তুমি আমার বিতৃষ্ণা শেষ পর্ব
মাশকুরা মায়িশা
সময় কখনো কারো জন্য থেমে থাকে না,, এখানেও সময় থেমে নেই,, সেই দিনের পর সাতটা বছর কেটে গিয়েছে,, কিন্তু আহসান বাড়ির চিত্র এখনো বদলায়নি,, অথচ যোগ হয়েছে কিছু ছোট ছোট মানব,,
আমরা আমার ঐশীর ভালোবাসা এখনো আগের মতই আছে,, তারা দুজনেই বর্তমানে কোম্পানি সামলাচ্ছে একসাথে,, তাদের ভালবাসা কমা তো দূর যেন বেরেই চলেছে,,বর্তমানে তাদের এক ছেলে এবং এক মেয়েও আছে,, ছেলের নাম “যারিয়ান আহসান আদ্র” যার বয়স ৬ বছর এবং মেয়ের নাম “যাইভিয়া আহসান আদ্রিতা” যার বয়স দুই বছর,,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
মায়িশা আর ইয়াসের সংসার জীবনও অনেক সুখ দিয়ে ভরা,, ভালোবাসা একাংশ কমেনি তাদের মধ্যে,, ইয়াশ বর্তমানে ভাইয়ের সাথে মিলে কোম্পানি সামলাচ্ছে,, এবং মায়িশা একটি নামিদামি ভার্সিটির ইংলিশ লেকচারার হয়েছে,,, তাদের জমজ দুই ছেলে হয়েছে,, যাদের নাম “আরহাম আহসান মায়ান” এবং “আফনান আহসান ইয়ান” এবং বয়স ৬ বছর,,
অন্যদিকে মাশফিয়া আর রেয়ানও বেশ সুখে আছে,, মাশফিয়া বর্তমানে প্রেগন্যান্ট,, যা নিয়ে রেয়ান সারা দিন-রাত ২৪ ঘন্টা টেনশনে থাকে,,
আজকে আয়ানের বিয়ে,, বিয়েটা পারিবারিক ভাবেই হবে বলতে গেলে অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ,, যেটা মূলত আয়ানেরই ইচ্ছে ছিল,, তবে বিয়ের আগে তিন মাস সে এবং তার হবু স্ত্রী “আরুশি আহমেদ” একে অপরের সাথে পরিচিত হয়েছে”
ঐশী বসে আছে মেজাজটা তার অত্যন্ত গরম,, যার একমাত্র কারণ তার মেয়ে আদ্রিতা,, কোন মতেই খেতে চাচ্ছে না,, তখনই ঘরে আব্রাহাম ঢুকে এবং সে ঐশীকে এরকম বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখে কিছু জিজ্ঞেস করতেই যাবে তার আগেই ঐশী তার দিকে রাগান্বিতা চোখে তাকালে সে শুকনো ঢোক গিলে নিজের মেয়েকে কোলে তুলে নেয় এবং নিজেই খাওয়াতে শুরু করে,, এবং ঐশীকে অবাক করে দিয়ে এবার আছে তাহলে খাওয়া শুরু করে,, ফলে রেগে গিয়ে ঐশী রুম থেকে বের হয়ে যায়,,
আয়ানের বিয়ে উপলক্ষে আমিনা বেগম এসেছেন,, তবে অভ্র জার্মানি থেকে এই সাত বছরে একবারও দেশে আসেনি,, এমনকি বিয়েও করেনি,, তবে মাঝে মাঝে শোনা যায় তৃধার কবরের পাশে অবরুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়,, তবে এই ঘটনা সব সময় সেপ্টেম্বর মাসের দিকে হয় যে সময়টা তৃধার মৃত্যুবার্ষিকী,, আজকেও ঠিক সেরকমই একটি দিন,,
অভ্র :- জানিস তৃধা? একটা আফসোস আমার মনে আজীবন থেকে যাবে,, আমি তোকে কোনদিন ভালবাসতে পারিনি! কেন পারলাম না বলতো? কারণ আমি আজীবন তোকে বোনের চোখে দেখে এসেছি এবং ওই দিন রাতে আম্মু অনেক অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় আমি তোর সাথে দেখা করতে যেতে পারিনি! পারলে মাফ করে দিস! কিন্তু তারপরেও আমি আমার প্রজাপতিকে কেন ভুলতে পারছি না বলতো!?
আলিশাও এখনো বিয়ে করেনি,, যা নিয়ে আমিনা বেগম তাকে অনেক কথা শোনায়,, কিন্তু সে সেটা শুনলে তো,, বর্তমানে সে অনেক নামকরা একজন ডাক্তার,, সবার রোগ সারিয়ে দেয় সে,, কিন্তু তার অন্তরের রোগ সারানোর জন্যই কেউ নেই,,
সকালের পর থেকে ঐশী আর আব্রাহামের কাছে যায়নি,, এতে আব্রাহাম অনেক বিরক্ত,, তখনই তার জন্য ব্ল্যাক কফি নিয়ে ঐশী ঘরে প্রবেশ করে,,
সে আব্রাহামকে কফি দিয়ে রুম থেকে চলে যেতে চাইলে,, আব্রাহাম তাকে টেনে কোলে বসিয়ে দেয়,,
ঐশী :- আজব! বুড়ো বয়সে এ কেমন অসভ্যতা! ছাড়ুন আমায়!
আব্রাহাম :- স্ত্রীর সাথে স্বামীর অসভ্যতা করার জন্য কি বয়স লাগে নাকি? (ঐশীর ঘাড়ে নাক ঘষতে ঘষতে) জানন এখনোঅ কি রেগেএএ আছোঅ?
ঐশী :- উমহু! আপনার উপরে কি আমি রেখে থাকতে পারি নাকি..
তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ১১
আব্রাহাম উচ্চ শব্দে হেসে ওঠে এবং বলে,,
আব্রাহাম :- ভালোবাসি শ্যামাঙ্গিনী! আজীবন তোমাকে ভালোবাসব! তুমি শুধু আমার হয়ে থেকো!
ঐশী :- আমিও ভালবাসি আপনাকে,, আমি তো আপনারই! এবং আজীবন আপনারই থাকবো!
