পৌষপার্বণ পর্ব ১৪
Irfa Mahnaj
পৌষের দুই হাত বেল্ট দিয়ে বেঁধে দিয়েছে পার্বণ। মুখে তার দুষ্টু হাসি। আর এই হাসি দেখেই গা পিত্তি জ্বলে উঠে পৌষের।
পা উঠিয়ে দেয় এক লাথি পৌষ। চেঁচিয়ে উঠে পার্বণ,
— এই এই কি করছিস কি তুই? আর একটু হলেই তো আমার ছানা ফুটানোর মেশিনে লেগে যেতো!
ওর এরুপ কথায় দাঁত কিড়মিড় করে উঠলো পৌষ। বলে,
— চুপচাপ হাতের বাঁধন খোল নয়তো..
টুপ করে পৌষের ঠোঁটে একটা চুমু খেয়ে জবাব দিলো পার্বণ,
— নয়তো কি করবি তুই?
নিজের শরীরের সমস্ত ভর পৌষের উপর ছেড়ে দেয় পার্বণ। তারপর ওর গালে, ঘাড়ে, ঠোঁটে স্লাইড করতে করতে হাস্কি টোনে বলে,
— কিরে বল কি করবি? আমি শুনতে চাই।
পার্বণ বুঝতে পারলো পৌষের পরবর্তী পদক্ষেপ। ও এবার নিজের পা দিয়ে পৌষের পা দুটো চেপে ধরে।
মুখে বাকা হাসি ফুটিয়ে তুলে বলে,
— সো সরি মাই মিসেস।
আসলে পৌষ পার্বণকে কথার জালে ফাঁসিয়ে ওকে আবারো লাথি মারতে চেয়েছিল। যদি ছেলেটাকে নিজের থেকে সরাতে পারে।
কিন্তু ও তো ভুলেই গেছে এ পার্বণ। বিখ্যাত জাউরা পোলা। নিজের প্ল্যান ফ্লপ হতেই মুখটা ভোঁতা করে ফেলে পৌষ।
ওর মুখের এক্সপ্রেশন দেখে হেসে ফেলে পার্বণ। পৌষের গলায় নাক ঘষে মাদক মিশ্রিত নারীদেহের ঘ্রাণ নিজের মধ্যে পুড়ে নেয়।
তারপর ওষ্ঠের তপ্ত ছোয়া একে দেয় সেথায়। শুষ্ক চুমু খায়। পরপর ঘাড়েও মুখ গুঁজে নাক মুখ ঘষতে থাকে। চুমু খাওয়ার সাথে আবার কামড়ও দেয়।
একই ভাবে অন্যপাশের ঘাড়েও কিস করে, ঘ্রাণ শুঁকে, কামড় দিয়ে নিজের চিহ্ন বসায়।
ব্যথা জায়গা গুলোর উপর পুনরায় পার্বণের অত্যাচারে পৌষের মুখ দিয়ে আপনা আপনি বেরিয়ে আসে “আহ” মূলক ব্যাথাতুর ধ্বনি।
চোঁখের কোণে জল চিকচিক করে। যা কিছুক্ষনের মধ্যেই জলের ধারা হয়ে গড়িয়ে পড়তে নেয়।
তবে গড়াতে পারে না কেননা তার আগেই পার্বণ নিজের জিহ্বা দিয়ে সেই পানি শুষে নেয়।
নিজ কাজে একটু খানি বিরতি নিয়ে ওর মুখের দিকে তাকায় পার্বণ। ভালো মতো স্ক্যান করে পৌষের কপালের সাথে নিজের কপাল আর ওর নাকের সাথে নিজের নাক মিলায়।
পৌষের মুখে আঁচড়ে পড়ে পার্বণের ভারি, তপ্ত,ঘন শ্বাস।পৌষ নিজেও অন্য সুখের সাগরে ডুবে যায়।
আখিদ্ধয় বুজে অনুভব করতে লাগে তার পাগল স্বামীর পাগলামি। নীরবতা ভেঙ্গে পার্বণই বলে উঠে,
— ক্যান আই কিস ইউ জান? তোর এই নরম ঠোঁটে আমি গভীর থেকে গভীরভাবে বিচরণ করতে চাই।
এটা এমন একটা মুহূর্ত যখন কেউ মানা করতে পারে না। উপরন্তু তোমার নিজেরও শরীরের একটা চাহিদা আছে।
তাছাড়া পার্বণ অবৈধ ভাবে তো আর ওকে ছুঁইয়ে দিচ্ছে না। এমনও নয় পার্বণের জন্য মন গহীনে পৌষ কিছু অনুভব করে না।
তবে বাঁধা কেনো দিবো সে। সত্যি তো এটাই পৌষ নিজেও চায় পার্বণের সেই বেসামাল ভালোবাসার স্পর্শ মাখতে নিজ শরীরে।
স্বামী তোমার কাছে কিছু চাইলো যা তোমাদের দুজনকেই তৃপ্ত করে আর তুমি সেটা দেবে না তা হয়নাকি! বাঙালি বিবাহিত নারী কখনোই তা পারে না।
পৌষ ও পারলো না। নিজের অসুস্থতার পরোয়া করলো না। কোথাও একটা গিয়ে শারীরিক চাহিদার কাছে এই সামান্য অসুস্থতা আর টিকে না।
পৌষও নিজের শরীরের উন্মাদনা আর ভিতরের সেই তুমুল ঝড়কে গ্রহণ করে নিলো। নীরবে জানালো সম্মতি।
পার্বণের পূরুষ ঠোঁটের ভাঁজে নিজের ঠোট চেপে ধরে। পৌষের সম্মতিতে সন্তুষ্ট হাসে পার্বণ। নিজের খেল শুরু করে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে পৌষের ঠোঁট দুটোতে নিজের ঠোঁটের বিচরণ শুরু করে দেয়।
পৌষের ওষ্ঠের উপর দিয়ে বইয়ে দেয় ভালোবাসাময় তাণ্ডব। চেপে ধরে পৌষের কোমল ঠোঁট নিজের পুরু ঠোট দিয়ে।
আজ পার্বণ উগ্র হয় না। যথেষ্ট কোমল ভাবেই প্রেমরস আহরণ করছে। আজকে পার্বণ সফটলি কিস করছে।
ঠোঁট ছেড়ে এবার সে তার আগের করা আর এখনকার করা পুরোনো, তাজা ক্ষত গুলোতে ঠোঁট ছোয়ায়।
খুব সফটলি আর সময় নিয়ে একেকটা গভীর চুম্বন আকে। কণ্ঠ খাদে নামিয়ে পৌষকে জিজ্ঞেস করে,
— পৌষ আমার জান?
— হুম।
— আর কোথায় কোথায় তোর ব্যথা করছে জান? কোথায় কোথায় তোর ক্ষত আছে? আমাকে দেখা।
বলে পৌষের অপেক্ষা আর করে না পার্বণ। নিজেই ওর জামা উঠিয়ে উদরে ঠোঁট চেপে ধরে।
যেখানে যেখানে ক্ষত সৃষ্টি করেছিল সে গতকাল সেসব জায়গায় আজ মলম হিসেবে নিজের ভিজা, শুকনো চুমু এঁকে দিচ্ছে।
আজ আর কোনো উন্মাদনা বেপরোয়া কিছুই নেই পার্বণের মধ্যে। পৌষের সারা শরীরে ভালোবাসার কঠিন স্পর্শ না করে আজকে সে সেসব ক্ষতে আদুরে পরশে ভরিয়ে দিচ্ছে।
পৌষ নিজেও পার্বণের এসব আদর মাখা স্পর্শ গুলো অনুভব করছে। তার মনে ভালোলাগার শীতলতা ছড়িয়ে গেছে।
চুপটি করে অনুভব করতে লাগে নিজ স্বামীর আহ্লাদিপনা। তারপর ধীরে ধীরে ডুবে যেতে থাকে এক বিশাল সুখের সমুদ্রে।
অতলে হারিয়ে যেতে লাগে দুটি দেহ। দেহ দুটোর মিলন এখন ঘটলেও মন দুটোর মিলন বহু আগেই ঘটেছিল।
মনের মিল না থাকলে কি কেউ এভাবে সব স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারে? উহু পারে না। আস্তে আস্তে রাত যত গভীর হয় পৌষও হারিয়ে যেতে থাকে পার্বণের ভালোবাসার চাদরে।
দুজনের পূর্ণ সম্মতিতেই মিলিত হয় দুটো বিপরীত লিঙ্গের শরীর। আজকের পার্বণ আগের পার্বণের ভিন্ন রুপ।
গতকাল রাতের পার্বণ ছিলো এগ্রেসিভ আর বড্ড বেসামাল। আর আজকের পার্বণ খুব যত্নে আগলে নিচ্ছে। আপন করে নিচ্ছে অতি কোমলতার সাথে।
“ভালোবাসা” এমন একটা শব্দ মানুষ ভাবে যে তাকে বলবে সেই ভালোবাসবে। আসলে এমন নয়।
ভালোবাসার বহু রুপ থাকে। হয়তো কেউ সরাসরি বলে দেয়। আবার হয়তো কেউ একতরফা একজনকে সারাজীবন ভালোবেসে যায়।
অনেকে থাকে তারা যাকে ভালোবাসে সেটা চায় সে বুঝুক কিন্তু প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক। অনেকে আবার চেয়েও প্রকাশ করতে পারে না।
আবার অনেক মানুষ আছে যারা একে অপরকে ভালোবাসে কিন্তু কখনো কাউকে কিছু বলে না। তবে বিপরীত মানুষটি তাও বুঝে ফেলে।
শেষ ধরনটির সাথে মিলে যায় পৌষপার্বণ। পৌষ পার্বণ একই সাথের। একই বয়সের হওয়ায় দুজনের মারামারি, ঝগড়া লেগে থাকে।
তাই বলে কী তাদের ভিতর কিছু নেই? উঁহু একদম নয়। তাদের মন গহীনেও কিছু আছে। একে অপরের প্রতি লুকিয়ে রেখেছে সফট একটা কর্নার।
হয়তো তারা দুজনেই বুঝে। মুখে না বললেও চোখ তাদের কথা বলে। তাইতো পৌষও পার্বণের সাথে তাল মিলায়।
নিজেকে আত্মসমর্পণ করে পার্বণের নিকট। বুঝিয়ে দেয় পার্বণকে কিছু একটা যা পার্বণ হয়তোবা বুঝে।
পার্বণ জন্মের ঠিক কাটায় কাটায় এক মাস পর পৌষের আগমন ঘটে। হ্যাঁ একদম কাটায় কাটায়।
[প্রথম পর্বে আমি ছয় মাস দিয়েছিলাম যা বিশেষ কিছু কারণে এডিট করে এক মাস করা হয়েছে]
পার্বণ ডিসেম্বরের এক তারিখ আর পৌষ জানুয়ারির এক তারিখ এই পৃথিবীতে আসে। পৌষের আসার আগে প্রায়শই বাচ্চা পার্বণ শুধু সারাক্ষণ কান্না করতো।
বাচ্চা মানুষ কান্না করবে স্বাভাবিক। তবে আশ্চর্যজনক ভাবে পৌষের আগমন হতেই সেই বাচ্চাটিও শান্ত হয়ে যায়।
সেই থেকে বড় হওয়া, সুখে, দুঃখে, ঝগড়া, মারামারি সব কিছুতে পৌষপার্বণ একসাথে। দুটো দেহ থাকলেও এ যেনো দুটো দেহ একই আত্মায় বাঁধা।
খেয়ালে হোক কিংবা বেখায়ালে ধীরে ধীরে একে অন্যের অভ্যস্ত হয়ে পড়ে দুজন। তার উপর দুজনেই ছোট থেকে একে অপরের জন্য হালাল।
তাই হয়তো দুজনেই ভিতরে দুজনের প্রতি আকৃষ্ট, আকর্ষণ অনুভব করে। এই আকর্ষণ থেকেই তো দুজন এত কাছে চলে আসে। ঘনিষ্ঠও হয়ে পড়ে।
হয়তো এখনো বুঝছে না। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এটুকুও বুঝে যাবে। বা হয়তো বোঝে, জানে।
কিছু কিছু জিনিস একটু অন্যরকম থাকাই ভালো। সবসময় এক রকম থাকার থেকে আমাদের উচিৎ ভিন্ন জিনিস ও উপভোগ করা।
পৌষ শেষে সম্মতি না দিলে বোধহয় পার্বণ আর এগোতো না। প্রথমের কাজ গুলো ছিলো পৌষের সাথে দুষ্টুমি।
পার্বণের কেন জানি পৌষকে না চেতালে ভালো লাগে না। তাইতো এরকম করে। বেল্ট দিয়ে বাঁধলেও পার্বণ আজ কিছু করতো না যদি পৌষ শেষ মুহূর্তে অসম্মতি জানতো।
তবে সেরকম কিছুই করে না পৌষ। সম্মতি দিয়ে দেয়। আর মৌমাছিকে তুমি যদি মধুর লোভ দেখাও সেটা সে অগ্রাহ্য করতে পারে বুঝি?
একদমই পারে না। পার্বণও পারেনি। তার ভিতরের চাহিদা আর পৌরুষ জেগে উঠে। তাও সে আজ আর একই ভুল করে না।
খুব সন্তর্পণে আপন করে পৌষকে। তখনই হাতের বাঁধন খুলে দেয়। ফোর্স রোমান্স বললেও ফোর্স সে করে না।
সবটাই পূর্ণ সম্মতিতে ঘটে। যেখানে সম্মতি থাকে সেখানে আর ফোর্স জিনিসটা আসে না।
এতো সাবধানে আদর দিলেও অসুস্থ হওয়ার দরুন পৌষ এই নরম আদরই সহ্য করতে পারে না।
নেতিয়ে পড়ে বেচারি পার্বণের নগ্ন বক্ষে। পার্বণও বোঝে। কপালে ভালোবাসার পরশ একে দিয়ে আরো একটু কাছে টেনে নেয় পৌষকে।
বুকের খুব গভীরে আগলে নেয়। এতো জোরে চেপে ধরেছে যে পৌষ ঠিক মতো নিশ্বাস টাই নিতে পারে না।
তার হাড্ডি বোধহয় একটা আরেকটার সাথে লেগে গেছে। সম্মতি তো সেই দিয়েছে তবুও এখন রাগ লাগছে।
আর রাগের পারদে ঘি ঢালে পার্বণের এমন জড়িয়ে ধরা। তেতে উঠে পৌষ বলে,
— নে নে আমাকে তোর কলজের মধ্যেই ঢুকিয়ে নে।
হাসলো পার্বণ। কেনো জানি ইচ্ছে করলো মেয়েটাকে রাগিয়ে দিতে। যা সে নিত্যই করে এসেছে।
— তুই চাইলে ঢুকতেই পারিস আমার কোনো সমস্যা নেই।
কটমট করে তাকায় পৌষ পার্বণের দিকে। ফুলে যাওয়া ঠোঁটে একটা শব্দ করে চুমু খেয়ে পার্বণ বলে,
— কি ওভাবে তাঁকিয়ে আছিস কেনো? বাই এনি চান্স তুই কি আমাকে সিগন্যাল দিচ্ছিস? আরেক রাউন্ড হবে নাকি বেবি গার্ল?
পৌষপার্বণ পর্ব ১৩
— হ্যাঁ হ্যাঁ এখন আধমরা হয়ে আছি একটু পর নাহয় ফুলমরাই বানিয়ে দিস।
পৌষের রাগী গলার এমন উল্টা পাল্টা কথা শুনে পার্বণের ভিতরকার শয়তানটাও বুঝি ওকে খোঁচা দিলো।
আর বজ্জাত পার্বণ জাউরামি করবে না তাও আবার হয় নাকি! পার্বণ বলে,
— তুই অসুস্থ হওয়ায় আজ এটুকুই থাক। সুস্থ হয়ে নে তারপর নাহয় আবার অসুস্থ বানিয়ে দিবো।
