Home তোমার নামের রোদ্দুরে তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৯

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৯

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৯
আশফিয়া হিয়া

রুদ্ধকে দেখে সবাই ভয়ে চমকে উঠল। রুদ্ধকে এই মুহুর্তে এখানে কেউ আশা করেনি। তার তো আজ এখানে আসার কথা নয়। আর এলো তো এলো এরকন বাঁশ দিতেই হাজির হলো।ইয়াজ তো রীতিমতো দু গালে হাত চেপে দাঁড়িয়ে আছে। আরু একবার রুদ্ধর দিকে তাকাচ্ছে তো একবার হাতের ফোণ দেখে ঢোক গিলচ্ছে। এখন তাকে কে বাঁচাবে?
আজাদ শেখ শুয়ে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে। একটু আগেই অফিস থেকে ফিরেছে। রুমা বেগম স্বামীর জন্য চা নিয়ে এলেন। আজাদ শেখ স্ত্রীকে শেখে মৃদু হাসলেন। রুমা বেগম স্বামীকে চা দিয়ে আশে বসলেন।

– ” শুনছেন একটা কথা ছিল।”
-” বলে ফেলো।”
– ” রুদ্ধটার তো বয়স হচ্ছে এবার তো ওর বিয়ের ব্যাপারটা নিয়ে আগানো উচিত।”
-” তোমার ছেলে এখন বিয়েটে মত দেবে ভেবেছো?
বিয়ের কথা উঠলেই তো সাহেবের তালবাহানা শুরু হয়ে যায়।”
– ” একবার বলেই দেখুন না। রুহানির তো বয়স হচ্ছে ফারিশকে আর কতদিন অপেক্ষা করাবেন এবার তো ওদের বিয়েটা সেড়ে ফেলতে হবে। বড় ভাইয়ের বিয়ে না দিয়ে বাড়ির বড় মেয়েকে তুলে দি কি করে?”
– ” তা তো বটেই। ঠিক আছে আমি কথা বলবো।
রুদ্ধ এগিয়ে এসেই ইয়াজের কান টেনে ধরল। ইয়াজ ব্যাথায় আর্তনাথ করে উঠল।
-” ভাইয়া ব্যাথা পাচ্ছি প্লিজ ছাড়ো।”
– ” চুপ।”
পরপর আরুর দিকে কটমট করে চেয়ে বলল,
– ” তোকে তো পরে দেখছি আগে প্রথম শাস্তিটা দিয়ে নেই এরপর বুঝাবো তোকে।”
পর পর রুহানি ও আহির দিকে তাকিয়ে ধমক দিল।
আহির চোখ ছলছল করে উঠল বড় ভাইয়া তাকে বকে না খুব একটা যখন বকে তখন চোখ দিয়ে নাক দিয়ে পানি বের হবেই। রুদ্ধ সবকটাকে ছাদে একপায়ে কানে ধরে দাঁড় করিয়ে রাখল।

– ” এক ঘন্টার আগে যেন একটার পা মাটিতে না পড়ে।” রুদ্ধর কল আসায় সে ছাদের একপাশে গিয়ে কথা বলতে লাগল। চারজন পাশাপাশি কান ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ইয়াজ আহির পায়ে এক ধাক্কা দিল।
– ” তোর জন্য হয়েছে সব।”
আহিও এবার ইয়াজের পিঠে খোঁচা দিয়ে বলল,
– ” তোমরা রাজি হয়েছো কেনো এখন যত দোষ আহি ঘোষের হয়েছে তাই না।”
রুহানি ফিসফিস করে বলল,
– ” তুই ঘোষ হলি কবে থেকে?”
– ” আরে এটা কথার কথা বলেছি।”
– ” উফফ তোরা চুপ কর তো এইজন্যই আমি আগে মানা করেছিলাম কি লজ্জায় পড়লাম ছিহ্ ছিহ্ ছিহ্।
আরুর কথা শুনে সবাই আকাশ থেকে পড়ল এই মেয়ে কখন মানা করল। উল্টো ঔই তো বেশি লাফিয়েছে। ইয়াজ হতবাক হয়ে প্রশ্ন করল,

– ” তুই কখন মানা করেছিস?”
-” করেছি তোরা শুনতে পাস নি।” আরুর চটপটে উওর।
ওদের ফিসফিস শব্দ শুনে রুদ্ধ বিরক্ত হল। কান থেকে ফোন সরিয়ে ধমকে উঠল সবকটাকে। সবাই আবার আগের মতো ভদ্র হয়ে দাঁড়াল। রুদ্ধ পেছনে ঘুরলেই ওরা পা নামিয়ে রাখল। গুণে গুণে পাক্কা পনেরো মিনিেট রুদ্ধর কথা শেষ হলো। এসে সবকটা আরো কয়েকটা ধমক দিয়ে ঘরে পাঠিয়ে দিল। সবাই চলে গেলেও আরু যেতে পারল না রুদ্ধ আরুর হাত শক্ত করে চেপে ধরে আছে। ওরা চলে যেতেই রুদ্ধ আরুর হাত ধরে মুখোমুখি এনে দাঁড় করাল। আরু চোখ নিচের দিকে নামিয়ে রেখেছে।
-” জান?” রুদ্ধর কন্ঠে স্পষ্ট ঠাট্টার আভাশ পাওয়া যাচ্ছে।
-” কি হলো চুপ কেনো? আমার দিকে চোখ তুলে তাকা।” রুদ্ধর কন্ঠে এখন কোনো রাগ নেই। একদম শান্ত সে। আরু ধীরে ধীরে চোখ তুলে দেখল রুদ্ধ মিটিমিটি হাসছে আরু রুদ্ধর এই রুপ দেখে অবাক হলো।

-” আপনি হাসছেন?”
-” তো কি কান্না করবো তোর মতো?”
-” আমি কখন কান্না করলাম?”
-” তোর কান্না করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়ের প্রয়োজন আছে? একটু কিছু বললেই তো টেপ চালু হয়ে যায়।” আরু মুখ ফুলালো। রুদ্ধ আরুর গাল দুহাতে টেনে দিল আরু ব্যাথা পেয়ে মুখ ফুলিয়ে গাল ডলতে লাগল। রুদ্ধ আরুর কিউট মুখটা দেখে হেসে ফেলল। হঠাৎ কিছু মনে পড়ায় আরুর হাত বেশ জোড়েই চেপে ধরল। তারপর হিসহিসিয়ে বলল,
-” এভাবে আর কতজনকে কল করেছিস?
-” আহ্ ব্যাথা পাচ্ছি ছাড়ুন।কাউকে না শুধু আপনাকেই করেছি।”
– ” মিথ্যে বলছিস?”
– ” মিথ্যে কেনো বলবো সত্যি বলছি। ছাড়ুন প্লিজ। ”
রুদ্ধ হাত ছেড়ে দিল আরু হাত ডলতে লাগল।রুদ্ধর এবার অনুশোচনা হলো রাগ উঠলে তার মাথা ঠিক থাকে না। রুদ্ধ আরুর হাত টেনে নিল। আলতো করে জায়গাটাতে হাত বুলিয়ে দিল। এরপর খুব নরম স্বরে বলল,

– ” শোন আরু তোর গন্তব্য যেন আমি পর্যন্তই শেষ হয়। এর বাইরে যদি কোনো কিছু দেখতে পাই তাহলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না।” বলেই হাত ছেড়ে দিল।
– ” আমার জন্য এক কাপ কফি করে নিয়ে আয়।”
আরু শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল।
রুদ্ধর কথাটা বোধগম্য হতেই ঠোঁটে মুচকি হাসি ফুটে উঠল।

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৮

– ” আমি তো এটাই চাই রুদ্ধ ভাই আমার সমস্ত গন্তব্য শুধুমাএ আপনাতেই শেষ হোক।
রুদ্ধ যেতে যেতে আরুর কথা শুনে মাঝপথে দাঁড়িয়ে গেল। তার ঠোঁটেও হাসি ফুটে উঠল। পেছনে না ঘুরেই ছাদের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল।

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ১০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here