Home নীতিহীন রাজ নীতিহীন রাজ পর্ব ৫৫

নীতিহীন রাজ পর্ব ৫৫

নীতিহীন রাজ পর্ব ৫৫
আশিকা আক্তার সোহাগী

“ভালোবাসা যখন অন্ধ হয়ে যায় তখন স্বার্থপরতা আসে”- সমরেশ মজুমদার
রাফিন আজ একসাথে অন্ধ আর জ্ঞানশূন্য হয়ে গেছে।নিজের স্বীকৃতি প্রাপ্ত স্ত্রীর প্রতি তার অধিকার অস্বীকার করার কোন জায়গা নেই।কিন্তু একটা সম্পর্কের হ্যাসেল তখনই শুরু হয় যখন প্রণয় ছাড়া অধিকার স্থাপিত হয়।একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের কামনার ক্ষোভের নিচে পিষ্ঠ হচ্ছে সাদামাটা এক উনিশ বসন্ত পাড় করা কন্যা।স্বামী প্রথম স্পর্শে সে দেখতে পেলো শুধু চাহিদা আর চাহিদা। না কোন প্রেম না আদুরে স্পর্শ।আবেগের এই বয়সে নিজের শরীরটাকে মনে হলো একদলা মাংসপিণ্ড।

ক্ষুদ্ধ পাগলপ্রায় রাফিন যখন নিথর হয়ে পাশে শুয়ে পড়লো ,সাফা তখনো ছাদের দিকে নিটোল চোখে চেয়ে।চোখের পানি অনেকক্ষন হয় শুকিয়ে মরা নদীর মতো কান পর্যন্ত পথ তৈরি করে রেখেছে।
আচম্বিতে রাফিনের যখন জ্ঞান হলো ,তার দুনিয়া আবার টলতে শুরু করে।মেঘের ঘর্ষণের মতো কন্ঠনালী চিরে বেড়িয়ে এলো তীব্র গর্জন। সেই সাথে দুই হাতে খামচে ধরে মাথার চুল।সেই গর্জনে কেপে উঠলো নূর ম্যানসন।
সাফা ফুপিয়ে কেঁদে উঠে ভয়ে।রাফিন উল্টে গিয়ে চটাং করে চ*ড় লাগায় নরম গালে।তারপর রাগে রি রি করে বলে,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

-আমার রুমে কেনো এসেছো বেয়াদপ মেয়ে?স্বামীর সোহাগ পাওয়া হয়ে গেছে এবার চোখের সামনে থেকে সরো।গেট আউট ফ্রম মাই রুম।রাইট নাও।
সাফার কান্না দাপট বাড়ে সে কান্না মিশ্রিত গলাতেই বলে,
-আমি নড়তে পারছি না।কাউকে ডেকে দেন আমাকে নিয়ে যাবে।
রাফিন পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে দ্রুত সাফার কাছে চলে যায়।ব্যাডসিট দিয়ে ঢাকতে ঢাকতে মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে,
-শিট শিট।
সাফাকে পাজাকোলে উঠিয়ে বাথরুমে রেখে গিজার অন করে দেয়।বাথটাবে গরম আর ঠান্ডা পানি স্কিন কম্ফি টেম্পারেচারে মিক্সড করে শুয়ে দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বলে ,

-আম সরি। আম এক্সট্রিমলি সরি।পাঁচ মিনিট এভাবেই থাকো আরাম লাগবে।আমি মেডিসিন আনছি।
রাফিন বের হয়ে গেলে সাফা বাথটাবে মাথা এলিয়ে দেয়।এবার তার শরীরের সাথে মনেরও আরাম লাগছে।রাফিন প্রচন্ড সুইট পার্সোন।সাথে প্রচন্ড হামবেল। এক যুগের বড় বয়সের একজনকে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে দুইবার ভাবেনি সাফা শাখাওয়াত।লম্বা শরীরটা ছোট বড় সবার সামনে মাথা নুয়ে কথা বলে সবসময়। সাফা প্রথম যেদিন রাফিনকে দেখলো সে অবাকই হয়েছে একজন পুরুষও এতটা সুন্দর হতে পারে সাথে প্রচন্ড বিনয়ী। দুই মিনিট কারো সাথে কথা বললে সে নিশ্চিত প্রেমে পড়বে এই লোকের।কিন্তু সেতো মন প্রাণ সব দিয়ে রেখে আরেকজনের কাছে।আজ খাবার বসে সাফা খেয়াল করেছে ,নিবিড় যখন জিয়ানাকে খাওয়াচ্ছিলো রাফিন টেবিলের নিচে নিজের একহাত দিয়ে অন্যহাত কি পরিমান শক্তি দিয়ে চেপে ধরে রেখেছিলো।

রাফি আর জিয়ানার করিডোরে দাঁড়ানো সমস্ত কথা সাফা শুনেছে।পাশের পিলারের আড়ালে আগে থেকেই দাঁড়িয়ে বাগান বিলাশ পাড়ার চেষ্টা করছিলো সাফা।অল্প আলো থাকায় তাকে কেউ খেয়াল করেনি।
রাফিনের প্রতিটা কথা তার হৃদয়ে তলোয়ারের আঘাতের মতো লেগেছে।কিন্তু জিয়ানাকে দেখে অবাক হয়েছে।কি তার কথার টোন।কি কনফিডেন্স। প্রতিটা কথার কি পরিমান ধার। কথা বলার সময় চোখ মুখের স্থিরতা দেখেই সাফা বুঝেছিলো কেনো রাফিন এই মেয়ের জন্য অন্ধ।জিয়ানাকে বাহ্যিকভাবে মনে হবে বিশেষ কিছু না।কিন্তু তার সাথে কেউ পাঁচ মিনিট কথা বললেই বুঝবে অত্যাধিক বিশেষ এই মেয়ে।সাফা হতে পারবে না তার মতো।এত স্ট্রেইট ফরয়োড আর সাহস সাফার নেই।তার প্রচন্ড হিংসা করা উচিত জিয়ানাকে কিন্তু তখনকার কথা গুলার জন্য মানব চরিত্রের বিরোধী আচরণ করছে তার মন। শ্রদ্ধা আসছে বারবার।

কিন্তু আজকে না চাইতেও রাফিন যে সম্পর্কের জেরে এগিয়ে গেলো সেটা তো আর পেছাবে না কখনো।সাফার না আছে মাথার উপর ছাদ আর না আছে পায়ের নিচে মাটি।ছোট একবোনকে নিয়ে তার মা কোন রকম চলতে পারবে কিন্তু সে যদি শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয় তবে অকুল পাথারে পড়া ছাড়া উপায় নেই।তাই তো প্রথম থেকেই রাফিনের উদাসীনতা দেখেও তার মাকে বলেছে “রাফিন অনেক অনেক লাজুক। তাই আসতে লজ্জা পায়।” না বাহানা দিয়ে এক বছর থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে সম্পর্কটা।এভাবে না হয় সারাজীবনই তার দিক থেকে চেষ্টা চালাবে।
বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে তার।

ভূপতিত গাছের পাতার মতো নির্জিব হয়ে নিবিড়ের শরীরের একাংশের নিচে শুয়ে আছে জিয়ানা।ঊর্ধ্বাংশ উন্মুক্ত তাদের।নিবিড়ের টানাটানিতে মাঝ বরাবর ছিড়ে গেছে গায়ের ট্রি-শার্টটা।ইচ্ছা করেই করেছে নিবিড় এই কাজটা।অথচ এখন এমনভাবে ঘুমাচ্ছে যেনো কত নাদান নিষ্পাপ জেন্টেলম্যান।ঘন্টাখানেক আগেও ময়দার ডো এর মতো চটকেছে জিয়ানাকে।জায়গায় জায়গায় জ্বলছে এখন।কিছু করবে না কিছু করবে না ,বলে বলে সারা শরীরে বিচরণ করেছে ফেরেববাজ লোকটা। ব্যাটা মানুষের জাতটাই ইতর।

ঘাড় ঘুরিয়ে সম্পুর্ন নজরে তাকায় নিবিড়ের মুখের দিকে।ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে জিয়ানার ইচ্ছা হলো উঁচু নাকটাতে একটা কামড় বসাতে।কিন্তু নিজেকে সংবরণ করে।নাকের প্রতি আলাদা ভাবে সে অবসেসড। নিজের নাকটা মাইনাসের ঘরে হওয়াই সুন্দর নাক তাকে টানে।নিবিড়ের নাকটা খুব শার্প।তবে বড্ড ডিস্টার্বও করে এই নাকটা আর দাঁড়ি গুলা।এই জন্য জিয়ানার সুড়সুড়ি আরও বেশি লাগে।
একটু নিচু হয়ে গলার কাটাটা আবার দেখার চেষ্টা করলো।আসলেই কি কোন মা নিজ সন্তানের গলায় ধারালো অস্ত্র ধরতে পারে?কি হয়েছিলো এদের সবার? এত অদ্ভুত কেনো হবে মানুষের সম্পর্ক? জিয়ানার মস্তিস্ক কৌতূহলের ঝড়। কাকে জিজ্ঞেস করলে উত্তর দিবে? তার মস্তিস্কের উচাটন সারা শরীরে স্প্রেড হয়।নিবিড়ের জায়গায় নিজেকে চিন্তা করে অস্থির লাগে। জিয়ানার ভেতরগত অস্থিরতা বাহিরেও প্রকাশ পায়।সেই অস্থিরতায় নিবিড়ের ঘুম ছুটে যায়।চোখ বন্ধ করেই বলে,

-এত ছটফট করলে ঘুমাবো কিভাবে?
আচানক কথা বলায় এবারও জিয়ানা মৃদ্যু চমকায়।তবে নিজেকে সংবরণ করে বলে,
-ওও আপনি ঘুমিয়েছেন?
-কোন সন্দেহ?
-না সন্দেহ নেই।তবে নিজে ঘুমালে হবে শুধু নিজের সাথে আপনার শরীরকেও ঘুমাতে নিন।
নিবিড় জিয়ানার ইঙ্গিত বুঝে মুচকি হেঁসে বলে,
-তুমি পাশে থাকলে সেটা পসিবল না।তোমার শরীরের প্রভোকিং স্মেলে শিরা উপশিরা সব জাগ্রত।
জিয়ানা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে,

-সুখ?
-হুম।
-নিজের সমস্যা কিংবা কষ্ট কাছের কাউকে বলার মাঝেও এক প্রকার হিলিং কাজ করে জানেন?
-আজ জানলাম।
-আপনার সিক্রেট রুমের সিক্রেট ডায়েরি গুলা ফাঁকা কেন?অন্ধকারে শুধু একটা পড়া গেছে।
-আলোতে দেখতা বাকি গুলা?
-মানে?
-বাকিগুলা সিলভার কালার পেন্সিলের লেখা।কড়া আলোতে দেখা যায়।
বলে হোঁ হোঁ করে হেঁসে দেয় নিবিড়।জিয়ানার কাছে কিছুক্ষণ আগে সে হাঁসি অতি চমৎকার লেগেছিলো ,সেটা এখন খাটাশের মতো লাগলো। তবুও মাথা ঠান্ডা রাখে।যদি ইনিয়েবিনিয়ে কথা বের করা যায়।অতিরিক্ত ধুরন্ধ মানুষের সাথে ঠান্ডা মাথা ছাড়া কথা বলা বোকামি।তাই নিবিড়ের মাথা ভর্তি চুলে হাত গলিয়ে বলে,

-আমি আপনাকে যদি কিছু প্রশ্ন করি উত্তর দিবেন?
-না।
-প্লিজ?
-আমি প্রশ্ন করতে পছন্দ করি। উত্তর দিতে না।
জিয়ানার ঠান্ডা মাথায় আগুন ধরে গেলো।জীবনে কাউকে তেল মর্দন না করা জিয়ানা জামাইয়ের খাতিরে কত উতু উতু করছে। তবুও ব্যাটার হেলদোল নেই।
-সর ব্যাটা।
বলে ঝাড়া মেরে নিবিড়কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে নেমে যায় জিয়ানা।ফ্লোরে পড়ে থাকা নিবিড়ের ট্রি-শার্ট পড়ে আবার স্কার্প গলায় ঝুলায়।নিবিড় মাথা উঁচু করে বলে,

-এ্যাই বেয়াদব বউ? যাও কোথায়?
-জাহান্নামে।
বলে দরজা খুলে ধপাধপ বের হয়ে যায় জিয়ানা।নিবিড় ভেতর থেকেই বলে,
-দুই মিনিটের মাঝে না আসলে খবর আছে তোমার।তারপর বিছানায় শরীর ছেড়ে ভাবে
“সে কি বউ পাগলা হয়ে যাচ্ছে নাকি? এই যে মাত্র ন্যানো সেকেন্ড হয় জিয়ানা নেই,এখনোই কেমন উচাটন অনুভব করছে।কি মুসকিল। যেখানে সারা দুনিয়ার মানুষের চেহারা দেখলেই নিবিড়ের মেজাজ চড়া হয়ে যায় ,সেখানে জিয়ানার দিকে তাকালে মনে হয় রাগ কি এই গ্রহের প্রাণির বৈশিষ্ট্য?
জিয়ানা যেখানে শুয়েছিলো সেখানে নাক ডুবিয়ে গুনগুন করে ,
“লাষ্ট নাইট ইউ ওয়ার ইন মাই রুম
নাও মাই বেডসিট স্মেল লাইক ইউ
এভ্রি ডে ডিসকভার সামথিং ব্র‍্যান্ড নিউ”
-ইডি শিরান

নিশাচর প্রাণী আর সাংবাদিকদের কাজের উপযুক্ত সময় নিশুতি রাত।জিয়ানা পায়ের স্যান্ডেল খুলে একসাইডে রাখে।তারপর নিশ্চুপ পায়ে প্রথমে দ্বিতীয় তলায় সবার রুমের দরজায় দরজায় গিয়ে কিছুক্ষণ করে দাড়িয়ে থাকে।শুধু রাফিনের ঘরে সাফার কান্নার শব্দ পেয়ে সেখানে দাঁড়ায় না।
মেহেদী আর মাইমুনার ঘর নিশ্চুপ।দুতলায় সবার বেডরুম হলে তিনতলায় কি? সেখানে জিয়ানার যাওয়া হয়নি। তাই ধীর পায়ে করিডোর ধরে এগোতে থাকে সিঁড়ির দিকে।একটা দরজা দিয়ে অল্প আলো ঠিকরে বের হচ্ছে দেখে জিয়ানা সেদিকে যায়।এটা মামুন ইসলামের ঘর।কিছুক্ষণ আগেও বন্ধ ছিলো দরজা।সেই অল্প ফাঁকা দিয়ে জিয়ানা একচোখে দেখার চেষ্টা করে।মামুন ইসলামের সামনের ভাগ দেখা যাচ্ছে। স্বপ্নার কথা শোনা যাচ্ছে কিন্তু দেখা যাচ্ছে না।
স্বপ্না মামুন ইসলামের সামনে গিয়ে হাত থেকে এলবামটা একপ্রকার কেড়ে নেয়।তারপর সেটা ফ্লোরে ছুড়ে মেরে বলে,

-লজ্জা আপনার ইহ জিন্দেগীতেও ছিলো না তাই না?
মামুন ইসলাম নিজের আদ্র চোখ মুছে ফ্লোর থেকে এলবামটা তুলে বুকে জড়িয়ে নেয়।তারপর বাম হাতের সাহায্যে সেই এলমাবটা দিয়েই স্বপ্নার মুখ বরাবর একটা জোরে আঘাত করে।স্বপ্না এমন আঘাতের প্রস্তুত ছিলো না বিধায় ছিটকে পড়ে ড্রেসিং টেবিলের পায়ের কাছে।জিয়ানা সরে আসে কিছুটা।তার মন বিষিয়ে উঠে।এরা সবাই নারী বিদ্বেষী নাকি?
পা বাড়ানোর আগেই শুনতে পায়,
-আমি পৃথিবী উল্টপাল্ট করে দিবো তবুও আমি আমার লক্ষ্য থেকে নড়বো না।তোর মতো হাজার হাজার এস্কেপিস্টকে আমি কোরবানি দিতে পারবো আমার নীলুর জন্য।বাচ্চাদের জন্য শুধু আসি এইদিনে। তোর নাটক দেখতে না।
জিয়ানার কানে বাজে “আমার নীলু”। আমার নীলু কি কোন ভাই বলতে পারে?এত জোর দিয়ে? আবার চোখ দেয় সেই ফাঁকে। স্বপ্না ফ্লোরে বসেই কেঁদে কেঁদে বলছে,

-তবে আমাকে মুক্তি দিন।আমি রাস্তায় দিন কাটাবো তবুও এই মিথ্যা তাশের ঘরে থাকতে পারছি না।নিবিড়ও আমাকে মা বলে মনে করে না।আমার বেঁচে থাকার কোন মানেই নেই।কিসের অপেক্ষায় আছেন? নিজেকে যতই শান্তনা দেন মৃত্য মানুষ বেঁচে উঠে না।ওর চেয়ে আমাকেও মেরে ফেলুন।সবার মতো একেবারে মেরে ফেলুন?
মামুন ইসলাম এগিয়ে গিয়ে টুটি চেপে ধরে শক্ত হাতে। তারপর রাগে রি রি করে বলে,
-তোর মুখে ওর নাম উচ্চারণ করবি না।বলেছি না আর কিছুদিন অপেক্ষা কর? তোর দিন ঘনিয়ে এসেছে।আমার স্বপ্নের খুব কাছাকাছি আমি।তোর জন্য হ্যাঁ শুধু তোর জন্যই আজ নীলু আমার কাছে থেকেও এতটা দূরে। তুই যদি চুপিচুপি সাহায্য না করতি শু*য়োরটাও কোন সাপোর্টই পেতো না লুকিয়ে থাকার।আর না সে আমার নীলুর পবিত্র শরীরে….
কন্ঠ রোধ হয়ে আসে মামুন ইসলামের তাই আর বাকিটা বলে না বরং নিজেই নিজের বুকে আঘাত করতে থাকে।
মামুন ইসলামের কথার মাঝেই তার কপালে স্বপ্না নিজের এক হাত দিয়ে ঘষা দেয়।তারপর কয়েকবার কেশে বহু কষ্টে উচ্চারণ করে,

-ভন্ডামি অনেক করেছেন।এবার আপনার মুখোশ উন্মোচন হবার পালা শয়তান লোক।আমার নিজের উপরই ঘৃণা লাগে একসময় আমি আপনার মোহে পড়েছিলাম।থু
স্বপ্না আড়চোখে দরজার দিকে তাকায়।ইচ্ছা করেই দরজা খুলে রেখেছে।দেখেছে জিয়ানাকে সে আগেই।তাই তো আগ বাড়িয়ে ঝামেলা শুরু করে সে নিজেই।
জিয়ানা আর সহ্য করতে পারে না এই হ্যাসেল।তার মাথা ঘুরছে।এদের কথার যা মানে দাঁড়িয়েছে সেটা সে ঘুনাক্ষরেও চিন্তা করেনি।সারা শরীর অসাড় লাগছে।পা জোড়া মনে হয় কয়েক মণ ভারি।কোনরকম ঠেলে ধাক্কিয়ে নিবিড়ের রুম পর্যন্ত এসে দরজায় দাঁড়িয়ে ধপ করে পড়লো ফ্লোরে।হঠাৎ করে মস্তিস্কের বিপরীতে কোনকিছু ঘটলে সেটা কখনো কখনো ব্ল্যাক আউটের মতো কাজ করে।জিয়ানারও তাই হলো।

নিবিড় শব্দ শোনার সাথে সাথেই লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নেমে জিয়ানার কাছে চলে যায়।প্রথমে ভেবেছে ফাজলামি করছে কিন্তু গায়ে হাত দিয়ে বুঝলো শরীরে ঘাম ছুটছে।পাজাকোলে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ে। পুশ শাওয়ার দিয়ে মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়ার পর জিয়ানা নড়াচড়া করে। আচম্বিতে চোখ খুলে আগে আশেপাশে দেখে। তারপর নিবিড়ের বুকে আছড়ে পড়ে। নিবিড়ও ছোট ছানার মতো দুইহাতে আগলিয়ে নেয়।ধরা অবস্থায় বের হয়ে আসে ওয়াশরুম থেকে।আধ ভিজা হয়েই দুইজনই বিছানায় বসে একে অপরের সাথে লেপ্টে থেকে।নিবিড় খাটের স্ট্যান্ডে হেলান দেয় সাপোর্টের জন্য।জিয়ানা নিজের সমস্ত ভর নিবিড়ের উপর ছেড়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে।
সেকেন্ড যায় ,মিনিট যায় জিয়ানা সাড়া শব্দ করে না।নিবিড়ও আগ বাড়িয়ে কিছু জিজ্ঞেস করে না।যথেষ্ট শক্ত আর সাহসী মেয়ে জিয়ানা।সে স্বাভাবিক কিছু দেখে যে ঘাবড়াবে না এটা নিবিড় জানে।অস্বাভাবিক কিছু ফেস করেছে বিধায় নিতে পারেনি।তাই সময় দিচ্ছে নিজে থেকে স্বাভাবিক হতে।
প্রায় আধাঘন্টা পর জিয়ানা সোজা হয়।দাঁড়িয়ে পরে কিছুক্ষণ নিবিড়ের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে প্রশ্ন করে ,

-আপনার বাবা মারা গেছে?
নিবিড় মাথা নিচু করে ফেলে।জিয়ানা আবার বলে,
-রুপক মন্ডল মামুন ইসলাম নামে বেঁচে আছে?উনার কপালের নামাজের কালো দাগটাও নকল? আমার আম্মু বেঁচে নেই সুখ?আমার আম্মু অনেক আগেই মরে গেছে?ওরা কিছু করেছে আমার আম্মুর সাথে?মরা মানুষ দিয়ে কি কিছু করা যায় আপনি কি সব জানেন সুখ?
জিয়ানার চোখ বেয়ে পড়ছে অঝোর ধারা। হাতের বাহু দিয়ে সেই ধারায় ব্যাঘাত ঘটানোর বৃথা চেষ্টা করছে বারবার কিন্তু আজ জিয়ানার চোখের সিলিয়ারি বডি আকারও বড় হয়ে গেছে। শব্দহীন কান্না তার গলায় কথা আটকানোর চেষ্টা করছে প্রচন্ড।কিন্তু জিয়ানা সেই আবেগে সায় না দিয়ে আবার বলে,

-হ্যাঁ আপনি সব জানেন।তাই তো বারবার বলেন উনি আপনার বাবা না? শুধু আপনি না ,এই পরিবারের প্রতিটা মানুষ জানে ,তাই না?তাই তো জোর করে তখন বিফ খেয়েছে। আর নিজের বিরুদ্ধে খাওয়াই বমি হয়েছে। আর আপনারা এতে অভ্যস্ত। তাই বিচলিত হোন না।
এগিয়ে এসে নিবিড়ের কাধ ঝাকিয়ে বলে,
-কথা বলুন?আপনারা সবাই মিলে আমার আব্বু আম্মুকে মেরে ফেলেছেন।আমার ভাইটাও জিম্মি। আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে কেনো?সম্পত্তি আমার চাই না।নিয়ে নেন সব আপনারা।আর ফেরত দেন আমার পরিবারকে?নইতো মে*রে ফেলুন আমাকেও।
নিবিড়ের দুইহাত দিয়ে নিজের গলায় চেপে ধরে বলে,
-নেন মেরে দেন।আমিও আপনাদের শত্রু।এত প্ল্যান এত অভিনয় আর করতে হবে না।
নিবিড় হাত গলা থেকে সরিয়ে টান দিয়ে বুকে জড়িয়ে নেয়।ছোট ছোট চু*মুতে ভরিয়ে দেয় কপাল আর মাথায়।জিয়ানা বাঁধা দেয় না।
নিবিড় একহাতে মাথায় হাত বুলিয়ে অপর হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে,

-এইজন্য আমি তোমাকে এখানে এনেছি জিয়ানা।আমি জানতাম তোমার চোখে সব ধরা পড়বে।আমি নিজে থেকে কাউকে কিছু বলার চেয়ে ,তাকে সেই পরিবেশ তৈরি করে দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করি। সেখানে সে নিজে থেকেই সব জানতে পারবে। আমি ভাবতাম তোমার সুন্দর ফুরফুরে জীবনে এইসব কালো অধ্যায় যত দেরিতে আসে ততই মঙ্গল।
তাছাড়া যার লিমিটেশন যতটুকু তাকে ততটুকুই দেয়া উচিত।
আমার কাছে আছে এক লিটার পানি।কিন্তু তোমার হাতে আছে ১০০গ্রামের কাপ।আমি যদি তোমাকে ১০০গ্রাম দিয়ে বাকি পানি তোমাকে স্প্রে করেও দেই।সেটা তোমার কাজে তো দিবেই না,উল্টা ভিজিয়ে দিবে।আমি জানি তুমি অনেক কোল হেডেড গার্ল।অনেক বুঝনেওয়ালাও।
নিবিড় একটু থামে। তারপর আবার বলে,

-ফু-আম্মু বেঁচে আছে।আর এইজন্য বেঁচে আছে রুপক মন্ডল।দেরিতে হলেও আমি বুঝতে পেরেছি উনার একমাত্র ইন্টেনশন হচ্ছে নীলুফা ইয়াসমিন।না সম্পত্তি আর না ক্ষমতা।ভেতরে হইতো অনেক কিছু আছে আমি জানি না।এই বাড়ির সবাই জানে না।তবে সবাই সন্দেহ করে এটা নিশ্চিত। জানলেও কেউ প্রকাশ করে না।তবে দিদুন আর রাফিন যে জানে এটা নিশ্চিত ।আর ওই মহিলাও জানে।
জিয়ানা মাথা উঠিয়ে একবার দেখে নিবিড়কে।তারপর নিবিড়ের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বিছানায় শরীর এলিয়ে দেয়।নিবিড় নিজেও জিয়ানার পেছনে গিয়ে আগলিয়ে নেয় নিজের বক্ষে।
দীর্ঘ রজনী আরও দীর্ঘ লাগে জিয়ানার কাছে। সে এক ছুটে চলে যেতে চায় শৈশবে।যেখানে লাইফের এত পাজেল ছিলো না। ছোট ছোট সাময়িক কষ্ট গুলা ঘুম থেকে উঠলেই নাই হয়ে যেতো।জিয়ানা চোখ বুজে।আজও সে সেইসব শৈশবের দিনে ফিরে যেতে চায়।কিছুক্ষণ পর মনে হলো সে জিয়াউলের বুকে।পরক্ষণেই চোখ মেলে দেখে সে নিবিড়ের বুকের সাথে লেপ্টে।তারপর মনে পড়ে নীলুফা ইয়াসমিনের ডায়রিতে লেখা সেই কথা,

-আমাকে তো আল্লাহ মানুষ না বানিয়ে ক্ষুদ্র নগন্য কোন প্রাণীও বানাতে পারতেন।যেহেতু আমি আশরাফুল মাখলুকাত তাই আমার সহনশীলতাও হবে মানুষের মতোই।
জিয়ানার বুকটা হু হু করে উঠে ভেবে ,তার নিজের মা কেমন ছিলো?একটা বার কি ছুয়ে দেখার ভাগ্য তার নেই? বাবা ভাই তার সবাই তো ছিলো তবুও এমন ভাগ্য কেনো হলো? হতেই তো পারতো স্বাভাবিক একটা জীবন।
ঘুম আসে না। লন্বা সময় মস্তিকের বিচরণ চলে অতীত বর্তমান আর ভবিষ্যৎ জুড়ে।সে নিবিড়ের কথা মতো নিজেকে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে ,যারা নিখোঁজ হয় ধরেই নিতে হয় তারা আর এই দুনিয়াতে নেই।

বাহির থেকে চকচকে সুন্দর একটা আধুনিক ভিলা নূর ম্যানসন।অথচ ভেতরের প্রতিটা মানুষের বুক জুড়ে হাহাকার।অর্থবৃত্ত আর প্রাচুর্যে যে কখনই সুখ শান্তি আনতে পারে না এরচেয়ে আর ভালো উদাহরণ কি হতে পারে? যাদের একটা রাত শান্তিতে কাটে না।যাদের কালো অতীত তাড়া করে বেড়ায় প্রতিনিয়ত।রাস্তার ফুটপাতে ঘুমানো ভিক্ষুকটাও যতটা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে ,এই সুবিশাল ম্যানসনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষেও সেই নিশ্চয়তার কানাকড়িও যেনো নেই।অথচ ফুটপাতে ঘুমানো মানুষটারও দিবাস্বপ্ন দেখে এমন ঘরে ঘুমানোর।আর বিলাশবহুল ঘরের মানুষরা স্বপ্ন দেখে নিশ্চিন্তের একটা ঘুমের। এইজন্যই বলা হয়
“নদীর এপাড়ে কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস
ওপারে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস”

নতুন প্রভাতের দ্বার উন্মোচন হওয়ার সাথে সাথেই চোখ মেলে তাকায় জিয়ানা।তার মস্তিস্ক এক মিনিটের জন্যও ঘুমায়নি।তবে কালকের কষ্ট সে কালকেই রেখে আসে।কেননা একবার খাবার খাওয়ার পর যদি পরের বেলার খাবারের চিন্তা থাকে ,ব্যাথা পাওয়ার পর যদি ভালো হবে এই আশা থাকে। তবে কিছু কষ্টও সারা জীবন থাকবে না।তাই তার এখন হিলিং প্রসেস শুরু হয়েছে।শুয়ে শুয়েই ভাবলো কয়েক রাউন্ড দৌঁড়াবে।তার পাশে নিবিড় সটান সোজা হয়ে শুয়ে আছে।জিয়ানার একটু শান্তি লাগলো এই ভেবে, বেদনার রাতেও তাকে সাহারা দেয়ার মানুষ হয়েছে।তার একটা ভরসার কাধ হয়েছে।হয়েছে একটা ব্যাক্তিগত মানুষ। যার ফ্যাসিনেশিনে ঘিরে ধরছে আস্তে আস্তে তাকে।মুচকি হেঁসে ওয়াশরুমের ঢুকে যায়।

জিয়ানা ফটাফট রেডি হয়ে বের হয়ে যায় বাসা থেকে।ট্র‍্যাক স্যুট পড়ে একপ্রকার দৌঁড়ে পাড় হলো নূরম্যানিসনের এড়িয়া।কেউ যে তার পেছন পেছন আছে সেই খেয়াল নেই।
রাব্বির ফোনে ছুটা আসা।তাদেরকে অন্য একটা টোকাই গ্রুপ আটকিয়েছে। রাব্বি কোন ফাঁকে জিয়ানাকে ফোন দিয়ে বলে “ওস্তাদ বাচান।ফাইসসা গেছি।বড় গোরস্তানের পেছনে আমাগো আটকাইছে কানা বকুলের গ্রুপ। ”
বাচ্চা গুলা জিয়ানার অনেক হেল্প করে।অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন তারা জিয়ানাকে দেয়।বর্তমানে তারা মামুন ইসলামের অফিসে নজর রাখছে।এখন তাদের বিপদে সে নিশ্চয় বসে থাকতে পারে না।কিছুটা আসার পর একটা সিনজি পায়।মাস্ক আর ক্যাপ পড়ে নিয়েছে যেনো কেউ না চিনে।

যথাস্থানে পৌঁছানোর পর থেকে।আক্কাসকে আর রাকিবকে মাটিতে ফেলে পিটাচ্ছে ওদেরই মতো বয়সের আরেক গ্রুপ।বাচ্চা গুলা এই বয়সেই কেমন হিংস্র আর শঠ। এদের এলাকা ভাগ করা।এক এলাকার টোকাই অন্য এলাকায় গেলেই ঝামেলা লেগে যায়।জিয়ানা শিস বাজালে সবাই একসাথে তার দিকে তাকায়।রাব্বির মুখে হাঁসি ফুটলো জিয়ানাকে দেখে।মাটিতে পড়া আক্কাসের রক্তে ভেজা ঠোঁটের হাঁসিটাও জিয়ানা লক্ষ্য করে।এগিয়ে গিয়ে বলে,
-কি হচ্ছে টা কি এখানে?
কানা বকুলের গ্রুপের এক পিচ্চি ছোকরা যার গায়ের রং ভুষভুষা কালো এগিয়ে এসে পকেট থেকে একটা মিনি চা*কু বের করে বলে,
-ভাগেন এইখান থাইক্কা।আমাগোর মামলা এইডা। বাইরের মানুষ হইয়া হুদাই ঝামেলা কইরেন না। যান ভাগেন।
জিয়ানা ফট করে চা*কুটা নিজের হাতে নিয়ে পিচ্চির নিতম্বে একটা থা*প্পড় দিয়ে উল্টা করে চ্যাং দোলা করে ঝুলিয়ে বাকিদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে ,

-এইটা তো ওদের এলাকা?তোরা এইখানে এসে ঝামেলা করছিস কেন?
সবচেয়ে বড় টোকাইটা ময়লা জিন্স পড়া ,জিন্সের আবার হাটু বরাবর বড় বড় ফুটা। সেই ফুটা দিয়ে কালো মহলা হাটু দাঁত কেলিয়ে হাসছে যেনো।সে এগিয়ে এসে বলে,
-এই হালার ঘরে হালা আক্কাইস্সা আমাগোর এলাকার এক মাইয়ার লগে টাংকি মারে। প্রায় প্রায় গিয়ে লু*চ্চামি কইরা আহে।আজকে সাবধান কইরা গেলাম। পরেরবার আইসা ঠ্যাং দুটা কাইট্টা নিয়া যামু।

বলে আক্কাসের কাধে একটা লাত্থি দেয়।জিয়ানা পিচ্চিটাকে ছেড়ে গিয়ে বড় ছেলেটার কান বরাবর একটা চটাকানা দেয়।ফলে ছেলেটা ছিটকে কিছুটা দূরে পড়ে যায়।রাব্বি আর তার পাশের ছেলেটা হাত তালি দেয়।কানা বকুলের গ্রপের সবগুলা এবার নিজ নিজ কোমর থেকে চা*কু বের করে সামনে আনে।জিয়ানা এদের হাবভাবে দেখে অট্টহাসি দেয় মিনিট খানেক।জিয়ানার হাঁসি দেখে বাচ্চা গুলা হকচকিয়ে যায়। জিয়ানা নিজের কোমর থেকে একটা কালো পি*স্তল বের করলে বাচ্চা গুলা নিজেদের চা*কু ফেলেই দিক বেদিকে ছুট লাগায়।জিয়ানার হাঁসি এবার আরও চওড়া হয়।হাঁসতে হাঁসতে তার চোখের কোনে পানি চিকচিক করে। আক্কাসের সামনে গিয়ে সেও মাটিতে বসে পড়ে।এত হাঁসির কারণ সবচেয়ে পিচ্চি ছেলেটার দৌঁড়ানোর সময় প্যান্ট খুলে গেছে।এখনো ল্যাওড়া কাটাই হয় নাই অথচ আসছে মাস্তানি করতে।বড় টোকাই ছেলেটা ছাড়া সবগুলাই পগারপার। তার বেশ আলাদা ব্যাক্তিত্ব আছে দেখে জিয়ানা হেঁসেই ইশারা করে কাছে আসতে।তারপর কোন রকম হাঁসি থামিয়ে উঠে দাঁড়ালো। তারপর আক্কাসকেও মাটি থেকে তুলে জিজ্ঞেস করে ,

-কাহিনী কি? ওদের এলাকায় টাংকি মারতে যাস? বয়স কত তোর?
পাশে মার খাওয়া আরেক পিচ্চি রাকিব বলে উঠে,
-ওই এলাকায় ভাইয়ের লাভার থাকে।তারে দেখতে যায় হেয়।লগে আমিও যায়। এইজন্য ঝামেলা ওস্তাদ।
জিয়ানার হাঁসি আবার শুরু। লাভার? আক্কাস কাচুমাচু শুরু করে বলে,
-এমনেই ওস্তাদ। আর যামু না কসম।
-তোর বয়স সর্বোচ্চ হলে ১৩হইছে। ওখনই লাভার খুঁজে পেয়ে গেছিস? বিয়ে করবি কবে?
-ওস্তাদ ওগুলা ফাজলামি। সত্যি কথা হইলো আমার আঠারো হইলেই ওই মাইয়ার ঘরে বিয়ার প্রস্তাব নিয়া যামু।আফনে কিন্তু হেল্প করবেন?
-আঠারো না গাধা ছেলেদের বাইশ হওয়া লাগে।আচ্ছা যা তোর উকিল মা হমু আমি।এবার সবাই ওদের চা*কু গুলা উঠা।
তারপর বড় ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করে ,

-নাম কি?
-ওবাইদুল।
-কাদের?
-পাপ্পু ভাইয়ের।
জিয়ানা হেঁসে বলে
-তোর নাম খালি ওবাইদুল না আজ থেকে ওবাইদুল কাদের।আর শোন তোর অনেক সাহস আছে।আমি সাহসীদের পছন্দ করি। তোকেও করবো ।তবে তোকে একটা চমৎকার সুযোগ দিবো।কাল সকালে আটটার আগে তোর দল নিয়ে নতুন নূর ম্যানসনে চলে আসবি।তোদের কানা বকুলের গ্রুপ বনাম জিয়ানা গ্রুপের ফুটবল খেলা হবে।যে গ্রুপ জিতবে তারা দশ হাজার টাকা পাবে। সাথে আমার সাথে বন্ধুত্ব ফ্রি। আর নূর ম্যানসনের লান্স।ওকে?
ছেলেটার মুখ খুশী হয়ে চমচকে হয়ে উঠলো। আস্তে করে মাথা কাত করে হ্যাঁ বুঝায়।জিয়ানা রাব্বিকে ইশারা করে এখন চলে যাওয়ার জন্য।ছেলেটা চলে যাওয়ার পর আক্কাসকে জিজ্ঞেস করে ,

-কানা বকুল কার লোক? জানিস?
-হ পাপ্পু ভাইয়ের লোক।ওরা একজোট।
-চল ওদের ক্লাবে গিয়ে এগুলা জমা দিয়ে আসি।
-মাথা খারাপ?আমরা যাইতাম না ওস্তাদ।ওরা আরও খারাপ।
-কি আশ্চর্য আমি আছি না।ওরা এই এলাকায় এসে তোদের পিটিয়ে গেলো এটার একটা বিহিত হওয়া দরকার না? তানাহলে আজকে যে সাহস পেয়েছে কাল সেই সাহসে আবার এসে তোদের ইচ্ছা মতো ক্যালিয়ে যাবে।চল চল।
রাব্বি হেটেই প্রশ্ন করে,
-ওস্তাদ এই জিনিস কই পাইলেন?নিবিড় ভাই দিছে?
জিয়ানা আবার পকেট থেকে গা*নটা বের করে রাব্বির দিকে তাক করে ট্রিগারে প্রেস করে। আর ঠুস করে আগুন বের হয়।
রাব্বি ভয়ে একলাফ দেয়। জিয়ানা হেঁসে বলে ,

নীতিহীন রাজ পর্ব ৫৪

-অনলাইন থেকে এই চমৎকার লাইটারটা কিনেছি।জোস না?
হাটতে হাটতে গোরস্তানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জিয়ানা এক জায়গায় থেমে যায় অনুরাধার মাকে দেখে।একটা কবরের সামনে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে কাঁদছে।জিয়ানা বাচ্চাগুলোকে আগাতে বলে নিজে ঢুকে যায় গোরস্থানে। কিছুটা দুর থেকে নিজের ফোনের ক্যামেরায় কবরের নাম লেখা ফলকের ছবি উঠায়।তারপর সেটা জুম করে দেখে তার চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়।

নীতিহীন রাজ পর্ব ৫৬