Home নেশাক্ত প্রহর (মিহি সিজন ২) নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১১

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১১

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১১
রূপন্তী সরকার

ইয়াশফাকে নিজের সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখে ঋষভ রেগে গেলো। এই মেয়ে কোনো জায়গায় ওকে শান্তি দেয় না। ঋষভ ধমক দিয়ে বললো
“এই তোমাকে বলি নি তুমি আমার চোখের সামনে আসবে না? তারপরেও কেনো আসো? ননসেন্স”
ইয়াশফা কথাটা গায়ে মাখলো না। ও সুন্দর মতো উত্তর দিলো
“এটা আমার শশুর বাড়ি আর আমি আমার শশুর বাড়ির সব চিপাই চাপাই যাবো তাতে কার কি”
ঋষভ আর কিছু বললো না এই মেয়ে বয়সের তুলনায় বেশি পাকা। ওর এমনিতেও বেশি কথা বলা পছন্দ না। এই মেয়ের সাথে অহেতুক তর্ক করার মানেই হয় না। ঋষভ ইয়াশফা কে ধাক্কা দিয়ে চলে গেলো। ইয়াশফা অবাক হয়ে ঋষভের দিকে তাকিয়ে এই লোকটা তো ভারি বেয়াদব। ওকে ধাক্কা দিয়ে চলে গেলো? ইয়াশফা ঠিক করলো এই লোকের পিছেন পেছন আর ঘুরবে না। এই লোকের সামনেও যাবে না। ও বান্ধবীর মুখে শুনেছিলো বিয়ের পর জামাইরা নাকি বউকে অনেক ভালোবাসে কিন্তু তার জামাই তো তাকে সব সময় ইগনোর করে চলে সহ্যই করতে পারেনা।

রুহি বিছানায় শুয়ে শুয়ে ফোন টিপছে। এমন সময় ফোনে একটা মেসেজ আসলো। মেসেজটা দেখে ওর গলা শুখিয়ে এলো। মেসেজটা অদ্রিত পাঠিয়েছে। মেসেজে লিখা আছে
“আজকে ভার্সিটিতে গিয়ে সৌভিকের সাথে কেনো কথা বলেছিস? নিচে আয় ২ মিনিটের মধ্যে”
রুহি হালকা কেশে মাথায় ওরনা জড়িয়ে বেলকুনিতে চলে গেলো। অদ্রীত রেগে দাড়িয়ে আছে ওর চোখ দিয়ে আগুন বের হচ্ছে। রুহি ধক গিলে দৌড়ে নিচে চলে গেলো। মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। মিনমিন করে বললো
“পরশুদিন এক্সাম তাই একটু এক্সামের বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম। আর করবো না প্রমিস”
অদ্রীত গম্ভীর গলায় বললো
“ক্লাসে তো আরো অনেক মেয়ে ছিলো ওদেরকে জিজ্ঞেস করতে পারতি। ওকেই কেনো?”
রুহি মাথা নাড়িয়ে বললো
“আর করবো না ভাইয়া”
সব ঠিকই ছিলো রুহির কথায় অদ্রীত ও পটে গেছিলো কিন্তু মাঝখানে এই “ভাইয়া” শব্দটা শুনে ওর মাথা গরম হয়ে গেলো এই মেয়ের কোন জনমের ভাই? অদ্রীত বললো

“আমি তোর ভাই?”
রুহি সরল মনে বললো
“হুম”
অদ্রীত একটা অকাম করে বসলো ও টুস করে রুহির গালে একটা কিস করলো। এরপর দুষ্ট হেসে বললো
“ভাইয়েরা বুঝি এভাবে চুমু দেয়? এরপরেও বলবি আমি তোর ভাই?”
রুহি গালে হাত দিয়ে তাকিয়ে আছে অদ্রিতের দিকে। রুহি জানে অদ্রীত ওকে ছোট থেকেই কতোটা ভালোবাসে। রুহি নিজেও বাসে তবে খুব একটা প্রকাশ করে না। ওদের এই সম্পর্কের বিষয়ে বাড়ির কেউ জানে না। একমাত্র তিথি ছাড়া। তিথি ওদের বিষয়ে সব জানে। রুহি মিনমিন করে বললো

“আমি ঘরে যাই কেউ দেখে ফেলবে”
অদ্রীত রুহিকে নিজের কাছে নিয়ে বললো
“তো দেখুক আমি কি ভয় পাই?”
রুহি নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললো
“তুমি না পেলেও আমি পাই।”
অদ্রীত চোখ ছোট করে বললো
“কিসের ভয়?”
রুহি কিছু বলার আগেই দেখতে পায় শুভ্র বাইকের চাবি ঘুরাতে ঘুরাতে গান করছে। মনে হয় ওদের দিকেই আসছে। রুহি দ্রুত অদ্রিতের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দৌড়ে উপরে চলে গেলো। অদ্রিত মগার মতো শুভ্রর দিকে চেয়ে আছে। শুভ্র এসে বললো

“কিরে শালা এতো রাতে বাড়ির নিচে কি করছিস?”
অদ্রির অজান্তেই বলে বসলো
“তোর বোনকে লাইন মারতে”
শুভ্র থতমত খেয়ে গেলো।
“মা মানে?”
অদ্রিত কথা ঘুরিয়ে বললো
“আরে ভাই রিশের সাথে একটু দেখা করতে এসেছিলাম। মানে ওর লাড্ডু বউয়ের সাথে। ওর লাড্ডু বউয়ের জন্য লাড্ডু এনেছিলাম”
শুভ্র অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো
“তো লাড্ডু কই? তের হাতে তো লাড্ডু দেখতে পাচ্ছি না”
অদ্রীত বোকার মতো বললো
“খেয়ে ফেলেছি”
শুভ্র বললো
“খেয়ে ফেলেছিস মানে? ইয়াশফার জন্য আনা লাড্ডু তুই খেয়ে ফেলেছিস?”
অদ্রীত বললো

“আরে ইয়ার বাদ দে। অনেক রাত হয়েছে বুঝলি আমি যায়। কালকে দেখা হবে”
শুভ্র আর কিছু বললো না। জ্যোতির সাথে কথা বলতে বলতে উপরে চলে গেলো…।
রাহা ঘুমানোর জন্য বিছানা গোছাচ্ছে। মুগ্ধ পেছন থেকে এসে জড়িয়ে ধরলো। রাহা মুচকি হাসলো। আজকাল মুগ্ধ কে ওর ভালোই লাগে। মুগ্ধর ছোট ছোট কেয়ার গুলো ওর কাছে ভালো লাগে। ও কখনো ভাবে নি এতো সুন্দর জীবন সঙ্গি পাবে। মুগ্ধ বললো
“কি হয়েছে বউ?”
“কই কিছু না তো”
মুগ্ধ শয়তানি হেসে বললো
“চলো ঘুমিয়ে পড়ি”
রাহা এজটু লজ্জা পেলো।

পরেরদিন…
রিদ খাবার টেবিলে বসে আছে। এমন সময় ইয়াশফা স্কুলের ইউনিফর্ম পরে আসলো। দুদিকে বেনুনি করেছে। দেখতে ছোট বাবুুর মতো লাগছে। রিদ খেতে খেতে বিষম খেলো শেষমেশ কিনা তার বউমাও এতো বাচ্চা? ইশশ তার ছেলেটার কপাল খারাপ। রিদ হাতের ইশারায় ইয়াশফাকে ওর কাছে বসতে বললো। ইয়াশফা গুটিগুটি পায়ে রিদের কাছে গিয়ে বসলো। মিহি রান্না ঘর থেকে পরোটা এনে ইয়াশফাকে খেতে দিলো। এরপর রিদকে জিজ্ঞেস করলো
“রুহি কই পঁচালোক? ওকে ডাকো খেয়ে ভার্সিটিতে যেতে হবে।”
রিদ রুহিকে ডাকার সাথে সাথে রুহি চোখ ডলতে ডলতে চলে আসলো। এসে ইয়াশফার কাছে বসে গেলো। রিদ ইয়াশফা কে বললো
“খেয়ে গাড়িতে বসো ঋষভ তোমাকে ড্রপ করে দিবে”
ইয়াশফা একটু খেয়ে আর খেতে পারলো না। ও পরোটা তেমন পছন্দ করে না। খেতেও চায় না। মিহি ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে দেখলো ইয়াশফা খাওয়া ছেড়ে উঠে গেলো। মিহি ওকে জিজ্ঞেস করলো

“কি হয়েছে? খাবার শেষ করো”
তিথি রান্নাঘর থেকে কয়েকটা বিস্কুট এনে ইয়াশফার হাতে দিলো। তিথি মিহিকে বললো
“ও সকালে এসব পরোটা খেতে পারে না টুইংকেল। ও খুব হালকা খাবার খায়”
মিহি চুপ করে গেলো। ও জানতো না। জানবে কি করে এই মেয়ে কি ওকে কিছু বলেছে? ওকে বলে নি কিন্তু তিথিকে ঠিকই বলেছে। মিহির কেনো জানি হিংসে হচ্ছে। ইয়াশফা তিথিকে বলেছে কিন্তু ওকে বলে নি। কেনো? রুহি ও সব কথা তিথিকে বলে। মিহি কি মা হিসেবে এতোই খারাপ? মিহি কান্না গিলে নিলো। ইয়াশফা হয়তো মিহির চোখ মুখ দেখে কিছুটা বুঝতে পারলো। ইয়াশফা বিস্কুট গুলো ব্যাগে ভরে নিয়ে পরোটা খেতে খেতে বললো
“মামুনি বিস্কুট গুলো স্কুলে গিয়ে খাবো এখন আন্টির হাতে পরোটা খাই। আজকে থেকে পরোটা খাওয়া শুরু করলাম”
মিহি ইয়াশফার দিকে তাকালো। মেয়েটা তিথিকে মামুনি বললো অথচ ওকে আন্টি? মিহি ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে বললো

“জোড় করে খেতে হবে না। পরে যদি শরীর খারাপ করে।”
ইয়াশফা কোনোরকম সব খাবার খেয়ে উঠলো। এখন বমি বমি পাচ্ছে।
রিদ মিহিকে বললো ঋষভকে ডেকে দোওয়ার জন্য। কিন্তু ঋষভ বাড়িতে নেই। রাত থেকে ও বাহিরে। তাই বাধ্য হয়ে রিদই ইয়াশফাকে স্কুলে নিয়ে গেলো। যাওয়ার পথে রুহিকেও ভার্সিটিতে নামিয়ে দিলো।
স্কুলের সামনে গাড়ি থামতেই ইয়াশফা নেমে গেলো। স্কুলের ভেতরে ঢুকে গেলো। স্কুলের ভেতরে ঢুকেই ইয়াশফা চারপাশে তাকাতে লাগলো। নতুন জায়গা, নতুন মানুষ… একটু ভয়ও লাগছে আবার ভালোও লাগছে। হঠাৎ পিছন থেকে কেউ ডাকলো,
“এই শোনো!”
ইয়াশফা ঘুরে তাকাতেই দেখে দুটো মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একজন হেসে বললো,
“তুমি কি নতুন?”
ইয়াশফা মাথা নাড়িয়ে বললো,
“হ্যাঁ আজকে প্রথম দিন।”
আরেকজন এগিয়ে এসে বললো,

“আমি মেহরিন, আর ও তানহা। তুমি?”
“আমি ইয়াশফা।”
মেহরিন খুশি হয়ে বললো,
“চলো আমাদের সাথে বসো। আমরা একই ক্লাসে।”
ইয়াশফার মনটা হালকা হয়ে গেলো। অন্তত দুইটা বন্ধু তো পেলো!
ক্লাসে ঢুকে তিনজন পাশাপাশি বসলো। কিছুক্ষণ পর টিচার ঢুকলেন। সবাই চুপ হয়ে গেলো। ইয়াশফাও মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করতে লাগলো। মাঝে মাঝে মেহরিন আর তানহার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে।
টিফিন টাইম…
তিনজন মিলে ক্যান্টিনে গেলো।ক্যান্টিনে গিয়ে একটা টেবিলে বসলো। ইয়াশফা ব্যাগ থেকে সকালে আনা বিস্কুট বের করলো।
তানহা বললো,

“এইগুলোই খাবে?”
ইয়াশফা মাথা নেড়ে বললো,
“হ্যাঁ ভারি কিছু খেতে পারি না। তোমরা খাবে? খেয়ে দেখো এই বিস্কিটটা মজা আছে”
মেহরিন হেসে বললো,
“ঠিক আছে, আমরা ভাগাভাগি করে খাবো।”
তিনজন গল্প করতে করতে খাচ্ছিলো। ঠিক তখনই কয়েকজন সিনিয়র এসে ক্যান্টিনে ঢুকলো। তাদের মধ্যে একজন ছেলের চোখ গিয়ে পড়লো ইয়াশফার দিকে। ছেলেটা একটু দাঁড়িয়ে থেকে হালকা হাসলো, তারপর সোজা ওদের টেবিলের দিকে এগিয়ে এলো। মেহরিন আর তানহা একটু চুপ হয়ে গেলো। ছেলেটা এসে দাঁড়িয়ে বললো,
“এই… তুমি কি নিউ?”
ইয়াশফা মুখ তুলে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললো,

“হ্যাঁ।”
ছেলেটা হেসে বললো,
“নাম কি তোমার?”
“ইয়াশফা।”
ছেলেটা একটু ঝুঁকে বললো,
“নাইস নেইম আমি জায়ান। ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার।”
ইয়াশফা কিছু বললো না, শুধু মাথা নেড়ে আবার বিস্কুট খেতে লাগলো। জায়ান হেসে বললো,
“এইগুলো খাচ্ছো কেনো? ক্যান্টিনে এত কিছু আছে, আমি কিছি অর্ডার করে দেই?”
ইয়াশফা সরলভাবে বললো,
“হয়তো আপনি অডার করে আমাকে উদ্ধার করতে চাইছেন তবে ভাইয়া আমি উদ্ধার হতে চাইছি না কারণ আমার এই বিস্কুট গুলো ভালো লাগে”
জায়ান চেয়ার টেনে বসে পড়লো,

“তাহলে আজ থেকে আমিও এগুলোই খাবো।”
তানহা আর মেহরিন একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।
ইয়াশফা ভ্রু কুঁচকে বললো,
“কেন?”
রায়ান দুষ্টু হেসে বললো,
“কারণ তুমি খাচ্ছো।”
ইয়াশফা চোখ গোল করে তাকিয়ে রইলো। মনে মনে বললো,
“এটা আবার কই থেকে আসলো। আমার কপালেই এই সব আলবাল জুটে কেনো? আল্লাহ মাবুদ !”
জায়ান আবার বললো,
“ফ্রেন্ড হবা পিচ্ছি?”
ইয়াশফা একটু ভেবে বললো,
“ছেলে মানুষ ফ্রেন্ড বানাই না ভাইয়া”
জায়ান একটু বিব্রত হলো। ইয়াশফাকে ওর ভালো লেগেছে। মেয়েটা একটু ঝাঁজালো কিন্তু ভালো…
ছুটির সময়…
মেহরিন আর তানহার সাথে স্কুলের বাহিরে আসছে ইয়াশফা। গেইটের বাহিরে দাড়িয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর জায়ান আসলো ওর কিছু বন্ধু নিয়ে। ইয়াশফা রিদের আসার অপেক্ষা করছে। জায়ান বললো

“পিচ্চি তোমার বাড়ি কোথায়?”
ইয়াশফা একটু ভেবে বললো
“আমি আসলে চিনি না ভাইয়া আমার বাবা আসবে আমাকে নিতে”
জায়ান বললো
“ও আচ্ছা তুমি কিন্তু অনেক লক্ষি মেয়ে”
ইয়াশফা হাসলো…
ঋষভ দূর থেকে দাড়িয়ে আছে। ইয়াশফা একটা ছেলের সাথে কথা বলছে এটা ভালো ভাবেই লক্ষ করছে। তবে কিছু বললো না। রিদ ওকে জোড় করে পাঠিয়েছে ইয়াশফাকে আনার জন্য। ঋষভের কাছে এসব বিরক্ত লাগে। ওর বউ শেষমেশ স্কুলে পড়ে? কলেজে পড়লেও মানা যেতো। দূর এই মেয়েকে তো ও বউ বলে মানেই না। ঋষভ ইয়াশফার দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো

“গাড়িতে বসো”
জায়ান ঋষভের দিকে তাকিয়ে ইয়াশফাকে বললো
“তুমি বললে তোমার বাবা তোমাকে নিতে আসবে। এটা তোমার বাবা?”
ঋষভ আর ইয়াশফা বোকা বোনে চলে গেলো। ঋষভকে কোন দিক থেকে ইয়াশফার বাবা মনে হচ্ছে। ঋষভ কটমট করে ওই ছেলের দিকে তাকালো। এর মধ্যেই রিদও এসে হাজির। ঋষভ অবাক হয়ে রিদের দিকে তাকিয়ে আছে। ওর বাবাই যখন আসবে তাহলে ওকে কেনো পাঠালো? রিদ শয়তানি করে ঋষভকে পাঠিয়েছিলো। তবে ছেলের উপর বিশ্বাস নেই যদি রাগের মাথায় মেয়েটাকে মেরে বসে তখন? এমনিতেই ওর বউমা এটাম বোম যখন তখন ফেটে যায়। তাই নিজেই আসলো নিতে। কিন্তু এইদিকে এসে দেখে তার ছেলেকে একটা ছেলে ইয়াশফার বাবা বানিয়ে দিয়েছে। রিদ হাসলো ওর পেট ফেটে যাচ্ছে। রিদ ছেলেটাকে বললো
“না না ওইটা ইয়াশফার ভাই হয় আমি ইয়াশফার বাবা”
ঋষভ রাগি চোখে রিদের দিকে তাকালো। ও কিভাবে ইয়াশফার ভাই হলো? ওর বাবা কি শুরু করেছে। জায়ান হেসে বললো

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১০

“ও আচ্ছা আঙ্কেল। ইয়াশফা অনেক ভালো মেয়ে আপনও চিন্তা করবেন না আঙ্কেল আমি ওকে দেখে রাখবো”
রিদ ঋষভের দিকে তাকিয়ে জায়ানের উদ্দেশ্য বললো
“ঠিক আছে বাবা। আর শোনো ইয়াশফা বড়ো হলে তেমার সাথেই ওর বিয়ে দিবো। এতে আমার আর আমার ছেলের কোনো আপত্তি নেই। তাইনা রিশ?”
জায়ান একটু বোকা বনে গেলো। এইখানে বিয়ের কথা কই থেকে আসছে? ও তো শুধু একটু লাইন মারতে চেয়েছিলো। কিন্তু মেয়ের বাবা ডিরেক্ট বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে দিলো? এতো মেঘ না চাইতেই জল।
এইদিকে ঋষভ কোনো কথা না বলেই হনহন করে চলে গেলো। রাগে শরীর জ্বলছে। এবার ওর বাবা একটু বেশি বেশি করছে।

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১২