Home তুমি এলে বসন্ত নামে তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ২

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ২

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ২
রিমঝিম বৃষ্টি

এতগুলো বছর বাদে মানুষটার সাথে আবার দেখা হবে তা ফারিশা কল্পনাও করেনি। ৫ বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা কেবল তার জীবনের এক অভিশাপ ছাড়া কিছুই নয়। মাথা নত করে রইল, বুকে আঁকড়ে ধরে রাখলো নিজের ছেলের মাথা, এই ছাড়লেই বুঝি ছিনিয়ে দিবে। এতটা শক্ত করে ধরলো যেনো কেউ ছিনিয়ে না নেয়।
ফারিশার এমন আচরণ ইরাদের নজরে ঠিকই পড়লো । তার জীবন বলতে সেই ইয়াশই একমাত্র আশা যার সাথে পুরো জীবন পার করার অঙ্গীকার হয়েছে তার যেনো। ফারিশার জাতকুল বলতে কেই বা আছে আর। না আছে মা, না আছে বাবা আর না আছে আত্মীয়। যারা ছিলো তারা কেবল তার সর্বনাশের এক সাক্ষী কেবল, শুধু সাক্ষী বললে কম হবে শত্রু পক্ষও ছিলো ।
সামনে থাকা মানুষটাকে রেখে রীতিমতো কাপুনি শুরু হয়েছে তার বুকের ভেতরে। ইয়াশ মাথা নাড়াতে না পেরে চোখ কিছুটা বাকিয়ে পিছনে দেখলো।

” ফারিশা বাচ্চা টা কে…? ”
ইরাদের দৃষ্টি কঠোর, যেনো এই সবকিছু ভৎর্ষ করে ফেলবে সেই চোখ দিয়ে। রাগে কপালের রগগুলো ফুলে উঠলো, দু’হাতের নীল রগগুলো ফুলে উঠেছে যা তার শার্টের হাতা গোটানো থাকায় পুরো দৃশ্যমান যেনো। কপাল কুঁচকে তাকিয়ে রইলো ফারিশার মুখ পানে। ফারিশা ইরাদের দিকে এবার তাকালো কিছুটা কম্পিত গলায় বলে উঠলো,
” এ.টা আ.মার সন্তা..ন। বাচ্চা টা কার এসব জেনে আপনার কী কাজ চৌধুরী সাহেব…?”
ইরাদ তার প্রশস্ত কাঁধ ঝাঁকিয়ে ব্যঙ্গ হেসে উঠলো ফারিশার কম্পিত গলা শুনে। পকেটে দু’হাত গুজে শক্ত গলায় জিজ্ঞেস করলো,
” তা ভয় পাওয়ার কারণ টা কী ? বাচ্চাটার বাবা কে ফারিশা..?”
ফারিশার হাত আরও শক্ত হলো। ছেলেকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে বললো,
” তা আপ..নার জেনে কী হবে..?”
ইরাদ ফের কিছু বলতে যাবে তার আগেই এক অচেনা পুরুষের কন্ঠ শুনে থেমে গেলো।
” আমার ইয়াশ বাবা কই রে…?”,

বলেই জিসান কিচেনের ভেতরে প্রবেশ করলো। ইরাদকে দেখেও না দেখার ভান করে সোজা ফারিশার থেকে ইয়াশ কে নিজের কোলে নিয়ে সামনে ঘুরে বললো,
” স্যার আপনি এখানে কেন? আপনার এখানে আশা উচিত হয় নি প্লিজ ভেতরে যান..?”
ইরাদ লালিত চোখে তাকালো জিসানের দিকে কিন্তু জিসান ভয় পেলো না বরং শীতল চাহনি নিক্ষেপ করলো সে। ইরাদ চোখ ঘুরিয়ে ফারিশার দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে ফারিশা কে বললো,
” তোদের মতো মেয়েরা আসলে দুই ঘাটের পানি খেয়ে বেড়ায়..! স্বার্থপর একটা মেয়ে। এর মাঝে কী আছে ফারিশা, একটা রেস্টুরেন্টের ওনারকে শেষমেশ লাইক সিরিয়াসলি…! অবশ্য তোদের মতো মেয়েটা এইসব ডিজার্ভ করে..! “,
বলেই গটগট পায়ে বেরিয়ে গেলো কিচেন থেকে। ইরাদ বেরিয়ে যেতেই ফারিশা যেনো জোরে শ্বাস ফেললো, ভয়ে এতোক্ষণ ভেতরে সব যেনো গুলিয়ে যাচ্ছিলো তার। মাথা তুলে জিসানের দিকে তাকাতেই জিসান স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,

” চিন্তা করিস না, তুই বস এখানে ওকে নিয়ে আমি বাইরে যাচ্ছি..? ”
” জিসান তুই বুঝলি কী করে ওটা ইরাদ..?”
জিসান ক্ষীণ হাসলো আর বললো,
” তোর বাড়িতে ছবি আছে ওনার একবার দেখেছিলাম..!”,
বলেই আর দাঁড়ালো না ইয়াশ কে ফারিশার কোলে দিয়ে বেরিয়ে গেলো। জিসান চলে যেতেই ফারিশা নিঃশব্দে কেঁদে উঠলো। ইয়াশ মায়ের মুখের দিকে মাথা উঁচিয়ে তাকালো আর বললো,
” মা তুমি কাদতো ( কাঁদছো) কেনো..?”
ফারিশা টলমল চোখ নিয়ে তাকালো ছেলের মুখ পানে, ছেলের কপালে একটা চুমু একে বললো,
” কয় বাবা কাঁদছি না তো..? তুমি কী বাসায় যাবে বাবা..?”
ইয়াশ মাথা দুলিয়ে না বললো আর আদো আদো সুরে বললো,

” মা ওতা ( ওটা) তে ( কে)? দুষ্টু কী আমাল ( আমার) মতো..? পঁচা লোত ( লোক)..?”
ফারিশা ছেলের আদো কন্ঠস্বর শুনে কিছুটা হেসে উঠলো আর বললো,
” না বাবা ওটা পঁচা লোক না ওটা ভালো লোক, তোমার বা…..
বাকি কথা বলার আগেই থেমে গেলো আর বলতে পারলো না। সে ছেলের মুখ পানে তাকিয়ে রইলো শুধু। যার কোনো অস্তিত্ব নেই তার জীবনে, তার পরিচয় দিয়ে একটা শিশু কে আশা না দেওয়ায় ভালো। গত চারটে বছর কষ্ট করে বুকে আগলে রেখেছে, মানুষ করেছে একা হাতে এতগুলো বছর, সে ঠিকই পারবে তাকে মানুষ করতে বাকি জীবন । বাবার পরিচয় নাই বা পেলো সে। ছেলের মাথার চুলগুলো সুন্দর করে বিলি কেটে বলে উঠলো,
” আজ আর এখানে থাকবো না চলো আমরা বাড়ি গিয়ে রান্না করি তুমি কী খাবে আজ..? ”
ইয়াশ মায়ের কথায় ড্যাবড্যাব করে তাকালো মায়ের দিকে, অতঃপর চকচকে দাঁতগুলো বের ঠোঁট প্রশস্ত করে বলে উঠলো,
” দিম ( ডিম)…! ”
ছেলের কথায় ফারিশা ফিক করে হেসে উঠলো আর বললো,
” আচ্ছা চলো তোমায় আজ ডিম রান্না করে দিবো..!”,
বলেই ব্যাগ গোছাতে লাগলো।

ইরাদ কিচেন থেকে বাইরে বেরিয়ে সোজা গটগট পায়ে গেটের দিকে যেতে যেতে হুঙ্কার দিয়ে বললো,
” তিহান বিল পে করে উঠে এসো সবাই দ্রুত..! “,
বলেই বেরিয়ে গেলো ক্যাফে থেকে তা দেখে তিহান সহ বাকি সবাই কিছুটা হতভম্ব হলেও তিহান উঠে সবাইকে বললো,
” দ্রুত বের হও সবাই ..! ”
তিহান হুকুম জারি করতেই সবাই একে একে বেরিয়ে যেতে লাগলে জিসান বাইরে আসতেই তিহান বিল দিয়ে বেরিয়ে যায়। তাদের যাওয়া এক নজর কাঁচের বাইরে নজর বুলিয়ে দেখলো তারপর জিসান সোজা কিচেনে যেতেই দেখলো ফারিশা ব্যাগ গোছাচ্ছে চলে যাওয়ার জন্য। জিসান পরনের এপ্রোন খুলতে খুলতে বললো,
” চলে যাচ্ছিস..? ”
পাশে এসে দাঁড় হলো জাহিদ আর তুবা। কেউ কিছু বললো না তুবা ইয়াশকে কোলে নিয়ে বললো,
” আরেকটু থাক যাচ্ছিস কেনো..? ”

ফারিশা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে তুবার থেকে ইয়াশকে নিচে নামিয়ে ইয়াশের হাত ধরে বললো,
” চিন্তা করিস না কাল সময়মতো আবার আসবো। তোরা ভার্সিটি গেলে যা আমি যাবো না আজ..?”
সবাইকে বলতেই জিসান পাশ থেকে শান্ত গলায় বললো,
” কেনো ভার্সিটি আসবি না? ইয়াশকে নিয়ে আয় আমি আছি তো..?”
ফারিশা ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে শীতল কন্ঠে বললো,
“থ্যাংকস্ জিসান কিন্তু আজ যেতে মন চাইছে না। আজ আমি আর ইয়াশ বাড়িতেই থাকবো। তুবা তুই কাজ শেষে আরামে আছিস..? “,
তুবাকে বলেই বেরিয়ে গেলো। তুবা আর জিহাদ মুখ চাওয়াচাওয়ি করলে জিসান ঈশারায় চুপ করতে বলে। তাদের সাথে আসা গেইট অব্দি এগিয়ে দিয়ে আসতে গেলো জিসান সেই দিকে এক নজর বুলিয়ে জিহাদ চাপা স্বরে ফিসফিসিয়ে বললো,
” কিছুক্ষণ আগে যারা এসেছিলো তাদের মধ্যে একজন হয়তো ফারিশা কে চিনে কিচেনে এসেছিলো তবে দু’জনের মাঝে কি হয়েছে জানি না? ”
তুবা তা শুনে বড় বড় চোখ করে তাকালো আর বললো,
” কি বলিস কে ছিলো ওটা? দেখতে কেমন..? ”
জিহাদ মাথা চুলকে সবকিছু বলতেই তুবার মুখ কিছুটা গম্ভীর হলো।

চৌধুরী প্যালেস——–
বিশাল জায়গা জুড়ে চৌধুরী ম্যানশন বাড়ি। উত্তরা সেক্টর ১২ এর বিশাল গেইটের সামনে এসে বাস থামতেই ইরাদ নেমে পড়লো। ইরাদ নামতেই বাস চললো তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে। ইরাদ লাগেজ টা নিয়ে সামনে গেইট খুলে ভেতরে ঢুকতেই গেইট দারোয়ান এসে তাড়া গলায় বললো,
” কে আপনি স্যার? ভেতরে যাচ্ছেন কেন..?”
ইরাদের পা থেমে গেলো। ঘাড় বাকিয়ে পাশ ঘুরতেই লোকটি সজাগ হলো। উৎফুল্ল কন্ঠে বললো,
” আরে স্যার আপনি ইরাদ স্যার না..?”
ইরাদ সূক্ষ্ম ঠোঁট বাকিয়ে ছোট্ট উত্তর দিলো,
” জি। কেমন আছেন আপনি..?”
লোকটি মাথা নাড়িয়ে বললো,

” জি আমি ভালো আছি বাপ..? বাড়ির সবাই তো বাসার পিছনে সকাল সকাল আজ চায়ের আড্ডা বসাইছে, আপনি আসবেন ওরা জানে না স্যার..?”
” না। বলে আসিনি..?”,
বলেই সোজা হাঁটতে শুরু করলে লোকটি ফের ডেকে
বসলো,
” স্যার ব্যাগ টা আমার কাছে দেন..?”,
” আপনার ডিউটি করুন, আমি পারবো যেতে..?”,

বলেই ইরাদ সোজা হাটতে শুরু করলো লোকটিও আর এগোলো না নিজের কাজে মনযোগ দিলো । বাড়ির মাঝে পাকা রাস্তা করা আর দু”পাশে সুন্দর করে বাগান করা সুবজ ঘাস ছোট ছোট। বাম সাইডের বাগান জুড়ে ফুল, ফল আরও নানান পাতাবাহারের গাছ এসবের চাষ করা হয়। বড় বড় ফলের গাছ হওয়ায় ছায়া আর বাতাসে ভরপুর থাকে পুরো বাগানটায় আর ডান সাইডে এক পাশে সুন্দর করে বসার জন্য বেঞ্চ বসানো আছে কয়েকটা, আর বাসায় কোনো প্রোগ্রাম বা কোনো উৎসব লাগলেই এই সাইড টায় সবাই করে সাথে খেলার জন্যও দারুণ জায়গা । বাড়ির পিছন সাইডেও বড় বড় গাছপালা সেখানেও বসার জায়গা করা আছে । ইরাদের যখন ১৫ বছর বয়স তখনই তার বাবা ইমদাদুল চৌধুরী এই বাড়ি টা করে। এ বাড়িতে সদস্য হবে বেশ জন হবে। ইরাদের বাবা দুই ভাই, ইমদাদুল চৌধুরী ইরাদের বাবায় বড় আর ছোট তারেক চৌধুরী। দুই ভাই মিলেই থাকে এ বাড়িতে। ইরাদ সোজা বাড়ির সামনে চলে গেলো। দোতলা বিশিষ্ট বড় মাপের বাড়ি প্রায় কয় কাঠার ওপরে বাড়িটা করা হয়েছে তার জানা নেই কিন্তু বাড়িটা দেখার মতো সুন্দর । সদর দরজা পেরিয়ে ভেতরে যেতেই বিশাল লিভিং রুম, সেখানে গিয়ে সোজা সোফায় বসলো। পাশের ছোট্ট টেবিলের ওপর একুরিয়াম টা রেখে গা এলিয়ে দিলো সোফায়। কারোর উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির কিচেন থেকে কাজের মেয়ে বেরিয়ে এসে বললো,

” এই কে আপনে? বলা নেই, শোনা নেই, কলিং বেল না বাজিয়েই ভেতরে ঢুকছেন..? ”
ইরাদ মাথা তুলে এক নজর তাকালো মেয়েটার দিকে। অল্পবয়সী হবে মেয়েটা, শ্যামবর্ণের দেখতে। ইরাদের তাকানো দেখে মেয়েটা ফের কোমরে হাত দিয়ে কটমটিয়ে বললো,
” খাড়ান ম্যাডাম রে ডাকি আগে..? ”
” আপনি কে..? ”
ইরাদের শীতল কন্ঠে শিউলি এবার বাকা চোখে তাকালো ইরাদের দিকে তারপর হুট করেই চিৎকার দিয়ে উঠলো যেনো বাড়ি সহ কাঁপিয়ে তুললো ,
” ম্যাডাম গো বাড়িতে চোর ঢুকছে তাড়াতাড়ি আসেন…?”

এত জোরে চিৎকার দেওয়ায় ইরাদ রাগে দু’কান চেপে ধরলো। বিরক্তিতে চোখ-মুখ খিঁচড়ে উঠে সামনে তাকালো, ইরাদের গরম চোখ পাকানো দেখে শিউলি মুখ বাকালো। এর মধ্যেই পিছন গেইট দিয়ে ভেতরে হুড়মুড়িয়ে ঢুকলো সব। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় আজ ইমদাদুল আর তারেক বাড়িতেই ছিলো তারাও ভেতরে এলো, সাথে এলো ইরাদের মা, ইরাদের ছোট ভাই ইভান চৌধুরী। ইভান এবার অর্নাস ৩য় বর্ষে। তারেক চৌধুরীর ছোট মেয়ে সাবাহ্ চৌধুরীও এগিয়ে আসলো। তারেক চৌধুরীর দুই মেয়ে বড় মেয়ে তমা চৌধুরী এবার অর্নাস ফাইনাল ইয়ারে আর ছোট মেয়ে সাবাহ্ চৌধুরী এবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে । তমা আর তার মা সুমানা চৌধুরী ওপরের ছাদে ছিলো শিউলির ডাকে তারাও নেমে এলো। ইরাদের মা ইভা চৌধুরী ভেতরে ঢুকতেই সোফায় বসে থাকা ছেলেকে দেখে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। পেছন থেকে ইরাদের দাদী আয়েশা চৌধুরী ভেতরে আসতেই ইরাদকে দেখে তার যেনো মুখে লম্বা হাসিরেখা ফুটে উঠলো। ইরাদের দাদীর বয়স কমপক্ষে ৭০ এর ওপরে হবে তবুও তার গঠন আর ভাব দেখলে কেউ বুঝতেই পারবে না এত বয়স তার। এগিয়ে আসতেই ইরাদ উঠে এসে দাদীর হাত ধরে বললো,

” কেমন আছো দীদা..? ”
” আমি তো ভীষণ ভালো আছি? তা হঠাৎ করে আইলা যে বললা না কেন আমাদের..?”
” সারপ্রাইজ দিবো বলে..!”,
বলেই মায়ের কাছে এগিয়ে গেলো। মাকে মাথা নিচু করে থাকতে দেখে ইরাদ কিছুটা নিচু হয়ে ঝুঁকে আসতেই ইভার যেনো বাঁধ ভাঙলো। হাউমাউ করে কেঁদে উঠলে ইরাদ জড়িয়ে ধরলো মাকে আর বললো,
” আমি চলে এসেছি আম্মু কেঁদো না আর? তোমার ছেলে এখন বাংলাদেশেই থাকবে আর তোমাকে জ্বালাবে শুধু..? ”

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১

ইরাদের কথা শুনে তার দাদী তাদের দু’জনের দিকে তাকিয়েই বলে উঠলো,
” তাহলে তো ভালোই হইলো এবার বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে..? “,
বিয়ের কথা শুনতেই ইরাদের হাসিমুখটা বিলীন হয়ে গেলো।

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৩