Home নীতিহীন রাজ নীতিহীন রাজ পর্ব ১৮

নীতিহীন রাজ পর্ব ১৮

নীতিহীন রাজ পর্ব ১৮
আশিকা আক্তার সোহাগী

সমরেশ মজুমদার একটা কথা বলেছেন
“একটা কষ্ট অনেক সময় আরেকটা কষ্টকে ঢেকে দেয়”
জিয়ানার অবস্থাও সেইম।জিয়ানা যখন জেনির কাছে গিয়ে দাঁড়ালো থরথর করে শরীর কাপা শুরু করলো। কারণ জেনির শরীরে কোন কাপড় নেই।সারাশরীর আচঁড়ে ভরা। পা দুটোয় যেনো রক্তের লার্ভার স্রোত। জ্ঞান থাকা অবস্থায় বিছানার চাদর দিয়ে হয়তো নিজেকে ঢাকার চেষ্টা করেছিলো।কাপাহাতে জেনির গালে আলতু চাপড় দিয়ে বার কয়েক ডাকার পর যখন সাড়া পেল না।তখন আর কালবিলম্ব না করে সেই বিছানার চাদরে মুড়িয়ে কাধে নিয়ে ছুটলো দরজা বরাবর।

ফ্লোরের কাচে জিয়ানার পা ক্ষত বিক্ষত হলো।জেনির ওজন কম করে হলেও ৫৫কেজি।জিয়ানার শরীরে যেনো আজ কোন শুভ শক্তি ভর করেছে।কিংবা প্রতিদিন গাড়ির ভারি চাকা নিয়ে হাটার জন্য আজ জেনিকেও নিতে পারল।পায়ের ক্ষতের কোন অনুভূতিও কাজ করল না। না একটুও হাপিয়ে উঠল।রাত হওয়াই আশেপাশে কেউ নেই। গলির মোড়ে গিয়ে একটা অটো রিক্সায় উঠে নিকটস্থ ক্লিনিকে ছুটলো।সাইকেল চালিয়ে আসায় শরীরের তাপে জামা কাপড় শুকানোর পথে কিন্তু কোথায় কোথায় এখনো ভেজা থাকায় ঠান্ডা লাগছে। জিয়ানার বুঝতে বাকি নেই জেনির সাথে কি ঘটেছে।কিন্তু জেনির সাথেই কেনো ঘটতে হবে?যদি দোষ কিছু থেকে থাকে সেটা জিয়ানার আর জিয়াউলের।
মস্তিষ্কের প্রদাহ বেড়েই যাচ্ছে ক্রমান্বয়ে। জেনিকে ধরে এখন তার বুক চিরে কান্না পাচ্ছে।আব্বু আম্মু কোথায়? কি হচ্ছে কি তাদের সাথে এগুলা।সজীব ভাইয়ার আম্মু আসেনি? কে দিবে উত্তর। তার ফোনটাও হারিয়ে গেছে দুইদিন আগে। জেনির রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়নি। জিয়ানার শরীর ভেসে যাচ্ছে। কোথায় ধরবে? কি করবে জিয়ানার মস্তিস্ক একেবারেই শূন্য ঠেকল যেন।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

এরমাঝে জেনি দুইবার গলায় টান দিলো। জিয়ানা আল্লাহ বলে একটা চিৎকার দিলো। ফাঁকা রাস্তায় সেই চিৎকার বড্ড মুমূর্ষু শোনালেও কারো কানে গেল না।কারন আর্তের আর্তি কেউ শুনতে পছন্দ করে না। কারো কানে গেলেও আগ বাড়িয়ে কেউ দুই কদম এগিয়ে আসে না। আর জিয়ানার সকল ট্রেনিংয়ে প্রাপ্ত কঠিন ধৈর্য ছুটে গেল।চোখে শ্রাবণধারা বয়ে চলেছে।জিয়ানার কাছে ঠেকলো দুনিয়াতে আপনাজনের বিপদের সময় মানুষ বড্ড অসহায়।
কান্না কন্ঠেই রিক্সায়ালাকে তাড়া দিয়ে বলল,

-মামা দ্রুত চালান।আমার আপি মরে যাচ্ছে।সব রক্ত পড়ে যাচ্ছে গো মামা। বাচানো যাবে না।আজ ওর বিয়ে হওয়ার কথা কিন্তু মরে যাচ্ছে কেনো? আপনার রিক্সা এত স্লো কেন?জোরে যাচ্ছেন না কেন? আর কতদূর। আমার আপি না বাচলে আপনাকে ছাড়বো না।তাড়াতাড়ি চালান।
কতশত কথা বলে গেল জিয়ানা।রিক্সাওয়ালা হয়তো বুঝলো তার কষ্ট। একটা শব্দও করলো না। দশ মিনিট পর তারা একটা ক্লিনিকে এসে যখন পৌঁছালো। তখন জিয়ানা দেখলো আরেক চরম বাস্তবতা। যাকে বলে
“মরার উপর খাড়ার ঘা”

রেপ কেস দেখে তারা পুলিশ ছাড়া ভর্তি করবে না। জিয়ানা বিস্ময়ে বাক হারা হয়ে গেল।এটা কোন পৃথিবীতে সে বাস করছে।একটা মানুষের রক্তক্ষরণে মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে আগে পুলিশ ফাইল করতে হবে।এটা কেমন নীতি? এটা কেমন অবিচার?এরাই কি তারা যাদেরকে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা আশরাফুল মাখলুকাত বলেছেন।২০বিলিয়ন প্রাণীর মাঝে এদেরকে সেরা মর্যাদা ঠিক কোন কারণে দেয়া হয়েছে? দিশাহারা জিয়ানার কান্না মিশ্রিত চিৎকারে একটা কেবিন থেকে তামান্না বেড়িয়ে এলো।জিয়ানাকে এমন উন্মাদের মতো তড়পাতে দেখে একপ্রকার ছুটে গেলো তার কাছে। প্রথমে লম্বা চুলের জন্য চিনতে না পারলেও কাছে গিয়ে হতবাক হওয়ার সময় টুকু পেলো না তামান্না।জিয়ানার কাছে গিয়ে হাত ধরে তার দিকে ফিরিয়ে জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে। জিয়ানা সেই অবস্থাতেই স্ট্রেচারে শোয়ানো নিথর ফ্যাকাশে জেনির দিকে আঙুল তুলে হাউমাউ করে কেঁদে দিলো।

-তামান্না!আমার আপি মরে যাচ্ছে। ওকে এরা ট্রিটমেন্ট করছে না। আল্লাহ আমাদের এই কোন শাস্তি দিচ্ছেন। তাম্মান্না ও তামান্না তুমি এদের একটু বলো প্লিজ। সব রক্ত ঝরে যাচ্ছে। দুইবার খিচুনি দিয়েছে।
তামান্না জেনির দিকে ছুটলো। আর অবস্থা দেখে আতকে উঠে দ্রুত নিবিড়ের নাম্বারে ফোন দিলো।নিবিড় ফোন রিসিভ করলো না উল্টা কেটে দিলো।
তাই ফটাফট টেক্সট করলো
“আমাদের ভার্সিটির একটা মেয়ে জেনি নাম। খারাপ ভাবে রে*পড হয়েছে। অবস্থা খারাপ। তার বোন জিয়ানা আশা ক্লিনিকে নিয়ে এসেছে কিন্তু এরা ভর্তি করছে না। তুমি একটা ফোন দিলে এরা আর ফর্মালিটি দেখাতো না।প্লিজ নিবিড়। ”

তার ঠিক দুই মিনিটের মাথায় দুইজন নার্স আর একজন ডাক্তার হন্তদন্ত করে এসে জেনিকে দ্রুত ইমার্জেন্সি সেক্টরে নিয়ে গেল।জিয়ানা সেই দরজায় পা গুটিয়ে বসে রইলো।পনেরো মিনিট পর নিবিড় আর সজীব এলো একপ্রকার দৌঁড়ে। সজিব এসেই ধপ করে জিয়ানার পায়ের কাছে বসে জিজ্ঞেস করলো ,
-এক্সিডেন্ট হয়েছে তাই না? হাত পা ভেঙে গেছে হয়তো।মাথায় লেগেছে?
জিয়ানা মুখ তুলে স্থির চোখে চেয়ে রইলো সজীবের দিকে।
-ভাইয়া আপনি কি আর আপুকে বিয়ে করবেন না?
সজীব স্তব্ধ হয়ে গেল এই সময়ে এমন প্রশ্ন শোনে। তারপর আস্তে করে জিজ্ঞেস করে ,
-কি হয়েছে ওর?আমি তো ওকে ভালোবাসি জিয়ানা। বিয়ে না করার প্রশ্ন আসছে কেনো?
-আজ না আপনাদের আসার কথা। এলেন না কেন?
-সন্ধ্যায় তোমার আম্মু ফোন দিয়ে বলল ,ইমার্জেন্সি বের হতে হচ্ছে উনাদের। তাই আজ যেন না আসি।
এই পর্যায়ে জিয়ানা সজীবের শার্টের কলার ধরে ঝাকিয়ে বলে উঠলো ,

-কেনো এলেন না? আপি অপেক্ষায় ছিলো যে।কেন এলেন না আপনারা। আপনারা এলে তোর ওর কিচ্ছু হতো না। এত বড় ক্ষতি হতো না।এখন যদি আপি মরে যায়? কে দ্বায় নিবে আপনি নিবেন? আপনি কি আমার মৃত্য আপিকে বিয়ে করবেন? আমার ধর্ষিতা আপিকে আবার ভালোবাসতে পারবেন?পারবেন বলুন তার দায়িত্ব নিতে।
ধর্ষিতা কথাটা শোনে সজীব পা মেলে বসে পড়লো ফ্লোরে। নিবিড় শুধু বলেছে খারাপ কিছু ঘটেছে।এই খারাপ মানে ভেবেছে ছোটখাটো এক্সিডেন্ট হয়তো।
নিবিড় এগিয়ে এসে সজীবের কাধে হাত রাখে।সজীব এইবার বিমুঢ় , নিস্তব্ধ হয়ে সেই অবস্থাতেই বসে রইলো। কতক্ষন গেলো,কত মিনিট গেলো সে হিসেবে কেউ গেলো না।নিবিড় এতক্ষণ শুধু জিয়ানার দিকে তাকিয়ে ছিলো। সেই ভেজা কাপড়েই ওই অবস্থাতেই এখনো আছে। চোখমুখ ফুলে লাল হয়ে আছে।এলোমেলো লম্বা চুল সারাশরীর আর মুখে লুটোপুটি খাচ্ছে।বড্ড ক্লান্ত আর নিস্পৃহ দেখাচ্ছিলো জিয়ানাকে।
ইমার্জেন্সির দরজা খোলে ডাক্তার বের হলো। সজীব দাঁড়ালো কিন্তু আগানোর সাহস পেলো না।নিবিড় এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো

-এখন কি অবস্থা?
-ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশন। গ্যাংরে*প হয়েছে ভিক্টিমের সাথে।ভ্যা*জাইনা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। আমরা যতদূর সম্ভব স্টিজ করেছি। এখন ব্লাড লাগবে আরও। আপাতত আমাদের ব্লাড ব্যাংকে যা ছিলো চলছে। আপনারা বাকিটা ম্যানেজ করুন।
সজীব ডাক্তারের কথা শোনা মাত্রই একপ্রকার ছুটে এসে ডাক্তারের শার্টের কলার ধরে ঝাকিয়ে প্রশ্ন করে ,
-কি বলছেন কি? হ্যাঁ। মাথা খারাপ হয়ে গেছে আপনার? রে*প মানে কি রে*প হতে যাবে কেন আমার জেনি?সত্যি কথা বলুন কি হয়েছে। এক্সিডেন হয়েছে। এক পা বা হাত কিংবা অন্ধ হয়ে গেছে। তাই না? সত্যি কথা বলুন? নাহলে ডাক্তার বলে খাতির করবো না। একদম পুতে ফেলবো।
নিবিড় সজীবের হাত থেকে টেনে ডাক্তারের কলার ছাড়িয়ে দিয়ে সরি বলল।ডাক্তারদের এইসব সিচুয়েশনে ওহরহ পড়তে হয়। রোগী মারা গেলে ডাক্তারদের অনেক সময় লুকিয়েও থাকতে হয়। সৃষ্টিকর্তার পর জীবন বাচানোর দায়িত্ব নেয়ার মতো মহান পেশা আর দ্বিতীয়টি নেই। তাইতো সম্মান আর ভালোবাসার পাশাপাশি রাগ ,দুঃখের ভাগ না চাইলেও ভাগে পড়ে।

-শান্ত হ সজীব।এটা একটা এক্সিডেন্ট। আমি দেখছি কি করা যায়। কে আছে এর পেছনে। তোকে এখন জেনির পাশে থাকতে হবে।ওও বেচে থাকলেও সার্ভাইব করতে পারবে না।মানুষ কিংবা সমাজের জন্য।তোকেই ওর পাশে থাকতে হবে।তোকে সর্বোচ্চ শান্ত থাকতে হবে।
-কীভাবে শান্ত থাকবো রে ভাই? আমার কলিজাটা ছিড়ে যাচ্ছে।সাড়ে চার বছরে একটা বারও মেয়েটার হাত ধরিনি আর ওরা আমার জেনিকে ছিড়ে খেয়েছে। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমি দেখাতে পারছি না। আমাকেও মেরে ফেল ওর সাথে সাথে। নাহলে ওর কলঙ্ক আমাকে দিয়ে দে। ওকে কি এই সমাজ বেঁচে থাকতে দিবে? আমি কি নিয়ে বেঁচে থাকবো।
জিয়ানা এবার পা মেলে বসে পড়লো। কে করলো তাদের এত বড় সর্বনাশ?কেনো এখনো আব্বু আম্মু আসছে না। সেই কখন তামান্নার ফোন দিয়ে আঞ্জুমানকে বলেছে জেনির এক্সিডেন্ট হয়েছে।আবার নিবিড় ফোন দিলো। তবুও এখনো আসছে না কেনো।জিয়ানার মাথা ভার হয়ে এসেছে। মনের ব্যাথার কাছে পায়ের ব্যাথা তুচ্ছ ,সামান্য লাগছে। মনটাকেই কেটে ফালাফালা করে ফেলতে ইচ্ছা হচ্ছে তার।

নিবিড় সজীবকে শান্তনা দেয়ার ফাঁকে একবার জিয়ানার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলো।জিয়ানা এখন পা জোড়া সোজা করে দরজায় মাথা ঠেকিয়ে বসে আছে। যার ফলে সারা পায়ের তলায় জখমের রক্ত স্পষ্ট।কান্নারত সজীবকে জয়েন্ট স্টিলের সিটে বসিয়ে এগিয়ে গেল জিয়ানার দিকে।হাটু গেড়ে বসে বাম হাত দিয়ে পায়ের টাখনুর কাছে ধরে একটু উঁচু করে দেখে আৎকে উঠলো।সম্পুর্ন পায়ের পাতা ক্ষতবিক্ষত। এখনো কয়েকটা ছোট ছোট কাচ ভেতরে ঢুকে আছে। পা থেকে চোখ সরিয়ে মুখের দিকে তাকালো।একদম ফ্রিজড হয়ে বসে আছে। পা স্পর্শ করাতে বুঝতে পারলো শরীর বেশ গরম। নিবিড় কোন অনুমতির প্রয়োজন মনে করল না। পাজকোলে নিয়ে নার্সেদের রুমের দিকে হাটা ধরলো। জিয়ানা এখনো নড়চড় হীন অনড়। বরং নিবিড়ের বুকে মাথা এলিয়ে দিলো। তারকাছে মনে হলো অথৈজলে পড়ার পর একটা কাঠের টুকরা পেয়েছে ভেসে থাকার। তামান্না পেছন পেছন এলো তাদের।
হাটারত নিবিড় জিজ্ঞেস করলো ,

-তুমি এখানে কি করছো?
-কাঞ্চন লাইফ সাপোর্টে আছে আজ কয়েকদিন ধরে। তাই আমিও আছি সাথে।
নিবিড়কে দেখে কয়েকজন নার্স এগিয়ে এলো। নিবিড় ইশারা দিয়ে পা দেখালো। নার্স একজন জানালো ড্রেসিংরুমে নিয়ে আসতে।
জিয়ানার পা ড্রেসিং করা হচ্ছে। নিবিড় পাশে দাঁড়িয়ে। মুখটা পর্যন্ত কুচকাচ্ছে না এই মেয়ে।একটু আগে ছুঁচালো সার্জিক্যাল কাঁচির মাধ্যমে ছোট ছোট কাচ গুলো গুতিয়ে গুতিয়ে বের করেছে।এখন সেই কাঁচির মাথায় হেক্সিসলে তুলো ভিজিয়ে চেপে চেপে পরিস্কার করছে।দুই একবার নিবিড় বলেছে
-আস্তে সিস্টার। লাগবে তো।
নার্স বাকাচোখে চেয়ে বুঝানোর চেষ্টা করেছে,যার বিয়া তার খবর নাই। পাড়াপড়শির ঘুম নাই।যার ট্রিটমেন্ট করি সে দিব্বি বসে। আর এইদিকে তার প্রেমিক আহা উহু করে। তবুও এলাকার বিখ্যাত কিংবা কুখ্যাত লোক। মুখে কোন বাকা রাও না করে বলে উঠলো ,

-স্যার। কাচের কাটা তাই টিটেনাস টিকা দিতে হবে।এখনই দিয়ে দিবো?
-অবশ্যই দিবেন। আমি কি ডাক্তার আমাকে জিজ্ঞেস করে ট্রিটমেন্ট করবেন?
-না মানে আপনার প্রেমিকা তাই আরকি।
আমতা আমতা করে নার্স বলে। নিবিড় প্রেমিকা শোনে বিশেষ কোন রিয়েকশন দেখালো না।তবে আড়চোখে একবার জিয়ানার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো ,
-আমি বলেছি আমার প্রেমিকা?
-ওহ সরি স্যার। আপনার ওয়াইফ। মাফ করবেন আমি এক্ষুনি টিকা দিয়ে দিচ্ছি।

নিবিড় কপাল ভাজ করে জিয়ানার দিকে ভালোভাবে চায়।কোনদিক দিয়ে এই পাগলকে তার বউ লাগে? এর মাঝে বউয়ের কোন উপাদান নেই। যার বউ হবে তারজন্য আগাম ইন্না-লিল্লাহ।
নার্স টান দিয়ে সুক্ষ সুই বের করে মেডিসিন ভরে জিয়ানার কাছে গেল।নিবিড় ভাবলো এইবার হয়তো একটু রিয়েকশান দেখাবে। কিন্তু তাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে জিয়ানা সেভাবেই চুপ করে শুয়ে রইলো।নিবিড় উল্টো ঘুরে গেছে। নার্স তার বউ মনে করে হুডির হাতা কাধ থেকে সামনেই নামিয়ে নিয়েছে।মনে মনে ভাবছে কি মসিবত ,এখন না আবার বলে বসে যান আপনার বউকে বাথরুমে নিয়ে যান।এমনিতেই কয়েক মাসেই এই মেয়ে তিন বা চার বার কোলে উঠে পড়েছে।কেনো নিবিড় জিয়ানাকে এত সময় দিচ্ছে। কেনো এই মেয়েটার কান্নায় বুকে জ্বলুনি অনুভূত হচ্ছে? কেনো বারবার প্রমাণ করতে ইচ্ছা হয় এই মেয়ে তার প্রিয় মানুষের অংশ। কেনো এই মেয়ের উল্টা পাল্টা কথা আর কাজে সে প্রশ্রয় দিচ্ছে? কেনো চেয়ারম্যানের থেকে আগলে রাখতে চাচ্ছে? নাকি সূদুর ভবিষ্যতে নীলুফা ইয়াসমিনের সেই কথায় এখনো মন মস্তিস্ক জিয়ে রেখেছে।

বিশ বছর আগে ,
নিবিড় নীলুফার কোলে মাথা রেখে বলে,
-ফু-আম্মু আমাকে তোমার ছেলে হিসেবে লিখে নাও। আমার না তোমাকে শুধু আম্মু ডাকতে ইচ্ছা হয়। স্বপ্না আম্মুকে আম্মু ডাকতে ইচ্ছা হয় না।
-ছি সুখ! কতবার বলেছি স্বপ্না আম্মু না বলতে। শুধু আম্মু ডাকবে।আর আমি তোকে লিখে নিবো আমার মেয়েকে দিয়ে জামাই বানিয়ে। তখন আমি তোর শ্বাশুড়ি আম্মু হবো।
ফর্সা গোলগাল মুখশ্রীর বড় বড় ব্রাউন আইরিশের অধিকারী প্রচন্ড মায়ামায়া একজন নারী নীলুফা ইয়াসমিন। কাউকে কটু কথা তো পরে ,কাউকে না করতেও তার কন্ঠরোধ হয়ে আসে।নীলুফার কাছে পরিবারের সবচেয়ে প্রিয় সদস্য সুখনীল নিবিড়। সুখ নিজেও ফুপ্পির ন্যাওটা। তারকাছে মনে হয় ফুপ্পির চোখের একটা আলাদা জাদু আছে।কারো দিকে তাকিয়ে হেঁসে দিলে সে বশ হয়ে যাবে।
-তোমার তো মেয়ে এখনো হয়নি। হলেও এইটুকু পুচ্চকু হবে।এত ছোট বউ আমি নিবো না।
নীলুফা খিলখিলিয়ে হেঁসে উঠলো নিবিড়ের কথায়। গাল টেনে আদরে ভরে দিতো সারামুখ।
-না না। আমার মেয়ের জন্য এমন গোমড়ো মুখো বর আমিও নিবো না। একটুও হাঁসে না।
বলে কাতুকুতু দিলো আর নিবিড় হেঁসে কুটোকুটি হয়।

নিবিড় বর্তমানে ফিরে এলো নার্সের চিল্লানিতে। জিয়ানা উঠে দাঁড়িয়ে পড়েছে।নিবিড় হাতের বাহু ধরে আবার বসিয়ে দিলো।
-সমস্যা কি তোমার? পায়ের কি অবস্থা দেখেছো?
-সরুন সুখ। আমাকে এখনই বাসায় ফিরতে হবে। রেপি*ষ্টের একটা আলামত আছে ঘরে। এক্ষুনি যেতে হবে।বুঝতে পেরেছেন?
নিবিড় সুখেই আটকে আছে।জিয়ানার সামনে ঝুকে জিজ্ঞেস করলো

-কি নামে ডাকলে?সুখ?আর কখনো এই নামে ডাকবে না। মনে থাকবে?
-আপনার নিবিড় নাম আমার পছন্দ না। নিবিড় মানে কঠিন। মানুষের নাম কেনো এমন হবে। এরচেয়ে সুখ বেটার। সরে দাঁড়ান। নামতে দিন।আমার বসে থাকার সময় নেই। যতক্ষণ না প্রতিটা কু*ত্তার বাচ্চাকে ধরে ধরে পুরুষতন্ত্র কাটবো ততক্ষণ আমি জিয়ানা বসবো না। যতক্ষণ না প্রতিটা শু*য়রের বাচ্চাদের হাতের নখ উঠাবো ততক্ষণ আমি জিয়ানা দুইচোখের পাতা এক করবো না। আমার ফুলের মতো বোনের শরীর যারা অপবিত্র করেছে তাদের জীবন যদি জাহান্নাম না বানিয়ে দেই তবে আমার নামের অর্থ সফল না বদলিয়ে বিফল রাখবো।
বলে গটগট করে বের হয়ে গেলো। আর পেছনে নিবিড় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।

নিবিড়ের ফোন দিয়ে জিয়ানা বারবার চেষ্টা করলো আঞ্জুমান আর জিয়াউলের নাম্বারে। কিন্তু ফলাফল শূন্য। পরে বাধ্য হয়ে জুনায়েদকে ফোন দিয়ে হাউমাউ করে কেঁদেছে। জিয়ানা কাউকেই জানাতে চাচ্ছে না জেনির এই অবস্থার কথা।খুড়িয়ে খুড়িয়ে বাসার দরজা পর্যন্ত এলো। নিবিড় এখনো সাথেই। জিয়ানা তাকে বিশেষ পাত্তা দিচ্ছে না।
ঘরের দরজায় এসে জিয়ানার চোখে ভাসলো কিছুদিন আগের একটা ঘটনা,

জিয়ানা সদ্য গোসল থেকে বের হয়েছে আর জেনি খেতে বসেছে এমন সময় অনবরত কলিং বেল বাজতে থাকলে ,পিফোল দিয়ে দেখে দুধওয়ালা। তাই দুধের নির্দিষ্ট পাত্র দরজা একটু খোলে বাড়িয়ে দেয় আর নিজেকে দরজার আড়ালে রাখে। কারণ তার গায়ে কোন ওড়না ছিলো না।ঠিক তখনই জিয়াউল এসে হাজির হন। আর দরজা লাগিয়ে জেনিকে একটা থা*প্পড় মারে।হাত থেকে দুধের পাত্র ফ্লোরে পড়ে গড়াগড়ি খায়। জেনি মাথা নিচু করে টপটপ করে চোখের জল ফেলে।
জিয়ানা বারান্দা থেকে পুরাটা দেখে।একমেয়েকে সারা পৃথিবীর সামনে ছেলেদের মতো চলাচল করা শিখিয়েছেন আর অপর মেয়েকে লাজ লজ্জা ভদ্রতার আবেশে মুড়িয়ে রেখেছেন।

আজ জিয়াউল কি করবে? একটা সুতাও তো পায়নি জেনি নিজেকে আড়াল করতে। আজও মারবে? মরাকে কি আবার মারা যায়? আচ্ছা জেনির জায়গায় জিয়ানা থাকলে কি করতো? নিশ্চিত ফাইট করতো। কিন্তু জেনি অতি দূর্বল নারী প্রজাতি। সেকি চেষ্টা করেনি নিজেকে বাচানোর? তাদের পিতার এমন দ্বিচারিতা আচরণ কিসের জন্য ছিলো। কেনো জেনিকেও ট্রেনিং দিলো না?
কাচে ভরা ফ্লোরে এইবার খালি পা দিলো না।দরজার পাশে শোর‍্যাক থেকে স্যান্ডেল পরে নিলো ব্যান্ডেজ মোড়ানো পায়ে। নিবিড় আগেই ঢুকে গেছে।দেখছে পরিবার সহ বসবাসরত একটা বাসা কেমন হয়। কত কত দরকারী ,অদকারী জিনিস এদের থাকে এদের।কেমন অদ্ভুত ভালোলাগার পরিবার পরিবার ব্যপার ঘরময়।যদিও সব লণ্ডভণ্ড হয়ে আছে তবুও।

জিয়ানা আস্তেধীরে জেনির বেডরুমে গিয়ে বিছানার নিচে একটা হাতের চেইন টাইপ ব্রেসলেট দেখলো।জেনিকে উঠানোর সময় পায়ের কাছে এটা বেজে ছিলো। হাসপাতালে বসে বসে জিয়ানা নিজের মস্তিস্কে আপন মনে স্ক্যান করে গেছে ঘরের কোনাকুনি। তারপর নার্স পায়ে ড্রেসিং এর সময় তার হঠাৎ খেয়ালে আসে পায়ে কিছু একটা বেজেছিলো।
জিয়ানা উপুড় হয়ে দেখছে জিনিসটা।তখন নিবিড় এলো ঘরে। জিয়ানার কাছে এগিয়ে গিয়ে ব্রেসলেট টা দেখে একপ্রকার চমকপ্রদ হলো।
সাইড থেকে টিস্যু নিয়ে ব্রেসলেট হাতের স্পর্শ ছাড়া ধরে ওঠায়। ব্রেসলেটের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো ,

-এমন ব্রেসলেট আমি আপনার ক্লাবের বেশ কিছু ছেলেদের হাতে দেখেছি। তারমানে আপনারাই কালপিট?
এগিয়ে গিয়ে নিবিড়ের শার্টের কলার শক্ত করে ধরে ঝাকিয়ে আবার প্রশ্ন করলো ,
-বলুন? নিজের বন্ধুর হবু স্ত্রীর এত বড় সর্বনাশ করতে আপনাদের কলিজা কাপলো না? আমার সাথে যদি রাগ থাকে আমেকে যা ইচ্ছা করতেন।আমার নরম বোকাসোকা বোনটাকে কেনো আপনাদের শিকার হতে হলো? উত্তর দিচ্ছেন না কেনো? নির্লজ্জ ,জানোয়ার।
বলে নিবিড়কে কিল ঘুষি দেয়া শুরু করলো জিয়ানা। শক্ত মন আজ ছুটি নিয়েছে।জন্মগত নারী স্বত্বার জন্য চোখে ফোয়ারা ঝরছে।নিবিড় খেয়াল করলো এই মেয়ে কান্না করলে নাক ফুলে লাল হয়ে যায়। না জিয়ানাকে ছাড়ালো। আর না মার দিতেও বাঁধা দিলো। সেই অবস্থাতেই বিছনায় বসে পড়লো।জিয়ানা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হাতের উল্টা পৃষ্ঠা দিয়ে চোখ মুছে হাত বাড়িয়ে বলল,

-ওইটা আমার কাছে দেন।
-এটা সমুদ্রের। আমি একবার ইন্ডিয়া গিয়ে সবার জন্য আলাদা আলদা নামের খোদাই করা এমন বারোটা এনেছিলাম।
তারপর ব্রেসলেট ঘুরিয়ে নিচের দিকে ছোট্ট নামটা দেখালো।
জিয়ানা চোখমুখ শক্ত করে আওড়ালো
-সমুদ্র।
নিবিড়ের ফোন বেজে উঠলো তখনই।নিবিড় জিয়ানার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,

-তোমার আম্মুর কল।
-হ্যাঁ আম্মু। কোথায় তোমরা? আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে।
তারপর চুপ হয়ে শুধু শোনে গেলো।ফ্লোরে বসে পড়লো সেই অবস্থায়। নিবিড় জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
-আব্বুকে থানায় ধরে নিয়ে গেছে। আমাদের গরুর ফার্মের গরুকে নিষিদ্ধ হরমোনের ইঞ্জেকশন দেয়ার জন্য।সবগুলো গরুকে কোর্ট থেকে মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।হা হা হা কত্ত বড় নাটক সাজিয়েছেন আপনারা।ব্রাভো।
আর আম্মুকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্ত করেছে কলেজ থেকে। অভিযোগ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস।
ফ্লোরে বসে জিয়ানা পাগলের মতো হাঁসতে থাকলো। একনাগাড়ে হেঁসেই যাচ্ছে। সাথে গড়িয়ে পড়ছে চোখের জল।
আবার বলল,
-আম্মুকে তো বলতেই পারলাম না আমাদের আরও একটা বড় সর্বনাশ হয়ে গেছে।
নিবিড় উঠে হনহন করে বের হয়ে গেলো জিয়ানাদের লণ্ডভণ্ড বাসা থেকে।

স্যাতস্যাতে ফ্লোরের সিমেন্টের আস্তর ছাড়া শিকের একটা মাঝারি সাইজের কামরার একপাশে মামুন ইসলাম একটা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আছেন।পাশে আশরাফ দাঁড়িয়ে। সেই কামরার ঠিক মাঝ বরাবর ছাদ থেকে বাকানো একটা রডের সাথে বাঁধা দড়িতে ,একজন উল্টা ঝুলন্ত উদাম গতরের লোককে হাবিলদার মোটা লাঠি দিয়ে একাধারে প্রহার করে চলেছে। হাটু থেকে উরু থেতলে গিয়েছে যেনো।নাকমুখ দিয়ে রক্ত সহ লালা ঝড়ছে ঝুলন্ত ব্যাক্তিটির।চেতনাহীন কিংবা চেতনা আছে কিনা বুঝা যাচ্ছে না।
মামুন ইসলাম হাত উঠিয়ে থামতে বললেন। হাবিলদার থেমে লাঠিটা ফ্লোরে ছুড়ে মারলো। ঠনঠন শব্দে সেটা এককোণে গিয়ে পড়লো।
আশরাফ মামুন ইসলামের কানে কানে বলল

-স্যার নিবিড় আপনার অফিসে ঢুকেছে। গার্ডরা ঢুকতে নিষেধ করায় দুইজনকে মেরে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
মামুন ইসলাম দাঁড়িয়ে গেলেন। আর হাবিলদারকে ইশারা করলেন আজ এই পর্যন্তই।
একটা ভারি হকিষ্টিক দিয়ে মনের মাধুরি মিশিয়ে মামুন ইসলামের অফিস রুমের যাবতীয় ফার্নিচার আর দরকারী জিনিসপত্র ধ্বংস করে চুপচাপ কাউচে বসে আছে নিবিড়।যেনো নাদান শিশু। ধ্বংস বিধ্বংস এইসব ব্যাপার তার সাথে একেবারেই যায় না। মামুন ইসলাম হন্তদন্ত করে প্রবেশ করলো অফিস কক্ষে। পা রাখার জায়গা নেই। প্রতিটা ইঞ্চি লণ্ডভণ্ড করে ফেলেছে।এই যেনো বিধ্বংসী কালবোশেখী ঝড় বয়ে গেছে এখানে।
মামুন ইসলাম যেনো এইসব কিচ্ছু দেখলেন না। সরাসরি নিবিড়ের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো ,

-কি চাও?
-আপনার আসন।
-ইয়ার্কি হচ্ছে?
-না। ইয়ার্কি তো আপনি করেছেন এতদিন। এইবার আমি করবো।একসময় আমি ভাবতাম আপনার মতো হবো।কিন্তু আজ এখানে দাঁড়িয়ে কথা দিচ্ছি আপনি আমাকে দেখে আমার মতো হতে চাইবেন।কেড়ে নেয়া পুরুষের বৈশিষ্ট্য না।কাপুরুষরাই দূর্বলের উপর অত্যাচার করে নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শন করে। একজন দূর্বল নারীর সঙ্গম কেড়ে নেয়াকে একজন অসুস্থ বিকৃত মস্তিষ্কের লোকই কেবল করতে পারে।
-মুখ সামলিয়ে হ্যাঁ? এইসব তোমার কাজ নিবিড়। আমি কখনোই দূর্বল প্রাণীর সাথে লড়ি না।সেটা তোমার চেয়ে ভালো কে জানে?

-আচ্ছা? জিয়াউল হকের বড় মেয়ে জেনিকে সমুদ্র গ্যাং রে*প করেছে আপনার নির্দেশে। এটা মিথ্যা?
-নিবিড়!!! আগেই বলেছি রাজনীতির জন্য আমি যতই নিচে নামি না কেনো কখনোই দূর্বল নারী আমার টার্গেট না।এরা শুধু ঘরের শোপিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
-ঠিক আছে প্রমাণ দিন। সেদিন সমুদ্র নিজে আমাকে বলেছে জিয়ানাকে আপনার নির্দেশে কিডন্যাপ করেছে।
-সমুদ্রের সাথে আমার কোন যোগসূত্র নেই। ইউ ক্যান চেইক মাই কল লিষ্ট ওর সিসি ক্যামেরা। আর আমার কোন কাজ লুকিয়ে করতে হয় না।জিয়াউলের একটা শিক্ষা হওয়া উচিত ছিলো।বারবার সাবধান করার পরেও সে আমার পেছনে লেগেছে। আমাকে তুমি সব সময় শত্রু ভাবো অথচ যাদের বন্ধু ভাবো তাদের আসল রুপ দেখেও দেখো না।

নীতিহীন রাজ পর্ব ১৭

-আমাকে না কেউ যতক্ষণ শত্রু ভাবে ,আমিও তাকে ততক্ষণ শত্রু ভাবি না।
দুইজনের বাকবিতন্ডায় দরজায় নকের শব্দে মামুন ইসলাম কাম ইন বলে অনুমতি দিলেন।
আশরাফ তাড়াহুড়ো করে এসে মামুন ইসলাম কে বলল,
-ওসি হাবিব এসেছে।
-কেনো?
ওসি হাবিব ঢুকতে ঢুকতে বললেন ,
-সমুদ্র হত্যা মামলায় সুখনীল নিবিড় ইউ আর আন্ডার এরেষ্ট।

নীতিহীন রাজ পর্ব ১৯