Home নেশাক্ত প্রহর (মিহি সিজন ২) নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১৮

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১৮

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১৮
রূপন্তী সরকার

ঝড়ের গতিতে বাইক থামালো ঋষভ। তারাহুরো করে উপরে চলে গেলো। ইয়াশফার রুমে উঁকি দিতেই বুঝতে পারলো ইয়াশফা ঘুমিয়ে গেছে। তাই আর ইয়াশকে ডাকলো না। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে তিথির রুমের সামনে চলে আসলো। কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকার পর দরজায় নক করলো। তিথি আর অভ্র গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলো। হঠাৎ এতো রাতে দরজায় ঠকঠক আওয়াজ কানে আসতেই অভ্রর ঘুম ভেঙে গেলো। টেবিলে রাখা এলাম ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো। ৪:৪৫ বাজে। অভ্র আস্তে করে জিজ্ঞেস করলো “কে?”
ঋষভ গম্ভীর গলায় বললো “আমি ঋশ”

অভ্র কিছুটা অবাক হলো এতো রাতে ঋশ কেনো এসেছে? ঋশের গলা শুনে তিথির ঘুম ভেঙে গেলো। তিথি পিটপিট করে চোখ খুললো। অভ্র থ মেরে বসে আছে। ঘর থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে ঋশ এবার রেগে গেলো। এভাবে কতক্ষণ বাহিরে দাড়িয়ে থাকবে? ঋষভ কিছুটা চেচিয়ে বললো “বাপি দরজা খুলবা নাকি আমি দরজা ভেঙে রুমে ডুকবো?”
ঋশের কথায় অভ্রর হুস আসলো। তাড়াহুড়ো করে বেড থেকে নিচে নামলো। মনে মনে বললো “বাপের এক হাত ও ছাড়ে নি।”

অভ্র দরজা খুলে দিতেই ঋষভ রেগে অভ্রর দিকে তাকালো। অভ্র একটু ধক গিলে বললো “আরে বাবা রাগ করছিস কেনো? আয় ভেতরে আয়। কেনো সমস্যা হয়েছে কি?”
অভ্র খেয়াল করলো ঋষভের হাতে একটা ব্যাগ। অভ্র ঋষভকে জিজ্ঞেস করলো “এই ব্যাগে কি আছে ঋশ?”
ঋষভ কোনো কথা না বলে রুমে ডুকলো। তিথি বেডে বসে ঋষভের দিকে চেয়ে আছে। মনে হচ্ছে ও এখনো ঘোর থেকে বের হতে পারে নি। ঋষভ ব্যাগ থেকে দুটো চালতা বের করে তিথিকে বললো “এই দুটো চালতা ইয়াশকে মাখিয়ে দিও আর বাকি চালতা গুলো দিয়ে আচার বানিয়ে দিবা ওকে”
তিথি হা করে ঋষভের দিকে চেয়ে আছে। কোনো কথা বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না। ওর মনে হলো ও হয়তো কোনো সপ্ন দেখছে। ঋষভের কথা শুনে অভ্রর মাথা ঘুরে উঠলো। অভ্র দৌড়ে ঋষভের কাছে আসলো। এসেই ঋষভকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বললো “এই চালতা তুই কই পাইলি বাপ এতো রাতে?’
ঋষভ সহজ সরল ভাবে বললো ” চুরি করে এনেছি”
ঋষভের কথায় অভ্র ঠাস করে নিজের গালে একটা চড় দিলো। ও চেক করলো কোনো সপ্ন দেখছে কিনা। কিন্তু চড়টা ওর গালে বেশ জোড়েই পড়েছে তাই ১০০% শিউর হলো ও কোনো সপ্ন দেখছে না। এটা সত্যি। অভ্র অবাক হয়ে বললো

“এই চালতা কার জন্য আনলি এতো রাতে?”
ঋষভ কিছু বললো না। তিথি তখনো চালতার ব্যাগ হাতে নিয়ে ঋষভের দিকে হ্যাবলার মতো তাকিয়ে আছে। অভ্র আবারো ঋষভকে বললো
“বল না বাপ কার জন্য এতো রাইতে চালতা নিয়ে এসেছিস?তুই তো এসব টক ফক খাস না তাইলে কার জন্য নিয়ে এসেছিস?”
ঋষভ গম্ভীর গলায় বললো__
“ওর জন্য”
“ও কে?”
“ইয়াশের জ্বর এসেছে। জ্বরের মুখে চালতা খেতে চেয়েছে”
অভ্র অবাকের উপর অবাক হলো। অবাকের ঠেলায় ঠাস করে বিছানায় পড়ে গেলো। তিথি তারাহুরো করে অভ্রকে ধরে নিলো। অভ্র কাঁদো কাঁদো গলায় বললো “ইয়াশ আবার কেডা বাপ?”
পাশ থেকে তিথি অভ্রকে একটা থাপ্পড় মেরে বললো “আরে মগা ইয়াশ হলো ঋশের বউ ইয়াশফা”
অভ্র মাথায় দুহাত চেপে বললো
“এই জাওড়া জ্বিন তুই কেনো আমার ভাতিজার শরীরে ডুকছোস? তুই নিজ থেকে বাইর হবি নাকি আমি ঝাঁটা দিয়া মাইরা বাইর করমু?”
ঋষভ চরম বিরক্ত হলো। এভাবে গালাগালি দেওয়া ওর পছন্দ না। ঋষভ রেগে অভ্রকে বললো “তুমি প্লিজ এই নাটক অফ করো।”

অভ্র ঋষভের ঝাড়ি খেয়ে বুঝলো ঋষভকে কোনো জ্বিনে ধরে নি। ঋষভ বউয়ের জন্য এতোরাতে চালতা নিয়ে এসেছে? এটা কেমনে সম্ভব। কোনো ভাবেই সম্ভব না। অসম্ভব একটা কাজ। অভ্র কাঁদো কাঁদো মুখ করে বললো
“এতো রাতে কোথায় থেকে চালতা নিয়ে আসলি বাপ বল না? এতোরাতে তো কোনো দোকান খোলা নাই”
ঋষভ গম্ভীর গলায় বললো “ওই মেয়ের বাড়ি থেকে”
ঋশের কথা শুনে তিথি চেচিয়ে বললো “কিহ? তুমি ইয়াশফার গ্রামে গিয়েছিলা ঋশ? ওর বাড়ি কিভাবে চিনেছো?”
ঋষভ গা ছাড়া ভাব নিয়ে বললো “মুগ্ধর শশুড় চিনিয়ে দিয়েছে”
তিথির মনে হলো ও এখনি অজ্ঞান হয়ে যাবে। অভ্র আর নিতে পারলো না। অভ্র ঋশকে হাত জোড় করে বললো
“বাপ তুই এহন যা। তুই আর দুই মিনিট আমার সামনে থাকলে আমি পটল তুলবো। তুই যা আমি তোর কথা গুলো হজম করতে পারছি না। এবার আমার বদহজম হয়ে পেট খারাপ করবে তুই যা”
ঋষভ একটা ছোট চালতা অভ্রর দিকে ছুঁড়ে মারলো। অভ্র চালতা টা দুহাত দিয়ে ধরে নিলো। ঋশ রাগান্বিত কন্ঠে বলে উঠলো ” তোমার বউকে বলে দাও বাপি কালকে সকাল ৮ টাই ইয়াশ কে হালকা পাতলা কিছু খাবার দেওয়ার পর ৯ টার দিকে যেনো ওকে চালতা মাখিয়ে দেয়। এবং দুপুরের আগে যেনো চালতার আচার বানিয়ে ওকে খাওয়ায়। যদি আমি এসে শুনি ইয়াশ চালতা খায় নি তাহলে তোমার বউকে কিছু বলবো না কিন্তু তোমার খবর আছে।

কথাটা বলেই ঋষভ চলে গেলো। এইদিকে তিথি আর অভ্র একে ওপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করছে। ঋষভ এটা অডার করলো নাকি হুমকি দিলো কিছুই বুঝলো না। অভ্র তিথির দিকে তাকিয়ে বললো “বউ কালকে সকাল থেকে আচার বানানোর ব্যবস্থা করো। নাহলে ওই গুন্ডা আমারে আস্ত রাখবে না”

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১৭

তিথি একটা ঢক গিললো। এই বাড়িতে সবাই প্রায় ঋষভের রাগকে ভয় পায়। বিশেষ করে তিথি। ঋষভ ছোট থেকেই রেগে গেলে ভাঙচুর করে। তিথি এসব সহ্য করতে পারে না। যার কারণে তিথি ভয়ে ঋষভের সামনেই যায় না। তিথির শুধু রুহির সাথেই ভালো সম্পর্ক ঋশের সাথে না। ঋশ অভ্রকে “বাপি” বলে সম্মোধন করলেও তিথিকে কখনো “মামনী” বলে সম্মোধন করে নি। ঋষভ প্রয়োজন ছাড়া তিথির সাথে কথাও বলে না। আজকে কোন ভাগ্যে যে তিথির সাথে কথা বললো কে জানে। তিথি অবশ্য মনে মনে খুশি হলো ঋষভের এমন পরিবর্তন দেখে।

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১৯

1 COMMENT

Comments are closed.