Home নেশাক্ত প্রহর (মিহি সিজন ২) নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১৯

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১৯

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১৯
রূপন্তী সরকার

সকাল বেলা….
মিহি রান্না ঘরে কাজ করছে। হঠাৎ ওর কিছু একটা মনে হতেই নিজের ফোনটা হাতে নিলো। ঠুস করে গ্যালারিতে ডুকলো। অনেক আগের একটা ছবি ওর নজরে এলো। ছবিটাতে মিহি বক্সিং করছে আর রিদ পাশে দাড়িয়ে মুচকি হাসছে। ছবিটা দেখে অজান্তেই মিহির মুখে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো। বহুবছর হয়ে গেলো ফোনের গ্যালারিতে ডোকা হয় না। সেই বাচ্চা মিহি এখন বুড়ো হতে চললো। কয়েকদিন পর নাতিপুতি হবে। ভাবতেই মিহির মুখে হাসি চলে আসলো। মিহি নিজে নিজেই হাসছে। তিথি রান্নাঘরে ডুকে মিহির মুখে হাসি দেখে কিছুটা অবাক হলো। বহুবছর মিহিকে এভাবে হাসতে দেখে নি। তিথির খুব কৌতুহল হলো মিহি কি দেখে হাসছে? কি মিষ্টি সেই হাসি। তিথি কৌতুহল আটকে রাখতে না পেরে জিজ্ঞেস করলো “কি দেখে হাসছো টুইংকেল?”

মিহি তিথির দিকে তাকালো। মুচকি হেসে ফোনটা এগিয়ে দিলো তিথির দিকে। তিথি ফোনে রিদ আর মিহির মিষ্টি মুহুর্তের ছবি দেখে হেসে উঠলো। ছবিটা এতো কিউট হয়েছে। তিথি হেসে বললো_কি মিষ্টি লাগছে টুইংকেলকে মাশাআল্লাহ।”
তিথির কথা শুনে মিহি হাসলো। তিথির হাতে কয়েকটা চালতা। মিহি এতক্ষণ খেয়াল করে নি, তবে এখন খেয়াল করলো। মিহি তিথিকে জিজ্ঞেস করলো “তুমি এতো সকাল সকাল চালতা কোথায় পেলে আপু?”
তিথি একটু ঢক গিলে বললো_ সে কথা আর কি বলবো। কালকে রাত ৪ টা নাগাত এই চালতা গুলো দিয়ে গেছে। এবং আমাকে শাসিয়ে গেছে, তার বউকে যেনো চালতা মাখিয়ে দেই এবং চালতার আচার বানিয়ে দেই।
মিহি কিছুটা অবাক হলো। কে এমন কাজ করেছে? মিহি চোখ বড়ো বড়ো করে বললো_”কে এমন মহান কাজ করেছে আপু?”

তিথি মিনমিন করে বললো_
“কে আবার তোমার গুনধর পুত্র”
মিহি অবাক হয়েও হলো না। কারণ মিহি কালকে রাতে দেখেছে ঋষভ চুপিচুপি ইয়াশফার রুমে গিয়ে ওর মাথায় কিছুক্ষণ জলপট্টি দিয়ে দিয়েছে। মিহি ইয়াশফাকে দেখার জন্য ওর রুমে গিয়েছিলো। কিন্তু রুমের ভিতরে ঋশকে দেখে আর রুমে ডুকে নি। বাহিরে থেকে মন ভরে ছেলেকে দেখলো। তার ছেলের মধ্যে ভালোই পরিবর্তন এসেছে। মিহি তিথির কাছে অবাক হওয়ার ভান করে বললো_
“সত্যি ঋশ এনেছে এগুলো? কিন্তু ওতো রাতে ঋশ এগুলো কোথায় পেলো?”
তিথি মুখ কালো করে বললো_ সে নাকি রাতে ইয়াশফার বাড়ি গিয়েছিলো। গাছ থেকে পেড়ে এনেছে”
মিহি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তিথি মিহিকে জিজ্ঞেস করলো_ ইয়াশফা কি ঘুমিয়ে আছে মিহি?”
মিহি মন মরা হয়ে বললো_”হ্যাঁ রে আপু। মেয়েটার শরীর ভালো নেই। কাল সারারাত ঘুমাতে পারে নি। ভোর থেকে জ্বর একটু কম। আরেকটু বেলা হলে আবারো ডাক্তার ডাকবো।”

তিথি আর মিহি মিলে চা নাস্তা বানালো।
এইদিকে খাবার টেবিলে রিদ আর অভ্র বসে আছে। অভ্র রিদকে কালকের সব কথা খুলে বললো। রিদ বিশ্বাস করে নি। ওর ছেলে এমন কাজ করতেই পারে না। রিদের ফুল কনফিডেন্স আছে ঋশের উপর। তার ঋশ এতো মহান স্বামী কখনো হতে পারবে না। রিদ অভ্রকে মুখের উপর বলে দিয়েছে_ “তুই মনে হয় ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে সপ্ন দেখেছিস। আমার ছেলে এই সুকাজ গুলো জীবনেরও করবে না”
অভ্র রেগে বললো_” না ভাই সপ্ন দেখবো কেনো সত্যিই ঋশ এমনটা করেছে”
রিদ চুপ থাকলো। কিছুক্ষণ পর ইয়াশফা আসলো। এসে রিদের পাশে একটা টেবিল টেনে বসে পড়লো। রিদ ইয়াশফার মাথায় হাত দিয়ে দেখলো জ্বর কিছুটা কমেছে। রিদ ইয়াশফাকে বললো_এখন কেমন লাগছে আম্মাজান?”
ইয়াশফা মলিন মুখে হেসে বললো_আমি একদম বিন্দাস আছি”
ইয়াশফার কথায় রিদ আর অভ্র দুইজনই হাসলো। অভ্র ইয়াশফাকে বললো_ আম্মাজান আপনার স্বামী কি করেছে জানেন?”

ইয়াশফা অভ্রর দিকে তাকালো। অভ্র কিছু বলতে যাবে তার আগেই ঋষভ নেমে আসলো। গায়ে একটা হালকা নীল রংয়ের টি-শার্ট আর সাদা রঙের ট্রাউজার। চুল থেকে টপটপ করে জল পড়ছে। মনে হচ্ছে এখনি শাওয়ার নিয়ে এসেছে।
রিদ ঋষভকে আসতে দেখেই গান ধরলো_
“আমি পারি না আর পারি না।
আমি কেনো মরি না? আজরাইল কি চেনে না
আমারে গো আমি পারি না আর পারি না।
আমি হয়তো দুইদিন পরেই মরবো”
রিদের গান শুনে ঋষভ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না। ইয়াশফা আর অভ্র হাসতে হাসতে শেষ। রিদের গান শুনে মিহও রান্নাঘড় থেকে তেড়ে আসলো। রিদের দিকে কটমট করে তাকিয়ে বললো_তোমার নাকে ঘুষি মেরে মুখের মানচিত্র বদলিয়ে দিবো। এসব ফালতু গান যেনো তোমার মুখে আর কখনো না শুনি”
রিদ মনে মনে বললো_

বালের জীবন। গান করলাম এক জনের জন্য গায়ে লাগলো আরেকজনের। কেমনডা লাগে”
রিদ ঋষভের দিকে তাকিয়ে বললো_ আপনি নাকি বউ মানেন না? তাহলে বউয়ের জন্য এতো দরদ উতলিয়ে পড়ছে কেনো?”
ঋষভ রেগে বললো_কিসের বউ? ও আমার থাপ্পড় খেয়ে নাকি অসুস্থ হয়েছে, তাই আমার দায়িত্ব ছিলো ওর যত্ন করা। আমি শুধু ওইটুকই করেছি। এর বেশি কিছু আমার থেকে আশা করো না। আমি ওকে বউ বলে মানিনা।”
রিদ ঋষভের কথা শুনে ইয়াশফার দিকে তাকালো। ইয়াশফা এক মনে ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে আছে৷ রিদ অভ্রকে বললো_

“বুঝলি অভ্র মানুষ এতো নাটক জানে। মানে টলে টলে টেম্পু চালাবে কিন্তু তুই বলতে যাবি তখন পাল্টি খাবে।”
অভ্র সুর মিলিয়ে বললো_ হো রিদ একদম ঠিক বলছিস। আর ও আমাদের আম্মাজানকে না মানলে না মানুক। আমাদের আম্মাজান কি দেখতে শুনতে খারাপ? আমরা নাহয় আমাদের রুহি আম্মাজান আর ইয়াশফা আম্মাজানকে এক সাথে বিয়ে দিবো। আর কোনো কথা আছে?”
রিদ অভ্রর দিকে তাকিয়ে বললো_”একদম ঠিক বলছিস”
তিথি রিদ আর অভ্রর জন্য চা নিয়ে আসলো। তিথি মিহিকে বললো_ “মিহি রান্নাঘর থেকে কফিটা নিয়ে এসো”
ইয়াশফা টেবিল থেকে উঠে গিয়ে বললো_”আমি এনে দিচ্ছি”
কথাটা বলেই ইয়াশফা রান্নাঘর থেকে কফি আনলো। তিথি বললো_”ঋষভকে দাও”
রিদ আর অভ্রর কথা শুনে এমনিতেই ঋষভকের মাথা গরম হয়ে আছে। ইয়াশফা ঋষভের হাতে কফি দিয়ে বললো_নেন আপনার কফি”

ঋষভ কফি নিয়ে ফ্লোরে ছুড়ে মেরে বললো_এই তোমাকে বলি নি আমার থেকে দূরে থাকতে? তোমাকে বলেছি কফি দিতে? আমার চোখের সামনে একদম আসবা না”
রিদ আর অভ্র টেবিল থেকে উঠে গেলো। মিহি রান্মাঘর থেকে দৌড়ে চলে আসলো। ঋষভ এমন ভাবে রিয়েক্ট করবে কেউ ভাবতে পারে নি। ইয়াশফা চুপ করে দাড়িয়ে আছে। রিদ ঋষভকে বললো_ঋশ বেয়াদবি বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু। লিমিটের মধ্যে থেকো। রিদ রায়ান চৌধুরী যদি স্টেপ নেওয়া শুরু করে তাহলে কিন্তু এর ফল খুব খারাপ হবে”
ঋষভ রিদের দিকে তাকিয়ে মুচকি বললো_ ঋষভ রায়ান চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্টেপ নিবা?

আমাকে আমার মতো ছেড়ে দাও পাপা। আর এই মেয়েকে বলে দিও আমার তিন সীমানায় যেনো না আসে।”
কথাটা বলেই ঋষভ চলে গেলো। ইয়াশফা মনে মনে বললো_বালের একটা জামাই কপালে জুটছে। জাওড়া আর কখনো তোর আশেপাশে যাবো না। গু খাইয়া মর তুই। তোর থেকে তো চোদনা জায়ান ভালো।”
এরমধ্যেই শুভ্র ড্রয়িংরুমে আসলো। সবাইকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে শুভ্র এগিয়ে আসলো। কাঁচে পা দিতে যাবে এমন সময় ইয়াশফা বলে উঠলো_ভাইয়া ওইদিকে ভাঙা কাচ পড়ে আছে”

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১৮

শুভ্র থেমে গেলো। ইয়াশফার কাছে গিয়ে বললো_তুমি ঠিক আছো চিকমিকি?” কথাটা বলেই ইয়াশফার কপালে হাত দিলো। এমন সময় ঋষভ সিড়ির উপর থেকে একটা ফুলদানি শুভ্রর পায়ের কাছে ছুড়ে মেরে বললো “_ ওকে একদম টাচ করবি না। দূরে সর ওর থেকে, নাহলে আমি ভুলে যাবো তুই আমার ভাই”
হঠাৎ এমন কথা শুনে সবাই ঋষভের দিকে তাকালো।

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ২০