Home নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৫২

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৫২

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৫২
নাজনীন নেছা নাবিলা

মিহাল নীলাকে নিয়ে নিজের কেবিনে ঢুকে পড়ল এবং কেবিনের দরজা লাগিয়ে দিল। তারপর নীলাকে তার বসার স্থানে বসিয়ে সে নিলার সামনে হাঁটু গেড়ে বসলো। এবং নীলার মুখ থেকে মাস্ক খুলে ফেলব। মেয়েটার মুখ একদম ভিজে আছে চোখের পানি এবং ঘামের কারণে। মিহাল প্যান্টের পকেট থেকে রুমাল বের করে সুন্দর করে নীলার মুখ মুছিয়ে দিল। নীলার চোখ থেকে এখনো জল গড়িয়ে পড়ছে। মিহাল মিলার মুখ মুছিয়ে দিয়ে রুমালটি টেবিলের উপর রাখল তারপর ঠান্ডা গলায় জিজ্ঞেস করল,
“কান্না করার কারণ?”
নীলা কান্নাভেজা কন্ঠে বলল,
“আমার জন্য আপনার স্বপ্নের চাকরি চলে গেল। আমাকে যদি সবার সামনে নিজের স্ত্রী হিসেবে দাবী না করতেন তাহলে আপনার চাকরি যেত না।”
মিহাল হাসল,

“এক চাকরি গেলে দশ চাকরি আসবে। কিন্তু তুমি আমার বউ, আমার ভালোবাসা। ভালোবাসা একবারে গেলে দ্বিতীয়বার পাওয়া যায় না নীলাঞ্জনা।”
নীলা নাক টানলো। মিহাল ঠোঁট কামড়ে হাসলো। তারপর কিছুটা রাগী ভাব নিয়ে বলল,
“তুমি আগে নীলা নেই আর এখন।”
নীলা অবাক হলো, তার কান্না থামলো। সে নাকি টেনে মিহিল কে জিজ্ঞেস করল,
“মানে?”
মিহাল এক বুক হতাশার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,
“আগের নীলা ছিল তেজী, জেদি আর প্রতিবাদী। কিন্তু এখনকার নীলা কেমন যেন আনমনা আর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে!”
মিহালের এই অপ্রত্যাশিত কথাগুলো শুনে নীলার কান্না এক নিমেষেই বন্ধ হয়ে গেল। সে বিস্ময়ভরা চোখে মিহালের দিকে তাকাল। মিহাল নীলার গালে নিজের হাতটা আলতো করে রাখল। তার স্পর্শে এক অদ্ভুত ও আদিম ভরসা ছিল। সে নীলার চোখের ভাষা পড়ে নেওয়ার মতো করে বলতে লাগল,

“তুমি আমার সামনে কান্না করছ, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই নীলাঞ্জনা। আমার কাছে তুমি সবসময় একটা খোলা বইয়ের মতোই থাকবে। কিন্তু আমি কোনোদিনও চাই না তুমি এভাবে ভেতরে ভেতরে দুর্বল হয়ে যাও। বিশেষ করে যখন আমি নিজে তোমার পাশে ছায়ার মতো আছি।”
মিহাল একটু থামল, তার চোখ দুটো গভীর অনুরাগে চকচক করে উঠল,
“আমি তোমার জীবনের কোনো দুর্বলতা হতে চাই না নীলা। বরং তোমার মনের ভেতর যে সাহসটুকু আছে, আমি তার সাথে এক নতুন শক্তি হিসেবে যোগ হতে চাই। আগের সেই লড়াকু নীলা যদি আজ এখানে থাকত, তবে সে এই নোংরা অপবাদের মুখে দাঁড়িয়ে তড়পে উঠত, নিজের সবটুকু দিয়ে প্রতিবাদ করত বা একটা কিছু ঘটিয়ে ছাড়ত। কিন্তু আজ তুমি তেমন কিছুই করলে না, শুধু মুখ বুজে কাঁদলে! এই ব্যাপারটা আমাকে তোমার ওপর কিছুটা হতাশ করেছে। তুমি যথেষ্ট শক্তিশালী এক মেয়ে নীলাঞ্জনা। আমি চাই না তুমি কারও জন্য, এমনকি আমার জন্যও নিজের মেরুদণ্ডটা বাঁকিয়ে ফেলো। আমি চাই, তুমি আমার জন্য আরও বেশি সাহসী হও, আরও বেশি শক্ত হও।”

মিহালের প্রতিটি শব্দ নীলার মনের গভীরে গিয়ে ধাক্কা দিল। তার ভেতরের ঘুমিয়ে থাকা সেই তেজী মেয়েটি যেন হঠাৎ করেই এক ঝটকায় জেগে উঠল। মিহাল তার চোখের জল মুছে দিয়ে তাকে এক নতুন লড়াইয়ের জন্য নিমন্ত্রণ দিয়ে দিল। মিহালের কথাগুলো তপ্ত তীরের মতো নীলার ঘুমন্ত আত্মসম্মানে গিয়ে আঘাত করল। সে বুঝতে পারল, মিহালের প্রতি গভীর ভালোবাসা তাকে আসলেই বড্ড বেশি নরম আর আনমনা করে তুলেছিল। কিন্তু এই দুর্বলতা তার স্বভাববিরুদ্ধ। নিজেকে এভাবে হারিয়ে ফেলা তার জন্য চরম বিপজ্জনক। তাকে এখন আরও বেশি ইস্পাত-কঠিন হতে হবে, নিজের আর মিহালের অপমানের প্রতিশোধ নিতে হবে।
নীলা আর এক মুহূর্তও বসে থাকার প্রয়োজন বোধ করল না। চেয়ার ছেড়ে টানটান হয়ে দাঁড়িয়ে সে নিজের মাস্কটা মুখে পরে নিল। তারপর মিহালের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে এক বুক অভিমান আর জেদ মেশানো কণ্ঠে বলল,
“আপনি তো আমার কোনো কথাই শুনলেন না। নিজের মনে যা এলো, তাই করলেন। এবার আমার যা করা উচিত, আমি ঠিক সেটাই করব। আর হ্যাঁ, মনে রাখবেন আপনার সাথে আমি আর কোনো কথা বলছি না।”

কথাটা শেষ করেই নীলা ঝড়ের বেগে কেবিন থেকে বের হওয়ার জন্য পা বাড়াল। মিহাল পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তাকে আটকাতে গেল, কিন্তু তার আগেই নীলা দরজার বাইরে চলে গিয়ে খটাস করে কেবিনের দরজাটা টেনে দিল। মিহাল দ্রুত দরজার হাতল ধরে খোলার চেষ্টা করল, কিন্তু বাইরে থেকে লক হয়ে যাওয়ায় সে ব্যর্থ হলো। সে ভেতর থেকে দরজায় ধাক্কা দিতে যাবে, ঠিক তখনই দরজার ওপাশ থেকে নীলার গমগমে চেনা কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,
“প্যারে লাল! একদম দরজায় ধাক্কা দেবেন না, আর কোনো রকম শব্দও করবেন না। যতক্ষণ না আমি নিজে এসে এই দরজা খুলছি, চুপচাপ ভেতরে থাকুন। আমাকে আমার কাজটা করতে দিন। আপনাকে আমার কসম রইল, আপনি কিচ্ছু করবেন না।”
নীলার মুখে নিজের সেই পুরোনো ডাক আর কসম শুনে মিহাল দরজার হাতল থেকে হাত সরিয়ে নিল। এক বুক দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া এই মুহূর্তে তার আর কিছুই করার ছিল না। তবে সে মনে মনে হাসল, তার তেজী নীলাঞ্জনা অবশেষে ফিরে এসেছে।
নীলা তপ্ত পায়ে সোজা চলে গেল প্রিন্সিপালের কেবিনে। দরজায় মৃদু করাঘাত করে অনুমতি পেতেই সে ভেতরে ঢুকল। সেখানে আগে থেকেই লিসা তার বাবার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এই মুহূর্তে নীলাকে এমন আত্মবিশ্বাসী রূপে সেখানে প্রবেশ করতে দেখে বাবা-মেয়ে দুজনেই বেশ অবাক হলেন। নীলা কোনো ভূমিকা না করে সরাসরি প্রিন্সিপালের দিকে তাকিয়ে ধারালো কণ্ঠে বলতে শুরু করল,

“আপনি বাঙালি, তাই আমি বাংলা ভাষাতেই কথা বলছি। আমার স্বামীকে এভাবে হুট করে ডিসমিস করার কারণটা কি শুধুই ওই চাকরি পাওয়ার চুক্তিপত্র ছিল? নাকি আসল কারণ হলো,আপনার মেয়েকে সে কোনোদিন পাত্তা দেয়নি, সেই আক্রোশ?”
নীলার এই সোজাসাপ্টা ও ধারালো প্রশ্নে প্রিন্সিপাল পুরোপুরি থতমত খেয়ে গেলেন, তাঁর মুখ দিয়ে কোনো কথা সরল না। আর লিসা? তার তো এমন তেতো সত্য হজম হওয়ার কথাই ছিল না। সে নিজের রাগ সামলাতে না পেরে তীব্র চিৎকার দিয়ে উঠল,
“নীলা!!!”
নীলা তার দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে এক টুকরো বাঁকা হাসি ফুটিয়ে তুলল। এরপর অত্যন্ত শান্ত কিন্তু ঠান্ডা গলায় বলল,

“চিল্লাচিল্লি করলেই কিন্তু নিজের বাজার পাওয়া যায় না লিসা। ঠিক যেমনটা এত সুন্দর সেজেগুজে মিহালের সামনে ঘুরঘুর করেও তুমি তাকে কোনোদিন নিজের করতে পারলে না। আর সেই ব্যর্থতার পর তুমি সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের নিয়ে কী কী নোংরামি করেছ, তার সবকিছুর অকাট্য প্রমাণ এই মুহূর্তে আমার কাছে আছে।”
নীলার মুখে প্রমাণের কথা শুনে লিসার ভেতরের সবটুকু আস্ফালন যেন এক নিমেষে জল হয়ে গেল। তার বুকের ভেতর এক অদ্ভুত, অচেনা ভয়ের জন্ম নিল। এবার লিসার বাবা নিজের মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে কিছুটা অস্বস্তি ও সংশয় নিয়ে গম্ভীর গলায় বলে উঠলেন,
“কী বলতে চাচ্ছো তুমি? পরিষ্কার করে বলো!”

নীলা লিসার ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে এক পৈশাচিক জয়ের হাসি হাসল। ফোনটা বের করে স্ক্রিনটা অন করতেই ভেসে উঠল প্রথম ভিডিওটি, যেখানে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে লিসা কীভাবে ইকরাকে একটা রুমে আটকে রেখে বাইরে থেকে লক করে দিচ্ছে। এই দৃশ্য দেখা মাত্রই লিসার পায়ের তলা থেকে যেন আস্ত মাটিটাই সরে গেল। প্রিন্সিপাল নিজের চোখে ভিডিওটি দেখে চরম অবাক হলেন। তাঁর নিজের ইউনিভার্সিটিতে এত বড় একটা অপরাধ ঘটে গেল, অথচ তিনি কিছুই জানতেন না। তার চেয়েও বড় ধাক্কা হলো, এই নোংরা চক্রান্তের পেছনে স্বয়ং তাঁর নিজের মেয়ে জড়িয়ে আছে। কিন্তু নীলা এখানেই থামল না। প্রিন্সিপালকে আরও বড় এবং চূড়ান্ত ধাক্কাটা দেওয়ার জন্য সে ফোনের স্ক্রিনে পরের ফুটেজটি চালু করল। সেখানে দেখা যাচ্ছে, লিসার ভাড়াটে লোক দিয়ে মিহালকে কিডন্যাপ করার সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্তের দৃশ্য। ব্যাস, এই ভিডিও দেখা মাত্রই লিসার মাথা বনবন করে ঘুরতে শুরু করল। তার সমস্ত চালাকি এক নিমেষে ধূলিসাৎ হয়ে গেল। আর প্রিন্সিপাল? নিজের মেয়ের এই ভয়ঙ্কর অপরাধের প্রমাণ দেখে তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না। তীব্র ক্ষোভ আর অপমানে বসা থেকে ঝড়ের বেগে উঠে দাঁড়িয়ে লিসার গাল লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি কড়া চড় কষিয়ে দিলেন। লিসার জীবনে এই প্রথমবার তার বাবা তার গায়ে হাত তুললেন। মেয়ের দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রিন্সিপাল রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলতে লাগলেন,

“এই চড়গুলো যদি তোমাকে ছোটবেলায় মারতাম লিসা, তাহলে আজ আমাকে এই কলঙ্কিত দিন দেখতে হতো না। আসলেই সন্তানদের এতটা খারাপ আর অহংকারী হওয়ার পেছনে আমরা মা-বাবা তোষামোদি করেই সবচেয়ে বড় অপরাধটা করি।”
বাবার এই রূপ দেখে লিসা আর কোনো কথা বলতে পারল না, সে দুই হাতে মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।
নীলা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে লিসার দিকে তাকাল। তারপর প্রিন্সিপালের দিকে ফিরে বরফশীতল কণ্ঠে বলল,

“আপনাদের এই বাবা-মেয়ের পারিবারিক ঝগড়া আর মান-অভিমান পরে একসময় ঘরে বসে সেরে নিবেন। আগে আমার কথাটা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। আপনি যদি আমার স্বামীকে এই ইউনিভার্সিটি থেকে বরখাস্ত করেন, তবে আপনার মেয়ের এই সব কীর্তিকলাপ আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেব। একই সাথে এই অকাট্য প্রমাণগুলো নিয়ে আমি সোজা পুলিশের কাছে যাব। এতে আপনার সামাজিক সম্মান যেমন ধুলোয় মিশবে, আপনার নিজের এবং মেয়ের ক্যারিয়ারও ধ্বংস হবে। এমনকি এই ইউনিভার্সিটির প্রিন্সিপালের পদটাও হয়তো আপনাকে হারাতে হতে পারে। তাই এই মুহূর্তে আপনার হাতে কোনো ‘অপশন’ নেই। আপনার সামনে খোলা আছে কেবল একটাই রাস্তা,তা হলো আমার স্বামীর বরখাস্তের আদেশ এখনই বাতিল করা।”
নীলার এই ধারালো এবং যুক্তিযুক্ত হুমকি শুনে প্রিন্সিপালের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল। তিনি নিঃশব্দে নিজের চেয়ারে ফিরে বসলেন। মিহালকে বরখাস্ত করার জন্য যে অফিশিয়াল নোটিশটি তিনি মাত্রই তৈরি করছিলেন, সেটি এক ঝটকায় ছিঁড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিলেন। তারপর অপরাধবোধে নীলার দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত বিনীত কণ্ঠে বললেন,

“তোমার স্বামীর চাকরি যাচ্ছে না মা। তাকে আমি সসম্মানে এই ইউনিভার্সিটির প্রফেসর পদেই বহাল রাখছি। আর আমার মেয়ের এই জঘন্য ব্যবহারের জন্য আমি তোমার কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাচ্ছি, আমি সত্যিই লজ্জিত। তুমি অত্যন্ত বুদ্ধিমান আর পরিপক্ক একটা মেয়ে। আমি আশা করি, আমাদের ইউনিভার্সিটির সুনামের স্বার্থে এই প্রমাণগুলো আমাদের তিনজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আর শাস্তি হিসেবে আমি লিসাকে এই কলেজ থেকে তো বটেই, দেশ থেকেও চিরতরে বের করে অন্য কোনো দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছি। আমি নিজ দায়িত্বে যাকে লন্ডনে পৌঁছে দিব যাতে এর ভেতর সে কোন খারাপ কাজ না করতে পারে তোমাদের সাথে।”
বাবার মুখে নিজের এই চূড়ান্ত শাস্তির কথা শুনে লিসা যেন জীবন্ত এক পাথরে পরিণত হলো। তার সাজানো পুরো সাম্রাজ্য আজ নীলার বুদ্ধির কাছে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল।
নীলার ঠোঁটের কোণে এবার এক টুকরো তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল। পরিস্থিতি এভাবে বদলে যাওয়ার পরও তাকে ওভাবে হাসতে দেখে প্রিন্সিপাল আর লিসা দুজনেই বেশ অবাক হলেন। নীলা হাসতে হাসতেই লোহা-কঠিন স্বরে বলল,

“আমার স্বামীকে আপনি চাকরি থেকে বরখাস্ত করলেন পুরো মাঠের সবার সামনে মাইক ফুঁকে, আর এখন বলছেন তাকে চাকরিতে বহাল রাখবেন এই চার দেয়ালের আড়ালে, গোপনে? এভাবে তো কোনোভাবেই হবে না, স্যার! তাকে যেভাবে সবার সামনে অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, ঠিক একইভাবে সবার সামনে দাঁড়িয়ে আপনাকে ঘোষণা দিতে হবে যে আপনি তার চাকরি কেড়ে নিচ্ছেন না। আমার স্বামীকে পূর্ণ সম্মানের সাথে এই ইউনিভার্সিটির প্রফেসরের পদ ফিরিয়ে দিতে হবে।”
একটু থামল নীলা। লিসার দিকে এক পলক তাকিয়ে প্রিন্সিপালকে উদ্দেশ করে আবার বলল,
“আর আপনার মেয়ের সাথে আপনি কী করবেন না করবেন, সেটা সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। আমি এখন আসছি। আপনার যা করার দ্রুত করে ফেলুন, যত তাড়াতাড়ি করবেন, ততই আপনাদের জন্য মঙ্গল। আর হ্যাঁ, নিশ্চিন্তে থাকুন আপনার সিদ্ধান্ত সঠিক হলে এই ভিডিওগুলো কোনোদিনও লিক হবে না।”

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৫১

নিজের শর্তগুলো এক নিঃশ্বাসে জানিয়ে নীলা আর এক সেকেন্ডও সেখানে দাঁড়াল না। কারো উত্তরের অপেক্ষা না করেই সে রাজকীয় ভঙ্গিতে কেবিন থেকে বের হয়ে এলো। প্রিন্সিপাল নিজের চেয়ারে হেলান দিয়ে এক দীর্ঘ ও পরাজয়ের নিশ্বাস ত্যাগ করলেন, নিজের ক্ষমতার দম্ভ আজ এক ছাত্রীর বুদ্ধির কাছে পুরোপুরি ধুলোয় মিশে গেছে।

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৫৩