নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪
সুরাইয়া জিয়াসমিন
এই সব ভাবতে ভাবতে নুবা ফুঁপিয়ে উঠলো,,রাতটা কোনো মতে কেটে গেলো,,,
সকালে ঘুম থেকে উঠে নুবা কলেজে চলে গেলো,, কারণ সে আরাফের মুখোমুখি হতে চায় না
নুবা কলেজ শেষে করে আনমনে কলেজ থেকে বেড় হয়ে গেলো,,,কলেজে তার তেমন কোনো বন্ধু নেই আর কারো সাথে কথাও বলে না সে,,
নুবা কালকে কথা ভাবতে ভাবতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে যে আরফ কি করে এমন করলো,,,
নুবা কলেজ মাঠ পাড় করে রাস্তার সামনে আসতেই দেখলো আরাফের গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে,,,তবে সে এটা নায়,,তার সাথে তার হবু বউ ইশিতাও আছে,,,
নুবা দুই কদম পিছিয়ে গেলো,,দুই হাত দিয়ে ব্যাগের হাতল খামচে ধরে চেয়ে রইলো
ইশিতা মিষ্টি হেসে বললো
_ friend দের সাথে এসেছি,,না হলে অবশ্যই তোমাকে নিয়ে যেতাম
আরাফ হেসে বললো
_ সমস্যা নেই এখন ঘুরে নেও বিয়ের পর সারাদিন বাহু ডোরৈই আটকে রাখবো
ইশিতা মুচকি হাসলো,,আরফ ইশিতার ঠোঁট দুটো আলতো করে নিজ ঠোঁট দাঁড়া ছুয়ে দিলো,,ইশিতা আরফ কে কিছু সময় জরিয়ে ধরে বাই বলে চলে গেলো,,,
নুবা পুরো দৃশ্যটা দেখে নিরবে ফিসফিস করে বললো
_মানুষ কতটা জঘন্য হলে কাউকে এভাবে ঠকাতে পারে
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,আর এক মূহুর্ত ওখানে না দাঁড়িয়ে হাঁটা দিলো,,,
নুবার পিছনে পিছনে আরে একটা ছেলে দৌড়ে আসলো,,নুবাকে ডেকতে লাগলো
নুবা দাঁড়িয়ে গেলো পিছনে ঘুরে দেখলো তার classmate,,নুবা থামতেই ছেলেটা হাঁপিয়ে উঠে বললো
_ নুবা তোমার নোট বুক টা ফেলে এসেছিলে,,
নুবা ঠোঁট হেলিয়ে হেসে নোটবুকটা নিয়ে বললো
_ thanks,,ভুলে গেছিলাম,,
_ সমস্যা নেই,,পরের বার থেকে খেয়াল রাখবে
_হুম,,,
ছেলেটা ব্যাগ থেকে পানি খেএ বোতলের মুখ আটকাতে আটকাতে বললো
_ তা কোথায় যাচ্ছো
নুবা হাঁটতে হাঁটতে বললো
_ বাসায়,,,
_সামনে তো exam,, preparation কেমন
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ এই তো ভালোই,,,
নুবা ছেলেটার সাথে কথা বলতে বলতে এগিয়ে যেতে লাগলো তখনি খেয়াল করলো সামনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে,,নুবা উপেক্ষা করে পাশ কাটিয়ে যেতে লাগলেই আরাফ নুবার হাত ধরে ফেললো,,,নুবা বিরক্তি নিয়ে বললো
_ হাত ছাড়ুন,,,
আরাফ নুবার কথায় পাত্তা না দিয়ে সামনে থাকা ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বললো
_এই কেরে তুই,,ওর পিছনে ঘুরছিস কেন,,
ছেলেটা ভুরু কুঁচকে এক পলক নুবার ধরে রাখা হাতের দিকে তাকিয়ে বললো
_ আপনি কে,,,ওর হাত ধরছেন কেন
আরাফ ছেলেটাকে মারার উদ্দেশ্যে রূখে গেলো,,,
_ আমি কে তুই জেনে কি করবি রে,,,
ছেলেটা দুই কদম পিছিয়ে গেলো,,আরাফ ছেলেটাকে শাশিয়ে বললো
_ ওর থেকে দূরে থাকবি,,,
নুবা রাগে দাঁতে দাঁত চেপে হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করলো
_ ছাড়ুন,,,
আরাফ নুবার দিকে তাকালো দাত কিরমির করে উঠলো
_ এই আর তুই ছেলেদের সাথে ঘুরা কবে থেকে শুরু করলি রে,,
নুবা কিছুটা চেঁচিয়ে উঠলো
_ আমি যা ইচ্ছে তাই করি আপনার কি,,হাত ছাড়ুন বলছি,,,
_ চুপ,,গলা হয়েছে,,কাল থেকে দেখছি আমার কোনো দামি নেই তোর কাছে,,,
_ আপনার মতো চরিত্রহীন আমার কাছে কোনো মাইনে রাখে না,,, উফ্,,,
নুবা নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে হাত ছাড়িয়ে নিলো,, পরপরই রাস্তা দিয়ে হাঁটা শুরু করলো
আরাফ বিরক্তি নিয়ে পিছন পিছন যেএ বলতে লাগলো
_ গাড়ি উঠ,,আমিও বাসায় যাচ্ছি,,,
নুবা হাঁটার গতি বাড়িয়ে ত্যাচ্ছিল্যো করে বললো
_ আপনার গাড়িতে উঠডলে বাড়িতে নয় বরং মর্গে পৌঁছে যাবো আমি,, আপনার যা চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র,,,বাড়িতেই নিজের আসল রুপ দেখান গাড়িতে উঠিয়ে রেপ করে মেরে ফেলবেন না এটার কি গেরান্টি,,,, আপনার মতো আস্ত একটা characterless মানুষের সাথে এই নুবা কোখনো যাবে না,,,
_ একটু বেশি বলছিস না তুই,,
_ বলা তো মাত্র শুরু করেছি,,কই বেশি দেখলেন আপনি,, আপনার চরিত্র অনুযায়ী কমি বলেছি ছি
_ তোকে ভালোবাসি দেখে তোর পিছন পিছন ঘুরছি না হলে আমার কি ঠেকা পড়ছে তোর পিছনে ঘুরার
_এতো ভালোবাসেন দেখে অন্য নারীর ঠোঁটে চুমু খান,, প্রেমিকার ইজ্জত নিয়ে টানাটানি করেন,, আপনার এই ভালোবাসা নামে নোংরামি আমার প্রয়জন নেই,, আমার পিছনে না ঘুরে আমাকে উদ্ধার করুন,,,
নুবা আর কথা বাড়ালো না,সামনে থেকে একটা রিকশা ডেকে চলে গেলো,,আরাফ দাঁতে দাঁত চেপে নুবার কথা গুলো শুনতে লাগলো,,
বাড়িরে ফিরে নুবা ক্লান্ত হয়ে পড়লো,,সবাই কাজে ব্যস্ত বাড়িতে ছোটো ছেলের বিয়ে বলে কথা,,অন্য দিক দিয়ে ভাইর এর বিয়ের পর আরশি দেশের বাইরে চলে যাবে পড়া লেখার জন্য,,বিষের করে আরশি চলে যাচ্ছ দেখে আরাফকে এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়া না হয় বাড়ি ফাঁকা হয়ে যাবে,,,
নুবা বাড়িতে ফিরে মায়ের কাজে হাত লাগালো,,সে চায় এই সব কিছু থেকে দূরে সরে যেতে,,নুবা বাড়িতে ফেরার পরপরই আরাফ ফিরলো,,,
আরাফ এসেই রান্না ঘড়ে গেলো,,যেএ দেখলো নুবা মায়ের সাথে কাজ করছে,,,নুবার মা আরফকে দেখে মিষ্টি হেসে বললো
_ কি লাগবে বাবা
_এক গ্লাস ঠান্ডা পানি দেন তো আন্টি,,
_ শরবত করে দিবো
আরাফ কিছু বলার আগেই নুবা বলে উঠলো
_ যা বলছে তাই দেও না,, শুধু শুধু জিজ্ঞেস করে নিজের কাজ বাড়াও
নুবার মা মেয়েকে চোখ গড়ম দিয়ে চুপ থাকতে বললো
আরাফ এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ তাহলে শরবত করেই দেও,,,
নুবার মা হাজেরা বেগম উঠে গেলো শরবত করতে,,
আরাফ নুবার কাছে এসে ঝুঁকে দাঁড়ালো ফিসফিস করে বললো
_ দেখলি তোর যোগ্যতা কোথায়,,,আমি এসে হুকুম করছি আর তুই কাজ করছিস,,তার পড়েও তুই আমাকে বুঝিস না,,,আমি তোকে কতটা ভা_____
নুবা শব্দ করে পায়ের তলে থাকা বটি ফ্লোলে রাখলো তার মাকে চেঁচিয়ে বললো
_ তরকারি পুরে যাচ্ছে মা,,আগে এসে এটা দেখো,,
নুবার মা পিছন ফিরে বললো
_ তুই একটু দেখ,,আমি শরবত টা বানিয়ে আসছি
নুবা উঠে দাঁড়ালো,,,ওরনা দিয়ে তরকারি থেকে সরা সরিয়ে দেখতে লাগলো কি হয়েছে,,,
আরাফ পিছনে দাঁড়িয়ে রইলো,,নুবা বিরবরি করে বললো
_ খুন করা পাপ না হলে বটি দিয়ে কুপিয়ে চরিত্রহীন দের খুন করতাম,,,
আরাফ নুবার কথায় শব্দ করে হেসে রান্না ঘড় থেকে বেড় হয়ে গেলো,,,
সন্ধ্যার সময়,,গড়ম গড়ম ধোঁয়া উঠা চা সাথে কুরমুরে বিস্কুট রাখা হয়েছে,,,
আরাফ,,আরশি,আমেনা বেগম,, লিভিং রুমে সবে সন্ধার হালকা নাস্তা করছে,,,বাড়ির মালিন হারুন শাহরিয়ার মির্জা এখনো ফিরেনি,,সে ফিরতে দেরি আছে,,সবাই মিলে বিয়ে নিয়ে আলোচনা করছে,,,
নুবা সকল টেবিল মুছে চায়ের কাপ গুলো নিয়ে রান্না ঘড়ে রাখলো,,,হাজেরা বেগম একটু ঘুমাচ্ছে,, সারাদিন কাজ করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে তাই নুবা সব কাজ করছে,,,
নুবা ফির এসে বিস্কুট এর প্লেট নিতে ঝুকলে খেয়াল করলো আরাফ চেয়ে আছে,,,তার চোক্ষুদয় কোন খানে নুবরা বুঝতে দেরি হলো না
নুবা দাঁতে দাঁত চেপে তাড়াতাড়ি এক হাত বুকে চেপে ধরলো,,ওরনা আরো টেনে সোজা হয়ে দাঁড়ালো,,,নুবার ইচ্ছে করলো বিস্কুট এর প্লেট আরাফের মুখ বড়াবড় ছুরে মারতে তবে সে পারলো না,,
আরাফ গলা ছেড়ে কাশলো শান্ত কন্ঠে বললো
_ দেখ তো নুবা,,এই যে এখানে ময়লা একটু মুছে দে,,,
নুবা ময়লা মুছলো ঠিকি কিন্তু ঝুকলো না,,আরফ বিরক্ত হলো,,
নুবা কাজ শেষ করে আমিনাকে বললো
_ আর কোনো কাজ বাকি আছে চাচি,,,
আমিনা নুবার ক্লান্ত মুখ দেখে মিষ্টি হেসে বললো
_ আর কিছু করতে হবে না তুই যেএ রেস্ট নে
_ হুম,,
নুবা ভেজা হাত ওরনায় মুছে এগিয়ে গেলো,,তখনি কলিং বেল বাজে উঠলো,,,নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আমি দেখছি,,,
নুবা ক্লান্ত শরীরে যেএ দরজা খুলে দিলো,,,সামনে তাকাতেই ভুরু কুঁচকে বললো
_ আপনি কে,,,
সামনের লোকটা উত্তর দিলো না,, শুধু চেয়ে রইলো,,,নুবা বেয়াক্কেল বনে গেলো,,, কারণ বাইরের কিছু টা অন্যকার থাকায় লোকটার চেহারাও বোঝা যাচ্ছে না,,,সাথে লোকটা একটু বেশিই লাম্বা,,,
লোকটা একটু এগিয়ে আসলো,,হালকা আলোতে লোকটার চেহেরা স্পট হলো,,,নুবা আতংকে উঠলো দুই কদম পিছিয়ে গেলো,,,
প্রথম ধাক্কা সে খেলো আরাফকে দেখে,, দ্বিতীয় ধাক্কা খেলো তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে,,
নুবা আতঙ্কিত হয়ে কম্পিত কন্ঠে বললো
_ আ,,আপনি,,আপনি না ভিতরে ছিলেন,,আর,,আ রক্ত,চা,,চাচি,,,চাচি,,,
নুবা চিৎকার করতে লাগলো,, বরাবরই সামনে দাঁড়ানো লোকটার শব্দ পছন্দ না,,সে নীরব থাকতে পছন্দ করে,,নুবার চিৎকার তার মস্তিষ্কে পৌঁছাতেই আগুন টকবক করে উঠলো,,,লোকটা ঠাস করে নুবার গালে একটা চড় বসিয়ে দিলো,,,নুবা প্রায় ঘুড়ে পড়ে গেলো,,,লোকটা মুখে এক আঙ্গুল ঠেকিয়ে ভয়ংকর চোখে নুবাকে ইরাশা করে বললো
_ hsssssss,,(যার অর্থ চুপ করতে বলছে)
নুবার মাথা ঘুরে উঠলো,,নুবা হাতের সাহায্যে ভয়ে পিছিয়ে গেলো,, এদিকে চিৎকার শুনে লিভিং রুণে থেকে আরাফ আরশি সহ আমিনা বেগম দৌড়ে আসলো,,,
আমিনা বেগম সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটাকে দেখে নুইয়ে পড়লো,,,কাতর কন্ঠে বললো
_ আরহাম,,,,বাবা তুই,,,
আরশি যেএ তাড়াতাড়ি নুবাকে আগলে নিলো নুবা প্রচন্ড ভয় পেয়েছে,,, পরপরই আরাফকে দেখে আরো ভয় পেলো,,আরাফ এখানে থাকলে ওখানে কে দাঁড়িয়ে আছে,,,
আরশি নুবার হাত শক্ত করে ধরে বললো
_ কি কি হয়েছে,,পড়লি কি করে
(আপনারা গল্প ঠিকি পড়েন কিন্তু গ্ৰুপে রিভিউ দেন না,,লাইক করে না মন্তব্য করেন না why,, গল্প কি ভালো লাগে না,,,ভাবেছিলাম ভালো response পাবো কিন্তু এখন দেখি এমন কিছুই না ,, অবশ্যই রিভিউ দিতে হবে না হলে গল্প লিখার আগ্রহ পাবো না)
আর হ্যাঁ আজ ভালো লাইক ভিউ না হলে next part ১/২ সপ্তাহ কর দিবো
নুবা আঙ্গুলের ইশারায় আরহামকে দেখিয়ে বললো
_ এটা কে,,,
আরশি এবার আরহামের দিকে তাকিয়ে থমকে গেলো,,,আরাফও কিছুটা ভরকে গেলো,,,
আমিনা বেগম দৌড়ে যেএ ছেলেকে জাপটে ধরলো,,হু হু করে কেঁদে উঠলো,,, পরপরই ছেলেকে ছেঁড়ে ছেলের দুই গালে হাত রেখে বললো
_ আমি ভাবতে পারিনি তুই আসবি,,, কেমন আছিস বাবা,,,
আরহাম মায়ের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললো
_ Don’t cry, mom,,
এতো দিন পর ছেলের কন্ঠ শুনে আমিনা বেগম আরো আবেগ প্রফুল্ল হয়ে গেলো,, পরপরই খেয়াল করলো আরহাম একা নয় সাথে একটা ছোট্ট বাচ্চাও আছে,,সাথে তার ছেলে রক্তাক্ত,,
আমিনা বেগম বিচলিত হলো,,, চিন্তিত কন্ঠে বললো
_ এই কি হয়েছে তোর,,এই রক্ত,,,কি হয়েছে,,,এই বাচ্চা কার,,,
আরাহাম মায়ের এক হাত শক্ত করে ধরে বললো
_ It was just a simple accident, Mom. Don’t be afraid, I’m fine. (এটা শুধু সাধারণ এক্সিডেন্ট ছিলো মা,,ভয় পেয়েও না আমি ঠিক আছি)
_ কোথায় লাগেনিতো,,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩
_ no,,,I need rest now, and my child, her name is Ayra, she is very innocent, Can you take care of Ayra for 30 minutes, I’ll come freshen up. (না… আমার এখন বিশ্রাম দরকার। আর ও আমার সন্তান , ওর নাম আয়রা, ও খুব নিষ্পাপ। তুমি কি ৩০ মিনিটের জন্য আয়রার খেয়াল রাখতে পারবে? আমি ফ্রেশ হয়ে আসি)
_ কেনো নয় তুই যা,,তোর রুম এখনো ঘুছিয়ে রাখি,,,আমি জানতাম তুই আসবি,,,
আরহাম মাকে আলতো করে জরিয়ে ধরে আয়রাকে তার মায়ের কোলে দিয়ে চলে গেলো,,,
