Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ২

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২
সুরাইয়া জিয়াসমিন

সবাই কি সত্যিই এমন,,
নুবা আর নুবার মা হাজেরা বেগম,,তারা কিন্তু এই বাড়ির সদস্য না,, অনেক বছর আগের কথা,,নুবা যখন মাত্র class 6 এ পড়ে,,,তখন তার বাবা মারা যায়,,
নুবার বাবা মির্জা বাড়ির ড্রাইভার দিলো,,,নুবা জন্মেরও আগে থেকে সে এই কাজে লিপ্ত ছিলো,,যার কারনে মির্জা বাড়ির বেশ বিশ্বাসযোগ্য কর্মী ছিলো,,,
একদিন মির্জা বাড়ির মালকি হারুন শাহরিয়ার মির্জা কে নিজ গন্তব্যে স্থানে পৌঁছে দিতে ভোর সকালে তাদের নিয়ে বেড় হোন নুবার বাবা ইয়াস রহমান,,
তবে সেদিন তার ভাগ্যে খারাপ ছিলো,, হঠাৎ একটা গাড়ি এসে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে তাদের সাথে ধাক্কা খায়,,,ইয়াস রাহমান হতভম্ব হয়ে যায় এই কান্ডে,,তার মনে হচ্ছিলো ইচ্ছে করে ধাক্কা টা দেওয়া হয়েছে
ইয়াস রহমান ট্রাক চলকে বকতে থাকে,,সে গাড়ি থামিয়ে নিচে নামে,,তার সাথে হারুন শাহরিয়ার মির্জাও গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়,,,

কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার ট্রাক ড্রাইভার থামার বদলে ট্রাক নিয়ে তাদের দিকে লুফে আসে যেনো তাদেরি মারার চেষ্টা করছে,,
এক পর্যায়ে প্রায় সফলোও হয়ে যায় ট্রাক চালক তবে নিজ মালিককে বাঁচাতে ইয়াস রহমান নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেন,,,
যতখনে ট্রাক ড্রাইভার আবারো হারুন শাহরিয়ার মির্জার উপর হামলা করবে ততখনে রাস্তার মানুষ ভির করে ঘিরে ধরে ইয়াস আর হারুন মির্জা কে,,যাতে করে ভয়ে ট্রাক ড্রাইভার পালায়,,,
তবে ঘটনায় রাস্তায় প্রান হারায় ইয়াস রহমান,,,এই অবস্থায় ছোট্ট নুবাকে নিয়ে হাজেরা বেগম দিশেহারা হয়ে পড়ে কি করবেন,,,
নুবারা ছিলো মধ্যবিত্ত,,ইয়াস মির্জার বেতন দিয়ে তাদের জীবন দিব্যি চলে যাচ্ছিলো,,তারা ছোট্ট একক আর সুখী পরিবার ছিলো

তবে ইয়াস রহমান এর মৃত্যুর পর সব পালটে যায়,, পরিস্থিতি বুঝে,, হারুন শাহরিয়ার মির্জা আর তার পুরো পরিবার মিলে সিদ্ধান্ত নেয়,, হাজেরা আর নুবার দায়িত্ব হারুন মির্জা নিবে,,,
হাজেরা বেগম রাজি না থাকলেও মেয়ের কথা ভেবে রাজি হয়ে যায়,, কারণ সেও এতো শিক্ষিত না মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাবে,,,মেয়ের পড়া লেখা নষ্ট হবে,,
সব কিছু ভেবে হজেরা রাজি হয়ে যায়,, তাদের মির্জা বাড়িতে জায়গা দেওয়া হয়,,হাজেরা গৃহকর্মীর মতো মতো সবার মন জুগিয়ে চলে,,
যতো আত্মীয় অথবা কাছের মানুষ হোক না কেন হাত না নাড়লে কেউ খাবার দিবে না,
নুবাকে নতুন স্কুলে ভর্তি করানো হয়,, প্রথম প্রথম বাবাকে হারিয়ে কষ্ট পেলেও সব মানিয়ে নেয় তারা,,
অতঃপর আস্তে আস্তে তারাও পরিবারের ছোট্ট অংশ হয়ে উঠে,,তবে গৃহকর্মী গৃহকর্মীই থাকে,,,যেমনটা আরাফ বললো
আরাফের কথা শুনে এক মূহুর্তের জন্য নুবার মনে হচ্ছিলো তারা কুকুরের মতো এই বাড়িতে পড়ে আছে,,তবে কিছু করার নেই,,,

মির্জা বাড়ির মোট ৫ জন সদস্য,,,আরহাম শাহারিয়ার মির্জা,,বাড়ির বড় ছেলে,,আরাফ মির্জা,,বাজির ছোট ছেলে,,,আর বাড়ির একমাত্র মেয়ে আরশি,,বাড়ির মালিক হারুন শাহরিয়ার মির্জা,,তার স্ত্রী আমিনা মির্জা,,সবাই প্রচন্ড ভালো,,,
আরহাম মির্জা,,দেশে থাকে না,,আরহামের সাথে বাড়ির মানুষের সম্পর্ক তেমন ভালো না,,বছরে একবারো কথা হয় কিনা সন্দেহ,,তবে আমিনা মির্জা প্রতিদিন বড় ছেলের জন্য কেঁদে কেঁদে বুক ভাসায়,,
আরশি ভার্সিটিতে পড়ছে,,আরাফ বাবার সাথে বিজনেসে হাত দিয়েছে,, যেহেতু শহরের নাম করা
Beximco Group এর owner তাই শত্রুর কমতি নেই,,,তবে হারুন মির্জা share এ আছেন,,,কথা বার্তা চলছে আরাফ কে CEO এর পদে বসানো হবে যেহেতু আরহাম দেশে নেই,,,

নুবার হুস ফিরলো মায়ের ডাকে,,,হাজেরা বেগম খাবার বিছানায় রেখে বললো
_ তাড়াতাড়ি খে নে তো,, আমার সাথে একটু কাজে হাত দিবি,,
নুবা মাথা ঝুকালো,,,সে স্বাভাবিক ভাবেই নিজেথ খাবার খেতে শুরু করলো,,হাজেরা বেগম এলোমেলো ঘড় টাকে একটু গুছিয়ে নিলো,,,
হঠাৎ করেই নুবা বলে উঠলো
_ মা,,আজ যদি বাবা থাকতো তবে অন্যের বাড়িতে এরকম কুকুরের মতো থাকতে হতো না তাই না মা,,,
হাজেরা বেগম ভুরু কুঁচকে মেয়ের দিকে তাকালো ,, বিষ্ময় কন্ঠে বললো
_ কি হয়েছে তোর,,,এতো বছরে তো এই কথা তোর মাথায় আসেনি,,আজ হঠাৎ কেন,,
নুবা মুখের ভাত চিবিয়ে শেষ করে বললো
_ সেদিন তুমি এই সিদ্ধান্ত টা না নিলেও পারতে মা,, এমন না যে আমাদের এখানে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে,,,এর থেকে ভালো ভারা বাড়িতে থেকে কাজ করেই খেতাম,,
হাজেরা বেগমের বুকটা ধুপ করে উঠলো,,সে আলতো করে এসে মেয়ের সামনে বসলো,, মৃদু কন্ঠে বললো
_ কি হয়েছে রে,, এমন বলছিস কেন,,
নুবা কাঠ কাঠ কন্ঠে বললো

_ কারো অধীনে থাকার চেয়ে কর্ম করে নিজের মতো স্বাধীন থাকা কি উত্তর নয় মা,,
হাজেরা বেগম মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো
_ হ্যাঁ মা,, কিন্তু তোমাকে এতো ভালো মতো পালতে তো পারতাম না,,এতো ভালো স্কুল কলেজে,,এতো ভালো জামা কাপড়,, দুই বেলা ভালো খাবার তো দিতে পারতাম না,,,
নুবার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,, কম্পিত কন্ঠে বললো
_ ছেরা জামা,,দুই বেলা নুন ভাত,,আর অশিক্ষিতোই হয়ে থাকতাম,,তাও তো কারো থেকে শুনতে হলো না আমি এই বাড়ির আশ্রয়ীতা,,কেউ তো দু বেলা খাওইয়ে বলতো না তাদের রুটি দু বেলা খেএ বড় হওয়া পুষা কুকুর,,,
হাজেরা বেগম হতভম্ব হয়ে গেলো,,, কঠোর কন্ঠে বললো
_ তোকে কে বলেছে এই সব কথা,,
নুবা মাথা থেকে নিজ মায়ের হাত সরিয়ে দিলো,,,ভাতে হাত ধুয়ে বললো
_ কলেজের কিছু বন্ধুরা বললো,, আমার নাকি নিজের বলতে কিছুই নেই,,থাকি লোকের বাড়ি,,খাই লোকেরটা,,,পড়ি লোকেরটা,,তারা না থাকলে না পঁচা নদ্যমায় ভেসে যেতাম,,,
হাজেরা বেগম রাগে ফুঁসে উঠলো,,আর বললো

_ দ্বিতীয় বার তোর এই বন্ধুদের বলে দিবি তোর মা গায়ে গতরে খেটে খায়,,এই বাড়িতে কেউ তাকে বসিয়ে খাবার দেয় না,,বাড়ির পরি পাঁচটা করলেই তবে খাওন জুটে,,,
বলেই হাজেরা বেগম ভাতরে প্লেট নিয়ে গটগট করে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,তার ভিষন কষ্ট লেগেছে,,আজ মনে হচ্ছে সেদিন হয়তোবা সে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো,,তবে সে কি করতো,,মেয়ের ভালো একটা ভবিষ্যৎতের জন্য রাজি হয়ে গিয়েছিলো,, এমন তো না যে তারা এখানে খারাপ আছে,,বা কেউ তাদের সাথে খারাপ আচরণ করছে,,সবি তো ঠিক আছে,, শুধু সমাজের নিচু দৃষ্টি আর কটু কথার জন্য আজ তার মেয়ের চোখে পানি

নুবা বিছানায় শুয়ে গুনে গুনে হিসাব টানতে লাগলো আরাফ তাকে কতটা নিচু চোখে দেখে,,,
আরাফের সাথে কোনো রকম অবৈধ সম্পদ ছিলো না নুবার,, তাদের চোখে চোখে প্রেম ছিলো,,,আরাফের ব্যক্তিত্ব,,তার কথা বলার ধরন,,তার মিষ্টি আচরন সবকিছু নুবাকে টানতো,,,
এটাই তো স্বাভাবিক,,কেউ যদি ১০ জনের ভিতরে তোমাকে বেশি priority দেয় তবে অবশ্যই তুমি তারি প্রেমে পড়বে,,,
নুবার সাথে হয়েছিলো এমন টায়,,আরাফ তার সাথে এতোটা ভালো ব্যবহার করতো যে নুবা বাধ্য হয়েছিলো নিজের সিমা বোদ্ধাতা ভুলে যেতে,,সে বাধ্য হয়েছিলো ভুলে যেতে যে সে এই বাড়ির আশ্রয়ীতা,,আর সে চাইলেও এটা সম্ভব না
তবে একটা কথা কি জানো,,নুবা আরাফকে প্রচন্ড পরিমান বিশ্বাস করতো,, তাদের চোখে চোখে প্রেমে পড়ার মূহুর্ত গুলো খুবি সুন্দর ছিলো,,,
আরাফ অতী সহজেই নুবার বিশ্বাস জিতে নেয়,,নুবাকে আরো ঘায়েল করার জন্য সুন্দর ভাবে নিজের মিথ্যা অনুভূতিগুলোকে নুবার সমানে সাজিয়ে রাখে,,
নুবা প্রথমে ভয় আর দ্বিধায় না করলেও আরাফের চোখের ভাষা তাকে নতুন বাঁধনে আটকে ফেলে,,
আস্তে আস্তে তাদের সম্পর্ক গভীর হয়,,তবে ২/৩ মাস যেতেই আরাফ জঘন্য আবদার করে বসে,,,যেটা নুবার জন্য অবিশ্বাস্য ছিলো,,আরাফ এমন কিছু বলতে পারে সে কল্পনাও ভাবেনি
আরাফ তাকে কোনো রকম সম্পর্ক ছাড়াই অবৈধভাবে তাকে কাছে টানতে চাইছিলো,,নুবা সেদিন কি বলবে ভুলে যায়,,তবে সে মানা করে দেয়

নুবার মানা করার পর থেকে আরাফের আচরনে পরিবর্তন আসে,, তাদের সম্পর্ক চালা কালিন দিনের বেলা একবার হলেও আরাফ এই বিষয়ে কথা বলতো
নুবা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে,,আরাফকে বুঝাতে ব্যর্থ ছিলো সে,,যখন আরাফ মানতে নারাজ তখন এক পর্যায়ে নুবা আরাফ থেকে দূরে সরে আসতে শুরু করে,,,
তবে আরাফ দূরে সরে যায়নি,,,তার আচরণের সাথে সাথে তার হাতো হয়ে গেছিলো বেলাগাম,,,প্রেমের শুরুতে আরাফের মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া,, কাঁধে হাত রাখা স্বাভাবিক আর ভালোবাসা প্রবল লাগলেও পরে তার কেমন ঘৃণিত স্পর্শে পরিনত হয়
নুবা বুঝতে পারে এই ছোঁয়া শুধুই কামনা ,,এর ব্যতিত কিছুই নয়,,,এই বিষয় নিয়ে আরাফের সাথে ঝগড়া লাগতে শুরু হয়,,,
এই সবের ভিতরে আরাফের জন্য পরিবরা থেকে মেয়ে দেখা হয়,,এতো কিছুর পড়েও নুবা ভেবেছিলো আরাফ তাকে ভালোবাসা,, হয়তোবা প্রতিটা ছেলেরি কিছু না কিছু আবদার থাকে আর আরাফ হয়তোবা একটু এরকম
কিন্তু তার ধারান ভুল করে দিয়ে সেদিন আরাফ বিয়েতে রাজি হয়ে যায়,,এমনকি তারা বিয়ের ডেটও ঠিক করে আসে,,,
নুবা এই সব কিছুর পর হতভম্ব হয়ে যায় সে এই বিষয়ে আরাফের সাথে কথা বলতে যায়

নুবা চোখ ভরা পানি নিয়ে আরাফকে প্রশ্ন করলো
_আপনি বিয়েতে কি করে রাজি হলেন
আরাফ এক পলক ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ভাবলেশহীন ভাবে বললো
_ এই রাত করে তুই এই ব্যপারে জিগ্গেস করতে আসছিস,,
নুবার বুক কেঁপে উঠলো,, ফুঁপিয়ে উঠলো হে,, কম্পিত কন্ঠে বললো
_ যদি আপনার আমাকে ভালোই না লাবে তবে এই সব কেন করলেন,
আরাফ বিরক্তি নিয়ে বিছানা থেকে উঠে আড়মোড়া ভেঙ্গে বললো,,,
_ কে বলেছে তোকে আমার পছন্দ না,,আমি তোকে প্রচন্ড পছন্দ করি,,এখনো করি,, কিন্তু তুই তো কাছে আসতে চাস না আমার দোষ কি,,
_ স্পষ্ট করে বলেন তো, আমাকে ভালোবাসেন নাকি আমার শরীরকে যে__
আরাফ নুবাকে চুপ করিয়ে দিয়ে বললো

_ আহহ,,চুপ কর তো,, তুই মানে তো তুই,,পুরোটাই তো তুইরে নুবা,,তোকেই তো চাইছি,,,দেখন এখনো সময় আছে,, তুই রাজি হয়ে যা,, বিশ্বাস কর আমি বিয়ে করবো না,,,
নুবার রাগে শরীর কাঁপতে লাগলো,,বিরবরি করে বললো
_ তবে বিয়ে করে নেন আমাকে,,তখন আমি কখনোই বাঁধা দিবো না,,,
নুবার কথায় শব্দ করে হেসে উঠলো আরাফ,,,হাসতে হাসতে বললো
_ so funny,,তোকে এমনিতেই তো পাচ্ছি,,তাহলে বিয়ে করে কি লাভ,,আররর___
সুর টেনে আরাফ পাশ থেকে ফোন নিলো,,তার হবু বউ এর একটা ছবি বেড় করে নুবার সামনে ধরে বললো
_ দেখ তো,,একটু ভালো করে দেখ,,এই পরিটাকে ছেড়ে তোকে বিয়ে করতে ইচ্ছে হবে বল,,, একদম মাখন,,,
নুবা একবার ছবির দিকে তাকালো আসলেই মেয়েটা অনেক সুন্দর,,নুবা কিছু বলতে পারলো না,,বুক কাঁপছে তার,,,তার অগোছালো জীবন টাকে আরো এলোমেলো করে দিলো ,, কিন্তু এখানে কি দোষ ছিলো তার যে এমন হলো,,ভালোবাসাই কি পাপ,,
আরাফ এগিয়ে আসলো,,,নুবাকে আলতো করে নিজের সাথে জড়িয়ে নিলো,,নুবার পুরো শরীর ভেঙ্গে আসলো,, ফুঁপিয়ে উঠলো সে,,,বিরবির করে বললো
_‌আপনি please এই বিয়েটা করবেন না,,আমি আপনাকে প্রচন্ড ভালোবাসি,,আপনি আমাকে এভাবে ছেড়ে দিতে পারেন না,,,

আরাফ নুবার কাঁধে নাক ডোবালো,,নুবা থরথর করে কেঁপে উঠলো,,আরাফ নুবার কাঁধে নাক ঘষে বললো
_ দেখ আমিও তোকে অনেক ভালোবাসি,, হয়তোবা বিয়েটা করছি কিন্তু তুই সবসময় আমারি থাকবি,, তুই শুধু সব একসেপস্ট করে নে,,আমি তোকে বিয়ে করতে পারবো না ,, কিন্তু আমি তোকে সব দিতে পরাবো যা একদম স্বামী একজন স্ত্রীকে দেয়,, ভালোবাসা,,আদর,,,খরচ,,,A to Z সব কিছু,, শুধু সবার আড়ালে,, তুই আমার অর্ধেক স্ত্রীই তো বল,আমি তোকে হারাতে চাই না please আমার কাছে থেকে যা,,,
নুবার ঘৃণায় শরীর কেঁপে উঠলো,,এতসময় আরাফ করে হারানোর কথা ভবে কষ্ট লাগলেও এখন তার ঘৃণায় পরিনত হলো ,,,আরাফ ইন্ডিকেটলি তাকে লিভ-ইন রিলেশনশিপ এ থাকতে বলছে,,মানে তাকে দেহরক্ষী হতে বলছে,,, অবৈধ ভাবে তাকে রাখতে চাইছে,,এতোটা নিচু ভাবে তাকে
নুবা রাগে আরাফকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে সরিয়ে দিলো,,,রাগে কম্পিত কন্ঠে বললো
_ আপনাকে ভালোবেসে যে পাপ করেছি এটা আজ বুজতে পারলাম,,,
আরাফ নুবার কথা গায়ে মাখলো না,,হতাশা নিয়ে বললো
_ দেখ তোর মতো মেয়েকে gf অথবা দেহরক্ষী হিসাবে রাখা যায় but বিয়ে করা যায় না,, তুই ভা যখন কেউ আমাকে তোর ব্যাপারে জিগ্গেস করবে তখন আমি কি বলবো আমার বউ আমার বাড়ির কাজের লক,,সমাজ আমার উপর ছি ছি করবে,,,এর থেকে ভালো তুই আমার কথা শুন তুই ও সুখে থাকবি আমিও,,,
নুবা আর এক মূহুর্ত ওখানে দাঁড়ালো না,, চোখের পানি মুছতে মুছতে বাইরে চলে আসলো,,আরাফ ভিতর থেকে চিৎকার করে বললো
_ i love you নুবা জান,, তুই আমাকে বুঝলি না ,,আমি তোকে ছাড়া বাঁচবো না ,,আমি তোকে প্রচন্ড ভালোবাসি,,,

এই সব কথা ভেবে নুবার নিজের মাথার চুল নিজের ছিরতে ইচ্ছে করলো,,কোন হুজুগে পড়ে সে ভালোবাসা নামে পাপ করেছিলো কে জানে,,,সে নিজের কপাল চাপড়িয়ে কাদলো
এর পর নুবা তাদের সম্পর্কের ইতি টেনেছিলো ,, কিন্তু আরাফ টানেনি,,সে সুযোগ পেলেই নুবার সামনে ধ্যান ধ্যান করতে থাকতো,,সে নাকি সত্যিই নাকে নুবাকে ভালোবাসে,,আর নুবা এই সব শুনে হাসতো,, কারন নুবা জানতো আরাফ শুরু মাত্র তাকে কাছে টানার জন্য এই সব করছে,,,কাজ শেষ হয়ে গেলে তাকে ছুড়ে ফেলে দিবে,,,

নুবা জানে আরাফ চাইলে জোরাজুরি করতে পারতো তবে সে করবে না,,সে চায় নুবা নিজ ইচ্ছায় ধরা দিক কারন জোরজবরদস্তি করলে যদি নুবা সবাইকে সব কিছু বলে দেয়,,এইটাই মেইন কারণ,,,
নুবা আরাফকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে,,,আরাফ বলতে থাকে,,
_ তুই আমাকে ignore কেন করছিস,,আমি কি একবারো বলেছি আমি তোকে ছাড়তে চাই,,,আমি তোকে ছাড়া মরে যাবে,, সবকিছু একসেপ্ট করে নে না জান,,,, তুই তো আমারি থাকবি শুধু আমার,,,
কিন্তু নুবা পুরোপুরি এই সব উপেক্ষা করতো,,,এভাবেই সময় চলতে থাকে,,নুবা একটা টমার ভিতর দিয়ে যেতে থাকে
গতকাল বিয়ের দাওয়াত দিতে বাড়ির সবাই বেড় হয়,, সাথে নুবার মাও যায়,, কারণ আমিনা বেগম গড়মে অসুস্থ হয়ে পড়ে যার কারনে যেখানে যায় হাজেরাকে সাথে রাখে
নুবার কলেজ বন্ধ থাকায় সে এটাই বাসায় ছিলো,,,তবে বিপত্তি ঘটে তখন যখন আরাফ সময়ের আগেই বাড়িতে চলে আসে,,,আরাফ বাসায় ফিরে জানতে পারে বাসায় কেউ নেই,,, অতঃপর এটাও টের পায় নুবা বাসায়

নীরব উন্মাদনা পর্ব ১

আরাফ ফ্রেশ হয়ে নুবা আর তার মায়ের রুমে গেলো ,নুবা আর তার আমা এক সাই থাকে,,,
আরাফ রুমে প্রবেশ করে দেখলো নুবা এলোমেলো হয়ে ঘুমিয়ে আছে,,আরাফ শুকনো ঢোক গিলে এগিয়ে গেলো,,,সে আস্তে করে নুবার পাশে বসলো,,,
নুবার এলোমেলো চুল,,ফুলা ফুলা মুখ আরাফ এর কাছে‌ প্রচন্ড ভালো লাগলো,,,আরাফ চুল গুলো সরিয়ে গালে স্লাইড করতে লাগলো,,,আর বিরবির করে বললো
_নুবা,,,উঠে পড় জান,,মেরে ফেলবি নাকি,,,
নুবা গালে কারো স্পর্শ পেয়ে নড়েচড়ে উঠলো,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here