Home তোমার নামে নীলচে তারা তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ২৭

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ২৭

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ২৭
নওরিন মুনতাহা হিয়া

মেঘের প্রতিটা কথা যুক্তিযুক্ত আদ্রিয়ান তার স্ত্রী উপর কোনো দায়িত্ব হয়ত পালন করেনি। এতিম মেয়েটার ভাগ্য না বাবা মায়ের সুখ সয্য হলো আর না স্বামীর। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো মেঘ এতো কথা কি করে জানল? মালিহা আর মেঘ কি পূর্ব পরিচিত? না মেঘই মালিহা? যদিও মেঘের পরিচয়ের বিষয়ে আদ্রিয়ান কিছুই দেখে না, আর মেঘই মালিহা হয় তবে তাকে প্রথম দেখায় আদ্রিয়ান চিনতে পারবে না। কারণ মালিহাকে সে কখন দেখেনি। আদ্রিয়ান তীক্ষ দৃষ্টিতে সন্দিহান চোখে তাকিয়ে বলে
“মেঘ আপনি মালিহার বিষয়ে কি করে এতো কথা জানলেন? মালিহার সাথে কি আপনার পূর্ব পরিচয় আছে? না, তুমিই মালিহা?“

আদ্রিয়ান চোখের ভাষা মেঘ পড়তে পারে সে চোখে এখন সন্দেহ। মেঘ তার মনে থাকা রাগ, জেদ, অভিমান তার কণ্ঠে প্রকাশ করে এতো গুলো কথা ড়একসাথে বলায় মেঘের দম বন্ধ হয়ে আসে। মেঘ কথা থামিয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস ছাড়ে এরপর আত্মাবিশ্বাসের সাথে বলে
“যদি আমি আপনার স্ত্রী মালিহা হয় তখন?“
মেঘের কথা আদ্রিয়ানের কাছে অবিশ্বাস্য লাগল, আদ্রিয়ান কিছু না ভেবে দ্রুত মেঘকে সিউর হওয়ার জন্য বলে
“তুমি কি সত্যি মালিহা , মেঘ?“

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

আদ্রিয়ানের প্রশ্ন মেঘের মনে কোনো উথাল পাথাল দেখা যায় না সে খুব শান্ত থাকে। আদ্রিয়ানের বড় বড় অবাক করা চোখের দিকে তাকিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলে উঠে
“যদি আমি সত্যি মালিহা মানে আপনার স্ত্রী হতাম, তবে এতোখন আপনার সাথে এতো শান্ত গলায় কথা বলতাম না। বরং ডিভোর্স পেপার রেডি করে সোজা মুখে ছুঁড়ে দিতাম। কারণ আপনি ভালোবাসা না বরং অপমানের যোগ্য “।
মেঘের কথা শুনে আদ্রিয়ান সম্পূর্ণ রূপে সন্তুষ্ট হতে পারে না। আদ্রিয়ান মেঘ আর তার মধ্যে দুরত্ব কমায় মেঘের কাছে গিয়ে তার হাত নিজের হাতের বাহুডোরে মুষ্টিবদ্ধ করে। অন্য হাত নিয়ে রাখে মেঘের ধবধবে ফর্সা গালে সেখানে আলতো হাতের ছোঁয়া দিয়ে পুনরায় ‎প্রশ্ন করে উঠে
“‎মেঘ তুমিই মালিহা তাই না৷ আমার বাবার বন্ধুর মেয়ে! আমার বিবাহিত স্ত্রী? “

আদ্রিয়ানের কথা শুনে আগের মেঘ থাকলে হয়ত গলে যেতো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হাজার বার বলত যে সে মেঘ। আদ্রিয়ানের বউ, কিন্তু এই মেঘের মধ্যে এমন কোনো অঙ্গভঙ্গি বা দুর্বলতা দেখা যায় না। মেঘ এখন নীরব, মেঘ তার গালের উপর থেকে আদ্রিয়ানের হাত সরিয়ে বলে
“ডক্টর : আদ্রিয়ান রেদোয়ান মালিহা বা মেঘ কেউ কিন্তু রাস্তার কু’কু’র নয়। যাকে ইচ্ছা হলে বিয়ের পর ঘৃণা, বা অবহেলা করে ধুর ধুর করে তাড়িয়ে দিবেন। আর নয় বছর আবার তাকে বউ করে ঘরে তুলতে চাইলে সে রাজি হয়ে যাবে। সবকিছু এতো সহজ নয় আর নয় বছর কম সময় না! “

আদ্রিয়ান মেঘের কথা শুনে মেঘের গালে পুনরায় হাত দিয়ে বলে
“মেঘ তুমি যদি সত্যি মালিহা হও, তবে আমি তোমার সাথে সংসার করতে চাই মেঘ। বউয়ের মর্যদা প্রাপ্য সম্মান দিয়ে তালুকদার বংশের বড় বউ হিসাবে ঘরে তুলতে চাই মেঘ। একবার শেষ সুযোগ দাও আমায় মেঘ! “।

মেঘ এইবার আদ্রিয়ানের হাত সরিয়ে একটু দূরে গিয়ে তার দিকে তাকিয়ে বলে উঠে
“‎ কিন্তু আদ্রিয়ান স্যার মালিহা আপনার সাথে সংসার করতে চাই না। আর যদি বলেন মর্যাদা, আর সম্মানের কথা তবে সেটা আমি একজন ডক্টর হলে অর্জন করতে চাই। কোনো বংশের বউ হয়ে না। আর কথা রইল শেষ সুযোগের কথা তবে সেই সুযোগ হয়তো ভাগ্য আপনাকে দিবে না। কারণ মালিহা আগামী একমাসের মধ্যে আপনাকে ডিভোর্স দিবে। “
ক্লাসে পাশাপাশি সিটে বসে আছে নূহা আর তিহান শিক্ষক বোর্ডে পড়াশোনা বোঝাচ্ছে। সকল শিক্ষার্থী মনোযোগ সহকারে বোর্ডের দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু তিহানের মন এখন ভীষণ অশান্ত তার দৃষ্টি বারবার দরজার দিকে যাচ্ছে। মূলত সে মেঘের জন্য অপেক্ষা করছে মেঘ ক্লাসে আসেনি কেনো? এতো সময় ধরে কি করছে সে বাহিরে? তিহান বারবার উঁকি দিয়ে দরজার দিকে দেখছে। নূহা যেহেতু তিহানের সামনে ছিল তাই তিহান নাড়াচাড়া করায় বা সামনে দিকে উঁকি দেওয়ার কারণে তার বোর্ডের দিকে মনোযোগ দিতে সমস্যা হচ্ছে। নূহা তিহানের কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে বলে উঠে

“কি সমস্যা আপনার তিহান? এমন জিরাফের মতো মাথা মাথা উঁচু করে কি দিচ্ছেন? আগে যানতাম আপনার চোখে সমস্যা এখন কি ঘাঢ়ে ও সমস্যা আপনার? “
নূহার কথায় তিহানের রাগ হয় এমনি কালকের ঘটনা আর মেঘের জায়গায় বসায় নূহার উপর ভীষণ বিরক্ত সে। আর এখন সে তিহানকে জিরাফের সাথে তুলনা করল! তিহান নূহার দিকে তাকিয়ে বলে
“আপনার সাহস তো কম নয় মিস. ঝগড়ুটে, আপনি এই তিহানকে জিরাফ বললেন? আমার মতো এমন সুর্দশন পুরুষকে?“
তিহানের কথা শুনে নূহা তাচ্ছিল্যর হাসি দিয়ে বলে

“কি আপনি আর সুর্দশন পুরুষ? যেই না চেহারা আবার নাম রাখছে পেয়ারা। নিজের চেহারা এখন আয়নায় দেখেছেন? সয়তান ও আপনার থেকে বেশি সুন্দর। মিস্টার সয়তান।“
নূহার কথা শুনে তিহানের তার উপর রাগ বেড়ে যায় সে বলে
“ওহ্ তাই না আমি সয়তান। শুনুন আমি যদি সয়তান হয় তবে আপনি হন পেত্নী “ ….
নূহা তিহানের কথার উত্তর দেওয়ার জন্য মুখ খুলল তখন টির্চার ধমকের স্বরে বলে উঠে
“সাইলেন্ট….

নূহা আর তিহান দুইজনে চুপ হয়ে যায় টির্চারের ধমক শুনে নূহা ভেংচি কেটে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। প্রায় মিনিট পর নূহা যখন বোর্ডে পড়া দেখছিল তখন হঠাৎ তিহান তার হাত দিয়ে নূহার শরীরে ধাক্কা দেয়। নূহা বিরক্তি নিয়ে পিছনে ফিরে তাকায় এরপর বলে
“কি সমস্যা আপনার তিহান? ক্লাসের মধ্যে বিরক্ত করছেন কেনো? স্যার বকা দিবে!। “
নূহার কথা শুনে এইবার তিহান রাগ করে না যথেষ্ট ভদ্র কণ্ঠে বলে উঠে
“ নূহা রাগ করছেন কেনো? আচ্ছা শুনুন না মেঘ কোথায়? মেঘ ক্লাসে আসেনি কেনো? “
“মেঘকে আদ্রিয়ান স্যার তার কেবিনে যেতে বলছে। পড়ার জন্য নোট দিবে বলে “

আদ্রিয়ান স্যারের নাম শুনে তিহান অবাক হয়ে যায় হঠাৎ আদ্রিয়ান মেঘকে কেনো ডাকবে? আর ক্লাস এতো শিক্ষার্থী থাকতে শুধু মেঘকে নোট দিবে? আর আদ্রিয়ানের ক্লাস শেষ হয়ে গেছে প্রায় দুই ঘণ্টা হয়ে গেছে, এতো সময় মেঘ কি করছে ওখানে? ক্লাসে কেনো আসেনি? তিহানের বিষয়া একটু আজব লাগে।
ড্রয়িং রুমে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে খবরের কাগজ পড়ছেন ইরফান সাহেব। তার স্ত্রী ডলি বেগম রান্নাঘরে দুপুরের খাবার রান্না করছে। হঠাৎ শব্দ করে দরজারয় কলিং বেল বেজে উঠে, হয়ত জিয়া এসেছে। ইরফান সাহেব কলিং বেজের শব্দ শুনে কাগজ টেবিলের উপর রেখে দরজার কাছে এগিয়ে যান। দরজা খুলে দেখে জিয়া মাথা নিচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছে।

“জিয়া তুমি এতো তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসলে?“
ইরফান সাহেবের কথার জবাবে জিয়া কোনো উত্তর প্রদান করে সে মাথা নিচুঁ করে, বাবার পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাই। তখন ইরফান সাহেব আবার জিজ্ঞেস করে
“জিয়া আমি তোমায় কিছু জিজ্ঞেস করছি? তুমি আজ হাসপাতালে যাওনি? এতো তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসলে কেনো? “

ইরফান সাহেবের কথা শুনে জিয়া মাথা উঁচু করে। অতিরিক্ত কান্না করার ফলে জিয়ার চোখ মুখ লাল রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে ঠোঁট জুড়া কাঁপছে। জিয়া যে কান্না করেছে তা হয়ত ইরফান সাহেব বলে
“কি হয়েছে জিয়া? কান্না কেনো করছো? কেউ কি কিছু বলেছে? আদ্রিয়ানের সাথে কি ঝগড়া হয়েছে তোমার? “
জিয়া কোনো কথার উত্তর দেয় না। বাবা মেয়ের কথাবার্তার আওয়াজ শুনে ডলি বেগম রান্না ঘর থেকে বের হয়ে আসে। এরপর ড্রয়িং রুমে এসে বলে
“ইরফান, জিয়া কি হয়েছে? “

ডলি বেগম জিয়ার চোখ মুখ দেখে অবাক হয়ে যায়, ওনি দ্রুত পা বাড়িয়ে জিয়ার নিকটে আসে আর বলে
“জিয়া কি হয়েছে তোমায়? তোমার চোখ মুখ এমন লাল কেনো? “
ডলি বেগমের কথার বিপরীতে জিয়া ছোট করে জবাব দেয়
“আমি রুমে যাচ্ছি আম্মু। আমার প্রচুর মাথা ব্যাথা করছে “।
জিয়া এই কথা শেষ করে দৌড়ে তার রুমে চলে যায়। ডলি বেগম আর ইরফান সাহেব তার এমন কাণ্ডে অবাক হয়ে যায়। রুমে প্রবেশ করে জিয়া শব্দ করে দরজা বন্ধ করে দেয়, এরপর হাতে থাকা ব্যাগ বিছানা ছুঁড়ে মারে। শরীরের সমস্ত শক্তি ছেড়ে দিয়ে ধপ করে মাটিতে বসে পড়ে চোখ বেয়ে অজস্র জল পড়তে থাকে। জিয়া বলে উঠে
“কেনো ভালোবাসলে না আমায় আদ্রিয়ান? কেনো? আমি তোমাকে ছাড়া কি করে বাঁচব? তোমার পাশে অন্য কাউকে সয্য আমি করতে পারব না আদ্রিয়ান । তুমি শুধু এই আমার, শুধু আর শুধুমাএ এই জিয়ার “।

কেবিন আদ্রিয়ানের বলা সব কথা জিয়ার চোখের সামনে ভেসে উঠে। আদ্রিয়ান বিবাহিত এই কথাটা যেনো শতবার শত শব্দে জিয়ার কানে উচ্চারণিত হচ্ছে। আদ্রিয়ান অন্য কারো হয়ে যাবে, তার সাথে সুখে সংসার করবে, তার স্পর্শ করবে। না, না, না এমন কখন হতে পারে না। জিয়া এইটা মানতে পারবে না অসম্ভব। জিয়ার জীবনে আদ্রিয়ান প্রথম পুরুষ যাকে সে ভালোবেসে এসেছে? তাকে নিজের জীবন সঙ্গী হিসাবে চেয়েছে এতো সহজে জিয়ার তাকে অন্য কারো হয়ে যেতে দিতে পারে না। অসম্ভব….

‎জিয়া এতো সহজে হারতে পারবে না। জিয়ার চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রু জিয়া মুছে নেয় এরপর মেঝে থেকে উঠে। হন্তদন্ত হয়ে এগিয়ে যায় টেবিলের কাছে এরপর সেখান থেকে এক খাতা নিয়ে কলম দিয়ে কিছু কথা লিখে। প্রায় পাঁচ মিনিট পর লেখা শেষ করে জিয়া কাগজের দিকে তাকায় আর বলে
“ডক্টর : আদ্রিয়ান রেদোয়ান তুমি শুধু আমার। এই কাগজে লেখা কথাগুলো তোমার ধ্বংসের কারণ। তোমার কেরিয়ার, আমার মান সম্মান সব শেষ করে। তুমি বাধ্য হয়ে আমায় বিয়ে করবে, তোমার অবস্থা আমি এমন করব তুমি না পারবে না থাকতে আর না পারবে আমায় ভালো না বেসে থাকতে। তোমার ধ্বংস আমার হাতেই হবে “…..

জিয়ার মুখে পৈশাচিক হাসি ফুটে উঠে, অবশ্য তার একটু কাজ করা বাকি আছে। জিয়া তার রুমে থাকা কাঁচের জিনিসপত্র সব ভাঙতে থাকে, যাতে তার আওয়াজ বাহিরে যায়। রুমের ভিতর থেকে জিয়ার জিনিসপত্র ভাঙ্গার শব্দ শুনে ড্রয়িং রুমে থাকা ডলি বেগম আর ইরফান সাহেব তার রুমের দরজায় ছুটে আসে। ইরফান সাহেব দরজায় শব্দ করে ডাকতে থাকে
“ জিয়া কি করছ রুমের ভিতরে তুমি? জিয়া, জিয়া। “

ইরফান সাহেবের সাথে ডলি বেগম ও বলে উঠে
“জিয়া মা দরজা খেলো জিয়া। কি হয়েছে তোমার? জিয়া“।
বাহির থেকে ইরফান সাহেব আর ডলি বেগমের কণ্ঠ শুনে জিয়া আরো অধিক উন্মাদ হয়ে যায়। সে ভাঙচুর বন্ধ করে না বরং আরো বাড়িয়ে দেয়। অনবরত ইরফান সাহেব আর ডলি বেগম দরজা ধাক্কা দিতে থাকে। জিয়া এইবার টেবিলের ড্রয়ার থেকে ছুরির বের করে এরপর বলে
“ আদ্রিয়ান তোমাকে পাওয়ার জন্য আমার এইটুকু অবশ্যই করতে হবে। তুমি আমার আদ্রিয়ান। এই জিয়া ছোটবেলা থেকে যা চেয়েছে নিজের জীবনে তাই পেয়েছে। তোমার প্রতি আমার যে অনুভূতি তাকে তুমি আসক্তি বলো, ভালোবাসা বল, বা অবসেশন বলো তাতে আমার কিছু যায় আসে না জিয়া। কিন্তু তুমি আমার এইটা চিরন্তন সত্য।“

হাতে থাকা ছুরির দিকে একবার ভীতু চোখে তাকায় কিন্তু পরক্ষণে তার মনে সাহস জুটায়। ধীরে ধীরে ছুরি হাতে নিয়ে রাখে এরপর জোরে দুইটা দাগ কাটে হাতে। মুহূর্তের মধ্যে রক্তে হাত বড়ে যায় বিন্দু বিন্দু রক্ত কণা গড়িয়ে পড়ে মেঝেতে। কিন্তু ভুলবশত জিয়ার হাতে কনুই জোরে ছুরি চালিয়ে দেওয়ার ফলে, হাতের একটা রগ কেটে যায়। যার ফলে র’ক্ত স্রোতের ধারার ন্যায় প্রবাহিত হতে থাকে। জিয়া ডক্টর হওয়ায় খুব দ্রুত বুঝতে পারে সে কতো বড়ো ক্ষতি করে ফেলেছে। যদি এখুনি তাকে হাসপাতালে না যাওয়া হয়, তবে হয়ত মা’রা যেতে পারে।

রুমের ভিতরে জিয়ার কোনো শব্দ না পাওয়ায় ডলি বেগম আর ইরফান সাহেব ভয় পেয়ে যান। ইরফান সাহেব বুঝতে পারেন তাকে এখন দরজা ভাঙতে হবে। ওনি দরজায় অনাবরত ধাক্কা দিয়ে ভাঙ্গার চলে করতে থাকে। জিয়ার হাতের র’ক্ত পরিমাণ দিগুণ হয়ে যায়, তার শরীরে থাকা শক্তি শেষ হয়ে যায় ধপ করে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে সে।
শত চেষ্টার পর অবশেষে ইরফান সাহেব দরজা ভাঙতে সক্ষম হয়। ইরফান সাহেব রুমে ঢুকে জিয়াকে মেঝেতে পড়ে থাকে দেখে ডলি বেগম এক চিৎকার দিয়ে এগিয়ে আসে তার কাছে। জিয়ার মাথার কাছে এগিয়ে এসে বলে

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ২৬

“জিয়া কথা বলো? জিয়া কি হয়েছে তোমার? ইরফান আমার মেয়ের কি হয়েছে? ইরফান আমার জিয়া? “
ইরফান সাহেব নিজে ও হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়েন মেঝেতে। এরপর জিয়ার শরীর ধাক্কা দেওয়ার পর ও যখন উঠে না। তখন ওনি তার কাঁপা কাঁপা হাত দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যায় জিয়ার নাকের কাছে তার শ্বাস চেক করতে। ইরফান সাহেব নাকে হাত ধরার পর ধপ করে শরীর ছেড়ে দিয়ে বলে
“জিয়া “…..

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ২৮