Home তুমি আমার শেষবেলা তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ২৫

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ২৫

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ২৫
নীতি জাহি

ইশানের কথা শুনে মোনা কিয়ৎক্ষন চুপ করে ছিলো, মিনহাজ আর ইমরানের মোনার বিয়ে নিয়ে কথোপকথন ইশান মোনাকে জানাচ্ছিলো। মানুষটা ভালোবাসে তো আদো?
‘আচ্ছা ইশান আমার যদি অন্য কোথাও বিয়ে হয় তোমার বাবা অনেক খুশি হবে তাই না।’
ইশান নিশ্চুপ।এর উত্তর নেই ইশানের কাছে। বিগত বছর গুলোতে বাবাকে কখনোই বলতে শুনে নি মোনার কথা। ও কথা তুললেই ধমক দিত,বকা দিত। মানুষ টা অনুভূতি শূন্য হয়ে গেলো।বাবার জন্য ওর অনেক কষ্ট হয়। আর ঘৃনা আসে মায়ের প্রতি।নিজের স্বার্থে সন্তানকে দুনিয়াতে আনতে চায়নি। আনার পর ও একা ফেলে চলে গিয়েছে।ধিক্কার এসব মায়েদের।
‘কি হলো ইশান’।
ইশান সম্বিত ফিরে বলে,
‘আন্টি পাপা কথা কম বলে।বুঝতেই পারিনা কি চায়।’
মোনার দীর্ঘশ্বাস। এরপর কিছুক্ষন কথা হলো।

মুখোমুখি বসে আছে দুজন। কে শুরু করবে,কি বলবে বুঝতে পারছেনা।অনিচ্ছা সত্ত্বে ও কাকনের সাথে দেখা করতে এসেছে ইমরান। মুখের দিকে তাকাতে বিরক্ত লাগছে। কয়েক স্তরের মেক আপের প্রলেপ মাখা। আজ বয়সটা স্পষ্ট। বয়সের ছাপ প্রকাশ পাচ্ছে। চোখের নিচে হালকা কালি, কিছুটা ভাঁজ। ঠোঁটের কড়া লিপস্টিক দেখে মনে হচ্ছে কারো কলিজা চি*বিয়ে র*ক্ত পান করেছে। রাস্তার মেয়েদের মত লুক। একটা মানুষ নিজের আত্মসম্মান কিভাবে বিসর্জন দেয়। এই মেয়ের প্রেমে পড়ে নাকি এত পাগলামি করেছে একটা সময় বিশ্বাসই হয় না ইমরানের। কাকন এর কথায় ধ্যান ভাঙলো,
‘ ইমরান আমি জারিফকে ডিভোর্স দিচ্ছি। ভাবছি শেষ সময়টা তোমার সাথে আমাদের ইশানকে নিয়ে একটা সুন্দর সংসার সাজাবো। ‘
ইমরান মোটেও বিচলিত হলোনা। তার চোয়াল শক্ত, ঠোঁটে কোনে একটা তাচ্ছিল্য পূর্ণ হাসি। সংসারটাকে এই মেয়ে ছেলেখেলা বানিয়ে ছাড়লো। আজ ইমরানের চোখের ভাষাও কাঁকনের অপরিচিত। কাকন পুনরায় প্রশ্ন করলো,

‘কিছু বলো?
‘শুনছি,আজ কি চেহারার জৌলুশ কমে গিয়েছে, জারিফের বিছানায় আনন্দ নেই এখন আর?’
‘ইমরান…’
‘তোমার কি আমাকে বয়রা মনে হয়?চেঁচাচ্ছো কেনো?’
‘তুমি আমাকে অপমান করতে পারোনা, আমাদের সন্তানের মা আমি।’
‘আমার সন্তান। মা-বাবা দুটোই আমি। বাদ বাকি রইলো অপমান। ব্রথেলের মেয়েদের ও আমি সম্মান দিই। কারন বেশির ভাগ মেয়েই পরিস্থিতির শিকার। কিন্তু তুমি সম্মানের অযোগ্য। তোমার জন্য ইংলিশ ডিকশিনারিতে একটা শব্দ বরাদ্দ আছে, যাকে ‘ Whore’ বলে। মানে স্বেচ্ছায় এই পেশা বেছে নিয়েছো। আমার সন্তানের মা অস্বীকার তো করতে পারিনা তাই সম্মান দিয়ে দেখা করতে এসেছি।’
‘ওও গ্রেট। ইমরান শরীফ সম্পর্কে যা শুনেছি সব তাহলে সত্যি। হাঁটুর বয়সী মেয়ের প্রেমে মজেছে। তোমার জন্য একটা সুন্দর শব্দ আছে। ‘Sug….’

‘স্টপ দেয়ার। আর আগাবে না। বিকজ ইউর নেক্সট ওয়ান স্টেপ ক্যান ভ্যানিশ ইউ ডিয়ার। ইউ নো মাই শট নেভার মিসড,ক্যান শ্যুট অন ইউর হার্ট ডিয়ার।’
‘বাহ,আজ মা/রতে হাত কাঁপবে না? একটা সময় তো ওই হাতে আগলে রাখতে।’
ইমরান ক্রুর হাসি দিয়ে তাকিয়ে বলে,
‘ বাহ আমার ভালোবাসা পোড়ায় নাকি? যাক এই ভালোবাসাই তোমাকে শেষ করবে কাঁকন। আর কিছু আশা করোনা। আর মোনালিসাকে ভিডিও পাঠানো বন্ধ করো।’
কাঁকনের চোখ জুড়ে বিস্ময়। এই কথা তো কেউ জানেনা। মোনা নিজে বলেছে নাকি? তা কি করে সম্ভব। মোনার সাথে তো ইমরান কথাই বলে না।
‘তুমি যদি চলো ডালে ডালে,আমি চলি তোমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে কাঁকন। আমি মোনালিসাকে আমার থেকে দূরে রেখেছি এর মানে এই নয় যে ওর নিরাপত্তা দিচ্ছিনা বা তোমাকে ভয় পাচ্ছি। আমি চাইলে এই মুহুর্তে মোনালিসাকে বিয়ে করে আমাদের বাচ্চার মা বানিয়ে ফেলতে পারি। কিন্তু আমি তা করছিনা কারণ মেয়েটা এখনো বড্ড অবুঝ আর সরল। ওর দিকে চোখ দিবে না। তাহলে আমি ভুলে যাবো তুমি ইশানের গর্ভধারিনী। আমাকে আমার মত ভালো থাকতে দাও।নিজেও ভালো থাকো।’

কাঁকন বুঝতে পারছে ইমরান রেগে গিয়েছে। তাই আর কথা বাড়ায় নি।
অকস্মাৎ ইমরানের চোখ গেলো দুই টেবিল সামনে। দামামা বেজে উঠলো বুকের ভেতর। মাঝে মাঝে অপ্রত্যাশিত কিছু মনকে আনচান করে তোলে।এখানে এমন সিচুয়েশন মোটেও কাম্য ছিলোনা। একটু তো রহম করো উপরওয়ালা। একটার পর একটা ঝামেলা। কাঁকন চলে গেলো উঠে। তবে সে হাল ছেড়ে দেয়ার পাত্রী নয় স্পষ্ট বুঝতে পারছে ইমরান।
‘ আসসালামু আলাইকুম ইমরান সাহেব’
তরুনীর প্রশান্তিময় সুরলিত কন্ঠ শুনে অঙ্গ জুড়ে ঠান্ডা শিহরণ। ইমরান এর মুখ দিয়ে কথা আটকে গেলো আশ্চর্য। এমন তো হবার কথা ছিলোনা। কি হচ্ছে এসব।গত দু বছর আটকে রেখেছে এই আবেগ।অনেকটাই তো গুছিয়ে উঠেছে। স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বসে সালামের উত্তর নিলো।
‘ফ্রেন্ডদের সাথে খেতে এসেছিলাম’
‘হু’

‘আপনার এক্স-ওয়াইফ দেখি আপনাকে ভীষণ মিস করে।উনি মনে হয় জেনে গিয়েছে আমার কথা।জানেন গত পরশু আমার ফোনে একটা ভিডিও এসেছে। আপনাদের অন্তুরঙ্গ মুহুর্তের।’
ইমরানের চোখ তড়াক করে উঠলো।এবার নিজেকে সামলাতে কষ্ট হচ্ছে। ধকধক করছে বুক। সে জানে এমন কিছু কাঁকন গত কয়েকমাস ধরেই করছে। কিন্তু সে একটু ও আশা করেনি মোনা আজ সেই কথাই বলবে। তাও আবার অন্তরঙ্গ মুহুর্ত? মানে কি? মোনাটা ফোন টা এগিয়ে দিলো। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখতে পাচ্ছে এটা কক্সবাজার হানিমুনে গিয়েছিলো তখনের ভিডিও। কাঁকন করেছিলো পরে দেখবে বলে। এই জিনিস দেখে সামনের মেয়েটার কয়বার মরে যেতে মন চেয়েছে?? কয়বার নিজেকে আঘাত করতে মন চেয়েছে? ইমরান নিজেকে যথেষ্ট শান্ত করার চেষ্টা করে বললো,
‘যেহেতু আমার সন্তানের মা,এটা তো স্বাভাবিক। আরো ঘনিষ্ঠ অনেক কিছুই হয়েছে ওর আর আমার।’
‘আমার তো কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু আমাকে এগুলো পাঠালে খুব কষ্ট হয়। আর কত এন্টি ডিপ্রেশন পিল, স্লিপিং পিল খাব বলেন।দাদাভাই,বাবা,চাচ্চু যেখানেই রাখি সরিয়ে ফেলে খেতে দেয় না আমাকে। রাতে মাইগ্রেনের পেইনে ঘুমাতে পারিনা স্লিপিং পিল না খেলে। আমার প্রতিটা রাত অনেক কষ্টে কাটে ইমরান সাহেব।’

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ২৪

ইমরানের মুখের ভঙ্গিতে বুঝা যাচ্ছে না ওর মনের মধ্যে কি চলছে।কিছুক্ষন ভেবে বললো,
‘মোনা আমি কাল ব্যাক করছি। তোমার বাবাকে পাত্রের সিভি দিয়েছি।বিয়ে করে নতুন জীবন সাজাও।শুভকামনা রইলো। ভুলে যাও সব।আর এসব পাগলামী বাদ দাও।তুমি টিনেজার নও।’
ইমরান সাহেব তো মোনা ডাকেনা।তবে আজ কেনো ডাকলো। ভুলে যেতে বলল? নাকি মোনা ভুল শুনলো। এত সহজ ভুলে যাওয়া?? সে তো ভালোবেসে ক্ষান্ত হয়নি, মন প্রাণ উজাড় করে ভালোবেসে নিঃস্ব। বসন্তের কোকিলের মত এলো,জীবনের বসন্তের সাথে চলেও যাচ্ছে। মোনা টেবিলে হেড ডাউন করলো।ইমরানের চলে যাওয়া দেখছে।
ইমরান টেবিল ছেড়ে উঠে বেরিয়ে গেলো। মোনার চোখ দিয়ে তরতর করে পানি পানি পড়ছে। আর চেষ্টা করবেনা মোনা। সবাইকে সবার মত থাকতে দিবে। শক্তি,সাহস,ধৈর্য্য কোনোটাই নেই। চলে যাক উনি।সামনে থাকলেই কষ্ট।

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ২৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here