Home নীতিহীন রাজ নীতিহীন রাজ পর্ব ১৯

নীতিহীন রাজ পর্ব ১৯

নীতিহীন রাজ পর্ব ১৯
আশিকা আক্তার সোহাগী

এই পৃথিবীতে যত দ্বন্দ্ব বিদ্বেষ যুদ্ধ বিগ্রহ কোনকিছুই কারোর বিরুদ্ধের জন্য হয়নি। হয়েছে ভালো আর জ্ঞানী মানুষদের চুপ করে থাকার জন্য।
হয়েছে সুশীলদের জন্য। হয়েছে সমাজের উচ্চপদস্থ লোকদের নিরবতার জন্য। কারণ ,যখন কোন অবক্ষয় ঘটে তারা যদি চুপ না থেকে আওয়াজ উঠাতো সমাজের এত এত ধস নামতো না।
আরেকশ্রেনীর ভন্ড নারীবাদী।নারীবাদী নামে ওপেনলি সিগারেট খাওয়াকে সম অধিকার মনে করে। প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে যায়।অথচ ধর্ষি*তার জন্য তাদের কখনো রাস্তায় নামতে দেখা যায়নি।গোটা জনা কয়েক মানুষ ছাড়া ধর্ষ*ণের বিরুদ্ধে কিংবা বাস্তবিক কোন পদক্ষেপ নিতে এখনো দেখা যায়নি।

সমাজ ,আইন সব আন্ধা ,অথর্ব। ধর্ষ*ণের পর লজ্জা ধর্ষি*তার। কিন্তু ধর্ষ*ক বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়। তাই তো অহরহ বাচ্চা বুড়ো জোয়ান সকল শ্রেণীর নারী হচ্ছে ধর্ষ*ণ।
কেটে গেছে নব্বই দিন।আবহাওয়ার রং বদলের সাথে সাথে বদল ঘটেছে অনেক কিছুর। খরস্রোতা নদীর মতো কোথাও ধস আবার কোথাও টিলা গড়ে উঠেছে।
জিয়াউল লাইফ টাইমের জন্য পায়ের সার হারিয়েছে।টানা আটচল্লিশ ঘন্টা পা ঝুলিয়ে ,প্রচুর প্রহারের জন্য মাংশপেশিতে পচনের কারণে অবশ হয়ে গেছে। হুইলচেয়ার তার এখন একমাত্র ভরসা। নিজেকে একেবারে রুম বন্ধী করে রাখেন সবসময়।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

অপরদিকে জেনি পনেরদিন পর সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে। কিন্তু পুরো এলাকায় ছড়িয়ে যায় তার রে*প হওয়ার কথা। সজীবের সাথে তার সবকিছুর ইতি ঘটেছে তখনই। জেনি নিজে থেকেই সরে এসেছে।সজীব বার কয়েক চেষ্টা করেছে। তারপর মাস দুয়েক পর মায়ের পছন্দিতা পাত্রীকে বিয়ে করে সুখে শান্তিতে বসবাস করছে।জেনি সোসাল সাইটে তাদের হেপি হেপি কাপল ফটো দেখে।তারপর মনে মনে মাশা-আল্লাহ বলে।তার দীর্ঘশ্বাস যেনো কারো উপর না পড়ে।

আঞ্জুমানের বরখাস্ত এখনো বহাল তাবিয়াতে আছে।তাকে এক বছরের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে।সাথে বেতন আসাও বন্ধ।গরুর ফার্ম বন্ধ। আঞ্জুমানের চাকরিও আপাতত বন্ধ।জুনায়েদ প্রতি সপ্তাহেই আসে। তবে খরচ কিচ্ছু দিতে পারে না।সে তার এক্স গার্লফেন্ডের উৎসাহে আবেগের ঠেলায় গুলশানে একটা একহাজার স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাট কিনেছে।সেটার ইন্টারেষ্ট মাসে প্রায় পঞ্চাশ হাজার। বেতন যা পায় সেটা থেকে ইন্টারেস্ট দিয়ে তারপর খেয়ে পড়ে তেমন কিছু থাকে না।এক্স বলার কারণ তার গার্লফ্রেন্ড তাকে ডিচ করেছে।কিন্তু লোন নেয়াই সেই কোম্পানি থেকে আর বের হতে পারছে না জুনায়েদ। একেই বলে প্রকৃত ছাগলের তিননাম্বার বাচ্চা।

জিয়ানার তিনটা প্রাইভেট দিয়ে কোনভাবেই চলছিলো না।ব্যাংকের কিছু জমানো টাকা দিয়ে জিয়াউল আর জেনির চিকিৎসা প্লাস ফার্মের মোটা এমাউন্টের জরিমানা দিয়ে সেটাও শূন্যে যখন ঠেকলো। তখন জিয়ানা দেখলো মধ্যবিত্ত পরিবারের আসল সংগ্রাম।সংসার নামের গ্লানি কতটা কঠিন। এতটাও কঠিন হতো না যদি না আঞ্জুমান তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতো।সেদিনের পর থেকে আঞ্জুমান আর জিয়ানার সাথে একটা সিঙ্গল কথাও বলেনি।প্রথম প্রথম জিয়ানা খুবই কষ্ট পেলেও পরে বুঝে নিয়েছে মা তাদের এই অবস্থার জন্য জিয়ানাকেই দ্বায়ী ভাবছে।তাদের হাঁসি খুশী সংসারের যেনো কালো রাহুরদশা চলছে।সে চলুক। খারাপ দিনের পর ভালোর সূর্য আসবেই। এই আশায় প্রতিনিয়ত মানুষ বাঁচে।তাই তো সবাই বলে ,

“মানুষ বাঁচে কিসে?”
“মানুষ বাঁচে আশায়।”
জিয়ানাও বেঁচে আছে সেই এক আশায়। কিন্তু আশার পিদিম জ্বলে আবার ফট করে নিভে যায়।যখন সে নিবিড়ের ক্লাবের সামনে দিয়ে যায়। জিয়ানার শরীরের ঠিক কোন জায়গায় একটা সূক্ষ্ম চিনিচিনে ব্যাথা হয় সে বুঝতে পারে না।তবে তার প্রচন্ড খালি খালি লাগে।যেটার কারণে নিজের চিল মস্তিস্ক আজকাল থিতিয়ে যায়। নিবিড় জেলে থাকায় তার ছেলেপেলেরাও তেমন একটা আড্ডা জমায় না।

এত এত খারাপের মাঝে একটা ভালোও হয়েছে।আঞ্জুমানের যে ভাই সারাজীবন তাদের দু-ছাই করে এসেছে।কিন্তু হঠাৎ তিনি একদিন একটা দলিল নিয়ে হাজির হলেন। আঞ্জুমানের নামে তাদের জেলা শহরে একটা জমি আছে। সেটা ফেরত দিতে তিনি স্বশরীরে হাজির হন।অতি আশ্চর্যের এর ঘটনা যেদিন ঘটলো সেদিন হঠাৎ করে আঞ্জুমান হাউমাউ করে কেদে ছিলেন অনেকক্ষন।সৃষ্টিকর্তা কখনো তার নেয়ামতের সবগুলা দরজা বন্ধ করেন না।সিজদায় অকুল হয়ে কান্না করে অশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রবের আরশে।সেই জমি আঞ্জুমান দিয়ে কি করবে তার দরকার টাকা।তাই জমির দলিলে আঞ্জুমান সাইনের পরিবর্তে পনের লাখ টাকা পান। এতেই এখন তাদের টুকটাক চলছে।

অপরদিকে শহরে চাঞ্চল্যকর দুটো গ্রুপের আবির্ভাব হয়েছে।খারাপটা আগে শোনা ভালো ।দশ থেকে পনের বছরের বাচ্চা মেয়ে নিখোঁজ হচ্ছে। এই তিনমাসে প্রায় ছয়টা মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে।
আর ভালো দিক হচ্ছে ‘Je Muzita ‘ নামের একটা অদ্ভুত টিমের আবির্ভাব হয়েছে।যারা পুরুষের বিশেষ অঙ্গ কেটে উল্টো ঝুলিয়ে রেখে দেয় শহরের যেকোন রাস্তার মোড়ে। আর লিখে দেয় “আমি একজন ধর্ষ*ক। আমাকে সবাই থুথু দেন।” নিচে ছোট করে লিখা থাকে “je Muzita”

শরীরের সাথে আটসাট ভাবে চিপকে লেগে আছে স্লিপলেস বাউজ। তার উপর শিফনের জর্জেট শাড়ি। লাল টকটকে ঠোঁট মহনীয় ভঙ্গিমায় হেঁসে হেঁসে এগিয়ে যাচ্ছে দুইজন যুবতী। সেদিকে লালসার দৃষ্টিতে তাকিয়ে ,ভেলভেট বিছানায় অর্ধভঙ্গিতে শোয়ে আছে গড় আয়ু ফুরিয়ে যাওয়া এক পুরুষ। একজন এগিয়ে এসে খুব কাছে ঘেঁষে বসে পড়লো এক পা কবরে চলে যাওয়া বৃদ্ধের কাছে। অপর রমনী ওয়াইন গ্লাসে টকটকে লাল তরল ঢেলে সংগোপনে ব্লাউজের নিচ থেকে একটা নেশার টেবলেট মিশিয়ে দিলো।
গ্লাসটা নিজের দিকে অল্প খাওয়ার ভান করে বয়স্ক পুরুষটির দিকে এগিয়ে দিলো। পুরুষটিও মন্ত্রপুতের ন্যায় হাত বাড়িয়ে নিয়ে অল্প একটু গলায় চালান করলো। কাছের রমনীটি যত্ন করে পুরো গ্লাস নিজ হাতে খাইয়ে দিলো।
ফ্ল্যাশব্যাক

জিয়ানা বাহিরে যতই চিল কিংবা কুল থাকার চেষ্টা করুক না কেনো। কোথাও যে সে নিজের মাঝে নেই সেটা জেনি লক্ষ্য করে। সারাক্ষণ নেচে-কুঁদে বেড়নো মেয়েটা হঠাৎ চুপসে গেছে তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত এক্সিডেন্টে। সেই ঘটনার পর থেকে তামান্নার সাথে জিয়ানার আর জেনির সংখ্যতা বেড়েছে।

কাছ থেকে কেউ খারাপ না আর দূর থেকে কেউ ভালো না।একটা মানুষকে বিচার করার আগে তার নিকটে আসা উচিত। দূর থেকে কারো পরিস্থিতি বিবেচনা করা যত সহজ। কাছ থেকে ঠিক ততই কঠিন।আপাতত দৃষ্টিতে যেটা সাদা পানি ,পারতো পক্ষে সেটা হতে পারে সর্বচ্চো ক্ষয়িষ্ণু এসিড। তামান্নার ব্যাপটা ঠিক তেমন। গরীব ঘরের সুন্দরী মেয়ে হওয়াই বিয়ে হয় টাকাওয়ালা এক বয়স্ক লোকের সাথে। একবছর সংসার করার পর জানতে পারে আগের পক্ষ্যে ছেলে মেয়ে সহ বউ আছে। রাগে দুঃখে নিজেই ডিভোর্স দেয়।
কিন্তু বাস্তবতা যে অনেক কঠিন। একা একটা মেয়ে অর্থ ছাড়া কিংবা পরিবার ছাড়া সার্ভাইব করতে পারে না।যে উকিলের মাধ্যমে সে ডিভোর্স দিয়েছে সেই উকিলই তাকে প্রস্তাব দেয় বিয়ের। স্ত্রী বিয়োগ উকিলের একটা ছেলে ছিলো।তাই তামান্না আর আপত্তি করেনি।কিন্তু অনেকটা বড় বয়সী সেই ছেলে কোনভাবেই তামান্নাকে মেনে নিতে পারেনি।দিন দিন তার উগ্রতা আর হিংস্রতা যখন বেড়েই যাচ্ছিলো তখন উকিল নিজেই তামান্নাকে কিছুদিন দূরে থাকতে বলে।দূরে থাকতে এসে সেই যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিলো আর সেটা ফিলাপ হয়নি।

তারপর দুইবছর টুকটাক মডেলিং করেই চলেছে।হঠাৎ সাবেক সাংসদ কালাম কাঞ্চন ইউনিভার্সিটির এক প্রোগ্রামে তামান্নাকে দেখে পছন্দ করে আর বিয়ের প্রস্তাব দেয়।তামান্না ততদিনে উৎসৃঙ্খল জীবনে দাপটের সাথে চলছে।কোন বাধা নেই। সামাজিকতার দ্বায় নেই।সে রাজা আপনা দুনিয়াই।তাই পুরোপুরি উচ্ছন্নে তার লাইফ।সেই অবস্থায় আবার বিয়ের প্রস্তাব পেয়ে,প্রায় সাথে সাথেই সাংসদ কালাম কাঞ্চনের বাগদত্তা হয়।ক্ষমতা আর প্রাচুর্যই তখন তামান্নার একমাত্র সুখ ছিলো।কিন্তু নিবিড়কে দেখলে মস্তিষ্কের কোথাও ক্ষীণ যন্ত্রণা অনুভূত হতো প্রতিনিয়ত। কড়া ব্যাক্তিত্ব আর স্পষ্টভাষী নিবিড়ের দিকে একপ্রকার তৃষ্ণার্ত চাতকের মতো চেয়ে থাকতো তামান্না।
একবার পার্টি অফিসের এক প্রোগ্রামে নিবিড়ের বাবার এসিস্ট্যান্ট আশরাফ তামান্নাকে প্রস্তাব দেয়। নিবিড়ের ক্লাবের রাত যাপনের জন্য।তামান্না সেদিন খুশীতে পেখম মেলে নেচেছিলো এই ভেবে যে ,নিবিড় নিজে প্রস্তাব দিয়েছে।কিন্তু সেদিন সে নিবিড়ের ব্যক্তিত্ব আর স্পষ্টভাষী স্বভাবের পরে জেনে ছিলো আরেক ভয়ানক দিক।নিবিড় নারী শরীর তীব্র ঘৃণা করে। প্রেম ভালোবাসা তো দূরের কথা সামান্য কামনাবাসনা হয় না তার নারী শরীরে প্রতি। বরং প্রথমে জিজ্ঞেস করবে,

-নিজ ইচ্ছায় এসেছেন?
যদি বলে হ্যাঁ। তবে তার খবর খতম। আর যদি বলে না তাকে এই পেশায় জোরপূর্বক আনা হয়েছে। কান্নাকাটি শুরু করে তবে তাকে নিবিড় নিজ প্রয়াসে ভালো জীবনে ফিরিয়ে দেয়।তবে শর্ত একটাই এই জেলা ছাড়তে হবে।
নিবিড়ের সাথে তামান্নার ক্ল্যাশ তেমন একটা হয়নি। নিবিড় জাষ্ট তামান্নাকে ব্যবহার করে কাঞ্চনের কাছে ফায়দা নিতো।এইজন্য তামান্নাকে ডেটও করেনি। এমন কি ক্লাবে এলে তাকে বাড়ি ফিরে যেতে বলতো।ফোনে কথা বলে কৌশলে নানা তথ্য সংগ্রহ করে রেজাউল সরকারের পক্ষে কাজ করেছিলো এবং পরবর্তীতে রেজাউল জয়ীও হয়। এইজন্য জেএনজির জিন্দাপীর খেত আরাফাত রহমান একটা কথা বলেছেন,

“রাজনীতি জটিল জিনিস। আপনি যেটা দেখতেছেন সেটা রাজনীতি না। আপনি যেটা দেখেন না সেটাই রাজনীতি। ”
তারপর নিবিড়ের সুবাধে সমুদ্রের সাথে সখ্যতা বাড়ে তামান্নার। আর তামান্না সমুদ্রের ভালো ব্যবহার আর যত্নে এইবার ভেবে নেই সত্যি সত্যি একজন আত্মার মানুষ পেয়েছে। কিন্তু না। কিছুদিন পর থেকেই সমুদ্রের আসল চেহারা প্রকাশ পেতে থাকে। নানা ক্লাবে অন্য পার্টির লোকদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।প্লাস তাদের সাথে নিরিবিলি ঘরে রেখে নিজে সরে পড়তো।কিছুদি থেকে সরাসরি বিভিন্ন রাজনৈতিক লোকদের খুশী করতে বললে ঘৃণায় নিজে থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় তামান্না।কিন্তু তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তে ভিডিও ক্লিপ দিয়ে ব্ল্যাকমেইল শুরু করে।

অন্যকোন উপায় না পেয়ে মৌসুমীর সাথে যোগাযোগ করে। সে যেনো তার স্বামীকে আটকায়। মৌসুমী সত্য না মিথ্যা যাচাই করার জন্য,তামান্নার কথা মতো সেদিন বোরকা পড়ে নির্দিষ্ট হোটেলে পৌঁছায়।সমুদ্র তাকে তামান্না ভেবে একপ্রকার হাত ধরে টেনে নিয়ে হোটেল রুমে নিয়ে যায়।এবং কোন প্রকার কথা ছাড়াই বাহির থেকে দরজা লক করে চলে আসে।সমুদ্র নিজের অজান্তে নিজের স্ত্রীকে পরপুরুষের কাছে লেলিয়ে দেয়। সেদিন মৌসুমী নিজেকে বাঁচাতে পারেনি।আর পারেনি নিজ স্বামীকে ক্ষমা করতে।
জেনির সাথে হওয়া অন্যায় তামান্না সহ্য করতে পারেনি। জিয়ানারা হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর সে মৌসুমীর সাথে যোগাযোগ করে। আর সমুদ্রের ফ্ল্যাটে গিয়ে দুইজনে মিলে প্রথমে প্রচন্ড নেশা করায়।এবং জেনির সাথে ঘটা ঘটনার কথা স্বীকার করায়। তারপর পানি ভর্তি বাথটাবে সমুদ্রে ডুবিয়ে রেখে চলে আসে।
মৌসুমী সহজ সরল মেয়ে থেকে এখন হয়ে গেছে একজন ধর্ষ*ক ঘাতক নারী।তামান্না ,মৌসুমী ,জেনি আর জিয়ানার টিম “je Muzita”

Je=জেনি
Mu=মৌসুমী
Zi=জিয়ানা
Ta=তামান্না
তামান্না আর জেনি স্ট্রেকহোল্ডার এই গ্রুপের।তারা সরাসরি স্বশরীরে কাজ করে। জিয়ানা আর মৌসুমীকে ক্রাইম করতে দেয় না। তারা দুইজন শুধু প্ল্যান করে।
সমুদ্র হত্যা মামলায় নিবিড় যে নির্দোষ সেটা এই চারজন খুব ভালো করেই জানে।
এবং একজন নারী অন্য নারীর হাবভাব খুব ভালো টের পায়।জিয়ানার পারিবারিক সমস্যায় যতটা না কাবু।তার চেয়ে বেশি কাবু কারো অনুপস্থিতিতে।

অপরদিকে জেনি অত্যন্ত স্বাভাবিক আচরণ করে। এমনকি সৃষ্টিকর্তার নিকট শুকরিয়াও আদায় করে।এমন দূর্ঘটনার শিকার না হলে ,সে এতটা কঠোর হতে পারতো না।সজীবের মতো ভেড়ার সাথেই সারাজীবন কাটাতে হতো। আর না ধর্ষকদের শাস্তি দেয়ার কথা চিন্তা করতে পারতো।
তামান্নারও জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা চলে আসছে।তাই নিজের জীবন মোটামুটি উৎসর্গ করেছে এই কাজে।
দুইদিন পর নিবিড়ের ফাইনাল রায় বের হবে।সবকিছু নিবিড়ের বিপক্ষে। জিয়ানার ভাষ্যমতে নিবিড়কে তার নিজ পিতা আর রেজাউল সরকার মিলে ফাসিয়েছে।ভেতরের খবর না জানলেও এটাই নিশ্চিত। কেনোনা আসামী পক্ষের উকির আর সাক্ষী খুবই দুর্বল। নামকা ওয়াস্তে শুধু হাজিরা দেয় আদালতে।
দুইদিন আগে মক্কুর সাথে জিয়ানার দেখা হয়। প্রায়ই মক্কু তাদের খোঁজখবর নিয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ মক্কুর কথায় জিয়ানার সন্দেহ হয়। কারণ তার মামার জমির বিনিময়ে টাকা দেয়ার কথা বাহিরের কেউ জানে না।কিন্তু মক্কু কিভাবে জানলো?

একটু খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, সেই জমি জাল দলিল করে অনেকবছর আগেই তাদের মামা বিক্রি করে বসে আছে।জিয়ানাদের পরিবারের উপর নিবিড় জেল থেকেও নজর রেখেছে।আর মক্কুকে দিয়ে তার মামার কাছে টাকা দিয়ে পাঠিয়েছে।
জিয়ানা ধাক্কার মতো খেয়েছিলো প্রথমে।তারপর তামান্নার কাছে শুনে বুঝতে পারে নিবিড়ের স্বভাবই এমন।যদি মনে হয় তার কারণে কেউ সাফার করছে ,সে গোপনে তাদের ছায়া হয়ে দাঁড়ায়।আর রাজনীতি থেকে সে কোন আর্ন করে না।নিবিড় ফাইভ স্টার পাওয়া ফ্রিল্যান্সার। কলেজ লাইফ থেকে তার তথ্যপ্রযুক্তির উপর আগ্রহ ছিলো।অনেকবছর থেকে সে দাপটের সাথে ফ্রিল্যান্সিং করে আসছে।অথচ নিজেকে মুড়িয়ে রাখে এক অন্য চরিত্রের চাদরে।
জিয়ানা তাই সিদ্ধান্ত নেয় ,যে ভাবেই হোক নিবিড়কে সাহায্য করবে।

কিন্তু লাষ্টবার আদালতে একপ্রকার প্রমাণ হয়ে গেছে নিবিড় দোষী।বাথটাবে নিবিড়ের হাতের ছাপ।দারোয়ান আর সবশেষে বদির সাক্ষী তে সবকিছুই নিবিড়ের বিপক্ষে। নিবিড়ের যদিও এতে কোন হেলদোল ছিলো না।সে দিব্বি চেয়ে চেয়ে সব শান্তভাবে দেখে গেছে।
কিন্তু অশান্ত ছিলো একজন। তার ছটফটানি বাহির থেকেই স্পষ্ট দেখা গেছে।একজন নির্দোষ অযথা শাস্তি পেতে পারে না নিশ্চয়ই। তাই জেনি আর তামান্না প্ল্যান করে রেজাউলের বাংলোতে কল গার্ল সেজে যাবে। প্রথমে অনেক নেশা করাবে তারপর পেট থেকে কথা বের করবে।কিন্তু বিপত্তি বাদে জেনির প্রচন্ড জ্বর চলে আসায়। আর তার জায়গায় জিয়ানাকে আসতে হয়।

বর্তমান। জেনি ,জিয়ানা আর তামান্না মিলে ভার্সিটির কাছে একটা ছোট্ট ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছে।তাদের কাজের সুবিধার্থে নিলেও সবাই জানে ভার্সিটির কাছাকাছি থাকার জন্য নিয়েছে।তাছাড়া গ্রুপ স্টার্ডির ব্যাপার আছে।
জিয়ানা শরীর থেকে একটানে পাতলা শাড়িটা খুলে বিছানায় ছুড়ে দিলো। ব্লাউজের হুক ধরে এদিক সেদিক টানাটানি করতে করতে কটমট করে জেনির দিকে তাকিয়ে বলে ,
-এমন কোলবালিশের কভারের মতো আটসাট জিনিস তোমাদের কে পড়তে বলেছে? আমার দম বন্ধ হওয়ার যোগার। অসহ্য বাতেলা নাখড়া কাপড়চোপড় সব।
তারপর তামান্নার দিকে তাকিয়ে আরও বলে,

-এ্যাই তুমি এমন চিজ সবসময় কেমতে পড়ো?নিশ্বাসই বা ইজিলি নাও কেমতে?
-ফ্যাশন একটু কষ্টকর। অভ্যাস হয়ে গেলে আর সমস্যা হয় না।
তামান্না শাড়ি আনপিন করতে করতে উত্তর দেয়।
-নো। ফ্যাশন হবে কমফোর্টেবল। যেটা স্বস্তিদায়ক। ফ্যাশন ডিজাইনাদের প্রথম প্রায়োরিটি থাকে কোয়ালিটিফুল ফেব্রিকসের উপর।
এথনিক ,ইন্টেলেকচুয়াল লুক,জাঙ্ক জুয়েলারি , স্টাইলিং , ড্রেসাপ কত যে এদের ব্যাপার স্যাপার জিয়ানা ভেবে কুল পায় না। মাঝেমধ্যে জিয়াউরলের উপর সে কৃতজ্ঞবোধ করে খুব। যেখানে শার্ট ,প্যান্ট আর টি শ্যার্টেই সব খতম হয়ে যায় ,সেখানে কেন এত বাড়াবাড়ি।
জেনি অর্ধশোয়া হয়ে বসে জিজ্ঞেস করলো ,

-কাজ হলো কিনা সেটা বল। সব আজাইরা প্যাচাল সাইডে রাখ।
জিয়ানা হতাশ ধপ করে জেনির পাশে শুয়ে পড়লো।তামান্না বলে উঠলো ,
-তেমন কোন ক্লো বা প্রমাণ পাইনি।
-বেটা মদন নেশার ঘোরে নাক ডেকেই কুল পায় না ,কথা বলিবে কোনসুমা?
জিয়ানা বলে জেনিকে জড়িয়ে ধরলো।এখনো শরীর বেশ গরম তার।জিয়ানার কাছে এখন আঞ্জুমানের চেয়ে জেনিকে মা মা বেশি লাগে।মাত্র তিনবছরের গ্যাপ তাদের। তারপরও সব সবসময় জিয়ানাকে আগলিয়ে রাখে। জেনি একহাত দিয়ে জিয়ানার মুখের চুল সরিয়ে বলে উঠলো ,
-তোকে আজ হুড়পরীর চেয়ে কিছু কম লাগেনি জিয়ু।কি সুন্দর তুই। অথচ কিভাবে থাকিস? আব্বু এখন আর কিছু বলবে না তুই নরমালি চলবি।

-এইভাবেই আমি নরমাল। অভ্যাস চাইলেই পাল্টানো যায় না।সময়ের প্রয়োজন।
তামান্না বাথরুমে ঢুকতে ঢুকিতে বলে,
-শ্বশুড়ঘরে গিয়ে ঠিকই অভ্যাস বদলে যাবে কারণ ঠেলার নাম বাবাজি।
জেনি জিজ্ঞেস করলো ,
-এখন কি করবি? আর তো কোন ওয়ে দেখছি না।
-আছে আছে। লাষ্ট একটাই ওয়ে আছে।
-কি সেটা?
-নিজের নাক কেটে অপরের রথযাত্রা ভঙ্গ।
-মানে?

নীতিহীন রাজ পর্ব ১৮

উত্তরে জিয়ানা মুচকি হাঁসলো।মনে মনে ভাবলো ,-কাবলিওয়ালা। জিয়ানা কারো ঋণ রাখে না।আপনি আড়ালে থেকে সাহায্য করেন ,আর আমি সবার সামনে দাঁড়িয়ে। দেখা হচ্ছে কাল।
তামান্না বাথরুম থেকে বের হলে জিয়ানা যেতে যেতে গাইলো,
“আঁকা বাঁকা কে কে
আমি না ,তুমি না
এ্যা এ্যা…..

নীতিহীন রাজ পর্ব ২০