Home নীতিহীন রাজ নীতিহীন রাজ পর্ব ৪৪

নীতিহীন রাজ পর্ব ৪৪

নীতিহীন রাজ পর্ব ৪৪
আশিকা আক্তার সোহাগী

“জলে যেখানে হাঙরের সাথে লড়ায় সেখানে একটা কুমিরের মৃত্যু নিয়ে কেউ মাথা ঘামাবে না। -সমরেশ মজুমদার”
যেখানে বড় বড় মন্ত্রী মিনিস্টারের কুকৃর্তি প্রতিনিয়ত এইদেশে ধরা পড়ছে সেখানে নিবিড়ের মতো একটা লোকাল নেতার নিউজে দলের বা জনগনের কিছু যায় আসে না।তাই আপাতত চিন্তার কারণ নেই।
এবং বেতন ভুক্ত সরকারি খাকি পোশাকের লোকগুলো যতই তৎপর কিংবা টহল দিক ,শেষ রাতে তাদের ঝিমুনি দিয়ে বিকট নাক ডাকা সমেত ঘুম চিরসত্য। একপায়ে দাঁড়িয়ে হলেও তারা ঘুমাবে।সেখানে এত রাতে নিউজের ভীত্তিতে কোন আসামী ধরতে আসবে না এটা সেন্ট পার্সেন্ট নিশ্চিত।

নিবিড় সবাইকে সব গুছিয়ে দিলো।তাকে এরেষ্ট করে এইবার টর্চার করা হতে পারে।হতে পারে রেজাউল নিজে দাঁড়িয়ে তাকে উদুম ক্যালানি দিচ্ছে। রাজনীতিতে সত্যি মা বাপ নেই।না এখানে কেউ চিরবন্ধু।তিন মাসের জেল খাটার সময় নিবিড়ের জন্য স্পেশাল খাবার থেকে শুরু করে ভিআইপি সেল ছিলো।এসি ,টিভি সবই ছিলো সেলে।এইবার তাকে নিশ্চিত ব্ল্যাক সেলে রাখবে।সঙ্গী হিসেবে ইঁদুর তেলাপোকা থাকতে পারে।
চেয়ার থেকে উঠে আড়মোড়া ভেঙে বলল,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

-জিয়ানার সাথে একটু দেখা করে আসি।আলো ফোটার আগেই ফিরে আসবো
মক্কু বলে,
-ভাই আমিও একটু দেখা করে আসি বউটার সাথে।কাল কী আছে ভাগ্যে।আগেভাগেই একটু হিন্টস দিলে শান্ত থাকতে পারবে।আমারটা আবার ইমোশনাল। কেঁদেকেটে সব এক করে ফেলবে।
নিবিড় মক্কুর ঘাড়ে হাত দিয়ে বলল,
-চল আগে তোর বাসায় যাই।জেনিকে নিয়ে জিয়ানাকে দেখিয়ে আনি।তার বোন যে সহি সালামতে আমার কাছে আছে সেটা তো বিশ্বাস করল না।
-আচ্ছা চলেন ভাই।আকাশ তোর বাইকের চাবিটা দে।
বের হওয়ার আগেই রনি জিজ্ঞেস করলো ,
-ভাই আপনারা কি ভয় পাচ্ছেন?
নিবিড় মৃদ্যু হেঁসে জবাব দেয় ,

-বিছানায় শোয়ার আগে যদি লাল পিপড়া চোখে পড়ে তুই কী শুয়ে পড়বি এটা ভেবে “ছোট পিপড়া আমার পিঠেই পিষে যাবে ,অল্প কামড়ালে কামড়াক।নাকি ঝেড়ে ফেলে দিবি?”
ফেলে দিবি তাই তো? রাজনীতিতে ভয় বলে শব্দ নাই।পিপড়া হোক বা হাতি সব ঝেড়ে ফেলে দিতে হয়।
বলেই দুইজনই বের হয়ে গেলে আকাশ চেয়ারে বসেই লম্বা হয়ে আড়মোড়া ভেঙে পরিবেশ সহজ করতে বলে,
-আজ একটা বউ থাকলে আমিও মুলাকাত করতে যেতাম।বউকে জড়িয়ে ধরে বলতাম “সোনা তোমার বাপের বাড়ি না কিন্তু আমার শ্বশুরবাড়ি বলোতো সেটা কি?”
বউ ভাবতো আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি আর দ্বিতীয়শ্বশুর বাড়ির কথা বলছি। তাই গাল ফুলিয়ে নাক লাল করতো…
শেষ করার আগেই সজল বলল,
-আর ভাবি ঝাড়ুতে গু ভরিয়ে বাড়ি দিয়ে বাসা থেকে বের করে দিতো।
আকাশ এগিয়ে গিয়ে সজলের ঘাড়ে হাতের কনুই দিয়ে চেপে ধরে।দুইজনের হাতাহাতি শুরু হলে তালহা ধমক দিয়ে বলে,

-আঃ! বাচ্চাদের মতো তালাতালি থামাবি নাকি দুইটারেই পা*ছায় লাত্থি দিমু?
রনি বলল,
-ভাইগন আমি কি একটু বাসায় যেতে পারি? শরীর ভালো লাগছে না।
আকাশ মারামারি থামিয়ে জিজ্ঞেস করে ,
-তোর তো বউ নাই বাসায় গেলেও তোর সেবা করবে কে?এইখানেই থাক।একটা ওর স্যালাইন খা। সারারাত কাজ আছে বের হওয়া যাবে না ভাই না আসা পর্যন্ত। আর তুই তো বাসার নাম মুখেও নেস না আজ হঠাৎ মন পুড়ে ক্যা?
-থাক ভাই যামু না। এমনেই কইলাম।
আকাশকে নিবিড় বলে দিছে রনি যেনো ক্লাবের বাহিরে মু*ত্তেও না যায়।আকাশ মনে মনে বলে”হালার পু হালা তোমারে কালাপানিতে যদি না চুবাইছি।তোমার জন্য মিশন পিছায়ে গেলো আর আমার বিয়েটাও। ”
মুখে সুর দিয়ে বলে উঠলো,

-ভ্লা লাগে নারে আমার ভ্লা লাগে না।
বাইকের উঠার সময় মক্কু বলে,
-ভাই এমন খারাপ সময় জিয়ানাকে ফ্ল্যাটে রাখলেন। আপনাদের বুঝাপড়া হওয়া দূরের কথা একসাথে বসে দুইবেলা তো ভালোমন্দ খেতেও পারেন নাই।সম্পর্ক না আগালে ভালোবাসা হবে কেমনে? তাছারা জিয়ানার কাছ থেকে যদি এমন দূরে দূরে থাকেন না পাত্তা পাবেন, না পাত্তা দিতে পারবেন। অহেতুক দুইজনই কষ্ট পাবেন।
-দুনিয়াতে আসছি একা ,যাবো একা সো এই যে মাঝখানের কয়েকদিন আমি পরের জন্য নিজেকে কষ্ট দিবো কেনো? কে ভালোবাসলো ,না বাসলো ,কে পাত্তা দিলো আর কে দিলো না। আমার ওইসব তোয়াক্কা করার সময় কই? আমি তো নিজেকে ভালো বাসতেই ব্যাস্ত।আমি তো নিজেকে যত্ন করতে ব্যাস্ত।আমি নিজেই নিজের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাই কারো ক্ষমতা নেই আমাকে কষ্ট দেয়ার।
বাইক স্টার্ট দিতে দিতে বলে নিবিড়।

-ভাই আপনার সাথে কথায় পারব না।তবে বলব পুরুষের শান্তির ঠিকানা ওই একটাই।নারী পুরুষ ছাড়া চলতে পারে কিন্তু পুরুষ পারে না।আপনাদের সুখী দেখতে চাই তাই এইসব বলি।বাকি সব তো আপনে তো নিজেই ভালো বুঝেন।
নিবিড় আর কোন উত্তর দিলো না।তার আজকাল বড্ড ক্লান্ত লাগে।সত্যি সত্যি জিয়ানার কাছেই একদন্ড শান্তি পেয়েছে সে।জিয়ানার চেহারা থেকে শুরু করে শরীরের নিজস্ব একটা স্মেল যেটা নিবিড়ের কাছে আফিমের মতো মনে হয়। নিবিড় সিদ্ধান্ত নিলো,তার সব অতীত সে জিয়ানাকে বলবে। তার এলোমেলো জঘন্য শৈশব ,তার পাপ আর ইচ্ছা সব।
ডায়েরিটা জিয়ানা বুকে নিয়ে বসে আসে চুপ করে। তার মাত্র পড়া বর্ণনাটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে।ব্যাপারটা বুঝতে আবার পড়া শুরু করলো ,

স্বপ্না আম্মু উলঙ্গ হয়ে হাতে মোম জ্বালিয়ে সারাবাড়ি ঘুরে।তিনবার চক্র কাটে। তারপর বসার রুমের দরজা খুলে দেয়।আমি ভয়ে ফু-আম্মুকে ডাকি।সে সাড়া দেয় না।আমি লজ্জা আর ভয়ে চোখ ছোট করে থাকি।আম্মু দরজা খুলার সাথে সাথেই আমার ঘুম ভেঙে যায় প্রতিদিন।কারণ আম্মুর দরজায় ফু-আম্মু দুইটা ঘন্টি ঝুলিয়ে দিয়েছেন।ফু-আম্মু প্রতিদিন উঠবে বলেন কিন্তু সকাল হলেই কিচ্ছু বুঝতে পারেন না।
স্বপ্না আম্মুর কথা আমি আর কাউকে বলতে পারি না। কারণ এই বাড়ির সবাই আমাকে আর স্বপ্না আম্মুকে ঘৃণা করে। তাই বড়-আম্মার দেয়া ম্যাজিক কলমে লিখে রাখি।এই কলমটাও মেহেদী চুরি করেছিলো।আমি বহু কষ্টে উদ্ধার করেছি ওর তৃতীয়শ্রেনীর নোট খাতার ভেতর থেকে। পড়ে চতুর্থ শ্রেণিতে অথচ রেখেছে আগের বছরের খাতায়।চু*রি আর কুবুদ্ধির জন্য মেহেদী সেরা।

একদিন বিকেলে ফুটবল খেলার সময় স্বপ্না আম্মুকে দেখি মাঠের পাশ দিয়ে দ্রুত হেটে যাচ্ছেন।আমি খেলা বাদ দিয়ে আম্মুর পেছন পেছন যাই।দেখি আম্মু এলাকার গোরস্তানের ভেতরে ঢুকে কি জানি করছেন।আমি গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে থেকে দেখতে থাকি। আম্মু চলে যাওয়ার পর সেখানে গিয়ে দেখি নতুন মাটি চেপে সমান করা। আঙুল দিয়ে খুড়ে দেখি একটা কপড়ের ব্যাগ পুতা।সেই ব্যাগ বের করে আনি দেখার জন্য কি আছে এতে। যেটা আম্মু এখানে রেখে গেছে।
ব্যাগ থেকে একটা মাটির পুতুল যার গায়ে আরবি কিছু লেখা আর কাগজে একটা ছবি আঁকা সাথে এখানেও আরবি লেখা ঘর ঘর করে। আরবি লেখা গুলা মনে হচ্ছিলো উল্টা।তাই আমি সেগুলা নিয়ে মকতবের হুজুরের কাছে যাই।
হুজুর আমার হাতে ওগুলা দেখে ঝাড়া মেরে ফেলে তওবা পড়া শুরু করেন। তারপর মাটিতে ঝুকে পুতুলটার গায়ে নাম দেখে জিজ্ঞেস করে ,

-এগুলা কই পাইছো? নীলুফা কার নাম?
-গোরস্থানে একজন পুতে রাখার সময় আমি দেখে ফেলি। আর উঠিয়ে আপনার কাছে আনি।নীলুফা আমার ফুপুর নাম।
-হুজুর বলে তোমার দাদা এখন কোথায়? উনার সাথে জরুরি কথা আছে।কে পুতে রাখছে তুমি চিনো?
আমি বুঝতে পারি এটা ভালো কিছু না। তাই আম্মুর নাম বলি না। হুজুরকে মিথ্যা বলি ,
-আমি দেখি নাই।মুখ ঢেকে রাখা ছিলো।
আমার প্রচন্ড কষ্ট লাগে। আম্মু কেনো এমন করছে? ফু-আম্মু আমার কথা বিশ্বাস করে না।তাই বাধ্য হয়ে রুপমামুকে সব বললাম।রুপমামু আম্মুকে ছাদে ডাকলেন বিকেল বেলা। আমি লুকিয়ে তাদের কথা শুনি,
রুপমামু এগিয়ে গিয়ে আম্মুকে অনেক জোরে একটা থা*প্পড় মারলেন।আম্মু গালে হাত দিয়ে কেঁদে দিলেন।মামু প্রশ্ন করে ,

-নীলুর সাথে আপনার কিসের শত্রুতা ভাবি? এই বাড়িতে আপনি ওর জন্যই টিকে আছেন।অথচ ওকে আপনি বান মা*রতে চান?
-ওইটা কি ছিলো আমি জানি রুপকদা। বড় ভাবি আমাকে দিছে আর বলছে বাড়ির মঙ্গলের জন্য। সত্যি বলতে ভাবি যা বলে আমি না করতে পারি না।বিশ্বাস করেন।
-সারারাত আপনি কি করেন?
-রাতে মানুষ যা করে তাই করি। ঘুমাই।
-আবার মিথ্যা কথা বলতাছেন? আপনি আমার প্রতি রাগ নীলুর উপর ঝারতাছেন তাই না?
-কসম রুপকদা আমার সাথে কিছু ঘটে হইতো। আমি জানি না। সকালে নিজেকে এলোমেলো পাই। গায়ে কাপড় থাকে না।আবার হাতে কালি লেগে থাকে।এই দেখুন হাতের তালু পোড়া পোড়া ,জ্বলে খুব।
বলে নিজের দুইহাত দেখালো স্বপ্না আম্মু।রুপমামু দেখে জিজ্ঞেস করে ,

-হুজুরের কাছে যান। আপানার চেহারাও কেমন জানি হয়ে গেছে।
-আপনি আমার চেহারা খেয়াল করেছেন? অবাক হলাম।নীলু ছাড়া তো আপনার কোন কিছুই চোখে পড়ে না।শুনোন একে তো আপনি বাচ্চাওয়ালা পুরুষ তার উপর ধর্মের ঠিক নাই। সারাজীবনেও আপনি নীলুফাকে পাবেন না।
-পাওয়া মানেই কি বিয়ে? আমি সারাজীবন নীলুকে এইভাবেই ভালোবাসতে পারব।
-ওর বিয়ে যে আপনি ভেঙে দেন আমি বুঝি না ভাবছেন?
-নীলুকে কেউ ছুয়ে দিবে এটা আমি সহ্য করতে পারবো না।আমার না হোক তবে আর কারো হবে না।
রুপমামু যদি ফু-আম্মুকে বিয়ে করে তবে আমার জন্য খুবই আনন্দের।কারণ ফু-আম্মুর তাহলে আর এ বাড়ি থেকে চলে যেতে হবে না।আমাদের সাথেই থাকবে।আমার ভাবনা টিকলো না বেশিদূর কারণ এমন সময় আব্বু আর জেঠো ঢুকে ছাদে। তারা রুপমামুর কাছে গিয়ে এলোপাথাড়ি মারা শুরু করে। মুখ দিয়ে অকথ্য গালাগালি করতে লাগলেন। বেশির ভাগ গালি বাচ্চা দিয়ে শেষ হয়।যেমন ,শুয়োর ,কুকুর এবং একটা ছিলো খা*নকি। আমি সেদিন ভয়ে ভয়ে অনেক গালি শিখলাম। তবে শু*য়রের বাচ্চা গালিটা আমার পছন্দ হলো।আম্মু তাদের আটকানোর চেষ্টা করে না।পাশে দাঁড়িয়ে থেকে মুখে তৃপ্তি নিয়ে দেখে যায়।আমাকে এই মানুষটার পেটে থেকে হতে হলো কেনো? আম্মু নিজেও কি শু*য়ের বাচ্চা?
রুপমামু একবার বলেছিলো ,

-তুমি মানুষ কিনা কিভাবে বুঝবে?যখন তোমার সামনে কোন অন্যায় হচ্ছে আর তোমার শরীরের রক্ত টগবগিয়ে ফুটা শুরু করবে। তখন বুঝবে তোমার শরীরের মানুষের রক্ত।আর সেই রক্ত যখন তোমাকে স্থির থাকতে দিবে না।অন্যায়ের প্রতিবাদ করাবে নিজের বিপদ হবে জেনেও ,তখন নিশ্চিত হবে যে তুমি শুধু জন্মগত মানুষই না অর্জনগতও মানুষ।
আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনে প্রশ্ন করেছিলাম,
-এটা কি জীবনের সব ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করবো মামু?মানে সরাসরি যখন যে অবস্থাতেই আছি সেভাবেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো?
-তোমার বুঝতে হবে প্রতিবাদটা কিসে হবে। মুখের কথায় না শক্তিতে! যদি শক্তিতে তে হয় আগে নিজের শক্তি আর প্রতিপক্ষের শক্তির তুলনা করবে। আর যদি কথায় হয় প্রতিপক্ষের কথার ধার অনুমান করবে।এই দুইটা কাজ না করলে মস্তিস্ক খাটাবে।বুদ্ধিশক্তির চেয়ে বড় শক্তি আর দ্বিতীয়টি নেই।
আমি পরের কথা গুলার গুরুত্ব কম দিয়ে লুকানো থেকে বের হয়ে দৌঁড়ে মামুর কাছে যায়।মেহেদীর আব্বুকে আর জেঠুকে ঠেলে সরিয়ে মামুকে বাঁচানোর চেষ্টা করি।

মেহেদীর আব্বু এগিয়ে এসে প্রচন্ড জোরে একটা থা*প্পড় মারে তারপর পা দিয়ে বুক বরাবর লা*ত্থি দিয়ে আমাকে ফেলে দেন ছাদের খসখসে মেজেতে।কয়েক মিনিটের জন্য আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়।আমি লম্বা করে শ্বাস নেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু পারি না।চোখে ঘোলা দেখি। স্বপ্না আম্মু চিৎকার দিয়ে দ্রুত এসে আমাকে ধরেন।উনার এই কাতর চেহারা দেখে আমার আরাম লাগে। আমি চাই আমাকে আরও আঘাত করা হোক।আমার জন্য এই নিষ্ঠুর মানবী কষ্ট পাক।
আমাকে মারার জন্য রুপমামুর শান্ত রুপ অশান্ত হয়ে যায়। তেড়ে গিয়ে মেহেদীর আব্বুর চোয়াল বরাবর একটা ঘুষি মারেন। কিন্তু জেঠু এসে আটকিয়ে ফেলে পেছন থেকে।তারপর তারা দুইজন মিলে টানতে টানতে মামুকে সেখান থেকে নিয়ে যায়।
এরপর আর কখনোই দেখা হয়নি মামুর সাথে।এই বাড়িতে আমার দুইজন আপনজনের মাঝে একজন হারিয়ে যায়। আর ফু-আম্মুর তো আজকাল শরীরই ভালো থাকে না।রোগা-সোগা হয়ে সারাক্ষণ উদাস হয়ে বসে থাকেন।আমার সাথে পর্যন্ত কথা বলে না তেমন।

জিয়ানার কান্না পাচ্ছে।ফুপিয়ে কিছুক্ষণ কাঁদলো। নিজের সাথে তুলনা করলে সে অনেক অনেক সুস্থ একটা পরিবেশ পেয়েছে বড় হওয়ার জন্য।অপরদিকে নিবিড় কি পরিমান ঘৃণিত পরিবেশে বড় হয়েছে সেটা কেউ কল্পনা করতে পারছে না।তার চারপাশে শুধু স্বার্থপর আর খারাপ মানুষের বাস ছিলো।এমন সব জিনিস বাচ্চা বয়সে দেখে এসেছে যে নিজের মাকেও সে নূন্যতম সম্মান করতে পারেনি।
লেখাটা বাচ্চা বাচ্চা ভাব আছে। তারমানে সমকালিন সময়ে লিখতো। বাচ্চা বয়সের অপরিপক্কতা লেখায় স্পষ্ট। ডেট দেয়া নেই দেখে প্রথমে জিয়ানার বুঝতে কষ্ট হলেও বুঝতে পারলো কিছুটা পড়ার পর। একটা খালি পাতা ,তারপর লেখা ভেসে উঠলে আবার শুরু করলো পড়া,

স্কুলের টিফিন পিরিয়ডে আমাদের বাসার দারোয়ান মামা এসে জানালো বাসায় যেতে হবে সবার কী এক দরকার। আমরা সেই মামার সাথে বের হই। দুপুর হওয়াই রিক্সা পাচ্ছিলাম না। আর মামাও অপেক্ষা করতে না চাওয়াই আমরা হাটা শুরু করি।মাঝরাস্তায় এসে মামা রাস্তার এক হকারের কাছ থেকে পানি কিনে আমাদের পাঁচ জনকেই পান করতে দেয়।পানি পানের একমিনিট পর আমাদের আর কিছু মনে নেই।
তাকিয়ে দেখি অচেনা আজানা এক পরিবেশ। কেমন গা ছমছমে অন্ধকার আচ্ছন্ন। আমি আশেপাশে তাকিয়ে সবাইকে খুজতে থাকি। কেউ নেই। অন্ধকারটা এমন ঘুটঘুটে নিজের শরীরও দেখা যাচ্ছিলো না।

হঠাৎ মার্শাল হাতে করে কিছু মানুষের আনাগোনা শুনতে পাই।কিন্তু তাকানো যাচ্ছিলো না। তারা ধোঁয়া সহ এসে উপস্থিত হয়।ধোঁয়ার তেজ প্রচন্ড হওয়াই চোখ জ্বালা করতে থাকে।হাত দিয়ে চোখ কচলানো যাচ্ছিলো না কেননা হাত পেছনে পিছমোড়া করে বাধা ছিলো।তবুও একচোখ বন্ধ রেখে অপর চোখ দিয়ে অল্প একটু দেখার চেষ্টা করি।আমার থেকে কয়েকহাত দূরে রনি-জনি ভাই মেহেদী আর সবার শেষে রাফিনদা অচেতন হয়ে পড়ে আছে।মাথা ঘুরিয়ে পরিবেশ বুঝার চেষ্টা করি।লম্বা লম্বা দশবারো জন মানুষ আলখাল্লা পড়ে আগুনের মার্শাল হাতে একটা কালো স্তম্ভের চারপাশ চক্কর কাটছে। আর মুখ দিয়ে অদ্ভুত সব শব্দ করে চলেছে অনবরত। সবার মুখ কালো মুখোশ দিয়ে ডাকা।একসময় সবাই থেমে যায়।এরা একে অপরের সাথে ইংরেজিতে কথা বলছিলো।

অপরপাশ থেকে চারজন লোক কাধে করে একটা কাফিন নিয়ে এলো।সেই কাফিনের ভেতর থেকে একটা সাদা কাপড়ের লাশ বের করলো দুইজনে ধরে।এবার চারপাশে বিশ্রী গন্ধে পেটের নাড়িভুঁড়ি কেপে উঠলো।বাড়ি্তে দেখা নানা কান্ডকারখানায় আমি বুঝতে পারছিলাম এরা আমাদের বাড়ির ব্ল্যাক ম্যাজিকের সাথে জড়িত সেই খারাপ লোকগুলো।
একে একে অনেকগুলো গ্রুপ নানা অদ্ভুত জিনিস নিয়ে হাজির হলো সেই স্থানে।এরমাঝে একগ্রুপ এনেছে চারটা মেয়ে। সবারই অল্পবয়সী। তবে কারো গায়েই একটা সুতা নেই।আমি আড়ষ্ট হয়ে বসেই আছি।কিন্তু আমার শরীরের নিম্নভাগে কোন সাড় পাচ্ছিলাম না।

আচম্বিতে লেখা শেষ হয়ে গেলো।পুরাটা ডায়েরি ফাঁকা। তবে লাষ্টের একটা পেইজে লেখা
“আমি আমার ভাইদের বুঝাতে পারিনি,যারা চলে যায় তাদের এই জীবনের জন্য দুঃখটা শেষ হয়ে গেলো। আর যারা থেকে গেলো তারা জ্বলে পুড়ে মরে।(সমরেশ মজুমদার )”

যে ফ্যামিলির প্রতি আমার প্রবল আগ্রহ ছিলো।সেই ফ্যামিলির প্রতি এখন ঘৃণা আসে। কারন ফ্যামিলি কালচার এমন একটা জিনিস যারা নিজের সম্মানের জন্য সন্তানের কোন বিপদেই এগিয়ে আসে না।বরং সন্তানদের অভিযোগে অভিযুক্ত করে মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে দেয়।এমন ফ্যামিলি দিয়ে তাহলে আমি করবো টাই কি?মক্কুর যে কেউ নেই সে বেঁচে আছে না? বরং তার কষ্ট একটাই পরিবার নাই। এটা পরিবার থেকেও না থাকার চেয়ে ভালো।

এই ডায়েরি বন্ধ করে লাইট অন করে সেখানে ছিলো সেখানে রেখে দেয়।আবার একটু ভালোভাবে খোঁজে অন্যকিছু আছে কিনা।বাকি কিতাবের ফাঁকে ফাঁকে চারপাশ ভালোভাবে দেখলো জিয়ানা।অনেকগুলা ছোট ছোট হাদিশের বইয়ের সাথে ছোট্ট চার ইঞ্চির একটা পেট খাতা।খাতাটা এনে জিয়ানা যা দেখলো নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলো না।জিয়নার অনেকগুলা ছবি ছোট ছোট করে পিন করা সাথে নিচে প্রতিটা ছবির কাহিনী লেখা।পাশে লেখা ধন্যবাদ তালহা। এই ছবি গুলার জন্য তোর উকিল বাপ হইতে রাজি আছি।

হঠাৎ তার মনে হলো নিবিড় আর তার মাঝে সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম বিষয় গুলো নিখুঁতভাবে মিল।
প্রতিটা ছবি দেখে জিয়ানা হাঁসে। ছবিতে হাত বুলিয়ে নেয়।কেমন জানি একটা বুকে টানটান লাগছে।
“রাফিন যদি অন্যকেউ হতো যেই হাতে তোমাকে ছুঁয়েছে সেটা কেটে কু*ত্তাকে খাওয়াইতাম”
“কু*ত্তার বাচ্চা রাফিন জেনুইনলি বাষ্টার্ড। সবাইকে শুধু ইউজড করতে চায়।তবে এইবার আর হচ্ছে না সেটা। তোর বাপই তোর সবচেয়ে বড় বাঁধা”
জিয়ানা আর রাফিনের সাইকেলে বসা ছবি।
জিয়ানা থামে। নিবিড়ের কিছু কথা সে বুঝতে পারছে না।
অপর পাতায় যায়,

“হাসলে যে তোমার চোখও হাসে সেটা কি জানো চাঁদ?”
বস্তিতে বসে জিয়ানার খিলখিলিয়ে হাঁসার ছবি।
“মাঝেমাঝে মনে হয় তুমি আস্ত একটা ফিনিক্স পাখি। যার আলোয় আলোকিত নিবিড় কিন্তু মাঝেমধ্যে মনে হয় ফিনিক্স তো রুপকথার কল্পনার পাখি বাস্তবে যার অস্তিত্বই নেই।”
সাথে জিয়ানার করুন মুখের একটা ছবি।
“আমি আগেও বলেছি এখনো বলছি ওইসব ভালোবাসা বলতে কিছু হয় না সব সময়ের চাহিদার নাম।আজকে যদি তোমাকে হাতের নাগালে পেতাম থা*প্পড়িয়ে পন্ডিতি বের করে দিতাম। অসভ্য পাগল মেয়ে”
জিয়ানার মারামারির একটা ছবি(কলেজ স্ট্রীটের কিছু ইভটিজারদের কেলিয়ে ছিলো কিছু মেয়েকে দেখে স্ল্যাং বলায়।
“পুরা ক্যম্পাসের একটা মাছিও সুখনীল নিবিড়ের দিকে পূর্ণ্যদৃষ্টিতে যেখানে তাকাতে পারে না সেখানে পুচকে একটা মেয়ে কথা কথায় তুই তুকারি করে।মাঝেমাঝে মন চায় এর কলিজাটা বের করে দেখি কত বড় সেট।
জিয়ানা নিবিড়ের পায়ে কিক করার সময় ছবি( পাশে ছোট করে লেখা ,ধন্যবাদ তালহা এই ফালতু ছবি গুলাও তোর সংরক্ষণে রাখার জন্য।)

“এই মেয়েকে একদিন জিজ্ঞেস করবো ,সে কি খাবারে তুলা খায়? শরীর এমন তুলতুলে কিভাবে হতে পারে একটা মানুষের? যেখানে হাত রেখেছি শুধু ডেবে যাচ্ছিলো।ভয়ে শক্ত করে ধরার সাহসও হয়নি।কি এক মসিবত? মেয়ে শরীর দেখলেই যেখানে আমার হাত নিশপিশ করে থা*প্পড়িয়ে নেকামি বের করে দিতে মন চায় সেখানে এই মেয়েকে চাপ দিয়ে ধরতেও আমার ভয় লাগে।এই দিনও দেখতো হলো বেঁচে থাকতে?
নিবিড় জিয়ানাকে কোলে করে হাসপাতালে নেয়ার সময়ের ছবি।
একটা পাতায় লেখা
” কবে জানি এই পাগল মেয়েটাকে ধরে টুপ করে গিলে ফেলি। “প্রভোকিং স্মেল”
পরের পাতায়,

“নেপচুনের হিরা আমার ব্যাক্তিগত চাঁদ (শাদি মোবারক )”
নিবিড় আর এলোমেলো জিয়ানা পাশাপাশি বসা তাদের বাসার সোফায়।
“বাহাত্তুর বার না বাহাত্তুর লক্ষ কোটি বার কবুল এই পাগল মেয়েটাকে ”
বিয়ের সময় নিবিড়ের রেজিষ্ট্রেশন খাতায় সাইনের ছবি। পাশে থমথমে মুখে জিয়ানা বসা।
“বিয়ের প্রথম রাতটা এতটা অকল্পনীয় ভাবে কাটবে আমার জানা ছিলো না।আমার ফ্ল্যাটের চারপাশ জিয়ানাময় ছিলো।আমার নাসারন্ধ্রে শুধু জিয়ানার স্মেল। আমার গলায় আর কপালে আমার সদ্যবিবাহিতা স্ত্রীর স্পর্শ। ”
কোন ছবি নেই।

“নিজেকে আজকাল বড্ড অলস লাগে তাই তো জিয়ানা নামের এক চোরাবালিতে আস্তে আস্তে ডুবে যাচ্ছি তবুও নিজেকে এখান থেকে বের করতে ইচ্ছা হচ্ছে না।”
জিয়ানা হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছে নিবিড় মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনছে।
“এত অধিকার? এত জোর? এত উৎকন্ঠ লাষ্ট আমার জন্য কে হয়েছিলো মনে নেই ”
জিয়ানা কান্নামাখা মুখে নিবিড়কে টেনে এম্বুলেন্সে উঠাচ্ছে আনিস মামার পোড়াবাড়ির সামনে থেকে।
“আমার জিয়নকাঠি তুমি যতই বুদ্ধিমান হও ভেতরে তুমি অনেক সরল।তোমার সাইকেলের স্প্রিড আমার ক্লাবের সামনে এসে আপনা আপনি তার গতি কমায়। অথচ তুমি একবারও নিজের গতি কমিয়ে কাবলিওয়ালার নিকট আসলেই তো পারো?”

নিবিড়ের ক্লাবের সামনে জিয়ানার সাইকেলের ছবি।
জিয়ানা থামকায়।নিবিড় কি জিয়ানার প্রতি দূর্বল? হ্যাঁ অবশ্যই। এইসব কথা এই সব ভাবনা কেউ এমনি এমনি ভাবে না।তবে এই লোকের বাহির যে আপাদমস্তক ইস্পাতের মতো। তার ভেতরে এত অনুভূতি কবে জন্মালো?
খাতার লেখা শেষ।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন “যে শিশু স্নেহের মাঝে বড় হয় সে ভালোবাসতে শিখে। কিন্তু নিবিড়ের ব্যাপারটা আলাদা। সে প্রচন্ড ভায়োলেন্সে বড় হয়েছে। নীলুফা ইয়াসমিনের গাইডে হইতো ওর ভেতরের চমৎকার সেই স্বত্ত্বাটা এখনো বেঁচে আছে। কিন্তু বাহিরের কয়েক ধাপের ইস্পাতের প্রলেপ পড়েছে।জিয়ানা বসে পড়ে ফ্লোরে।তার শরীর ভালো লাগছে না।হইতো মনটাই ভালো না।লজিক্যাল মানুষ মনের কথা কখনোই স্বীকার করবে না।তারা বলবে শরীর খারাপ তাই মস্তিস্কে দুঃখের হরমোন বেশি উৎপন্ন হচ্ছে।
সেই সাথে জিয়ানা শপথ নিলো ,তার হারানো মায়ের শেষ ইচ্ছা পুরনো করবে।উনার সুখকে সত্যিকারের সুখী বানাবে।ভুলে হোক ,প্ল্যানে হোক কিংবা ভাগ্যের চরম বাস্তবতা একবার যখন জড়িয়েই গেছে সুখনীল নিবিড় নামের অদ্ভত ব্যাক্তিটির সাথে ,সেহেতু জিয়ানা এই সম্পর্ককে একটা সুযোগ দিবে।

মিনিট পাঁচেক পর খাতাটা বুকে নিয়েই জিয়ানা উঠে দাঁড়ালো। সিক্রেট রুম থেকে বের হয়েই বুকযেল্ফ লক করে কলমটা জায়গা মতো রাখে। তারপর এই রুম থেকেও বের হবে তখনই মেইন দরজা খট করে শব্দ করে খুলে নিবিড় ভেতরে ঢুকে।
নিবিড়ের জিয়ানাকে লক রুম থেকে বের হতে দেখেই চোখ লাল হয়ে উঠলো। হাতের চাবি সর্বশক্তি দিয়ে ফ্লোরে ছুড়ে মেরে ঝড়ের গতিতে জিয়ানার কাছে চলে যায়।নিবিড়ের গতিতে জিয়ানা হালকা ভয় পায়।এমনিতেই গোপনেকৃত কাজে মানুষের সাবকন্সিয়াস মাইন্ড দূবল থাকে।এখানে জিয়ানার সাথেও যেটাই হলো।
তবে মুখের এক্সপ্রেশন পরিবর্তনের আগেই ডান গালে একটনের একটা থা*প্পড় পড়লো।থা*প্পড়ের গতিতে জিয়ানা ছিটকে ওয়ালে বাড়ি খেয়ে সেখান থেকে ফ্লোরে পড়লো।জিয়ানা একেবারেই প্রস্তুত ছিলো না বিধায় আঘাত বেশ জোরেই পেল।চ*রে ঠোঁট কেটে রক্ত পড়া শুরু হলো।কপালের একপাশ ফুলে উঠলো।
নিজের ব্যাথা উপলব্ধির আগেই নিবিড় ফ্লোরে পড়ে থাকা জিয়ানার কাছে গিয়ে হাটুগেরে বসে দুইগাল একসাথে চেপে ধরে গর্জে উঠে প্রশ্ন করলো ,

-কীভাবে ঢুকেছো ওই ঘরে? কারো ব্যাক্তিগত লকরুমে ঢুকতে যে পারমিশন লাগে সেটা কি তুমি জানো না? নাকি বিন্দুমাত্র ম্যানার্স নেই? হাউ ডেয়ার ইউ ইডিয়ট?
নিবিড়ের গর্জনে মক্কু আর জেনি দ্রুত ভেতরে ঢুকে।তারা অন্য বাইকে আসায় নিবিড়ের পেছনে ছিল।জেনি জিয়ানাকে পড়ে থাকতে দেখে দৌঁড়ে কাছে যায়। মক্কুও কাছে গিয়ে নিবিড়ের হাত থেকে জিয়ানাকে ছাড়িয়ে আনে।নিবিড় রাগে কোবরার মত ফসফস করছে।জিয়ানার ঠোঁটে রক্ত দেখে জেনি কান্না করে বলে উঠলো ,
-চল আমার সাথে। এখানে কোন জানোয়ারের সাথে তোর থাকা লাগবে না।আজ তোর কোন কথায় শুনবো না।উঠ?
জিয়ানা জেনির হাত ছাড়িয়ে হেঁসে বলে ,

-জানোয়ারকে জান বানানোর জন্য হলেও কোথাও যাচ্ছি না আপি।আমি ঠিক আছি।আর ভুলটা আমরই। উনার প্রাইভেসি নষ্ট করেছি।
জিয়ানার কথা শুনে মক্কুর চোয়াল ঝুলে পড়ল।নিবিড়ের রাগ হঠাৎ অবাকে কনভার্ট হলো।
অপরদিকে জিয়ানা ফ্লোর থেকে উঠে জেনিকে ইশারা করে বলে,
-কথায় কথায় কাদলে তোমাকে পাক্কা ভেটকি লোচন লাগে আপি।
তারপর মক্কুর দিকে তাকিয়ে বলে
-ভাই সব ঠিকঠাক?কেমন চলছে আপনাদের নতুন জীবন? সলিড রোমান্স নাকি আমাদের মতো ডাব্লিউ ডাব্লিউ ই /ওয়ার্ল্ড রেসলিং?
কথা শেষ করে জেনির গায়ের ওড়না দিয়ে ঠোঁট মুছে বলে ,

নীতিহীন রাজ পর্ব ৪৩

-বসো তোমরা আপি।এত রাতে কেউ বেড়াতে আসে? আমরা বিবাহিত হলেও কাইন্ড অফ ব্যাচেলর। আমাদের ঘরে ঘরোয়া কিছুই নাই দুঃখিত তোমাদের কিছু খেতে দিতে পারবো না।
কপাল ঘষতে ঘষতে কমন ওয়াসরুমে ঢুকে। আর নিবিড় থমথম মুখেই ফ্ল্যাটের বাহিরে বের হয়ে যায়। মক্কুও তার পিছু ছুটে।অপরদিকে জেনি হা করে আছে এই কোন জিয়ানাকে দেখলো সে? মার খেয়ে নিজের ভুলের কথা বলছে।

নীতিহীন রাজ পর্ব ৪৫