Home তুমি আমার বিতৃষ্ণা তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ২

তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ২

তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ২
মাশকুরা মায়িশা

ঐশী এবং তার তিন ক্রাইম পার্টনার তারি রুমে চুপচাপ বসে আছে,, মূলত বিকেলে করা সেই কাজের জন্য সবার কাছে বেশ ঝাড়ি খেয়েছে,, তাই এখন তাদের চারজনেরই মুড অফ,, তখন মায়িশা মাসফিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন,,
মায়িশা :- এই মাশফি যা তো আমাদের জন্য কফি বানিয়ে আন,,
মাশফিয়া :- আজব আমি কফি পানি আনতে যাব কেন বকা কি শুধু তোরাই খেয়েছিস আমি খাইনি?
ইয়াশ:- মাশফি বেশি বকবক করিস না,, বুদ্ধিটা কার ছিল আমাদের না তোর?!

মায়িশা :- আর আপু তুমিও তো আব্রাহাম ভাইকে বিয়ে করে নিলেই পারো,, ভাইয়াকে খারাপ নাক-
মায়িশা আর কথা শেষ করতে পারে না তার আগেই ঐশী বিরক্তি ভরা কন্ঠে মায়িশাকে উদ্দেশ্য করে বলে,,
ঐশী :- একদম ফাউল প্যাচাল পারবিনা,, আর নাইলে দেখবি তোর জামাই ভবিষ্যৎ-এ দশটা বিয়ে করবে,,
ইয়াশ:- কি সব ফাউল কথা আমি দশটা বিয়ে করতে যাব কেন?!
ইয়াসের কথায় সবাই তার দিকে এক ভ্রু উঁচু করে তাকালে সে শুকনো কেশে বলে,,
ইয়াস :- না.. না মানে বলছিলাম কি.. আমি কি মায়িশার জামাইয়ের মত দয়াল নাকি যে দশটা বিয়ে করব হে হে

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

এদের এসব কথা শুনে মাশফিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে আসলেই কফি আনতে যায় কারণ তার মতে এসব বকবক শুনলে তার মাথা প্রচুর ব্যথা করবে এর থেকে একটা কফি খাওয়া বেটার,,
মাশরা যখন চার কাপ কফি ট্রেতে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে যাচ্ছিল তখনই কারো বুকের সাথে থাকা খায়,, ফলে দুই কাপ তখনই নিচে পড়ে ভেঙ্গে যায় আর বাকি দুটো কাপের কফি নিচে পড়ে যায়,,
সে যার সাথে ধাক্কা খেয়েছিল সে আর কেউ নয় স্বয়ং রেয়ান,, রিয়ান মাসফিয়াকে ধরে ফেলে কিন্তু দুজনেই ভারসাম্য রাখতে না পেরে মাশফিয়া কোমরে এবং রেয়ান মাথায় প্রচন্ড আঘাত পায়,,
এসব আওয়াজ শুনে উপর থেকে ঐশী ইয়াশ আর মায়িশা,, নিচে নেমে আসে এবং ওদেরকে পড়ে থাকতে দেখে ওদের টেনে তোলে,,

এমন সময় মেইনগেট দিয়ে আবিদ প্রবেশ করে,, যার সাথে লাল শাড়ি পরা নববধূ সাজে এক রমনী কেউ দেখা যাচ্ছে,, যা দেখে ওখানে থাকা পাঁচ জনেই থ হয়ে যায়,, মাশফিয়া তার ব্যথা পাওয়া কোমর ধরে দাঁড়িয়ে বলে ওঠে,,
মাশফিয়া :- আবিদ ভাইয়া এই পাগলিরে আবার কোন রাস্তার মোড় থেকে ধরে এনেছে,,
যা শুনে আরো ইয়াস রেয়ান আর ঐশী অনেক কষ্টে হাসি থামায়,, আর মায়িশা মাশফিয়া কাঁধে জোরে একটি কিল দেয় শুধু তাকে থামাতে,,
এমন সময় বাড়ির বড়রাও নিচে নেমে আসে,, আবিদ আর তার পাশে থাকা রমণীকে দেখে তারাও হা হয়ে যায়,, আবি তুই সেরমা শাহনাজ বেগম তো সেখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান,,

চট্টগ্রামে বিশাল বাড়ি আহসান বাড়ি,, আসাদুল আহসান যথা আজহারুল ও মাজহারুল আহসানের পিতা নিজের কষ্টের টাকা দিয়ে এ বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন,, প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আহসান গ্রুপ নামক একটি কোম্পানির যা বর্তমানে বাংলাদেশের টপ থ্রি কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি,, শাহনাজ বেগম নিজের বাবা ও দুই ভাইয়ের অনেক বেশি আদরের ছিলেন,, তাই পুরো কোম্পানির টেন পার্সেন্ট শেয়ার তারা শাহনাজ বেগমের নামে দিয়েছিলেন,,

শাহনাজ বেগমের বিয়ে হয় এই এলাকাতেই স্থানীয় আরেকটি কোম্পানির মালিকের সাথে,, শাহনাজ বেগমের বাপের বাড়ি থেকে শশুর বাড়ির দূরত্ব ছিল পায়ে হেঁটে পাঁচ মিনিট,, তবে তারা বিগত ১০ বছর যাবৎ ঢাকাতেই বসবাস করছে,, কিন্তু এবারে তারা একেবারে চট্টগ্রামে চলে এসেছে,, তাই শাহনাজ বেগম ভেবেছিলেন ছেলে মেয়েদের নিয়ে কিছুদিন বাপের বাড়িতেই থাকবেন,,

কিন্তু এরই মধ্যে শাহানাজ বেগমের বড় ছেলে আবিদ হঠাৎ করে বিয়ে করে হাজির হওয়ায় বাড়িতে যেন তুফান বয়ে যাচ্ছে,, ওই সময় বাসায় পুরুষ মানুষ বলতে শুধুমাত্র ইয়াস এবং আব্রাহামের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেয়ান ছিল,, আবিদের পালিয়ে বিয়ে করার কথা এতক্ষণে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে,, প্রতিবেশী মানুষ আবিদের বউ দেখতে আসছে,,

প্রতিবেশীরা কথা শোনানোর আগেও দুইবার ভাবছেনা,, যাদের মূল কথা হচ্ছে “আবিদতো বেকার সে বউকে খাওয়াবে কি?” যার উত্তর বাড়ির সবার কাছে থাকলেও আবিদের প্রতি অভিমানে কেউই কিছু বলছে না,, যদিও বাড়ির ৪ ছোট সদস্য কয়েকবার মুখ খুলেছে তবে বাড়ির বড়দের কথায় তারাও চুপ করতে বাধ্য হয়েছে,,

এমনসময় এক মহিলাতো সরাসরি নতুন বউকে উদ্দেশ্য করে বলে ফেলে,,
মহিলা :- তা মেয়ে পালিয়ে বিয়ে করার শখ হল যখন এরে নিয়ে পালালে কেন এত বেক-
মহিলাটি কথা শেষ করার আগেই পিছন থেকে আব্রাহাম রাশভারী গলায় বলে ওঠে,,
আব্রাহাম :- বেকার? কাকে বেকার বলছেন আন্টি?
যার মা এই পুরো আহসান গ্রুপের ১০% শেয়ার হোল্ডার, বাবা শাহরিয়ার এন্টারপ্রাইজ নামক একটি বিশাল কোম্পানির মালিক এবং সব থেকে বড় কথা, একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট এবং ভবিষ্যৎ ডাক্তার কে বেকার বলছেন? ভুলে যাবেন না তার ভাই আব্রাহাম আহসান এখনো জীবিত,, দরকার পড়লে যতদিন আবিদের পড়াশোনা শেষ না হবে আমি তার আর তার বউয়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেব,, তবুও এই কথা যেন এই বাড়িতে দ্বিতীয়বার না উঠে..!

আব্রাহামের কথায় পুরো বাড়ি থমকে যায়,, ও বাড়ির সবার মুখে হাসি ফুটে ওঠে,, আজহারুলও মাজহারুল যারা মাত্র বাড়িতে এসেছিল তারাও মুচকি হাসে,, নিজের ছেলের প্রতি ভাইয়ের ছেলের ভালবাসায় শাহনাজ বেগমের চোখ দুটো ভিজে যায়,, আহসান বাড়িতে পৌঁছে ছিল আহান শাহরিয়ার ওরফে আবিদ-ঐশীর বাবা তিনিও থমকে যান,,

অন্যদিকে ঐশী এক পলকে আব্রাহামের দিকে তাকায়,, সে যেন নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে ওঠে :-“এই যে সেই আব্রাহাম ভাই আমি আজীবন ঘৃণা করে এসেছি?”কিন্তু সে কোন উত্তর পায় না,, তখনই আব্রাহামের সাথে তার চোখাচোখি হয়,, তবে আব্রাহাম তাকে এরিয়ে নিজের রুমে চলে যায়,,

তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ১

তখনই মায়িশা ঐশী কাঁধে টোকা মেরে শয়তানি হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করে
মায়িশা :- কি আপু ভাইয়ার প্রেমে পড়ে গেলে নাকি?
আরেক দিকে ইয়াশ ঐশীর অন্য কাঁধে টোকা মেরে বলে,,
ইয়াশ :- পড়লে পড়তেই পারে সে তো তোমারই,,
ওই ঐশী দুইজনের দিকে তাকিয়ে নিজের পায়ের জুতা খুলে বলে,,
ঐশী :- তোরা যদি আমার জুতার বাড়ি না খাইতে চাস এখান থেকে যা,,
তাই ভয় পেয়ে মায়িশা আর ইয়াশ দুইজন ওখান থেকে পালায়,,

তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৩