পৌষপার্বণ পর্ব ১৩
Irfa Mahnaj
ভাদ্রের রুমের সামনে ঘুর ঘুর করছে দুই ভাই ভাদ্র আর পার্বণ। কেনোনা ভিতরে তাদের বউয়েরা রয়েছে।
সেই যে সকালে দুই ভাই বেরিয়েছে আর এমুখো হয়নি দুজনে। সমুদ্রের পাড়ে সহ বিভিন্ন জায়গায় টই টই করেছে দুই ভাই মিলে।
কিন্তু এখন তো রাত। এখন বউ লাগবে। লাগবে মানে লাগবেই। তাই তো দাড়িয়ে আছে।
পার্বণ এমনিতেই অধৈর্য্য মানুষ। সবুর করতেই জানেনা। ইমিডিয়েট বউ প্রয়োজন তার। যখন জানতো কাজিন তখনই দরকার হতো শুধু কোনোরকমে চেপে যেতো।
এখন তো চাপাচাপির প্রশ্নই আসে না। ভাইকে কনুই দিয়ে গুতো মেরে পার্বণ বলে,
— এই ভাই দরজা খুলতে বলো তোমার বউকে। সারাক্ষনে একবারও আমি আমার বউয়ের চাদ মুখ দেখিনি। এখন আমি ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত।
ছোট ছোট চোখে তাকিয়ে ভাদ্র জবাবে বলে,
— এই তুই না কিছুক্ষণ আগেই কত কিছু ঠুসে এলি। এর মধ্যেই ক্ষুধা লাগে কীভাবে?
বিরক্ত হলো পার্বণ। তার ভাই তার থেকে বড় হয়েও বোঝে না এই ক্ষুধা সেই ক্ষুধা না। এই তৃষ্ণা বউকে না দেখলেই পায়। তাই নিজেই বুঝিয়ে বলে,
— আরে ব্রো এই ক্ষুধা সেই ক্ষুধা নাতো।
— তাহলে এই ক্ষুধা কোন ক্ষুধা শুনি?
— ধূর মিয়া কিছুই বোঝ না তুমি। এটা হচ্ছে বউ ক্ষুধা।
— বউ ক্ষুধা আবার কিরে? বাপের জন্মেও তো এরকম ক্ষুধা শুনিনি।
— বাপের জন্মে না শুনলেও ভাইয়ের জন্মে শুনে নেও।
— বল শুনি।
দিশেহারা হয়ে গেলো পার্বণ। না আর পারছে না নিজের নির্লজ্জ মুখ তালা মারতে। বলেই ফেলে,
— আরে বা*ল বউকে খাওয়ার জন্য যে ক্ষুধা লাগে তাকে বউক্ষুধা বলে। কালকে রাত্রে যেভাবে খেয়েছি সেভাবে আবারো টুপ করে খেতে চাই।
ছোট ভাইয়ের এহেন ঠোঁটকাটা কথায় নাক মুখ দিয়ে কাশি উঠে গেলো ভাদ্রের। বেচারার বোধহয় যক্ষ্মাই হয়ে যাবে।
— আস্তে আস্তে। তোমার এরকম যখন তখন কাশি উঠে কেনো বলোতো? এবারে বাড়ি ফিরেই ডাক্তার দেখাতে হবে তোমাকে।
— তুই তোর মুখটা না খুললেই হবে ভাই।
— হ্যাঁ সব দোষ পার্বণ ঘোষের। আজব!
বলেই মহিলাদের মত মুখ মোচড় দিয়ে উঠে পার্বণ। ওর এই ঢং দেখে ভাদ্র হতাশ হয়ে বলে,
— আমার কাকি এমন আইটেম কেমনে জন্ম দিলো?
ভাদ্রের কথায় ফোড়ন কেটে পার্বণ বলে,
— ডিটেইলসে বলবো নাকি ভাই? অবশ্য তুমি তো ম্যারিড জানার কথা তো তোমার।
এবারে আর নিজেকে সামলাতে পারে না ভাদ্র। নিজের কপাল নিজেই চাপড় দেয়।
— কপালে থাবড়া দেওয়ার সাথে দুটো থাবড়া দরজাতেও দেও ভাই। তাহলে যদি দরজা খোলে।
রকমারি আম নিবাস ~
নিজের রুমে বিছানার উপর হাত পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে শুয়ে আছে আম্রপালি। মুখে ফেইস মাস্ক।
পায়ের উপর পা তুলে পা ঝাঁকাচ্ছে আর মোবাইলে রিলস দেখছে সে। তার মুখের মাস্কটি কালো হওয়ায় একটু ভয়ানকই লাগছে।
তবে এতে কিছুই যায় আসে না আম্রপালির। কারণ এই মাস্ক মুখের জন্য ভালো। সাময়িক এর জন্য পরবর্তী ফল সুন্দর হলে দোষকি।
হঠাৎ বারান্দায় ধাপ করে কিছু একটা পড়ার শব্দ হতেই লাফিয়ে উঠে বেচারা। ও হ্যাঁ চোখে আবার সাদা রংয়ের আই মাস্ক ও লাগিয়েছে সে।
দেখতে আসলেই ভূতের মতো লাগছে। তবে এই মুহূর্তে আম্রপালির ভয় করছে। রাতের বেলা আবার এলো কে?
পা টিপে টিপে বারান্দায় এগিয়ে গেলো সে। তখনই বারান্দার দরজা খুলে নজর আসে ২৮ পাটির চকচকে সাদা দাঁত।
এরকম হুট করে মুখের সামনে কারো দাঁত দেখতে পেয়েই ভয়ে দেয় এক চিৎকার আম্রপালি।
ওর চিৎকার শুনে বসন্ত নিজেও চিৎকার দিয়ে উঠে,
— আয়ায়ায়ায়া!!
পরিচিত কণ্ঠস্বর শুনলে থেকে যায় আম্রপালি। কপালে ভাঁজ ফেলে সামনে তাকাতেই মুখে হাসি ফুটে উঠে তার।
তবে আম্রপালির এই রুপ দেখে ঠিক থাকতে পারে না বসন্ত। নিজের সামনে ভূতের মতো এই জীব দেখেই আগের বারের থেকে আরো জোড়ে চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে ঢলে পড়ে আম্রপালির উপরেই।
বসন্তকে অজ্ঞান হতে দেখে ভোঁতা মুখ করে দাঁড়িয়ে রয় আম্রপালি। বিড়বিড় করে বলে,
— এই সাহস নিয়ে আসছে প্রেম করতে। ছ্যা! এ তো আমার বাপ কে দেখলেই পটল তুলবে।
কলিং বেলের আওয়াজ পেয়ে দরজা খুলে ঘুরে হাটা দেয় হিমসাগর। ডাইনিং থেকে পানি খাবে সে তাই।
আষাঢ় বসন্তের বাবা এসেছিল কিছু কাজে হিমসাগরের নিকট। তিনিও হিমসাগরের পিছু পিছু যান।
হিমসাগর পিঠ করে ঘুরে থাকায় আষাঢ় ওনার মুখ দেখতে পারেনা। না দেখেই কথা আরম্ভ করে,
— ভাই একটা হেল্প লাগতো…
বাকি কথা আর বের করতে পারে না মুখেই আটকে থাকে আষাঢ়ের। হিমসাগর আষাঢ়ের দিকে ফিরে।
হিমসাগর নিজেও আম্রপালির মতো মুখে কালো মাস্ক লাগিয়ে রেখেছেন। মূলত বাবা মেয়ে দুজনে আজকে ফেসিয়াল করতে নেমেছে।
তবে ভিকটিম হয়ে গেছে আষাঢ় বসন্ত দুই বাপ ছেলে। হিমসাগরের এরুপ দেখে বসন্তের মতো তিনিও এক বিকট চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে মাটিতে।
আষাঢ়কে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যেতে দেখে তাজ্জব হয়ে যায় হিমসাগর। ভাবে হলো কি আবার এর!
— ওই আপা দরজা খোল।
অনবরত দরজা ধাক্কাচ্ছে আর খোলার জন্য বলছে পার্বণ। ওর এমন চিল্লাপাল্লা আর ধাক্কাধাক্কিতে অতিষ্ট হয়ে এবার মুখ খুলে চৈত্র।
— এই এভাবে ধাক্কাধাক্কি করছিস কেনো বেয়াদব?
— বউ দেও নিয়ে চলে যাবো আর দরজাও ধাক্কাবো না।
— কোনো বউ পাবি না তুই। যা এখন।
— আশ্চর্য এমন করছো কেনো?
— করবো না কি অবস্থা করেছিস মেয়েটার। এই অল্প কিছু সময় হলো জর ছেড়েছে।
— ও আপা, আপু, মায়ের মেয়ে আপাআ!! বউ দেও বলছি। দরজা খোলো আমি আমার বউ নিবো।
পার্বণের অত্যাচারে অবশেষ হার মানে চৈত্র। পৌষ নিজেও যেতে চায়নি কিন্তু পার্বণ তো পার্বণই দরজা খুলতেই পৌষকে ঝড়ের বেগে গিয়ে কোলে তুলে তুফানের গতিতে নিজের রুমে নিয়ে আসে।
এটা নতুন রুম। অবশ্য খাটের টাকা ভাদ্র দিয়ে দিয়েছিল পুঁটিকে। তারপর পার্বণকে চিবিয়ে চিবিয়ে এও বলেছিলো,
— তুই খালি খাটই ভাঙ্গ।
পার্বণও মাথা নাড়িয়ে জানিয়েছিল,
— কেনো নয় অবশ্যই। আমি আবার বড়দের কথা ফেলতে পারি না।
তখন ভাদ্রের চেহারাটা যা হয়েছিল না দেখার মতো।
হাফ ছেড়ে বাঁচে ভাদ্র। নিজেও রুমে ঢুকে দরজা আটকে দেয়। পার্বণকে তো কিছু বলতে পারেনি সেই সব ঝাল এখন ভাদ্রের উপর উঠায় চৈত্র।
আকস্মিক এক ঘুষিতে চোখ কানা করেই শান্ত হয় না। কিল, থাপ্পড়, কামড়, লাথি যা পেরেছে সব দিয়েছে।
আর এদিকে ভাদ্র বুঝলো না ও মার খাচ্ছে তো খাচ্ছে কেনো? হোআই?
পৌষকে ঝাপটে ধরে শুয়ে আছে পার্বণ। ওর মতিগতি সুবিধার লাগছে না পৌষের কাছে। তাই আগেই হুশিয়ারি বার্তা দেয়,
— আমি অসুস্থ যদি ভুলেও উল্টা পাল্টা কিছু করার চেষ্টা করেছিস তবে দেখিস কি করি।
পৌষের নরম গাল দুটো চেপে ধরে টপাটপ কতগুলো চুমু খেয়ে পার্বণ বলে,
— চেষ্টা করবো কেনো এখন তো আমি এক্সপার্ট করেই দেখাই।
— এইইই একদম না। কালকে বাড়ি ফিরতে হবে আমাদের। তোর জন্য যদি আমি আবার বিছানায় পড়ি তাহলে দেখিস।
— আচ্ছা দেখবো।
— কি দেখবো? আমি কি বাড়ি ফিরবো না? পরশু রোজা।
— সেই জন্যই তো বললাম। রোজায় তো আর তোকে আদর করতে পারবো না। আর টেনশন নিচ্ছিস কেনো আমি আছি না।
— তুই ই তো বড়ো টেনশনের কারণ। আবার বলে টেনশন কেনো নেই।
পৌষকে নিজের সাথে আরেকটু মিশিয়ে নিলো পার্বণ। ওর গলার ভাঁজে নাক মুখ ঘষতে ঘষতে বলল,
— জান আই এম সো হাঙরি। প্লিজ জাস্ট এক বার।
— একদম নয়। আগের দিনও একবার বলেছিস কিন্তু কি হয়েছিল সব মনে আছে।
— আজ একবারই। আমি তো জানি তুই অসুস্থ।
— জানিসই যখন তখন দূরে সর।
— উঁহু। এটা সম্ভব নয়। এখন তুই কি সম্মতি দিবি কিনা বল।
— কিছুতেই দিবো না।
— ওকে দেন রেডি ফর ফোর্স রোমান্স জান।
পৌষপার্বণ পর্ব ১২
বাকা হেসে পৌষের উপর দিয়ে উঠে যায় পার্বণ। পার্বণের হাসি দেখেই বুকটা ধক করে উঠে পৌষের।
ও শুষ্ক ঢোক গিলে সামনে তাকাতেই ওর চোখ দুটো বড়বড় হয়ে যায়। ও চিল্লিয়ে উঠে,
— পার্বণের বাচ্চা নাআআআ !!!
পৌষের চিৎকার শুনে পার্বণও শয়তানি হাসি হেসে প্যান্টের বেল্টটা হাতে প্যাঁচাতে প্যাঁচাতে ওর দিকে এগিয়ে যায়।
