নীতিহীন রাজ পর্ব ৩৫
আশিকা আক্তার সোহাগী
“অপরাধীকে ক্ষমা করা সৃষ্টিকর্তার দায়িত্ব। আর তাদেরকে সৃষ্টিকর্তার কাছে পাঠানো আমার দায়িত্ব ” কথাটা ভ্লাদিমির পুতিনের হলেও এটাই নীতি “je mujita ” গ্রুপের। তারা এই যাবতকালে সাতজন অপরাধীকে শাস্তি দিয়েছে।একজন ধর্ষক শাস্তি পেলে কিছুদিন সেটা নিয়ে খুব হৈচৈ হয়। কিন্তু কিছুদিন পর আবার সেই একই অবস্থা। যেই লাউ সেই কদু।
তাই তাদের টার্গেট ছিলো সমাজের উচ্চপর্যায়ের কেউ। যাকে শাস্তি দিলে গোটা দেশ কেপে উঠবে।কিন্তু সেইভাবে টার্গেট পাচ্ছিলো না।
কল গার্ল হিসেবে বিভিন্ন পল্লিতে গিয়ে মাসিদের সাথে খাতির গড়েছে তামান্না।এবং একজনের সাথে কথায় কথায় জানতে পারে সে বড় বড় লোকদের মেয়ে দেন।এরমাঝে রাজনৈতিক ব্যাক্তিই বেশি।আর বড়লোকেরা মেয়ে নিয়ে ঘুরতে যায়।উনি সে ভাবেই ব্যবস্থা করে দেন।তবে একটা বেফাঁস কথাও মহিলা বলে ফেলেন,”সংসদ রেজাউল সরকার প্রায় মেয়ে নেন।উনার ডিমান্ড আবার হাই।ভার্জিন অল্পবয়সী মেয়ে লাগে তার।এমনও হয়েছে অতিরিক্ত পাশবিক নির্যাতনের ফলে দুই তিনটা মেয়ে মারাও গেছে।ওইসব মিটমাট উনারাই করেন।”
শিউরে উঠেছিলো তামান্না। কি পরিমাণ হিংস্র আর ব্রুটালিটি এদের মাঝে আছে!অথচ এরা দেশ চালায়।ঘৃণাও ঘৃণা করে এদের। ছিঃ।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
তো সেই মাসিকে বলে এসেছিলো তামান্না ,অল্প বয়সী মেয়ে তার কাছেও আছে।লাগলে জানাতে।আজ হঠাৎ করে সেই মাসি ফোন দিয়ে মেয়ে চাইলে ,তামান্না জানায় মেয়ে নিয়ে সে পৌঁছে যাবে।
তামান্না নরমাল ভাবেই সাজে কিন্তু জেনিকে দুইবেনি করে স্কুলের মেয়েদের মতো মেকাপ আর কস্টিউমস পড়ায়।গলায় একটা রুপার চেইন আর তাতে দুইটা মাদুলি ঝুলানো। একটা মাদুলিতে গোপন ক্যামেরা সেটআপ করা।
হাইট কম হওয়াই জেনিকে সত্যিই ষোল সতের বছরের মেয়ে দেখতে লাগছে।ফাইনাল চেকাপের সময় তামান্না আটকে বলল,
-সব ঠিকঠাক আছে না? ওদের কাছে উচ্চ সংবেদনশীল হ্যান্ড সিকিউরিটি বডি স্ক্যানার আছে।যখন চেইক করবে দুইহাত সোজা রাখবা।
জেনি তামান্নাকে জড়িয়ে ধরে।তামান্নার রুপ সব মেয়েই চাইবে কিন্তু তার এই জীবন কেউ চাইবে না।তার বর্তমান হাজবেন্ডের পারিবারিক সহায়সম্পদের কানাকড়িও তামান্নাকে দেয়নি।আগের ঘরের ছেলেমেয়েদের সব বন্টন করে দিয়েছে।এমন কি তামান্না যে গাড়ি দিয়ে চলাচল করতো সেটাও নিয়ে নিয়েছে।
তামান্নার বর্তমান সম্পদ বলতে আড়ালে আবডালে কিছু লুকিয়ে রাখা জুয়েলারি।সেগুলো বিক্রি করে হইতো কিছুদিন চলতে পারবে।
জনমুখে একটা কথা আছে” অতি বড় ঘরণী পায় না ঘর,অতি বড় সুন্দরী পায় না বর”
এই কথাটা যেনো তামান্নার জন্যই প্রযোজ্য। তবুও ইদানীং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার আশা করে।পরিবারহীন , সহায়সম্বলহীন জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিন পাড় করা মেয়েটা এখন বাঁচতে চায় সমাজ সেবা করে।আগলে রাখতে চায় আত্মার সম্পর্কে সম্পর্কিত কিছু মানুষকে।
দুইজন দুইজনকে আবার ভালো ভাবে চেইক করে ,তারপর দুইজনই বের হয়ে যায় জীবনের সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধের উদ্দেশ্যে।
পানতাই হাসপাতাল কুয়ালালামপুর ,মালেশিয়াস্থানীয় সময় রাত দুইটা আর বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা।মেহেদী হাসান অপেক্ষায় একজন বাংলাদেশী ডাক্তারের। যিনি কর্মরত আছেন এই হাসপালে বহুদিন থেকে।
আজ প্রায় এক সপ্তাহ থেকে মেহেদী উনার জন্য অপেক্ষা করছে।হার্ড সিডিউলের জন্য উনি একদম ফাঁকা নেই। আজ মেহেদী ভেবেছে সারারাত বসে থাকবে তবুও দেখা না করে এখান থেকে যাবে না।
রাত দুইটাই ভাগ্য সহায় হলো মেহেদীর।ডাক্তার কালাম এহসান সরাসরি ওটি থেকে বের হয়ে মেহেদীর সাথে দেখে করতে এলেন ওয়েটিং রুমে।
মেহেদী কোন বনিতায় গেলো না।ডাক্তার প্লাস নিজের সময়েরও দাম আছে। এই গভীর রাতে কারো মন মেজাজ ভালো থাকে না।যদিও ভদ্রলোক চমৎকার হাঁসি মুখে কথা বলছেন।মেহেদী নিজের পরিচয় দিয়ে বলল,
-স্যার আমি আসলে আমার বাবার ট্রিটমেন্ট রেকর্ডটার কপি নেয়ার জন্য এসেছি।অবশ্য এটা একটু যন্ত্রণাদায়ক হবে। কজ টুয়েন্টি ইয়ারস হ্যাভ পাষ্ট অলরেডি।
-ওয়েট আ মিনিট।খুব বেশি যন্ত্রণার না এই সফটওয়্যারের যুগে।
বলে উনি উনার পিএ কে কল করে ভেতরে আসতে বললেন। পিএ এলো হাতে বড় একটা ট্যাব নিয়ে। ডাক্তার তাকে মলয় ভাষায় কিছু নির্দেশনা দিলেন। পিএ নিজেও ট্যাব খুলে ডাক্তারের কথা অনুযায়ী কিসব চেইক করলেন। তারপর ডাক্তার মেহেদীর দিকে ঘুরে বলল,
-আমরা আসলে দুইবারের বেশি রেকর্ড দিতে পারি না।অথরিটির নিজস্ব কিছু রুল রেগুলেশন আছে। একবার পেসেন্টের সাথে সকল টেস্ট ফাইল সহ যাবতীয় রেকর্ড দিয়ে দেয়া হয়।তারপর কখনো যদি ইমার্জেন্সিতে ট্রিটমেন্টের জন্য লাগে সেই হিসেবে আর একবার দেয়া হয়।ওইটা হারিয়ে গেলে নেক্সট আর দেয়া হয় না।কসমেটিক সার্জারী আর প্লাস্টিক সার্জারীর ক্ষেত্রে পুলিশি ভেরিফিকেশিনের একটা ব্যাপার থাকে। নানা সেইফটির জন্য তৃতীয়বার দেয়ার অনুমতি নেই। দুঃখীত।
বলে উঠে পরলেন ডাক্তার।মেহেদীও দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো ,
-দ্বিতীয় বার উঠানো হয়েছে এটা আসলে আমি জানতাম না।এমনকি বাসা থেকে ট্রিটমেন্ট এর কথা শুনে ভেবেছিলাম যেহেতু মালেশিয়াই এসেইছি তাই রিপোর্ট গুলো নিয়ে যাই। আপনার সময় নষ্ট করার জন্য দুঃখীত। এট দ্যা সেইম টাইম আই এম ভেরি এম্ব্যারাসড স্যার।
-ইটস ওকে ইয়াং ম্যান।রেকর্ড অনুযায়ী আপনার কোন ভাই বছর তিনেক আগে এসে সকল রেকর্ডের সফট কপি নিয়ে গিয়েছে।আপনার পিতার ট্রিটমেন্টের জন্যই আবেদন করেছিলো।পরে সেটা ইন্ডিয়াতে করবে বলে আমাদের কাছে অনেক অনুরোধ প্লাস পুলিশি ভেরিফিকেশিন দেখিয়ে নিয়ে যায়।
মেহেদী বের হয় হাসপাতাল থেকে। কেউ তো তার আগে আগে চলছে। মেহেদী 2G তে স্লো আগাচ্ছে আর অন্যকেউ 5G তে সুপার ফাষ্ট। ছেলে পরিচয়ে এসেছে তাহলে নিশ্চয় রাফিন নাহলে নিবিড়।
রাতের নিকষকালো অন্ধকার জানান দিচ্ছে তার তীব্রতা সর্বোচ্চ। এবং একই সাথে এরপর থেকেই ক্ষয় হতে শুরু করবে সেই অন্ধকার।তীব্র কষ্টের পরে প্রশান্তিকর সুখের মতো দিনের আলো উঁকিঝুঁকি মারবে অরুণের আগমনের ফলে।সকল অন্ধকার দূরীভূত হয়ে আসবে স্বস্তির রশ্মি।কিন্তু কারো জীবনে এই রশ্মী দেখার ভাগ্য হবে না।কেউ কেউ জানবে না নতুন সূর্য উদিত হয়েছে ধরণীতে।কারো কারো জীবন পেন্ডুলাম থেমে গেছে তিমিরে অন্ধকারেই।
নিবিড় তার অসম্পূর্ণ নকশাটাই হাত দিয়েছে বহুদিন পর।জিয়ানা এই নকশাটা খুজতেই এসেছিলো এই সিক্রেট রুমে।মেয়েটা নিবিড়ের চিন্তার চেয়ে বুদ্ধিমতী। তবে বেশি কঠিন বুদ্ধি হওয়াই সহজ জিনিস চোখে পড়েনি।বর্ষপঞ্জিকার মতো টানানো ছিলো নকশাটা।কমপ্লিট করে সবার প্রথমে জিয়ানাকেই দিবে।
ওয়ান/থার্ড বাকি আছে শুধু। তাহলেই শেষ হবে।কিন্তু নানা ব্যস্ততায় হাতও দিতে পারে না।সম্পুর্ন মনোযোগ যখন স্ক্যাচিংয়ে ঘরকাপিয়ে ভাইব্রেট করে ফোনে কল এলো।রাতের শেষ প্রহর চলে ,তাই এই সময়ে ফোন গুলো কখনই সুখকর হয় না ।ইমার্জেন্সি কল হবে ভেবেই ফোন রিসিভ করে।এবং চেহারা থমথমে হয়ে গেলো পরমুহূর্তেই। ফোন রেখে ঘড়ঘড় করতে করতে অনমনীয় মই এককোনা থেকে টান দিয়ে এনে দেয়ালে হেলান দেয়ায়। তারপর সেটা বেয়ে উপরে উঠে লোহার দরজার খুলে বের হয়ে আসে সিক্রেট রুম থেকে ক্লাবের রুমটাতে।উপর থেকে বুঝা যায় না এটা একটা লোহার দরজা। কারণ ফ্লোরে সেইম সেইপের টাইলস লাগানো। খোলার জন্য বৃদ্ধা আঙুল দিয়ে দুইবার চাপ দিলে অল্প সরে যায়। সেখানে নিবিড়ের ফিঙ্গার প্রিন্ট লক লাগানো।
সকাল হয়ে এলো অথচ এক একটা এখনো আড্ডা মেরে যাচ্ছে দেখে নিবিড়ের মেজাজ সপ্তম আকাশে উঠলো।গর্জে বলে উঠলো ,
-এখনো আড্ডা মারা হচ্ছে? এ্যাঁ?পা*ছায় ক্যাক করে লা*ত্থি মা*রবো সব আড্ডা ছুটে যাবে নালায়েকের দল।
আকাশকে কনুই দিয়ে খুচা মেরে সজল ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করে,
-ভাই! ক্যাক করে কেমনে লা*ত্থি মারে?
আকাশ দাঁড়িয়ে পা দিয়ে একটা লা*ত্থি দিয়ে বলে ,
-এমনে।এই যে লা*ত্থি খাইয়া তুই ক্যাক করে উঠলি এটাই ক্যাক করে মা*রা। বুঝলি?
নিবিড় এগিয়ে এসে আকাশের মাথায় চাট্টি মেরে একসাইডে ডেকে এনে বলে ,
-তুই আর রনি পিকাপ নিয়ে হুইপের বাংলোতে যাবি।একটা মেয়ের লাশ দিবে সেটা নিয়ে রেললাইনে ফেলে আসবি আলো ফুটার আগে। আর হ্যাঁ বোতামের ক্যামেরায় সব রেকর্ড করবি।মাস্ক পড়ে থাকবি দুইজনই।
নিবিড়ের বলতে দেরি আকাশের দৌঁড়াতে দেরি নাই।আলো ফুটে যাবে যেকোন মুহূর্তেই।
পাশ ফিরে দেখে মক্কু নেশায় টাল হয়ে কাত হয়ে শুয়ে আছে। নিবিড় পা দিয়ে ঠেলে সম্পুর্ন ফেলে দিলো ফ্লোরে।তারপর ডেকে জিজ্ঞেস করে ,
-এই যে কচুবনের কালাচাঁদ।খুব তো বউ বউ করলি। ঠিকই তো বউ ছেড়ে ক্লাবে এসে হারাম গিলেছিস।
মক্কুর ফ্লোরে পড়ে ঘুম ছুটে যায়।ধরফরিয়ে উঠে জিজ্ঞেস করে ,
-জেনি চলে আসছে?
চোখ মেলে নিবিড়কে আর আশেপাশে তাকিয়ে দেখে হতাশ হয়ে ফ্লোরে মাথা ঠেকিয়ে আবার বলে,
-ভাই আপনাকে চ্যালেঞ্জ করা ভুল হয়ছে।আপনার অভিশাপ লাগছে আমার।হুদাই কইছিলাম বাসর করে বাচ্চা অর্ডার দিয়ে তবেই ক্লাবে আসবো।কিন্তু আমি বাচ্চা তো দূরে থাক এপসই ডাওনলোড করতে পারি নাই।
নিবিড় কড়া গলায় শাসিয়ে বলে,
-কয় পেগ খাইছিস হারামজাদা? কোম্পানি কা মা দরিয়া মে ঢাল ,তাই না? মাগনা পেয়ে ঠুসে ঠুসে ভরিস। আজকের পর থেকে ফ্রি সব বন্ধ।তোকে আজ দুই সপ্তাহ থেকে ওয়েব ডিজাইনের কাজ দিয়ে রাখছি। করেছিস? লা*ত্থি দিয়ে বের করে দিলে বউ নিয়ে স্বপ্ন দেখা বের হবে।বাসায় যা কুইক।
-ভাই আমরা না ভায়রা-ভাই? পাখির মধ্যে পায়রা ,মানুষের মধ্যে ভায়রা। তাছাড়া সম্পর্কে বড়ও আমি। লা*ত্থির জায়গায় চ*ড় দিয়েন।মানসম্মান কম যাবে।
নিবিড় তেড়ে গেলো মারতে। তবে কাছে গিয়ে হাতে ক্লাবের ভেতরে রুমের চাবি দিয়ে বলে,
-রেষ্ট নিয়ে ফ্রেশ টেশ হয়ে যাবি।জেনি সংসারী মেয়ে এইসব ছাই পাস খেলে তোকে ওষ্ঠা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিবে।আজকের পর থেকে তোর জন্য নিষিদ্ধ সব।মনে থাকবে?
মক্কু বাধ্য বালকের মতো মাথা নাড়ে “মনে থাকবে ”
নিবিড় হেটে হেটে বাজারের দিকে যায়। সকালের নাস্তা নিয়ে বাসায় যাবে একেবারে। হাটতে হাটতে হিসেব করে আপনা পাপের ঝুড়ির পরিমাপ।অর্থ-করি ,নারী সবই দিয়ে পালা হয় এই সব রাজনৈতিক নেতাদের।আহা ক্ষমতা। ক্ষমতা আকড়ে ধরা মানুষ গুলাকে দিন রাত পবিত্র জলে ডুবিয়ে রাখলেও একটা দিনের জন্য সহীহ পাওয়া যাবে না একজনকেও। যারা জড়াতে চায় না নোংরামিতে তাদেরকে কালার করা হয়।আর ধীরেধীরে ছেটে ফেলা হয় দল থেকে। জ্ঞানী মানুষের কদর এইদেশে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর ল্যাবেই করা হয়।মূর্খ আর ক্ষমতা লোভীরাই দেশ চালাই।জ্ঞানী গুলাও কাইন্ড অফ পাপী। তাদের প্রধান উদ্দেশ্যই থাকে দেশ ছেড়ে ফাষ্ট ওয়ার্ল্ডে পালানো।তাদের দেশপ্রেম একেবারেই শূন্যের কোঠায়।
তাই রেদোয়ান মাসুদ বলেছেন “যে দেশে দেশপ্রেমিকের চেয়ে জ্ঞানীগুণী বেশি জন্মায় সে দেশে শান্তির চেয়ে অশান্তিই বেশি থাকে।”
প্রভাত শুরু হয়েছে বেশ কিছুক্ষণ আগেই।পাখিরা ডেকে ডেকে ফিরে গেছে নিজ কর্মে।কাকেরা ডাষ্টবিন-মল থেকে শপিং শেষে বৈদ্যুতিক তারের রেস্টুরেন্টে বসে আহারে ব্যস্ত।
সেই তারের নিচ দিয়ে হেটে নিবিড় তার ফ্ল্যাটে ফিরে।দরজা খুলে খাবার গুলা রান্নাঘরে রেখে আসে।তারপর সেখান থেকে সোজা বেডরুমে ঢুকে যায়।কিন্তু উচ্চ শব্দের তরঙ্গে ছিটকে বের হয়ে এলো রুম থেকে। শব্দের উৎস জিয়ানা নিজে।নিবিড়কে দেখে ৫০ডেসিবলের চিৎকার দিয়েছে বলে মনে হলো। নিবিড়ের কানে ঝিঝি লেগে গেছে।
কুংফু হাস্টেল মুভির দ্যা ল্যান্ডলেডির গলার মতো মনে হলো জিয়ানার গলার পাওয়ার।কানে আঙুল ঢুকিয়ে ঝাকি দিয়ে আবার রুমে ঢুকে দেখে জিয়ানা নিবিড়ের টাওজার আর কালো পলো ট্রি-শার্ট পড়ে বুকে হাটু মুড়িয়ে বসে আছে।নিবিড়ের ব্রু কুঁচকে তাকানো দেখে জিয়ানা আবার চিল্লিয়ে বলে,
-বের হোন রুম থেকে। নক করে রুমে আসতে হয় এই টুকু ম্যানার্স জানেন না আপনি ভন্ড লোক?
-আবার রুমে ঢুকতে আমাকেই অনুমতি নিতে হবে? তুমি কার অনুমতি তে আমার পোশাকে হাত দিয়েছো? আর এইভাবে বসে আছো কেনো?
-এ্যাই আপনি আগে বের হোন রুম থেকে। আমার ভেতরে ইনার নেই।
নিবিড় শুকনো কাশি দিয়ে মুচকি হেঁসে জিজ্ঞেস করলো ,
-ইনার কি?
-ইনার আপনার মাথা।আমার কাপড় চোপড় সব ভেজা গোসল করে ধোঁয়ে দিয়েছি।এখন এক কাজ করুন আমার জন্য কিছু ড্রেস কিনে আনুন জান।
-তোমার হুকুমের গোলাম আমি? তাছাড়া এত সকালে কোন শপই খোলা নাই।
-ঠিক আছে তাহলে আপনার পড়া আন্ডারওয়্যার টা খুলে দিন।নিজের কাছেই নিম্নভাগ ভূমধ্যসাগরীয় তলদেশ
মনে হচ্ছে।
-রাভিশ।মুখে কিছু আটকায় না তোমার না?
-সত্যি বলতে লজ্জা কি?
-তোমার চেহারায় লজ্জা আর ভয় দেখার ইচ্ছা আমার।
বলে জিয়ানাকে ডিঙিয়ে কাবার্ড খুলে কাপড় চোপড় নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকতে ঢুকতে আবার বলে,
-পরোটা সবজি ছাড়া এই সকালে আর কিছু পাওয়া যায়নি। রান্নাঘরে আছে খেয়ে নাও।
নিবিড় বাথরুমে ঢুকার সাথে সাথে জিয়ানা উঠে দাঁড়ালো। নিবিড়ের শার্ট আর টাওজারে তাকে কাকতারুয়ার লাগছে। কিন্তু ড্রেস গুলা কম্ফি বেশ।নিশ্চয় ভালো জায়গা থেকে কেনা।
খাবার খাওয়া প্রায় শেষ। শেষ অংশ মুখে আটকে গেলো নিবিড়ের গর্জনে। পাশ থেকে কুশন নিয়ে বুকের মাঝে একহাতে আগলিয়ে ঘাড় কাত করে তাকায় জিয়ানা।নিবিড় কোমরের নিম্নাঞ্চল টাওয়াল পেচিয়ে বের হয়ে এসেছে।উর্ধ্বস্তর উন্মুক্ত। ঘাড় আর দুই বাহুতে বিন্দু বিন্দু পানির ফোটা চিকচিক করছে।বুকের পাতলা পশম ভিজে লেপ্টে আছে শরীরের সাথে।লম্বা চুল ভেজার কারণে আরও লম্বা লাগছে।জিয়ানার চোয়াল ঝুলে অল্প হা হয়ে গেলো। মনে মনে বলে “কে বলে এই দেশের ছেলেদের জেনেটিক্স ভালো না।এই ভন্ড নেতাকে দেখলে যে কেউ তার ধারণা বদলাবে”
নিজের চিন্তা না আবার নিবিড় ধরে ফেলে তাই আলগোছে ঘাড় আবার ঘুরিয়ে খাবারে মনোযোগ দিলো।
জিয়ানার ভাবান্তর না দেখে নিবিড় ধপধপ করে জিয়ানার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে হাতের আন্ডারওয়্যার মেলে ধরে জিজ্ঞেস করলো ,
-এগুলা কি করেছো?
-দরজা জানালা বানিয়ে দিয়েছি।হাওয়া বাতাস চলাচলের জন্য উপযুক্ত সিস্টেম।
চমৎকার হেঁসে জাবাব দেয় জিয়ানা।
-আচ্ছা তাহলে এখনই পড়ছি। তুমি রিভিউ দিয়ো সিস্টেম কেমন কাজ করছে? ঠিক আছে?
বলে আন্ডারওয়্যার জিয়ানার সামনে পড়া শুরু করলো। আর জিয়ানা নিজের বাম হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে চিল্লিয়ে উঠে বলে ,
-আরেহ আরেহ। করছেন টা কি? এইটা পড়লে আপনার পুটু দেখা যাবে।রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে পড়ুন যান। একটা টাওজারের উপর দিয়ে লাল চাড্ডি পড়ুন। দেখবেন নিজেকে সুপারম্যান লাগছে।
নিবিড় চট করে জিয়ানার হাত চোখ থেকে ছাড়িয়ে বলে ,
-আজ সারাদিন তোমার সামনে এটা পড়ে ঘুরঘুর করবো।সাতটা ধরেই নষ্ট করেছো। তোমার মাথায় কি শয়তানের কারখানা? ফাজিল মেয়ে কোথাকার।
হাত ধরায় জিয়ানার বুকের সামনে থেকে কুশন পড়ে যায়। নিবিড় এবার হাত ছেড়ে উল্টা ঘুরে রাগে গজগজ করতে করতে রুমে ঢুকে ঠাস করে শব্দ করে দরজা আটকিয়ে দেয়।
জিয়ানা হাক ছেড়ে বলে ,
-আরেহ ভেতরেই তো থাকবে কে দেখবে? পড়ুন পড়ুন। আরাম লাগবে। মনে মনে আমাকে ঠিকই ধন্যবাদ দিবেন।
বলে নিরবে শব্দহীন হেঁসে মনে মনে ভাবে”বাছাধন ঠিক তিনদিনেই তুমি নিজেই আমাকে বাসা থেকে বের করে দিবে।আগে দেখিয়ে কিয়া কিয়া হোতাহে?”
প্রভাতের মধ্যভাগ। মক্কুর ঘুম ভাঙ্গলো ক্লাবের ছেলেদের হট্টগোলে। আড়মোড়া ভেঙে নিজের ফোন বালিশের নিচ থেকে বের করে এই আশায় জেনি ফিরে তাকে ঝাড়ি দিয়ে টেক্সট করেছে। কিন্তু না ফাকা নোটিফিকেশন। ফোন পকেটে ভরে রুমের বাহিরে পা দিয়ে দেখে জুনিয়র ছেলেপেলেরা আসছে ক্লাবের সদস্য হতে। ফর্ম নেয়ার জন্য লাইন ধরা তাই হাউকাউ বেশি। মক্কু বের হয়ে একটা রাম ধমক দিলো।এতেই সব চুপ হয়ে যায় একমুহূর্তেই।
চোখ কচলিয়ে কচলিয়ে বাহিরে এসে দাঁড়িয়ে আবার লম্বা করে আড়মোড়া ভাঙ্গার সময় চোখ যায় পিকাপ ভ্যানে রাখা ভাজ করা মোটা কাগজের দিকে।যেটার চিপায় একটা কালো জুতা।মক্কু আস্তে করে কাছে যায়। টান দিয়ে জুতাটা হাতে নেয়।তার সমস্ত দুনিয়া টলে উঠে জুতাটা হাতে নিয়ে। মাথা যেনো দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেলো এমন লাগছে।হাতের সাথে সমস্ত শরীর কাপন শুরু করলো। নিজেকে নিজে শান্তনা দিয়ে ক্লাবের ভেতরে ছুটলো আকাশের খোঁজে। কিন্তু পেলো না তাকে। একজন জানালো আকাশ বাসায় গেছে রেষ্ট নিতে।
কাপা হাতে ফোন বের করে কল করলো।দুইবারের পর রিসিভ করে সালাম দিয়ে বলে,
-ভাই মাথা হ্যাং আজ কোন কাম দিয়েন না প্লিজ।
মক্কুর কন্ঠ ভার হয়ে আছে। যেনো একটা শব্দের ওজন এককেজি পরিমান।তবুও বুকের আর মস্তিষ্কের মারাত্মক প্রদাহ নিয়েই বহু কষ্টে জিজ্ঞেস করলো ,
– পিকাপে একটা মেয়ের জুতা ছিলো।এইটা কার জানিস?
মক্কুর কথা শুনে আকাশের ফটাফট ঘুম উধাও হয়ে গেলো। আর ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলো ,
-ভাই এই ভুল তো হইতে পারে না।গাড়ি আমি ভালো মতো চেইক করছি।লাশের পা আলগা ছিলো না।পা থেকে খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা নাই। নইতো কাপড় পেচানোর সময় ওরা ভালো মতো পেচায় নাই। ভেতর থেকে জুতা বের হয়ে আসছে।
ব্যাস মক্কু আর কোন কথা শুনতে পেলো না।মাস খানেক আগে বাসা খোঁজে ফেরার পথে নিজেই জেনিকে এই জুতা জোড়া কিনে দিয়েছিলো।নিজের হাতে জেনির পায়ে পড়িয়েছে।তার তো ভুল হওয়ার কথা না। সমগ্র পৃথিবী শূন্য ,নিষ্ঠুর আর ভরহীন লাগলো তার কাছে।কোথায় ব্যাথা? কোথায় কষ্ট? কেমন কষ্ট? কেমন হাহাকার? মক্কুর কোন কিছুই অনুভূত হচ্ছে না।শুধু মনে হচ্ছে লক্ষ্য লক্ষ্য তলোয়ার দিয়ে তার হৃদয় কেউ ফালাফালা করে ফেলছে।সে মরে যাচ্ছে।পরিবারহীন একটা অসহায় ছেলেকে পরিবারের স্বপ্ন দেখিয়ে জেনি তার সাথে প্রতারণা করলো।কাচের গ্লাসের মতো খানখান হয়ে গেলো মক্কুর সকল স্বপ্ন ,আশা ,একটা সুন্দর পরিবারের সুখ। প্রচন্ড স্বপ্ন ভঙ্গ ,মস্তিস্কের খারাপ উচাটন ,জেনিকে হারানোর ব্যাথায় মক্কু কুলাতে পারলো না।
ঢলে পড়লো শক্ত ফ্লোরে।
সবাই ধরাধরি করে মক্কু কে একসাইডে এনে পানি ঢালা শুরু করলো। রনি নিবিড়কে ফোন দিয়ে সব জানালে।নিবিড় জানায় সে আসছে এক্ষুনি।
নিবিড় আসার পর পরই মক্কুর সেন্স ফিরে।উঠেই নিবিড়কে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না শুরু করলো। মক্কুর কান্নায় সবাই হকচকিয়ে যায়।নিবিড় মক্কুর গালে আলতো টেপ করে বলে
-কি হয়েছে? মক্কু? কথা বল?
কান্না থামিয়ে আশেপাশে তাকিতুকি করে জুতাটা খুঁজে চলে।কিছুটা দূরে চেয়ারের নিচে দেখতে পেয়ে পাগলের মতো হামাগুড়ি দিয়ে গিয়ে জুতাটা বুকে জড়িয়ে গগনবিদারী চিৎকার শুরু করলো।
নিবিড় জুতা দেখে কিছুটা আঁচ করলো।তাই ক্লাবের সবাইকে বাহিরে বের হয়ে যেতে বলে।সবাই বের হওয়ার সাথে সাথে আকাশ ভেতরে ঢুকে।আকাশকে দেখে মক্কু উঠে দাঁড়িয়ে তার কলার ধরে ঝাকিয়ে জিজ্ঞেস করে ,
-কোন রেললাইনে রেখে আসছিস আমার জেনিকে? বল? তাড়াতাড়ি বল? ট্রেনে কাটা পড়ে নিশ্চয় ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে আমার জেনির শরীর? আমাকে মিথ্যা বলেছে জেনি।আমি কখনোই ক্ষমা করবো না? আমাকে প্রমিজ করেছে আর কখনো আমাকে রেখে যাবে যাবে।এত বড় ধোকা আমাকে কেনো দিলো?
নিবিড়ের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো।মক্কুর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে ,
-কিসব আবোলতাবোল বলছিস? জেনি হতে যাবে কেনো ওই লাশটা?
-ভাই আমার জেনির জুতা এইটা।এই জুতা ছিলো পিকাপে।ভাই সারজীবন আপনার গোলামী করমু। আমার জেনিরে আইনা দেন ভাই।ভাই আমার বুকটা ফাইট্টা যাইতাছে। আমি দেখাইতে পারতাছি না।প্রতারণা করলো কেনো আমার সাথে।আমাকে পরিবারের স্বপ্ন দেখাইলো কেন? আমি এখন কেমনে বাঁচবো ভাই? আমার তো কেউ নাই। আমার কিচ্ছু নাই।আমার সাথে আল্লাহর তো শত্রুতা নাই।আমাকে তাহলে সর্বহারা করে কেন রাখে দুনিয়াতে। আমারেও মাইরা ফেলেন ভাই।
বলে নিবিড়ের দুই হাত নিজের গলায় চেপে ধরে।নিবিড় গলা ছাড়িয়ে মক্কুকে জড়িয়ে ধরে বলে,
-শান্ত হ ভাই।আগে নিশ্চিত হই। জেনি হুইপের বাংলোতে কেন যাবে…..
বলতে পারলো না কিছু একটা মনে পড়াতে। তবুও মক্কুকে শাান্তনা দেয়ার জন্য বলে,
-চুপ কর। সবাই সন্দেহ করবে।আমি দেখছি।ওইটা জেনি না।
-আপনি তো জানেন না ভাই।কাল রাতে আমাকে মিথ্যা বলে বের হয়ে গেছে তামান্নার সাথে।তাদের লাষ্ট অপারেশন ছিলো।এই জুতাটা আমি নিজে কিনে দিছি। দেখেন সাইজ একদম সেইম। আমি বেঁচে থেকে কি করবো আর?আমিও জেনির কাছে চলে যাবো।
বলে বাহিরে বের হয়ে পাগলের মতো দৌঁড়ানো শুরু করলো। নিবিড় আর আকাশ তার পেছন পেছন। এই সময় মাথা কারো ঠিক থাকে না।মানুষ অতিরিক্ত কষ্টের সময় যেকোন এক্সিডেন্ট সত্যি সত্যি করে ফেলতে পারে।
কষ্টের কোন সংজ্ঞা নেই।কারো কষ্ট অন্যকেউ ভাগ নিতে পারে না।যার কষ্ট তার ভেতরের আগুনের আঁচ অন্য কেউ বুঝতে পারে না।কষ্টের মুহূর্ত গুলার অনুভূতি বুঝানো যায় না।কিছু কষ্ট মৃত্যুসম। স্বীয় মৃত্যুতেও অতটা কষ্ট পাওয়া যাবে না হয়তো যতটা কষ্ট হয় আত্মার কেউ চলে গেলে।
“এখন নয় আর কখনোই নয় ” বুঝলি আকাশ? সময় হয়ে গেছে মাথা চাড়া দিয়ে উঠে বসার।
বলে আরও বাইকের গতি বাড়ায় নিবিড়।আকাশ পেছন থেকে বলে উঠলো ,
-ভাই আপনি যেটা ভালো মনে করবেন।তবে সামনে তো সব রথি মহারথি।তাদের মাঝে আমরা নাদান বাচ্চা।
-আর একটা দিন এদের সাথে সঙ্গ দেয়া মানে একটা বড় পাপের ভাগিদার হওয়া।আমি নিজের স্বার্থে রাজনীতিতে জড়ালেও এখন আর নিজ স্বার্থ ধরে রাখতে পারছি না।
“যে ব্যাক্তি কোন জালিমের পক্ষ নেয় ,তাকে সাহায্য করে,সে যতক্ষণ পর্যন্ত তা থেকে বিরত না হয় ,আল্লাহ তাকে ছেড়ে দেবেন না -তিরমিজি ,হাদিস নং ১২৮৫”
এছাড়াও অনেক হাদিসে এসেছে ,যারা জালিমদের পক্ষ নিয়ে চুপ করে থাকে কিংবা অন্যায়ের প্রতিবাদও করে না। হাশরের দিনে তাদের অবস্থানও হবে জালিমদের সাথেই।
-ভাই আমরা তো তাহলে মেলা অপরাধ করে ফেলছি।আল্লাহ কি আমাদের মাফ করবেন?
-আল্লাহর দয়ার তুলনায় আমাদের পাপ অতি নগ্ন।পরকালের হিসেব তো আছেই। দুনিয়াতেও প্রতিটা পাপের কাফফারা দিতে হয়।
-সমুদ্র ভাই না ম*রলে তো আপনে টার্গেটে পৌঁছেই যাইতেন ভাই।ওইটা খোঁজে না পাইয়া আগেই কি লাড়াটা দেয়া ঠিক হবে? এতদিনের পরিশ্রম আপনার।
বাইকের স্পিডের কারণে আকাশের কথা সামনে থেকে তেমন বুঝা যাচ্ছে না তাই নিবিড় শুধু হু হা তেই উত্তর দিলো।কাছাকাছি রেললাইনে এসে নিবিড় তাকিতুকি করে দেখে মক্কু রেললাইন ধরে এখনো উন্মাদের মতো হেঁটে চলেছে। ক্লাব থেকে বের হয়ে বড় রাস্তায় এসে ,নিবিড়দের সামনেই একটা লোকাল বাসে উঠে পড়ে মক্কু।তাই নিবিড়রা আবার ক্লাবে গিয়ে বাইক নিয়ে বের হয়। আর সবচেয়ে কাছের রেললাইনে চলে আসে একপ্রকার আনুমানের ভিত্তিতেই।
পেছন থেকে নিবিড় মক্কু বলে ডাক দিলো।নিবিড়ের ডাকে মক্কু পায়ের গতি বাড়ায়।বুকে এখনো সেই একপাটি জুতা আগলিয়ে রেখেছে।রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নিবিড়ের পক্ষে সবচেয়ে বেশি মা*র খেয়েছে মক্কু আর বদি। বদি মাঝেমধ্যেই পল্টি মারলেও মক্কু ছিলো নিবিড়ের একনিষ্ঠ ভক্ত।মার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েও দাঁত বের করে হেঁসে হেঁসে বলতো,
-ভাই যা মাইর খাইছি তার চেয়ে দ্বিগুন দিতে পারছি।এইটাই শান্তি।
অথচ এই ছেলে আজ কেমন এলোমেলো। স্বপ্ন ভাঙ্গার চেয়ে কি তবে বড় কষ্ট আর দ্বিতীয়টি নেই? কই নিবিড়ের তো স্বপ্নই নেই। নিবিড়ের তবে কেনো এত কষ্ট? আশা নেই ভরসা নেই।কারো প্রতি কোন দ্বায় নেই তবুও কেনো হৃদয় প্রকোষ্ঠে এত জ্বালাও পুড়াও? কেনো একটা রাত আজ পর্যন্ত শান্তিতে ঘুম হলো না? নিবিড়ের চিন্তার ছেদ ঘটে মক্কুর মুখ থুবড়ে পড়া দেখে।
পাথুরে রেললাইনে পড়ে কপাল ফাটলো।গড়িয়ে পড়লো চকচকে গরম তরল কয়েক ফোটা।পড়াটাকে ধতর্ব্যেই রাখলো না।আবার উঠে সম্মুখে আগাতে লাগলো। দুইপাশে জায়গা নেই বিধায় নিবিড়দেরও বাইক রেখে পায়ে হেটে আসা লেগেছে।তখনই নিবিড়ের পকেটের ফোন বিপবিপ করে ভাইব্রেটর হলো।ফোন রিসিভ করেই মুখ চকচকে হয়ে উঠলো তার।ফোন কেটেই গমগমে গলায় উচ্ছ্বসিত হয়ে হাক ছেড়ে বলে,
-মুসাদ্দিক রে তোর বউ রাত থেকে তোর ফ্ল্যাটের তালা দেয়া দরজায় বসে আছে।আর তুই এইখানে কার না কার জুতা নিয়ে পাগলামি করছিস?
মক্কুর পা যুগল থেমে গেলো সাথে সাথেই। মুহূর্তেই পেছন ফিরে আবার ছুট লাগালো। নিবিড়ের কাছে আসায় বাইকের চাবি আকাশের কাছে দিয়ে বলে ,
-যা পৌঁছে দিয়ে আই।
লিভিং অরগানিজম যেনো ঠিকঠাক কাজ করে তাই জিয়ানা নাস্তা করা পর পুরা সকাল ঘুমিয়ে কাটালো।বিছানায় শুয়েই কেমন জানি নিবিড় নিবিড় গন্ধ লেগেছে।ঘুম এত দ্রুত এলো জিয়ানা আধোঘুমেই বিড়বিড় করে “কাবলিওয়ার গায়ের গন্ধ মনে হচ্ছে আমার জন্য স্লিপিং টনিক “।চার ঘন্টা ঘুমিয়ে এখন তার ব্রেইন পুরোপুরি তৈরি নিবিড়কে হেনস্তা করতে।তবে ইতিবাচক হেনস্তা করবে মনে মনে স্বীদ্ধান্ত নিলো।
তখন নিশ্চিত ফুটা করা চাড্ডি পড়েই বের হয়েছে তাড়াহুড়ো করে।আহা ব্লিংক করা এক চোখ ,আরেক চোখ খোলা আর মুকের ফাঁকে ডার্ক ব্রাউন পুটু উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে।ভাবতেই বিছানায় জিয়ানা একচোট হেঁসে গড়াগড়ি খেলো।
উঠে আড়মোড়া ভেঙে টাওয়াল গলায় ঝুলিয়ে বারান্দায় গেলো।কোত্থেকে একটা চড়ুই উড়ে এসে বারান্দার গ্রিলের উপরের দিকে বসলো। ছটফট করতে কপ্রতে আবার উড়ে চলে গেলো।জিয়ানার যদি কাউকে হিংসা হয় সেটা কেবল প্রকৃতিকেই।এই যে চড়ুই ছোট্ট একটা পাখি।বিন্দাস জীবন।ফুড়ুৎ ফাড়ুৎ করে সারা দুনিয়া চষে বেড়ায়। একেই বলে আসলে স্বাধীনতা। বাঁধনহারা জীবন।কিছুপল অমুখ হয়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকে জিয়ানা। পাশেই কিছু নড়াচড়া টের পেলো। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে তোতা মিয়া জিয়ানাকে দেখেই দুইবার গলা নাচিয়ে আওড়াল,
-চাঁদ! চাঁদ
জিয়ানা খাঁচার কাছে গিয়ে তর্জনী আঙুল দিয়ে ইশারা করে জিজ্ঞেস করে ,
-কে চাঁদ?এনি হাউ তুই আমাকে চাঁদ ডাকিস নাতো?
তোতা টা আওড়ায় ,
-সুখ!সুখ
-দূর বজ্জাত টিয়া পাখি চুপ থাক।তুই ঠিক মতো বলতে পারিস না।সুখ না বল ভন্ড নেতা। ভ ন ড নে তা। বল
-সুখু! সুখু!
-মুরুক্ষ তোতা।তোকে উচিত শিক্ষা দিবো কিভাবে জানিস? এই খাঁচায় একটা সুন্দরী মহিলা তোতা এনে রাখবো।যে তোকে একেবারেই পাত্তা দিবে না।ওয়েট তুই নিজে কি পুরুষ? তোদের চেইক কিভাবে করে রে? এত পালক কোথায় কি আছে হো নোউস?
মাথা উপর নিচ করে তোতা জিয়ানার কাছের অংশে একটা শিকল কামড়ে ধরে।জিয়ানার নজর যায় উপরের বারান্দায়। মিরাল আড়চোখে জিয়ানার দিকেই তাকিয়ে।জিয়ানা মিরালকে হাই দিলো। কিন্তু বেচারি মুখচোরা হয়ে বারান্দা থেকে চলে যেতে নিলে জিয়ানা আবার হাক ছেড়ে ডেকে আটকায়,
-মিরাল কি অবস্থা তোমার? তুমি তো আগের চেয়ে আরও সুন্দরী হয়েছো? গ্লোয়িং করছো একেবারে।
মেয়েদের কুপোকাত করার মোক্ষম অস্ত্র হচ্ছে রুপের আর রান্নার প্রসংশা করা।যে যত বড় শত্রুই ভাবুক নিয়মিত রুপের প্রশংসা করলেই কিচ্ছা খতম। যেনোতেনো প্রশংসা না ,খুটে খুটে চেহারা পর্যবেক্ষণ করে চোখ ,নাক ,ঠোঁট ,চুলের প্রশংসা করলেই তিনদিনেই পরম শত্রুও আত্মার বন্ধু হয়ে যাবে।
জিয়ানা এইসব চামে চিকনে এপ্লাই করে দেয়।এই মেয়েটা তাকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবে। কিন্তু বর্তমানে একমাত্র এই মিরালই তার কথা বন্ধু হতে পারে।জিয়ানার টোপে কাজ হলো।মিরাল আবার সুইং চেয়ারে বসে।কিন্তু কথা বললো না।
জিয়ানা নিজেই আগ বাড়িয়ে ডেকে জিজ্ঞেস করলো তার মায়ের কথা ,লেখা পড়া কেমন চলছে ,হাবিজাবি।তারপর মিরালের ফোনে একটা কল আসে।রিংটোন কোরিয়ান পপ স্টার ব্র্যান্ড ASTRO এর একটা গান ক্যান্ডি সুগার পপ বেজে উঠলো।বাহির থেকে অন্য কেউ শুনলে আগামাথা কিচ্ছু বুঝবে না।এই জেনারেশন ছাড়া অন্যরা রীতিমতো হাঁসি ঠাট্টা করতো।তামান্নার কল্যানে জিয়ানা টুকটাক কেপপ জেনেছে।এই জেনারেশনের অধিকাংশ মেয়েরা কোরিয়ান পপ স্টারদের জন্য ক্রেজি।যাক একটা দূর্বলতা পাওয়া গেছে ভেবে জিয়ানা মনে মনে হাঁসে।
ফোনটা কেটে মিরাল এখনো আরচোখে জিয়ানাকে দেখে চলেছে।
জিয়ানা আবার জিজ্ঞেস করলো ,
-তুমি ASTRO এর ফ্যান?
মিরাল মাথা নাড়ায়।জিয়ানা আবার জিজ্ঞেস করে ,
-ওদের কি ফ্যানবেজের আলাদা নাম আছে?
-আরোহা।
-ওয়াও মানে কি? তুমি কাকে বেশি পছন্দ করো?
-লাভ। চা ইউন উও ( Cha Eun Woo)
জিয়ানা বাপ জন্মে এমন নাম শুনে নাই। তবুও মাথা নাড়িয়ে বলে
-ওয়াও আমারও ওকে খুব ভালো লাগে।
মিরাল উৎসাহীত হয়ে জিজ্ঞেস করলো ,
-ওপ্পার ড্রামা দেখেছো?
জিয়ানা আবার পড়লো বিপদে।তবুও কনফিডেন্টের সাথে বলে ,
-হ্যাঁ দেখেছি।তুমি কোনটা দেখেছো? সবচেয়ে বেশি কোনটা ভালো লাগে?
-ট্রু বিউটি টা জোস।গাংনাম টাও আছে মোটামুটি। আসলে ওর এজেন্সিটা ফালতু।ভালো ড্রামা এর জন্য সিলেক্ট করে না।
জিয়ানা বুঝলো এই মেয়ে এ টু জেট সব জানে সে মুখ খুললেই কট খেয়ে যাবে।তাই ঘটনা অন্যদিকে ঘুরানোর জন্য বলে,
-যারা কে পপ স্টারদের পছন্দ করে তাদের তো আর এইদেশের ছেলেদের ভালো লাগে না শুনেছি।আচ্ছা এখন কোরিয়ানদের মতো ছেলে তোমরা কোথায় পাবা বিয়ের জন্য? এত যে মজে আছো ওদের মাঝে? আমার ভালো লাগে টুকটাক গান শুনি ,ওদের পারফরম্যান্স দেখি এইটুকুই।
-অন্যদের কথা জানি না আপু।আমার কোরিয়ান বয়ফ্রেন্ড আছে।সে শীঘ্রই আমার সাথে দেখা করতে বিডিতে আসবে।
জিয়ানার চোখ বড় হয়ে গেলো। কত দ্রুত এদের সম্পর্ক গড়ে উঠে।কিছুদিন আগেই এই মেয়ে সুইসাইড এটেম্পট করতে গেলো। হাহ জেনারেশন। অবশ্য জিয়ানাও এই জেনারেশনেরই। তবুও ভালো জিয়াউলের কড়াকড়িতে ডিভাইজ এডিক্টেট হয়নি।লাইফের প্রতিটা ইঞ্চি উপভোগের সুযোগ পাচ্ছে।নিজের চিন্তা সাইডে রেখে বলল,
-বাসায় এসো মিরাল।তোমার সাথে আড্ডা দেয়া যাবে।সাথে তোমার সৌন্দর্য্যের সিক্রেট জানা যাবে।
-তুমিও তো সুন্দর আপু।একেবারেই ন্যাচারাল। তোমাদের বাসায় যাবো আমি? মাথা খারাপ নিবিড় ভাই দেখলে খু*ন করে ফেলবে। তাছাড়া তোমাদের ঘরের দরজায় বড় একটা তালা ঝুলানো। তাহলে তুমি ভেতরে কেনো?তোমাকে কি আটকে রেখেছে?
-ওভার পজেজিভ তোমার নিবিড় ভাই।
-ভাইয়া তোমাকে অনেক ভালোবাসে তাই না?
জিয়ানা চিবুক বুকে মিশিয়ে নিলো।তার জীবনে আর ভালোবাসা।যদি ধরা হয় জিয়ানাকে সবাই ভালোবাসে তবে হ্যাঁ গড়পড়তায় সবাই ভালোবাসে। আর যদি সেই প্রিন্সেসের মতো তার জীবন ঝুলে থাকে একটা ট্রু কিসের মাধ্যমে।আই মিন সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষের একটা পেশনেট কিস লাগবে জিয়ানাকে বাচাতে। তবে জিয়ানার অপঘাত্র মৃত্যু নিশ্চিত।দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে,
-ওইসব কথা বাদ দাও।তোমার বয়ফ্রেন্ডকে দেখাও। আই থিংক তোমার সাথে যেনোতেনো কাউকে মানাবে না। প্রচুর হ্যান্ডসাম কাউকে লাগবে।
মিরাল গদগদ হয়ে ফোনের ব্রাইয়নেশ বাড়িয়ে একটা চং প্রজাতির ছিলা মুরগীর মতো ঠোঁটের পিং লিপগ্লোজ দেয়া ,চুল সাদা করা ছেলেকে দেখালো। জিয়ানা রেলিং এর কাছ ঘেঁষে দাড়ায়।মিরাল উপর থেকে হাত গ্রিলের ফাঁকে ডুকিয়ে নিচের দিকে ঝুকায়। জিয়ানার কাছে লাগলো এটা কোন হনুমানের চেয়ে কম কিছু না।
তবুও মেকি কিছু প্রশংসা করলো। নামটা ভুলে গেছে কি যেনো বলল ,চা পা ছা না কি যেনো তার নাম বলা যেতো।
হারিয়ে ফিরে পাওয়ার জিনিসটাকে সেই মুহূর্তে মনে হয় এক পৃথিবী সমান মূল্যবান।অল্প রাস্তাটুকু আসতেই মক্কুর নার্ভ নিভু নিভু। কোন রকম এপার্টমেন্টের নিচে ধৈর্য্য ধরে এলেও ,সিঁড়ি বেয়ে এক ছুটে আগে এসে তিনতলায় থামে।জেনিদের ফ্ল্যাটের দরজায় তালা ঝুলানো।পায়ের গতি আবার বাড়িয়ে পরবর্তী তিনতলা উঠে পড়ে এক শ্বাসে।
আটকে রাখা নিশ্বাস একেবারে বের হতে চায় ,দরজায় হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে এলোমেলো হয়ে বসে থাকা তার অর্ধাঙ্গিনীকে দেখে।এতক্ষণ সুপার স্প্রিরিটে চলা পদযুগল এবার যেনো নিজের ক্ষমতা হারালো।মন মস্তিষ্কের বিরুদ্ধে গিয়েও এক কদম নড়লো না।সিঁড়ির রেলিং ধরে নিজেকে ধাতস্থ করে মক্কু।
কারো উপস্থিতি অনুমান করে জেনি মাথা উঠায়।মক্কু কে দেখে ঝড়ের গতিতে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরে বিড়বিড় করে ,
-জানেন মুসাদ্দিক আমাদের সামনেই মেয়েটাকে ওরা মেরে ফেলেছে।আমাদের করার কিচ্ছু ছিলো না মুসাদ্দিক।নিজেকে অতি তুচ্ছতম ,ক্ষুদ্র ,সামান্য এক প্রাণী লেগেছে তখন।
বলে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে। মক্কু্র এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না এটা সত্যি জেনি।স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুসাদ্দিকের নিস্তব্ধতা দেখে জেনি মাথা উঠিয়ে আৎকে উঠলো।হাত বাড়িয়্র কপালে ছুঁয়ে বলে,
-আপনি ঠিক আছেন মুসাদ্দিক? কি হয়েছে আপনার? এত ব্যাথা কিভাবে পেলেন?
জেনির হাত অনুসরণ করে মক্কুর এবার বোধ হলো কিছু একটা হয়েছে সেখানে।চিনচিনে ব্যাথাও করছে।তবে এটাও বুঝতে পারলো মনের ব্যাথার কাছে শরীরের ব্যাথা কিচ্ছু না।তাই তো এতক্ষণ অনুভূতই হয়নি কপালের ব্যাথাটা।
মনের ব্যাথা ,শরীরের ব্যাথা সকল ব্যাথা একসাইটে সরে এবার ঝেঁকে ধরলো একরাশ অভিমান।জেনিকে ছাড়িয়ে পকেট থেকে চাবি বের করে বিনাবাক্যে তালা খুলে ঘরে ঢুকে গেলো।পেছন পেছন জেনি বলতে বলতে ঢুকে,
-আর যাবো না প্রমিজ। বিশ্বাস করুন মুসাদ্দিক।আপনাকে কষ্ট দেয়ার জন্য দুঃখীত। কপালে ট্রিটমেন্ট করতে হবে। অনেক টুকু লেগেছে। কি হলো? এ্যাই?
মক্কু পাত্তায় দিলো না।টাওয়াল নিয়ে সোজা বাথরুমে ঢুকে গেলো।জেনি বুঝলো বাবুর কঠিন রাগ হয়েছে।
শপিংমলে গিয়ে নিবিড়ের নাকানিচুবানি অবস্থা। মেয়েদের এত ভ্যারাইটিজ জিনিসপত্র নিবিড়ের জানা ছিলো না।একটা লেডিস শপে গিয়ে মেয়েদের সব বের করেন বলার পর তার মাথা আউলা ঝাউলা হয়ে গেছে।দোকানদারকে বুঝাইতেই পারছে না কেমন টাইপ জিনিস লাগবে।সবকিছুতে কমান্ড দেয়া নিবিড় আজ ভেবাচেকা খেয়ে গেছে সামান্য মেয়েদের জিনিস কিনতে এসে।এইজন্যই বলে দুনিয়া যত সহজ ,সংসার ঠিক ততটাই কঠিন।শেষে বাধ্য হয়ে মৌসুমীকে ফোন দিয়ে দোকানদারকে ধরিয়ে দেয়।
মৌসুমীর ইন্সট্রাকশন অনুযায়ী দোকানদান সব দিলে নিবিড় বলে সব কিছু পাঁচটা করে দিতে।
জিয়ানার জন্য কেনাকাটা করে ,নিজের জন্যও নিলো কয়েকটা আন্ডারওয়্যার। বজ্জাত মেয়েটা সবগুলোই নষ্ট করেছে।ভাগ্যিস রাগ আসে না তার উপর ঠিকঠাক। তানাহলে কানের নিচে কয়েকটা চটকানা দিলে সকল বাদরামী হরহর করে ছুটে যেতো।শপিং শেষে লান্স নিয়ে যাত্রা করে বাড়ির অভিমুখে।
নীতিহীন রাজ পর্ব ৩৪
আজকাল নিবিড়ের ভালো পিছোটান হয়েছে। খাবারের চিন্তা পোশাকের চিন্তা ,এমনকি এটাও ক্ষনেক্ষনে মনে হয় ,একা বাসায় কি করছে উদ্ভট মেয়েটা? নিবিড়কে হেনস্তা করতে গিয়ে নিজেই না কোন বিপত্তি ঘটায়।শপিংমলের নিচের একটা দোকানের সামনে থামলো। ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিক শপ। বাহিরে বসে অহেতুক চিন্তা করার চেয়ে লক্ষ্য রাখা ভালো পাগলটা সবসময় কি করে। এটার জন্য সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি ক্লোজড সার্টিক টেলিভিশন (সিসিটিভি)।
চমৎকার বিনোদনের সাথে খেয়াল রাখাও হবে। এতে মনের খোরাক মিটবে সেন্ট পার্সেন্ট।
