Home তুমি এলে বসন্ত নামে তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১২

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১২

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১২
রিমঝিম বৃষ্টি

দু’দিন কেটে গেছে মাঝে। এর মধ্যে ইরাদ এই দু’দিনে কতবার যে হসপিটালে ছেলেকে দেখতে গেছে তার কোনো ঠিক নেই এতেই চৌধুরী বাড়িতে লেগেছে এক দ্বন্দ্ব ঝড় । আয়েশা চৌধুরী বসার রুমে বসে আছে ইরাদের জন্য দুপুর হতে চললো এখনো ফেরার নাম নেই। ইভা তার শাশুড়িকে দেখে কাছে এগিয়ে এসে বললো,
” মা ছোট মুখে একটা বড় কথায় না হয় বলি, আপনারা এবার একটু বাড়াবাড়ি করছেন না। ওটা আমার ছেলের জীবন আপনাদের জীবন না যে, নিজের হাতের পুতুলের মতো নাচাবেন। ওর তো একটা মতামতের ব্যাপার আছে নাকি । ও তো ফারিশাকে ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলো..?”
” শোনো বড় বউ মা এত বোঝা ভালো না। আমি কী জানতাম যে, ওরা ওমন নিচ পরিবারের। ওর মামা-মামী আমাদের বিয়ের আগে বলছিলো ওদের নাকি জমিজমা, ধনদৌলত এর শেষ নাই, তাই না ভেবেই দিয়েছিলাম বিয়ে নয়তো জীবনেও ওই পরিবারে মধ্যে যাইতাম না..! আজ তুমি এসব কথা শোনাতে
পারলে..? “,

বলেই আয়েশা মুখ ঘুরিয়ে নিলো। পাশ থেকে সুমানা পান এগিয়ে এসে ধরলো আয়েশার সামনে আর বললো,
” নেন মা পান খান আর মাথা ঠান্ডা করেন..?”
পান টা নিয়ে মুখে পুড়ে চিবোতে চিবোতে বললো,
” তাই তো পাইছো আমারে সব। আমি মাথা গরম করি, আরে সাধে কী আর গরম করি আমি তো তার পোলার ভবিষ্যতের কথা ভেবেই বলেছিলাম আর বউমা আমারে এতগুলো কথা শোনাইলো থাক আমি কিছু কমু না আর ওই ওপরওয়ালাই বিচার করুক..!”,
বলেই কাঁদতে কাদঁতে শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ দুটো মুছে ফেললো। আয়েশাকে কান্না করতে দেখে ইভা এগিয়ে এসে কিছু বলতে গেলেই সুমানা চোখের ঈশারায় চুপ করতে বললো তারপর সুমানা বললো,
” আম্মা আপনি কাদঁছেন কেন? বড় ভাবী তো সেসব ভেবে বলেনি। তার ছেলে তাই একটু তো মতামত দিবেই..!”

” কি হচ্ছে টা কী এখানে..?”,
ইরাদ বাইরে থেকে ভেতরে আসতে আসতে বলে উঠলো। সবেমাত্র হসপিটাল থেকে ফিরলো। ইয়াশের জ্বর অনেকটায় কমে গেছে সাথে তারও আর জ্বর নেই। আজ বিকেলেই ডিসচার্জ দিয়ে দিবে ইয়াশকে ডাক্তার বলেছে তাই বাড়ি এসেছে আবার বিকেলের দিকে যাবে। ভেতরে আসতেই ইরাদকে দেখে আয়েশা কাঁদতে কাঁদতে বললো,
” নিজের ভালো বুঝলি নারে পোলা পড়ে বুঝবি দীদা কেনো তোকে বলে এসব..?”
আয়েশার কথা কানে না তুলে ইরাদ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে ইভাকে বললো,
” আম্মু খিদে পেয়েছে ভাত দাও..?”,
বলেই টেবিলের দিকে যেতে লাগলে আয়েশা এক প্রকার উঁচু গলায় বলে উঠলো,
” এই আমার কথা গায়ে লাগছে না তোর। ভাব নিচ্ছিস তুই ভাব। তোরে সবার চেয়ে বেশি আদর করে মানুষ করলাম কী এইজন্য..! ”
ইরাদ সেখানেই থেমে গেলো পিছন ঘুরে গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
” সেটাই দীদা ভাগ্যিস তোমার আদর পেয়ে তোমার মতো বুদ্ধি আমার মাঝে দেয় নি নয়তো ভালো-মন্দ বিচার করতে শিখতাম না..!”

আয়েশা বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আঙ্গুল উঁচিয়ে বললো,
” এই তুই কী বলছিস এসব আমার মতো মানে, আমি কী বদবুদ্ধি নিয়ে চলি। হায় হায় রে শেষমেশ এসবও শুনতে হচ্ছে আমায়..?”
” কেনো বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে দীদা। ফারিশাকে যখন আমার জীবন থেকে সরে যেতে তার মামা-মামীকে টাকার লোভ দেখিয়েছিলে তখন তোমার বুদ্ধি কয় ছিলো..?”
আয়েশা চোখ বড় বড় করে তাকালো ইরাদের দিকে। এদিকে ওপর থেকে চেঁচামেচি শুনে তারেক আর ইমদাদুলও নিচে নেমে আসলো তারা অফিস থেকে ফিরেছে কিছুক্ষণ আগেই দুপুরের খাবার খাবে জন্য, সাথে পাশের রুমগুলো থেকে ইভান আর তমাও আসলো। সবাই নিচে নামতেই ইমদাদুল মায়ের দিকে এগিয়ে এসে বলে উঠলো,
” কী হয়েছে মা এরকম ভরদুপুরে বাড়িতে চেঁচামেচি করছো কেনো। এটা একটা ভদ্রলোকের বাড়ি ভুলে যেওনা সবাই…?”
আয়েশা ইমদাদুলের দিকে তাকিয়ে আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বললো,

” দেখ বড়পোলা তোর ছেলে আমারে কী কয় এসব..? ”
” আমি ভুল কিছু তো বলেনি দীদা। তুমি যেহুত গরীব পছন্দই করো না আগেই বলতে অন্তত মেয়েটার জীবন এমন ছন্নছাড়া হতো না। তাই বলে এতটা কাহিনী করলে যার জন্য আমাকে চলে যেতে হয়েছিলো..? এখন দোষের ভাগিদার আমাকেও হতে হলো তার..!”
ইমদাদুল ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো,
” ইরাদ এসব কী কথা । কথাবার্তা বুঝেশুনে বলো
একটা বউয়ের জন্য এত পাগল কেন তুমি? ছেড়ে দিতে সমস্যা কী হচ্ছে তোমার। আর যার খোঁজই নেই তাকে নিয়ে এত হৈহল্লো করার তো কিছু দেখছি না আমি.! ”
ইরাদ এগিয়ে এসে তার বাবা আর দাদীর সামনে দাঁড়ালো আর শক্ত গলায় বললো,
” তাহলে তোমার বউকে ছেড়ে দাও পারবে তুমি বলো, পারবে?”
কয়েক সেকেন্ড থেমে ইরাদ ফের বলে উঠলো,

” কোন জায়গায় নিয়ম আছে বলোতো আমায় যে, গরীব পরিবারের মেয়েরা হাই ফ্যামিলিতে বিয়ে হয়ে আসতে পারে না, কোথায় লেখা আছে যে একটা অর্থহীন পরিবারের মেয়ের কপালে চাকরিজীবী বর জুটে না। আমার মনে হয় কী জানো, কিছু কিছু হাই ফ্যামিলারা আছে যাদের মনই হয় নিচ স্বভাবের, ছোটলোকী স্বভাবের যারা সামান্য বাড়িতে ফকির আসলেই ভিক্ষা দিতে চায় না আর তারা আনবে গরীব ঘরের মেয়ে! “,
বলেই মুখ বাকিয়ে ফিকে হেসে উঠলো ইরাদ। ইমদাদুল এবার না চাইলেও এগিয়ে এসে চট করে ঠাস করে চড় বসিয়ে দিলো ইরাদের গালে। বসার রুমে থাকা সবাই যেনো স্তব্ধ হয়ে গেলো কয়েক সেকেন্ডের জন্য এমনটার জন্য যেনো কেউ প্রস্তুত ছিলো না । ইরাদ রাতে হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করে রাখলো । ছেলেকে স্থির থাকতে দেখে ইভা এগিয়ে এসে ছেলের হাতের কব্জি ধরে নিজের দিকে টেনে এনে বললো,
” আপনি ছেলের গায়ে হাত তুললেন। বুঝিয়ে কী বলা যেতো না মুখে তাই বলে গায়েই হাত তুললেন..? ”
” আর তোমার ছেলে যে আমার মাকে কথা শুনাচ্ছে তার বেলা। ওর দাদী হয় সম্পর্কে ও কী ভুলে যাচ্ছে। এমন আচরণ কে শেখালো ওকে..?”

তারেক এগিয়ে এসে ইমদাদুল কে টানতে টানতে সরিয়ে নিয়ে গেলো আর বললো,
” আহ্! ভাই এসব কথা কাটাকাটি করে কী লাভ আছে। ঠান্ডা মাথায় একটা সমাধান করো , ছেলের গোটা জীবন পড়ে আছে বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নেয় সব..?”
” চাচ্চু সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্নই আসছে না, আমি আমার ছেলে-বউ নিয়ে বাড়িতে ফিরতে চায় ব্যাস..!”
ইরাদের কথায় আয়েশা মুখ ঘুরিয়ে নিজের ঘরের দিকে যেতে যেতে বললো,
” তোরা যা ইচ্ছা কর আমি আর কিচ্ছু কমু না। তবে শুনে রাখ তারা আসলে আমি এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো..?”
” দীদা কীসে করে যাবে ইঁদুর টানার গাড়িতে করে নাকি গরুর গাড়িতে করে.?”
ইভানের কথায় আয়েশা কটমটিয়ে পিছন ঘুরে ইমদাদুল কে বললো,
” শোন তোর এই পোলাকেও ঠিক করে কথা বলতে বলিস নয়তো মুখের ওপর ঝাটা মারবো বাঁদর কোথাকার..! “,
বলেই নিজের রুমে চলে গেলো। ইমদাদুল ইভানের দিকে তাকাতেই ইভান বোকার মতো হাসি দিলো একটা। পাশ থেকে তমা ইভানকে চোখ পাকিয়ে চুপ করতে বললো। ইরাদ সেখানেই স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে ইমদাদুল কথা না বলেই ওপরে চলে যায়। ভাইকে চলে যেতে দেখে তারেক এগিয়ে এসে ইরাদের কাঁধে হাত রেখে বললো,

” ইরাদ কিছু মনে করো বাবা রেগে গেছে একটু। যাই করো বুঝেশুনে করো। তোমার জীবনও সবেমাত্র শুরু। চাকরি পেয়েছো সংসার তো করবেই। তোমার যদি মনে হয়, না ওদের সাথে তুমি সুখে থাকবে তো নিয়ে আসো আমি তোমার চাচ্চু তোমার সাথে আছি..! ”
তারেক কথায় ইরাদ সূক্ষ্ম হেসে বললো,
” থ্যাংক ইউ চাচ্চু..! “,
ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে ইভাও কেঁদে উঠলো, ফর্সা গালে আঙ্গুলের যেনো দাগ বসে আছে। হনহনিয়ে ওপরে চলে গেলো স্বামীর কাছে ছেলেকে মারলো কেনো সে তার কথা বলতেই হবে। ইরাদ মাকে যেতে দেখে সেও ঘরে চলে যেতে লাগলে সুমানা পিছন থেকে বললো,
” বাবা ভাত টা তো খেয়ে যা…?”,
” ছোট মা পরে খেয়ে নিবো..!”,

বলেই ওপরে চলে গেলো তার রুমে। নিজের রুমে গিয়ে ঘর আটকে বসে রইলো ইরাদ পাশের রুম থেকে তার বাবা আর মায়ের গলা পাচ্ছে। ইরাদ রাগে নিজের মাথার চুল টেনে ধরলো, গাল যেনো তার জ্বলে যাচ্ছে । এসব চেঁচামেচি তার আর ভালো লাগছে না সবাই শুধু নিজের স্বার্থটায় দেখলো অথচ, তার ভালো টা কেউ বুঝলো না। ইরাদ রাগে পাশে থাকা ফুলদানি টা এক হাতে তুলে পাশে থাকা ডেসিং টেবিলের ওপর ছুঁড়ে মারতেই আয়না ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো এক নিমিষেই কাঁচ আঁচড়ে পড়লো ফ্লোরে, ঝনঝনিয়ে বেজে উঠলো আর বাইরের সবকিছু যেনো চুপ হয়ে গেলো।
কয়েক মিনিট বাদে ইরাদের রুমের সামনে এসে দাঁড় হলো ইভান আর তমা। ইভানের হাতে খাবারের প্লেট আর তমা আইসকিউব নিয়ে এসেছে। তমা ইভানের দিকে একবার তাকিয়ে বিসমিল্লাহ্ বলে দরজায় ঠোকা দিতেই ভেতর থেকে আওয়াজ এলো ইরাদের।

” ভেতরে এসো..?”
তমা আর ইভান ভেতরে যেতেই ফ্লোরে কাঁচ দেখে সাবধানে পা দিয়ে এগিয়ে এলো বেডের দিকে। দু’জনকে আসতে দেখে ইরাদ গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,
” কিসের জন্য এসেছিস তোরা..?”
ইভান বেডের ওপর বসে প্লেটের খাবার আলগা করে বললো,
” তোমার খাবার..? ”
” আমি বলেছি আনতে..?”
তমা কিছুটা এগিয়ে এসে ইরাদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে বসে কিউব টা হাতে নিয়ে হাতের রুমালের সাথে পেঁচিয়ে ইরাদের গালে লাগাতে লাগাতে বললো,
” ভাইয়া খেয়ে নাও তো রাগ করো না আর..?”
ইরাদ সরলো না বেশ খানিকটা আরাম লাগছে। তমার দিকে তাকিয়ে বললো,
” রাগ করবো না কেন তুই বল। দীদা এই কাজ করে আমার গোটা পাঁচ বছর নষ্ট করলো এখন ফারিশা কি আমাকে সহজে মানবে বল..?”
ইভান ভাত মাখিয়ে ইরাদের কাছে এগিয়ে এসে তার মুখের সামনে ধরলো আর বললো,

” নাও তো হা করো..? ”
ইরাদ বাঁকা চোখে তাকিয়ে বললো,
” বললাম তো খাবো না। তুই হাত ধুয়েছিস তো আবার.?”
” ভাইয়া তুমি কি আমায় অপমান করছো..? ”
তমা হেসে উঠলো আর বললো,
” আমি আসার আগে ওকে হাত ধুইয়েই এনেছি তুমি খাও তো। আচ্ছা ভাইয়া তোমার ছেলে আছে বললে যে, কেমন দেখতে..? ”
ছেলের কথা শুনতেই ইরাদ কিছুটা নরম হয়ে এলো। ভাতের লোকমা মুখে নিয়ে চিবোতে চিবোতে বললো,
” একদম আমার মতো দেখতে হয়েছে জানিস তো আর ওর কথা শুনলে কী বলবি তুই পুরোই তোতা পাখি..! ”
” ভাইয়া আমাদের নিয়ে চলো আমরা দেখবো পুচকো কে..?”
ইভানের কথা শুনে বললো,
” আজ না ওর জ্বর এসেছিলো হসপিটালে আছে বিকেলে বাড়ি যাবি তোদের কাল নিয়ে যাবে তবে দীদা বা বাবা যেনো না জানে..!”
তমাও খুশি হয়ে বললো,
” তাহলে আমাকেও নিয়ে যেও আমি কাউকে বলবো না..!”
ইরাদ ফের ভাত মুখে পুড়ে কিছুটা হাসতে হাসতে বললো,
” জানিস আমায় ইরাদ বলতে পারে না তাই মিলাদ বলে ডাকে..!”,
ইরাদের কথায় তিনজনই হেসে উঠলো।

হসপিটাল বেডে বসে আছে ইয়াশ পরনে তার হসপিটালের ঢিলেঢালা সাদা পোশাক। ওপরে ঢিলেঢালা সাদা গেঞ্জি আর নিচে ঢিলে প্যান্ট। ইয়াশ তো পোশাক পেয়ে ভীষণ খুশি। বেডের এক পাশে ফারিশা বসে আছে হসপিটালে যা নিয়ে এসেছে সব ব্যাগের ভেতর গুছিয়ে ফেলছে বিকেল হতে যাচ্ছে কিছুক্ষণ বাদেই তাকে ডিসচার্জ করে দেওয়া হবে। ফারিশার পরনে আজ হালকা কমলা রঙের থ্রিপিস আর আরেক সাইডে বসে আছে তুবা। তুবা আজ বাড়ি চলে যাবে ইয়াশকে বাড়িতে দিয়েই তাই একবারে রেডি হয়েই এসেছে তার পরনে নীল রঙের থ্রিপিস। দু’জনে গল্প করছে আর ইয়াশ আশেপাশে তাকিয়ে সব দেখছে এর মাঝে আসরের আযান তার কানে ভাসতেই সে এক লাফে উঠে দাঁড়ালো আর সাথে ধপাস করে বসে পড়ে সিজদাহ্ দেওয়ার মতো করে বিছানার সাথে মাথা ঠেকিয়ে আবার উঠে পড়লো তারপরে দু’পাশে সালাম ফিরিয়ে মোনাজাত করার জন্য দু’হাত তুলে চুমু খেয়ে নিলো। ছেলের দু’সেকেন্ডের মাঝে নামাজ পড়তে দেখে পাশ থেকে ফারিশা অবাক হওয়ার মতো মুখ করে বললো,

” হয়ে গেলো নামাজ..?”
ইয়াশ দাঁতগুলো বের করে হেসে বললো,
” হুম..?”
” এই দুষ্ট, কী দোয়া করলে তুমি শুনি একটু..?”
তুবার কথায় ইয়াশ সুন্দর করে বসে কিছুটা দম নিয়ে বললো,
” আমি দিম ( ডিম) চেয়েচি, আর বলেচি আমাল আম্মুকে সুত্ত ( সুস্থ) লাকো ( রাখো) আল খালামনিকে ভালো লাকো ( রাখো)..!”
ইয়াশের কথা শুনে ফারিশা আর তুবা হাসতে হাসতে যেনো শেষ। তুবা হাসতে হাসতে বললো,
” এটা তো কম হয়ে গেলো আর কী চেয়েছো..?”
ইয়াশ গালে আঙুল দিয়ে কিছুটা ভেবে আশেপাশে তাকিয়ে বললো,
” আল মিলাদকে ভালো লাকো বলেচি আর বলেছি আমাকে একটা ওলকম ( ওরকম) ঘলি ( ঘড়ি) দিতে..?”,
বলেই ইয়াশ হাত উঁচিয়ে টেবিলে থাকা ঘড়ি টা দেখালো। ইয়াশের কথা শুনে ফারিশা পাশে সেদিকে তাকাতেই দেখলো টেবিলের ওপর ইরাদের ঘড়ি রাখা তা দেখে যেনো তার হাসি মিলিয়ে গেলো আর তা দূর হতে কেউ একজন ঠিকই খেয়াল করলো। ইরাদ কিছুক্ষণ আগেই এসেছিলো কিন্তু ইয়াশের কথা শুনে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে পড়েছিলো। ছেলের এমন দোয়া শুনে দরজার সামনে হেলান দিয়ে মৃদু হেসেই উঠলো সাথে ফারিশার মুখও খেয়াল করলো। ভেতরে আসতে আসতে বললো,

” তোমার দোয়া তো কবুল হয়েছে ইয়াশ। তোমাকে আল্লাহ খুশি হয়ে ঘড়িটা দিয়ে দিয়েছে..! “,
বলতে বলতে এগিয়ে আসতেই তুবা উঠে গেলো আর ইরাদ পাশে এসে বসে পড়লো টেবিলের ওপর থেকে ঘড়ি টা নিয়ে ছেলের হাতে পড়িয়ে দিতে দিতে বললো,
” দেখো তো কেমন হয়েছে..?”
ইয়াশ ঘড়ির দিকে তাকালো যেনো চিকচিক নয়নে। খুশির ঝলক যেনো তার মুখে ভেসে উঠছে। ঘড়িটা হাত দিয়ে উল্টে-পাল্টে দেখে বললো,
” অনেক সুনদর এটা মিলাদ.!”
ইরাদের ভীষণ পছন্দের ঘড়ি ছিলো এটা দেশে ফেরার আগে সেখান থেকেই কিনেছিলো সে। ছেলের খুশির কাছে তার এসব এখন কিছুই নয় যেনো কিছুটা ঝুঁকে এসে ভ্রু কুঁচকে বললো,
” তা কয়টা বাজে তোমার ঘড়িতে..?”
” ১ তা..!”
ছেলের কথায় হেসে উঠলো ইয়াশ ইরাদের গালে টোল দেখে ফের সেখানে হাত বুলিয়ে দিলো। পাশ ঘুরে ফারিশা এক নজর দেখলো ইরাদ। ফারিশা ইরাদের দিকে না তাকিয়ে নিজের মতো ব্যাগ গুছিয়ে যাচ্ছে। ইরাদ ঝরা কেশে বললো,

” সবকিছু গুছিয়ে নিয়েছো ফারিশা..?”
” হুম..!”
ফারিশা মুখ ঘুরিয়েও তাকালো না তার দিকে তা দেখে ইরাদ ইয়াশের গাল টিপে কিছু টা ঠোঁট উল্টে বললো,
” তোমার মা আমার সাথে রাগ করেছে দেখো কথা বলে না..?”
ইরাদের কথা শুনে ইয়াশ দাঁড় হয়ে মায়ের গলা দু’হাতে জড়িয়ে ধরে মায়ের গালে হাত দিয়ে এই সাইড ঘুরিয়ে বললো,

” আম্মু মিলাদ ভালো লাগ ( রাগ) কলো না..?”
দূর হতে তুবা মুখ টিপে হেসে বেরিয়ে গেলো কেবিন থেকে। ফারিশা গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
” বাবা বসো তো তুমি..?”
” না তুমি তাকাও এদিকে..? ”
ছেলের কথা শুনে ইরাদের মুখপানে তাকিয়ে কিছুটা থমকালো তার গাল দেখে। এখনো দাগ টা আছে তা দেখে নিচু গলায় জিজ্ঞেস করলো,
” কি হয়েছে গালে আপনার..? ”
ইরাদ বেড থেকে উঠে দাঁড়ালো আর বললো,
” তোমার শশুর মেরেছে আমায়..?”
ফারিশা কিছু বলবে তার আগেই ইরাদ দরজার সামনে গিয়ে তুবাকে ডাকলো। তুবা পাশেই ছিলো ডাক শুনে ভেতরে আসতেই ইরাদ বললো,

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১১

” তুবা ইয়াশকে নিয়ে নিচের তলায় বসো আমরা আসছি..?”
তুবা ইয়াশের পরনের ড্রেসটা পাল্টে তাকে কোলে নিয়ে সাথে ব্যাগটাও হাতে করে যেতেই তাদের পিছু পিছু ফারিশাও হাটতে লাগলো আর ওমনি পিছন থেকে টান পড়লো ইরাদের শক্ত হাতের । ইরাদ পেছন থেকে ফারিশার হাত টেনে ধরে কেবিনের দরজা আটকে দিলো।

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১৩