Home নেশাক্ত প্রহর (মিহি সিজন ২) নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৩৪

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৩৪

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৩৪
রূপন্তী সরকার

ফুটবল বিশ্বকাপের জার্সি আর দলের ট্রোল নিয়ে ড্রয়িংরুমে সবাই ভালোই মেতে ছিলো, যে যাকে যেভাবে পারছে রোস্ট করছে, মিহি ও কম না ও ভালোই বাঁশ দিয়েছে আজকে, হাজার হোক রিদ রায়ান চৌধুরীর ফিমেল ভার্সন, রিদের মতোই তো হবে।
এইদিকে,
বাঘা আর ম্যাও তিথির সাথে রান্নাঘরে ঘুরঘুর করছিলো,
ইয়াশফার ডাক শুনে লেজ নাড়াতে নাড়াতে রান্নাঘরের দিক থেকে ম্যাও আর বাঘা ড্রয়িংরুমে এসে হাজির হলো। ওদের দেখে ইয়াশফা একদম আহ্লাদে গদগদ হয়ে রিদের দিকে তাকাল। নিজের দুই হাত জড়ো করে ও রিদকে অত্যন্ত আবদার মাখা গলায় বলে উঠল,

“বাবা! ওই যে দেখো কিসমিস বাঘা ম্যাও, ওরাও ব্রাজিল সাপুট করে কিন্তু ওদের জার্সি নেই, এরপর ওদের জন্যও জার্সি কিনে নিয়ে আসবেন কেমন? ওরা আমার দলে”
ইয়াশফার কথা শুনে রিদ কিছুক্ষণ চুপ করে গেলো, ওর কি বলা উচিৎ এখন? ভাগ্য করে একটা তারছিড়া বউমা পাইছে, যাকগে সেসব ও একগাল হেসে বেশ সহজভাবে বলল, “আচ্ছা ঠিক আছে আনবো। তোমার বিচ্ছু বাহিনীর জন্য একদম মাপ মতো ব্রাজিলের জার্সিই কিনে আনবো আমি।”
টেবিলের এক কোণায় বসে থাকা ঋষভ এতক্ষণ চুপচাপ থেকে আড়চোখে ইয়াশফার এই পাগলামি দেখছিল। পশুপাখির জন্য বিশ্বকাপের জার্সি কেনার কথা শুনে ওর হাসি পেলো, কিন্তু বেডা হাসলো না, নিজের মুখে সেই কঠোর ভাবটা ধরে রাখল। ওর আজ অফিসে একটা জরুরি মিটিং ছিল, আর ইতিমধ্যেই অনেক দেরি হয়ে গেছে। ও আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে সোফা ছেড়ে উঠে নিজের ব্যাগটা হাতে নিয়ে হনহন করে বাড়ির বাইরে চলে গেল। ঋষভ চলে যেতেই ইয়াশফাও নিজের জার্সির গলা ঠিক করতে করতে গুনগুন করে ব্রাজিলের গান গাইতে গাইতে ওপর তলায় নিজের ঘরের দিকে পা বাড়াল।
ঠিক তখনই রায়ান কুঞ্জের সদর দরজার কলিংবেলটা হুট করে বেজে উঠল। আওয়াজ আসতেই রিদ সোফায় বসা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বলল, “দেখ তো শুভ্র, এই সময়ে আবার কে এল ঘরে।”
শুভ্র আর দেরি না করে সোজা গিয়ে মেইন গেটটা খুলে দিল। দরজা খুলতেই ও দেখতে পেল বাইরে দুজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের মধ্যে একজন বেশ বয়স্ক, চুলে পাক ধরেছে কিন্তু বেশ মার্জিত চেহারা
আর ওনার ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন একজন অল্প বয়সী সুদর্শন যুবক। শুভ্র ভদ্রভাবে ওনাদের সালাম দিতেই ওনারা মুচকি হেসে ঘরের ভেতর পা রাখলেন।

ড্রয়িংরুমে ওনাদের পা রাখতেই রিদ ওখান থেকে প্রায় ছুটে ওনাদের কাছে এগিয়ে এল। বয়স্ক লোকটাকে দেখা মাত্রই রিদের চোখ-মুখ খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। ও আর কোনো প্রোটোকল না মেনে সোজা গিয়ে লোকটাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। তারপর একটু অভিমানী গলায় বলল, “এখন আসার সময় হলো তোমার ওহিদুল? আমি সেই কখন থেকে ড্রয়িংরুমে বসে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি, বলো তো!”
ওহিদুল রিদের পিঠ চাপড়ে দিয়ে হেসে বললেন, “আর বোলো না রিদ! আসার পথেই একটা জরুরি কাজে আটকে গিয়েছিলাম, তাই একটু দেরি হয়ে গেল।”
রিদ ওনার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা চশমা পরা শান্ত, গম্ভীর যুবকটির দিকে তাকাল। ছেলেটার পরনে একটা সাদা রঙের শার্ট, গায়ের রং অনেকটা ফর্সা, চোখের রং কিছুটা বাদামী, বেশ অনেকটা লম্বা, রিদের থেকেও বেশি,
রিদ একটু অবাক হয়ে ওহিদুল সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলল, “ওহিদুল, এটা কি আমাদের ইউভান?! বাপরে বাপ, ও এত বড় হয়ে গেছে?!”

ওহিদুল সাহেব নিজের ছেলের দিকে তাকিয়ে হেসে বললেন, “হ্যাঁ, এটাই আমাদের ইউভান। কিছুদিন হলো ও আমেরিকা থেকে দেশে ফিরে এসেছে। আমিই আজ জোর করে ওকে আমার সাথে তোর বাড়িতে নিয়ে আসলাম, ভাবলাম তোদের সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিই।”
ছেলেটার নাম রোহান ইউভান। পেশায় একজন ডক্টর, কিছুদিন আগেই আমেরিকা থেকে ফিরেছে।
ওহিদুল রহমান ও রিদ রায়ান চৌধুরী দুজনে শুধু পুরোনো বন্ধুই নন, প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ওনারা খুব বিশ্বস্ত বিজনেস পার্টনার হিসেবে কাজ করছেন। আজ অনেকদিন পর ওনাদের ম্যানুফ্যাকচারিং বিজনেসের কিছু জরুরি ডিল আর ফাইল সই করার কাজেই রিদ ওনাদের নিজেদের বাড়িতে ডেকে পাঠিয়েছে।
রোহান ইউভান বিনম্র পায়ে রিদের কাছে এগিয়ে এল। ও নিচু হয়ে খুব সুন্দর করে রিদকে সালাম করল। ওনার এই মার্জিত ব্যবহার দেখে রিদের মনটা খুশিতে ভরে উঠল। ও ইউভানের কাঁধে হাত রেখে ওকে দোয়া করে দিল।

ঠিক তখনই রান্নাঘর থেকে মিহি ড্রয়িংরুমে এসে হাজির হলো। ওহিদুল সাহেব আর রোহানকে দেখে ও একগাল হাসি দিলো, ও রোহানের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো বলল, “এসো বাবু, এইখানে বোসো। অনেক বছর পর তোমাকে দেখলাম, একদম চেনা যায় না! কতো ছোট ছিলে এখন অনেক বড়ে হয়ে গেছো,
রোহান হাসিমুখে সোফায় গিয়ে বসল। মিহি ওনাদের বসার ব্যবস্থা করে দিয়ে শুভ্র আর রিদকে বলল ওনাদের সাথে গল্প জমাতে। তারপর ও নিজে চটপট রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াল, যাতে অতিথিদের জন্য দুপুরে কিছু খাবার আর নাস্তার ব্যবস্থা একবারে করে ফেলা যায়। মিহি যখন রান্নাঘরে যাচ্ছিল, তখন একবার রোহানের দিকে ফিরে তাকালো, ছেলেটা দেখতে খুব সুন্দর হয়েছে,
ড্রয়িংরুমে সবাই মিলে বেশ ভালোই আড্ডা জমিয়েছে, সবাই এক সাথে বসে গল্প করছে, হুট করে মেইন গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকল রুহি। ও সবেমাত্র ভার্সিটি থেকে ফিরেছে, ক্লান্তিতে মুখটা একটু শুকিয়ে থাকলেও ড্রয়িংরুমে ওহিদুল রহমান সাহেব আর রোহান ইউভানকে দেখে ওর চোখের ক্লান্তি এক নিমেষে উধাও হয়ে গেল। ও নিজের কাঁধের ব্যাগটা সোফায় রেখে অত্যন্ত ভদ্রতার সাথে ওহিদুল সাহেবকে সালাম দিল। তারপর এক গাল খুশির হাসি নিয়ে সোজা গিয়ে বসল রোহান ইউভানের একদম পাশের খালি জায়গাটাতে। ও বসামাত্রই রোহান নিজের ডান হাত বাড়িয়ে রুহির গালটা আদোরে টেনে দিল। ছোটবেলা থেকেই ইউভানের সাথে ওর ভালো সম্পর্ক, আগে প্রায় যাওয়া হতো ওহিদুল রহমানের বাড়ি, কিন্তু রোহান দেশ ছাড়ার পর আর যাওয়া হয় নি।

রুহি নিজের গাল ডলতে ডলতে একটু অভিমানী গলায় বলল, ” ভাইয়া! তুমি এতগুলো দিন পর কেন আসলে বলো তো? তোমার তো আরও অনেক আগে আসা উচিত ছিল! আমি যে এই কয়টা বছর তোমাকে কতটা মিস করছি, তা বলে বোঝাতে পারব না!”
রোহান নিজের চশমাটা একটু ঠিক করে হেসে বলল, “আমিও তোকে ভীষণ মিস করেছি রুহি। কিন্তু তুই তো আর নিজে থেকে যাবি না আমার সাথে দেখা করতে! তাই তোর ভাইয়াই সব কাজ ফেলে নিজে থেকে তোর সাথে দেখা করতে চলে আসলো। তা তোর ওই শয়তান ভাইটা কই? নাকি আমি আসবো এই জন্য ঘর ছেড়েছে?”

রুহি ফিক করে হেসে দিয়ে বলল, “ঋশ ভাইয়া তো বাসায় নেই মনে হয়। তবে ও ঠিক কোথায় গেছে আমি কেমনে বলব ভাইয়া? আমি তো এইমাত্র ভার্সিটি থেকে আসলাম।”
রোহান একটু মাথা নেড়ে বলল, “ও হ্যাঁ, তাও ঠিক। তুই তো মাত্রই আসলি। আচ্ছা রুহি ঘরে বসে থাকতে আর ভালো লাগছে না, আমাকে একটু ছাঁদে নিয়ে চল, হাওয়া খেতে ইচ্ছে করছে”
রুহি আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। ও ড্রয়িংরুমে বসা রিদের দিকে তাকিয়ে বললো “পাপা, আমি ইউভান ভাইয়াকে নিয়ে একটু ছাদ থেকে ঘুরে আসি কেমন?”
রিদ হেসে সায় দিলে রুহি রোহানকে নিয়ে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল।
ওরা যখন সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে যাবে, ঠিক তখনই ঘটল সেই বালের কাণ্ড!
ওপর থেকে তখন একদম মনের সুখে নাচতে নাচতে আর ব্রাজিলের ফুটবল গান গাইতে গাইতে নিচে নামছিল ইয়াশফা। শুধু ও একা নয়, ওর কোলের মধ্যে পাঁজাকোলা করে নেওয়া রয়েছে বিচ্ছু বাহিনীর অন্যতম প্রধান সদস্য বাঘাকে। বাঘাকে ব্রাজিলের জার্সি কীভাবে পরানো যায়, সেই মহা চিন্তায় মগ্ন থেকে ও সিড়ি দিয়ে নামার সময় সামনের দিকে তাকাতেই ভুলে গিয়েছিল। ব্যস! করিডোরের মোড় ঘুরতেই কোনো কিছু না দেখেই ও সোজা গিয়ে ধপাস করে এক মস্ত বড় ধাক্কা খেল ওপরে উঠতে থাকা রোহান ইউভানের শক্ত বুকের ওপর!

আচমকা এই ধাক্কায় ইয়াশফার কোল থেকে বাঘা ছিটকে নিচে পড়ে গেল, আর ইয়াশফা নিজে ভারসাম্য হারিয়ে পেছনের দিকে উল্টে পড়ে যেতে চাইল। কিন্তু ইউভান এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে নিজের দুই হাত বাড়িয়ে এক ঝটকায় ইয়াশফার কোমর জড়িয়ে ধরে ওকে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরে আটকে নিল, যাতে ও কোনোভাবেই সিঁড়ি থেকে নিচে পড়ে না যায়।
নিশ্চিত বিপদের হাত থেকে বেঁচে গেলেও ইয়াশফার ভেতরের ত্যাঁদড় রূপটা চাড়া দিয়ে উঠল। ও নিজের কোমর থেকে ইউভানের হাতটা এক ঝটকায় সরিয়ে দিয়ে, নিজের কপাল কুঁচকে চোখ বড় বড় করে রেগেমেগে চিৎকার করে বলে উঠল, “চোখে কি কানা নাকি আপনি?! আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলেন কেন, হ্যাঁ? চোখে দেখেন না? পকেটে রেখে দিয়েছেন নাকি?”
রোহান একদম থ মেরে গেলো, ওর কি দোষ? ও তো ভালো করেই হাটছিলো, এই বাচ্চায় তো এসে ওকে ধাক্কা দিলো, যাইহোক ও আর কিছু বললো না বাচ্চাদের রাগ একটু বেশিই হয়, ও রুহির দিকে তাকিয়ে বললো
“রুহি, বাচ্চাদের ওদের মায়েরা এভাবে একা একা ছেড়ে দেয় কেন বল তো? এখনই তো মেয়েটা ধাক্কা খেয়ে সিঁড়ি থেকে নিচে পড়ে নিজের সামনের সব কটা দাঁত ভেঙে ফেলত! যখন তখন একটা দুর্ঘটনা হয়ে যাবে, বাবু শোনো, বড়োদের সাথে এভাবে কথা বলতে নেই, যাও মায়ের কাছে যাও, এমন নাহলে ইনজেকশন দিয়ে দিবো”

লোকটা ওকে ইনজেকশন দেওয়ার ভয় দেখালো? আবার বাচ্চা বাবু বলে ওর মায়ের কাছে পাঠাতে বলছে? কথাটা শোনা মাত্রই ইয়াশফার মাথার সব কটা রগ একসাথে চিড়বিড় করে জ্বলে উঠল! ও রাগে মাথা গরম হয়ে গেলো, কে এই লোক ভাই? ওর বাড়িতে এসে ওকেই হুমকি দিচ্ছে?
ও রোহানের দিকে জ্বলন্ত চোখে তাকিয়ে চেঁচিয়ে বলল, “What the মল্লা! আপনার বিচার করবে আল্লাহ! আমি বাচ্চা? আপনিই বাচ্চা আপনার চৌদ্দ গুষ্টি বাচ্চা, ইডিয়েট লনসেস, রাষকেল”
ইয়াশফার মুখে এই মারাত্মক ইংরেজি আরন শুনে রুহি নিজের হাসি কোনোমতেই চেপে রাখতে পারল না। ও সিঁড়ি ধরে হেসেই খুন। রুহি নিজের হাসি সামলে নিয়ে রোহানের কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিসিয়ে বলল, “আরে ইউভান ভাইয়া, তুমি ওরে বাচ্চা বলছ কী ভেবে? এইটা কোনো বাইরের বাচ্চা না, এইটা আমাদের ঋশ ভাইয়ার বউ!”

রুহির মুখে এই অবিশ্বাস্য সত্যটা শোনা মাত্রই রোহান ইউভান নিজের থুথু গিলে জোরে কেশে উঠল! ও নিজের চশমাটা নাক থেকে প্রায় নামিয়ে অবিশ্বাস্য চোখে একবার ইয়াশফার দিকে আর একবার রুহির দিকে তাকাল। ও নিজের মাথা নেড়ে রুহিকে একটু নিচু স্বরে বলল, “তাই নাকি, অবশ্য তোর ওই বেয়াদব ভাইয়ের থেকে এর থেকে বেশি আর কী আশা করা যায়? দুনিয়ায় এত এত মেয়ে থাকতে শেষমেশ এমন একটা ত্যাঁদড় বাচ্চাই ওর নজরে পড়ল? ওর চয়েস তো আসলেই মারাত্মক!”

ইউভান আর রুহি মিলে ওনার সামনে দাঁড়িয়ে ওনাকে নিয়ে কানাঘুষা করছে আর হাসছে এটা দেখে ইয়াশফার এবার সত্যিই মারাত্মক রাগ হলো। ও মনে মনে ইউভানের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে জাওরা খাটাস সব গালি দিয়ে এক দৃষ্টিতে ওনার দিকে তাকিয়ে রইল। রুহি বুঝতে পারল এখানে আর এক সেকেন্ড থাকলে ইয়াশফা হয়তো নিজের বিচ্ছু বাহিনীকে ডেকে ওদের ওপর লেলিয়ে দেবে!

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৩৩

ও ঝটপট রোহানের হাতটা ধরে ওপরের দিকে টানতে টানতে বলল, “আচ্ছা ভাইয়া, এসব বাদ দাও। ও তো এমনই ছটফটে। চলো চলো, আগে ছাদে চলো, অনেক গল্প আছে!” রুহি রোহানকে নিয়ে ওপরে চলে গেল, আর ইয়াশফা নিচে পড়ে থাকা বাঘাকে কোলে তুলে নিয়ে দাঁত কিড়মিড় করে বলল, “দেখছিস বাঘা? দেখলি কিভাবে অপমান করলো? তোরা দাড়িয়ে থেকে কি বাল করলি? কামরে দিতে পারলি না? কালকে একটা চকলেট বিস্কুট দিয়েছিলাম ফেরত দে, শালার ব্যাটা”

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৩৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here