Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫
সুরাইয়া জিয়াসমিন

আরহাম মাকে আলতো করে জরিয়ে ধরে আয়রাকে তার মায়ের কোলে দিয়ে চলে গেলো,,
লিভিং রুমে নীরবতা বইছে,,আরশি নুবার গালে বরফ ধরে চিন্তিত হয়ে বসে আছে,,নুবা এখনো স্তব হয়ে আছে,,বেচারি একটা থাপ্পর খেএ প্রায় হুস হারিয়েছে,
আরাফ বিরক্ত তার মাথা ভনভন করে ঘুরছে,, অন্যদিকে আমিনা বেগম আয়রাকে কোলে নিয়ে নিরবে বসে আছে,,,জেনো জেন্ত পুতুল হাতে নিয়ে বসে আছে,,,
আমিনা বেগম ভাবতে পারছে না কোলে থাকা বাচ্চা টা তার নাতনি,,তার ছেলে তাদের না জানিয়ে বিয়ে করেছে,, তার উপর একটা বাচ্চাও হয়েছে,,এটা বড় কথা নয় যে সে না জানিয়ে বিয়ে করেছে,,বড় কথা হচ্ছে সে বিয়ে করেছে,,আর কোন মেয়ে এই পাগল কে বিয়ে করেছে,, আশ্চর্য,,,

নুবা আরশির হাত থেকে বরফ নিয়ে নিজে ঢলতে শুরু করলো,, পরপরই বিরবির করে বললো
_ এটা কি আরহাম ভাই আপু
আরশি মাথা ঝুঁকিয়ে হ্যাঁ বললো
নুবা কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো
_ আমার দোষ টা কি ছিলো আপু,,হুদা কামে থাপ্পর কেন মারলো,,
আরশি কপাল চাপড়ালো,,চোখ টিপটিপ করে বললো
_ ভাইয়া শোরগোল পছন্দ করে না,,,He hates screaming.
_ তাই বলে আমায় মারবে,,চেনা নেই জানা নেই,,
_তোর ভাগ্য ভালো মেরেছে,, you know that sis,, My brother is very angry.
নুবা ঠোঁট ফুলিয়ে বিরবির করে বললো
_ উনি তো একদম তোমার ছোটো ভাই এর মতো দেখতে,,
_ hmm,, কিন্তু একটু আলাদ ভালো মতো খেলায় করিস, খেয়াল করতে বলেছি দেখে আমার চেয়ে থাকিস না,,ঝড়ের গতিতে থাপ্পর মারতে পারে,,ও কিন্তু আরাফের মতো না ওর থেকে গুনে গুনে ৪ বছরের বড়ো,,,,সাবধানে চলবি,,ও ভুল পছন্দ করে না ,,,
নুবা মাথা ঝুকালো,,আর মনে মনে ভাবলো আরাফের মতো না হলেই ভালো

আমিনা বেগম ঘুমন্ত পরির দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_আরাফ তোর বাবাকে কল দে,,বল আরহাম এসছে
আরাফ বিরক্তি নিয়ে বললো
_ আমি কেন বলতে যাবো,, তুমি ডেকেছো তুমি বলো,
_আরাফ যা বলছি তাই কর
_ মা please,, তুই ওকে কেন ডাকছো,, আমার বিয়ে টা নষ্ট করে ছাড়বে,,কখন কার খু____
আমিনা ধমক দিয়ে বললো
_ চুপ,,বেশি কথা বলিস,,,তোর বাপেক কল দিয়ে বাসায় আসতে বল,,ফোনে বলার দরকার নেই হার্ট অ্যাটাক করতে পারে
কিছু মূহূর্ত এভাবে কেটে গেলো,, পরপরই উপর থেকে আরামের শব্দ শুনা গেলো,,,সে কলিডোরে দাঁড়িয়ে শান্ত কন্ঠে বললো
_ Mom, my luggage is in the car, bring it.(মা আমার গাড়িতে লাকেজ আছে এনে দেও)
বলেই সে চলে গেলো,,,আমিনা বেগম আরাফের দিকে তাকালো,, আরাফ ঠোঁট দুটো ফাঁক করে বললো
_ আমিইইই কেন??
আরাফ লাকেজ এনে লিভিং রুমে রেখে বললো
_ just one লাগেজ,, তোমার ছেলে এত বছর পর দেশে ফিরেছে তাও তর হাতে আমাদের জন্য কিছু জুটেনি,,,

_ তোর সাত কপালের ভাগ্য যে ও সাধারণ ভাবে এই বাড়িতে পা রেখেছে,,,
_ হ্যাঁ সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি,,এসেই একজন কে থাপ্পর মেরে আধ মারা করে রেখেছে,,
আরাফের কথায় নুবা মুখ বাকালো,,এই লোকটার কথাও তার অসহ্য লাগে,,,
আমিনা বেগম ছেলেকে ইশারা করে বললো
_ যা এটা রুমে দিয়ে আয়,,,
আরাফ ভুরু কুঁচকে বললো
_ আমি কখনো যাবো না,,পারলে তুমি যাও তোমার জল্লাদ ছেলের কাছে
_ আরশি যাতো মা দিয়ে আয়,,
আরশি হতভম্ব হয়ে বললো
_ পাগল হয়ে গেছো,,,
আমিনা এবার নুবার দিকে তাকালো নুবা বুঝতে পেরে মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ না না চাচি,,আমি আবারো থাপ্পর খেতে চাই না,,এখনো লাল হয়ে আছে,,,

আরশি আর নুবা আরহমের রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে,,,আরশি ভিতরে যাচ্ছে তো যাচ্ছে না,,আর নুবা তো আরশির জামা ধরে দাঁড়িয়ে আছে,,এক থাপ্পর খেএ সে বুঝে গেছে এটা কোন চিজ,,,
আরশি ভিতরে উঁকি মেরে বললো
_ বোইন এটা রেখে আয়,,,
নুবা চোখ বড় বড় করে বললো,,
_ না না তুমি যাও,,,
আরশি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বললো
_ নুবা আমার এখনো বিয়েই হয়নি,,ভাইয়ের হাতে মরে শহীদ হতে চাই না,,,আমি মরে গেলে আমার ভবিষ্যত জামাই আর বাচ্চাদের কে দেখবে বোঝার চেষ্টা কর,,,
_ আমারো বিয়ে হয়নি আমিও যাবো না,,,
_ আচ্ছা চল দুজনে মিলে যাই,,
নুবা মাথা নাড়ালো,,,দুই জন এক সাথে যেএ লাকেজ ভিতরে রাখলো,,তখনি খঠ করে ওয়াশ রুমের দরজা খুলার শব্দ হলো,,,

আরশি ভয়ে এক দৌড়ে বগার পার হলো,,আরহামের না beground ভালো না তার স্বভাব,,,ভাই বোন হলেও তাদের ভিতরে দূরত্ব অনেক,,কথা হয় না বললেই চলে,,আরহামকে সবাই এড়িয়ে চলে,,এরো কারন আছে বটে তা পড়ে জানা যাবে,,
আরশি বগার পার হলেও নুবা হতে পড়লো না,,,আরশির জামা টেনে দাঁড়িয়ে থাকায় হেচকা টান লাগায় মুখ থুবড়ে নিচে পড়লো,,,
এদিকে আরশি বাইরে এসে পিছনে হাত বুলিয়ে নুবাকে খুঁজলো,, পরপরই দেখলো নুবা নেই,,,আরশি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বিরবরি করে বললো
_ আজ এই পলটি মুগরি শেষ,,, আল্লাহ বাঁচাও,,,
আরহাম ওয়াশরুমের দরজা খুলে বেড় হয়ে নুবার দিকেই আসতে লাগলো,,নুবা কি করবে ভেবে না পেয়ে তাড়াতাড়ি হামাগুড়ি দিয়ে বিছানার নিচে ডুকে পড়লো,,
অনাবর তার বুক কাঁপছে,,বাড়ির সবাই যেহেতু আরহামকে এতো ভয় পায় তার মানে এর কোনো কোনো অস্বাভাবিক কারন আছে,,,আর নুবা থাপ্পর খেএ এতো টুকু আন্দাজ করতে পেরেছে আরহাম সুবিধার নয়,,,
আরহাম এসে লাকেজ খুললো,,,এদিকে নুবা আরহামের পা দেখতে পারছে,,,আরহামের পা দেখে আর একটু ভয় পেলো নুবা,,,এক পায়ের পাতায় কি কাটা ছিরা দাগ,,,
নুবা চোখ বন্ধ করে নিলো,,তখনি ঘটলো বিপত্তি আরহামের হাত থেকে কিছু একটা ছুটে নিচে পড়লো,,যা গড়িয়ে গড়িয়ে নুবার কাছে এসে থামলো,,
নুবা টের পেলো আরহাম নিচু হচ্ছে জিনিস টা তুলার জন্য,,নুবা ভেবে না পেয়ে জিনিস টাকে বাইরে ধাক্কা দিয়ে পাঠিয়ে দিলো,,,আরহাম নিচে ঝুকার আগেই হামাগুড়ি দিয়ে বিছানার তল থেকে বেড় হয়ে দরজার কাছে যেএ লুকালো,,,

আরহাম নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস টা হাতে তুলে নিয়ে এক পলক বিছানর নিচে তাকালো,, পরপরই ক্ষুন্ন চোখ দিয়ে আশে পাশে চোখ বুলিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো,,,
অন্যদিকে নুবা দরজার পিছনে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,তার ইচ্ছা সুযোগ পেলেই দৌড় দিবে,,,সে ঘাড় কাত করে চোখ খিচে দাঁড়িয়ে আছে,,
তখনি দরজা খুলার ঊঊঊঊমমম শব্দ হলো,,,দরজা আস্তে আস্তে নুবার সামনে থেকে সরে গেলো,,,নুবার ভাব গতি টের পেয়ে কিছুটা আতংকিত হয়ে টিপটিপ সামনে তাকাতেই দেখলো আরহাম ঘাড় কাত করে তার দিকে তাকিয়ে আছে,,,নুবা ভয়ে আঁতকে উঠলো,,, পরপরই আরো খেলায় করলো আরহামের এক হাতে সুক্ষ্ম ছুরি যা ঠিক তার ডান পাশের গালর শিরার সাথে ঠেকানো,,,একটুও নড়চড় হলে সে এখনি এই মুহূর্তে এখানেই শেষ,,
নুবার কপাল বেয়ে টুপ করে ঘাম গড়িয়ে পড়লো,,,আজ কি বিপদে পড়লো সে,,একটা আপদ নিয়ে বাঁচে না আর একটা এসে জুটেছে,,,
নুবা প্রথমে ভয়ে চিৎকার করতে নিলেও করলো না,,দুই হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে একটু কেঁপে উঠলো,,,আরহাম হাতের চাকু একটু গেছে গেঁথে দিলো,,,নুবা তিরতির করে কেঁপে উঠলো,এক আঙ্গুল নিয়ে মুখে ঠেকালো যেনো শব্দ করা বারন,,,
আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো,,

_ who are you,,
নুবা কিছু বলবে যে তার মুখি খুলছে না,,, আরামের মুখের দিকে তাকিয়ে সে আরো জমে গেছে,,, তখন অন্ধকার না থাকায় মুখ ভালো মতো না দেখতে পারলে এখন তার কাছে সব স্পট,,,
আরহামের মুখে গালে একটা ফারা দাগ,,,ভুরুর উপরে একটা,,,চোখের শীরা গুলো কেমন জানি অদ্ভুত,,, পুরাই ভূতুরে,,,
আরহাম দ্বিতীয় বার কিছু বলার আগেই পিছন থেকে আমিনা বিচলিত কন্ঠে বলে উঠলো,,,
_ বাবা ও বাড়িরি সদস্য,,,ওই যে তোর ইয়াস আঙ্কেলের মেয়ে,,,ছাড় বাবা,,,
আরহাম সরে দাঁড়ালো,,নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে আস্তে করে নিচে বসে পড়লো,, হামাগুড়ি দিয়ে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,,,
আমিনা বেগম একটু কম্পিত আর শান্ত কন্ঠে বললো
_ ওর নাম নুবা বাবা,,ওর মা হাজেরাও এখানে থাকে তুই দেখলে চিনবি,,ওরা পর কেউ না,,, কাউকে কোনো ক্ষতি করবে না,,, ঠিক আছে,,,বুজতে পারছিস,,,
আরহাম ছোট্ট করে হুম বললো,,,

নুবা গলায় হাত রেখে ঠোঁট ফুলিয়ে কাঁদছে,,,আমিনা কপালে হাত দিয়ে বললো
_ এবার চুপ করবি
নুবা কান্নার তেজ বাড়িয়ে বললো
_ চুপ করতে বলছো,, তোমার ছেলের হাতে এখনি খুন হয়ে যেতাম,,,দেখো দেখো রক্ত বেড় হচ্ছে,,, একদম শিরার উপর ধরেছিলো তুমি না আসলে আজ আমার মৃত্যুর ১ ঘন্টা হয়ে যেতো,,,
আরশি অন্য দিকে মুখ করে বসে আছে,,নুবা আরশির দিকে তাকিয়ে বললো
_ আর কখনো তোমাকে বিশ্বাস করবো না,, আমাকে একা ফেলে চলে আসছো,,, তোমার ভাই সাইকো নাকি,,দেখে তো স্বাভাবিক মনে হয় না,,,
আমিনা আশে পাশে তাকালো পরপরই নুবাকে ধমক দিয়ে বললো
_মুখ টা অফ রাখা যায় না,,,ওর একটু সমস্যা আছে,,,এই কথাটা মাথায় রাখ যে ও অচেনা মানুষ বা চিল্লাচিল্লি পছন্দ করে না,, সবসময় দূরে থাকবি,,না হলে পরের বার আমি কিছু করতে পারবো না
_এটাকে বাসায় কেন ডাকছো,, আমাকে মারার জন্য,,আর কখনো তোমার জন্য কোনো ছেলের কাজে আমাকে এড়াবে না,,কোনো ছেলের জন্যই না,,না আরফ না আরহার,,,
আরাফ চুপচাপ নুবার দিকে তাকিয়ে রইলো,,ভয় পাওয়ার ফলে গাল দুটু লাল হয়ে চোখ দুটো বড় বড় হয়ে আছে,,তার বেশ ভালোই লাগছে,আরফা কে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে নুবা দাঁতে দাঁত চাপলো,,চোখের পানি মুছে আরশির পিছনে যেএ বসলো,,,

আয়রা মুখ দিয়ে উমুমম উমুমমম শব্দ তুলে কান্নার প্রথম ধাপ পার করে কান্না করার চেষ্টা করছে,,,সবাই গোল হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে,,,নুবা আয়রার দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_ তোমার ছেলে মনে হয় কোনো বিদেশি আফাকে বিয়ে করছে চাচি,,দেখো তোমার নাতনি দেখতে একদম বিদেশিদের মতো,,,
আমিনা বেগম এক পলক আয়রার দিকে তাকিয়ে বললো
_ হ্যাঁ,,, হয়তোবা,,ওর মতো মানুষের সাথে কোনো দেশি মেয়ে বিয়ে করবে,,,
তাদের কথা বার্তার ভিতরে আরহাম এসে হাজির হলো,,,
সবাই যে যার মতো দূরে সরে গেলো,,,নুবা একটু কেটে পড়তে চাইলো তবে আরশি যেতে দিলো না তাকে ধরে বেঁধে রেখে দিলো,,,
আরহাম এসে আয়রাকে কোলে নিলো,,,আয়রা দুই হাত মুখ খিছে কেঁদে উঠলো,,,আরহাম আয়রার গাল ছুঁয়ে দিলো ফিসফিস করে বললো

_ Don’t cry, you know Dad doesn’t like screaming. (কান্না করে না,, তুমি জানো না বাবা অতিরিক্ত শব্দ পছন্দ করে না)
আরহামের কথা শুনে আরশি নুবার দিকে একবার তাকালো,,নুবা আরশির দিকে তাকালো হয়তোবা বলার চেষ্টা করলো
_ বাচ্চা কি এই সব বুঝে,,,
আমিনা বেগম ছেলের কাঁধে হাত রেখে শান্ত কন্ঠে বললো
_ বাবা ওরা বুঝে না,,ওরা এভাবে কান্না করে,,, হয়তোবা ক্ষুধা লেগেছে,,,
আরহাম মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো
_ Make some milk and feed it to har,,(দুধ তৈরি করো ওকে ফিড করাবো)
আমিনা বেগম ছেলের কঠিন কঠিন মুখ দেখে একটু হাসার চেষ্টা করে বললেন
_ও তো অনেক ছোটো,,ওকে গরুর বা বাজের দুধ খাওয়ালে হবে না,,,এখন ওর মায়ের দুধের প্রয়জন,,,
আমিনা বেগম সুকৌশলে জানতে চাইছে এই বাচ্চার মা কোথায়,,
আরহাম গম্ভীর কন্ঠে বললো
_ I know. But Ayra’s mom’s doesn’t live with me. (হ্যাঁ আমি জানি কিন্তু ওর মাতো আমার সাথে থাকে না)
ছেলের সোজা উত্তরে আমিনা বেগম নিরাশ হলেন,,উনি আগে ভাবলেন ছেলেকে খাওইয়ে দাওইয়ে মাথা ঠান্ডা করে ছেলের বাপ আসার আগে সব জানতে হবে,, কারণ ছেলে আর ছেলের বাপের সম্পর্ক সুবিধার না,,,

আরশি মেপে মেপে সব একদম পারফেক্ট ভাবে পর্যবেক্ষণ করে Lactogen 1 দুধ টা তৈরি করছে,,একটু ভয়ও লাগছে উল্টা পাল্টা হলে নুবার মতো সেও না থাপ্পর খায়,,,
আরাফ অনেক দিন পর বাঙালি খাবার খাচ্ছে,,,,Franceথাকা কালিন খাওয়া দাওয়া প্রতি এতো মনযোগ ছিলো না,,,
আরাফ রুমে যেএ বসে আছে,,,আমিনা বেগম আয়রাকে নিয়ে বসে আছে,,আরহাম ডাইনিং টেবিলে বসে খাচ্ছে,,,নুবা কিছুটা দূরত্বে অবস্থান করছে,,,
অবশ্য নুবা রুমে চলে যেতে চেয়েছিলো কিন্তু আমিনা যেতে দেয়নি সবাই চলে গেলে কাজ কে করবে,,,
নুবা মুখ বাঁকিয়ে আরহামের খাওয়ার ছিরি দেখছে,,, প্লেটে ভাতের দানা মনে হয় গুনে গুনে নিয়েছে,,চামচ দিয়ে ধীরে সুস্থে মেফে মেফে খাচ্ছে,,,
চামচের শব্দে বরাবরই বিরক্ত হচছ নুবা,,, মিনিট খানিক পড়েই আরহাম বলে উঠলো
_ There is no spicy food here ??,,(এখানে ঝাল কিছু নেই)
নুবা চোখ উল্টে আরহামের দিকে তাকালো,,,আরহাম উত্তর না পেয়ে নুবার দিকে তাকালো,, দুই জনের চোখাচোখি হতেই নুবা ঠোঁট চেপে শুকনো ঢোক গিললো,,, পরপরই বললো

_ এ্যাহহহ,,,???
নুবার এ্যাঁ শুনে আরহাম তার মায়ের দিকে তাকালো,,আমিনা বেগম নুবাকে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ রান্না ঘড় থেকে গুড়া মরিচ,,, কাঁচা মরিচ,,আর শুকনো মরিচ ভেঁজে নিয়ে আয়,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,
_ কিইই,,,
_ যা বলছি তাই কর,,
নুবা মা ঝুকালো,,,

নুবা আরশির দিকে তাকিয়ে বললো
_ গড়ু নাকি,,এতো ঝাল,,
আরশি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ যেটা আমাদের কাছে কিছুটা অস্বাভাবিক সেটা ওর কাছে স্বাভাবিক,,আর যেটা আমার কাছে স্বাভাবিক ওটা ওর কাছে অস্বাভাবিক,,,
আরশির কথা নুবার মাথার উপর দিয়ে গেলো,,,
নুবা আরশিকে দাঁড় করিয়ে রেখে রুমে চলে গেলো,,আর এক মুহূর্ত সে এখানে দাঁড়াবে না,,সব পাগল এক সাথে,,,

হারুন শাহরিয়ার মির্জা চেয়ারে সটান হয়ে বসে আছে,, বরাবরই সে ঘেমে যাচ্ছে,,সামনে বসে আমিনা বেগম বিচলিত হচ্ছে,,,
হারুন মির্জা কপালের ঘাম মুছে বললো
_ ওকে কেন আসতে বলেছো,,দূরে ছিলো ভালো ছিলো
আমিনা বেগমেন চোখে জল চলে আসলো,,ছল ছল চোখে বললো
_ আমার পড়ান পুড়ে না কিন্তু আমার পুড়ে তো,,
_ তাই বলে জল্লাদকে ঘড়ে টেনে আনবে
_আপনারি তো রক্ত,,নাকি অন্য জায়গা থেকে নিয়ে আসছি,,আমি ভাবতে পারিনি ও আসবে
_ তোমার ডাকে আবার না আসবে,,, কিন্তু শুনো আমিনা আমি চাই না আরাফের বিয়েতে ঝামেলা হোক
_ সাথে করে নিষ্পাপ বাচ্চা নিয়ে আসছে,, অন্ততপক্ষে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে ছেলের সাথে একটু কথা বলুন
হারুন চিন্তিত হলো,,বিরবির করে বললো
_ ওর মতো ছেলে থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো,,
আমিনা ভারি কন্ঠে বললো
_ছেলেটা আমার সাত সমুদ্র পার করে এসেছে,,আসার সময় নাকি এক্সিডেন্ট হয়েছিলো,,এতো বিপদ ফেলে রেখে ছুটে এসেছে আর আপনি ছেলেটার সাথে এমন করছেন,,,
হারুন গম্ভীর কন্ঠে বললো
_ এক্সিডেন্ট করে এসেছে নাকি কারো খুন করে এসেছে,, দেখলাম তো ওর সবি সুস্থ স্বাভাবিক আছে,,,দেখো গা আসার সময় কার মায়ের বুক অথবা কাকে স্বামীহারা করে রেখে এসেছে,,
আমিনা হতভম্ব হয়ে বললো
_ ছি ছি এই সব কি বলছেন,,, আমার ছেলে অনেক পাল্টেছে এখন এমন নেই,,আপনি ওকে একটু বুঝান,,ভালো মতো কথা বলুন সব ঠিক হয়ে যাবে
হারুন মির্জা এক রাশ ভয় নিয়ে বললো

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪

_বাড়ির সবাইকে সাবধান থাকতে বলো,,ওর ধারের কাছেও যাতে কেউ না ঘেঁষে,,,আর বউ কই রেখে আসছে বিয়ে করে,,,
আমিনা নাক টেনে বললো
_ এখনো কিছু বলেনি,,বলেছে সময় হলে বলবে
_ ওর বাচ্চা না কার বাচ্চা তুলে এনেছে খোঁজ নিয়ে দেখো,,
আমিনা হতভম্ব হয়ে বললো
_আপনি পাগল হয়ে গেছেন,,, আমার ছেলে পাগল না যে যার তার বাচ্চা তুলে আনবে,,,একটু শান্ত তবে পাগল না,,,
_ পাগল না তবে সাইকো,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here