তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৮
আশফিয়া হিয়া
সেদিন আরুর সাথে এক ঘটনা ঘটল। আরু দৌড়ে রুদ্ধর রুমের দিকে যাচ্ছিল অন্যদিকে রুদ্ধ নিজের রুম থেকে যেই বের হতে যাবে ওমনি আরুর সাথে ধাক্কা খেয়ে দুজন ফ্লোরে গিয়ে পড়ল। রুদ্ধ ওপরে আরু তার নিচে চোখ – মুখ খিঁচে পড়ে রইল। এবং অনাকাঙ্খিতভাবে দুজনের ঠোঁট কয়েক সেকেন্ডের জন্য মিলিত হলো। এই অনাকাঙ্খিত ঘটনায় দুজনেই স্তব্ধ হয়ে রইল। আরুর গাল দুটো লজ্জায় লাল হয়ে গেল। রুদ্ধও কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল।
রুদ্ধ তড়িঘড়ি করে আরুর ওপর থেকে উঠে পড়ল।
আরু তখনো চোখ বন্ধ করে ফ্লোরেই পড়ে রয়েছে। রুদ্ধ এবার একটা ধমক দিল,
-” স্টুপিড এখনো ফ্লোরে শুয়ে আছিস কেনো? এভাবেই সারাদিন থাকতে চাচ্ছিস?”
আরু এইবার মিনমিন করে বলল,
-” কিভাবে উঠবো? আমার শরীরের ওপর আশি মুনের বস্তা পড়েছিল। কোমর নাড়াতেই পারছি না।”
-” হোয়াট আশি মুনের বস্তা? কিছুদিন পরে দিন রাত তোকে এই আশি মুনের বস্তাকেই সামলাতে হবে। তখন কি করবি?”
-” কি বলছেন?”
-” এক চড় দিব। ফ্লোরে শুয়ে চোখ বন্ধ করে ঢং করা হচ্ছে। পরপরই আরুর হাত ধতে টেনে তুলল।
আরু আর কোনোদিকে না তাকিয়ে দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেল। চড় খাওয়ার ইচ্ছে তার একদমই নেই।
দেখতে দেখতে সাতদিন কেটে গেল। সবার জীবন সেই আগের মতোই চলছে। সেদিনের ঘটনার পর আরু লজ্জায় দুইদিন রুদ্ধর সাথে চোখ মেলাতে পারেনি। আজ তিন দিন ধরে রুদ্ধ ঢাকার বাইরে গিয়েছে। আরুর কিছুতেই মন বসছে না। রুদ্ধ কাছাকাছি না থাকলে কিছুই ভালো লাগে না।রুদ্ধ যে আরুকে ভালোবাসে এটা সে খুব ভালো করেই জানে কিন্তু লোকটা প্রকাশ করতে চাই না এটাই হলো আসল সমস্যা। তবে সে রুদ্ধর মুখ থেকে কথা বের করেই ছাড়বে। সন্ধ্যায় ছোটরা ড্রয়িং রুমে বসে আড্ডা দিচ্ছে। বাড়ির গৃহিনীরা একপাশে বসে টিভি দেখছে।
– ” উফফ বিরক্ত লাগছে লাইফে কোনো মজাই নেই সেই একই জীবন।” ইয়াজের কথা শুনে আরুও তাল মেলাল তার নিজেরও ভালো লাগছে না।
-” আমার কাছে একটা প্ল্যান আছে তোরা চাইলে বলতেই পারি।” ভাব নিয়ে কথাটা বলল আহি।
তার ভাব দেখে ইয়াজ মাথায় গাট্টা মারল।
-“আমরা উল্টো পাল্টা নাম্বার এ কল দিয়ে মজা নিব। কেমন হবে? ”
-” তুই কি মজা নিবিরে একটু খানি পিচ্ছি। ”
বলেই তার দিকে তেড়ে যেতে নিল ইয়াজ।আরু ইয়াজকে ধরে ফেলল। আরু আহির দিকে চোখ গরম করে তাকাল।
-“দিন দিন বেশি পাকনা হয়ে যাচ্ছিস তাই না?”
– ” আরে আমি তো তোমাদের কথা বলেছি আমি কি এইসব পারি নাকি আমি শুধু দেখব।”
দুজনের গরম চোখ দেখে কোনোরকম আমতা আমতা করে বলল।
আরু আর ইয়াজ একটু ভেবেই রাজি হয়ে গেল।একটু মজা তো করাই যায় লাইফে। তবে বাঁধ সাজল রুহানি। সে বরারবরই এসব ব্যাপাতে ভিতু টাইপের তাছাড়া ফারিশের কানে যদি কথাটা কোনোভাবে যায় তবে কি হবে সেটা সে ভালো করেই জানে। কিন্ত তার বারণ কেউ শুনলে তো সবাই মিলে রুহানিকেও টেনে নিয়ে গেল ছাদে। ছাদে গিয়েই চারজন গোল হয়ে বসল। ছাদে আড্ডা দেয়ার জন্য আগে থেকেই তাদের জন্য আলাদা করে জায়গা ছিল। ইয়াজের একটা পুরনো সিম আছে ইয়াজ সেটা তার ফোণে ডুকিয়ে নিল। আরু এইবার ইয়াজের থেকে ফোণ নিয়ে উল্টো – পালটা এগারো ডিজিটের নাম্বার টাইপ করে ইয়াজের কাছে দিল।
– ” আসসালামু আলাইকুম।”
– ” অলাইকুম আসসালাম কে বলছেন?” ওপাশ থেকে স্বল্প বয়সী এক নারীর কন্ঠস্বর শোনা গেল।
– ” তোমার জামাইর বলছি সুইটহার্ট। ইয়াজের কথা শুনে আহি চোখ বড় বড় করে তাকাল। আরু আর রুহি মিলে ইয়াজের পিঠে চাপড় মারল।
-” কি সব বাজে বকছেন! আপনি কোথা থেকে বলছেন?”
-” তোমার মনের ঘর থেকে বলছি সুইটহার্ট একবার উঁকি দিয়েই দেখো না আমাকেই পাবে।”
-” ওওও সুইটহার্ট আমি তো তোমাকেই খুঁজছিলাম।
তুমিই তারমানে কলেজে প্রতিদিন আমার জন্য ওয়েট করো?” মেয়েটার কথা শুনে আরু ইশারায় ইয়াজকে হ্যাঁ বলতে বলছে।
-” এইতো তুমি আমাকে চিনতে পেরেছো। মনের একটা মিল আছে না আমাদের।” বলেই হাসল।
– ” হারামজাদা তুই তাহলে সেই তোর জন্য কলেজে গিয়ে শান্তি পাই না প্রতিদিন বিরক্ত করিস। আবা’লের নাতি, কু** বা**… বাকিটা না শুনেই
আসতাগফিরুল্লাহ বলেই ফোণ কেটে দিল বেচারা। মেয়েটার গালাগালি শুনে আরু আহি রুহানি হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছে। ইয়াজের মুখটা হয়েছে দেখার মতো বেচারা গালিগুলো হজম করতে পারে নি।
এইবার আরুর পালা আরু ভেবেছে মুখে রুমাল চাপাঁ দিয়ে রুদ্ধকে কল করবে। অন্য মেয়ে ফোন করলে তার রিয়্যাকশন কেমন হবে সেটাই মূলত সে দেখতে চাইছে। আরু ওড়না মোটা করে ভাঁজ করে এরপর মুখে চাঁপা দিয়ে কল দিল রুদ্ধর নাম্বারে। বাকিরা এইবার একটু চেপে চেপে বসল। তারাও খুব এক্সসাইটেড। প্রথমবার রিং হওয়ার পর পর কেটে গেল। তৃতীয়বারের বেলায় কলটা রিসিভ হলো।
” আসসালামুলাইকুম শেখ রুদ্ধ মাহতাব বলছি।”
আরু কন্ঠটা একটু অন্যরকম করে ডেকে উঠল,
– ” জান?”
ওপাশ থেকে রুদ্ধ চুপ করে আছে। কথা বলছে না।
– ” কি হলো জান কথা বলবে না?তোমাকে খুব মিস করছি জানননন। ”
শেষের ডাকটা একটু টেনে টেনে বলল। ইয়াজ, আহি মজা নিচ্ছে আরুকে এটা সেটা শিখিয়ে দিচ্ছে। রুহানি ভয় পাচ্ছে তার ভাই যদি বুঝতে পারে তাহলে তারা শেষ।
-” আমিও তোমাকে খুব মিস করছি জান।”
রুদ্ধর কথা শুনে আরু কাদোঁ কাদোঁ হয়ে গেছে কাকে জান বলছে এই লোক? তাকে কি অন্য কারোর সাথে গুলিয়ে ফেলল। বাকিরা চোখ বড় বড় করে একবার আরুর দিকে তাকাচ্ছে তো একবার মোবাইল এর দিকে তাকাচ্ছে। আরু কোনোরকম ঢোক গিলে বলল।
– ” বিয়ে কবে করবে জান?”
– ” তুমি বললে আজই।”
বাবাহ প্রেম উতলে পড়ছে।আরু আবার বলল,
-” আচ্ছা। তুমি এখন কি করছো?”
-” তোমাকে মিস করছি। ”
– ” তাই? তাহলে চলো দেখা করি?”
-” দেখা কি করতেই হবে?”
-” হুম।”
– ” ওকে তোমার পেছনে তাকাঁও।
তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৭
সবাই একসাথে পেছনে তাকিয়ে চমকে উঠল। ছাদের দরজায় হেলান দিয়ে স্বয়ং রুদ্ধ দাঁড়িয়ে আছে। এক হাত বুকে ভাঁজ করা অন্য হাতে কানে মোবাইল ধরে রয়েছে। আরুকে চমকে তার দিকে তাকাতে দেখেই ভ্রু নাঁচাল।
