Home নীতিহীন রাজ নীতিহীন রাজ পর্ব ৬৭

নীতিহীন রাজ পর্ব ৬৭

নীতিহীন রাজ পর্ব ৬৭
আশিকা আক্তার সোহাগী

মেঘ দেখেই বজ্রপাতের ভয় পেতে নেই।পরিস্থিতি দেখেই রিয়েক্ট না করাই প্রকৃত বুদ্ধিমানের কাজ।কিন্তু নিবিড়রা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে সেটা কল্পনাতীত।
মোমের আলোয় আলোকিত ড্রয়িংরুমের ফ্যানে ঝুলছে বস্রহীন এক নারী।যার শরীরে গেথে আছে অসংখ্য বড় বড় সুই।ফিনকি দিয়ে র*ক্ত পড়ছে সেই শরীরে গাথা সুই বেয়ে। সেই র*ক্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে বিশাল এক গামলায়।চারপাশে সাদা কালো চামড়ার আটজন পুরুষ। বেশিরভাগ বিদেশি।বিটকেল একটা বাজে গন্ধ চারপাশে। একটা পেন্টাগনের মাঝে ত্রিভুজ নকশা আঁকা পেছনের দেয়াল পুরাটা জুড়েই।

নিবিড়রা দরজায় দাঁড়িয়ে ঝুলন্ত মৃত্যু প্রায় নারী শরীর দেখে স্তম্ভিত। এই যেনো বর্বরতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।অতিরিক্ত র*ক্ত ঝড়ায় বারবার খিচুনি দিয়ে বেঁকে যাচ্ছে নারীর শরীরটা।
নিবিড়কে দেখে সামি নামের ছেলেটা মাঝখান থেকে এসে বলে,’দ্যাট বি*চ হেজ বিন ফলোয়িং মি ফর লং টাইম গাইস।হাউ সোড আই কুক হিম?’
উপস্থিত সাতজন অট্টহাসি দিয়ে উঠে। সামি এখানে একমাত্র বাঙ্গালী। নিবিড় রিভা*বার তাক করে ধরে সামির মাথা বরাবর। পেছন থেকে মেহেদীও এগিয়ে আসে।বাধ্য হয়ে রাফিনও ব্যাগ থেকে হাতে নেয় অস্ত্রটা।আটজনের জন্য ওরা তিনজন কম। তাই অস্ত্র হলে মনোবল বাড়বে।
সামির হাঁসি বেড়ে যায়।হেলেদুলে এগিয়ে গিয়ে ডায়নিং টেবিলের উপর থেকে একটা পর্দা হেচকা টানে সরিয়ে ফেলে বলে,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

‘এখানে একটা বো*ম রেখেছি দেখতে পারছিস তোরা?মাইন বো*ম।’
নিবিড়রা তাকানোর সাথেই দেখতে পায় পর্দা সরে উন্মুক্ত হচ্ছে একটা রিমোট কন্ট্রোল বো*ম।আকারে হিউজ সেটা।এটা বিস্ফোরিত হলে পুরো বাড়ি উড়ে যাবে নিশ্চিত।
হাত দেখিয়ে বলে,
‘এই যে রিমোট সেটার।’
সেই রিমোট দেখিয়ে সামি বলে ,’তোর কি উদ্দেশ্য আমি জানি না।তবে তোর জন্য আমি খুব বিরক্ত হয়েছি।কাজকর্মে বিরাট ব্যাঘাত ঘটেছে।তাই ভাবলাম এই চোর পুলিশ খেলা বাদ দেই।এনি ওয়ে তোরা এফবিআই এর লোক না তো?
ওহো তুই তো আবার চেয়ারম্যানের পোলা? চেয়ারম্যান? হ্যাঁ? হো হো হো…’
বলে আবারা খ্যাকখ্যাক করে হেঁসে উঠে।খর্ব আকৃতির তামাটে অল্পবয়সী এই ছেলেটাকে এই মুহূর্তে ভয়ংকর দেখাচ্ছে।মেহেদী পেছন থেকে নিবিড়ের উদ্দেশ্যে বলে,

‘নিবিড়ের বাচ্চা এই তোর আট বছরের গবেষণা?এখান থেকে যদি বেঁচে বের হই তোকে আমি জ্যান্ত কবর দিবো শা*লা।’
রাফিন ধমক দিয়ে বলে,’আঃ। নিজেদের মাঝে ঝামেলা না করে মাথা খাটা। ‘
নিবিড়ের মাথা যন্ত্রণা শুরু হয়েছে।তবুও ডাক্তারের নির্দেশনা গুলা মনে করে কড়া গলায় প্রশ্ন করে ,’হেঁসে নে আপাতত। তোর আয়ু শেষ তারপর আজীবন জাহান্নামে জ্বলবি।হাসার আর সুযোগ তো পাবি না।’
সামি হাসা বাদ দিয়ে গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করে ,’ তুই আমার পেছনে পড়েছিলি কেন?আমার সাথে তোর কোন ক্ল্যাশ নেই। রাইট?’

‘ঠিক ধরেছিস।’
বলে এক পা আগায়।সামি পকেট থেকে রিমোট বের করে বলে ‘ডোন্ট মুভ মাদা****। একটা প্রেসেই তোর ভবলীলা সাঙ্গ হয়ে যাবে। ‘
নিবিড় দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে নেই। কিন্তু চোখ নিয়েই যেনো খুন করে ফেলবে এমন ভাবে তাকায়।রাফিন পেছন থেকে নিবিড়কে বলে,’মাথা ঠান্ডা রাখ নিবিড়।ওরা উত্তেজিত করার চেষ্টা করবে। আমাদের ঠান্ডা মাথায় আগাতে হবে।ভুল মুভে সব শেষ হয়ে যেতে পারে।’
সামী কিছুটা এগিয়ে এসে বলে ‘রি*ভালিবার আর ব্যাগ গুলা নিচে ফেল। তানাহলে ঠুস……’
নিবিড় বিনা বাক্যে রি*ভালবার ফ্লোরে রেখে দিলো। নিবিড়ের দেখাদেখি মেহেদী আর রাফিনও সেটাই করে।পেছন থেকে একজন হালকা টলতে টলতে এসে রি*ভালবার গুলা নিয়ে যায়।নিবিড় হাত উপরে তুলে বলে,’আমি তোর সাথে দেখা করার জন্যই ফলো করেছি।আমি রবার্টের ফ্রেন্ড।’
‘রাবার্ট? ওকে কিভাবে চিনিস?’

নিবিড় নিজের প্যান্টের পেছন থেকে খাকি কাগজটা বের করে মেলে দেয় সামির দিকে।সামি কাগজটা নিয়ে বিস্মিত হয়ে তাকায় নিবিড়ের দিকে।এই সুযোগে নিবিড় চোখ স্থির রেখে কিন্তু চোখের মনি ধীরে ঘুরিয়ে চারপাশ দেখে।বো*মের পাশে একটা গামলায় আরও অনেক গুলা সুই পড়ে আছে।ফ্লোরে বড় বড় কেচি আর তিনটা হা*ন্টার পড়া। বো*মের রিমোট সামির বুক পকেটে ঝুলছে।সামির কোমড়েও একটা পি*স্তল আছে।যেটার হ্যান্ডেল দেখা যাচ্ছে অল্প।আর বাকি বিদেশিদের হাতে খর্ব আকৃতির মাথা ছাড়া দা।এই দা দেখে নিবিড়ের মাথা হালকা ঝাকি খেলো যেনো। চোখের পাতা না নাড়িয়ে ফুল্লি কন্সেন্ট্রেট করে সামনে। ঘরের কোনায় অনেক গুলো কাচের বোতল পড়ে আছে।সাথে বোতল গুলার ছিপিও।তারমানে এরা সবাই ম*দে মত্ত।কিন্তু কেউ একটুও টলছে না কেনো?
নিবিড়ের দৃষ্টি আবার সামিরের দিকে স্থির হয়। কারণ সামির হোঁ হোঁ করে হেঁসে বলে,’ শালা এই জিনিস তুমি কই পেলে বস? বহু বন্দনার জিনিস এটা? আমার তো ভাগ্য খুলে গেলো মনে হচ্ছে। ‘

মেহেদী দাঁতে দাঁত পিষে বলে,’নিবিড় এটা দিলি কেন? ‘
নিবিড় হাত উঁচু অবস্থাতেই আঙুল নাড়িয়ে বুঝায় সব ঠিক আছে।
রাফিন হঠাৎ খেয়াল করে দেখে বো*মটা নেই।আবার আছে।রাফিন আওয়াজ নিচু করে বলে,’নিবিড় এরা হিপনোটাইজ জানে।বো*ম টোম কিছু নেই এখানে।’
রাফিনের কথায় নিবিড় আর মেহেদী তাকিয়ে দেখে আসলেই নেই।নিবিড় আর মেহেদী নজর দেখে সামি চটাক করে নিজের কোমড়ে হাত রাখে।নিবিড় এগিয়ে এসে সামির চোয়াল বরাবর একটা কিক করে ডান পা দিয়ে।রাফিন আর মেহেদীও সমগতিতে এগিয়ে গিয়ে দা হাতের গুলার সাথে মা*রামারি শুরু করে। কিন্তু কেউই যুত সই কিছু করতে পারছে না।তাছাড়া বিদেশি আফ্রিকান গুলা ওদের তিন জনের চেয়ে লম্বায় আর শরীর স্বাস্থ্য সব দিক দিয়েই এগিয়ে।
নিবিড় যখন সামির হাত পিছমোড়া করে চেপে ধরে দেয়ালে ঠেসে জিজ্ঞেস করছে,’বল এতে কি লিখা আছে?’
তখনই পেছন থেকে একজন নিগ্রো সামির কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিবিড়কে অপজিটের দেয়ালে ছুড়ে মারে।দেয়ালে পড়ে নিবিড়ের ঠোঁট আর কপাল ফেঁটে র*ক্ত বের হওয়া শুরু করলো সাথে সাথেই।

মেহেদী একজন অর্ধ মত্ত লোককে নিচে ফেলে ঘুষির উপর ঘুষি দিচ্ছিলো।কিন্তু নিবিড়কে মা*রা দেখে উঠে দাঁড়িয়ে তেঁড়ে গিয়ে সেই নিগ্রোর ঘাড়ে জাম্প করে উঠে ,গলা চেপে ধরে ডান হাতের মাশল দিয়ে।নিগ্রোটা হাত বাকিয়ে মেহেদীকে ধরার চেষ্টা করছে আর ঘুরছে চারপাশ।
অন্যদিকে রাফিন দুইটা দিচ্ছে একটা খাচ্ছে।তারও ঠোঁট কেটে একাকার। নিগ্রোটা বেশ কিছুক্ষন ধস্তাধস্তি পর মেহেদী ভাগে পায়।সামনে এনে গলা চেপে ধরে নিজের বিশাল থামা দিয়ে। মেহেদীর পা মাটি থেকে কয়েক ইঞ্চি উপরে উঠে গেছে।নিবিড় মেহেদীকে খাবি খাওয়া দেখে দৌঁড়ে এসে নিগ্রোটার পাজরে জোরে একটা কিক করে। পর পর একাধিক কিক আর পাঞ্চ করছে আর গর্জে গর্জে বলছে,’ব্লা*ডি বাস্টার্ড আমার ভাইয়ের গায়ে হাত দিস? তোর হাতের আজ কিমা বানাবো। আফ্রিকান শু*য়ার।’

মেহেদী ছিটকে পড়ে ফ্লোরে।তার কাশি শুরু হয়ে গেছে।কাশতে কাশতে মুঁচকি হাঁসে।এই প্রথম নিবিড় তাকে ভাই সম্মোধন করলো।কিন্তু ভালো লাগা আর কাশার জো নেই। আরেকজন হেংলা সাদা চামড়া বান্দর এসে দা দিয়ে কোপ বসাতে চেয়ে ছিলো। পায়ের শব্দের জন্য আগেই বুঝে সরে যাওয়াও বেঁচে যায়।
নিবিড় এখন কোনায় পড়ে থাকা কাঁচের বোতল দিয়ে সবগুলার মাথা ফাটাচ্ছে।বেশিরভাগ ড্রাংক হওয়াই ওদের সুবিধা হচ্ছে।বোতল সব শেষ করে সুইয়ের দিকে আগাবে তখন দেখে সামির হাতে তাদের আনা একটা রি*ভালবার।ফাঁকা একটা গুলি ছুড়ে বলে,’ডোন্ট মুভ।নইতো তিনটাকেই খতম করে দিবো।’
বাধ্য হয়েই নিবিড়দের থামতে হয়।বিদেশি সবগুলার অবস্থা ইতিমধ্যে কাহিল।সামি বি*ভালবার দিয়ে ইশারা করে রুমের মাঝখানে আসতে।ঝুলন্ত মেয়েটার আর নড়াচড়া নেই।এখনো র*ক্ত ঝরছে।
তিনজন হাটু গেড়ে বসে।রাফিন বলে,’যেটা বলবে সেটার অপজিট চিন্তা করবি।এরা ব্ল্যাক মেজিক করে। হিপনোটাইজে পারদর্শী। ‘

সামি রাফিনের কাছে গিয়ে রি*ভালবারের বাট দিয়ে বাড়ি দেয় কষিয়ে। বাড়ি খেয়ে রাফিনের মাথা ঝিমঝিম করে।হাটু গেড়া থেকে পা মেলে বসে পড়ে ফ্লোরে।নিবিড় আবার গর্জে উঠে বসে,’দেখ সামি।আমার ভাইদের সাথে তোর লেনদেন নাই।যদি মানুষের বাচ্চা হোস তবে একটা নূন্যতম ওয়ার রুলস থাকা উচিত?’
হোঁ হোঁ করে হেঁসে বলে,’ আমি মানুষের বাচ্চা না। আমি লুসিফারের সঙ্গী। ওহ আজ আমার ভাগ্য খুলে দিলে লুসিফার।তোদের উৎসর্গ করে আমি এত উৎযাপন করবো।তবে আমাদেরও একটা নীতি আছে।কেউ যদি নিজে থেকে বলি হতে চায় তবে তার একটা উদ্দেশ্য বা আশা মৃত্যুর পর পুরনো করা হয়।কিন্তু আমি সেটা করবো না।’
আবার জঘন্য ভাবে হাঁসা শুরু করে সামি।নিবিড়ের পাঞ্চে নাক মুখ ফুলে ভোতা হয়ে আছে।বড্ড কুৎসিত আর বিকৃত দেখাচ্ছে তাকে।নিবিড় বাঁকা হেঁসে বলে,

‘তুই তো আর সদস্য হতে পারিস নাই ইডিয়ট।এইজন্য হেল স্যাটানের নীতিও তুই মানছিস না দেখ?’
সামি রি*ভালবার লোড করে হাতুড়ির অংশ কক করে সিলিন্ডার আংশিক ঘুরিয়ে নিবিড়ের কপালে ঠিকিয়ে ধরে।দুইজন এগিয়ে এসে দড়ি দিয়ে হাত পিছমোড়া করে বেঁধে ফেলে নিবিড়দের।
ঠিক সেই সময় দরজা থেকে একটা শিস বাজে। শব্দের উৎসের দিকে সবাই তাকিয়ে দেখে ,ঘরোয়া ছাই কালারের পাজামা সেট পড়ে লম্বা চুলের পনিটেইল বাঁধা একহারা দেহের জিয়ানা দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে। নিবিড় অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সেই দিকে।মেহেদী আর রাফিন চোয়াল শক্ত করে জিয়ানার বেকুবপনা দেখে।দেখছেই রি*ভালিবার হাতে ভিলেন দাঁড়িয়ে সে সামনের দরজা দিয়ে এন্টি নিয়ে আবার শিস বাজাচ্ছে।একেই বলে মেয়ে মানুষ। কিন্তু তাদের ধারণা পাল্টে দিয়ে জিয়ানা জিজ্ঞেস করে ,

‘কি হচ্ছে কি এখানে?’
সামি জিজ্ঞেস করে ,’তুইও এদের চক্রের?’
জিয়ানা মাথা নাড়িয়ে না করে বলে ,’এরা আনঅথরাইজড সঙ্গ। ওদের প্যাদানী জায়েজ।তবে সেটা তাদের নিজের লোকদ্বারা। তোদের সেই অধিকার নেই।বিশেষ করে এই বাবরি ওয়ালাকে তো একেবারেই না?’
সামি কুৎসিত একটা গালি ছুড়ে জিয়ানাকে। জিয়ানা চোখ আর শ্বাস বন্ধ করে রাখে কয়েক সেকেন্ড।এতে ইন্সট্যান্ট অস্থিরতা কমে যায়।আপাতত গালি হজম করে নেয় শান্ত মাথায়।
নিবিড় বের হওয়ার সাথে সাথেই সেও দরজায় আসে কিন্তু দরজা নিবিড় বাহির থেকে লক করে দিয়েছে।জিয়ানা বুঝে না নিবিড় কেনো এত লুকোচুরি খেলে তার সাথে।কেনো জিয়ানাকে ইনভলভ করতে চায় না।তবে কি অবিশ্বাস? নাকি তাকেও অন্য মেয়েদের মতো দূর্বল ভাবে? জিয়ানার নিজেকে প্রচন্ড ছোট মনে হয়।নিবিড় তাকে কোনভাবেই ভালোবাসতে পারেনি ,এটাও মন আসে তৎক্ষনাৎ। নিবিড় আসলে তাকে কি ভাবে? তার দৃষ্টিতে এই সম্পর্কের ভ্যালু আসলে কি?একটুও কি অনুভূতি জন্মায়নি?সবটাই প্রয়োজন?দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ভাবে আজ যেভাবে হোক সে তো দেখবেই নিবিড়ের কার্যকলাপ।

তাই আর ওভারথিংকিং না করে ফটাফট ফারহানাকে কল করে আসতে বলে তাদের রুমের দরজায়।ফারহানা দরজা বাহির থেকে খুলে দেয়,বিনা বাক্যে জিয়ানা বাহিরে চলে আসে।সদর দরজা ভেতর থেকে লক করাই ছিলো বিধায় নিবিড় অন্য ওয়েতে বের হয়েছে ঘর থেকে।জিয়ানা চুপি চুপি নূর ম্যানসনের মূল ফটকে এসে প্রাচীর ঘেঁষে দাঁড়ায়।দূরের হেডলাইটের অল্প আলোয় দেখতে পায় নিবিড় সহ মেহেদী আর রাফিন পেছনের গাছ বেয়ে উঠছে।জিয়ানা আর কালক্ষেপ না করে সেও টপাটপ দেয়াল টপকে পাড় হয়ে যায়।নিবিড়রা যেই দেয়াল টপকায় সেটা অন্ধকার থাকায় তাদের দেরি হচ্ছিলো বিধায় জিয়ানা কিছুটা রাস্তা এগিয়ে গিয়ে একটা পার্ক করা গাড়ির পেছনে লুকায়।নিবিড়রা সেই গাড়ির কাছে গিয়েই মেহেদী বলে,’ডেকটা চেক করে দেখি ফাঁকা আছে কিনা এটাতেই ভরে বা*স্টার্ডকে আনতে হবে।’

মেহেদী গাড়ির ডেক চেক করার পর থেকে গাড়িতে উঠার সময় টুকুতে জিয়ানা ডিকে উঠে যায়।ততক্ষণে লক হয়নি সেটা। আবার যখন গাড়ি থামে জিয়ানা নিজের পকেটে রাখা হান্টার পেন টা দিয়ে খুব সহজেই লক ছুটিয়ে বের হয়ে পেছন পেছন আসে তাদের।এতক্ষণ সব কার্যকলাপ দেখেছে জিয়ানা।সে আর একটু কাজ এগিয়ে রেখে এসেছে।একটু পরে দোতলার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হবে।গ্যাস ছেড়ে দিয়ে একটা লাইটার নিয়ে নেমে এসেছে।
সামি নিবিড়ের কপালে অস্ত্রটা আর একটু চেপে ধরে দেখে
জিয়ানা গোখরোর মতো ফোসফাস করে উঠে রাফিন আর মেহেদীর দিকে ইশারা করে সামির দিকে তাকিয়ে বলে,
‘ এই দুইজনকে কেলিয়েছিস মেনে নিলাম কিন্তু আমার জামাইয়ের গায়ে কে হাত দিয়েছে? তাকে তো আমি ব্লেন্ডার ছাড়াই ব্লেন্ড করবো?’
সামি খেকখেক করে হেঁসে বলে, ‘তুই মাইরি হেব্বি মাল? একটু ভয় নেই চেহারায়? ‘
‘তুই কোন হনু বে তোকে দেখে ভয় পেতে হবে? আর কিছুদিন আগে জঙ্গলে একটা মরা গোখরো দেখেছিলাম।যেটার গায়ে কিলবিল করছিলো পোকা।তুই হাতে এমন পঁচা সাপ নিয়ে রেখেছিস কেন? ইয়াক। গলে যাচ্ছে সেটা কি দূর্গন্ধ।ছিঃ। ‘

যারা হিপনোটিজমে বিশ্বাস করে তাদেরকেও খুব সহজে হিপনোটাইজ করা যায়।জিয়ানার টোপ কাজে দিয়েছে সামি নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে শক্তি দিয়ে ছুড়ে মারে রি*ভালবারটা।
‘ছোট আয়ুর জীবন অহেতুক খরচ করতে আমি রাজি না।’বলে বিজয়দর্পে এন্ট্রি নেয় জিয়ানা।জিয়াউল তাকে অ্যাম্বুশ মিলিটারি নীতি শিখালেও সে ডিরেক্ট ফাইটিংয়ে স্বাচ্ছন্দবোধ করে।ঘামটি মেরে এতক্ষন বসে তো ছিলোই।অ্যাম্বুশ নীতি অর্ধ পালিত হয়েছে। নিবিড়ের মুখে র*ক্ত দেখে আর নিজেকে স্থির রাখতে পারেনি।তারচেয়ে ভয়ংকর ভাবে একটা লাল বস্ত্রহীন বডি ঝুলছে মাথার উপর।

সামি হাত ঝারতে ঝারতে ইয়াক ইয়াক করে বমি করছে এককোনায়। নিবিড়রা হাতের বাঁধন ছাড়ানোর চেষ্টা করছে।
অপরদিকে জিয়ানার চারপাশে চারজন মাথা ফাটা ঘিরে দাঁড়ায়।আচম্বিতে হাটু গেরে বসে পড়ে জিয়ানা।হান্টার পেন দিয়ে প্রত্যেকের পায়ের দ্রুত গতিতে একবার করে গেথে দিয়ে হেচকা টানে বের করা শুরু করে।তাদের চিৎকারে রুমের বাতাস ভারি হয়ে উঠে।অল্প ফাঁকা দিয়ে বের হয়ে পঞ্চমজন সেই নিগ্রোটার সামনে দাঁড়ায়।লোকটা বাঁকা হেঁসে কাটকাট ব্রিটিশ এক্সসেন্টে বলে,’লাভলি এ্যাকশন হিরোইন?’
‘নোপ তোর আম্মা ‘ বলে জিয়ানা বাম হাত বা পাজরের কাছে ভাজ করে রেখে ডান হাত স্প্রিরিটে ঘুষি ছুড়ে। লোকটা প্রস্তুত ছিলো বিদায় আটকায় সেই ঘুষি।জিয়ানা বাঁধা পেয়েও না থেমে ঘুরে গিয়ে বাম পা দিয়ে ব্যাক কিক করে ফেলে দেয় মাটিতে।

দ্রুত দৌঁড়ে থাই গ্লাসের গ্রিল ধরে উঁচুতে উঠে হাটু বাকিয়ে জাম্প করে নিগ্রোটার উপর।হাটু পড়ে নিগ্রোটার মেরুদণ্ড বরাবর।মুয়ে থাই ফাইটিং শিখে জিয়ানার এই প্রথম সেটা কাজে লাগালো।তারপর পেন দিয়ে ঘাড়ে সর্বশক্তি দিয়ে গেঁথে দেয়। আঘাত প্রাপ্ত স্থানে চেপে ধরে ফ্লোরে মুখ থুবড়ে পড়ে বিশাল দেহি আফ্রিকান।তারপর জিয়ানা ফ্লোরে পড়ে থাকা একটা খর্ব ছুড়ে মারে লাশের দড়ি বরাবর। সেন্টারে লেগে র*ক্তভর্তি গামলা ধপ করে পড়ে যায় নারী দেহটা। আর সাথে সাথেই নিজের র*ক্তেই ঢুবে যায় লাশটা। জিয়ানার একটু রিলাক্স লাগে।মৃত্য হোক বা জীবিত বস্ত্রহীন নারী শরীর যে অন্য আরেকটা নারীর জন্য বড্ড অস্বস্থির , সেটাও আজ বুঝলো জিয়ানা।
সেখান থেকে দ্রুত গিয়ে সুই সহ গামলাটা বাহাতে নিয়ে ডান হাতে একটা করে সুই দুই আঙুলের মাথা দিয়ে ধরে ,দূর থেকেই ঝুকে থাকা সামির পিঠে ছুড়ে ছুড়ে গাঁথা শুরু করে। সামির সেই দিকে খেয়াল নেই। হান্টার পেন দিয়ে আধমরা বিদেশি গুলার কাধের জয়েন্ট এমন ভাবে গাঁধা শুরু করে ,যেনো কলা গাছে পেরেক মারা হচ্ছে।পাঞ্চিং ,কিকিং,গ্র‍্যাপলিং এক কথায় মিক্সড মার্শাল আর্টসের কম্বাইন্ডে নিখুঁত এবং চমৎকার ভাবে ব্যবহার করে মে*রে বিছিয়ে ফেলেছে অর্ধেকেই।

মেহেদী আর রাফিন দড়ি না খুলে হা করে জিয়ানার ফাইটিং দেখছে।নিবিড় তাদের উদ্দেশ্য দ্রুত কিছু বলে।কিন্তু নিবিড়ের ভারিক্কি আওয়াজের কারণে দ্রুত কিছু বললে একটা শব্দ অন্যশব্দের গায়ে জড়িয়ে থাকার মতো ব্যাপার হয়।ইকো হয় যেনো।
মেহেদী ভাঙ্গা ঠোঁট নেড়ে বলে,’ভাই তুই এটা কি বিয়ে করছিস? এটা কি ওয়ান্ডার ওমেন বিডি ভার্সন নাকি থরের মহিলা ভার্সন? ‘
রাফিন চকচকে গর্বের চোখে জিয়ানাকে দেখছে দেখে নিবিড় পা দিয়ে লাত্থি দেয় হাতের সেখানে যেখান থেকে কেটে রক্ত বের হচ্ছে। আর্তনাদ করে উঠে রাফিন সে আঘাতে।

জিয়ানা শিওর শট খেলছে এখন।নিগ্রোদের সাথে পেরে উঠছে না।এবার জিয়ানার বাহুতে একটা চ*ড় পড়ায় জিয়ানা উল্টে পড়ে আবার ডিগবাজি দিয়ে সোজা দাঁড়িয়ে যায়।হাত ঝিমঝিম লেগে গেছে।
নিবিড় হুংকার ছেড়ে দাঁড়িয়ে যায়।কিন্তু আগানোর আগে আরেক নিগ্রো সামনে এসে দাঁড়ায়।নিবিড় বুক বরাবর লাত্থি দেয় তাকে।জিয়ানাকে মে*রে সেই নিগ্রো মেহেদী আর রাফিনকে একসাথে হাতের কনুই দিয়ে চাপা দিয়ে ধরেছে। জিয়ানার পিঠে সুই ফুটেছে বিধায় সে আপাতত হাত দিয়ে সেটা নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করছে।মেহেদী আঃ আঃ শব্দ বের করছে মুখ থেকে। নিবিড় এগিয়ে যেতে পারছে না।তাকে শুধু পা দিয়েই ফাইট করতে হচ্ছে।তাই জিয়ানাকে ডাকে।জিয়ানা রাফিন আর মেহেদীকে দেখে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে,
‘ওদের আমি বাঁচাবো না।বিশেষ করে আপনার অসৎ ভাইকে তো আগে আগে না। সে আমাকে প্রথম দিনেই বাজে কথা বলেছে।আমি তাকে মাফ করিনি দুঃখীত।’

মেহেদী বহু কষ্টে কন্ঠ থেকে টেনে টেনে কথা বের করে ,’জিয়ানা বোন আমার এই ব্ল্যাক মাম্বার হাত থেকে বাঁচাও। হাত বাঁধা না হলে এর জন্য আমি একাই যথেষ্ট ছিলাম।আজ থেকে তুমি আমার বোন।না বোন না ,জননী তুল্য।’
জিয়ানা পিঠের সুইয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে আরও দুইটা সুই নিয়ে এগিয়ে গিয়ে সেই নিগ্রোর সামনে দাঁড়িয়ে বলে,
‘হ্যাঁ রে কাইল্লা তোরা কি খাস? কখন থেকে প্যাদানী খেয়েও পিন্ডাই এত জোর কোত্থেকে আসে বে?’
তারপর সুই দুইটা দুই বুকে গেঁথে দেয় স্বজোরে।
মেহেদী আর রাফিন ছাড়া পেয়ে খাবি খাচ্ছে। জিয়ানা নিবিড়ের কাছে গিয়ে সেই নিগ্রোকে একটা ফ্রি কিক করে একদম ঘাড় বরাবর।ফলে সটান ধপ করে পড়ে যায় ফ্লোরে।জিয়ানা ফটাফট নিবিড়ের বাঁধন খুলে সেই দড়ি নিয়ে নেতিয়ে পড়া সামিকে বেঁধে ফ্লোরে ফেলে ইচ্ছামত কিক করতে থাকে। তখনকার গালিগুলার কথা মন পড়ায় পায়ের জোর বেড়ে গেছে যেনো।নিবিড় চিল্লিয়ে বারবার বলছে ওকে মেরো না। ট্রাম্পকার্ড ও আমার জন্য।প্লিজ জিয়ানা স্টোপ।’

জিয়ানা থেমে সবাইকে ইশারা করে বলে,
‘দোতলার গ্যাস সিলিন্ডার লিক করে এসেছি।তাই গ্যাসের বিস্ফোরণ হতে পারে যেকোন সময়। বের হোন সবাই এখান থেকে।বাই।’
যেমন এসেছিলো তেমনই বের হয়ে যায় জিয়ানা।নিবিড় ততক্ষণে মেহেদী আর রাফিনের বাঁধন খুলে ফেলেছে।সামির কলার ধরে টেনে বের করে আনে বাহিরে।জিয়ানা ক্ষিপ্ত গতিতে দৌঁড়ে হাই জাম্প করে প্রাচীরে উঠে চোখের পলকের অদৃশ্য হয়ে যায়।
আকাশ একটা পিকাপ নিয়ে গলির মুখে দাঁড়িয়ে আছে।নিবিড় টেনে সামিকে সেই পিকাপে উঠিয়ে দেয়।রাফিন আর মেহেদী বেশ আহত হয়েছে।নিবিড়ের সারা শরীরেও চিনচিনিয়ে ব্যাথা হচ্ছে।সারা ফ্লোর অগনিত সুই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় সাবাই মা*রপিটের চেয়ে সুইয়ের আঘাতেই বেশি কুপকাত।

দূরের রাস্তার প্রান্তরে অন্ধকার কমে এসেছে।ভোরের জন্ম হবে হবে করছে।সুক্ষ্ম একটা আলোর বলয় ইতিমধ্যে অল্প দেখা যাচ্ছে।ফজরের আযান পড়ে যাবে যেকোন মুহূর্তে। শিরশিরে বাতাসে সবার কাটা জায়গায় জ্বলুনি কিছুটা আরামবোধ দিচ্ছে।জিয়ানা এগিয়ে যাচ্ছে বড়রাস্তার দিকে।বেশ খানিক পেছনে নিবিড়রা।
মেহেদীকে রাফিন পিঠে করে নিয়ে আগাচ্ছে। মেহেদীর পায়ে বেশ ভালো জখম হয়েছে।সে বিরবির করে নিবিড়কে গালি দিচ্ছে,
‘ভ্যালিডেশন লাগবে না?আমরা আসলে লয়াল কিনা টেস্ট করতে এনেছে হালার পু হালা।ভাগে পাই তোকে একেবারেই পু…..

‘আঃ চুপ করবি মেহেদী? কানের কাছে ভ্যাজরভ্যাজর করলে ফেলে দিবো রাস্তায়। ‘
নিবিড় হাক ছাড়ে জিয়ানা ডেকে।জিয়ানা সমানতালে হেঁটেই যাচ্ছে।অল্প খুড়িয়ে খুড়িয়ে এগোচ্ছে।সে আর ফিরবে না নূর ম্যানসনে।যে তাকে একবিন্দু বিশ্বাস ভরসা করে না।তার সাথে থাকা মানে নিজেকে ব্যাকবোন লেস প্রমাণ করা।
আকাশ জিয়ানার সামনে পড়ায় তাকে আটকায়।জিয়ানার পায়ে আর পিঠে সুই ঢুকে আছে।হাটতে কষ্ট হচ্ছে।তাই আকাশকে বলে তাকে পৌঁছে দিতে পারবে কিনা?

এরমাঝে নিবিড়রাও চলে এসেছে।আকাশ হাই হাই করে উঠে।নিবিড় ইশারা করে শব্দ না করে তারাতাড়ি এখান থেকে সামিকে নিয়ে গোপন জায়গায় রেখে আসতে।এর উপর পরবর্তী সব পদক্ষেপ নির্ভর করছে।
আকাশ জিয়ানাকে রেখেই চলে গেলে জিয়ানা মনে মনে কত্তগুলা গালি দিয়ে আবার হাটা শুরু করে। নিবিড় বুঝতে পারে জিয়ানার পায়ে সুই ঢুকেছে।এরমাঝে প্রচন্ড জোরে বিস্ফোরণ ঘটে সেই বাড়িতে।বড় রাস্তা থেকেও দেখা যায় সেটা।এতদূরেও সেই বিস্ফোরণের কারনে সাময়িক আলোকিত হয়ে উঠেছে।
নিবিড় আর কালক্ষেপ না করে গাড়ির দরজা খুলে দেয় রাফিন আর মেহেদী ঢুকে পড়ে। নিবিড় দৌঁড়ে জিয়ানার কাছে গিয়ে ধরতে গেলে জিয়ানা সাইড থেকে একটা ইটের টুকরা হাতে নিয়ে নিবিড়ের দিকে ছুড়ে মারে।গাড়ি থেকে মেহেদী মাথা বের করে দেখে এদের কর্মকান্ড।জিয়ানা রাগে গর্জে গর্জে বলে,’আমি যাবো না আপনার সাথে।আমাকে আপনি ঘুমের ওষুধ খাইয়েছেন?ভন্ড ,অসভ্য ,খাটাশ।আপনার সাথে ব্রেকাপ।’

মেহেদী গাড়ি থেকে বলে,’বিয়ের পর ডিভোর্স হয় ব্রেকাপ না জননী?’
রাফিন টেনে মেহেদীকে ভেতরে আনে।এর বয়স কবে বাড়বে রাফিনের বুঝে আসে না।
নিবিড় বুঝলো এভাবে কাজ হবে না।তাই কথাবার্তা ছাড়াই চ্যাংদোলা করে ধরে এনে গাড়িতে বসিয়ে দেয়।জিয়ানাকে ধরার সময় বুঝতে পারে পেছনের ট্রি-শার্ট রক্তে ভিজে গেছে।তাড়াহুড়ো করে প্রস্থান করে গাড়ি নিয়ে।
নূর ম্যানসনের কাছাকাছি এসে নিবিড় গাড়ি থামিয়ে পেছন ফিরে রাফিনের দিকে তাকিয়ে বলে,’এখন তোরা দুইটা নাম এখান থেকে। আমাদের একটু কাজ আছে।’
‘নাম মানে? আমার পায়ের অবস্থা দেখেছিস? বাসায় দিয়ে আই।আর তোদের কি কাজ?
ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করে মেহেদী।নিবিড় বিরক্ত হয়ে উত্তর দেয় ,’ ব্যাক্তিগত কাজ। নামবি না আমি টেনে নামাবো?’
রাফিন চোখ বন্ধরত জিয়ানার দিকে তাকিয়ে বলে,’ ওও বেশ ইনজুর্ড। তুই নিজেও হয়েছিস।তাই দ্রুত মেডিসিন নিয়ে নিস তোরা।

তারপর নেমে যায়।মেহেদীকে আবার পিঠে নিয়ে হাটা ধরে নূর ম্যানসনের দিকে। মেহেদী রাফিনের পিঠে উঠেই বলে,’ওরা মনে হয় এখন রোমান্স করবে। রাইট? কিন্তু যা মেয়েরে বাবা।মনে হলো আমি কোন একশান মুভি দেখছি।ডায়ানা প্রিন্স লাইভ ফাইটিং করছে।এমন মিলিটারি মুভ শিখলো কেমনে এই মাইয়া? বিডির মেয়েরাও এখন কত এগিয়ে।’
মেহেদীর কন্ঠে বিষ্ময়।আবার বলে,’আহা রে তুই কি জিনিস পেয়েও হারিয়েছিস? শিট ব্যাড লাক ম্যান। নেক্সট টাইম? ওকে?’
তারপর রাফিনকে উত্যক্ত করতে গেয়ে উঠে,
“রাতে চান্দের আলো ঝরে বন্দু তোমারও ঘরে
হায় আলো যে জ্বলে না আমি একলা আন্ধারে….”
রাফিন থপ করে ফেলে দেয় রাস্তায়। মেহেদী আর্তনাদ করে বলে উঠে,
‘ভাই ভাই। আর ফাজলামু করবো না।নে প্লিজ?’

নিবিড় জিয়ানার দিকে ঝুকে বলে,’ঘরে একসাথে বসবাসকারিদের মাঝে ঝগড়া ঝামেলা মনোমালিন্য অনেক কিছুই হয়।কিন্তু ঘরে যখন আগুন লাগে সবাই সকল কিছু সাইডে রেখে একসাথে আগুন নিভানোর চেষ্টা করে। আমার ভাইরা যেমনই হোক ওদের পরিচয় আমার ভাই।তাই তোমারও ভাই।আজকের মতো কাজ আর কখনো দ্বিতীয়বার করবে না জিয়ানা।’
জিয়ানা প্রতিউওর করে না।নিবিড় হেচকা টানে জিয়ানার ট্রিশার্ট ছিড়ে ফেলে।জিয়ানা সোজা হয়ে বসে নিবিড়ের দিকে আগ্নি দৃষ্টিতে তাকায়।

সামি নামের ছেলেটাকে মারতে পারেনি বলে জিয়ানার মেজাজ খিচে আছে।নিবিড় বুঝতে পারছে বেশ কিন্তু এখন যে কোন কথাও বলবে না সেটাও জানে।পিঠে সুই বিধে আছে যার কারণে র*ক্ত পড়া বন্ধ হয়নি।নূর ম্যানসনে এই অবস্থায় গেলে অনেকের চোখে পড়তে পারে। তাই গাড়িতেই ট্রিটমেন্ট করে ফ্ল্যাটে উঠবে আজ।
জিয়ানাকে ঘুরিয়ে পিঠ থেকে দুইটা গাথা সুই বের করে আনে নিবিড়।একটুও টু-শব্দ পর্যন্ত করেনি জিয়ানা।নিবিড় দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।মনে মনে জিয়াউলকে ধন্যবাদ জানায়।কি অদ্ভুত ট্রেনিং দিয়েছে মেয়েকে।একাই কতগুলা লোককে মে*রে বিছিয়ে দিয়েছে।আজ যদি জিয়ানা না উপস্থিত হতো ওদের সত্যি খারাপ কিছু হতে পারতো। ছেড়া ট্রি-শার্ট দিয়ে রক্ত মুছে কিছুক্ষণ চেপে রাখে।তারপর পায়ের স্নেকার্স খুলে দেখে ছোপ ছোপ রক্ত লেগে আছে টাখনুতে।সুইয়ের খুঁচায় বেশ আঘাত পেয়েছে।

নীতিহীন রাজ পর্ব ৬৬

নিবিড় জিয়ানার ক্লান্ত তেলতেলে মুখের দিকে তাকায়। আচম্বিতে পাতলা ওষ্ঠে একজোড়া পুরো ওষ্ঠের হঠাৎ আক্রমণে শ্বাস নিতে ভুলে যায় জিয়ানা।বুকে ধাক্কা দিয়েও নড়াতে পারে না।তার শক্তি সব শেষ। বারবার ধাক্কাধাক্কি তে নিবিড় বিরক্ত হয়ে প্রশ্ন করে ,’সমস্যা কি?’
জিয়ানা রাগে ফুসফুস করতে করতে বলে,’যাকে বিশ্বাস করেন না তার সাথে এত খাতির ফেলতে হবে না।’
নিবিড় গাড়িতে রেখে যাওয়া ফোন বের করে একটা চিঠির ছবি মেলে ধরে জিয়ানার সামনে। আর সেটা দেখে জিয়ানার নেত্র কয়েক ইঞ্চি বড় হয়ে যায়।

নীতিহীন রাজ পর্ব ৬৮