Home নীতিহীন রাজ নীতিহীন রাজ পর্ব ৪৮

নীতিহীন রাজ পর্ব ৪৮

নীতিহীন রাজ পর্ব ৪৮
আশিকা আক্তার সোহাগী

রবার্ট মুগাবের একটা কথা আমার খুব পছন্দ”নিজেকে লবনের মতো বানাও। না কেউ তোমাকে বেশি ব্যবহার করতে পারবে আর না তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবে।”
নিবিড়ের বৈশিষ্ট্য ঠিক লবনের মতোই। তবে ইচ্ছাধারী লবন। শুনতে হাস্যকর লাগলেও এটাই সত্যি।নিবিড় জেনে বুঝে ব্যবহার হয়। সে বিশ্বাস করে স্বার্থ ছাড়া বাস্তব কোন সম্পর্ক এক্সজিস্ট করে না।ভালোবাসাটাও একপ্রকার মনের স্বার্থপরতা।মনের খুরাক মিটানোর জন্যই মানুষ এইসব আজগুবি সব নাম দিয়েছে।সব হচ্ছে সাহিত্যিকদের ভাওতাবাজি। নিজের মনের এই ভাওতাবাজির পাল্লায় সেও পড়েছে।সেটা সে স্বীকার করুক আর না করুন।হেঁসে হেঁসে রুহানীর আর্টিফিশিয়াল মুখের দিকে তাকিয়ে কথা বললেও ভেতর ভেতর প্রতি সেকেন্ডে এই মেয়েকে সে দশতালা বিল্ডিংয়ের উপর থেকে আছাড় দিচ্ছে।
রুহানী প্রচুর রিকুয়েষ্ট করছে নিবিড়কে একটা গান গাওয়ার জন্য।নিবিড় দাঁতে দাঁত পিশে হ্যাঁ বললো অবশেষে।

“বৃদ্ধকালে মানুষ খুব স্বার্থপর হয়ে যায়।নিজেকের ভালো থাকার জন্য না। নাফসের জন্যও না। রুহুর জন্য স্বার্থপর হয়।প্রচন্ড ভালোমন্দের হিসেব করে। কিন্তু সেই হিসেব বুড়ো মস্তিষ্কে ধরে না।গোলমাল করে ফেলে। ভালোর চেয়ে মন্দ হয় বেশি। বুড়োদের অভিজ্ঞতা বড় কিছু চেয়ার ছাড়া কেউই গোনায় ধরে না।তাই যৌবনের সবকিছু হয় উত্তম।কিন্তু ভুল গুলো হয় চরম । তবুও যৌবনের স্বার্থপরতাকে ওইভাবে কাউন্ট করা হয় না,বয়সের দোহাই দিয়ে।”
জিয়ানাও নিজেকে মাঝেমধ্যে প্রচুর স্বার্থপর আবিষ্কার করে।এই যে এখন তার ইচ্ছা হচ্ছে নিবিড়কে কষ্ট দিতে।এতে নিজের মাঝে একটা বুনো উল্লাস হতো। রাস্তায় অতগুলা মানুষের সামনে তাকে কাঁদিয়েছে এই জন্য নিবিড়ের একটা শাস্তি প্রযোজ্য। এখন আবার হাহাহিহি করছে ,যা দেখে তার গা পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে।হ্যাঁ জিয়ানা আজ নিজের চরিত্র বহির্ভূত কাজ করবে এই ভন্ড অসভ্য ব্রুটাল নেতাকে কষ্ট দিয়ে।
এরমাঝে স্পিকারে শুনতে পেলো নিবিড়ের কথা,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“আই ওয়ান্ট টু ডেডিকেট দিস সং টু দ্যা ওয়ান হো ইজ দ্যা ওয়ানলি লাইট অফ মাই লাইফ ”
তারপর একজন বেয়ারা চেয়ার আর একজন একটা গিটার এগিয়ে দিলো নিবিড়ের দিকে। সে চেয়ারে বসে গিটার টেস্ট করে। টুং টাং শব্দ হয়। জিয়ানা ভাবে,
“ওরে বাটপাট ,ওরে চিটার।একঢিলে দুইপাখি শিকার তোমাকে করাছি দাড়াও।ডাবল টাইমিং করা আমার সাথে? ডাবল টাইমিং এর স্কুলের হেডমাস্টার আমি। বদের বদ। তোর মুখে মফিজের মতো গন্ধ হোক।আবার আসিস কিস শিখাতে সার্কিটে এমন কিক করবো চৌদ্দগুষ্টির নাম ভুলে যাবি।এস*হোল। ব্লা*ডি ডাবল টাইমার।
জিয়ানার বিরবিরের মাঝেই কেউ একজন তার কাধে টেপ করে। ঘাড় ফিরিয়ে অবাক নেত্রে চায়।

-লুনা পোয়েটস?
-হাই ইয়াং সে*এক্সু লেডি।
জিয়ানা আশেপাশে তাকিয়ে মনে মনে ভাবে আজও এখানে না তার যৌবন নিয়ে টানাটানি শুরু করে এই পু-মহিলা।চমৎকার গোল্ডেন চুমকির শাড়ি পড়েছেন।তবে মার্জিত ভাবে। দেখতে ভালো লাগছে।জিয়ানা হেঁসে বলে,
-আপনার ড্রেস সেন্স চমৎকার লুনা।
-কিন্তু তোমার খুব বোরিং। বাট আই ফরগেট ইউর নেইম সরি।
-জিয়ানা হক।নাইস তো মিট ইউ এগেইন।
ধানমন্ডির সেই ট্যাটু আর্টিস্টকে এই ইভেন্টে পাবে জিয়ানা কল্পনাও করেনি।যাক একজন পরিচিত মানুষ তো পাওয়া গেলো।দুইজনই হ্যান্ডশেক করে।

-এখন বলো এমন পার্টিতেও তুমি কিভাবে এমন রেগুলার ওয়ার পড়তে পারলে। আমি মর্মাহত হয়েছি।আমি তোমার ক্রাভ ওয়েষ্টে স্কিন টাইট ড্রেস দেখতে চাই একদিন।
-আসলে আমার ওমন ড্রেস নেই। কখনো মেয়েলি ড্রেস কেনা হয়নি।আর না আমি ওগুলোতে কমফোর্টেবল।
বলে নিজের হাতের গ্লাস বাড়িয়ে চেয়ার্স করে জিয়ানা।
-রিয়েলি? একটা ইয়াং বিউটিফুল লেডির গার্লি ড্রেসেস নেই।নো ওয়ে। আই কান্ট বিলিভ। সবাই নিজেকে প্রেজেন্ট করতে কি না করে আর তুমি? হ্যাহ। লিভ ইট। লেটস গো উইথ মি। আমার একটা শোরুম আছে পাশের বিল্ডিংয়ে। আজ তোমার ঘোল আমি পাল্টে দিতে চাই।

-ওয়েট ওয়েট।আমি এমনিতেই ঠিক আছি।তাছাড়া আপনি না ট্যাটু আর্টিস্ট ,ক্লথিং বিজনেসও আছে? বাহ। এইজন্য এত রিচ লাইফ আপনাদের।
-আই হেভ নাথিং।অল বিলংক্স টু মাই পার্টনার। আজকে আমি কোন কথা শুনছি না। চলো।
জিয়ানা একবার মঞ্চে তাকায় নিবিড় এখনো টুংটাং করছে।পাশে রুহানী হা করে তাকিয়ে আছে নিবিড়ের দিকে।জিয়ানার জেদ চাপলো। সাথে নিবিড়ের দেয়া কার্ড আছে। আজ একটু জ্বালানো যাক তাহলে।তাই লুনা পোয়েটস কে আর বাঁধা দিলো না। গেলো পেছন পেছন।
নিবিড় গিটার টেস্ট করার পর চারপাশে তাকায়। কাঙ্ক্ষিত মানুষকে খোঁজে। রুহানী পাশে এসে বলে ,
-এনিথিং রং নিবিড়? আর ইউ লুকিং ফর সাম ওয়ান?
-নো। বাট আই নিড সাম টাইম।মে আই?
-ওহ ডোন্ট ডু দিস। এইভাবে বললে আমার ফর্মাল ফর্মাল লাগে সব। আই ডোন্ট লাইক ফর্মালিটি ইউ নো না? ডো হোয়াট ইউ থিংক ইজ বেষ্ট।

নিবিড় মুচকি হাঁসে কিন্তু ভেতরে আগুনের লার্ভা।বেয়াদব মেয়েটা কতটুকু রাস্তা একা একা মেহেদীর সাথে এসেছে।হাতের কাছে পেলে একটা উচিত শিক্ষা যদি না দিয়েছে।কিন্তু গেলো কোথায়। এত নড়াচড়া কেন করে এই মেয়ে।সাইডে দাড়ানো একজন ওয়েটার কে নিবিড় ইশারায় কাছে ডেকে জিজ্ঞেস করে ,
-এখানে কালো হুডী আর জিন্স পড়া ,লম্বা করে ন্যাচারাল সুন্দর একটা মেয়ে ছিলো।নাকটা চাপা হালকা।প্রচন্ড কিউট ,বাচ্চাবাচ্চা ফেস। খুজে দেখোতো কোথায় সে।
ওয়েটার মাথা নেড়ে বলে জ্বি স্যার।ওয়েটার স্টেজ থেকে নেমে গেলে রুহানী তাকে সাইডে এনে জিজ্ঞেস করে নিবিড় কি বললো,
-স্যার একটা মেয়ের খোঁজ চেয়েছে।
-কেমন মেয়ে?
-লম্বা হুডী পড়া ন্যাচারাল সুন্দরী,বাচ্চাবাচ্চা চেহারার মেয়েটা। নাকটা চাপা।
-আচ্ছা তুমি খুঁজে দেখো।পেলে আগে আমার কাছে আনবে।
ওকে বলে ওয়েটার চলে গেলে রুহানী কপাল ভাজ করে ভাবে,”নিবিড়ের কোন মেয়েকে এত ডিটেইলস খেয়াল করার কথা না। মেয়েটা কে? ওর এক্সিডেন্টাল বউ? কিন্তু এখানে কিভাবে আসবে? ”

বিশাল ড্রয়িংরুমের ধপধপে সাদা সোফায় বসে অনলাইন নিউজ পড়ছে মামুন ইসলাম। রাফিন তখন বাসায় ঢুকে।মামুন ইসলাম রাফিনকে ডেকে বলে,
-সাফার এডমিশন টেস্ট শেষ। ওকে কাল পরশু গিয়ে নিয়ে আসো। আর আনুষ্ঠানিকতার দরকার নেই।
-বিয়ে থেকে শুরু করে সব কিছু তো আপনার পছন্দেই হয়েছে বাবা তাহলে আপনি আনার ব্যবস্থা করুন।আমি কিছুদিন ব্যাস্ত আছি।
-মিসেস শফিক একদমই খুশী না তোমার ব্যবহারে।তুমি নিজে থেকে ফোন কিংবা কোন যোগাযোগ করো না। এমন কি একবার যাওনি পর্যন্ত। এতদিন হয় বিয়ের এখনো তুমি নিজের বউকে দেখতে যাওনি এটা উনারা স্বাভাবিক ভাবে নিবে না রাফিন।
-বাড়ির বউ তো আর একজনও আছে বাবা।সেই বাড়ির আসল বউ।তাকে আনার কোন পায়তারা নেই কেনো আপনার?
-যাদের বাড়ি তারা আসবে আমি কি বাঁধা দিতে পারি? পরিবারের প্রতিটা মানুষকে একসাথে রাখার সংকল্প করেছিলাম তোমার দাদুর কাছে।কিন্তু আমি ব্যার্থ।উনার কথা রাখতে পারিনি।
-ক্ষমতার লোভ যদি একটু ছাড়তেন তাহলে ঠিকই পারতেন।আপনার সাথে সাথে আমি নিজেও ছোট হতে হতে মাটিতে মিশে গেছি।

-ক্ষমতার লোভ আমার নেই এটা তোমার চেয়ে ভালো আর কে জানে?
-জ্বি এটা সবাই জানে শুধু সত্যিটা জানে নিবিড়। তাই তো ও আপনার কাছেই ঘেঁষে না। এমনকি পিতৃ পরিচয় টুকুও দেয় না।আমি পালিত পুত্র হয়েও আপনার চোখের মনি অথচ আপন ছেলেদেরকে কখনো কাছে টেনে নেননি।এমন বৈষম্য সবার চোখেই পড়ে।
-আমি যদি বলি ওরা নিজেই আসে না।
-আপনি সত্যিটা খুব ভালো করেই জানেন কেনো আসে না।মিথ্যার ঢোল আর বাজানোর দরকার নেই বাবা।সাফাদের বলে দিবেন কাল আমি একসময় করে গিয়ে নিয়ে আসবো।
বলে রাফিন ভেতরে চলে যায়। মামুন ইসলাম সেদিকে তাকিয়ে থেকে ভাবে চাইলেও সবসময় সবকিছু করা যায় না রাফিন।আমি জানি তুমি সত্যিটা প্রথম থেকেই জানো। আর জানো বলেই আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কোন না করতে পারো না। আর এটাই তোমার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা যেটা নিবিড় তোমার বিরুদ্ধে সবসময় ব্যবহার করে।

নিবিড় গান শুরু করে ,
“রাতেরও আকাশে নিশ্চুপ সাক্ষী
দূরের ঐ ধ্রুবতারা
কতটা বেসেছি ভালো
শুধু মন জানে
এ হৃদয় জানে… ”
গান আগালো না এক লাস্যময়ী রমনীর হাস্যজ্বল মুখ দেখে।বৃদ্ধাঙ্গুল গিটারের তারে এমন ভাবে চেপে ধরলো ,সেটা কেটে রক্ত বেয়ে গড়িয়ে পড়লো কিছুটা। কিন্তু বান্দার সেদিকে হুশ নেই।
জিয়ানাকে একটা মেরুন সেমি পার্টি ইভিনিং গাউন পড়িয়েছে লুনা পোয়েটস। ফুল স্লিভলের ভেলভেট ড্রেস বক্র শরীরের মাপেই যেনো বানানো।
মেরুন কালার হওয়াই কোন প্রকার প্রসাধনী ছাড়াই ফেসের ব্রাইইনেস বেড়ে গেছে কয়েকগুন।চুল গুলো মেসি বান করে রেখেছে। ঠোঁটে হালকা লিপ গ্লোস।
একজন ওয়েটার এগিয়ে এসে নিবিড়ের হাত থেকে গিটার নিয়ে টিস্যু এগিয়ে দিয়ে সরি বলল।অপরদিকে রুহানী নিবিড়ের গান থামিয়ে নজর অনুসর করে জিয়ানাকে দেখে।
স্টেজ থেকে নেমে জিয়ানার দিকে যায় সে।

-হাই মিসেস নিবিড় রাইট?
জিয়ানা পাশ ফিরে রুহানীকে দেখে চমৎকার হাঁসে।তারপর হ্যালো বলে মাথা দিয়ে হ্যা বলে।
-মিসেস নিবিড় বলাতে মাইন্ড করোনি নিশ্চয়ই? শুনেছি তোমাদের এক্সিডেন্টাল বিয়ে? দুইজনেরই ঘোর আপত্তি এই বিয়ে নিয়ে?
জিয়ানা লুনার দিকে তাকিয়ে বলে
-এক্সকিউজ মি প্লিজ?
-শিওর গো এহেড। আই উইল ফাইন্ড ইউ।
রুহানীর কথায় জিয়ানার ভেতর বাড়িতে আগ্নি দগ্ধ শুরু হলো যেনো।কিন্তু সে জানে এই পরিস্থিতিতে কি করতে হয়। কারন সাইকোলজি বলে “কেউ যদি অপমান করে তবে অবমানকারীর চোখের মনির দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে হয়।এতে সে অস্বস্তিতে পড়বে আর অপমান করা থামিয়ে দিবে।এবং পরক্ষণেই তাকে নিজের ফ্যান বানানোর জন্য খুব সুক্ষ্মভাবে প্রশংসা করে কয়েক মিনিট থেমে ,আবার একটা প্রশংসা করলে উক্ত ব্যাক্তিটি গলে গ হয়ে যাবে। এবং প্রথমে তাকে নিজের একটা গোপন কথা বলতে হয়। যেনো সে ভাবে তাকে বিশ্বাস করা হচ্ছে। পরবর্তীতে সে নিজের গোপন কথাও বলে দিবে।

জিয়ানা দুই কদম এগিয়ে এসে একেবারেই রুহানীর চোখের দিকে স্থির হয়ে অবজার্ভ করা শুরু করে। রুহানী সত্যি সত্যি কথার খেয় হারিয়ে থতমত খেলো যখন।তখন জিয়ানা বলে,
-তোমার নামের মতোই তুমি অসম্ভব সুন্দর রুহানী।একদম চকচকে পবিত্র চেহারা মাশা-আল্লাহ।
রুহানীর ভেতর এবার নড়বড়ে হয়ে গেলো।কিন্তু অশান্ত হৃদয় শান্ত হয় জিয়ানার পরবর্তী কথাতে ,
-তুমি ঠিক বলেছো এক্সিডেন্টের বিয়ে আমাদের।আমরা একেবারেই দুইজনই বিপরীত মেরুর বাসিন্দা। আমাদের সম্পর্কের কোন ফিউওচারও নেই জানো?
রুহানীর চোখ ঝলমলে হয়ে উঠলেও মুখে মেকি দুঃখ এনে বলে,
-জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে ভুল বিয়ে।তুমি আমার অনেক ছোট হবে।সত্যি খুবই খারাপ লাগছে তোমার জন্য।ছেলেদের একাধিক বিয়ে ম্যাটার করে না আমাদের সোসাইটিতে বাট ফর উইমেন…
জিয়ানাও চোখ মাটিতে নামিয়ে মনে মনে গালি দেয়” হ্যাঁ রে শাকচুন্নি তোদের মতো পেতনীর জন্যই তো আমাদের মতো অবলা নারীর কপাল পুড়ে।”
তারপর মাথা উঠিয়ে বলে,

-“সেটাই। দেখো সু “থামে এখানে আহ্লাদ করে সুখ বললে এই শাকচুন্নি সন্দেহ করতে পারে। তাই আবার বলে,
-নিবিড়ের সাথে আমার নামে মাত্র বিয়ে হলেও সবাই জানে আমি বিবাহিত। বাসা থেকে একপ্রকার বের করে দিয়েছে আর না নিবিড় আমাকে এক্সসেপ্ট করবে।আর না আমার আর কোন গতি আছে। ছাড়ো আমার কথা এখানে আসার উদ্দেশ্য হচ্ছে তোমাকে থ্যাংকস জানানো।হইতো তোমার রেফারেন্সে নিবিড় আমাকে ছাড়তে পারে। তানাহলে নেতা মানুষ সামাজিক রেপুটেশনের জন্য আমাকে ঝুলিয়েই রাখতো। তুমি এই হেল্পটা আমাকে করবে প্লিজ?
রুহানী কিছুই বুঝেনি জিয়ানার কথা। তাই জিজ্ঞেস করে ,
-কি বললে? কিসের হেল্প? আমি ঠিক ক্যাচ করতে পারিনি তোমার কথা।
-আমার মনে হচ্ছে নিবিড় তোমাকে পছন্দ করে এন্ড ইউ টু।তুমি ওকে আমাদের ডিভোর্সের কথা বলবে আজ। তবে হইতো ও রাজি হবে।কারণ সমাজে নিজের ওয়েট বাড়াতে আমাকে বিয়ে করেছিলো। এইজন্য ছাড়তে পারছে না। আমাকে কি আর যায় ওর সাথে বলো? কোথায় তুমি আর কোথায় আমি….
আবার মনে মনে বলে” তুই গু কুত্তী। তোর চেয়ে আমাদের বাড়িতে পারটাইম হেল্পিং হ্যান্ড রহিমা খালা সেও ভালো ছিলো।শরীরে একছটাক মাংস নেই।মনে হচ্ছে স্ক্যালেটনের গায়ে একটা সাদা চামড়া পড়ানো শুধু। একমন ময়দা মেখে নিজেকে শেহজাদি ভাবছে। শেয়ালমুখী বান্দরনী কোথাকার।”
মনে মনে গালি দিতে পেরে জিয়ানার বাহিরের মিথ্যা প্রশংসা গুলোর জ্বলুনি কম লাগছে। এদিকে রুহানী গদগদ হয়ে জিয়ানাকে জড়িয়ে ধরে বলে,

-আহা বাচ্চা মেয়েটা এভাবে বলো না।তুমি কতটা সুইট তুমি জানো? এমন ন্যাচারাল বিউটি ওয়েট ওয়াও তোমার ফিগার তো মাইন্ডবোলিং। এখানেই দেখবে কতজন পটে যাবে তোমাকে দেখে। এত কষ্ট পেয়ো না মেয়ে।
“হ পটে যাক আর তোর নকল প্রেমিক তাদের পাছায় কিক করে ছাদ থেকে ফেলে দিক।তোর কপালেও দুর্গতি নাচতাছে। যা না ডিভোর্সের কথা বল তোর চেহারার ডিসপ্লে সার্জারী ছাড়াই পাল্টে দিবে।”
দূর থেকে নিবিড় কপাল কোচকে তাকিয়ে আছে এদের দিকে।মনে হচ্ছে দুই পরম আত্মীয় মোলাকাত করছে একে অপরের সাথে বহুদিন বাদ।অথচ হওয়ার কথা ছিলো চুলোচুলি। জিয়ানা মেয়েটা আনপ্রেডিক্টেবল। তাকে নিবিড় পড়তে পারে না।নেমে আসে স্টেজ থেকে।
কাছাকাছি আসার আগেই জিয়ানা ঘুরে লুনার দিকে চলে যায়।নিবিড়কে স্পষ্ট অপমান করা যেটাকে বলে।রুহানী নিবিড়কে দেখেই বলে,
-সী ইজ এন ইনক্রেডিবলি ওয়ান্ডারফুল গার্ল।তুমি ওকে ঝুলিয়ে রেখো না নিবিড়।
-ঝুলিয়ে রাখা মানে?
-তোমরা স্পেপারেট হয়ে যেতে পারো।অহেতুক সোসাইটির জোরে একটা সম্পর্ক তো আর বিল্ডাপ হয় না।
নিবিড় নিজের রাগ সংবরণ করে বলে,
-আমারা পার্সোনাল লাইফ নিয়ে এখানে কথা না বলি?
-ওকে ওকে সরি।
এরমাঝেই চারপাশ মুখরিত হয়ে উঠলো। কারণ রেজাউল সরকার এসে উপস্থিত হয়েছে পার্টিতে। সাথে আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য।
রুহানী তার পিতাকে দেখে হেঁসে সেদিকে যায়।এই ফাঁকে নিবিড় জিয়ানার কাছে গিয়ে ডান হাতের বাহু ধরে এক সাইডে এনে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,

-আয়ু কি ফুরিয়ে এসেছে তোমার? এক্ষুনি এই ড্রেস বদলে আসবে।শরীরের পাহাড় পর্বত দেখাতে হলে রাতে আমাকে দেখিয়ো। এখন দুই মিনিটের মাঝেই যাবা। অন্যথা হলে সবার সামনেই থা*প্পড় খাবা।
তারপর নিজের ব্লেজার খুলে জিয়ানার উপরে পড়িয়ে দিয়ে রেজাউল সরকারকে রিসিভ করতে যায় কিন্তু থামে জিয়ানার কথায়,
-ওও আমি পড়লেই পাহাড় পর্বত? অন্যরা পড়তে হট এন্ড সে*এক্সি না? আমার শরীর আমি যা ইচ্ছা করবো তুই কোন খেতের মুলা? চাল হাট।
বলে গটগট করে উল্টা হেঁটে ফুড কর্নারের দিকে যায়।এখন সে ইচ্ছা মতো অজানা খাবারের স্বাদ আবিস্কার করবে।কারো ওইসব চুলের থ্রেট সে থুরাই কেয়ার করে।
নিবিড় পেছনে না ফিরেই বুঝলো এই চরম বেয়াদব মেয়ে তাকে অপদস্ত করতেই এসব করছে।ঠিক আছে আপনা টাইম আগে গা। কেঁদে কেটে পা ধরলেও মাফ পাবে না।মনে মনে বলে হাঁটা ধরে সামনে।

কথায় আছে “ভোতা ছুড়ির চেয়ে ধারালো ছুড়ি দিয়ে খু*ন হওয়া ভালো ” তবে ধারটা হবে অদৃশ্য। রাজনৈতিক মার প্যাচ এতটাই জটিল যা দেখার জন্য কোন যন্ত্রই আবিস্কার হয়নি।এখানে অদৃশ্য অস্ত্র অনেক বেশি।একজন সার্ভ বয়কে নিবিড় ইশারা করে ড্রিংক্স সার্ভ করতে।নির্দিষ্ট গ্লাসটা রেজাউল সরকারের হাতে দিতেই নিবিড় কপাল চুলকিয়ে থাম্সাপ দেখায়।এটা সিগ্ন্যাল। সব ওকে।
রেজাউল সরকার গ্লাসে চুমুক দিয়েই মুখ কুচকে ফেলে।নিবিড় এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করে ,

-আর ইউ ওকে?
-নো।আইস বেশি হয়েছে ড্রিংক্সে।এখনই প্রচন্ড পেইন শুরু হবে দাঁতে।
নিবিড় সার্ভ বয়কে একটা থা*প্পড় দিয়ে বলে,
-পরিমাপ না জেনে সার্ভ করো? এত আনপ্রফেশনাল কি করে হয় এমন ক্লাবের ওয়েটার?
নিবিড়ের গর্জনে ক্লাব ম্যানেজার দৌঁড়ে এসে সাথে সাথেই ওয়েটারকে স্যাক করে দেয়।আর এক্ষুনি একজন প্রথম শ্রেণীর ডেন্টাল সার্জনকে আসতে বলেন।
ঝলমলে পার্টি হল একটু ঝিম মেরে যায়। মিউজিকের ভলিউম কমে আসে।গেইষ্টরাও উদগ্রীব হয়ে যায়। রুহানী সবাইকে কনটিনিউ করতে বলে। অপরদিকে রেজাউল সরকার দাঁতের ব্যাথায় কুপকাত হয়ে রেষ্টরুমে চলে যায়।রুহানী আর নিবিড় তার সাথেই যায়।
মিনিট পাঁচেক পরেই ডেন্টিষ্ট এসেই পর্যবেক্ষণ শুরু করে। এবং জানায় ,রেজাউলের আগের ফিলিংটা নষ্ট হয়ে যাওয়াই এত বেশি সেনসিটিভিটি হচ্ছে।আপাতত একটা অস্থায়ী ফিলিং করে দিচ্ছে কাল চেম্বারে গিয়ে স্থায়ী ফিলিং করতে হবে।
কাল আর আসবে না রেজাউল সরকারের জীবনে।এই অস্থায়ী ফিলিংয়ে চাপ লাগার সাথে সাথেই একটা অদৃশ্য মেডিসিন জিহ্বায় মিশে যাবে।আর ঠিক তিনঘণ্টা পর হার্টে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।

জিয়ানা চেইঞ্জ করে আবার আগের চেহারায় ফিরে গেছে।কারণ অবশ্য মেহেদীর নজর।এমন বাজে দৃষ্টিতে তাকিয়েছে যা জিয়ানার শরীরের ঘিনঘিন ধরে গেছে।যাকে জ্বালানোর জন্য এই সাজ তার খবর নেই আর তার ভাইয়ের হুশ নেই। সেই ড্রেস ফেরত দিয়ে একটা লাল আর গোল্ডেন শাড়ি নিয়েছে।কিছু না নিলে খারাপ দেখা যায় তাই নেয়া। অহেতুক দামী জিনিস তার পছন্দ না।কবে পড়বে কে জানে।তবে নিবিড়কে জ্বালানোর জন্যই পড়বে। শাড়ির সাথে স্লিভলেস ব্লাউজ আছে।বেটার মাথা ঘুরিয়ে দিবে। এক্সিডেন্টাল বিয়ে করেছে এই প্রচার করা হয়েছে তো একটা সুযোগ পেলে জিয়ানা সুধে আসলে উসুল করবে।
রুহানী আর নিবিড়ের একসাথে রং ঢং করে কেক কাটা দেখে জিয়ানার পিত্তি জ্বলে যায়। কিন্তু সেই জ্বলা তো কাউকে দেখানো যাবে না।বরং সে খুবই স্বাভাবিক আছে দেখানোর জন্য হেঁসে হেঁসে স্টেজে উঠে রুহানী আর নিবিড়ের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ায়।হাতের কনুই দিয়ে নিবিড়কে গুতো দিয়ে সরিয়ে দেয়।অল্প একটু কেক নিয়ে আদর করে রুহানীকে খাইয়ে কানে কানে বলে,

-আম রিয়েলি রিয়েলি সরি সুইটহার্ট। তোমার জন্য আজ একেবারেই খালি হাতে এসেছি।তবে তুমি চাইলে আস্ত সুখনীল নিবিড়কে গিফট করতে পারি।
রুহানী জিয়ানাকে জড়িয়ে ধরে বলে,
-আমি না ,তুই একটা আস্ত সুইটহার্ট ডার্লিং। ফোন নাম্বারটা রাখো ইউ ক্যান কল মি এনি টাইম।
নিবিড় এদের এত মিল মহব্বতের কোন মানেই বুঝতে পারছে না।জিয়ানা রুহানীর কানে কানে আবার বলে,
-ইউ ক্যান কনফেস ইউর লাভ। বাহিরে অনেক প্রেস অপেক্ষা করছে তোমাদের জন্য। এটাই মোক্ষম সুযোগ।এখন আমার যেতে হবে। বাই বিউউটিফুল।

বলে নিবিড়কে চিনেই না এমন ভাব করে নেমে আসে স্টেজ থেকে।নিবিড়ের পাশের ওয়টারকে বলে,
-আমি ওয়েটিং রুমে একটা ভালো নামী ব্রেন্ডের স্যুট রেখেছি।ওইটা আপনি নিয়ে নিতে পারেন।ইটস গিফট ফর ইউ।এন্ড ইউ আর সো হ্যান্ডসাম।ওয়েটার হিসেবে একেবারেই মানাচ্ছে না।ইউ লুক লাইক ইয়াং টম ক্রুজ।
তারপর একটা চোখ মেরে চলে আসে সেখান থেকে।
নিবিড়ের চোয়াল শক্ত হয়ে ফেটে যাওয়ার যোগাড়। কিন্তু ভাবমূর্তি অপরিবর্তিত রেখেছে।সে চায় না এখানে কেউ জানুক জিয়ানা নিবিড়ের স্ত্রী। এমনিতেই শকুনের অভাব নেই।নাচতে নাচতে এই মেয়ে এমন পার্টিতে চলে এসেছে।ফ্ল্যাটে গিয়ে উচিত শিক্ষা না অনুচিত শিক্ষা দিবে আজ একে।
জিয়ানা বের হবে তখন একজন ওয়েটার বলে তাকে অপেক্ষা করতে। নিবিড় স্যার বের হলে তার যাওয়ার অনুমতি আছে।জিয়ানা বলে,

-নিবিড় স্যার কে আমি চিনি না।আমি এসেছি একা যাবোও একা।
-তাহলে মিস আপনার মেম্বারশিপ কার্ডটা একটু কাইন্ডলি শো করুন প্লিজ।
এইবার জিয়ানা বাধ্য হয়েই পাশের ডিভানে বসে। মেহেদী অফার করলো একসাথে ফেরার।কিন্তু জিয়ানা এই লোকের মুখও দর্শন করতে চায় না আর।মুখ না যেনো মেনহোলের ডাকনা ,খুললেই বিশ্রী গন্ধ।
পাশে দুইজন ঝাকানাকা আন্টি কাম ডান্সিং স্টার যাদা মহিলা খোশগল্প করছে।
কালো শাড়ি পড়া ঝাকানাকা মহিলা বলছে,
-আঁপনার এ্যাই রুঁবির রিঁংটা প্রওওচন্ড সুঁন্দর ভাআআবি।
গোল্ডেন শাড়ি স্লিম আন্টি বলে,
-ওওও থ্যাংস আ লঁট। ইঁউ নো দিস ওয়ান ফ্রম ইঠলি?
-ইঠেলি? ও মাই গষ। হাউ মাচ ইজ দিস?
-ডোন্ট নো ইট ওয়াজ টুঁঠালি গিফট।
-ইউ আড় লাখি এনাফ।

জিয়নার কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে এদের অভার উচ্চারণ শুনে।কানে রক্ত ক্ষরণও শুরু হতে পারে যেকোন মুহুর্তে। এরা এইভাবে জিহ্ব আটকে কথা বলে কেন? এদের কি পোলিও খাওয়ানো হয় নাই? ইতালি কে ইঠলি?টোটালি কে টুঁঠালি?লাকি থেকে লাখি?ইয়াক উচ্চারণের ধর্ষক এরা। এদের যাবত জীবন কথা না বলার শাস্তি দেয়া উচিত।মেজাজ যখন তুঙ্গে নিবিড়ের সামনে রুহানী ঠোঁট উল্টে বাচ্চাদের মতো করে কি জানি রিকুয়েষ্ট করছে।
সেটা দেখে মনে মনে নিজের উদ্ভাবনীয় অদ্ভুত গালী গুলা আওড়ানো শুরু করলো।আর কল্পনা করে অদ্ভুত সব কান্ড ঘটেছে রুহানী আর নিবিড়ের।এরমাঝে একটা হচ্ছে,
“নিবিড়ের কারেন্টের শকড লেগেছে।সারাশরীর কেপে কেপে ঝিমাচ্ছে সে।রুহানী নিবিড়কে বাঁচাতে গিয়ে নিজেও শকড খেয়ে পাগলদের মতো চুল উষ্কখুষ্ক হয়ে উড়ছে। আর জিয়ানা গিয়ে নিজ পায়ের চামড়ার স্যান্ডেল দিয়ে দুইজনের নিতম্বে মেরে মেরে কারেন্ট ছাড়াচ্ছে।”
খিলখিলিয়ে হেঁসে উঠে নিজের অদ্ভুত চিন্তার জন্য।আশেপাশের অনেকেই তাকায় হাঁসির শব্দে।জিয়ানা তাদের তাকানো দেখে হাঁসি বন্ধ করে। কিন্তু হাঁসি থামে না তাই আবার খারাপ চিন্তা শুরু করলো
“কারেন্টের শকডে দুইজনই ইন্না-লিল্লাহ হয়েছে।জিয়ানা এবার নিবিড়কে ধরে কান্না করছে কিন্তু পাশে তাকিয়ে রুহানীর শাকচুন্নি মার্কা চেহারা দেখে কান্না বাদ দিয়ে হোঁ হোঁ করে হেঁসে উঠলো আবার।

পার্টি শেষ করে নিবিড় আর রুহানী বের হয়। জিয়ানার মনে হলো এইটা মাইয়া না এইটা চুইংগাম। পারে না নিবিড়ের শরীরের সাথে চিপকে লেগে থাকতে। ড্রেস একটা পড়ছে ক্লিভেজ পুরাটাই দেখা যাচ্ছে। একটু ফু দিলেই সেন্টারের ডট প্রদর্শিত হয়ে যাবে।আর নিবিড় সেও কেমন মধু মধু করে কথা বলছে। অথচ জিয়ানার সাথে একটা কথা ভালো বললে পরেরটা চ*ড় না হয় গলা টিপা। জিয়ানা মনে মনে কঠিন প্রতিজ্ঞা করে এই পুরুষের চরম আবেগের মুহূর্তে সে টুপ করে বাথরুমে ঢুকে যাবে। জিয়ানার ধ্যান ভাঙে প্রেসের প্রশ্নে।
-স্যার আপনার নামে শুনেছি মামলা হয়েছিলো। আর আপনি কাল থানায় ছিলেন সারারাত।তাহলে কিভাবে বের হলেন এত জলদি?

-সন্দেহের খাতিরে উনারা এনকোয়ারির জন্য নিয়ে গিয়েছিলো।আপনারা তো জানেনই পলিটিক্যাল কত রকম ষড়যন্ত্রের শিকার আমাদের হতে হয়। এটাও তেমন কিছু একটা ছিলো।
অন্য একজন প্রশ্ন করে,
-ধর্ষণের পর খু*নের মামলা হওয়ার কথা ছিলো শুনেছি।এতবড় একটা অপরাধের সাথে আপনাকে জড়ানোতে আপনার অভিব্যক্তি কি?
-অবশ্যই সুখকর কিছু না।আমাদের ক্যারিয়ারে যেমন অঢেল সম্মান আসে তেমনই অসম্মানও কিছু কম কুড়াই না।
-আপনাকে থানায় নেয়ার পর সাভারে অসংখ্য বিশৃঙ্খলা হয়েছে।এগুলা কি আপনার পার্টির ছেলেপেলে ছিলো?
-অবশ্যই না।আমার পার্টির মূলনীতিই হচ্ছে অহিংস রাজনীতি। তাছাড়া পার্টির প্রতিটা ছেলেই সারাদিন আর রাত আমার জন্য না খেয়ে থানার সামনে অহিংস আন্দোলন করেছে। আমরা যদি তৃণমূল পর্যায়ের ছেলেপেলেই না সামলাতি পারি দেশ সামলাবো কিভাবে?
পেছন থেকে একজন প্রশ্ন করে ,

-শোনা যাচ্ছে রেজাউল সরকারের সাথে আপনার অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছে। এটা কি সত্যি?
-কোন্দল চললে কি উনার পারিবারিক প্রোগ্রামে থাকা হতো?
-একটা ব্যাক্তিগত প্রশ্ন স্যার?
-আপনাদের সাথে আমার ব্যাক্তিগত কোন সম্পর্ক নয় তাই ব্যাক্তিগত কোন প্রশ্নও করবেন না।
জিয়ানা এবার নিজের ফোনের ক্যামেরা অন করে ভীড়ের মাঝে থেকে প্রশ্ন করে ,
-সাভার থানার প্রতিটা ওয়ার্ডে কাল সারাদিন আর রাতে লুটপাট হয়েছে। অসংখ্য ক্ষুদ্র বৃহৎ ব্যবসায়ী পথে বসে যাবে এতে।আপনারা কি পদক্ষেপ নিবেন এর জন্য?
নিবিড় স্বাভাবিক ভাবেই উত্তর দেয়,
-অবশ্যই আমরা জড়িতদের ধরতে পুলিশকে সাহায্য করবো।আইনের কাজে যদিও পার্টির হস্তক্ষেপ গ্রহনযোগ্য না।
-যতটুকু জেনেছি এই ক্লাবে প্রোগ্রাম করতে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মিনিমাম লাগে।যা দিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ সম্ভব হতো।সেটা না করে আপনি বান্ধিবীর বার্থডে সেলিব্রেট করছে।এটা কি একটা অরাজনৈতিক আচরণ নয় স্যার?

জিয়ানার প্রশ্নে বাকি সবাই তার দিকে অবাক নেত্রে চায়।ক্ষমতাসীনদের নম নম করে নরম প্রশ্নই করাই এই দেশের প্রেসের কাজ।তাই তো পাবলিক নাম দিয়েছে হলুদ সাংবাদিক। কেউ কেউ ব্যাঙ্গ করে বলে সাংঘাতিক।এই মেয়ে কোত্থেকে এসে এমন কড়া প্রশ্ন করছে?
রুহানী অবাক হয়, সুইট জিয়ানা হঠাৎ কেমন রুক্ষভাষী হয়ে যাওয়াই।
নিবিড় ঠোঁট কামড়ে বলে,

-ম্যাডামকে দেখে স্টুডেন্ট মনে হচ্ছে। প্রোফেশনাল কেউ ছাড়া আমি যদিও উত্তর দেই না।তবুও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন যেহেতু উত্তর টা হলো” এই ক্লাব বুকিং দিতে হয় মাসখানেক আগে থেকেই উইথ ফুল পেমেন্ট ।তখন তো নিশ্চয়ই কেউ জানতো না গতকাল লুটপাট হবে? আর একটা ইনফরমেশন ,আমার ক্যারিয়ার মাত্র শুরু। এক্সট্রা বিজনেসও নেই যে আমি এফোর্ড করতে পারবো এমন লাক্সারিয়াস ক্লাবের প্রোগ্রাম কস্ট। আপনার কথা মতো আমার বান্ধবীর বাবাই এরেঞ্জ করেছে সব।আমি জাষ্ট ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট করেছি।
আর কোন প্রশ্ন নয় প্লিজ।আমরা অনেক ক্লান্ত বলে নিবিড় ভীড় ঠেলে বের হয়ে যায়।
জিয়ানাও সুযোগ পেয়ে চিপাচাপা দিয়ে লুকিয়ে বড় রাস্তায় এসে পড়ে।আশেপাশে এখানে কোন গাড়ি পাবে না।ভিআইপি এড়িয়া হওয়াই সবাই প্রাইভেট কার ইউজার।তাই স্বীদ্ধান্ত নেয় হেঁটে গুলগান ২পাড় হতে পারলে সিএনজি পাবে।কিছুটা যেতেই বিধিবাম একজন বাইকার হার্ডব্রেক করে জিয়ানার সামনে দাঁড়ায়।জিয়ানা হঠাৎ ঘাবড়ে যাওয়াই হাতের শপিং ব্যাগ রাস্তায় পড়ে যায়। সেই ব্যাগ তুলতে তুলতে মুখ থেকে বের হয়,

-বা*লের ড্রাইভার এ্যাঁ? নাকি মাইয়া মানুষ দেখলে শরীরের কুড়কুড়ানি বেড়ে যায়? যত্তসব বাতেলা পাবলি….
খেয়াল করে দেখে হেলমেট পড়া হলেও এটা নিবিড়। ঢোক গিলে বলে,
-আসসালু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহি ওয়া বারাকাতু। ভালো আছেন?
-বাসায় গিয়ে সালামের উত্তর দিবো আজ।কুইক উঠো।
বলে হাতের শপিংব্যাগ কেড়ে নিয়ে সামনে ঝুলায়।আর প্রশ্ন করে
-কি এটা?
-গু।আপনি যান। আমার একটা কাজ আছে।
বলে হাত বাড়ায় ব্যাগ নেয়ার জন্য কিন্তু নিবিড় বাধা দিয়ে বলে,
-এএএক…
-সত্যি কাজ আছে। আপনার কসম…
-দুইইইই…
-আরেহ দূর এমন করেন কেন? আপনি থানায় থাকলেই ভালো।

বলে উঠে বসে বাইকে।মাঝখানে বিস্তার খ্যাপ রাখে।নিবিড় বাইক স্টার্ট করেই কড়া একটা টান দেয়।একটানে জিয়ানা নিবিড়ের পিঠে আছড়ে পড়ে। জিয়ানা সরে না গিয়ে হাত দিয়ে হেলমেটের ফাঁক দিয়ে নিবিড়ের গলা জোরে চেপে ধরে বসে।নিবিড় হোঁ হোঁ করে হেঁসে বলে,
-এমন পিপড়ার মতো হাতের চাপে আমার কিচ্ছু হবে না জিয়নকাঠি।এনার্জি জমিয়ে রাখো আজ তোমার খবর আছে।
জিয়ানা সরে বসে পেছন থেক ব্যাঙ্গায়
“জিঁয়নকাঁঠি।খঁবর আছে।
লুকিংগ্লাসে নিবিড় পুরাটাই দেখে মুচকি হাঁসে।

মাঝামাঝি রাস্তায় এসে নিবিড় একটা নির্জন রাস্তায় টং দোকানের সামনে বাইক থামায়। আলোর বিক্ষেপণ শুরু হওয়াই আকাশ লাল হয়ে উঠেছে।ধরনীতে দিনের আলোর নিভু নিভু। পাখিরা বাসার অভিমুখী। শা শা করে দ্রুত গতিতে থেকে থেকে হাইওয়ে তে গাড়ি ছুটে যাচ্ছে।এমন মায়াবী পরিবেশ মন ভালো করার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু নিবিড়ের মন ভালো হচ্ছে না।স্মোক না করলে এই মেজাজ আপাতত ভালো হবেও না।
জিয়ানা বাইকে বসেই বলে,
-থামলেন কেন?
-স্মোক করব বলে।

দোকানে ঢুকে একপ্যাকেট সাদা শলাকা নিকোটিন কিনে বের হয় নিবিড়।জিয়ানাও বাইক থেকে নেমে পাশের বড় একটা সাইরিস বা শিলকরোই গাছের নিচে দাঁড়ায়।গ্রীষ্মের শেষ হওয়াই ফুল থেকে লম্বা লম্বা ফল ঝুলছে সারা গাছময়।এই গাছের ফুল জিয়ানার পছন্দ খুব।মৃদ্যু একটা সুগন্ধ থাকে।চোখধাঁধানো শুভ্র আর গোলাপী ফুল গুলোও মনোরম। সিগারেটের গন্ধে জিয়ানা পাশে ফিরে দেখে ভনভন করে ধোঁয়া ছাড়ছে নিবিড় নাক মুখ দিয়ে।কপাল কুচকে জিজ্ঞেস করে ,
-ধোঁয়াও খাওয়া যায়? কেমন লাগে? দেন তো একটান খেয়ে দেখি?
-খেতে চাও?চলো।
বলে জিয়ানাকে টেনে গাছের আড়ালে নিয়ে নিজের আগুনে পোড়া অধর মিলিয়ে দেয় জিয়ানার অধরে।
জিয়ানার চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে কিল ঘুষি দিতে থাকে নিবিড়কে।তীব্র ঝাঁঝালো ধোয়াময় স্বাদে তার মুখের তালু জ্বলে যাওয়ার উপক্রম। নিবিড় জ্বলন্ত সিগারেট দুই আঙুলের মাঝে নিয়ে সেই হাত দিয়ে চেপে ধরে কোমড় আর আরেক হাত দিয়ে ঘাড়। জিয়ানা শরীর নড়াচড়া না করতে পারলেও হাত পা ফ্রি। হাটু উঠিয়ে যখন আঘাত করবে হুট করে ছেড়ে নিবিড় পিছিয়ে গিয়ে বলে,

-কেমন লাগে?
একবারে বুঝা যায়নি ,আবার আসুন।নিবিড় বিনা সংকুচে এগিয়ে গেলে জিয়ানা এবার আর সুযোগ দিলো না তাকে।নিজের আগ বাড়িয়ে অধর আকড়ে ধরে। সামনের দুই কর্তনদন্তের সাহায্যে চেপে ধরে নিবিড়ের ওষ্ঠপুট। নিবিড় ঘুনাক্ষরেও অনুমান করতে পারেনি কোন মেয়ে এই কাজ করতে পারে।ঠোঁট কাটতে থাকলেও কোন রিয়েক্টশন দেখালো না নিবিড়।জিয়ানা শক্তি দিয়ে কামড়ে ধরার ফলে যখন কেটে নোনতা স্বাদ লাগলো জিহ্বায় তখন ছেড়ে দিয়ে থু থু করে বলে,
-আপনার কেমন লাগলো? বিনা অনুমতিতে আবার এমন আচরণ করলে আমি আপনাকে খু*ন করবো সুখ?
-আসো করো।
-জিয়ানা এগিয়ে গেলে নিবিড় কাটা ঠোঁট দিয়েই লম্বা টান দিয়ে ফেলে দেয় সিগারেট। তারপর জিয়ানার দুইহাত নিজের একহাতে পেছনে আটকিয়ে আবার অধরের দিকে এগিয়ে বলে,
-তোমার প্রতিটা অবাধ্যতার শাস্তি পাবে এখন থেকে।এখন শাস্তি তো আর অনুমতি নিয়ে দেয়া যায় না তাই না?
জিয়ানা দাঁতে দাঁত চেপে বলে,

নীতিহীন রাজ পর্ব ৪৭

-এগুলা শাস্তি নাকি নিজের লালসা মিটানো?
-তোমার জন্য শাস্তি আমার জন্য যা ইচ্ছা ভাবতে পারো।
বলে টেনে বাইকের কাছে এনে ইশারা করে বসতে।থমথমে মুখে জিয়ানা উঠে বসে বাইকে।আর ভাবতে থাকে জিয়ানা যেনো ইদুর আর নিবিড় বিড়াল।তাকে ঠিক ইদুরের মতো করেই যেমন ইচ্ছা খেলছে।শরীরটা মেয়ে মানুষের হওয়াই কত কমজোর সে।কি হলো এত ট্রেনিং ফেনিং করে।সেই তো কোন ছেলের সাথে পারে না।না পারে না কে বলেছে? কিন্তু এই লোকের সাথে পারে না কেন? একাই দুই তিনজন পুরুষকে জিয়ানা কাবু করতে পারে। তবে জিয়ানার মন আর শরীর কি এই লোকের কাছে দূর্বল? এইজন্যই কি মাথা কাজ করে না? কবে একদিন ইচ্ছা মত প্যাদানী দিতে পারবে? ঠিক আছে শক্তি দিয়ে না পারুক ,অন্যকিছু তো এপ্লাই করতেই পারে। বাঁকা হাঁসে মনে মনে।

নীতিহীন রাজ পর্ব ৪৯