Home পদ্মপ্রিয়া পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩৬

পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩৬

পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩৬
ঈশিতা রহমান সানজিদা

নূর আশাহত হলো খুব, কেননা আজমল শিকদারের কাছ থেকেও আশানুরূপ কোন জবাব পাওয়া গেল না। তিনি নূরকে ভুলভাল বুঝিয়ে অফিস যাওয়ার বাহানায় বেড়িয়ে গেলেন। বেচারি নূর একা পড়ে রইলো। শ্বশুরের রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে রইল চুপচাপ। ভেতরে ভেতরে চিন্তায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোন সুরাহা করতে পারছে না। শরীর কাঁপছে ওর। জ্বর নেমেছে সেই রাতে, আজমাঈন নিয়মিত ওষুধ খাওয়াচ্ছে নিজ হাতে। রোগ না সেরে যাবে কোথায়? তবে নিউমোনিয়া সারতে সময় লাগবে। জ্বর কমলেও দূর্বলতা এবং খাওয়ার অরুচি থেকে যায়। তার উপর তানাজের শ্বাশুড়ির খাওয়ার অত্যাচার। দেখামাত্রই টেনে নিয়ে টেবিলে বসায় নূরকে। তানাজের জন্য শিং মাছের ঝোল রান্না করেছেন তিনি। নূরকেও বসিয়ে দিলেন। পাতে ভাত তুলে দিয়ে এক গাদা তরকারি দিয়ে খেতে বলে তানাজের জন্য খাবার নিয়ে চলে গেলেন। আইশা নিজ রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিল। ভদ্র মহিলা চলে যেতেই গুটি গুটি পায়ে এসে বসলো। প্লেটে ভাত বাড়তে বাড়তে বললো,’কি ঝাসি মহিলা বাপরে, গতকাল আমার কোমড় ধরিয়ে দিয়েছে। কান ধরে তওবা করেছি এই মহিলার সামনে আর যাব না।’

নূর অন্যমনস্ক, তার এখন কিছুই ভালো লাগছে না। পুরো দুনিয়া যেন ঘুরছে। তাহমিনা এলেন আচারের বয়াম নিয়ে। টেবিলে রাখতেই চমকে উঠলো নূর। তাহমিনা ফিরে যেতে নিয়েও ঘুরে দাঁড়ান। বলেন, ‘শোন নূর, তোমাকে একটা কথা বলি। আজমাঈন আমার আর ওর বাবার সবচেয়ে আদরের সন্তান। ছোট বেলা থেকে অনেক আদরে বড় করেছি। কিন্তু আদর দিয়ে বিগড়ে ফেলিনি। এমন কিছু দেইনি যাতে ওর ক্ষতি হয়, এছাড়া সব ইচ্ছা পূরণ করেছি। তোমার পরিবার যত অন্যায় করুক না কেন, তুমি তাদের ক্ষমা করে দিলেও দিতে পারো। কিন্তু আমার ছেলে করবে না। ভয়ংকর রেগে আছে, তাই ও যা বলবে তাই মেনে চলো।’
নূর তৎক্ষণাৎ হাত টেনে ধরে তাহমিনার। বলে,’কি হয়েছে কিছু জানি না আমি আন্টি। আপনি প্লিজ বলুন আমাকে। এভাবে আমার চিন্তা হচ্ছে।’

‘তা বুঝতে পারছি, আজমাঈন আসুক আগে। সে তোমাকে সব বলবে।’
আইশা ফিসফিস করে বলে,’এখন চুপ থাকো ভাবি, ভাইয়া আসলে সব জানতে পারবে।’
গলা দিয়ে খাবার নামে না নূরের। তা হৃদয় জুড়ে হাহাকার করছে। সম্পূর্ণ ঘটনা না জানা অব্দি তার ভালো লাগছে না। তবে সময় বোধহয় নূরের সহায় হলো। অনুপমা নিজে এসেছে, তার অবস্থা ভয়াবহ। এক রাতেই সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেছে। সে এসেই নূরকে ঝাপটে ধরলো। হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। এমন কান্ড হাবলার মতো তাকিয়ে রইল নূর। অনুপমা কাঁদতে কাঁদতে বললো,’তুমি চাইলে সবকিছু ঠিক করে দিতে পারবে নূর। আমি জানি তুমি দয়ালু, ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করে দিবে। আমি হাত জোড় করে ক্ষমা চাইছি তোমার কাছে। আমার সর্বনাশ থামাও।’
‘কি হয়েছে বলবে তো?’

অনুপমা কাঁপতে কাঁপতে বললো,’আজমাঈন মামলা করেছে, গতকাল রাতে পুলিশ তোমার ভাইয়াকে ধরে নিয়ে গেছে। আজমাঈন বলেছে অন্তত দশ বছরের জেল খাটিয়ে ছাড়বে। আমার ছেলের ভবিষ্যত কি হবে? সবাই ছিঃ ছিঃ করবে, তুমি কিছু করো।’
নূর বিষ্মিত হয়ে বলে,’কিন্তু আমি এখনও এই বিষয়ে মুখ খুলিনি, সব জানাজানি কিভাবে হলো?’
অনুপমা একটু থামলো। গলা শুকিয়ে গেছে তার। চোখের পানি মুছে শান্ত হয়ে বললো,’তুমি ফিরে আসার পর খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম আমরা। তারপর তোমার ভাইয়া সব স্বীকার করেছে মায়ের কাছে। তারপর বাবা আর আজমাঈন পুলিশ ডেকেছে।’
অনুপমা একটু থেমে বলে,’বিশ্বাস করো নূর, তোমার ভাইয়ের কোন দোষ ছিলো না। সব দোষ আমার। আমিই বলেছিলাম তোমাকে আটকে রাখতে।’
অনুপমার কথার জোরে সবাই নূরের রুমে এসে উপস্থিত হয়েছে। কথাগুলো তাদের সবাইকে চমকে দিচ্ছে। নূর বলে,’তুমি বলেছ?’

‘হ্যাঁ আমি বলেছি। তোমাকে ভাইয়ের কোন ইচ্ছা ছিলো না তোমাকে কিডন্যাপ করে আটকে রাখার। ও শুধু চেয়েছে তোমার থেকে বিজনেস টা নেওয়ার। কিন্তু তখন ও কোন সুরাহা করে উঠতে পারেনি। রাগের মাথায় দু’দিন আটকে রেখেছিল তোমাকে। রাগ কমার পর আমাকে সবকিছু বলে। প্রথমত আমিও জানতাম না যে তোমার ভাইয়া এসব করিয়েছে। যখন জানতে পারলাম, ভাবলাম দু’দিন পার হয়ে গেছে। এখন তোমাকে ছেড়ে দিলে সবাই সব জেনে যাবে। শুধুমাত্র তোমার ভাইয়ার কথা ভেবে আমি বলেছিলাম তোমাকে ছেড়ে না দিতে। সব দোষ আমার।’
নূরের চোখমুখ শক্ত হয়ে গেল, মানুষ এমনও হয়? এত পাষাণ হয়? আপন মানুষের সাথে এমন করতে পারে? নূর কঠিন হয়ে বলে,’আমি যদি কল না করতাম তাহলে কি করতে তোমরা, আমাকে সারাজীবন আটকে রাখতে?’

অনুপমা থেমে যায়, মুখের ভাষা হারিয়ে যায়। এই প্রশ্নের জবাব দেওয়া কষ্টসাধ্য। সবচেয়ে বড় কথা আজ অনুপমার জন্যই এত বড় ঘটনা ঘটেছে। সাইমনের দায় কম নয়। সে চাইলেই পারতো সবকিছু স্বীকার করে নিতে। নূর মৃদু ধমকে ওঠে,’কি হলো বলো? আমি তোমাদের কি ক্ষতি করেছি যে এমন করলে? তোমরা আমাকে একঘরে করে রেখেছিলে। আমি কারো সাথে মিশতে পারিনা এই কারণে। তারপরও তো কোনো অভিযোগ রাখিনি। তবুও কেন?’
অনুপমা ফুঁপিয়ে কাঁদে। নূরের হাত ধরে বলে, ‘আমাকে ক্ষমা করো নূর, আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তোমার ক্ষতি করার কোনো ইচ্ছা ছিলো না।’
‘কিন্তু আমার অনেক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। ভাইয়া যে আমাকে আটকে রেখে আমার সবকিছু নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে একথা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। এজন্য সেদিন তার এক ডাকে গাড়িতে উঠে বসেছিলাম। যখন দেখলাম সে আমাকে এসব কথা বলছে তখন আমার সব বিশ্বাস উঠে গেছে।’
অনুপমা তবুও বেহায়ার মতো দাঁড়িয়ে থাকলো। নূরের হাত ছাড়লো না। আকুতি মিনতি করে বলল, ‘আমাদের ভুল হয়েছে বলছি তো। তুমি ক্ষমা করো। অন্তত অনুভবের দিকে তাকিয়ে আজমাঈন কে মামলা তুলে নিতে বলো।’

অনুভবকে নূর ভীষণ স্নেহ করে। ছেলেটা দুরন্ত, কিন্তু মানুষ ভালো। কাল যখন ও স্কুলে যাবে সবাই ওকে দেখে বলবে যে ওর বাবা জেল খাটছে। টিচার রাও টিটকারী কাটবে। ছোট মানুষ, যদি ভুলবশত কিছু ঘটিয়ে ফেলে তাহলে কি হবে? অনুভব আবেগি ছেলে। খারাপ কিছু ঘটাবে না তার কোন গ্যারান্টি নেই। নূরের রাগ হচ্ছে খুব, ভাই ভাবিকে কঠিন শাস্তি দিতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু অনুভবের কি দোষ? বাবা মায়ের জন্য সে কেন শাস্তি পাবে? দোটানায় পড়লো নূর। তাহমিনা এসে অনুপমার হাত ছাড়িয়ে নিলো। নূরকে টেনে নিজের পাশে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বললো, ‘এখন এত কথা বলে লাভ নেই। তুমি বরং বাড়ি চলে যাও। আমার ছেলে না ফেরা পর্যন্ত নূরকে আর কিছু বলো না।’
‘আমি অনেক আশা নিয়ে এসেছি, জানি অন্যায় করেছি। তবুও আমি ক্ষমা চাইছি। এত বড় শাস্তি দিবেন না। আপনার ছেলেকে বলুন প্লিজ।’
‘আমার ছেলে যদি ছেড়েও দেয় আমি ছাড়ব না। তোমাদের জন্য আমার ছেলের অবস্থা কি হয়েছিল তা মা হয়ে সহ্য করে গেছি। এখন মাফ চাইলে কি করে হয়? বাড়ি থেকে বের হয়ে যান এখুনি।’
আইশা এসে নূরকে নিয়ে গেল নিজ রুমে। দরজা বন্ধ করে বসে রইল যাতে নূর কিছুতেই বের হতে না পারে। ওর জ্বর বাড়লো খানিক বাদে, তবে এবার ভেঙে পড়লো না। চুপচাপ বসে রইল। আইশা এসে বললো,’ভুল করলে ক্ষমা করা যায়, কিন্তু অন্যায় করলে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা শাস্তির বিধান দিয়েছেন। তুমি কি তা অমান্য করতে চাও?’
নূর বললো,’আমি বুঝতে পারছি না। ভাইয়া, ভাবি অন্যায় করেছে কিন্তু তার শাস্তি অনুভব, মাম্মাম কেন পাবে বলো?’

‘কোনো শাস্তি ওরা পাবে না। অনুভব কে ফয়েজ ভাইয়া তাদের বাসায় নিয়ে গেছে। এখন থেকে ওখানেই থাকবে। আর আঙ্কেল মানে তোমার আব্বুও বাড়ি ছেড়ে তার ঢাকার ফ্ল্যাটে শিফট করেছেন। যদিও তোমাকে এখন জানাতে না করেছে। তোমার চিন্তা দেখে বলে দিলাম। একটু শান্ত হও ভাবি।’
এখন আর চমকে গেল না নূর। সে জানতো এই পরিবারে ভাঙন ধরবে। এজন্য ফিরে আসার পরপরই কিছু বলে ফেলেনি। ভেবেছিল আস্তে ধীরে বলবে। কিন্তু এভাবে সবকিছু হয়ে যাবে ভাবেনি। ওর গায়ে কম্ফোটার টেনে দিলো আইশা। সাথে সাথে চোখে ঘুম নেমে এলো।
বাড়ির পরিবেশ খুবই গরম। সবার মুখ থমথমে। রাশেদ সাহেব কে দেখে বাড়িতে এসেছে আজমাঈন।
তাকে আজকাল হোটেলে সময় দিতে হয় বেশি। এর আগে ফয়েজ অনেক সাহায্য করেছে। এখন সব ঠিকঠাক, কাজেই আজমাঈন তার দায়িত্ব পুরোপুরি ভাবে নিয়েছে। সে বাসায় ফিরেছে এশার নামাজের পর। আজমাঈন ফেরার পরপরই সবাই স্বাভাবিক আচরণ করছে। অনুপমা এসেছিল একথা কেউ তোলে না।
জামাকাপড় বদলে টিশার্ট পরে নেয় সে। শহরে তেমন ঠান্ডা নেই। শীতকাল পার হয়ে যাচ্ছে। আর কিছুদিন পরেই বসন্তের আগমন ঘটবে। ফুলে ফুলে ভরে যাবে চারিদিক। আজমাঈন নূরের মুখোমুখি বসে খানিকটা দূরত্ব বজায় রেখে। শীতল গলায় বলে,’জ্বর কমেছে?’
এতটাই শীতল কন্ঠস্বর ছিলো যে নূর হালকা কেঁপে উঠলো। নতজানু হয়ে বসে রইল, মাথার ঘোমটা আরেকটু টেনে নিলো। আজমাঈন মৃদু হেসে বলল, ‘আমাকে পরপুরুষ মনে হয় তোমার? নাকি এতদিন দূরে থেকে সবকিছু ভুলে গেছো?’

বলতে বলতে উঠে দাঁড়ায় আজমাঈন। থার্মোমিটার এগিয়ে দিলো,’দেখি হা করো, জ্বর কত হলো!’
বাধ্য মেয়ে নূর, আজমাঈন যা বললো তাই করলো। জ্বর এখন একশোতে আছে। ওষুধ চললে কমে যাবে। তবে মাঝে মাঝে আরো বাড়ে। হয়তো চার পাঁচদিন লাগবে কমতে বা তার বেশিও লাগতে পারে। থার্মোমিটার যথাস্থানে রেখে সোজা হয়ে বসলো আজমাঈন। ছেলটা কোন কথা বলছে না দেখে ভয় লাগছে নূরের। কথা বললেও ভয় লাগে, কথা না বললেও ভয় লাগে। এই আজমাঈনকে কেমন নতুন নতুন লাগে নূরের। তবুও ভয়ে ভয়ে বললো,’একটা কথা বলব?’
‘একটা কেন, হাজারটা কথা বলো। আমি তো চাই তুমি আমার সাথে কথা বলো, অনেক অনেক কথা।’
এ কথায় সন্তুষ্ট হতে পারলো না নূর। জড়তা নিয়ে বললো,’যা কিছু হচ্ছে তার জন্য,,,!’
‘তার জন্য তোমাকে এত ভাবতে হবে না। তুমি চুপচাপ থাকো, এ বিষয়ে কথা বলবে না। দেখো আমাদের এত দিন পর দেখা, কাছে আসা। কোথায় একটু ভালোবাসার গল্প করবে তা না করে কি সব আউল ফাউল কথাবার্তা বলতেছ।’

এটা মোটেও কোনো রোমান্টিক কথা বলার সময় নয় অথচ আজমাঈন দিব্যি রসিকতা করছে। তবে আজমাঈন বোধহয় নূরের মনের কথাগুলো ধরতে পারলো। সে কথা ঘোরালো। বললো,’তুমি হারিয়ে যাওয়ার পঞ্চম দিন, আমি তোমার ভাইয়ের কাছে গিয়েছিলাম। এক ঘর মানুষের সামনে আমি তার পা জড়িয়ে ধরে বলছিলাম আমার পদ্মপ্রিয়া কে ফেরত দিন। তার পরিবর্তে আপনার যা কিছু চাই নিয়ে নিন। সেদিন সে স্বীকার করেনি কিছু। তাকে আশ্বস্ত করেছিলাম যে তাকে কোন হয়রানি করা হবে না। আমি কোনো কেস করব না। তবুও সে আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। সেদিন আমার বাবা প্রথম আমাকে কারো কাছে নত স্বীকার করতে দেখছে। আজ আমার এই কঠোরতার কারণ কি তুমি ব্যাখ্যা দিতে পারবে না?’
নূরের চোখের পানি বাঁধ ভাঙলো, উষ্ণ তরল গাল বেয়ে বেরিয়ে পড়লো। এই মানুষটা একদম অন্যরকম। কখনো কখনো তাকে বোঝা মুশকিল। নূর নিজেকে টেনে নিয়ে গেল আজমাঈনের কাছে। বিড়াল ছানার মতো গা ঘেঁষে বসে গলা জড়িয়ে ধরলো। বুকে মুখ গুঁজে দিলো। নূরকে জড়িয়ে ধরে হাসলো আজমাঈন। বললো,’তোমাকে ছাড়া ভালো ছিলাম না আমি। আমার দিনগুলো কিভাবে কেটেছে বলে বোঝানো যাবে না নূর। তুমি আমার কষ্ট দেখোনি, অন্তত অনুভব করতে শেখো।’
কয়েক মুহূর্ত একান্তই কাটলো ওদের। নূর আজমাঈন কে ছাড়লো না। ছাড়লে বুঝি আবার হারিয়ে যাবে সে। নূরের এই ইচ্ছা পূরণ করলো সে। নূরের ঘন চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো,’তোমার জ্বর সারলে আমরা দূরে কোথাও ঘুরতে যাবো, যাবে?’

‘কোথায়?’
‘যেখানে গেলে তুমি আর আমি থাকব, এর মাঝে আর কেউই আসবে না।’
‘আচ্ছা যাবো।’ তারপর আবার নিরবতা। সময়টা তাড়াতাড়ি গড়িয়ে গেল। সুন্দর সময়গুলো সত্যিই তাড়াতাড়ি চলে যায়। তবে ভালোবাসার যে স্মৃতি, অনুভূতি রয়ে যায় তা অমর। আজমাঈন নূরের ফোনটা ফিরিয়ে দেয়। সকাল থেকেই রেহানা সমান তালে ফোন করে যাচ্ছে। এখনও করছে, নূর খানিকক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল। আজমাঈন বললো,’তোমার মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছে ভাইয়া। মায়ের মন তো, সে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এজন্য আঙ্কেল ঘর ছেড়েছেন। জানি কথাগুলো জানতে পারলে খারাপ লাগবে তোমার তবুও বললাম।’

পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩৫

নূর ফোনে আঙ্গুল চালায়, রেহেনার নাম্বার টা আপাতত কিছুদিনের জন্য ব্লক লিস্টে ফেলে দেয়। তারপর ফোনটা রেখে বলে,’কালকে আব্বুর কাছে নিয়ে যাবেন? আব্বুর কাছে থাকলে আমার অসুখ একদম সেরে যাবে।’
আজমাঈন অসন্তুষ্ট চোখে তাকায়,’আমার কাছে থাকলে অসুখ সারবে না বুঝি?’

পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here