Home নেশাক্ত প্রহর (মিহি সিজন ২) নেশাক্ত প্রহর পর্ব ২০

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ২০

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ২০
রূপন্তী সরকার

রিদ আর সহ্য করতে পারল না।
ঋষভের আচরণে তার মেজাজ এখন তুঙ্গে।
কিছুক্ষণ আগেই মেয়েটাকে সবার সামনে অপমান করলো
এখন আবার তার ওপরই জোর খাটাচ্ছে? মগের মুল্লুক নাকি?
রিদ গম্ভীর গলায় ঋষভকে বলল
“তোমার সমস্যাটা কী ঋশ? কেন ওর সাথে এমন করছ?
তুমি তো ইয়াশফাকে বউ বলেই মানো না। তাহলে কেনো ওর ওপর অধিকার দেখাচ্ছো?”
ঋষভ কোনো উত্তর দিল না। ওর চোয়াল শক্ত হয়ে এল। দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে সরাসরি ইয়াশফার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। কিছু বোঝার আগেই ইয়াশফার হাতটা শক্ত করে চেপে ধরল। সবাই আহাম্মকের মত দাড়িয়ে আছে।
ঋষভ ইয়াশফাকে একপ্রকার টেনে হিঁচড়ে ওপরের তলায় নিয়ে যেতে লাগল। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো হতভম্ব হয়ে একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করছে।

ওপরের করিডোরে পৌঁছাতেই ইয়াশফা সর্বশক্তি দিয়ে নিজের হাতটা ঋষভের থেকে ছাড়িয়ে নিল। রাগে আর অপমানে তার চোখ ফেটে কান্না আসতে চাইছে। ইয়াশফা চেঁচিয়ে বলে উঠলো
” এই বাল হাত ছাড়ুন তো। সমস্যা কী আপনার? আমাকে কি মনে হয় আপনার? বউ মানেন না ভালো কথা তাহলে হাত ধরে টানাটানি করেন কেনো? এসব আমার একদম পছন্দ না। আর তাছাড়া একটু আগেই তো সবার সামনে বললেন আমি যেন আপনার ত্রিসীমানায় না যায় আপনার চোখের সামনে থেকে দূরে থাকি। তাহলে এখন আবার কেন আমার গায়ে হাত দিচ্ছেন? কেন টেনে আনলেন এখানে? নিজের কথার কি কোনো দাম নেই আপনার কাছে? ছিহ কেমন লোক আপনি?”
ঋষভ রাগে ফুঁসে উঠলো। ইয়াশফার গাল দুটো চেপে ধরে একদম তার মুখের কাছে মুখ নিয়ে এল। চোখে দিয়ে আগুন ঝরছে ওর। দাঁতে দাঁত চেপে বলল

” একদম চুপ! আর একটা কথা বললে থাপ্পড় দিয়ে গাল লাল করে দিবো”
ইয়াশফা চুপ হয়ে গেল। মনে মনে গালি দিলো কয়েকটা।
ঋষভ আর কথা না বাড়িয়ে ইয়াশফার হাতটা শক্ত মুঠোয় ধরে টেনে নিয়ে গেল নিজের রুমে।
রুমে ঢুকে কোনো কথা নেই ইয়াশফাকে ধরে ধপ করে বেডের ওপর বসিয়ে দিল সে। কিন্তু হাতের মুঠো আলগা করল না, ইয়াশফা কিছুটা অসহায়ভাবে নিজের হাতের দিকে তাকালো
আর একবার ঋষভের পাথরের মতো শক্ত হয়ে থাকা চেহারার দিকে। পরিবেশ বেশ শান্ত, কারো মুখে কোনো কথা নেই। এর মধ্যেই হঠাৎ করে ইয়াশফা বললো
“ইয়ে… আমার হাতটা একটু ছাড়ুন না? গলাটা ভীষণ চুলকাচ্ছে।”
এমন একটা থমথমে পরিস্থিতিতে ইয়াশফার এই বেফাঁস কথা শুনে ঋষভ থ হয়ে গেলো। ও ভেবে পায় না এই মেয়েটা কী দিয়ে তৈরি?

ঋষভ কয়েক সেকেন্ড বড় বড় চোখ করে ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বিরক্তি নিয়ে ইয়াশফার গলার কাছে হাত দিয়ে চুলকিয়ে দিলো।
হঠাৎ করেই ইয়াশফার সারা শরীরে কেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতি খেলে গেল। জীবনের প্রথম কোনো পুরুষের এত কাছাকাছি আসা, স্পর্শ সব মিলিয়ে মনের ভেতর যেন হাজারটা গিটার একসাথে বেজে উঠল। ইয়াশফা এক পলক ঋষভের তীক্ষ্ণ নাক আর চোখের দিকে তাকাল। তার হার্টবিট যেন দ্রুত চলছে। ইয়াশফা চুপ করে থাকলো
কিন্তু ইয়াশফা তো ইয়াশফাই। সে কি আর বেশিক্ষণ চুপ থাকতে পারে? হঠাৎ তার পায়ের তালুতেও সুরসুরি অনুভব হলো। সে আবারও করুণ স্বরে বলে উঠল
“শুনুন… গলা তো হলো এবার পা-টাও চুলকাচ্ছে।
তাহলে এবার হাতটা এবার ছাড়ুন।”
ঋষভ এবার কটমট করে ইয়াশফার দিকে তাকাল। ঋষভপর তাকানো দেখে ইয়াশফা মাথা নামিয়ে নিলো। মনে হচ্ছে ঋষভ ওকে আস্ত গিলে খাবে।
কিছুক্ষণ পর ইয়াশফা ওর একটা পা ঋষভের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে মিনমিন করে বললো

“অসভ্যের মতো তাকিয়ে আছেন কেনো? মানলাম আমি সুন্দর তাই বলে তাকিয়ে থাকবেন? ও হ্যাঁ ভালো কথা, হাত তো ছারবেন না তাহলে আমার পা টা ও চুলকিয়ে দিন”
ঋষভ কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর সত্যিই মাথা নিচু করে ইয়াশফার পা টা টেনে নিয়ে চুলকাতে শুরু করলো।
ইয়াশফা হা করে তাকিয়ে রইল। মনে মনে ভাবল, ‘এই লোকটার কি নাট বল্টু ঢিলা হয়ে গেছে? নাকি লোকটা পাগল? তারটার ছিঁড়া মনে হয়।
এরমধ্যেই দরজা ঠেলে ঝড়ের বেগে ঘরে ঢুকল রিদ। ঘরের ভেতরের দৃশ্য দেখে রিদ দরজাতেই ব্রেক কষল। ঋষভ আর ইয়াশফার এই
পদসেবার দৃশ্য দেখে তার চোখ চড়কগাছ
রিদকে দেখে ইয়াশফা ভীষণ লজ্জা পেয়ে গেল। সে তাড়াহুড়ো করে ঋষভের হাতের মুঠোর ভেতর থেকে নিজের হাত আর পা ছাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করল। কিন্তু ঋষভ হাত পা কোনোটাই ছাড়লো না।
আরও শক্ত করে ইয়াশফার হাত চেপে ধরে বসে রইল।রিদ ধীর পায়ে ঋষভের কাছে এগিয়ে এল। মুখে বাঁকা হাসি। তালি বাজানোর ভঙ্গিতে বলল

“বাহ বাবা ঋশ আপনি তো দেখি গভীর জলের ফিশ। মানে আপনি মাছ ধরবেন কিন্তু গায়ে এক কাদা লাগতে দেবেন না? একটু আগেই বউ অপমান করলেন আর এখন বউয়ের পা চুলকে দিচ্ছেন বাবা? আপনি এতো বউয়ের ভ্যাড়া হবেন সেটা তো আগে জানতাম না বাবা ধোলাচান”
ঋষব কোনো উত্তর দিলো না।
ও ইয়াশফার হাতের দিকে তাকিয়েই ভাবলেশহীন মুখে বলল
“তোমার জ্ঞানদান পর্ব কি শেষ হয়েছে পাপা? যদিশেষ হয়ে থাকে তাহলে দয়া করে বিদায় হও। আর হ্যাঁ দরজাটা বাইরে থেকে লাগিয়ে দিয়ে যেও।
রিদের মুখটা এবার দেখার মতো হলো। এতোদিন রিদ ঋষবকে বউমার সামনে বাঁশ দিতো। আজকে ঋষভ এভানে বউমার সামনে বললো? কথাটা রিদের প্রেস্টিজে লাগলো। কিছু বলতে চেয়েও বললো না। এখন এর সাথে তর্কে যাওয়া মানেই বিপদ। রিদ বিড়বিড় করে বললো_ আই মরি না ক্যা।”
রিদের এখন মনে হচ্ছে, পকেটে যদি একটা চকলেট থাকতো তাহলে খেয়ে এখনি পটল তুলতো এসব আর মনে নেওয়া যাচ্ছে না।
রিদ কোমরে হাত দিয়ে ঋষভের সামনে দাঁড়িয়ে জেরা শুরু করল

“এই যে ভাই আপনি নাকি বউ মানেন না। জনসমক্ষে তো ঘোষণা করেছেন এটাম বোম আপনার কেউ না। তাহলে এখন আঠার মতো হাত ধরে বসে আছেন ক্যান? হাতে কি ভুলে ফেভিকল দিয়ে লাগিয়ে দিয়েছেন?”
ঋষব বিরক্ত নিয়ে বললো_
“আমি বউ মানি না ওকে ও আমার বউ না”
এবার রিদ রেগে গেলো। তেড়ে গিয়ে ইয়াশফার অন্য হাতটা খপ করে ধরে ফেলল। এরপর ঋষভকে বলল
“ওহ তাই নাকি? বউ মানিস না যখন তখন আমার মেয়ে তোর কেউ না। সুতরাং পরপুরুষ হিসেবে তুই আমার মেয়ের হাত ধরে রাখতে পারিস না। হাত ছাড় ওর”
ঋষভ হাত ছাড়লো না। ইয়াশফার হাতটা নিজের দিকে সজোরে টেনে নিয়ে গম্ভীর গলায় বললো
” তুমি এখন এখান থেকে যাও তো। পাপা মাথা ব্যাথা করছে আমার”
রিদ ঋষভের কথা কানে নিলো না।
ও ইয়াশফার অন্য হাতটা নিজের দিকে হ্যাঁচকা টান দিয়ে বললো

“কভি নেহি। আমি আমার মেয়েকে তোমার কাছে কিছুতেই রাখবো না। ওকে আমি নিয়ে যাবো। হাত ছাড়ো”
মাঝখান থেকে মেয়েটার অবস্থা করুণ। দুইজন দুই দিক থেকে এমনভাবে টানাটানি শুরু করেছে তার মনে হচ্ছে ও একটা খেলনা।
ইয়াশফা দুই দিকে তাকিয়ে চেচিয়ে উঠলো_
“আরে থামুন আপনারা। আমার হাত কি আপনাদের রাবার মনে হয়? এভাবে দুদিকে টানলে তো আমি মাঝখান থেকে দুই টুকরো হয়ে যাব।
কেউ হাত ছাড়তে রাজি নয়। ইয়াশফার ধৈর্যের বাঁধ এবার ভেঙে গেল।ও ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলো চিৎকার করে উঠল
“শশুর আব্বা আমার হাতটা ছাড়ুন। যেভাবে টানছেন মনে হচ্ছে হাতটা খুলে এখনই আপনার হাতে চলে যাবে!
রিদ একদম নাছোড়বান্দা। সে ইয়াশফার হাত আরও শক্ত করে ধরে। ঋষভের দিকে তাকিয়ে ভেঙচি কেটে বলল

“আমি কেন ছাড়ব? আগে তোমার ওই গুণধর জামাইকে বলো হাত ছাড়তে। সে নাকি বউ মানে না তাহলে হাত ধরার কোনো অধিকার নেই ওর। তুমি চিন্তা করো না আমি তোমাকে এই পাপিষ্ঠর থেকে উদ্ধার করেই ছাড়ব মা।
ঋষভের মেজাজ এবার সাত আসমানে চড়ে গেল। তার চোখমুখ লাল হয়ে উঠেছে কপালে রাগের রগগুলো দপদপ করছে। সে ইয়াশফার দিকে ঝুঁকে এসে একদম হিসহিস করা গলায় হুংকার ছাড়লো
” যদি এই রুম থেকে এক পা ও বাইরে বাড়িয়েছিস তাহলে তোর খবর আছে মনে রাখিস।”
কে শুনে কার কথা? ইয়াশফা ফট করে ঋষভের হাতের হাতে বসিয়ে দিল এক কামড়।
ঋষভ হাত ছেড়ে দিল। ঋষব কি সাধে বালটাকে ক্যাকটাস বলে? ঋষভ নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে দেখল পুরো একপাটি দাঁতের পাটি সেখানে সুন্দর করে নকশা হয়ে বসে গেছে।

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১৯

ঋষভ রাগে কাঁপতে কাঁপতে চিৎকার করে উঠল “ইয়াশ”
কথাটা শেষ করার আগেই ইয়াশফা ঘুরে দাঁড়ালো রিদের দিকে।দুই পাটি দাঁত বের করে রিদকে দেখে এমন ভাবে হাসি দিলো যেন এখনই রিদের হাতেও একটা কামড় বসানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রিদ এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। ইয়াশফার সেই ড্রাকুলা মার্কা হাসি দেখে ওর কলিজা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেলো। শেষে গিয়ে বউমার কাছে কামড় খেতে হবে। এই ভয়ে হাত ছেড়ে দিলো। অবশ্য রিদ ভুলেই গেছিলো তার বেডার বউ একটা এটাম বোম

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ২১

1 COMMENT

Comments are closed.