Home নেশাক্ত প্রহর (মিহি সিজন ২) নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৬

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৬

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৬
রূপন্তী সরকার

মুগ্ধ বিয়ে করে চলে এসেছে এই খুশিতে মিহিরা সবাই বাহিরে এলো। কিন্তু বাহিরে এসে দেখছে সবার মুখ কালো হয়ে আছে। কিন্তু কেনো? মুগ্ধ আর রাহা ও মুখ ছোট করে দাড়িয়ে আছে। কারো মুখে আনন্দের ছিটে ফোঁটা ও নেই। ঋষভ রাগে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ ওর পেছন থেকে একটা বাচ্চা মেয়ে উঁকি দিলো। মেয়েটা ঋশের থেকে অনেক টা খাটো। মিহি আর রিদ মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েটা লাল রংয়ের একটা শাড়ি পড়ে আছে। তাও এলোমেলো করে। মুখে কোনো মেকআপ নেই। চুল গুলো ও এলোমেলো হয়ে আছে। মিহি ভাবলো হয়তো রাহার কেউ। মেয়েটা আস্তে করে ঋশের পেছন থেকে বের হয়ে দরজার সামনে গিয়ে দাড়ালো। ঋষভ হনহন করে উপরে চলে গেলো। মিহি তিথি কে বললো
“কি হয়েছে আপু? সবার মুখ কালো কেনো? আর ঋশ উপরে গেলো কেনো?”
তিথি মিহি কে সব কথা খুলে বললো। সব শুনে মিহি সহ বাড়ির সবাই আকাশ থেকে পড়লো। রিদের হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসলো। এটা কি করে সম্ভব? অতীত কি তবে পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে? রিদ ভাবলো সে এখন কি করবে? আরাফ রায়ান চৌধুরীর মতো ওদের বাড়ি থেকে বের করে দিবে? কথাটা ভেবেই মুচকি হাসি দিলো। তার মনে পড়ে গেলো সেই ৫ বছরের বাচ্চা বউয়ের কথা। ইশশ কি মিষ্টি ছিলো দিন গুলো।
রিদ মেয়েটা কে নিজের কাছে ডাকলো। এরপর বললো

“এই মামনি নাম কি তোমার?”
মেয়েটা রিদের দিকে বললো
“ইয়াশফা শেখ”
রিদ বললো
“কিসে পড়ছো?”
ইয়াশফা সুন্দর করে উত্তর দিলো
“ক্লাস ৯ এ”
রিদ মুচকি হাসলো। শেষে কিনা তার ছেলের কপালে বাচ্চা বউ জুটলো ? আমার ছেলের মনে কপালের সাথে কপাল ঘষা লেগেছে তাই আমার মত বাচ্চা পালন করতে হবে এখন। আর এই বাচ্চা ওর ছেলে কে সামলাবে কিভাবে? আর ছেলে যেই জিনিস।
বাড়ির কারো মুখে কথা নেই। মিহি ও থ মেরে দাড়িয়ে আছে। মিহি একবার আরাধ্যার দিকে তাকালো। দেখলো আরাধ্যার চোখ থেকে অঝোরে জল পড়ছে। মিহির নিজের কাছেই নিজেকে অসহায় লাগছে। কি থেকে কি হয়ে গেলো৷ মেয়েটা ঋশ কে কতটা ভালোবাসে। অথচ ঋশ মেয়েটার ভাগ্যেই নেই? মিহি বাড়ির সবার উদ্দেশ্যে বললো “যে যার ঘরে যাও। বিষয়টা পরে দেখছি আমরা। এখন আর কোনো মেহমান আসবে না। রেস্ট নাও। আগামীকাল হয়তে সবাই আসবে”
মিহি তিথি কে বললো

“ঘরে যাও সবাই। আর রাহা কে একটা সুতির শাড়ি দাও।”
তিথি ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে বললো
“আম্মু চলো তোমাকেও একটা শাড়ি দেই। শাড়ি পড়ে তুমি আর রাহা মা খেয়ে নাও কিছু”
ইয়াশফা মুখ কালো করে বললো
“আমি তো শাড়ি পড়তে জানিনা আন্টি আপনি পড়িয়ে দিবেন?”
তিথি ইয়াশফার কথায় হাসলো। ইয়াশফা কে তিথির খুব পছন্দ হয়েছে। তিথি ইয়াশফা আর রাহা কে নিয়ে নিজের ঘরে চলে গেলো। মুগ্ধ ও নিজের ঘরে চলে গেলো। শুভ্র আর অদ্রিত নেই। যে যার ঘরে চলে গেলো। ড্রয়িং রুমে কেউ নেই শুধু আরাধ্যা আর মিহি রয়েছে। মিহি আরাধ্যার কাছে গেলো। আরাধ্যা মিহি কে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না করছে। মিহি কোনো কথা বললো না। কি বলবে সে? তার কি কিছু বলার আছে? যা হওয়ার তা তো হয়েই গেলো। এখন কিছু বলেও লাভ নেই করেও লাভ নেই। আরাধ্যা কে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ও ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না।
রিদ গিয়ে ঋষভের দরজায় নক করলো। কয়েক সেকেন্ড পর ভেতর থেকে দরজা খুলে গেল। ঋষভ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে চুল একটু এলোমেলো, মুখটা গম্ভীর।
রিদ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কয়েক সেকেন্ড ছেলেকে দেখে হঠাৎই একটা শয়তানি হাসি দিলো। তারপর কাঁধে হাত রেখে বলল,
“তো আমার একমাত্র পুত্র ঋষভ রায়ান চৌধুরী। কট খেয়ে বিয়ে করতে কেমন লাগলো?আপনার অনুভূতি কেমন? যদি একটু শেয়ার করতেন?
ঋষভ বিরক্ত হয়ে কপাল কুঁচকালো।

“পাপা প্লিজ চুপ করবা ?”
রিদ নাটকীয়ভাবে বুক ধরে বলল,
“এই দেখো! বিয়ে করেই বাবাকে চুপ করিয়ে দিচ্ছে। আরো দিন তো পড়েই আছে। আহ, ছেলে বড় হয়ে গেছে!”
ঋষভ মাথায় হাত দিয়ে সোফায় গিয়ে বসে পড়লো।
“পাপা, তুমি কি আমাকে শান্তিতে থাকতে দিবা না ?”
রিদ সোফার সামনে দাঁড়িয়ে আবার বলল
“আমি তো শুধু জানতে চাইছি। মানে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে না করে এমন করে কট খেয়ে বিয়ে করলে কেমন লাগে? যদিও আমিও কট খেয়েই বিয়ে করেছি। তবে অনেকদিন হয়ে গেছে তো অনুভূতিটা ঠিক মনে নাই। তাই তোমার কাছ থেকে একটু জিজ্ঞেস করতে আসলাম। পুরনো অনুভূতি একটু চাঙ্গা করতে চাইছি”
ঋষভ চোখ তুলে তাকালো।

“ তুমি খুব মজা পাচ্ছো তাই না ? ”
রিদ হেসে বলল,
“ ও মা মজা পাবো না কেনো? বাপ কট খেয়ে বিয়ে করেছে। ছেলে না করলে হয়? এই না হলে বাপ কা বেটা? আমার তো তোকে নিয়ে গর্ব হচ্ছে। আমি গর্বে গর্ভবতী হয়ে যাচ্ছি।
ঋষভ দাঁত চেপে বলল,
“দেখো আমার কিন্তু মাথা ব্যাথা করছে প্লিজ যাও এখান থেকে”
এরপর দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে। বললো
“পাপা বাইরে যাও প্লিজ লিভ মি আমাকে একা ছেড়ে দাও। আর আমি এসব বিয়ে টিয়ে মানি না। নেক্সট টাইম থেকে আমাকে এগুলো বলবা না। ”
রিদ আবার হাসতে হাসতে দরজার দিকে হাঁটতে হাঁটতে বলল,

“এটা আবার কেমন কথা? বিয়ে যখন করেছো তখন তো মানতেই হবে।”
ঋষভ রেগে গিয়ে বললো
“আমি পারবো না এই বাচ্চা পালতে। তুমিই পালো ওকে।
রিদ অবাক হয়ে বললো
” আজব তো। কট খাইয়া বিয়া করলি তুই। বউডাও তোর। তাহলে আমি কেনো তোর বউ কে বড়ো করবো? আমি আমার বউ ছাড়া অন্য কারো বউ কে বড় করতে পারবো না সরি।
রিদের কথা শুনে ঋশ গা ছাড়া ভাব নিয়ে বললো
“আমি কোনো কট খাই নি। আমাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি এই বিয়ে মানি না। এই বাচ্চা কেও মানি না। আমি এমন বাচ্চা মানুষ করতে পারবো না”
রিদ ঋষভের দিকে তাকিয়ে বললো

“আমি যদি আমার ৫ বছরের বাচ্চা বউকে মানুষ করতে পারি তাহলে তুই আমার ছেলে হয়ে কেনো পারবি না? তোর তো কপাল ভালো আমি তোর বাপ। আরাফ রায়ান চৌধুরী হইলে
তোরে আর তোর বাচ্চা বউরে বাড়ি থেকে বের করে দিতো।”
বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার কথা শুনে ঋশ অবাক হয়ে রিদ কে বললো
“তুমি আমার বাবা নাকি শত্রু?”
রিদ একটা শয়তানি হাসি দিলো
“শুভকামনা তোর জন্য। তোকেই মানুষ করতে হবে তোর বাচ্চা বউকে।
ঋষভ রেগে গিয়ে বললো
“আজব কথা পাপা। আমি কেমনে ওকে মানুষ করবো?”
রিদ হেয়ালি করে বললো

“তোর বউকে তুই কোলে তুলে মানুষ করবি নাকি চুম্মা দিয়ে দিয়ে মানুষ করবি সেটা তোর ব্যাপার আমি কি জানি? আমি কিন্তু তোর মাকে চুম্মা দিয়ে দিয়ে মানুষ করেছি। হেহে
কথাটা বলেই রিদ লজ্জা পাওয়ার ভান করলো।
ঋষভ বিরক্ত হয়ে বালিশটা তুলে বাবার দিকে ছুঁড়ে মারলো। রিদ দরজা থেকে মাথা বের করে বলল,
“এই এই! বউকে মারিস না যেন… বালিশটা তার জন্য জমা রাখ।”
বলেই হেসে করিডোরে চলে গেল। ঋষভ মাথা নাড়িয়ে জোরে চিল্লিয়ে মিহিকে ডাকতে থাকলো,
“মাম্মা, মাম্মা কোথায় তুমি?”
মিহি দৌড়ে আসলো।
“কি হয়েছে বাবু?”
ঋষভ রেগে বললো
“তুমি এই লোকটা কে কেমনে সহ্য করো?”
মিহি কটমট করে রিদের দিকে তাকিয়ে বললো
“তোমাকে ঘরে যেতে বললাম না পঁচালোক? ছেলেটাকে জ্বালিও না”
ঋষভ মিহি কে বললো

“আমাকে এক কাপ কফি দিয়ে যাও”
কথাটা বলেই ঋষভ চলে গেলো। মিহি রান্নাঘরে গিয়ে দেখলো। ইয়াশফা তিথি আর রাহা মিলে রান্না করছে। মিহি গিয়ে কফি বানালো। এরপর ইয়াশফা কে গিয়ে বললো
“যাও তোমার বর কে কফি টা দিয়ে এসো”
ইয়াশফা জোর করে হাসার চেষ্টা করে কফি টা হাতে নিয়ে ঋষভের ঘরে গেলো। ভয় ভয় লাগছে। লোকটা কে সুবিধার মনে হলো না। মনে হয় মাথার তার টার কাটা আছে। একে নিয়ে না হয় পরে গবেষণা করা যাবে। বেচারি হাঁটতেও পারছে না শাড়ি পড়ে। কোনো রকম ঋষভের ঘরে গেলো। ঘরে কেউ নেই। কফিটা হাতে নিয়ে ঘরে চোখ বুলাচ্ছে। হঠাৎ করে টেবিলে রাখা একটা কলমে ওর চোখ আটকে গেলো। কলম টা সাধারণ কলমের মতো না। ও ভাবলো হয়তো এটা দিয়ে লিখলে লেখা অনেক সুন্দর হয়। তাই কলম টা হাতে নিয়ে একটা সাদা কাগজে দাগ দিতে যাবে এমন সময় ঋষভ পিছেন থেকে ধমকে উঠলো। ইয়াশফা চমকে গিয়ে পিছনে ঘরলো। কফি টা ছিটকে গিয়ে ঋষভের ফর্সা বুকে গিয়ে পড়লো। ঋষভ কোনো চিৎকার করলো না। সাথে সাথে ফর্সা বুকটা লাল বর্ন ধারণ করলো। ঋষভ ইয়াশফার কাছে গিয়ে বললো
“এই মেয়ে আমার অনুমতি ছাড়া আমার জিনিসে হাত দিয়েছো কেনো? আর আমার ঘরে কেনো এসেছো? নেক্সট টাইম আসলে থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দিবো”

ইয়াশফা হুট করেই ক্ষেপে গেলো। মগের মুল্লুক নাকি? ওকে ধমক দিলো কেনো? ইয়াশফা ঠাসস করে কফি টা টেবিলে রেখে বললো
“আমাকে কি পাগলা কুত্তাই সুরসুরি দেই যে আপনার ঘরে নিজ ইচ্ছাই আসবো? আপনার মা বলেছে বলেই এসেছি৷ আর আপনার এই কলমে কি সোনা লাগানো আছে? এই না কলমের চেহারা আবার নাম রাখছে পেয়ারা। এর থেকে আমার বাবাই আমাকে অনেক সুন্দর সুন্দর কলম এনে দেয়।”
ঋষভ রেগে গেলো। এই মেয়ের কথা বলার ধরন এমন কেনো? পাগলা কুত্তা আবার সুরসুরি দেয় কিভাবে?
” গেট আউট ননসেন্স”
ইয়াশফা যেতে যেতে বলবো।

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৫

“আমি শুনেছিলাম আপনি ভালো লোক না। কিন্তু প্রমাণের অভাবে ধরতে পারি নি। এখন বুঝলাম আপনি সত্যিই ভালো না। এরপর থেকে কফি তে বিষ মিশিয়ে আনবো।”
কথাটা বলেই ইয়াশফা চলে গেলো। ঋষভ থ মেরে দাড়িয়ে আছে। এই মেয়ে কি বলে গেলো? ওকে বিষ মিশিয়ে খাওয়াবে? ঋষভ বিরবির করে বললো
“ও গট এই ক্যাকটাস টা কেই আমার কপালে জুটতে হলো? এ এরপর যেনো আমার চোখের সামনে না পড়ে।

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৭

1 COMMENT

Comments are closed.