তে করে ধাক্কা দেয় এবং পুরো রুমে বসে থাকা সবাই স্ব-জোরে হেসে দেয়,, তবে মাশফিয়া শুধু মুচকি হাসে,, তবে সে হাসির মধ্যে লাজুকতা ছিল না,, ছিল অজস্র অভিমান ও লুকোনো কষ্টের ছাপ,,
আজকে মাসফিয়ার গায়ে হলুদ হওয়ায় বাড়ির কেউই বসে নেই,, সবাই হাতে হাতে কাজ করছে,, তাছাড়া বড় বোনের বিয়ের উপলক্ষে এতদিন হোস্টেলে থাকা আয়ান-ও বাড়ি এসেছে,, পুরো বাড়ি জুড়ে হই-হুল্লোড় হচ্ছে,,
ঐশী পায়েসের বাটি নিয়ে যেখানে ও মাসফিয়ার গায়ে হলুদের মঞ্চ ঠিক করা হয়েছে সেদিকে যাচ্ছিল,, এমন সময় কেউ তাকে টে-নে বাড়ির ভেতরে আনে,, সে ভয় পেয়ে চে-চাতে যাবে তার আগে লোকটি তার মুখ আটকে দেয় দাঁতে দাঁত চেপে বলে ওঠে,,
আব্রাহাম :- এটা আমি! ভয় পেয়ো না! (তার পুরো শ-রীর অবলোকন করে ঝাঝালো সুরে বলে ওঠে)
সেফটি পিন আছে তোমার কাছে? নাকি এটাও নেই?!
ঐশী বুঝতে পারেনা আব্রাহাম সেফটি পিন কেন চাচ্ছে,, কিন্তু সে তার হাতের ব্যাগ থেকে সেফটি পিন বের করে দেয়,,
আব্রাহাম সেফটি পিন দিয়ে ঐশীর শাড়ীর আচল ঠিক করে দিতে থাকে,, যা কখন সরে গিয়েছিলো তা ঐশী খেয়াল করেনি,,
আব্রাহাম :- যখন শাড়ি সামলে রাখতে পারো না তখন পড়ো কেন?
এই বলেছে ওখান থেকে চলে যায়,, কিন্তু ঐশী ওখানেই থম মেরে দারিয়ে থাকে,,
মাশফিয়াকে স্টেজের সামনে বসানো হয়েছে,, তার পাশে অভ্র-ও আছে,, কিন্তু তাদের দুজনের মুখেই কোনো খুশি নেই,, এমন সময় পর স্টেজের আলো নিভে যায়,, যাতে সবাই ভড়কে যায়,,
তখনই স্টেজের মধ্যে “Let’s nacho” গান বেজে উঠে,, সাথে স্টেজের আলো ও জ্বলে উঠলে দেখা যায় তিন রমণী একই রকম কালো শাড়ি পড়ে স্টেজে দাঁড়িয়ে আছে,, ঐশী, মায়িশা, আর রাবেয়া,, যারা একসাথে গানের তালে তালে নেচে চলেছে,,
নিজেদের বউদের এইভাবে নাচতে দেখে আব্রাহাম, ইয়াশ আর আবিদ বিষম খায় এবং সেখানেই মাথা ঘুরে পড়ে যায়..!
রেয়ান নিজের ঘরে চুপচাপ বসে আছে,,আজকে আহসান বাড়িতে তার দাওয়াত ছিল,, কিন্তু সে যায়নি যত যাই হোক,, সে তার নীলাঞ্জনার সাথে অন্য কারোর গায়ে হলুদ দেখতে পারবে না,,
তখনই ঘরে তার চাচাতো ভাই সিফাত আসে,, সে তাকে মন মরা অবস্থায় দেখে তাকে উদ্দেশ্য করে বলে,,
সিফাত :- ভাইয়া ঘরে মন খারাপ করে বসে থাকলে তো আর ভাবির বিয়ে আটকে যাবে না,, তুমি ভাবিকে নিজের মনের কথা বলে দিলেই তো পারতে,,
রেয়ান চুপ করে যায়,, বিষয়টা এমন নয় যে সে রিজেকশন এর ভয় পায়,, তার আসল ভয় তো আব্রাহামকে নিয়ে,, সে কোনদিনই চায় না তার আর মাসফিয়ার জন্য তার সাথে আব্রাহামের 10 বছরেরও অধিক সময়ের বন্ধুত্ব নষ্ট হোক,, তাইতো সে এতদিন চুপ করে গিয়েছে,,
এসবই তো সিফাত জানে এরপরেও এ প্রশ্ন করায় র্যাম বিরক্ত হয়,,তার বিরক্তি বুঝতে পেরে সিফাত রেয়ানের উদ্দেশ্যে বলে,,
তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৮
সিফাত:- আমি জানি তুমি আব্রাহাম ভাইয়ের সাথে বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়ার ভয় পাও,, কিন্তু আমার বিশ্বাস আছে আব্রাহাম ভাই তোমাকে ভুল বুঝবে না তাই ভাইয়া আমার কাছে একটা বুদ্ধি আছে,,
রেয়ান:- বুদ্ধি? কেমন বুদ্ধি?
সিফাত শয়তানি হাসে এবং রেয়ানকে উদ্দেশ্য করে বলে,,
সিফাত:- kidna”-“pping..
